জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তর বিরল এক মেগা ভূমিকম্পের সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ৮ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে। সম্প্রতি উত্তর-পূর্ব জাপানে একাধিক শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে সোমবার রাতে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পও ছিল। উপকূলীয় শহরগুলোতে জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন সবাইকে নিরাপদে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, চলমান ভূমিকম্পের ধারা উত্তর জাপানের লাখো মানুষের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। তবে এবারই প্রথম এমন উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করা হলো। কর্তৃপক্ষ উপকূল থেকে দূরে থাকা ও জরুরি প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে।
যদিও পর্যটকদের জন্য কোনো ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নেই, বিভিন্ন দেশ জাপান ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে। ২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির স্মৃতি এখনো তাজা, আর সরকার বলছে—দেশটির সতর্কতা ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম উন্নত।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী কম্পনের পর জাপানে বিরল মেগা ভূমিকম্পের সতর্কতা
জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আওমোরি প্রিফেকচারের উপকূলে শুক্রবার সকালে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৪ মিনিটে ২০ কিলোমিটার গভীরতায় ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয় বলে জানিয়েছে জাপান আবহাওয়া দফতর (জেএমএ)। ভূমিকম্পের পরপরই সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়।
মাত্র কয়েক দিন আগেই একই অঞ্চলে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার হোক্কাইডো থেকে টোকিওর পূর্বাঞ্চলীয় চিবা পর্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছে এবং আগামী এক সপ্তাহে আরও ভূমিকম্পের সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক করেছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় জাপান প্রায়ই ভূমিকম্পের সম্মুখীন হয়। ২০১১ সালের তোহোকু ভূমিকম্প ও সুনামি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগগুলোর একটি ছিল, যা ২২ হাজারের বেশি প্রাণহানি ঘটায় এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক দুর্ঘটনার সূত্রপাত করে।
জাপানের উত্তর-পূর্বে ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি
চীন ও রাশিয়ার যৌথভাবে পরিচালিত কৌশলগত বোমারু টহলের জবাবে জাপান যুদ্ধবিমান উড়িয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। মঙ্গলবার জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রাশিয়ার দুটি টিইউ–৯৫ পারমাণবিক সক্ষম বোমারু বিমান জাপান সাগর থেকে পূর্ব চীন সাগরের দিকে উড়ে গিয়ে চীনের দুটি এইচ–৬ বোমারু বিমানের সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরে দীর্ঘপাল্লার টহল সম্পন্ন করে। পরে চারটি চীনা জে–১৬ যুদ্ধবিমান ওই টহলে যোগ দেয়, যা ওকিনাওয়া ও মিয়াকো দ্বীপের মধ্যবর্তী এলাকায় উড়েছে।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি এক বিবৃতিতে বলেন, এই অভিযান স্পষ্টভাবে জাপানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে এবং এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টহলটি আট ঘণ্টা স্থায়ী হয়। দক্ষিণ কোরিয়াও জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ অঞ্চলে রুশ ও চীনা বিমান প্রবেশ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন–রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতা ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হচ্ছে, যা তাইওয়ান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
চীন–রাশিয়ার যৌথ বোমারু টহলে জাপানের যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন
সোমবার রাতে উত্তর-পূর্ব জাপানের উপকূলে ৭.৫ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যাতে অন্তত ২৩ জন আহত হয় এবং কয়েকটি প্রিফেকচারে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) প্রথমে তিন মিটার উচ্চতার ঢেউয়ের আশঙ্কা জানালেও পরে সতর্কতাগুলোকে পরামর্শে নামিয়ে আনে, কারণ উপকূলীয় এলাকায় ২০ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ দেখা যায়। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল আওমোরি উপকূল থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে এবং ৫০ কিলোমিটার গভীরে।
প্রায় ৮০০টি বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং ৪৮০ জনের মতো মানুষ হাচিনোহে বিমানঘাঁটিতে আশ্রয় নেন। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি নাগরিকদের উঁচু স্থানে সরিয়ে যেতে আহ্বান জানান, আর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে ১৮টি হেলিকপ্টার মোতায়েন করেন। কিছু ট্রেন পরিষেবা স্থগিত করা হয় এবং হোক্কাইডোর নিউ চিতোসে বিমানবন্দরে প্রায় ২০০ যাত্রী রাত কাটান। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রে কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পপ্রবণ রিং অব ফায়ার অঞ্চলে অবস্থিত জাপান বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ বড় ভূমিকম্পের সাক্ষী হয়।
উত্তর জাপানে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে আহত ২৩, সুনামি সতর্কতা জারি
জাপানের উত্তরাঞ্চলে সোমবার রাতে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন এবং দুই হাজারের বেশি ঘরবাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জাপানের আবহাওয়া দপ্তর জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আওমোরি জেলার উপকূল থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে, সাগরের তলদেশে প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে। প্রাথমিকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।
রয়টার্স জানায়, সতর্কতা জারির পর আওমোরি ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকা থেকে প্রায় ৭০ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাচি নাগরিকদের সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরবর্তী কয়েক দিনে আরও কম্পন হতে পারে, তাই প্রস্তুত থাকতে হবে। ভূতত্ত্ববিদরাও সম্ভাব্য আফটারশকের বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ ও বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপনে কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং অবকাঠামো পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
জাপানে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে আহত ৩০, বিদ্যুৎহীন দুই হাজারের বেশি ঘরবাড়ি
চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে জাপান ও অস্ট্রেলিয়া টোকিওতে এক বৈঠকে ‘কৌশলগত প্রতিরক্ষা সমন্বয়ের জন্য কর্মকাঠামো’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে। বৈঠকের একদিন আগে ওকিনাওয়ার কাছে চীনা যুদ্ধবিমান জাপানি বিমানের দিকে ফায়ার কন্ট্রোল রাডার তাক করেছে বলে অভিযোগ ওঠে, যার পর টোকিও আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মারলেস জানিয়েছেন, নতুন কাঠামোর আওতায় দুই দেশের প্রতিরক্ষা, সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক হবে। সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ, লজিস্টিকস ও সরবরাহ-চেইন ব্যবস্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কোইজুমি বলেন, আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে চীনের কর্মকাণ্ডে ‘দৃঢ় ও সংযমী’ প্রতিক্রিয়া দেখাবে জাপান।
তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের পর চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন উদ্যোগ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবিলায় জাপান-অস্ট্রেলিয়া অংশীদারিত্বের নতুন অধ্যায় সূচনা করছে।
চীনের সামরিক তৎপরতা মোকাবিলায় জাপান-অস্ট্রেলিয়ার নতুন প্রতিরক্ষা সমন্বয় কাঠামো ঘোষণা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচিকে তাইওয়ান ইস্যুতে চীনকে উস্কানি না দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি তাকাইচি বলেন, তাইওয়ানে আক্রমণ হলে টোকিও সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে, যা জাপান-চীন সম্পর্কের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক বিরোধ সৃষ্টি করে। বেইজিং তার বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানালেও তাকাইচি তা প্রত্যাখ্যান করেন। সোমবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, তাইওয়ানের চীনে ফিরে আসা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরে ট্রাম্প তাকাইচির সঙ্গে আলাপ করে তাকে বেইজিংকে উস্কানি না দিতে পরামর্শ দেন, যদিও বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য কোনো চাপ দেননি। তাকাইচির কার্যালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও চীনের মধ্যে তাইওয়ান প্রশ্নে সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভারসাম্যকে পুনরায় সামনে এনেছে।
তাইওয়ান ইস্যুতে চীনকে উস্কানি না দিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে ট্রাম্পের আহ্বান
টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, চুল পাকা ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে শরীরের এক প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে। গবেষকরা জানান, চুলের রং নির্ভর করে মেলানোসাইট নামের কোষের ওপর, যা পিগমেন্ট তৈরি করে। বয়স, মানসিক চাপ বা ডিএনএ ক্ষতির কারণে এই কোষগুলো বিপদে পড়লে তারা বিভাজন বন্ধ করে ‘সিনেসেন্স-কাপলড ডিফারেনসিয়েশন’ প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলো আর নতুন কোষে রূপ নেয় না, ফলে ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। প্রধান গবেষক ড. শিগে সুকেশি বলেন, চুল পাকা শুধু বার্ধক্যের চিহ্ন নয়, বরং শরীরের সতর্ক সংকেত—যা জানায় শরীর ক্ষতিগ্রস্ত কোষের বিভাজন বন্ধ করছে। তিনি আরও বলেন, মানসিক চাপ, অনিদ্রা ও অনিয়মিত জীবনযাপন মেলানোসাইট কোষের ক্ষতি বাড়ায়। তাই নিয়মিত ঘুম, ব্যায়াম ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করলে কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় থাকে এবং চুলের অকাল পাকা কমানো সম্ভব।
টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে পাকা চুল শরীরের ক্যানসার প্রতিরোধের প্রাকৃতিক সংকেত
জাপান আবারও নিগাতা প্রদেশের কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করতে যাচ্ছে, যা বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, এই সপ্তাহেই কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর জন্য গভর্নরের অনুমোদন পেতে পারে। নিগাতার গভর্নর হিদেয়ো হানাজুমি শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে ঘোষণা দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাতটি চুল্লির মধ্যে আপাতত একটি চালু করা হবে। ২০১১ সালের ফুকুশিমা দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তা উদ্বেগে জাপান সব পারমাণবিক চুল্লি বন্ধ করেছিল। তবে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশটি আবার পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের দিকে ফিরছে। এই পদক্ষেপটি পারমাণবিক শক্তির প্রতি জাপানের ধীরে ধীরে প্রত্যাবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা কমাতে নিগাতায় বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক কেন্দ্র চালু করছে জাপান
তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্তব্যের পর চীন তার নাগরিকদের জাপানে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানিয়েছে। এর ফলে জাপানগামী ফ্লাইট বাতিল, পর্যটন খাতে বুকিং কমে যাওয়া এবং শেয়ারমূল্য হ্রাস পাচ্ছে। চীনা পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল টোকিওভিত্তিক ইস্ট জাপান ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল সার্ভিস জানিয়েছে, তারা বছরের বাকি সময়ের ৮০ শতাংশ বুকিং হারিয়েছে। জাপানের মোট জিডিপির প্রায় ৭ শতাংশ আসে পর্যটন থেকে, যার এক-পঞ্চমাংশই চীন ও হংকংয়ের পর্যটক। নোমুরা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, এই বয়কট চলতে থাকলে জাপান প্রায় ২.২ ট্রিলিয়ন ইয়েন (১৪.২৩ বিলিয়ন ডলার) ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। ইতিমধ্যে ১০টিরও বেশি চীনা এয়ারলাইন ডিসেম্বর পর্যন্ত টিকিট ফেরত দিচ্ছে, বাতিল হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টিকিট। পাশাপাশি চীন জাপানি চলচ্চিত্র প্রদর্শন স্থগিত করেছে এবং জাপানি শিল্পীরা এক চীন নীতির প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন।
তাইওয়ান ইস্যুতে উত্তেজনার জেরে চীনের বয়কটে জাপানের পর্যটন ও অর্থনীতি বিপর্যস্ত
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৭০টিরও বেশি ভবন পুড়ে গেছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং রাতভর আগুন জ্বলতে থাকে। দেশটির অগ্নিনির্বাপণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ঘটনাস্থল টোকিও থেকে প্রায় ৭৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ওইতা শহর। সেখানে প্রায় ১৭৫ জন বাসিন্দাকে জরুরি আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত একজন নিখোঁজ রয়েছেন, তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আগুন কাছাকাছি বনাঞ্চলীয় ঢালেও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি জানিয়েছেন, ওইতা প্রিফেকচারের গভর্নরের অনুরোধে সামরিক অগ্নিনির্বাপক হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। আগুন লাগার কারণ তদন্তাধীন রয়েছে এবং উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।
জাপানের ওইতা শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৭০টিরও বেশি ভবন পুড়ে গেছে, একজন নিখোঁজ
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিউশু দ্বীপে অবস্থিত সাকুরাজিমা আগ্নেয়গিরি রবিবার ভোরে অগ্ন্যুৎপাত শুরু করে, যার ফলে প্রায় ১৪ হাজার ৪৩৬ ফুট উচ্চতায় ধোঁয়া ও ছাই ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৫৭ মিনিটে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়, যা গত বছরের অক্টোবরের পর প্রথমবারের মতো চার হাজার মিটারের বেশি উচ্চতায় ছাই ছড়ানোর ঘটনা। এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা কাগোশিমা, কুমামোটো ও মিয়াজাকি প্রিফেকচারের জন্য ছাই পড়ার পূর্বাভাস জারি করেছে এবং নাগরিকদের ছাতা বা মুখোশ ব্যবহার ও সতর্কভাবে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দিয়েছে। সাকুরাজিমা জাপানের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, যা কিউশুর দক্ষিণ প্রান্তের ওসুমি উপদ্বীপের সঙ্গে সংযুক্ত। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
জাপানে সাকুরাজিমা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ১৪ হাজার ফুট উঁচুতে ছাই ছড়িয়ে পড়ে
তাইওয়ান নিয়ে জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্তব্যের পর জাপান ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তাকাইচি ইঙ্গিত দেন, চীন তাইওয়ান আক্রমণ করলে জাপান তার আত্মরক্ষামূলক বাহিনী মোতায়েন করতে পারে। এর পর বেইজিং জাপানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানায় এবং নাগরিকদের জাপান সফর এড়াতে সতর্ক করে। জাপানের সংসদে দেওয়া তাকাইচির বক্তব্যে বলা হয়, তাইওয়ান উপকূলে বলপ্রয়োগ হলে তা জাপানের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। চীনা এক কূটনীতিক সামাজিক মাধ্যমে তাকাইচিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন, যা টোকিওর তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। দুই দেশই একে অপরের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ পাঠায়। তাকাইচি মন্তব্য প্রত্যাহার না করে বলেন, এটি জাপানের দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পরে চীন সতর্ক করে জানায়, জাপান যেন তাইওয়ান ইস্যুতে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ না করে। এই বিরোধ দুই দেশের ঐতিহাসিক বৈরিতা ও আঞ্চলিক স্থিতাবস্থার প্রশ্নকে আবার সামনে এনেছে।
তাইওয়ান ইস্যুতে সামরিক প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিতে জাপান-চীন সম্পর্কের উত্তেজনা বৃদ্ধি
জাপানের ওকায়ামায় ৩২ বছর বয়সী এক নারী, কানো, নিজের তৈরি চ্যাটজিপিটি-ভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চরিত্র ‘ক্লাউস’-এর সঙ্গে প্রতীকী বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছেন। অনুষ্ঠানে প্রতিশ্রুতি, আংটি বিনিময় ও ডিজিটাল বর-এর অগমেন্টেড রিয়েলিটি উপস্থিতি ছিল। তিন বছরের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর কানো চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে এআইটির প্রতি আবেগ অনুভব করেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেন এমন এক দম্পতি যারা কাল্পনিক বা ডিজিটাল চরিত্রের সঙ্গে প্রতীকী বিয়ের ব্যবস্থা করেন। এই ঘটনা জাপানে ক্রমবর্ধমান এক প্রবণতা তুলে ধরেছে, যেখানে একাকীত্ব, মানসিক ক্লান্তি ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন মানুষের সম্পর্কের ধরন বদলে দিচ্ছে। কানোর এআই-বিয়ে সমাজে ভালোবাসা, একাকীত্ব ও ডিজিটাল যুগে আবেগের বাস্তবতা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
জাপানি নারী চ্যাটজিপিটি এআইকে প্রতীকীভাবে বিয়ে করে ভালোবাসা ও ডিজিটাল সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন
সনি জানিয়েছে, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে তারা ৩৯ লাখ প্লেস্টেশন ফাইভ (পিএস৫) বিক্রি করেছে। ২০২০ সালে উন্মোচনের পর থেকে কনসোলটির মোট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৪২ লাখে। নতুন ভিডিও গেম ‘ঘোস্ট অব ইয়োতেই’ প্রকাশের পর পিএস৫-এর চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, গেমটি এক মাসে বিক্রি হয়েছে ৩৩ লাখ কপি। পাশাপাশি সনির অনলাইন গেমিং ও ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘প্লেস্টেশন নেটওয়ার্ক’-এর মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী সংখ্যা ১১ কোটি ছাড়িয়েছে। এসব তথ্য সনির গেমিং বাজারে শক্ত অবস্থান ও প্লেস্টেশন ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তা আরও একবার প্রমাণ করেছে।
নতুন গেমের চাহিদায় পাঁচ বছরে সনির পিএস৫ বিক্রি ৮ কোটি ৪২ লাখে পৌঁছেছে
জাপানের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত হলো—সানায়ে তাকাইচি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর শপথ নিলেন। দীর্ঘদিনের রক্ষণশীল রাজনীতিক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী তাকাইচি পার্লামেন্টে অল্প ব্যবধানে জয় লাভ করেন। উচ্চকক্ষে ১২৫ ভোট ও নিম্নকক্ষে ২৩৭ ভোট পেয়ে তিনি প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন। এলডিপি দলটি ৪ অক্টোবরের নির্বাচনে জয়ী হলেও, তহবিল কেলেঙ্কারি ও মতাদর্শগত মতভেদের কারণে কোমেইটো পার্টি জোট ত্যাগ করে। ফলে তাকাইচি ১১ ঘণ্টার আলোচনার পর জাপান ইনোভেশন পার্টির (জেআইপি) সঙ্গে নতুন জোট গঠন করেন। তিনি অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও জাপানকে আরও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরসহ তার সামনে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ।
নতুন জোট গঠনের জন্য ১১ ঘণ্টার মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করায় জাপান সামাজিক রক্ষণশীল তাকাইচিকে দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছে
জাপানের যুবরাজ হিসাহিতো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাপ্তবয়স্কে পা রেখেছেন। চার দশকের মধ্যে তিনি রাজপরিবারের প্রথম পুরুষ সদস্য যিনি প্রাপ্তবয়স্ক হলেন। ১৯ বছর বয়সি হিসাহিতো সম্রাট নারুহিতোর ভাতিজা এবং জাপানের ক্রিস্যানথিমাম সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। তার পর আর কোনো পুরুষ উত্তরসূরি না থাকায়, জোরালো হয়েছে উনবিংশ শতকের পুরুষকেন্দ্রিক উত্তরাধিকার আইনে সংস্কারের দাবি। শনিবার এক অনুষ্ঠানে সম্রাটের দূতের কাছ থেকে হিসাহিতো ঐতিহ্যবাহী ‘কানমুরি’ মুকুট গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে যুবরাজ বলেন, ‘‘আজকের এই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার অনুষ্ঠানে মুকুট দেওয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। একজন প্রাপ্তবয়স্ক রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থেকে আমি আমার কর্তব্য পালন করব।’’ এরপর তিনি ইম্পেরিয়াল প্রাসাদে প্রাপ্তবয়স্কতার প্রতীক ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরেন। পরে তিনি ইসে মন্দির, জাপানের প্রথম সম্রাট জিম্মুর সমাধি এবং তার প্রপিতামহ সম্রাট শোওয়ার সমাধিতেও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা ও অন্যান্য বিশিষ্টজনদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।
আগামী মাসে যৌথ সামরিক মহড়ার সময় জাপান যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যম-পাল্লার টাইফুন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের অনুমতি দিয়েছে, যা রাশিয়া ও চীনের সতর্কবার্তা সৃষ্টি করেছে। উভয় দেশই এটিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করছে। রাশিয়া সরাসরি কৌশলগত হুমকি হিসেবে দেখছে এবং সামরিক প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনার বিষয়ে সতর্ক করেছে, চীন জাপানকে শান্তিপূর্ণ উন্নয়ন ও সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছে। টাইফুন সিস্টেমটি পূর্বে ফিলিপাইনে পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং এটি আইওয়াকুনি বিমানঘাঁটিতে স্থাপন করা হবে, তবে আসন্ন মহড়ায় ব্যবহার নিশ্চিত নয়।
জাপান বিদেশী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রোগ্রাম সংস্কার করছে, যেখানে প্রথম কর্মস্থলে দুই বছর কাজের পর সাতটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে চাকরি পরিবর্তন অনুমোদিত হবে। ২০২৭ থেকে কার্যকর এই নীতিতে একই শিল্পে থাকা বাধ্যতামূলক এবং তিন বছর পর ‘স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার’ ভিসার মাধ্যমে স্থায়ী চাকরির সুযোগ রয়েছে। টোকিও ও ওসাকা সহ উচ্চ মজুরির প্রিফেকচারে স্থানান্তরে সীমাবদ্ধতা, অন্য জায়গায় কোম্পানিগুলো এক-তৃতীয়াংশের বেশি বিদেশী কর্মী নিয়োগ দিতে পারবে না। এই নীতি জাপানের বয়স্ক জনসংখ্যা ও শ্রম ঘাটতির সমস্যার সমাধান করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্কের চাপের মুখেই বাৎসরিক সম্মেলনে অংশ নিতে টোকিও পৌঁছেছেন নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার শুরু হওয়া দু’দিনব্যাপী এ সম্মেলনে অংশ নেবেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, এ সফরে জাপান ও ভারতের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দেবেন নরেন্দ্র মোদি। মূলত, বিরল খনিজ সম্পদের অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করবেন তারা। আলোচনা হবে ভারতের উচ্চমূল্যের বিনিয়োগ খাতে জাপানের বিনিয়োগ নিয়েও। এদিকে, ওয়াশিংটনের সাথে টানাপোড়েনের মধ্যেই ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোটের কাঠামো অনুসারে দু’দেশের মধ্যকার সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করবেন উভয় দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। মোদির এ সফর ইন্দো-প্যাসেফিক অঞ্চলে কোয়াড জোটকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৬০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।