ইরানি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর তিন পাইলটকে জীবিত আটক করার ইরানি দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। ১৬ আগস্ট কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের উপদেষ্টা মাজেদ আল-আনসারি এক্সে দেওয়া পোস্টে অভিযোগটিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যে এমন দাবি ছড়ানো বিস্ময়কর।
আল-আনসারির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানি পাইলটরা কাতারের আকাশসীমা লঙ্ঘন করার পর এবং বিমানের গতিপথ নিশ্চিত হওয়ার পর কাতারি কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হলে নিয়োজিত বাহিনী আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ভূখণ্ড রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। ঘটনার পর কাতারের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাইলটদের খুঁজতে অভিযান চালায় এবং একজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
কাতার বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে তারা ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করেছে। এপ্রিল মাসে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে সরাসরি জানার জন্য ইরানকে একটি দল পাঠানোর আমন্ত্রণ দেওয়া হলেও তেহরান এখনো সাড়া দেয়নি। এর আগে ইরান দাবি করেছিল, ২ মার্চ কাতারের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার সময় দুটি এসইউ-২৪ ভূপাতিত হওয়ার পর তিন পাইলটকে জীবিত আটক করা হয়।
ইরানি পাইলট আটক করার দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করল কাতার
যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের তিন বোমারু বিমানের পাইলটকে কাতার আটক করেছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। ১৬ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিখোঁজ সদস্যদের অনুসন্ধান কমিটির কমান্ডার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটিকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানি গণমাধ্যমে শনিবার প্রকাশিত এক চিঠিতে তিনি এই দাবি করেন।
বাঘেরজাদেহর ভাষ্য অনুযায়ী, ২ মার্চের একটি অভিযানে পাইলটরা এসইউ-২৪ যুদ্ধবিমান চালাচ্ছিলেন। ‘শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার’ আঘাতে বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তারা বিমান থেকে বেরিয়ে আসেন। তিনি বলেন, জাভাদ সালেহি, আব্দুলমাজিদ দাশতিয়ান ও ওমরান বেহরাভেশিয়ান বেঁচে গেলেও কাতার কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হন। চতুর্থ পাইলট মাজিদ কাজেমী নিহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান।
কাতার ২ মার্চ জানিয়েছিল, তাদের বিমানবাহিনী দুটি ইরানি এসইউ-২৪ বোমারু বিমান ভূপাতিত করেছে। বাঘেরজাদেহ অভিযোগ করেন, বন্দিদের পরিবার বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা কিংবা কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি রেড ক্রসকে পাইলটদের সঙ্গে দেখা, তাদের অবস্থা তদন্ত এবং দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের মন্তব্যের অনুরোধে রেড ক্রস ও কাতার সরকারের মুখপাত্র সাড়া দেননি।
ইরান বলছে, ২ মার্চের অভিযানের পর কাতার তিন পাইলটকে আটক করেছে
তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে কাতার। ১২ আগস্ট দোহায় সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে পারে এমন উদ্যোগকে দেশটি ইতিবাচকভাবে দেখে।
আল-আনসারির ভাষ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়িয়ে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে এমন সব উদ্যোগকে কাতার স্বাগত জানায়। তিনি বলেন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে কাতারের কৌশলগত সম্পর্ক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বন্ধন রয়েছে, যা অভিন্ন স্বার্থ ও উদ্বেগের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে তিনি সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
গত শুক্রবার মক্কায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন। এতে পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা এবং সামরিক বাহিনীগুলোর সমন্বয় ও যৌথ সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বলেছে, উদ্যোগটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়।
তুরস্ক-সৌদি আরব-পাকিস্তান ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে কাতার
কাতার আশা করছে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি হতে পারে। ৬ আগস্ট সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এ কথা বলেন। তবে তিনি নিশ্চিত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সরাসরি আলোচনা চলছে না।
আল-আনসারি বলেন, কাতার বিশেষভাবে ওমানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছে এবং উত্তেজনা কমানো ও সংলাপের আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীরা একে অপরের সঙ্গে কথা বলছেন এবং দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তির খসড়া আদান-প্রদান হচ্ছে। কাতার মনে করে, এই বিষয়টি আঞ্চলিক পর্যায়েই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে কাতারের অবস্থান হলো, এটি পুনরায় খুলে আগের মতো পরিচালনা করা দরকার এবং সেখানে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রণালিটি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়, কিন্তু বর্তমানে দিনে মাত্র কয়েকটি জাহাজ চলাচল করতে পারছে। ইরান জাহাজ চলাচলে ফি চেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র মানবে না বলে জানিয়েছে।
কাতার বলছে, মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হতে পারে
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা ও ইয়েমেনের জনগণকে অবরুদ্ধ রাখার অভিযোগে হুথিদের এক সামরিক মুখপাত্রের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার। আনসার আল্লাহ নামে পরিচিত হুথিরা সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার জবাবে সৌদি আরবে অবরোধ আরোপের হুমকি দেওয়ার পর এই মন্তব্য করে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাব, বিশেষ করে ইয়েমেন সম্পর্কিত ২২১৬ নম্বর এবং লোহিতসাগরে চলাচলের স্বাধীনতা সম্পর্কিত ২৭২২ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌ চলাচলের স্বাধীনতা আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপের প্রতি দোহা পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে।
ঘটনাটি হুথিদের সাম্প্রতিক হুমকি ও পদক্ষেপের পর আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং লোহিতসাগর অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি নতুন করে মনোযোগ এনেছে।
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের অভিযোগে কাতারের তীব্র নিন্দা
ইরান দাবি করেছে, তাদের সামরিক বাহিনী কাতারের আল-উদেইদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এটি তাদের পনেরতম দফার হামলা। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলায় একটি দূরপাল্লার রাডার ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ধ্বংস করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, মার্কিন শত্রু এবং তাদের আঞ্চলিক স্বাগতিকদের জানা উচিত যে মানুষ ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার মূল্য অত্যন্ত কঠোর হবে। তারা আরও জানিয়েছে, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে ইরানের জবাব আরও বিধ্বংসী হবে এবং তা যুদ্ধের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা কাতারের পক্ষ থেকে কোনো স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের, নিশ্চিত করেনি যুক্তরাষ্ট্র বা কাতার
কাতারের সাবেক আমির ও ‘ফাদার আমির’ শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ৭৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তাঁর ১৮ বছরের শাসনামলে কাতার একটি ছোট তেলনির্ভর দেশ থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি রপ্তানিকারক ও বিনিয়োগশক্তিতে পরিণত হয়। তাঁর নেতৃত্বে গ্যাস উত্তোলন ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনে ব্যাপক বিনিয়োগের ফলে কাতার ১৫ বছরেরও কম সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়।
১৯৯৫ সালে কাতারের জিডিপি ছিল প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার, যা ২০১৩ সালে বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৯৯ বিলিয়ন ডলারে। শেখ হামাদ ২০০৫ সালে কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি গঠন করেন, যা জ্বালানি খাতের উদ্বৃত্ত অর্থ বৈশ্বিক বিনিয়োগে ব্যবহার করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটে; কাতার ফাউন্ডেশন, হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও লুসাইল সিটির মতো প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়।
২০০৮ সালে ঘোষিত কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০-এর মাধ্যমে তিনি প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। তাঁর প্রণীত অর্থনৈতিক মডেল আজও কাতারের উন্নয়ন নীতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
৭৪ বছর বয়সে শেখ হামাদের মৃত্যু, কাতারের অর্থনৈতিক রূপান্তরের স্থপতি
কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ৭৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন। রোববার দেশটির রাজকীয় দপ্তর আমিরি দিওয়ান এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির জন্য তারা শোকাহত এবং আল্লাহর কাছে তার আত্মার শান্তি কামনা করা হয়েছে।
শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতারের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার শাসনামলে কাতার জ্বালানি সম্পদ কাজে লাগিয়ে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ২০১৩ সালে তিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তর করেন তার ছেলে শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে এবং এরপর থেকে ‘ফাদার আমির’ নামে পরিচিত ছিলেন।
তার মৃত্যু কাতারের জন্য এক যুগের অবসান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যিনি দেশের আধুনিক রূপান্তরের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ৭৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন
কাতারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত দোহা বৈঠকে ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠক লেক লুসার্ন সম্মেলনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত হয়েছিল। কাতারি কর্মকর্তারা জানান, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন শেষে আলোচনাগুলো পুনরায় শুরু হবে এবং দ্রুত পরবর্তী বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, তেহরান বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানান, অবরুদ্ধ থাকা ছয় বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি অংশ প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটায় ব্যবহারের বিষয়ে কাতারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেবে না এবং এমনটি হলে চলমান সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।
খামেনির দাফনের পর দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার পুনরায় সূচনা
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার বর্তমানে দোহায় অবস্থান করছেন, তবে তাদের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের কোনো সরাসরি বৈঠক হবে না। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিরা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করে চলমান আলোচনা ও কূটনৈতিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন, কিন্তু ইরানের সঙ্গে কোনো প্রত্যক্ষ বৈঠকের সূচি নেই।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের অনুরোধে দোহায় দুই দেশের মধ্যে বৈঠক হবে। কিন্তু ইরান শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। কাতারের এই বক্তব্য ইরানের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কাতার আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় জব্দ থাকা ইরানের ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার সমমূল্যের সম্পদ এখনো তেহরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে কাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও সরাসরি বৈঠক না হওয়ায় ভবিষ্যৎ আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
দোহায় মার্কিন দূতদের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের বৈঠক হবে না, জানাল কাতার
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জেরেড কুশনার মঙ্গলবার দোহা সফরে গিয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কেরোলিন লেভিট জানান, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৈঠকের ঘোষণা দেন।
তবে ইরান জানিয়েছে, কাতারে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেন, চলতি সপ্তাহে এমন কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি, যদিও কাতারের সঙ্গে পরামর্শ অব্যাহত রয়েছে। প্রথমে আলোচনার বিষয় ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, কিন্তু এখন হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমানোই অগ্রাধিকার পেয়েছে।
হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান এখনও বিপরীত। ইরান দাবি করছে, সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এটি কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত নয় এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল অবাধ থাকতে হবে।
দোহায় মার্কিন-ইরান বৈঠকের দাবি হোয়াইট হাউসের, তেহরানের অস্বীকার
কাতারের রাস লাফান শিল্পনগরীর একটি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন এবং ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানায়। ঘটনাটি স্থানীয় সময় সোমবার ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিখোঁজদের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আহতদের অবস্থা বা বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি সূত্রে আমার দেশ অনলাইন প্রকাশ করেছে।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে মনোযোগ দিচ্ছে।
কাতারের কারখানায় বিস্ফোরণে আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮ জন
দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর গত বুধবার ফ্রান্সে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সব ফ্রন্টে লড়াই স্থগিতের ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাকিস্তানের পাশাপাশি কাতার এই চুক্তিতে মূল মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে। পাকিস্তান তুরস্ক, সৌদি আরব ও মিশরকে নিয়ে একটি কূটনৈতিক ফ্রন্ট গঠন করলেও কাতার তার অনন্য সম্পর্ক ও যোগাযোগের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন করে।
গত সপ্তাহে কাতারি প্রতিনিধিদল দুইবার তেহরান সফর করে এবং টানা ১৭ ঘণ্টার আলোচনার পর চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়। ইরানি হামলায় এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতার ১৭ শতাংশ ধ্বংস হওয়ার পর মার্চে কাতার মধ্যস্থতা থেকে সরে দাঁড়ায়। তবে এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে মে মাসের শেষ দিকে কাতার আবারও আলোচনায় ফিরে আসে এবং দুই পক্ষের মধ্যে শাটল ডিপ্লোম্যাসি শুরু করে।
অর্থনৈতিক ক্ষতি সত্ত্বেও কাতারের কূটনীতিতে প্রত্যাবর্তন তাদের বাস্তববাদী অবস্থানকে তুলে ধরে। এটি প্রমাণ করে যে, ছোট রাষ্ট্র হিসেবে কাতারের শক্তি সামরিক নয়, বরং কূটনৈতিক উদ্যোগেই নিহিত।
দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে কাতারের মধ্যস্থতা
চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের ফুটবল দলকে অনুপ্রেরণা দিতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে কাতার। আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির বিশেষ ব্যবস্থাপনায় প্রায় এক হাজার কাতারি সমর্থক চার্টার্ড বিমানে করে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে পৌঁছেছেন। কানাডার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই রাজকীয় আয়োজন ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কাতারি ফ্যানস ডেলিগেশন প্রোগ্রাম’ নামে এই কর্মসূচি যৌথভাবে পরিচালনা করছে কাতারের সোশ্যাল অ্যান্ড স্পোর্ট কন্ট্রিবিউশন ফান্ড ও ফুটবল ফেডারেশন। সরকার সমর্থকদের বিমানভাড়া, বিলাসবহুল হোটেলে থাকা, স্থানীয় যাতায়াত ও ম্যাচ টিকিটসহ সব খরচ বহন করছে। ভ্যাঙ্কুভারে পৌঁছে সমর্থকরা ঐতিহ্যবাহী দারবুকা ড্রাম বাজিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছেন।
কাতার দলের অধিনায়ক আবদুলআজিজ হাতেম সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তাদের উপস্থিতি দলকে অনুপ্রাণিত করছে। ফেডারেশন জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের পাশে সমর্থকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। কানাডার বিপক্ষে ম্যাচটি দুই দলের জন্যই টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াই নির্ধারণ করবে।
বিশ্বকাপে দলকে সমর্থন দিতে কাতারের এক হাজার সমর্থক ভ্যাঙ্কুভারে
কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে এক যৌথ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সহযোগিতা চাওয়া হলে কাতার সবসময় বন্ধু ও অংশীদারদের পাশে থাকবে। তিনি আরও জানান, চলমান সংকট নিরসনে সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিকল্প নেই এবং কাতার ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের আগের মতো স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দেশটি কাজ করছে। আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাতার তার কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে এবং সংঘাতের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
গাজা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে কাতার এখনও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইসরাইলি হামলায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যা শান্তি প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলছে।
আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ও গাজা যুদ্ধবিরতিতে কাতারের সহায়তার অঙ্গীকার
১৪ জুন ২০২৬ তারিখে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ ব্যবধানে ড্র করে কাতার বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করেছে। ম্যাচের প্রায় পুরো সময় পিছিয়ে থেকেও যোগ করা সময়ে এক নাটকীয় গোলে সমতায় ফেরে দলটি। প্রথমার্ধের ১৬তম মিনিটে ভিএআরের সহায়তায় পাওয়া পেনাল্টি থেকে ব্রিল এম্বোলো গোল করে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে দেন।
এটি ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম পেনাল্টি গোল। ম্যাচের বেশিরভাগ সময় সুইজারল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ম্যানুয়েল আকাঞ্জির নেতৃত্বে তাদের রক্ষণভাগ শেষ মুহূর্তে কাতারের পাল্টা আক্রমণে ভেঙে পড়ে। ইনজুরি টাইমে কাতারের ফরোয়ার্ডের গোলেই সমতায় ফেরে ম্যাচ।
এই ড্রয়ের ফলে কাতার শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টই অর্জন করেনি, বরং বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পয়েন্ট পাওয়ার আনন্দও উপভোগ করেছে। অন্যদিকে জয় হাতছাড়া হওয়ায় হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়ে সুইজারল্যান্ড।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে সমতায় কাতারের প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট
কাতার কুয়েত ও বাহরাইনে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এসব হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক আইন ও ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশনের নীতির পরিপন্থী।
বিবৃতিতে দোহা উল্লেখ করে, বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কাতার বেসামরিক স্থাপনায় হামলার বিরোধিতা জানিয়ে সব পক্ষকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।
কাতার কুয়েত ও বাহরাইনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে তাদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে।
কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানি হামলার নিন্দা জানিয়ে কাতারের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ
সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত শাংরি-লা ডায়ালগ নিরাপত্তা সম্মেলনে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর স্থায়ী ট্রানজিট ফি আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুল রহমান আল থানি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। তিনি জানান, কাতার ও উপসাগরীয় অংশীদার দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদি টোল বা ফি ব্যবস্থার বিরোধী।
তবে শেখ সৌদ ইঙ্গিত দেন যে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সাময়িক ফি আরোপের বিষয়ে আলোচনা সম্ভব। তিনি বলেন, যদি মাইন অপসারণ বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিশেষ কার্যক্রমের জন্য সীমিত সময়ের ফি আরোপের কথা বলা হয়, তাহলে সেটি আলোচনার বিষয় হতে পারে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও ওমানের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, কাতারের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। প্রণালিতে নতুন কোনো ফি বা বিধিনিষেধ আরোপ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও পণ্যের দামে প্রভাব পড়তে পারে।
হরমুজে স্থায়ী ফি প্রত্যাখ্যান, সাময়িক চার্জে আলোচনায় আগ্রহ কাতারের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। আলোচনায় তারা আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে মতবিনিময় করেন। কাতারের আমিরের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে, যেখানে আলোচনার মূল বিষয় ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি।
বিবৃতিতে বলা হয়, শেখ তামিম মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা রোধে সব পক্ষের মধ্যে কূটনীতি ও সংলাপকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্প ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় কাতারের সমর্থনের প্রশংসা করেন এবং আঞ্চলিক মতপার্থক্য দূরীকরণে দোহার ভূমিকার প্রশংসা জানান।
এই ফোনালাপ যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে উভয় পক্ষের আগ্রহকে প্রতিফলিত করে।
ইরান যুদ্ধ ও কূটনীতি নিয়ে ট্রাম্প ও কাতারের আমিরের ফোনালাপ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় সফলতা আনতে আরও সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছে কাতার। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (১৯ মে) দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এ কথা জানান। তিনি বলেন, পাকিস্তানের নেতৃত্বে দুই পক্ষকে কাছাকাছি আনতে যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে, কাতার তা সমর্থন করে।
আল-আনসারি আরও বলেন, কাতার এমন উদ্যোগকে সমর্থন করে যা পক্ষগুলোকে একত্রিত করে সমাধান খুঁজতে কাজ করছে, তবে এই প্রক্রিয়ায় আরও সময় লাগবে। কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং ভবিষ্যতেও এই যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।
এই অবস্থান কাতারের আঞ্চলিক কূটনীতিতে মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে, যা সংলাপ ও সমঝোতার প্রতি তাদের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় সমাধানে পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কাতার
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৬ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।