কাতার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা কোনো পক্ষের দ্বারা হুমকির মুখে পড়তে পারে না এবং এটি পুনরায় চালু করতে কোনো শর্ত আরোপ করা উচিত নয়। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক ব্রিফিংয়ে জানান, প্রণালিটি পুনরায় খুলে দিতে এবং এর বন্ধ থাকার নেতিবাচক প্রভাব কমাতে তারা অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।
আল-আনসারি বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব এবং কোনো পক্ষই এর স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে পারে না। তিনি আরও বলেন, এই সংকটের সমাধান আঞ্চলিকভাবে হওয়া উচিত, যেখানে উপকূলীয় দেশগুলো এবং যেসব দেশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল, তাদের সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তিনি জানান, পাকিস্তানে নতুন দফা আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে এবং কাতার এসব কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছে। কাতার শুরু থেকেই স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে, যা যুদ্ধবিরতিকে শক্তিশালী করবে এবং সবার জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষায় আঞ্চলিক সমাধানের আহ্বান কাতারের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে কাতার ও যুক্তরাজ্য। দোহায় এক বৈঠকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইরানের হামলার নিন্দা জানান এবং কাতারের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় যুক্তরাজ্যের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। কাতারের আমিরি দিওয়ানের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
দুই নেতা বলেন, এই যুদ্ধবিরতি চলমান উত্তেজনা কমাতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখবে এবং হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে স্থায়ী শান্তির আহ্বান কাতার ও যুক্তরাজ্যের
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনের আল-আকসা মসজিদে ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের হামলার নিন্দা জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দখলদার পুলিশের সুরক্ষায় সংঘটিত এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে।
উপসাগরীয় এই রাষ্ট্রটি ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের অনুভূতিতে উস্কানি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। কাতার জানিয়েছে, মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র স্থানে এমন কর্মকাণ্ড অগ্রহণযোগ্য এবং এটি শান্তি প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
আল–জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
আল-আকসা মসজিদে ইসরাইলি মন্ত্রীর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার ভোরে ইরানের নিক্ষিপ্ত একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কাতারের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আঘাত হানে। ‘অ্যাকুয়া ১’ নামের ট্যাংকারটি কাতারএনার্জির লিজে পরিচালিত হচ্ছিল এবং দেশটির জলসীমার মধ্যেই হামলার শিকার হয়। এতে থাকা ২১ জন নাবিক নিরাপদে জাহাজ ত্যাগ করতে সক্ষম হন এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। কাতারএনার্জি জানিয়েছে, হামলায় পরিবেশের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ট্যাংকারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তারা দাবি করেছে, জাহাজটি ইসরাইলের মালিকানাধীন। ঘটনাটি নিয়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কাতারের তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানি হামলা, ২১ নাবিক উদ্ধার, কোনো হতাহত নেই
২০২৬ সালের ১ এপ্রিল কাতারে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি তেল ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার মধ্যে দুটি প্রতিহত করা হয় এবং তৃতীয়টি কাতারএনার্জির ইজারা নেওয়া একটি ট্যাঙ্কারে আঘাত হানে। ট্যাঙ্কারের ২১ জন ক্রু সদস্যকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানায়, জাহাজটি বাম দিকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, তবে সব নাবিক নিরাপদ আছেন। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং জানিয়েছে যে এর কোনো পরিবেশগত প্রভাব নেই। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিকমাধ্যম এক্সে এই তথ্য প্রকাশ করে।
ঘটনাটি আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ালেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করা হয়েছে।
কাতারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারএনার্জির তেল ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত, হতাহতের খবর নেই
কাতারের রাজধানী দোহার উপকূলের কাছে একটি তেল ট্যাংকার প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস। সংস্থাটি জানায়, জাহাজটির বাম পাশে আঘাত লাগে, তবে সব নাবিক নিরাপদ আছেন। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং জানিয়েছে যে এ ঘটনার কোনো পরিবেশগত প্রভাব নেই।
এর একদিন আগে দুবাই উপকূলে নোঙর করা অবস্থায় কুয়েত ও সৌদি আরব থেকে দুই মিলিয়ন ব্যারেল তেল বহনকারী একটি ট্যাংকার ইরানের ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলায় ট্যাংকারটিতে আগুন লাগে, যা পরে নিভিয়ে ফেলা হয়, এবং সব নাবিক নিরাপদ ছিলেন।
ক্রমাগত এই হামলাগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, যদিও কাতারের ঘটনার জন্য কে দায়ী তা সূত্রে উল্লেখ করা হয়নি।
কাতার উপকূলে তেল ট্যাংকারে হামলা, তদন্ত চলছে, নাবিকরা নিরাপদ
ইরানের চলমান হামলার প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় দেশ কাতার ইউক্রেনের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিরোধে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বর্তমানে দোহা সফরে রয়েছেন, এর আগে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেন।
চুক্তিটি এমন সময়ে স্বাক্ষরিত হলো যখন ইরান মার্কিন-ইসরাইলি হামলার জবাবে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এই সংঘাত দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করেছে। আঞ্চলিক উত্তেজনার এই প্রেক্ষাপটে কাতার ও ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দুই দেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তি উভয় দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদারে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান সংঘাতের মধ্যেই কাতার-ইউক্রেন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থির পরিস্থিতির কারণে আগামী ১ এপ্রিল দোহায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শাকিরার কনসার্ট স্থগিত করা হয়েছে। পর্যটনভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘ভিজিট কাতার’ সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে এই তথ্য জানিয়েছে।
এছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিতব্য অ্যাফলিনিটজ মিউজিক ফেস্টিভ্যালেও শাকিরা ও জোনাস ব্রাদার্সের পারফর্ম করার কথা ছিল। টিকিট বিক্রির প্ল্যাটফর্ম ‘প্লাটিনাম লিস্ট’ জানিয়েছে, সেই অনুষ্ঠানও চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তগুলো মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে বিনোদন ও পর্যটন খাতে অনিশ্চয়তার প্রতিফলন ঘটায়, যদিও নভেম্বরের পর নতুন তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় দোহায় শাকিরার কনসার্ট স্থগিত
প্রস্তাবিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তিতে কাতারের আল-উদেইদে অবস্থিত বিশাল মার্কিন বিমানঘাঁটি বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে কিছু সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে কাতার সরকারের একজন মুখপাত্র এই তথ্য নাকচ করে জানিয়েছেন, ঘাঁটি বন্ধের কোনো পরিকল্পনা নেই।
মুখপাত্র বলেন, বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি বরং কাতার, যুক্তরাষ্ট্র এবং গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলভুক্ত দেশগুলোর বিদ্যমান অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। এই ব্যাখা এমন সময় এসেছে যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে নানা জল্পনা চলছে।
কাতারের এই অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আগ্রহী।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি জল্পনার মধ্যে মার্কিন ঘাঁটি বন্ধের খবর অস্বীকার কাতারের
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেওয়ায় কাতারএনার্জি তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে ‘ফোর্স মজিউর’ বা ‘অনিবার্য পরিস্থিতি’ ঘোষণা করেছে। আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার সংস্থাটি ইতালি, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো প্রধান গ্রাহক দেশের সঙ্গে থাকা দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহ চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে এ আইনি সুরক্ষা কার্যকর করেছে।
‘ফোর্স মজিউর’ হলো এমন একটি চুক্তির ধারা যা যুদ্ধ বা দুর্যোগের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষকে তাদের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেয়। সম্প্রতি কুয়েত ও বাহরাইনের পেট্রোলিয়াম কোম্পানিগুলোও একই ধারা কার্যকর করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে এলএনজি সরবরাহে ফোর্স মজিউর ঘোষণা কাতারের
কাতার জানিয়েছে, প্রস্তাবিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তিতে দেশটির আল-উদেইদে অবস্থিত বিশাল মার্কিন বিমানঘাঁটি বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নয়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এ ধরনের প্রতিবেদনকে কাতার সরকারের একজন মুখপাত্র সরাসরি নাকচ করেছেন এবং বলেছেন, ঘাঁটি বন্ধের কোনো পরিকল্পনা নেই।
মুখপাত্রের ভাষ্যে, বর্তমান আঞ্চলিক সংকট বরং কাতার, যুক্তরাষ্ট্র এবং গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলভুক্ত দেশগুলোর বিদ্যমান অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। এই ব্যাখ্যা আসে এমন সময়ে, যখন অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়েছে।
কাতারের এই অবস্থান তাদের প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ইঙ্গিত দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্বে কোনো পরিবর্তন আসছে না বলে স্পষ্ট করে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নিয়ে মার্কিন ঘাঁটি বন্ধের খবর অস্বীকার কাতারের
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে কোনো মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে কাতার। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজিদ আনসারি বলেন, দোহা যুদ্ধ বন্ধের কোনো উদ্যোগে জড়িত নয়। তিনি আরও বলেন, দেশের ওপর হামলা বন্ধ করা এবং মাতৃভূমিকে রক্ষা করাই কাতারের মূল লক্ষ্য।
গত বছর জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের আগে কাতার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী ছিল। আরব দেশগুলোর ওপর হামলার পর ইরানের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নে আনসারি বলেন, ভূগোল বদলে ফেলা যায় না, যা কাতারের কূটনৈতিক বাস্তবতাকে ইঙ্গিত করে।
এই ঘোষণার মাধ্যমে কাতার তার পূর্ববর্তী মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা থেকে সরে এসে আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আরও সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করবে না কাতার, জানাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
কাতারে একটি সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় সাতজন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তিনজন তুর্কি নাগরিক রয়েছেন। তাদের একজন তুর্কি সেনাসদস্য এবং দুজন তুরস্কের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাসেলসানের নিরাপত্তা কর্মী। বাকি চারজন কাতার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ছিলেন।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রবিবার ভোরে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হেলিকপ্টারটি দুর্ঘটনায় পড়ে। প্রথমে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং একজন নিখোঁজ ছিলেন। পরে নিশ্চিত করা হয়, সাতজনই নিহত হয়েছেন এবং নিহতদের নাম প্রকাশ করা হয়। তুরস্ক জানিয়েছে, কাতার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালাচ্ছে।
তদন্তের বিস্তারিত বা যান্ত্রিক ত্রুটির প্রকৃতি সম্পর্কে এখনো কোনো অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
কাতারে সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত, তিনজন তুর্কি নাগরিক
কাতারের উপকূলীয় জলে একটি সামরিক হেলিকপ্টার প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছে বলে সরকার রবিবার নিশ্চিত করেছে। হেলিকপ্টারটিতে সাতজন আরোহী ছিলেন, এবং একজন নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চলছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিয়মিত দায়িত্ব পালনের সময় হেলিকপ্টারটি ত্রুটিগ্রস্ত হয়েছিল। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন তুর্কি সেনা ও তুর্কি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান আসেলসানের দুই কর্মী ছিলেন। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।
কাতারি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিহতদের মধ্যে তিনজন কাতার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, একজন কাতার-তুরস্ক যৌথ বাহিনীর কর্মকর্তা এবং দুইজন তুর্কি বেসামরিক সহযোগীর নাম প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং বলেছে, ঘটনাটির পেছনে কোনো শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত নেই।
এই দুর্ঘটনা এমন সময় ঘটেছে যখন ইরানের হামলায় কাতারের রাস লাফান শিল্প নগরীতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যার ফলে দেশের তরল প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং বার্ষিক প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার আয় ক্ষতি হয়েছে বলে কাতারএনার্জির প্রধান সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন।
প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে কাতারি সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত
কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন, ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনের প্রায় ১৭ শতাংশ সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো কোম্পানির রপ্তানি সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে এবং পূর্ণ পুনরুদ্ধারে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। তিনি রমজান মাসে একটি মুসলিম ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ দেশের এমন হামলায় বিস্ময় প্রকাশ করেন।
আল-কাবি আরও জানান, দুটি এলএনজি ট্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাতারএনার্জিকে ইতালি, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের সঙ্গে করা দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস সরবরাহ চুক্তিতে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করতে হতে পারে, যা সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন সৃষ্টি করবে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো নির্মাণে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ক্ষতির ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে, কারণ কাতার বিশ্বের অন্যতম প্রধান এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ।
ইরানি হামলায় কাতারের এলএনজি উৎপাদন ১৭% ক্ষতিগ্রস্ত, পুনরুদ্ধারে লাগবে পাঁচ বছর
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের হামলার পর কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে শেল কোম্পানির প্রাকৃতিক গ্যাস কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পর সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, তবে আগুন দ্রুত নিভিয়ে ফেলা হয়। শেল জানিয়েছে, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং স্থাপনাটি বর্তমানে নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণ সক্ষমতায় এই কেন্দ্রটি প্রতিদিন ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রক্রিয়াজাত করতে পারে এবং প্রতিদিন ১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল গ্যাস-টু-লিকুইড জ্বালানি উৎপাদনে সক্ষম। ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘটেছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়েছে এবং যুক্তরাজ্যে গ্যাসের দাম ১৪০ শতাংশ বেড়েছে, যা যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবকে প্রতিফলিত করছে।
ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কাতারের শেল গ্যাস কেন্দ্র নিরাপদ ঘোষণা
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার ফলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারতে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই দেশগুলো তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির বড় অংশ কাতার থেকে পায়, যেখানে দেশের প্রায় সব প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানি করা হয়।
সিএনএন জানায়, জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী পাকিস্তান ও বাংলাদেশ যথাক্রমে ৯৯ শতাংশ ও ৭০ শতাংশ এলএনজি কাতার থেকে আমদানি করে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের এলএনজি চাহিদার ৪০ শতাংশের বেশি আসে কাতার থেকে। রাষ্ট্রায়ত্ত কাতার এনার্জি চলতি মাসের শুরুতে উৎপাদন স্থগিত করেছিল।
সাম্প্রতিক হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির কারণে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে কাতার এনার্জির আরও বেশি সময় লাগতে পারে, যা দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে।
কাতারে ইরানের হামলায় দক্ষিণ এশিয়ার এলএনজি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ স্থিতি হুমকিতে
কাতার ইরানের দূতাবাসের সামরিক ও নিরাপত্তা সংলগ্ন কর্মকর্তা ও কর্মীদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়তে হবে। ইরান বারবার কাতারে হামলা চালানোর পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের দূতাবাসে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়েছে, যাতে জানানো হয়েছে যে কাতার ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা সংলগ্ন কর্মকর্তাদের অবাঞ্ছিত ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করছে। এই ঘোষণা আসে মন্ত্রণালয়ের প্রোটোকল বিভাগের পরিচালক ইব্রাহিম ইউসুফ ফাখরো এবং কাতারে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত আলি সালেহ আবাদীর মধ্যে বৈঠকের সময়।
মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে যে, ইরানের বৈরী মনোভাব অব্যাহত থাকলে কাতার তার সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেবে।
ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিল কাতার
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। হামলাটি কাতারের প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র রাস লাফান শিল্পনগরীতে সংঘটিত হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাখোঁ বলেন, বেসামরিক অবকাঠামো—বিশেষ করে জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা অবিলম্বে বন্ধ করা জরুরি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা, তাদের মৌলিক প্রয়োজন এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ফোনালাপ ও বিবৃতি আন্তর্জাতিক মহলে জ্বালানি স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়।
ইরানি হামলার পর ট্রাম্প ও কাতারের আমিরকে ফোন করেন মাখোঁ
কাতারের রাস লাফান শিল্প শহরের বেশ কয়েকটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনায় বৃহস্পতিবার ভোরে আবারও হামলা চালিয়েছে ইরান। কাতারএনার্জি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হামলায় স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি উদ্ধারকারী দল তাৎক্ষণিকভাবে মোতায়েন করা হয়েছে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানিকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় হামলার পর কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে।
এই হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কাতারের রাস লাফান এলএনজি স্থাপনায় ইরানের হামলায় বড় অগ্নিকাণ্ড
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৩৯ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।