রাশিয়ার যুদ্ধ ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরোধিতা করে দেশ ছাড়ানো রুশ নাগরিকরা রাশিয়া এবং ইউরোপ—দুই দিক থেকেই ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়ছেন। ১৮ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কো বিদেশে থাকা সরকারবিরোধীদের নাগরিক অধিকার সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে, আর ইউরোপের দেশগুলোও আশ্রয় ও বসবাসের সুযোগ কঠিন করছে।
চলতি মাসের শুরুতে পুতিন রাজনৈতিক মামলায় অনুপস্থিতিতে দণ্ডিত বিদেশে থাকা ব্যক্তিদের পাসপোর্ট নবায়নসহ কনস্যুলার সেবা সীমিত করে নতুন আইন করেছেন। ‘বিদেশি এজেন্ট’ আইন লঙ্ঘন বা রুশ সেনাবাহিনীকে ‘অসম্মান’ করার অভিযোগেও এই পদক্ষেপ হতে পারে। ২০২৩ সালের নাগরিকত্ব আইন কার্যকর হওয়ার পর ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল হয়েছে।
জার্মানিতে মানবিক ভিসার সুযোগ সীমিত হয়েছে, ফিনল্যান্ড ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এক হাজারের বেশি রুশ নাগরিককে বহিষ্কার ও এক হাজার ১০০-এর বেশি আশ্রয় আবেদন নাকচ করেছে। রুশ-আর্মেনীয় কর্মী আরশাক মাকিচিয়ান বলেন, যুদ্ধবিরোধীরা বিদেশেও বাধার মুখে পড়ছেন। নতুন সেনা সমাবেশের আশঙ্কায় আরও মানুষ দেশ ছাড়তে পারেন, কিন্তু নিরাপদ আশ্রয়ের নিশ্চয়তা নেই।
রুশ যুদ্ধবিরোধীরা মস্কোর বিধিনিষেধ ও বিদেশে কঠোর আশ্রয়নীতির চাপে
রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলের কোলোস্কোভো গ্রামে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছয় বেসামরিক নিহত এবং একটি শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন। ১৭ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার আঞ্চলিক কর্মকর্তারা হতাহত হওয়ার তথ্য জানান। বেলগোরোদের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর আলেকজান্ডার শুভায়েভ বলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী গ্রামটিতে গোলাবর্ষণ করেছে।
শুভায়েভের বিবৃতি অনুযায়ী, আহত চারজনের মধ্যে দুজন চিকিৎসা সহায়তা নিলেও হাসপাতালে ভর্তি হতে রাজি হননি। শিশুসহ বাকি আহতদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হামলার সময় বা ব্যবহৃত অস্ত্রের বিষয়ে প্রতিবেদনে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে রুশ বাহিনীর রাতভর হামলায় দুজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই অঞ্চলের গভর্নর ইভান ফেদোরভ। টেলিগ্রামে তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রুশ বাহিনী অঞ্চলের ৬০টি বসতিতে এক হাজার ২১৭টি হামলা চালিয়েছে। প্রতিবেদনে জাপোরিঝিয়ায় নিহত ও আহতদের পরিচয় বা হামলাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
বেলগোরোদে ইউক্রেনীয় হামলায় ৬ নিহত, জাপোরিঝিয়ায় রুশ হামলায় ২ নিহত
রোববার রাশিয়া ও ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলেছে। মস্কোর মেয়র দাবি করেছেন, ইউক্রেন রাতভর মস্কোতে ৬০০টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার রাতভর পাল্টা হামলায় ইউক্রেনে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। রাজধানীতে সকাল পর্যন্ত বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল।
দক্ষিণ রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলের গভর্নর ইউরি স্লিউসার জানিয়েছেন, ইউক্রেনের রাতভর হামলায় ওই অঞ্চলে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, হামলায় বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুটি বনাঞ্চলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফলে উভয় পক্ষের হামলায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ১০ জন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রায় ১০০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। মস্কোর মেয়র ৬০০ ড্রোনের হামলাকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রতিবেদনে রাশিয়া বা ইউক্রেনের পক্ষ থেকে হামলাগুলোর অন্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা পরবর্তী পদক্ষেপের বিস্তারিত দেওয়া হয়নি।
রাশিয়া ও ইউক্রেনে রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১০ জন নিহতের খবর
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কুরিল দ্বীপপুঞ্জের ইতুরুপ দ্বীপ সফর করেছেন, যার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান। ১৩ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলে নৌ মহড়ার এক দিন পর এই সফর হয়। কুরিল দ্বীপপুঞ্জে এটি পুতিনের প্রথম সরাসরি সফর।
ইতুরুপসহ কুরিল দ্বীপপুঞ্জের কয়েকটি অঞ্চল নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। জাপান এসব দ্বীপকে ‘উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড’ হিসেবে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দ্বীপগুলো রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই বিরোধের কারণে দুই দেশের মধ্যে এখনো আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি বলেন, ইতুরুপসহ উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড ঐতিহাসিক ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জাপানের নিজস্ব ভূখণ্ড। সেখানে পুতিনের সফরের বিরুদ্ধে জাপান কঠোর প্রতিবাদ জানাচ্ছে। সফরের সময় রাশিয়ার মিত্র উত্তর কোরিয়াও কোরীয় উপদ্বীপের পূর্বদিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে।
ইতুরুপ সফর ঘিরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর করেছেন, যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বৃহস্পতিবার এ সফরের খবর দেয়। কুরিল দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে মস্কো ও টোকিও উভয়ই দাবি করে।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি বলেন, দ্বীপগুলো ঐতিহাসিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে জাপানের নিজস্ব ভূখণ্ড। তিনি জানান, জাপান সরকার পুতিনের এই সফরের তীব্র প্রতিবাদ করছে।
কয়েক দশক ধরে কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধ চলছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মস্কো ও টোকিওর মধ্যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়ার প্রধান কারণও এই বিরোধ। পুতিন বৃহস্পতিবার যে দ্বীপটি সফর করেন, সেটি রাশিয়ায় ইতুরূপ এবং জাপানে এতোরোফু নামে পরিচিত।
কুরিলের বিতর্কিত ইতুরূপ দ্বীপ সফরে পুতিনের বিরুদ্ধে জাপানের তীব্র প্রতিবাদ
রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করা হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ১২ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার তেলবাহী কথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর জাহাজ আটক এবং সেগুলো থেকে জব্দ করা পণ্য বিক্রির ইউরোপীয় পরিকল্পনার প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ অবস্থান জানান।
পুতিন রুশ জাহাজ জব্দের ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা ও দস্যুবৃত্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের পদক্ষেপের জবাবে রাশিয়াকে একই ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজন মনে করলে বিশ্বের যেকোনো স্থানে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়ার দখল করা ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড থেকে শস্য পরিবহনের সন্দেহে আটক একটি রুশ জাহাজ ইউক্রেনের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে খবর প্রকাশ হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই রুশ বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন পুতিন।
রুশ জাহাজ জব্দ হলে ইউরোপীয় জাহাজের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি পুতিনের
রাশিয়ার তাতারস্তান অঞ্চলের নিঝনেকামস্ক শহরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত এবং আরও ৩৯ জন আহত হয়েছেন। ১০ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে রয়টার্স রুশ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ায় বেসামরিক হতাহতের বিচারে এটি অন্যতম বড় হামলা। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বলেছে, মস্কো থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার পূর্বের তাতারস্তানে তাতনেফটের তানেকো তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
হামলার পর শোধনাগারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে স্থাপনাটির ওপর ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। রুশ তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছেন। তাদের অভিযোগ, ইউক্রেনীয় বাহিনী আবাসিক এলাকাও লক্ষ্য করেছে। নিঝনেকামস্কের মেয়রের টেলিগ্রাম বার্তা অনুযায়ী, তাতারস্তানের প্রধান রুস্তম মিন্নিখানভ নিহতদের ঘটনায় শোক জানিয়েছেন।
তানেকো শোধনাগারটি এর আগেও ইউক্রেনের হামলার শিকার হয়েছে; জুনের শুরুতে সেখানে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। রাশিয়ার জ্বালানি খাতে চাপ বাড়াতে ইউক্রেন কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। দুই দেশই বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
তাতারস্তানের নিঝনেকামস্কে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত
রাশিয়া দাবি করেছে, বুধবার রাতভর মস্কো, কৃষ্ণ সাগরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চালানো ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা প্রতিহত করে ৬০৫টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনটি ৬ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত ও পরে হালনাগাদ করা হয়।
ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পর বৃহস্পতিবার সকালে রাশিয়ার ইয়ারোস্লাভল শহরের আকাশে কালো ধোঁয়া দেখা যায়। অঞ্চলটির গভর্নর মিখাইল এভরায়েভ বলেন, আগের রাতে সেখানে সবচেয়ে বড় আকারের হামলা চালানো হয়। তাঁর দাবি, ইয়ারোস্লাভল এলাকায় ইউক্রেনের ৯২টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
ইয়ারোস্লাভলে রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম তেল শোধনাগার অবস্থিত। একই সময়ে ইউক্রেনের বালাক্লিয়া শহরে রাশিয়ার হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ইউক্রেনের সুমি শহরে রুশ হামলায় আরও ১২ জন আহত হওয়ার খবর দেওয়া হয়েছে।
রাশিয়ার দাবি, রাতভর হামলায় ইউক্রেনের ৬০৫ ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে
রাশিয়া ও ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে সোমবার পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রাশিয়ার ১১ জন এবং ইউক্রেনের ১১ জন নাগরিক বলে উল্লেখ করা হলেও, পরে দেওয়া আঞ্চলিক হতাহতের সংখ্যাগুলোতে আরও বেশি মৃত্যুর তথ্য রয়েছে।
রুশ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ক্রাসনোদার, বেলগোরোদ ও ক্রিমিয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। ক্রাসনোদারের আরখিপো-ওসিপোভকায় তিন শিশুসহ সাতজন নিহত এবং প্রায় ৪০ জন আহত হন। ক্রিমিয়ায় চারজন নিহত ও দুজন আহত হন; বেলগোরোদে চারজন নিহত এবং ১৭ জন আহত হন।
ইউক্রেনের কৃভি রিহে একটি পেট্রোল স্টেশনে রুশ বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোনের আঘাতে তিনজন নিহত হন, যাঁদের মধ্যে জরুরি পরিষেবাকর্মী ও তাঁর আট বছর বয়সি ছেলে ছিলেন। জাপোরিঝিয়ায় রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই শিশুসহ আটজন নিহত হন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় খারকিভ অঞ্চলের বিলিই কোলোদিয়াজ ও উস্পেনিভকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবিও করেছে।
রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলায় এক দিনে অন্তত ২৬ জন নিহত
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর কুদ্রিনস্কায়া স্কয়ারে বালজি রসি রেস্তোরাঁর কাছে বিস্ফোরণে অন্তত তিনজন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছেন। শনিবার স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৮টায় স্তালিন আমলের একটি বহুতল ভবনের নিচতলায় থাকা রেস্তোরাঁটির প্রবেশপথের কাছে ঘটনাটি ঘটে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ম্যাক্সে জানায়, এক নারীর বহন করা হাতবোমা বা ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস থেকে বিস্ফোরণটি ঘটে। জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি বলেছে, নারীটি রেস্তোরাঁয় ঢোকার চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মী তাকে বাধা দেন এবং তখনই বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। তাদের দাবি অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তাকর্মী, ওই নারী ও রেস্তোরাঁর একজন অতিথি রয়েছেন; তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
পুলিশ প্রথমে তিনজন নিহত ও ১৫ জন আহতের কথা জানালেও পরে আহতের সংখ্যা ২১ বলে জানানো হয়। বিস্ফোরণের পর নিরাপত্তা বাহিনী এলাকা ঘিরে ফেলে এবং রেস্তোরাঁয় সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ করে। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের গুঞ্জন নাকচ করে কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে হামলা বলেছে। নিহত ও আহতদের পরিচয় এবং অন্য কোনো সন্দেহভাজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
মস্কোর একটি রেস্তোরাঁর কাছে আইইডি বিস্ফোরণে তিনজন নিহত ও ২১ জন আহত
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন দাবি করেছেন, জুলাই মাসে ইউক্রেন রাশিয়ার রাজধানী মস্কোকে লক্ষ্য করে ৬ হাজারের বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আনাদোলুর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমার দেশ অনলাইনের ১ আগস্ট ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার রুশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ম্যাক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ তথ্য জানান। সোবিয়ানিনের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাজধানীমুখী আকাশপথের হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তিনি বলেন, ১ জুলাই রাত ১২টা থেকে ৩১ জুলাই রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মস্কো অঞ্চলের দিকে মোট ৬,২২৫টি ড্রোন আসে। এর মধ্যে রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মস্কোর আকাশসীমায় ৭৮০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে তিনি দাবি করেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি বলেও জানান মেয়র।
সোবিয়ানিনের মতে, আগের বছর এক মাসে মস্কো অঞ্চলের দিকে আসা ইউক্রেনীয় ড্রোনের সংখ্যা সাধারণত কয়েক ডজন থেকে সর্বোচ্চ কয়েকশোর মধ্যে সীমিত ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেন সম্প্রতি মস্কোসহ রাশিয়ার অভ্যন্তরের বিভিন্ন অঞ্চলে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। রুশ কর্তৃপক্ষও নিয়মিত রাজধানীমুখী ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করছে। এসব ঘটনার কারণে মস্কোর বিভিন্ন বিমানবন্দরে প্রায়ই ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
জুলাইয়ে মস্কোমুখী ৬,২২৫ ড্রোনের দাবি মেয়র সোবিয়ানিনের
রাশিয়ায় উদ্ভাবিত মেলানোমা চিকিৎসার ব্যক্তিগতকৃত এমআরএনএ টিকা ‘নিওনকোভ্যাক’ প্রথমবার প্রয়োগের পর আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে বলে দেশটির বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। ৩১ জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষামূলক টিকা নেওয়া প্রথম রোগীর শরীরে কাঙ্ক্ষিত রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন।
গ্যামালেয়া ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেকজান্ডার গিনজবার্গ বলেন, টিকাটি টিউমারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয় প্রতিরোধব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। এপ্রিল মাসে মস্কোর হারজেন অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমা ও মেটাস্টেসিসে আক্রান্ত ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে প্রথম টিকাটি দেওয়া হয়। তাঁকে আরও দুটি ডোজ দেওয়া হবে এবং চিকিৎসাজুড়ে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এই পদ্ধতিতে রোগীর টিউমার ও সুস্থ টিস্যুর নমুনার জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে পৃথক টিকা তৈরি করা হয়। গিনজবার্গ জানান, আরও ১০ জন রোগীর জন্য টিকা প্রস্তুত হচ্ছে, যা দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে ব্যবহারের উপযোগী হতে পারে। রুশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত বছর নিওনকোভ্যাক ও কোলরেক্টাল ক্যানসারের পেপটাইডভিত্তিক ওষুধ ‘অনকোপেপ্টি’সহ দুটি ব্যক্তিগতকৃত প্রযুক্তির অনুমোদন দেয়।
রাশিয়ার ব্যক্তিগতকৃত মেলানোমা টিকায় প্রথম রোগীর আশাব্যঞ্জক রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া
রাশিয়ার রাজধানী মস্কো অঞ্চল লক্ষ্য করে রাতে ৩৯০টির বেশি ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন। মঙ্গলবার টেলিগ্রামে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মস্কো অঞ্চলের দিকে এসব ড্রোন উড়ে আসে। ঘটনাটি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে ঘটে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সোবিয়ানিনের ভাষ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ ড্রোন শহরে পৌঁছানোর আগেই আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী নিষ্ক্রিয় করে। মস্কোর দিকে আসার সময় শত্রুপক্ষের ৮১টি মানববিহীন আকাশযান বা ইউএভি ধ্বংস করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। এএফপি মস্কো থেকে খবরটি জানিয়েছে।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভও হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, ড্রোন হামলায় চেখভ শহর ও ভাউলোভো গ্রামের আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে হতাহত, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হামলার দায় কার, সে বিষয়ে আর কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
মস্কো অঞ্চলে রাতে ৩৯০টির বেশি ড্রোন হামলার চেষ্টা, মেয়রের দাবি
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, ইউক্রেন গত রাতে রাশিয়ার মস্কো অঞ্চলের দিকে চার শতাধিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার অধিকাংশই রুশ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রতিহত করেছে। রাষ্ট্র সমর্থিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ম্যাক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩০ মিনিট থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত এসব ড্রোন মস্কোর দিকে এগিয়ে আসে এবং রাজধানীর কাছে পৌঁছানোর আগেই ৮৫টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়। খবরটি এএফপি প্রকাশ করেছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, মস্কো অঞ্চলে বিস্ফোরণে তিন বিদেশিসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের ডোমোদেদোভো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যা মস্কোর দক্ষিণে অবস্থিত এবং সেখানে রাজধানীর অন্যতম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। তবে, এই বিস্ফোরণ ড্রোন হামলার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
সূত্রে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে, যা কিয়েভের দাবি অনুযায়ী রুশ হামলার জবাব হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
মস্কো অঞ্চলে ইউক্রেনের ৪০০ ড্রোন হামলা, অধিকাংশ প্রতিহত করেছে রাশিয়া
২০২৬ সালের ১৮ জুলাই রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় অন্তত সাতজন গুদামকর্মী নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় গভর্নররা জানিয়েছেন। মস্কো অঞ্চলের একটি তেল ডিপোতেও আগুন লাগে। তাম্বভ অঞ্চলের কতোভস্ক শহরে রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামে হামলায় ২৫ জন আহত হন। গভর্নর ইয়েভগেনি পেরভিশভ জানান, রাতের শিফটে কর্মরত সাতজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং হামলার আগে ২৮টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছিল।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার দুটি লজিস্টিক স্থাপনা ও একটি তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যেগুলো ড্রোন উৎপাদনের যন্ত্রাংশ ও নেভিগেশন সরঞ্জাম সরবরাহে ব্যবহৃত হতো। মস্কোর পূর্বে ইলেকট্রোস্তাল শহরে ওয়াইল্ডবেরিজের আরেকটি গুদামে ড্রোন হামলায় আরও ২৪ জন আহত হন বলে গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানান।
ভোরোবিয়ভ আরও জানান, মস্কো অঞ্চলের নোগিনস্ক শহরে ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি তেল ডিপোতে আগুন লাগে, এতে দুইজন আহত হন এবং কাছাকাছি একটি মাতৃসদন নিরাপত্তার কারণে খালি করা হয়।
রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ৭ নিহত, মস্কো অঞ্চলে তেল ডিপোতে আগুন
রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের তামবভ অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় সাতজন নিহত এবং অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। শনিবার গভর্নর ইয়েভগেনি পেরভিশভ জানান, কোটভস্ক শহরের ওয়াইল্ডবেরিজ লজিস্টিকস কেন্দ্রে রাতের বেলায় এই হামলা চালানো হয়, যখন কর্মীরা রাতের শিফটে কাজ করছিলেন।
হামলার পর উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন চলছে বলে গভর্নর জানান। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এএফপি সূত্রে খবরটি প্রকাশ করেছে ‘আমার দেশ অনলাইন’, ১৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তবর্তী ও অভ্যন্তরীণ এলাকায় ড্রোন হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা সংঘাতের তীব্রতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রাশিয়ার তামবভে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ৭ নিহত, আহত ২৪ জন
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে আমার দেশ জানিয়েছে, চীন নীরবে রাশিয়ার অভ্যন্তরে ভ্লাদিমির পুতিন ও তার ঘনিষ্ঠ বৃত্তের বাইরে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক বিস্তার করছে। বেইজিং এমন রুশ কর্মকর্তা ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, যারা পুতিনের পরবর্তী সময়ে মস্কোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে চীন এমন কোনো প্রকাশ্য পদক্ষেপ নিচ্ছে না, যা পুতিনকে দুর্বল করার ইঙ্গিত দিতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা কর্মকর্তারা রাশিয়াকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে ক্রেমলিনের বাইরের গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছেন। ইউক্রেন যুদ্ধ ও পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে পড়ার পর রাশিয়ার অর্থনৈতিক নির্ভরতা চীনের ওপর আরও বেড়েছে। বর্তমানে রাশিয়ার বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৪০ শতাংশ চীনের সঙ্গে, যা ২০১৩ সালে ছিল প্রায় ১০ শতাংশ।
মধ্য এশিয়া ও পাওয়ার অব সাইবেরিয়া–২ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পেও চীনের প্রভাব বাড়ছে। গ্যাসের দাম নিয়ে মতবিরোধের কারণে প্রকল্পটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়াকে চীনের ওপর আরও নির্ভরশীল করে তোলার সুযোগ এখন বেইজিংয়ের হাতে।
রাশিয়ার ওপর প্রভাব বাড়াতে পুতিনের বাইরেও সম্পর্ক জোরদার করছে চীন
ইউক্রেন রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি বড় তেল টার্মিনালে হামলা চালিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একে রাশিয়ার যুদ্ধ ব্যয় নির্বাহের অবকাঠামো হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইউক্রেন আরও দাবি করেছে, ক্রনস্টাডে রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটিতেও হামলা হয়েছে। গভর্নর আলেকসান্দর বেগলভ হামলার সত্যতা স্বীকার করলেও হতাহতের ঘটনা অস্বীকার করেছেন। বিবিসি তেল টার্মিনালে আঘাতের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
কিয়েভের দাবি, সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধন সক্ষমতার প্রায় ৪৩ শতাংশ অকার্যকর হয়েছে, যদিও তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জ্বালানি সংকটের কথা স্বীকার করে দেশীয় সরবরাহ বাড়াতে একটি আইনে স্বাক্ষর করেছেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ৫০০টিরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে এবং ইউক্রেনের হামলাকে মনোযোগ সরানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে।
আগামী সপ্তাহে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনের আগে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে। রাশিয়া পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে, আর পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়ে গঠনমূলক সম্পর্কের আহ্বান জানিয়েছেন।
ন্যাটো সম্মেলনের আগে সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার তেল টার্মিনালে ইউক্রেনের হামলা
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, বিশ্বের দুই বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। শনিবার তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানায়। ক্রেমলিনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় পুতিন এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্মই নয়, বিশ্ব ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। পুতিন স্মরণ করিয়ে দেন, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার সংগ্রামে রাশিয়া উত্তর আমেরিকার উপনিবেশগুলোর প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন জানিয়েছিল এবং দুই বিশ্বযুদ্ধেই মস্কো ও ওয়াশিংটন মিত্র ছিল।
পুতিন আশা প্রকাশ করেন, মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গঠনমূলক, সমমর্যাদাভিত্তিক ও পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক গড়ে উঠলে তা দুই দেশসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বার্থে কাজ করবে।
পুতিন বললেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তায় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ দায়িত্ব রয়েছে
রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার রাতে ইউক্রেন সেন্ট পিটার্সবার্গ বন্দরের একটি তেল টার্মিনালে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। শহরের গভর্নর আলেক্সান্দর বেগলভ জানান, বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ৭২টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং একটি ড্রোন পিটারহফ এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে। হামলায় কিরোভস্কি জেলার একটি তেল টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরিস্থিতি পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয় টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলো বন্দরের তেল টার্মিনালে আগুন লাগার খবর প্রকাশ করে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল, ক্রিমিয়া এবং আজভ ও কৃষ্ণসাগরের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া মোট ৩৮৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত বা ধ্বংস করা হয়েছে। ইউক্রেন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি এবং রাশিয়ার এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি রাশিয়া–ইউক্রেন সংঘাতের চলমান ড্রোন যুদ্ধের তীব্রতা ও অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ধারাবাহিকতা তুলে ধরছে।
রাশিয়া জানায়, ইউক্রেনীয় ড্রোনে সেন্ট পিটার্সবার্গের তেল টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত, হতাহতের খবর নেই
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১১১ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।