রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনারা একটি ‘পবিত্র মিশনে’ রয়েছে। বুধবার মস্কোর সেন্ট জর্জ দ্য ভিক্টোরিয়াস গির্জায় সামরিক সদস্য ও তাদের পরিবারের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। পুতিন বলেন, যিশু খ্রিষ্ট যেমন মানবজাতিকে রক্ষা করতে পৃথিবীতে এসেছিলেন, তেমনি রুশ যোদ্ধারাও তাদের মাতৃভূমি ও জনগণকে রক্ষার জন্য কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার ইতিহাসে সেনাদের ঈশ্বরের পক্ষ থেকে পাঠানো ‘পবিত্র মিশন’ সম্পাদনকারী হিসেবে দেখা হতো। সেনাসদস্যদের সন্তানদের উদ্দেশে পুতিন বলেন, তাদের বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজন যারা যুদ্ধে আছেন, তাদের নিয়ে গর্ব করা উচিত, কারণ রাশিয়ার জনগণ সবসময় তাদের যোদ্ধাদের নিয়ে গর্ব করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী, যা এখনো চলছে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি এই সংঘাত থামানোর চেষ্টা করছেন।
পুতিন বললেন, ইউক্রেনে রুশ সেনারা মাতৃভূমি রক্ষার ‘পবিত্র মিশনে’ রয়েছে
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বা তার বাসভবনের ওপর ইউক্রেনের পক্ষ থেকে কোনো হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সিআইএ-এর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় ইউক্রেন পুতিন বা তার কোনো বাসভবনকে লক্ষ্যবস্তু বানায়নি। কর্মকর্তারা জানান, ইউক্রেন এমন একটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করেছিল যা পুতিনের বাসভবনের একই অঞ্চলে অবস্থিত হলেও কাছাকাছি নয়।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, রাশিয়া নভগোরোড অঞ্চলে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে কথিত ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার দাবির পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দিতে পারেনি। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে রাশিয়ার দাবিকে উড়িয়ে দেন এবং নিউ ইয়র্ক পোস্টের একটি সম্পাদকীয় শেয়ার করেন যেখানে পুতিনের প্রতিক্রিয়াকে সমালোচনা করা হয়। পরে ট্রাম্প জানান, পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলার পর তার ধারণা হয়েছে, হামলাটি সম্ভবত ঘটেনি।
জেলেনস্কি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এমন দাবি ইউক্রেনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষুণ্ন করছে এবং রাশিয়ার নতুন আক্রমণকে ন্যায্যতা দেওয়ার প্রচেষ্টা হতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইউক্রেন পুতিন বা তার বাসভবনকে লক্ষ্য করেনি
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরভ বলেছেন, আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে রাশিয়ার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। গত জুলাই মাসে রাশিয়া তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়, যা আফগান সরকার স্বাগত জানায় বলে টোলো নিউজ জানিয়েছে। ল্যাভরভ বলেন, এই স্বীকৃতি আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করেছে।
কাবুলের তালেবান সরকার রাশিয়ার অবস্থানকে প্রশংসা করে জানিয়েছে, আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় সহায়তা করবে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ অন্যান্য দেশকেও আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং রাশিয়ার পদক্ষেপকে সাহসী ও ইতিবাচক সম্পৃক্ততার সূচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাজিবুল্লাহ হোতাক বলেন, রাশিয়া একটি আঞ্চলিক পরাশক্তি এবং এই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করলে মধ্য এশিয়াসহ অন্যান্য দেশ আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণে উৎসাহিত হতে পারে। রাশিয়া একমাত্র দেশ যারা ৪ জুলাই তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ল্যাভরভ বললেন, তালেবান সরকারকে রাশিয়ার স্বীকৃতি আঞ্চলিক সহযোগিতার পথ খুলেছে
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেন শান্তি প্রতিষ্ঠায় কোনো তাগিদ দেখাচ্ছে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, কিয়েভ যদি শান্তিপূর্ণভাবে সংঘাতের সমাধানে না আসে, তবে রাশিয়া শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেই নিজের লক্ষ্য অর্জন করবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাস তাঁর এই বক্তব্য উদ্ধৃত করেছে।
এর আগে ইউক্রেনে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। এর প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, কিয়েভ যখন শান্তির চেষ্টা করছে, তখন মস্কো যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মনোভাব দেখাচ্ছে। শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে জেলেনস্কির যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফ্লোরিডায় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, আর তার আগেই পুতিনের এই মন্তব্য আসে। রয়টার্স জানিয়েছে, হোয়াইট হাউজ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে ক্রেমলিন জানিয়েছে, রাশিয়ার বাহিনী ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কয়েকটি শহর দখল করেছে। তবে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী এই দাবি নাকচ করে বলেছে, পরিস্থিতি কঠিন হলেও তারা প্রতিরক্ষামূলক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
ইউক্রেন শান্তি না চাইলে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিলেন পুতিন
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জনমত জরিপ সংস্থা ভিটিএসআইওএমের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, রাশিয়ার অধিকাংশ নাগরিক বিশ্বাস করেন ২০২৬ সালেই ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হবে। এই আশাবাদের পেছনে রয়েছে রুশ বাহিনীর সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রচেষ্টা জোরদার হওয়া। জরিপে অংশ নেওয়া ১,৬০০ জনের মধ্যে ৫৫ শতাংশ মনে করেন আগামী বছর যুদ্ধের ইতি ঘটবে, আর ৭০ শতাংশ ২০২৬ সালকে রাশিয়ার জন্য আরও সফল বছর হিসেবে দেখছেন।
সংস্থার উপপ্রধান মিখাইল মামোনভ জানান, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক বক্তব্যে “বিশেষ সামরিক অভিযান” জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে শেষ হতে পারে—এই ইঙ্গিত জনগণের আশাবাদ বাড়িয়েছে। যদিও অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, তবুও জরিপে ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত মিলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আশাবাদ যুদ্ধ ক্লান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশার প্রতিফলন। তবে তারা সতর্ক করেছেন, যুদ্ধের সমাপ্তি এখনো অনিশ্চিত এবং তা নির্ভর করবে যুদ্ধক্ষেত্রের অবস্থা ও কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর।
রাশিয়ানদের অর্ধেকের বেশি আশা করছেন ২০২৬ সালেই ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মহাকাশ সংস্থা রসকসমস ঘোষণা করেছে যে তারা ২০৩৬ সালের মধ্যে চাঁদে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এই কেন্দ্র থেকে রাশিয়ার চন্দ্র কর্মসূচি এবং যৌথ রাশিয়া-চীন গবেষণা কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে রসকসমস লাভোচকিন অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে চুক্তি করেছে, যেখানে রোসাটম ও কুরচাটোভ ইনস্টিটিউটও অংশ নিচ্ছে।
রাশিয়া ১৯৬০-এর দশক থেকে মহাকাশ অনুসন্ধানে অগ্রগামী হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে। ২০২৩ সালে লুনা-২৫ মিশনের ব্যর্থতা রাশিয়ার চন্দ্র অভিযানে বড় ধাক্কা দেয়। রসকসমস এই নতুন পরিকল্পনাকে চাঁদে স্থায়ী উপস্থিতি গড়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ রাশিয়ার মহাকাশ প্রতিযোগিতায় পুনরায় অবস্থান শক্ত করার প্রচেষ্টা। তবে প্রকল্পটি সফল করতে প্রযুক্তিগত জটিলতা ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
২০৩৬ সালের মধ্যে চাঁদে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে রাশিয়া
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ইয়েলেতস্কায়া সড়কে বুধবার ভোরে একটি থানার বাইরে বোমা বিস্ফোরণে দুই পুলিশ সদস্যসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। রুশ তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির কাছে দুই পুলিশ সদস্য এগিয়ে গেলে তিনি নিজের কাছে থাকা বিস্ফোরক ডিভাইসটি সক্রিয় করেন, ফলে ঘটনাস্থলেই বিস্ফোরণ ঘটে। নিহত দুই পুলিশ সদস্যের বয়স ২৪ ও ২৫ বছর, এবং একজনের স্ত্রী ও নয় মাস বয়সী সন্তান রয়েছে।
ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে একই এলাকায় গাড়িবোমা হামলায় রুশ সেনাবাহিনীর জেনারেল ফানিল সারভারোভ নিহত হন। এখনো কেউ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে পূর্ববর্তী অনুরূপ হামলার ঘটনায় ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছিল।
বিস্ফোরণের পর মস্কো জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা দুই হামলার মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। এই ঘটনা রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
মস্কো থানার বাইরে বোমা বিস্ফোরণে দুই পুলিশসহ নিহত তিনজন
রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউক্রেন রাতভর মস্কো ও আশপাশের অঞ্চলে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে তুলা অঞ্চলের একটি শিল্প এলাকায় আগুন লেগেছে। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, রাজধানীর দিকে আসা অন্তত তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং জরুরি সেবা সংস্থাগুলো ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, রাতভর তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোট ১৭২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে, যার প্রায় অর্ধেক সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভূপাতিত হয়। হামলার পর মস্কোর চারটি প্রধান বিমানবন্দরের মধ্যে দুটি সাময়িকভাবে কার্যক্রম সীমিত করেছে। তুলা অঞ্চলের গভর্নর দিমিত্রি মিলিয়ায়েভ জানিয়েছেন, ভূপাতিত একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ একটি শিল্প স্থাপনায় পড়ে আগুন ধরে যায়, তবে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানা যায়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে, যা কিয়েভের মতে রাশিয়ার সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো দুর্বল করার প্রচেষ্টা এবং রুশ হামলার প্রতিক্রিয়া।
রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় মস্কো ও তুলা অঞ্চলে অগ্নিকাণ্ড
রাশিয়ার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে স্নায়ু যুদ্ধ-পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতা চুক্তি বাতিলের অনুমোদন দিয়েছে। ১৯৯২ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে স্বাক্ষরিত এসব চুক্তির আওতায় ছিল জার্মানি, পোল্যান্ড, নরওয়ে, ডেনমার্ক, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া এবং চেক প্রজাতন্ত্র। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রাশিয়া কার্যত শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী সামরিক-কূটনৈতিক কাঠামোর সমাপ্তি ঘোষণা করল।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতিই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ রাশিয়ার নিরাপত্তা নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় এবং কালেক্টিভ সিকিউরিটি ট্রিটি অর্গানাইজেশন (সিএসটিও)-র মতো নিজস্ব জোটগুলোর ওপর নির্ভরতা আরও বাড়াবে। ইউরোপীয় দেশগুলো এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে পর্যবেক্ষকরা এটিকে পূর্ব-পশ্চিম সম্পর্কের আরও অবনতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে ইউরোপে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আস্থা-নির্মাণ উদ্যোগকে জটিল করে তুলতে পারে এবং রাশিয়া-ন্যাটো সম্পর্কের বিভাজন আরও গভীর করতে পারে।
ইউরোপের সঙ্গে স্নায়ু যুদ্ধ-পরবর্তী সামরিক চুক্তি বাতিল করল রাশিয়া
রাশিয়ার মস্কোতে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন রুশ জেনারেল ফানিল সারভারভ। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে ইয়াসেনেভায়া স্ট্রিটে তাঁর গাড়ির নিচে রাখা বোমা বিস্ফোরিত হয়। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন এবং কিছুক্ষণ পর মারা যান। বিস্ফোরণে আশপাশে পার্ক করা আরও সাতটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সারভারভ ছিলেন রুশ সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের অপারেশনাল ট্রেনিং অধিদপ্তরের প্রধান। ঘটনাটি তদন্তে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রুশ কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই হামলার পেছনে ইউক্রেনের বিশেষ বাহিনী জড়িত থাকতে পারে, যদিও ইউক্রেন এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। সিরিয়ায় ২০১৫-২০১৬ সালে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন সারভারভ। ২০১৬ সালে তিনি বর্তমান পদে নিযুক্ত হন।
এই হত্যাকাণ্ড রাশিয়া-ইউক্রেন উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা। নিরাপত্তা বাহিনী হামলার পেছনের নেটওয়ার্ক ও সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সংযোগ অনুসন্ধান করছে।
মস্কোতে গাড়ি বোমা হামলায় রুশ জেনারেল সারভারভ নিহত, ইউক্রেনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নববর্ষ ও বড়দিনের শুভেচ্ছা পাঠাবেন বলে নিশ্চিত করেছে ক্রেমলিন। পুতিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ সাংবাদিকদের জানান, এটি কূটনৈতিক সৌজন্যের অংশ এবং মস্কো আশা করে ইউক্রেন শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া সব পক্ষ পূর্ববর্তী চুক্তিগুলো মেনে চলবে।
এর আগে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন যদি ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানাতে চান, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। রুশ গণমাধ্যম জানায়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভকে বড়দিনে অভিনন্দন জানিয়েছেন, যা দুই দেশের মধ্যে সীমিত কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শুভেচ্ছা বিনিময় রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উত্তেজনার মধ্যেও সংলাপের ইঙ্গিত দেয়। তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে এমন প্রতীকী পদক্ষেপের বাস্তব প্রভাব কতটা হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ইউক্রেন শান্তি আলোচনার মধ্যেই ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা পাঠাবেন পুতিন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। রোববার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পারস্পরিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই সংলাপ ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।
এর আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁ ইউরোপীয় দেশগুলোকে রাশিয়ার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ শুরু করার আহ্বান জানান, যাতে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানো সম্ভব হয়। তিনি বলেন, ইউক্রেন ও ইউরোপের স্বার্থে আগামী সপ্তাহগুলোতে আলোচনার জন্য একটি কাঠামো নির্ধারণ করা জরুরি।
এদিকে, যুদ্ধ চতুর্থ বছরে প্রবেশের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনের বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় ৯০ বিলিয়ন ইউরো ঋণ দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে এই অর্থায়নে জব্দকৃত রুশ সম্পদ ব্যবহারের প্রশ্নে এখনো ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, পুতিন-মাখোঁ সংলাপের সম্ভাবনা ইউরোপীয় কূটনীতিতে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।
ইউক্রেন ইস্যুতে মাখোঁর সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী পুতিন, ইউরোপের ৯০ বিলিয়ন ইউরো সহায়তা অনুমোদিত
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন, ইউক্রেনে নির্বাচনের সময় রাশিয়া হামলা বন্ধের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে যদি রাশিয়ায় বসবাসরত ইউক্রেনীয় নাগরিকদের ভোটাধিকার দেওয়া হয়। মস্কোতে বছরশেষের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রায় ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ইউক্রেনীয় বর্তমানে রাশিয়ায় বসবাস করছেন এবং তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হলে রাশিয়া নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রস্তুত।
তুরস্কভিত্তিক আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিনের এই প্রস্তাব ইউক্রেনের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার কৌশল হতে পারে। তিনি বলেন, ভোটের দিন ইউক্রেনের গভীরে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব রাশিয়ার রাজনৈতিক চাপের অংশ এবং আন্তর্জাতিক মহলে নতুন কূটনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। ইউক্রেন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
রাশিয়ায় থাকা ইউক্রেনীয়দের ভোটাধিকার দিলে নির্বাচনী যুদ্ধবিরতি বিবেচনা করবে মস্কো
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, পশ্চিমারা যদি রাশিয়ার স্বার্থ ও মর্যাদাকে সম্মান করে, তবে ইউক্রেনের পর আর কোনো যুদ্ধে জড়াবে না রাশিয়া। শুক্রবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইউরোপে আক্রমণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকলে নতুন কোনো সামরিক অভিযান হবে না।
পুতিন আরও বলেন, রাশিয়ার ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে ইউরোপ চাইলে রাশিয়া প্রস্তুত। তিনি শর্ত দেন, ন্যাটো যদি পূর্বাঞ্চলীয় সম্প্রসারণে প্রতারণা না করে, তাহলে যুদ্ধের প্রয়োজন পড়বে না। অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ ওডেসা অঞ্চলে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাতজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই বক্তব্য পশ্চিমাদের প্রতি কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা রাশিয়ার প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান প্রদর্শনের পাশাপাশি ন্যাটোর ওপর চাপ বজায় রাখার কৌশল হিসেবেও কাজ করছে।
পুতিন বললেন, পশ্চিমা সম্মান পেলে নতুন যুদ্ধে যাবে না রাশিয়া
রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার সকালে আঞ্চলিক গভর্নর ইউরি স্লিউসার জানিয়েছেন। হামলাটি আঞ্চলিক রাজধানীর বন্দরে নোঙর করা একটি পণ্যবাহী জাহাজে আঘাত হানে, এতে আগুন ধরে যায় এবং দুই নাবিক নিহত ও তিনজন আহত হন। কাছাকাছি বাতাইস্ক শহরে এক বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ছয়জন আহত হন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে স্থানীয় প্রশাসন কাজ শুরু করেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে, যার লক্ষ্য মূলত জ্বালানি ও লজিস্টিক অবকাঠামো। রুশ কর্মকর্তারা দাবি করছেন, প্রায় প্রতি রাতে ডজনের বেশি ড্রোন প্রতিহত করা হচ্ছে। কিয়েভও কৃষ্ণসাগরে রুশ তেলবাহী জাহাজ ও নোভোরোসিস্ক বন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে, যা রাশিয়ার তেল রপ্তানিতে সাময়িক বিঘ্ন ঘটায়।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি উদ্যোগ চললেও যুদ্ধবিরতির কোনো ইঙ্গিত নেই। তুরস্ক সতর্ক করেছে, কৃষ্ণসাগরে এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
রোস্তভে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত, শান্তি প্রচেষ্টা স্থবির
রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রে বেলোসভ দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লাখ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে। বুধবার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষমতা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। বেলোসভের মতে, এত বিপুল প্রাণহানির কারণে কিয়েভের পক্ষে বাহিনী পুনর্গঠন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরে ইউক্রেন এক লাখ তিন হাজারেরও বেশি সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে, যার মধ্যে ৫ হাজার ৫০০ ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান রয়েছে—যেগুলো পশ্চিমা দেশগুলো সরবরাহ করেছিল। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে সাধারণ নাগরিকদের সেনাবাহিনীতে যোগদানের আগ্রহও কমে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
২০২২ সালে ক্রিমিয়া ও ন্যাটো ইস্যু ঘিরে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই দাবি এসেছে। পশ্চিমা সূত্রগুলো এখনো রাশিয়ার দেওয়া এই সংখ্যাগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
রাশিয়ার দাবি, ২০২৫ সালে ইউক্রেনের ৫ লাখ সেনা নিহত, যুদ্ধক্ষমতা এক-তৃতীয়াংশ কমেছে
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন যে ইউক্রেনে রাশিয়ার নির্ধারিত লক্ষ্য কূটনৈতিক বা সামরিক—যে কোনো উপায়েই অর্জন করা হবে। বুধবার প্রদত্ত বক্তব্যে তিনি ইউক্রেনে একটি ‘নিরাপত্তা বাফার জোন’ গঠন ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। পুতিন বলেন, রাশিয়া সংঘাতের মূল কারণগুলো কূটনৈতিকভাবে সমাধান করতে চায়, তবে ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্ররা যদি বাস্তব আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে রাশিয়া সামরিক উপায়েই এগোবে।
তিনি দাবি করেন, রাশিয়া সব ফ্রন্টেই অগ্রসর হচ্ছে, যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত শান্তি চুক্তির জন্য চাপ দিচ্ছেন। রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভ স্বীকার করেছেন যে ইউক্রেনীয় বাহিনী কুপিয়ানস্ক শহর পুনর্দখলের চেষ্টা করছে, তবে তা ব্যর্থ হচ্ছে বলে জানান। অপরদিকে ইউক্রেন দাবি করেছে, তারা শহরটির প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
ইউরোপ প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, ইউরোপীয় নেতারা জনগণকে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের ভয় দেখাচ্ছেন। তিনি জানান, রাশিয়া যুদ্ধ চায় না, তবে প্রয়োজনে প্রস্তুত রয়েছে।
পুতিনের ঘোষণা—কূটনীতি বা সামরিক শক্তি, যেভাবেই হোক ইউক্রেনে লক্ষ্য পূরণ করবে রাশিয়া
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেলজিয়ামভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউরোক্লিয়ারের বিরুদ্ধে ২৩ হাজার কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ইউক্রেনকে সহায়তায় জব্দ করা রুশ সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়ায় এই মামলা দায়ের করা হয়। মস্কোর বাণিজ্যিক আদালত ১২ ডিসেম্বর মামলাটি গ্রহণ করেছে। ক্রেমলিন একে ইউরোপের জন্য “আইনি দুঃস্বপ্ন”-এর সূচনা বলে আখ্যা দিয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইইউ প্রায় ২১০ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের রুশ সম্পদ জব্দ করে। ইইউ নেতারা সম্প্রতি এসব সম্পদ অনির্দিষ্টকালের জন্য জব্দ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এর একটি অংশ ইউক্রেনের সামরিক ও বেসামরিক প্রয়োজনে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন। রাশিয়া এই পদক্ষেপকে “চুরি” বলে অভিহিত করেছে এবং সতর্ক করেছে যে এতে ইউরো ও ইউরোপীয় ব্যাংকগুলোর ওপর আস্থা নষ্ট হবে।
আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আদালত দ্রুত রাশিয়ার পক্ষে রায় দিতে পারে। রাশিয়া জয়ী হলে তারা চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাজাখস্তানের মতো দেশগুলোতে ইউরোক্লিয়ারের সম্পদ জব্দের উদ্যোগ নিতে পারে। এই মামলা ইউরোপে সার্বভৌম সম্পদ ব্যবহারের নীতি নিয়ে গভীর বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
ইইউর ইউক্রেন সহায়তা পরিকল্পনায় ক্ষুব্ধ রাশিয়া ইউরোক্লিয়ারের বিরুদ্ধে ২৩ হাজার কোটি ডলারের মামলা করেছে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) এক ফোনালাপে পুতিন মাদুরো সরকারের নীতির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। এই অবস্থান রাশিয়ার লাতিন আমেরিকায় প্রভাব ধরে রাখার কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একই দিনে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো মস্কোয় নিযুক্ত ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত হেসুস রাফায়েল সালাজার ভেলাসকেজের সঙ্গে ১৭ দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার বৈঠক করেন। বেলারুশের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, লুকাশেঙ্কো মাদুরোকে সবসময় বেলারুশে স্বাগত জানাবেন বলে আশ্বাস দেন। তবে মাদুরো পদত্যাগ করলে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই অবস্থান ওয়াশিংটনের প্রভাব মোকাবিলায় রাশিয়ার কৌশলগত বার্তা বহন করছে।
মার্কিন চাপের মধ্যেও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোর পাশে থাকার ঘোষণা পুতিনের
রাশিয়া অভিযোগ করেছে, ইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে এমন সব শর্ত দিচ্ছে যা মস্কোর পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর মাধ্যমে শান্তি আলোচনা ভেস্তে দেওয়ার দায় রাশিয়ার ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ দূত রোডিয়ন মিরোশনিক ইজভেসতিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, কিয়েভের এই কৌশল সময় নষ্ট করা এবং রাজনৈতিক ব্লাফ ছাড়া কিছু নয়। তিনি আরও দাবি করেন, ইউক্রেন ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি কাঠামো পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।
এই অভিযোগ এমন সময় এলো যখন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ইউক্রেন ও মার্কিন কর্মকর্তাদের তিন দিনব্যাপী শান্তি আলোচনা কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনারের সঙ্গে তার গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। তবে উভয় পক্ষই একমত যে, প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা নির্ভর করছে মস্কোর আন্তরিকতার ওপর।
বিশ্লেষকদের মতে, পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর না হলে ভবিষ্যতের আলোচনাও প্রতীকী পর্যায়েই সীমিত থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যর্থ আলোচনার পর শান্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে দেওয়ার দায় ইউক্রেনের ওপর চাপাল রাশিয়া
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৪৪ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।