হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে জ্বালানি পরিবহনের বিকল্প কৌশল হিসেবে ওমান উপসাগরে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তর বেড়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ট্যাংকারট্র্যাকার্স ডটকম সেখানে অন্তত ২০ দফা শিপ-টু-শিপ বা এসটিএস স্থানান্তর শনাক্ত করেছে। এক দিনে এটি ওই এলাকার ব্যস্ততম এসটিএস কার্যক্রমগুলোর অন্যতম বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এসটিএস পদ্ধতিতে সমুদ্রে একটি জাহাজ থেকে সরাসরি অন্য জাহাজে তেল বা জ্বালানি পণ্য সরানো হয়। পণ্যের উৎস আড়াল করা, নিষেধাজ্ঞা এড়ানো অথবা ঝুঁকিপূর্ণ বন্দরে না গিয়েই পণ্য পরিবহনের জন্য এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এক্সে দেওয়া পোস্টে ট্যাংকারট্র্যাকার্স ডটকম জানায়, তারা প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের চলাচল শনাক্ত করেছে।
এর পাশাপাশি বিভিন্ন পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যও ছিল। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এসব পণ্যের উৎস ছিল অঞ্চলটির প্রায় সব দেশ, তবে ইরান এর বাইরে ছিল। পরে আরও পাঁচটি এসটিএস স্থানান্তর শনাক্ত করা হয়, যার একটিতে ইরানের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি ছিল। হরমুজ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে ওমান উপসাগর গুরুত্বপূর্ণ স্থানান্তরকেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।
হরমুজ এড়িয়ে ওমান উপসাগরে জাহাজে জাহাজে তেল স্থানান্তর বেড়েছে
ওমান ৬০ বছরের বেশি বয়সী প্রবাসী কর্মীদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া এবং বিদ্যমান পারমিট নবায়ন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে নিয়োগদাতাদের করা কয়েকজন প্রবাসীর পারমিট নবায়নের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, বর্তমানে ৬০ বছরের বেশি বয়সী প্রবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হচ্ছে না।
এই সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন ধরে ওমানে কর্মরত অনেক প্রবাসী অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ওমান সরকার ৬০ বছর পার হওয়ার পরও প্রবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের সুযোগ দিয়েছিল। তখন অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখাই ওই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।
নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ওমান কার্যত আগের নীতির বিপরীত অবস্থানে ফিরল। তবে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রবাসী কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের সেবা এখনো চালু রয়েছে। সেখানে বর্তমানে বয়সসীমা নিয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনের সূত্র হিসেবে গালফ নিউজের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
৬০ বছরের বেশি বয়সী প্রবাসীদের নতুন ও নবায়ন ওয়ার্ক পারমিট বন্ধ করেছে ওমান
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় ওমান বাধা হলে দেশটিতে বোমা হামলার হুমকি আবার দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ওমান তখন ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছিল। ইরান বারবার বলেছে, প্রণালি নিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবে না।
তেহরান ও মাসকট একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানোর সময় এ হুমকি আসে। একই সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হয়েছে। শান্তি আলোচনার জন্য সময় নির্ধারিত থাকলেও আলোচনা শুরুতেই ভেস্তে যায় এবং স্মারক নবায়নের সম্ভাবনা কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ইরানের আত্মসমর্পণ করা উচিত এবং ওমান পথে বাধা হলে দেশটিকে বোমা মেরে ধ্বংস করা হবে।
ওমান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হলেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং ইরানের একাধিক হামলার শিকার হয়েছে। মে মাসেও ট্রাম্প ওমানকে হুমকি দিয়েছিলেন। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইরান-ওমানের সম্ভাব্য সমঝোতা হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ছাড়ার মার্কিন দাবির বিপরীত হতে পারে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্র দৃশ্যত বাদ পড়ায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে থাকতে পারেন।
হরমুজ নিয়ে ইরানের সঙ্গে ওমানের আলোচনার মধ্যে আবার হামলার হুমকি ট্রাম্পের
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য চুক্তিতে ওমান বাধা দিলে দেশটিতে ভয়াবহ বোমা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৮ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি ইরানকে আত্মসমর্পণের জন্য সাদা পতাকা ওড়ানোর আহ্বানও জানিয়েছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত প্রণালিটি বন্ধ রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফক্স নিউজের সাংবাদিক ট্রে ইংস্টকে ট্রাম্প বলেন, ওমান পথে বাধা হলে হামলা চালানো হবে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ওমান এ মন্তব্যে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তেহরান ও মাসকাট কয়েক সপ্তাহ ধরে ভবিষ্যৎ জাহাজ চলাচল নিয়ে আলোচনা করছে এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই পক্ষ যৌথ ঘোষণা তৈরির কাজ করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের অন্তর্বর্তী চুক্তির উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর এ আলোচনা শুরু হয়। হরমুজে জাহাজ চলাচল কমে গেছে, যদিও ট্রাম্প নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকার দাবি করে আসছেন। যুদ্ধ ও জ্বালানি দামের ওঠানামা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান উত্তেজনা কমাতে কূটনীতির পূর্ণ ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন।
হরমুজ চুক্তিতে বাধা দিলে ওমানে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প
দক্ষিণ ওমানের উপকূল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে আল-কিবলিয়াহ দ্বীপে আটকে থাকা তেলবাহী ট্যাংকার ক্যারোলিন বেজেঙ্গি থেকে বিপুল তেল সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়েছে। জুনের শেষ দিকে আট লাখের বেশি ব্যারেল তেল নিয়ে জাহাজটি আটকে যায়; এর আগে ৮ জুন ইয়েমেন উপকূলের কাছে এটি বিস্ফোরণের শিকার হয়েছিল। ছড়ানো তেল ওমানের মূল ভূখণ্ডের ‘টার্টল কোস্ট’ এলাকার সৈকতে পৌঁছাতে শুরু করেছে।
হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জের এই দ্বীপটি ওমানের প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকার অংশ, যেখানে সোকোত্রা করমোর্যান্টসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী ও হাম্পব্যাক তিমির বিচরণ রয়েছে। ওমানের ন্যাশনাল কমিটি ফর ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট বলেছে, তারা পরিস্থিতি ও এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছে। সরকারের হিসাবে, তেল ছড়িয়ে পড়া এলাকার পরিমাণ প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যামব্রেকে জাহাজ উদ্ধার ও তেল দূষণ মোকাবিলায় নিয়োগ করা হয়েছে। উদ্ধারকারী জাহাজ, উড়োজাহাজ, বিশেষজ্ঞ এবং ১০০ টনের বেশি সরঞ্জাম নিয়ে আন্তর্জাতিক অভিযান চলছে; রয়্যাল এয়ার ফোর্স অব ওমানের সহায়তায় বিশেষজ্ঞরা জাহাজ ও কার্গো স্থিতিশীল করার কাজ করছেন। খারিফ মৌসুমের প্রতিকূল আবহাওয়ায় কাজ কঠিন হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, তেল অগভীর উপকূলীয় পানিতে পৌঁছালে ক্ষতি বাড়বে এবং এর অবশিষ্টাংশ বহু বছর থাকতে পারে।
ওমান উপকূলে তেল ছড়ানো ঠেকাতে আন্তর্জাতিক উদ্ধার ও পরিষ্কার অভিযান চলছে
ওমানের উপকূলীয় সমুদ্রে ক্ষতিগ্রস্ত একটি তেলবাহী ট্যাংকার থেকে প্রায় ৩৯০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় তেল ছড়িয়ে পড়েছে। ওমান সরকার জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ক্যারোলিন বেজেঙ্গি নামের জাহাজটি রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বহন করছিল। ১০ আগস্ট প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষ ছড়িয়ে পড়া তেল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ধোফার গভর্নরেটের হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জের কাছে ওমানের জলসীমায় তেল ছড়িয়েছে। তেলের স্তরটি দ্বীপপুঞ্জের উত্তর-পূর্ব দিকে মূল ভূখণ্ডের দিকে বিস্তৃত হয়েছে। উপকূলের সবচেয়ে কাছের অংশটি তীর থেকে আনুমানিক সাত কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।
দুটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে জানায়, ৮ জুন দক্ষিণ ইয়েমেনের মুকাল্লা বন্দরের কাছে জাহাজটির ক্রুরা প্রথম সমস্যার কথা জানান। প্রাথমিক মূল্যায়নে জাহাজটির ভেতরে বিস্ফোরণের ধারণা করা হয়েছিল, তবে ক্ষতির কারণ এখনো স্পষ্ট নয় এবং ওমান কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যা দেয়নি। জাহাজটি ১১ জুন ইয়েমেন উপকূলের কাছে সর্বশেষ পাবলিক এআইএস ট্র্যাকিং সিস্টেমে সংকেত পাঠায়।
ওমানের জলসীমায় ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকার থেকে ৩৯০ বর্গকিলোমিটারে তেল ছড়িয়েছে
ওমান বাংলাদেশ থেকে কৃষিশ্রমিক নেওয়ার জন্য ভিসা আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে। ওমান এগ্রিকালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের আল ধাহিরাহ শাখা অনুমোদিত শ্রমিক নিয়োগ কর্মসূচির আওতায় এই আবেদন নিচ্ছে। ওমান ডেইলি অবজার্ভারের প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়। ওমানের কৃষকেরা এখন বাংলাদেশি কৃষিশ্রমিক নিয়োগের জন্য ভিসার আবেদন করতে পারবেন।
ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয় ও রয়্যাল ওমান পুলিশের দেওয়া অনুমোদনের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হচ্ছে। নিবন্ধিত খামারমালিকেরা বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য ভিসা সংগ্রহ করতে পারবেন। ওমানের কৃষকদের ৯ আগস্ট থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত অ্যাসোসিয়েশনের আল মুরতাফার কার্যালয়ে গিয়ে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদনে কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা গ্রহণ করা হবে না।
আবেদনকারীদের বার্ষিক ফি পরিশোধের প্রমাণ, কৃষি হোল্ডিংয়ের সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, শ্রম মন্ত্রণালয়ের বৈধ অনুমোদনপত্র এবং অন্যান্য নথি দেখাতে হবে। একটি সরকারি সেবা কেন্দ্র সানাদের স্বত্বাধিকারী জানিয়েছেন, মোট ৫ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সুবিধাটি কেবল কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের নিবন্ধিত সদস্যদের জন্য; একটি অ্যাসোসিয়েশন সর্বোচ্চ ৩৩০ জন শ্রমিক নিয়োগ করতে পারবে।
ওমান বাংলাদেশি কৃষিশ্রমিক নিয়োগে ভিসা আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে
হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি ট্যাংকার থেকে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)। ৬ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওমানের কুমজার উপকূলের কাছে ঘটনার তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি।
ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, প্রণালি অতিক্রমের সময় ট্যাংকারটির মাস্টার বা ক্যাপ্টেন দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। এরপর তিনি বিষয়টি ইউকেএমটিওকে জানান। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে ক্যাপ্টেনের ওই প্রতিবেদনের কথা নিশ্চিত করেছে।
প্রাপ্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্যাংকারের নাবিকেরা নিরাপদ আছেন এবং জাহাজটির কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে বিস্ফোরণের কারণ বা শব্দের উৎস সম্পর্কে ইউকেএমটিও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার থেকে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ, জাহাজ ও নাবিক নিরাপদ
ওমানের খাসাব উপকূল থেকে উত্তর-পূর্বে প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা বা আঘাতের ঘটনা ঘটেছে। ৪ আগস্ট ২০২৬ যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস বা ইউকেএমটিও এ তথ্য জানায়। দূরত্বটি প্রায় ৩৭ কিলোমিটার বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
ইউকেএমটিও জানিয়েছে, জাহাজটিকে যে বস্তু আঘাত করেছে, সেটি কী ছিল তা কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। ঘটনাটিতে জাহাজটির বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না কিংবা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
সংস্থাটি ওই এলাকায় চলাচলকারী অন্য জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে নৌযান পরিচালনার পরামর্শ দিয়েছে। সন্দেহজনক কোনো তৎপরতা দেখা গেলে দ্রুত তা জানানোরও আহ্বান করা হয়েছে। ওমানের আশপাশের সমুদ্রসীমা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
ওমানের খাসাব উপকূলের কাছে পণ্যবাহী জাহাজে আঘাতের ঘটনা তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ
ওমানের লিমাহ এলাকা থেকে প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে চলন্ত একটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। শনিবার ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এ তথ্য জানায়। হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন রুম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্যাংকারটি সমুদ্রে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে।
ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কোস্টগার্ডকে অবহিত করা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ হামলার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রকাশিত তথ্যে হামলার দায় কারও ওপর আরোপ করা হয়নি এবং ট্যাংকারটির অন্য কোনো ক্ষয়ক্ষতির বিবরণও দেওয়া হয়নি।
এ পর্যন্ত হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। সাগরে জ্বালানি ছড়িয়ে পড়া বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবরও পাওয়া যায়নি। তবে কৌশলগত ওই নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী অন্য সব বাণিজ্যিক জাহাজকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাতায়াতের পরামর্শ দিয়েছে ইউকেএমটিও। সন্দেহজনক কোনো তৎপরতা দেখা গেলে তা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতেও অনুরোধ করা হয়েছে।
ওমান উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ট্যাংকারের ইঞ্জিন বিকল, তদন্ত শুরু
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখতে নতুন একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে ওমান। শনিবার মাস্কাটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি এই প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবটির লক্ষ্য হলো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা।
সিএনএনের বরাতে জানা গেছে, আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে প্রস্তাব অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিটি দুটি পৃথক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এতে প্রণালির উত্তর ও দক্ষিণ উভয় দিকের নৌপথই জাহাজ চলাচলের জন্য খোলা থাকবে। প্রস্তাবিত চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং আলোচনা চলছে।
চুক্তিটি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালির দুই দিকের নৌপথে স্থিতিশীলতা ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
হরমুজ প্রণালির নৌপথে নতুন নিয়ন্ত্রণ প্রস্তাব দিল ওমান
ওমানের লিমা উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনাবিষয়ক সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। ঘটনাটি লিমা উপকূল থেকে আট নটিক্যাল মাইল পূর্বে ঘটে, যখন জাহাজটি দক্ষিণ দিকে যাচ্ছিল। সংস্থাটি জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি ট্যাংকারের বাম পাশে আঘাত করে।
ইউকেএমটিও জানিয়েছে, এই হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কাও নেই। কর্তৃপক্ষ পুরো ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং হামলার উৎস সম্পর্কে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়ন করছে।
ওমানের লিমা উপকূলে তেল ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, হতাহতের খবর নেই
ওমানের দুকম বন্দরে নোঙর করা সেলেস্টিয়াল নামের একটি জাহাজে এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাতে মাস্কটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানায়, জাহাজে অবস্থানকালে ওই নাবিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান। মরদেহ দ্রুত ভারতে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও দূতাবাস জানিয়েছে।
ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজে তিন লাখের বেশি ভারতীয় নাবিক কর্মরত রয়েছেন, যার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ১৮ হাজারেরও বেশি কাজ করছেন। কয়েকদিন আগেই ওমান উপকূলে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার পর নতুন করে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আহ্বান জানিয়েছে আসন্ন জি-সেভেন সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ট্যাংকার হামলার বিষয়টি উত্থাপন করতে। এ ঘটনায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন কূটনীতিকদের তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ওমানের দুকম বন্দরে জাহাজে ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু, মরদেহ ফেরাতে দূতাবাসের উদ্যোগ
ওমান উপকূলে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ট্যাংকারের ইঞ্জিন রুমে আগুন লেগেছে বলে জানিয়েছে ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)। আগুন লাগার কারণ প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি ওমানের সোহার থেকে প্রায় ২১ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে ঘটেছে।
এই ঘটনা এমন সময় ঘটল যখন সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার পর ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে। ইরান জানিয়েছে, এই সমুদ্রপথ দিয়ে যাতায়াতের চেষ্টা করা যেকোনো নৌযানকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ, এবং এর বন্ধ হওয়া আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
বন্ধ প্রণালির কাছাকাছি ট্যাংকারে আগুনের এই ঘটনা সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে, যদিও আগুনের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত নয়।
হরমুজ প্রণালির কাছে ট্যাংকারে আগুন, ইরান প্রণালি বন্ধ রেখেছে
ওমানের উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ভারতের নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। মাদাগাস্কারের পতাকাবাহী ‘মারিভেক্স’ নামের জাহাজটিতে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন, এবং সবাই নিরাপদ আছেন। ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পরিচালক ওপেশ কুমার শর্মা এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, আগুন লাগার সময় জাহাজটি কোনো ধরনের পণ্য বা তেল বহন করছিল না। নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিদেশে অবস্থিত ভারতীয় মিশন, ভারতীয় নৌবাহিনী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে বলে শর্মা জানিয়েছেন।
ওমান উপকূলে ট্যাঙ্কারে আগুন, ২৪ ভারতীয় নাবিক নিরাপদ
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের জমাদারগ্রামের বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম (৪০) ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে বেরুমি এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। তার মরদেহ বর্তমানে বেরুমি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে তিনি ওমানে এমব্রয়ডারির কাজ করতেন। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে আগামী বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার কথা ছিল তার, এজন্য বিমানের টিকিটসহ সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছিলেন।
স্বজনদের বরাতে জানা যায়, শনিবার রাতে স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়দের জন্য উপহার কিনে বাসায় ফেরার পথে দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রবাসী সংগঠনের নেতারা মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
শহীদুল ইসলামের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
দেশে ফেরার আগে ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু
ওমানের মিনা আল ফাহাল তেল টার্মিনালে বিস্ফোরণের পর দেশটির প্রধান এই তেল রপ্তানি কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে সূত্রের বরাতে জানানো হয়, টার্মিনালের সিঙ্গেল-বুই মুরিং (এসবিএম) বার্থের কাছে বিস্ফোরণ ঘটে এবং এর পরপরই তেল লোডিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
সূত্রমতে, এসবিএম ১ ও ২ বার্থের মধ্যে সন্দেহভাজন ড্রোন হামলার কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটে, যদিও হামলার সঠিক সময় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিস্ফোরণের পর বন্দরের বাইরে বেশ কয়েকটি সুপারট্যাঙ্কারকে নোঙর করা অবস্থায় দেখা গেছে, যা সাময়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
ঘটনাটি ওমানের তেল রপ্তানি অবকাঠামোর জন্য তাৎক্ষণিক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, তবে ক্ষয়ক্ষতি বা পুনরায় কার্যক্রম শুরু হওয়ার সময় সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ওমানের মিনা আল ফাহাল টার্মিনালে বিস্ফোরণে কার্যক্রম বন্ধ, সন্দেহভাজন ড্রোন হামলার অভিযোগ
হরমুজ প্রণালিতে কোনো টোল আরোপ করা হবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে ওমান। বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, তিনি ওমানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং রাষ্ট্রদূত নিশ্চিত করেছেন যে প্রণালিটিতে টোল আরোপের কোনো পরিকল্পনা নেই। হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে বেসেন্ট বলেন, দুই দেশের মধ্যে ২০০ বছরের সুসম্পর্ক রয়েছে এবং ওমান এই সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
বেসেন্ট আরও জানান, ওমান তার কোনো ব্যক্তি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি নিতে চায় না। এর আগে তিনি সতর্ক করেছিলেন যে, ইরানের টোল আরোপ পরিকল্পনায় ওমান সমর্থন দিলে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নেবে। বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ওমানকে সতর্ক করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই তেলবাহী রুটে হস্তক্ষেপ করা যাবে না, নইলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
বেসেন্ট পরে ব্যাখ্যা করেন, প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরা।
হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপ না করার আশ্বাস দিল ওমান
হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপে ওমানের সঙ্গে সমন্বয়ের দাবি করার পর ইরানের কারণে উপসাগরীয় দেশ ওমান ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনে পড়েছে। বিশ্বের সমুদ্রবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, তবে ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পর গত দশ সপ্তাহ ধরে এটি অবরুদ্ধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানকে কোনো ধরনের টোল বা শুল্ক দেওয়ার শর্তযুক্ত সমাধান তারা মেনে নেবে না এবং ওমানও একই অবস্থান নিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি প্রণালিটিকে ইরান ও ওমানের যৌথ জলসীমা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পশ্চিমা কূটনীতিকরা ইরানের প্রস্তাবকে বেআইনি বলেছেন, কারণ এতে জাহাজের জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্য ও জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে একটি বিকল্প পরিকল্পনা ওমানকে দিয়েছে, যা অধিকাংশ উপসাগরীয় দেশের সমর্থন পেয়েছে।
মূল অচলাবস্থা উপকূলীয় দেশগুলোর শুল্ক আরোপের আইনি অধিকার নিয়ে। ইরান ১৯৮২ সালের জাতিসংঘ সমুদ্র আইন চুক্তি অনুমোদন না করায় তারা প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইনের ওপর নির্ভর করছে। নতুন পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি রাজস্ব আয়ের প্রত্যাশা করছে, তবে চীনের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ ও শুল্ক পরিকল্পনা নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বে ওমান চাপে
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চার প্রবাসী ভাই ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে এবং বুধবার সকালে স্থানীয়রা পুলিশকে জানায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির এসি বিস্ফোরণ বা গ্যাস লিকেজজনিত বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন রাসেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চারজন ওমানে ছিলেন এবং দেশে থাকা ভাইয়ের বিয়ের কেনাকাটার জন্য তারা বেরিয়েছিলেন। বড় ভাই বিবাহিত ছিলেন এবং তার দুই সন্তান রয়েছে, অপর এক ভাই সম্প্রতি বিয়ে করে প্রবাসে যান। এ ঘটনায় তাদের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ওমান পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটি দীর্ঘক্ষণ চালু অবস্থায় স্থির ছিল, ফলে এসি থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে থাকতে পারে। এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণ, তা নিশ্চিত করতে তারা মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে। নিহতদের লাশ বর্তমানে রুস্তাক থানার হেফাজতে রয়েছে এবং পরে মাস্কাটে নেওয়া হবে।
ওমানে গাড়িতে চার বাংলাদেশি ভাইয়ের মৃত্যু, গ্যাস লিকেজের সন্দেহ
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ২০২ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।