মার্কিন-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দুবাইয়ে ব্যাপক ছাঁটাই ও কর্মসংকট দেখা দিয়েছে। পর্যটন ও বিমান চালনা নির্ভর অর্থনীতি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শহরটি ধনী বিদেশিদের প্রস্থান ও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের শ্রমিকদের বেকারত্বের মুখে পড়েছে। সরকার অর্থনৈতিক ক্ষতির তথ্য সীমিতভাবে প্রকাশ করলেও আমিরাতের অর্থনীতি ও পর্যটন মন্ত্রী একে সাময়িক বিঘ্ন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ফিলিপাইন, ভারত, মিশর ও ক্যামেরুনের শ্রমিকরা আয় কমে যাওয়ায় পরিবারে অর্থ পাঠাতে পারছেন না। ম্যানপাওয়ারগ্রুপের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতি চারজন নিয়োগকর্তার একজন কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছেন। দুবাই ইনভেস্টমেন্টসের প্রধান নির্বাহী শহরের পুনরুদ্ধার সক্ষমতার ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন, তবে রেমিট্যান্স নির্ভর বহু পরিবারের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে, তবু নতুন সংঘাতের আশঙ্কা দুবাইয়ের শ্রমবাজার ও অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে দুবাইয়ে ছাঁটাই বেড়েছে, অভিবাসী শ্রমিকরা কঠিন সংকটে
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ অংশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদের দুটি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউএই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আল বাহিয়া ও মোমবাসা নামের ট্যাংকার দুটি ওমানের আঞ্চলিক জলসীমায় অবস্থানকালে হামলার শিকার হয়। মোমবাসা জাহাজে থাকা এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন, এছাড়া ছয়জন ভারতীয় ও দুইজন ইউক্রেনীয় আহত হয়েছেন। হামলায় জাহাজ দুটি আগুনে পুড়ে গেলেও পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউএইর সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের যেকোনো প্রচেষ্টা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলার নিন্দা জানিয়ে নিহত ভারতীয় নাগরিকের ঘটনায় ভারতের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, বাণিজ্যিক নৌপরিবহনকে লক্ষ্যবস্তু করা ও হরমুজ প্রণালীকে চাপ সৃষ্টি বা অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেইলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা জলদস্যুতার শামিল এবং এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
হরমুজে ইরানের হামলায় ইউএইর জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, ভারতীয় নাবিক নিহত
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং দুই উপসাগরীয় দেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে ইউএই জানায়, এসব শত্রুতামূলক হামলা বাহরাইন ও কুয়েতের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং তাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
আল জাজিরার বরাতে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে ইউএই আরও জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা পাশে থাকবে। এই অবস্থান ইউএইর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি ও উপসাগরীয় সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।
বিবৃতিটি উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয় এবং সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে।
কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশে ইউএই
ইসরাইলের পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ নিশ্চিত করেছেন যে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে দেশটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছিল। আর্মি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধের শুরুতেই এই মোতায়েন করা হয়েছিল এবং আমিরাত বুঝতে পেরেছিল যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
রেগেভের এই বক্তব্যই প্রথমবারের মতো কোনো ইসরাইলি কর্মকর্তার প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি, যা মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এপ্রিলের প্রতিবেদনের পর এসেছে। গত মে মাসে ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিও উপসাগরীয় এই দেশে একটি ব্যাটারি মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে ইরান দেশটিতে প্রায় ৫৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২ হাজার ২০০টি ড্রোন হামলা চালিয়েছিল।
এই স্বীকৃতি ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরাইল ও আমিরাতের সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আমিরাতে আয়রন ডোম মোতায়েনের কথা নিশ্চিত করল ইসরাইল
সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবেশ ও আবাসনসংক্রান্ত ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। দেশটির ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্ট সিকিউরিটি জানিয়েছে, ১৪ ও ৬০ দিনের প্রবেশ ভিসার আওতায় এখন ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, কেনিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকরাও আবেদন করতে পারবেন। আগে এই সুবিধা শুধু নির্দিষ্ট ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ছিল। এছাড়া যোগ্য আবাসিক দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডাও যুক্ত হয়েছে। দুবাই ভ্রমণকারীরা এখন অনুমোদিত পর্যটন অফিসের মাধ্যমে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একক প্রবেশ ট্যুরিস্ট ভিসা পেতে পারবেন।
দুবাই কর্তৃপক্ষ সম্পত্তিভিত্তিক দুই বছরের আবাসিক ভিসার শর্ত সংশোধন করেছে। একক মালিকানার ক্ষেত্রে আগের ন্যূনতম সাত লাখ ৫০ হাজার দিরহামের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। যৌথ মালিকানায় প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর অংশের মূল্য কমপক্ষে চার লাখ দিরহাম হতে হবে। আকাশসীমা বন্ধের কারণে অতিরিক্ত অবস্থানকারীদের জন্য ৩০ দিনের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে, তবে ৯ জুলাইয়ের মধ্যে ভিসার অবস্থা সংশোধন বা দেশ ত্যাগ করতে হবে।
দুবাই সরকার চিকিৎসা পর্যটকদের জন্য ‘স্মার্ট মেডিকেল ভিসা’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে ইবোলা ভাইরাসের বিস্তার রোধে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
আমিরাতের নতুন ভিসা নীতি, আবাসন নিয়ম সংশোধন ও স্মার্ট মেডিকেল ভিসা চালু
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ঘোষণা করেছে যে তাদের নাগরিকরা এখন থেকে আবার লেবানন ভ্রমণ করতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তা উদ্বেগের জেরে দুই মাস আগে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। ঘোষণায় বলা হয়েছে, লেবানন ভ্রমণের আগে ইউএই নাগরিকদের অবশ্যই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিবন্ধন করতে হবে।
গত ৩০ এপ্রিল ইউএই ইরান, লেবানন ও ইরাক ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল এবং ওই দেশগুলোতে থাকা নাগরিকদের অবিলম্বে দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছিল। বর্তমানে ইরান ও ইরাক ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলেও লেবাননের ক্ষেত্রে তা তুলে নেওয়া হয়েছে।
সংবাদে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম সোমবার তেহরান ও দুবাইয়ের মধ্যে বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে, যা আঞ্চলিক যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
লেবানন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ইউএই, ইরান-ইরাকের নিষেধাজ্ঞা বহাল
সংযুক্ত আরব আমিরাত চলতি মাসেই তাদের প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন সেবা চালু করতে যাচ্ছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম জানিয়েছে। আবুধাবির নতুন রেলস্টেশন উদ্বোধনের পর যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ এ ঘোষণা দেন। প্রাথমিকভাবে আগামী ৩০ জুন আবুধাবি ও ফুজাইরাহর মধ্যে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। স্ট্যান্ডার্ড শ্রেণির ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ দিরহাম এবং প্রিমিয়াম শ্রেণির ভাড়া ১২০ দিরহাম। পরবর্তীতে এই রেলসেবা সাতটি আমিরাতের মধ্যে চারটিকে সংযুক্ত করবে।
দুবাইয়ের রেলস্টেশন আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর চালু হবে এবং শারজাহর প্রধান স্টেশন ২০২৭ সালের ৩০ মার্চ থেকে কার্যক্রম শুরু করবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে অন্যান্য আমিরাতে রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সমীক্ষা চালানো হবে। নতুন রেলবহরে ১৩টি ট্রেন থাকবে, প্রতিটি ট্রেনে সর্বোচ্চ ৪০০ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন। মঙ্গলবার থেকেই টিকিট বুকিং শুরু হয়েছে।
শেখ খালেদ বলেন, এই প্রকল্প ইউএইর দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিবহন নেটওয়ার্ক গঠনের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন, যা যোগাযোগ, বিনিয়োগ ও পর্যটন উন্নয়নে সহায়ক হবে।
৩০ জুন আবুধাবি-ফুজাইরাহ রুটে প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করবে ইউএই
পর্যটকদের ভ্রমণ সহজ করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ট্যুরিস্ট ভিসা অনুমোদনের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। এখন ৩০ ও ৬০ দিনের সিঙ্গেল-এন্ট্রি ট্যুরিস্ট ভিসা প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পর সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পাওয়া যাবে। পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে দুবাইয়ের হোটেল, বিনোদন কেন্দ্র ও জনপ্রিয় আকর্ষণীয় স্থানে বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ট্রাভেল খাতের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন ছাড়ের অফার পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে। অনেক হোটেলে কক্ষ ভাড়া শুরু হচ্ছে ১৩৯ দিরহাম থেকে, যা প্রায় ৪,৬৪৫ টাকা। রোভ হোটেলসসহ পরিচিত ব্র্যান্ডগুলো সীমিত সময়ের জন্য এই অফার দিচ্ছে। ডেজার্ট সাফারি, জেট স্কি ও বাগি রাইডের মতো বিনোদনমূলক কার্যক্রমেও উল্লেখযোগ্য ছাড় দেওয়া হচ্ছে, আগাম বুকিং করলে খরচ আরও কমানো সম্ভব।
এমিরেটসের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ভিসার আবেদন করা যাবে। ছয় মাস মেয়াদি পাসপোর্ট, সাম্প্রতিক ছবি, হোটেল বুকিংয়ের প্রমাণ ও নিশ্চিত ফ্লাইট টিকিট জমা দিতে হবে। সঠিক নথি থাকলে সাধারণত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ভিসা অনুমোদন দেওয়া হবে।
দুবাইয়ে ৪৮ ঘণ্টায় ভিসা অনুমোদন ও গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণে বিশেষ ছাড়
সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২৬ সালের ২৬ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ভারতীয় পাসপোর্ট, ভিসা ও অ্যাটেস্টেশন পরিষেবা স্থগিত রাখবে। এই পাঁচ দিনের স্থগিতাদেশের কারণ হলো কনস্যুলার পরিষেবার দায়িত্ব নতুন আউটসোর্সড প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তর করা। এই সময়ে নিয়মিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তবে দেশটিতে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকেরা জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে সেবা নিতে পারবেন।
আবুধাবিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, বর্তমান সেবা প্রদানকারী বিএলএস ইন্টারন্যাশনাল ও এসজিআইভিএস গ্লোবাল ২৫ জুনের পর নতুন আবেদন গ্রহণ বন্ধ করবে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে আল হিন্দ ট্যুরস অ্যান্ড ট্র্যাভেল এলএলসি সংযুক্ত আরব আমিরাতজুড়ে পাসপোর্ট, ভিসা ও অ্যাটেস্টেশন পরিষেবা প্রদানের দায়িত্ব নেবে।
নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে জুলাই থেকে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য কনস্যুলার সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সেবা প্রদানকারী পরিবর্তনে ২৬–৩০ জুন ভারতীয় পাসপোর্ট ও ভিসা সেবা বন্ধ
সংযুক্ত আরব আমিরাত ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। দেশটির মন্ত্রিসভা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ন্যূনতম বয়স ১৫ বছর নির্ধারণ করে একটি প্রস্তাবনা অনুমোদন করেছে। শিশুদের অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু, অনিরাপদ মিথস্ক্রিয়া, ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং অতিরিক্ত ব্যবহারের ঝুঁকি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, দেশে কার্যরত সব সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম—মেটা, টিকটক, এক্সসহ—এই নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য থাকবে। ব্যবহারকারীর প্রকৃত বয়স যাচাই করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল পরিচয়পত্রের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। শুধুমাত্র বয়স লিখে ঘোষণা করা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।
১৫ বছরের নিচে যেসব অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেগুলো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বয়স গোপন করে অ্যাকাউন্ট চালানোর চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিশুদের তথ্য ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন বা আচরণগত প্রোফাইল তৈরি করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নতুন নিয়মের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে প্ল্যাটফর্মগুলোকে ১২ মাস সময় দেওয়া হয়েছে।
১৫ বছরের নিচে শিশুদের সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ, বয়স যাচাইয়ে এআই ব্যবহারের নির্দেশ
আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে পড়া বিদেশিদের জন্য ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড ঘোষণা করেছে দেশটির ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্ট সিকিউরিটি (আইসিপি)। এই সময়সীমা ১০ জুন থেকে ৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত থাকবে। এ সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জরিমানা ছাড়াই তাদের ভিসা বা আবাসিক অবস্থার বৈধতা নিশ্চিত করতে পারবেন অথবা দেশ ত্যাগ করতে পারবেন।
আইসিপি জানিয়েছে, এই সুবিধা তাদের জন্য প্রযোজ্য যারা আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ে ইউএই ছাড়তে না পারায় আগে ওভারস্টে জরিমানা থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন। বর্তমানে অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় ক্ষতিগ্রস্তদের বৈধভাবে বসবাস ও কাজের সুযোগ বজায় রাখতে বা স্বাভাবিক নিয়মে ফিরে যেতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এই সুবিধা পেতে কোনো অতিরিক্ত আবেদন বা প্রাথমিক পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই। যারা থাকতে চান তারা আবাসন বা কর্মসংস্থানের অবস্থা পরিবর্তন করতে পারবেন, আর যারা দেশ ছাড়তে চান তারা বিদ্যমান প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চলে যেতে পারবেন। আইসিপি সংশ্লিষ্টদের সরকারি মাধ্যম অনুসরণ করতে আহ্বান জানিয়েছে।
আটকে পড়া বিদেশিদের জন্য ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড ঘোষণা করল সংযুক্ত আরব আমিরাত
সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের ওপর হামলা বন্ধের শর্তে দেশটিকে সর্বোচ্চ ২০ বিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। চারটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার জবাবে ইরান আমিরাতে একাধিক হামলা চালানোর পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দুটি আঞ্চলিক সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়তে রাজি হয়েছে আমিরাত, যার মধ্যে ৩ বিলিয়নের বেশি ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।
আরও দুটি সূত্র জানায়, ইরান হামলা বন্ধ রাখলে মোট অর্থের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। অর্থটি আমিরাতের নিজস্ব নাকি ইরানের আটকে থাকা সম্পদ, তা নিশ্চিত নয়। আমিরাতের এক কর্মকর্তা বলেন, তারা উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন।
সূত্রগুলো জানায়, এই পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কেউই নিজেদের সীমা অতিক্রম না করে সংঘাত নিরসনের পথ পেয়েছে। চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধ করবে এবং দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা পুনর্গঠিত হবে।
হামলা বন্ধের শর্তে ইরানকে ২০ বিলিয়ন ডলার দেবে আমিরাত
সংযুক্ত আরব আমিরাত অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের অবৈধ কার্যক্রম, ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং আল-আকসা মসজিদে অনুপ্রবেশের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। আরব গোষ্ঠী ও ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই নিন্দা জানানো হয়।
জাতিসংঘে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিশন সামাজিকমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে জানায়, পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ঐতিহাসিক, আইনি ও জনতাত্ত্বিক চরিত্র পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই ধরনের কর্মকাণ্ড অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ওপর ভিত্তি করে ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে।
আমিরাতের এই অবস্থান অধিকৃত অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে আঞ্চলিক উদ্বেগকে প্রতিফলিত করে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে শান্তি প্রচেষ্টার আহ্বানকে জোরদার করে।
আল-আকসা অনুপ্রবেশ ও অবৈধ বসতি স্থাপনের নিন্দা জানাল সংযুক্ত আরব আমিরাত
চলমান ইরান যুদ্ধ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুই দশকের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিয়েছে, যার মাধ্যমে দেশটি নিজেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি চটপটে ও অপরিহার্য মধ্যম শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। বন্দর নির্মাণ, মিলিশিয়া গঠন ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্বে বিনিয়োগের পরও ইরানের সাম্প্রতিক হামলা আমিরাতের কাঠামোগত দুর্বলতা প্রকাশ করেছে এবং তার সামরিক সক্ষমতার সীমা স্পষ্ট করেছে।
প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ প্রতিবেশীদের সমালোচনা করে বলেছেন, তারা মিত্র না হয়ে মধ্যস্থতাকারীতে পরিণত হয়েছে। ভাষ্যকার তারেক আল-ওতাইবা ও রাষ্ট্রদূত ইউসুফ আল-ওতাইবা যৌথ প্রতিরোধের আহ্বান জানালেও ইরানের সামরিক শক্তি ও আঞ্চলিক ঐক্যের অভাব আমিরাতকে একা করে দিয়েছে। নেটওয়ার্ক, সার্বভৌম তহবিল ও বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার ওপর নির্ভরতা সরাসরি সামরিক হুমকির মুখে কার্যকর হয়নি।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে, আমিরাতের নিরাপত্তা কেবল আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে পারে। সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত ও বাহরাইনের সঙ্গে যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলাই টেকসই স্থিতিশীলতার একমাত্র পথ।
ইরান যুদ্ধ আমিরাতের কৌশলগত দুর্বলতা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করেছে
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-দাফরা অঞ্চলে অবস্থিত বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনায় একটি বৈদ্যুতিক জেনারেটরে আগুন লাগে। আবুধাবি মিডিয়া অফিস এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, আগুনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে ঘটে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং পারমাণবিক বা তেজস্ক্রিয় নিরাপত্তার মাত্রায় কোনো প্রভাব পড়েনি। বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হয়। ঘটনার পর সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে প্রতিবেদনে হামলার দায় কারা নিয়েছে বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক কেন্দ্রে ড্রোন হামলায় জেনারেটরে আগুন
ইরান ও ইসরাইলের চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনা স্পষ্টভাবে নাকচ করেছে আবুধাবি। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দাবি করেছিল যে নেতানিয়াহু গোপনে আমিরাত সফর করেছেন এবং দেশটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই দাবি প্রকাশের পর আঞ্চলিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএম এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, নেতানিয়াহুর সফর বা কোনো ইসরাইলি সামরিক প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানানোর খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তারা স্পষ্ট করে জানায়, ইসরাইলের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক প্রকাশ্য এবং তা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় প্রতিষ্ঠিত, কোনো গোপন যোগাযোগের ওপর নয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমকে যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়।
এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে তথ্যযুদ্ধ ও কূটনৈতিক বার্তা ব্যবস্থাপনার গুরুত্বকে আবারও সামনে এনেছে।
ইসরাইল-ইরান সংঘাতের মধ্যে নেতানিয়াহুর গোপন সফরের দাবি নাকচ করল আমিরাত
বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরাইলের দুই শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়া মার্চ ও এপ্রিল মাসে অন্তত দুইবার আবুধাবি গিয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুদ্ধকালীন সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করেন। ইসরাইলি সূত্র বার্নিয়ার সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একই সময়ে শিন বেত প্রধান ডেভিড জিনিওও ইউএই সফর করেন, যার লক্ষ্য ছিল দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিরোধ এবং লক্ষ্য নির্ধারণে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় বেড়েছে। এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, এপ্রিলের শুরুতে আমিরাত গোপনে ইরানের ভেতরে হামলা চালায়, যার জবাবে ইরান ইউএই ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইরান ইউএইর ওপর প্রায় ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২০০টির বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করে, ফলে দেশটি উপসাগরীয় অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
ইরান যুদ্ধের সময় গোপনে আমিরাত সফর করেন ইসরাইলি গোয়েন্দা প্রধানরা
হিজবুল্লাহর সঙ্গে কথিত যোগসূত্রের অভিযোগে ২১ ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এমিরেটস নিউজ এজেন্সি (ডব্লিউএএম) জানায়, তালিকাভুক্তদের মধ্যে ১৬ জন লেবানিজ নাগরিক এবং পাঁচটি লেবাননভিত্তিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। জাতীয় আইনের আওতায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তালিকাভুক্তদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জব্দ করতে।
ডব্লিউএএম জানায়, এই পদক্ষেপ সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন মোকাবিলায় আমিরাতের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। সংস্থাটি একে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা জোরদারের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
২০১৬ সালের মার্চে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সঙ্গে মিলে হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত, যা তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করে।
হিজবুল্লাহর সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগে ২১ ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী ঘোষণা আমিরাতের
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম এবং সেনা সদস্য পাঠিয়েছে ইসরাইল। জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এ তথ্য জানান, যা পরে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমে উদ্ধৃত হয়। পরে তেল আবিবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইল বিষয়ক রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের প্রথম সদস্য হিসেবে আমিরাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং ইসরাইল তাদের কাছে আয়রন ডোম ব্যাটারি ও তা পরিচালনার জন্য কর্মী পাঠিয়েছে।
হাকাবি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের আরও দেশ শিগগিরই আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যুক্ত হবে এবং ইসরাইলের সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে। এই ঘটনাটি ইসরাইল ও আমিরাতের মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ইঙ্গিত দেয়।
প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত করছে যে, ইরান-ইসরাইল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সহযোগিতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক ও সামরিক সমীকরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।
ইরান সংঘাতের মধ্যে আমিরাতে আয়রন ডোম পাঠিয়েছে ইসরাইল, জানালেন মার্কিন দূত
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সম্পর্ক ক্রমেই খারাপ হচ্ছে বিভিন্ন সংঘাত ও জোট পরিবর্তনের কারণে। ইয়েমেন ইস্যুতে সৌদি আরবের সঙ্গে উত্তেজনা বেড়েছে, যেখানে রিয়াদ আমিরাতকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সহায়তা ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগ করেছে। সোমালিয়া নিরাপত্তা ও বন্দর চুক্তি বাতিল করে আবুধাবির বিরুদ্ধে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। সুদানও দারফুরে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে সহায়তার অভিযোগে আমিরাতের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল, যদিও আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এখতিয়ার না থাকায় তা খারিজ করে দেয়।
আলজেরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কও খারাপ হয়েছে, কারণ তারা আমিরাতকে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনকে সমর্থনের অভিযোগ করেছে। লিবিয়া ও সাহেল অঞ্চলে আমিরাতের ভূমিকা নিয়েও বিরোধ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান ও ইসরাইলের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করেছে আমিরাত, এমনকি গাজা যুদ্ধের সময়ও বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আব্রাহাম চুক্তি ও সিরিয়ার বাশার আল-আসাদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন আমিরাতের কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রতিবেদনটি দেখায়, শেখ জায়েদের সময়ের শান্তিপূর্ণ কূটনীতি থেকে আমিরাত এখন নিরাপত্তা ও ইসলামপন্থাবিরোধী নীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা আরব বসন্তের পর থেকে তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে।
ইয়েমেন, সোমালিয়া, সুদান ও আলজেরিয়া ইস্যুতে আমিরাতের আঞ্চলিক সম্পর্কের টানাপোড়েন
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৪৬ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।