বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মানবজাতি এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী ডিজিটাল ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে। চিলির উত্তরাঞ্চলের ভেরা সি. রুবিন মানমন্দিরে স্থাপিত ৩২০০ মেগাপিক্সেল ক্ষমতাসম্পন্ন এই ক্যামেরাটি ২০২৩–২৪ সালের শেষদিকে বসানো হয় এবং ২০২৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অংশ ‘এসএলএসি ন্যাশনাল অ্যাক্সিলারেটর ল্যাবরেটরি’ এটি নির্মাণ করেছে বিশাল এলএসএসটি (লেগেসি সার্ভে অব স্পেস অ্যান্ড টাইম) প্রকল্পের জন্য। প্রায় তিন টন ওজনের এই ক্যামেরাটিতে রয়েছে পাঁচ ফুট ব্যাসের লেন্স, যা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় লেন্স হিসেবে বিবেচিত।
প্রায় ৬৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে এবং এক দশকের আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় প্রকল্পটি সম্পন্ন হয়। এতে ২০১টি কাস্টম ডিজাইন করা সিসিডি সেন্সর রয়েছে, যা -১০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ধুলামুক্ত পরিবেশে সংরক্ষিত। ক্যামেরাটি এতটাই নিখুঁত যে ২৪ কিলোমিটার দূর থেকে একটি গলফ বলের ছবি তোলা সম্ভব। এটি প্রতি রাতে প্রায় ১৫ টেরাবাইট ডেটা সংগ্রহ করবে, যা সুপারকম্পিউটার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ করা হবে।
এই ক্যামেরার তোলা ছবি দিয়ে মহাবিশ্বের প্রথম ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি হবে, যা গ্যালাক্সি, গ্রহাণু, সুপারনোভা ও ডার্ক ম্যাটার গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
চিলিতে বিশ্বের বৃহত্তম ৩২০০ মেগাপিক্সেল মহাকাশ ক্যামেরার কার্যক্রম শুরু
চিলিতে সোমবার ৬ দশমিক ৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে চিলি বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্র। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫২ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়, যার কেন্দ্রস্থল ছিল কালামা শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে। প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় বলয়ের ওপর অবস্থানের কারণে চিলিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ঘটে। নাজকা ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের ফলে দেশটিতে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন মাত্রার কম্পন সৃষ্টি হয়। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৫৭০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত চিলিতে প্রায় ১০০টি বড় ভূমিকম্প হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩০টির মাত্রা ছিল ৮ বা তার বেশি।
জরুরি ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্যমতে, গড়ে প্রতি দশকে অন্তত একটি ৮ মাত্রা বা তার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্পের মুখোমুখি হয় দেশটি, যা চিলির ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানকে নির্দেশ করে।
চিলির কালামা শহরের কাছে ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, কোনো হতাহতের খবর নেই
দক্ষিণ আমেরিকার চিলি উপকূল থেকে প্রায় ২ হাজার ৩০০ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত ত্রিভুজাকৃতির আগ্নেয় শিলা দিয়ে গঠিত ইস্টার দ্বীপ পৃথিবীর অন্যতম রহস্যময় স্থান। প্রায় ৬৪ বর্গমাইল আয়তনের এই দ্বীপে সমুদ্রের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য বিশাল পাথরের মূর্তি। প্রশান্ত মহাসাগরে ভাসতে ভাসতে একদল ওলন্দাজ অভিযাত্রী প্রথম দ্বীপটি আবিষ্কার করে। দ্বীপবাসীরা এসব মূর্তিকে দেবতা হিসেবে পূজা করলেও কারা এগুলো নির্মাণ করেছে, সে বিষয়ে তারা কিছুই জানত না।
পরবর্তীতে ইস্টার দ্বীপ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা শুরু হয়। গবেষক থর হেয়ারডাল জানান, খ্রিষ্টাব্দ ৩৮০ সালে পেরু থেকে আগত মানুষ দ্বীপে বসতি স্থাপন করে এবং পরবর্তীতে ১২৮০ সালে অন্য এক জাতিগোষ্ঠী এসে বিশাল মূর্তিগুলো নির্মাণ করে। ১৬৮০ সালে এশিয়া থেকে আগত পলিনেশীয়রা দ্বীপটি দখল করলে মূর্তি নির্মাণের প্রচলন বন্ধ হয়ে যায়। মূর্তিগুলোর উচ্চতা তিন থেকে ৩৬ ফুট এবং গড় ওজন প্রায় ২০ টন।
বর্তমানে ইস্টার দ্বীপ জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত এবং এর রহস্য উদঘাটনে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে।
ইস্টার দ্বীপের প্রাচীন পাথরের মূর্তি নিয়ে গবেষণা অব্যাহত
দক্ষিণ চিলিতে টানা চার দিনের ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বায়োবিও ও নুবল অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট শহরের সমান এলাকা পুড়ে গেছে এবং প্রায় ৭,২০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে পুরো সম্প্রদায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, বাতাসে এখনো ছড়িয়ে আছে ঘন ধোঁয়া। তাপমাত্রা আবার বাড়তে পারে বলে দমকল বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, সরকারি সহায়তা সীমিত এবং তারা মূলত স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্ভর করছেন। উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভিক্টর রামোস জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ৩৫০ থেকে ১,৫০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। প্রায় ৪,০০০ দমকলকর্মী নুবল, বায়োবিও ও আরাউকানিয়া অঞ্চলে সক্রিয় ২১টি দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। শত শত বাড়ি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিছু দাবানল ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়ে থাকতে পারে এবং পেনকো এলাকায় একজনকে অগ্নিসংযোগের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণতা ও শুষ্কতার কারণে জলবায়ু পরিবর্তন এ অঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
দক্ষিণ চিলির দাবানলে ২০ জন নিহত, ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি সহায়তার আহ্বান
দক্ষিণ চিলিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো ভয়াবহ দাবানল জ্বলছে। উষ্ণ তাপমাত্রা ও প্রবল বাতাসে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি শহর কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। শনিবার রাজধানী সান্তিয়াগো থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণে নুবল ও বায়োবায়ো অঞ্চলে আগুনের সূত্রপাত হয়, যা অল্প সময়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট শহরের সমান এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় এক হাজার বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বরিক সোমবার জানান, কিছু এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও বেশ কয়েকটি স্থানে পরিস্থিতি এখনো “খুব সক্রিয় ও বিপজ্জনক”। নুবল ও বায়োবায়ো অঞ্চলকে দুর্যোগ এলাকা ঘোষণা করে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার সাড়ে তিন হাজারের বেশি দমকলকর্মী আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনো গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ-মধ্য চিলিতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির শুষ্ক মৌসুমে দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে একাধিক ভয়াবহ দাবানল ঘটেছে।
দক্ষিণ চিলিতে টানা তৃতীয় দিনের দাবানলে অন্তত ২০ জন নিহত ও বহু শহর ধ্বংস
দক্ষিণ চিলির নুবলে ও বিয়োবিও অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন এবং ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। প্রবল বাতাস ও উচ্চ তাপমাত্রার কারণে নিয়ন্ত্রণহীন আগুন দুই দিন ধরে ঘরবাড়ি, যানবাহন ও অবকাঠামো পুড়িয়ে দিয়েছে। রাজধানী সান্তিয়াগো থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই অঞ্চলগুলোর পেনকো ও লিরকেন শহর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে পেনকোতে, আর লিরকেনে আগুন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে।
চিলির প্রেসিডেন্ট গাব্রিয়েল বোরিচ নুবলে ও বিয়োবিও অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং প্রায় ৪ হাজার দমকলকর্মী আগুন নেভাতে কাজ করছেন। জরুরি অবস্থার ফলে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বোরিচ ক্ষতিগ্রস্ত কনসেপসিওন শহর পরিদর্শন করে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম তদারক করেন এবং সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় রাতের কারফিউ ঘোষণা করেন।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী উচ্চ তাপমাত্রা ও প্রবল বাতাস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ-মধ্য চিলিতে দাবানলের প্রকোপ বেড়েছে।
দক্ষিণ চিলিতে দাবানলে ১৯ জন নিহত, জরুরি অবস্থা জারি
চিলির ৩৮তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন কট্টর-ডানপন্থি হোসে অ্যান্তোনিও কাস্ত। উপ-নির্বাচনে তিনি ৫৮ শতাংশ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বামপন্থী জোটের প্রার্থী ও কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য জিনেট জারা পরাজয় স্বীকার করে কাস্তকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। রাজধানী সান্তিয়াগোতে কাস্তের সমর্থকরা পতাকা উড়িয়ে ও গাড়ির হর্ন বাজিয়ে বিজয় উদযাপন করেন।
কাস্ত তার প্রচারণায় অবৈধ অভিবাসন রোধ, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, সহিংস অপরাধ দমন এবং স্থবির অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনের প্রতিশ্রুতি দেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিলি সামাজিক অস্থিরতা, মহামারি ও সংগঠিত অপরাধে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশে ডানপন্থীদের ধারাবাহিক জয়ের পর কাস্তের এই বিজয় অঞ্চলটিতে ডানপন্থার উত্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কাস্তের নেতৃত্বে চিলির রাজনীতি নতুন মোড় নিতে পারে। নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ভারসাম্য রক্ষা তার সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
৫৮ শতাংশ ভোটে জয়ী হয়ে চিলির প্রেসিডেন্ট হলেন হোসে অ্যান্তোনিও কাস্ত
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৪৬ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।