মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসননীতির বিরুদ্ধে শুক্রবার মিনেসোটার মিনিয়াপলিসে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। হিমাঙ্কের ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে তাপমাত্রা থাকা সত্ত্বেও প্রায় ৫০ হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে অভিবাসনসংক্রান্ত কঠোর পদক্ষেপ বন্ধের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে টার্গেট সেন্টারে জড়ো হন এবং নীতির পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের মতে, মিনেসোটাজুড়ে কয়েক ডজন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল এবং শ্রমিকেরা বিক্ষোভে অংশ নেন। এই ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রশাসনের অভিবাসন বাস্তবায়ন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষকে প্রতিফলিত করে। বিক্ষোভের এক দিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মিনিয়াপলিস সফর করে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তাদের সমর্থন জানান এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের আটক অভিযানের কথা উল্লেখ করেন।
ভাইস প্রেসিডেন্টের সফরের পরপরই এই বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিকে ঘিরে গভীর বিভাজন ও জনঅসন্তোষকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
তীব্র শীতে মিনিয়াপলিসে ট্রাম্পের অভিবাসননীতির বিরুদ্ধে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা কারো ভয় পান না এবং দেশের ওপর কোনো ধরনের খবরদারি সহ্য করবেন না। শনিবার সকালে গাইবান্ধার পলাবাড়ী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১০ দলীয় নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সুযোগ পেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন, কারণ নদীর জীবন ফিরলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনও ফিরবে।
ডা. শফিকুর রহমান দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি রোধের অঙ্গীকার করে বলেন, তারা কাউকে ভাতা নয়, বরং কাজ দেবেন এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবেন। তিনি বলেন, এই মাটিকে ভালোবাসার কারণেই শত জুলুমের পরও তারা দেশ ছাড়েননি এবং জনগণের সঙ্গে থেকে কাজ করতে চান।
বক্তব্য শেষে তিনি গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন। সব আসনেই জামায়াত মনোনীত প্রার্থী থাকায় তিনি তাদের জনগণের কাছে আমানত হিসেবে রেখে ভোটে সমর্থন চান।
গাইবান্ধা সমাবেশে তিস্তা প্রকল্প ও কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার করলেন জামায়াত আমির
শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর টাউন হল মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, দেশের অগ্রগতির জন্য ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে হবে। তিনি বলেন, এই জোটের প্রার্থীরা দেশপ্রেমিক ও ইসলামের পক্ষের শক্তি, যাদের জয় জাতির উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
আজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার তাকে বিনা কারণে ১৪ বছর কারাগারে বন্দি রেখেছিল। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে, কিন্তু নির্বাচন কমিশন এখনো সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ। তিনি সতর্ক করেন, অন্যায় নির্বাচন হলে ১০ দলীয় জোট তা মেনে নেবে না এবং ভোটকেন্দ্র দখল প্রতিরোধ করবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে এবং দাবি করেন, জামায়াতের নেতারা কখনো দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন না, বরং মানুষের কল্যাণ ও জাতীয় ঐক্যের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটকে ভোট দিতে আহ্বান আজহারুল ইসলামের
ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা-বোয়ালমারী-মধুখালী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির একাংশ। শুক্রবার রাতে আলফাডাঙ্গা হাসপাতাল রোডে অবস্থিত ওই অংশের কার্যালয়ে দোলনের উপস্থিতিতে উপজেলা ও পৌর বিএনপির একাংশ আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়ে তার জাহাজ প্রতীকের পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার করে। সভায় দোলন উপস্থিত নেতাকর্মীদের নির্বাচনি দিকনির্দেশনা দেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি খোশবুর রহমান খোকন, পৌর বিএনপির সহসভাপতি রেজাউল করিম রেজা, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরব আলী, পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি কাইয়ুম শিকদারসহ স্থানীয় নেতারা। খোশবুর রহমান খোকন জানান, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মনোনয়ন পাওয়ার পর তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি এবং সহযোগিতার প্রচেষ্টাকে অবমূল্যায়ন করেছেন, তাই তারা স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন।
অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, এরা দীর্ঘদিন ধরে দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার করে দলের বিরোধিতা করে আসছে এবং তিনি তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হাইকমান্ডের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
ফরিদপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র দোলনকে সমর্থন আলফাডাঙ্গা বিএনপির একাংশ
ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুফতি মাওলানা ফজলুল করিম সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ২২ জানুয়ারি নির্বাচনি প্রচারের প্রথম দিন দৌলতখান উপজেলা জামায়াতের কার্যালয় বন্ধ থাকায় এলাকায় গুঞ্জন ওঠে যে তিনি ১০ দলীয় ইসলামী জোটের অনুমোদন পাননি।
দৌলতখান উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আশরাফ উদ্দিন ফারুক জানান, জোটের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছাতা প্রতীকের এলডিপির মোখফার উদ্দিন চৌধুরীকে ভোলা-২ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জামায়াত মাঠে সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যাবে, তবে জোটের প্রার্থী তাদের সহযোগিতা চাননি। বোরহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মাকসুদুর রহমান ফেসবুকে জানান, জোটের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও ইসলামী ঐক্যের স্বার্থে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এটি কোনো দুর্বলতা নয় বরং সংগঠনের শৃঙ্খলা ও ঐক্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত।
১০ দলীয় ইসলামী জোটের সিদ্ধান্তে ভোলা-২ আসন থেকে জামায়াত প্রার্থীর সরে দাঁড়ানো
দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কুমিল্লায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। জেলার ১১টি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিদ্রোহী প্রার্থী এবং দুই প্রার্থীর অযোগ্য ঘোষণার কারণে অন্তত ছয়টি আসনে বিএনপির পরাজয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব আসনে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় জোটের প্রার্থীরা তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লার ১১ আসনে মোট ৮১ জন প্রার্থী প্রতীক পেয়েছেন, যার মধ্যে ৭৬ জন দলীয় এবং পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ২০২৪ সালের আগস্টের পর দেশের রাজনীতিতে নতুন ধারা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব কুমিল্লার নির্বাচনে স্পষ্ট। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ১২টির মধ্যে ১১টি আসনে জয়ী হলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।
বিশ্লেষকদের মতে, কুমিল্লা–২, ৪, ৯, ১০ ও ১১ আসনে জামায়াত–এনসিপি জোটের প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন, অন্যদিকে যেখানে দলীয় কোন্দল নেই, সেখানে বিএনপি এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
কুমিল্লা নির্বাচনে বিএনপির কোন্দলে জামায়াত-এনসিপির অবস্থান শক্ত হচ্ছে
২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে মুসলিম নাগরিকদের ওপর হেনস্তা ও প্রান্তিককরণ ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মুসলমানদের প্রায়ই বলা হয় রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রমাণ করতে হলে তাদের রাজনৈতিকভাবে নীরব থাকতে হবে। স্বাধীনতার পর থেকে তারা গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিলেও এখন তাদের বৈধ রাজনৈতিক মত প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।
প্রতিবেদনটি দেখায়, এই ‘ব্যতিক্রমবাদ’-এর শিকড় দেশভাগ-পরবর্তী সময়ে, যখন ভারতে থেকে যাওয়া মুসলমানদের নৈতিকভাবে আলাদা হিসেবে দেখা হতো। ইতিহাসবিদ মুশিরুল হাসান এবং তাত্ত্বিক মাহমুদ মামদানি ও হিলাল আহমেদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মুসলমানদের হয় অরাজনৈতিক ও অনুগত, নয়তো রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হলে সন্দেহভাজন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। গণমাধ্যমও এই বিভাজনকে জোরদার করছে, যেখানে প্রতিবাদী মুসলমানদের নেতিবাচকভাবে চিত্রিত করা হয়।
প্রতিবেদনটি উপসংহারে জানায়, এই ধারণা এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে। মুসলমানদের সম্পর্কিত আইন ও নীতিগত সংস্কারকে নিরপেক্ষ বলা হলেও তাদের বিরোধিতাকে আবেগপ্রবণ বা পশ্চাদগামী হিসেবে প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।
ভারতে মুসলমানদের রাজনৈতিক নীরবতা ও সামাজিক অদৃশ্যতার চাপ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ
ট্রাম্প প্রশাসন ৭৫টি দেশের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে, যার মধ্যে থাইল্যান্ডও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এসব দেশের অভিবাসীরা অগ্রহণযোগ্য হারে কল্যাণ সুবিধা দাবি করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে ২৭ বছর বয়সী থাই নাগরিক খাওচাত মানকংসহ অনেকের পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে, যিনি তার মার্কিন স্বামীর সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন জীবন শুরু করতে চেয়েছিলেন। এই স্থগিতাদেশ ইবি শ্রেণির কর্মসংস্থান ভিসা এবং কে শ্রেণির দাম্পত্য ও নির্ভরশীল ভিসাকেও প্রভাবিত করেছে।
থাইল্যান্ড সরকার এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে, কারণ দেশটি আফগানিস্তান ও হাইতির মতো দরিদ্র ও সংঘাতপীড়িত দেশের সঙ্গে একই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এলিজাবেথ জে কোনিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক অবদানের পরিপ্রেক্ষিতে থাইল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
কিছু থাই নাগরিক এই নীতিকে কল্যাণ সুবিধা অপব্যবহার রোধের পদক্ষেপ হিসেবে সমর্থন করলেও, অনেকে একে অন্যায্য ও সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করছেন।
৭৫ দেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা স্থগিত, থাইল্যান্ডে ক্ষোভ ও হতাশা
আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় ন্যাটো বাহিনী সামনের সারিতে ছিল না বলে মন্তব্য করায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ রাজনীতিকদের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনো ন্যাটোর প্রয়োজন বোধ করেনি এবং মিত্র বাহিনী সামান্য দূরে অবস্থান করেছিল। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, প্রয়োজনে ন্যাটো সদস্যরা ওয়াশিংটনের পাশে দাঁড়াবে না।
এই মন্তব্য যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সমালোচকরা ২০ বছরের যুদ্ধে ন্যাটো সদস্যদের প্রাণহানির কথা তুলে ধরেন। আফগানিস্তানে যুক্তরাজ্যের ৪৫৭ জন সেনা নিহত হন, কানাডা, ফ্রান্স ও ডেনমার্কও উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ব্রিটিশ মন্ত্রী স্টিফেন কিনক ট্রাম্পের বক্তব্যকে “গভীরভাবে হতাশাজনক” বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ইউরোপীয় বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অভিযানে বড় মূল্য দিয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ ছিল যে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ কার্যকর করেছিল।
লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি ট্রাম্পের ভিয়েতনাম যুদ্ধকালীন সামরিক সেবা এড়ানোর ইতিহাসের কথা তুলে ধরে বলেন, এমন ত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন তোলা লজ্জাজনক।
আফগানিস্তানে ন্যাটো নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে যুক্তরাজ্যের তীব্র সমালোচনা
রাজধানী ঢাকার পাড়া-মহল্লা ও অলিগলিতে শুক্রবার দিনভর নির্বাচনি প্রচারে মুখর ছিল। ছুটির দিনে ভোটারদের উপস্থিতি কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা সকাল থেকেই গণসংযোগে নেমে পড়েন। চায়ের দোকান, মোড়ের আড্ডা ও বাসার সামনে প্রার্থীদের কুশল বিনিময় ও ভোটারদের অভিযোগ শোনার দৃশ্য ছিল সর্বত্র। ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলি, হাতপাখা, ফুটবল ও হাঁস প্রতীক নিয়ে মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢাকা-৪, ঢাকা-৮, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৬ ও ঢাকা-১৮ আসনসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালান। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীরা উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ করেন, আর ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর প্রচারে অংশ নেন চরমোনাই পীর। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও ভোটারদের দরজায় দরজায় গিয়ে সমর্থন চান।
পুরো দিনজুড়ে রাজধানীর অলিগলি ও সড়কগুলোতে নির্বাচনি উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে, প্রার্থীদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে আসে শহরের রাজনৈতিক পরিবেশে।
ঢাকায় প্রার্থীদের গণসংযোগে মুখর অলিগলি, নির্বাচনি প্রচারে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য
২২ জানুয়ারি প্রকাশিত দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একসময়ের নিষিদ্ধ ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামীকে ‘বন্ধু’ হিসেবে দেখতে চায়। প্রতিবেদনে এক মার্কিন কূটনীতিকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এই সম্পর্ক শর্তহীন নয় এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে পারে। শেখ হাসিনার পতনের পর রাজনৈতিক শূন্যতায় জামায়াত পুনরায় সংগঠিত হয়েছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তাদের ভালো ফলের সম্ভাবনা কূটনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনটি সতর্ক করেছে যে, জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। ভারতের কাছে জামায়াত দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ। অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ড. ইউনূস আশ্বাস দিয়েছেন যে নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও সময়মতো, তবে সমান সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
একই দিনে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নির্বাচনী লড়াই এখন মাঠের চেয়ে বেশি অনলাইনে—টিকটক, ফেসবুক ও ইউটিউবে। তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে তৈরি এই ডিজিটাল প্রচারণা রাজনীতির ভাষা ও কৌশল বদলে দিচ্ছে এবং গণতন্ত্রের নতুন পরীক্ষার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জামায়াতকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ ও ডিজিটাল প্রচারণা বদলে দিচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতি
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এটি হাইপার প্রোপাগান্ডার অংশ। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অভিযোগ করেছে যে তারেক রহমান রাত ৮টার পরও মাইক ব্যবহার করে প্রচারণা চালিয়েছেন, যা আচরণবিধির লঙ্ঘন। এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন একটি নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দিচ্ছে এবং ব্যবস্থা না নিলে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হবে।
রিজভী জানান, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে তারেক রহমান উত্তরবঙ্গ সফর স্থগিত করেছিলেন এবং পরবর্তীতে কমিশনের নিয়ম মেনে প্রচারণা চালান।
তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এনসিপির অভিযোগ অস্বীকার করল বিএনপি, বলল হাইপার প্রোপাগান্ডা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডে প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিরোধিতা করায় কানাডার কড়া সমালোচনা করেছেন। শুক্রবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি সতর্ক করে বলেন, বেইজিং আগামী এক বছরের মধ্যে ‘কানাডাকে খেয়ে ফেলতে পারে’। ট্রাম্প দাবি করেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিরাপত্তা প্রত্যাখ্যান করে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বেছে নিচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষা থেকে বিনা মূল্যে সুবিধা নিচ্ছে।
দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির মন্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই প্রতিক্রিয়া আসে। ট্রাম্প বলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কারণে টিকে আছে, তবে কার্নি তার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, কানাডা সফল কারণ তারা কানাডিয়ান।
এই বিরোধ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভারসাম্য নিয়ে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যেখানে কানাডা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার চেষ্টা করছে।
গ্রিনল্যান্ড প্রতিরক্ষা ইস্যুতে কানাডাকে নিয়ে চীনের হুমকি তুললেন ট্রাম্প
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সামরিক সমন্বয় এখন কেবল কূটনৈতিক ঘোষণায় সীমাবদ্ধ নয়; যৌথ মহড়া, প্রযুক্তি বিনিময় ও অর্থনৈতিক বিনিয়োগের মাধ্যমে এটি একটি কার্যকর কাঠামোয় রূপ নিচ্ছে। পাকিস্তানের বৃহৎ সেনাশক্তি, সৌদি আরবের উচ্চ প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং তুরস্কের উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্প একত্রে এমন একটি নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করছে, যা ভারতের কৌশলগত মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষত তুরস্কের ড্রোন ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা পাকিস্তানের হাতে গেলে তা ভারতের সীমান্ত পরিকল্পনায় নতুন চ্যালেঞ্জ আনতে পারে।
কাশ্মীর ইস্যুতে তুরস্কের অবস্থান ও পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ভারতের জন্য রাজনৈতিক সতর্কতার কারণ হয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব ভারতের অন্যতম তেল সরবরাহকারী ও শ্রমবাজার হওয়ায় দিল্লি রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চেষ্টা করছে যাতে এই ঘনিষ্ঠতা ভারতের বিরুদ্ধে কোনো কৌশলগত প্ল্যাটফর্মে পরিণত না হয়।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে লেখক মনে করেন, কোনো সামরিক জোটে যুক্ত হওয়া তার ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি ও শান্তিরক্ষাকারী ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সংযম, নিরপেক্ষতা ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখাই বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত পথ।
পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্ক জোটে ভারতের নজর, ভারসাম্য রক্ষায় বাংলাদেশের সংযমের পরামর্শ
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে একাধিক নির্বাচনি জনসভায় উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পঞ্চগড়ের চিনিকল মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি বলেন, বন্ধ চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করা হবে এবং শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনা হবে। এটি ছিল ঢাকার বাইরে তার প্রথম নির্বাচনি জনসভা। একই দিনে তিনি দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও রংপুরে জনসভায় বক্তব্য দেন, যেখানে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর থেকে উত্তরবঙ্গকে পরিকল্পিতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, পাঁচ বছরের মধ্যে এই অঞ্চলের চেহারা বদলে দেওয়া হবে। প্রতিটি জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। দিনাজপুরে তিনি আলু ও লিচুর সংরক্ষণাগার নির্মাণের ঘোষণা দেন এবং ঠাকুরগাঁওয়ে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
রংপুরে তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে এবং বেকার ভাতা নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। তিনি জনগণকে ১০ দলীয় জোটকে ভোট দিতে ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ টিক দিতে আহ্বান জানান।
জামায়াত আমিরের প্রতিশ্রুতি, কৃষিভিত্তিক শিল্পে উত্তরবঙ্গ পুনর্গঠন ও দুর্নীতি দমন
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৬৭ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।