বুধবার সকালে সিলেটে সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফুল ছিটিয়ে অভ্যর্থনা জানান চা-শ্রমিকেরা। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে তিনি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন, যেখানে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা তাকে স্বাগত জানান। সফরসূচি অনুযায়ী সিলেটে কোনো দলীয় আনুষ্ঠানিকতা না থাকায় তিনি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশেষ বাসে শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশে রওনা হন। পথে মালনিছড়া চা-বাগানের শ্রমিকেরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে ফুল ছিটিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। তিনি নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খলভাবে রাস্তার পাশে অবস্থান করে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর আহ্বান জানান। সংশ্লিষ্টরা জানান, সফর সফল করতে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে এবং বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে একটি বৃহৎ গণসংবর্ধনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সিলেটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফুল ছিটিয়ে অভ্যর্থনা জানালেন চা-শ্রমিকেরা
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বুধবার এমন একটি কঠোর অভিবাসন আইন অনুমোদন দিতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে অবৈধভাবে আগত অভিবাসীদের আটক ও বহিষ্কারের ক্ষমতা আরও বাড়বে। নতুন আইনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে নির্বাসন বা ডিপোর্টেশন সেন্টার স্থাপনের সুযোগও তৈরি হবে। স্ট্রাসবুর্গে অনুষ্ঠিত এই ভোটটি দীর্ঘ আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার শেষ ধাপগুলোর একটি, যা অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে।
ইইউর অভিবাসন কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বলেছেন, এই আইন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিচ্ছে যে ইউরোপে কে থাকবে বা যাবে, তা ইইউ-ই নির্ধারণ করবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই আইনের সমালোচনা করেছে, কারণ এতে ইইউর বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ বা বহিষ্কার কেন্দ্র স্থাপনের বিধান রয়েছে। ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, গ্রিস, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকটি দেশ এই প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছে, তবে ফ্রান্স ও স্পেন এর বিরোধিতা করেছে।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোটাকিস জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের মধ্যে প্রথম চুক্তি সম্পন্ন করে ২০২৭ সাল থেকে এসব কেন্দ্র চালু করার লক্ষ্য রয়েছে। বর্তমানে বহিষ্কারের নির্দেশ পাওয়া অভিবাসীদের মাত্র ৩০ শতাংশ নিজ দেশে ফিরে গেছে, তাই ইইউ এখন প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার উন্নতিতে মনোযোগ দিচ্ছে।
ইইউ পার্লামেন্ট কঠোর অভিবাসন আইন অনুমোদনে যাচ্ছে, বাড়ছে আটক ও বহিষ্কার ক্ষমতা
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তার দেশ কোনো অপমান সহ্য করবে না এবং বাহ্যিক চাপের মুখে মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ় থাকবে। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কাছ থেকে তেহরান শিখেছে কিভাবে জাতীয় সম্মান বজায় রাখতে হয়।
পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পরও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, তবে ইরান সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। তিনি জানান, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা, যা যুদ্ধ বন্ধ ও আলোচনার সূচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।
এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর বৃহত্তর চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষাপটে জাতীয় মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার ইরানের প্রেসিডেন্টের
২০২৬ সালের ১৭ জুন প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বাংলাদেশের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের দীর্ঘ ইতিহাসকে কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন অধিকাংশ সংবাদপত্র বন্ধের ঘটনাকে স্মরণ করে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলেও একই প্রবণতা নতুন রূপে ফিরে আসে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপনের চাপের মাধ্যমে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের ওপর ভয়াবহ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়, ফলে গণমাধ্যম জনগণের কণ্ঠস্বর হারিয়ে ক্ষমতার প্রতিধ্বনিতে পরিণত হয়।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং তথ্য নিয়ন্ত্রণ ও সত্য দমনের সংস্কৃতির ঐতিহাসিক প্রত্যাখ্যান। মূলধারার গণমাধ্যম তখন জনগণের ক্ষোভ ও বৈষম্যের বাস্তবতা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়, বিপরীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাগরিক সাংবাদিকতা সেন্সরশিপ ভেঙে সত্য প্রকাশ করে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও সে সময় রাষ্ট্রীয় সহিংসতার চিত্র প্রকাশ করে।
লেখক গণমাধ্যম সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক ও করপোরেট প্রভাবমুক্ত সম্পাদকীয় স্বাধীনতা, কালো আইন বাতিল এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই গণতন্ত্র ও সাংবাদিকতার ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।
জুলাই ২০২৪ অভ্যুত্থানকে আওয়ামী শাসনের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের ধারার সঙ্গে যুক্ত বিশ্লেষণ
২০২৬ সালের ১৭ জুন প্রকাশিত দৈনিক আমার দেশ–এর এক নিবন্ধে লেখক আবুল আসাদ দাবি করেছেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে ব্যাপক অনুপ্রবেশের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি ঐতিহাসিক তথ্য, ভারতের সরকারি পরিসংখ্যান ও জনগণনা বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলেন, সংঘ পরিবার, বিজেপি ও বজরং দলের মতো সংগঠনগুলো এই অনুপ্রবেশ তত্ত্ব ব্যবহার করছে ভারতের মুসলমান নাগরিকদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে এবং বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে।
নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের সরকারি রেকর্ডে সীমিত সংখ্যক মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করলেও রাজনৈতিক প্রচারণায় তা লাখো কোটিতে রূপ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর জনগণনা বিশ্লেষণ দেখায়, কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীর অস্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঘটেনি; বরং অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত কারণেই জনসংখ্যা বৃদ্ধির তারতম্য দেখা যায়।
লেখকের মতে, এই অনুপ্রবেশ তত্ত্ব ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির পুরোনো কৌশলেরই ধারাবাহিকতা, যার লক্ষ্য বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করা। তবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকায় এসব ষড়যন্ত্র কখনো সফল হয়নি।
বাংলাদেশি নিবন্ধে ভারতের অনুপ্রবেশ অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বলা হয়েছে
সাড়ে তিন মাসের ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে ইসরাইলের কোনো ভূমিকা না থাকায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এই চুক্তির ফলে ইরান তার শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রেখেছে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর আরও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ একে ৭ অক্টোবরের পর নেতানিয়াহুর সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
চুক্তিটি ইসরাইলের মধ্যপন্থি ও কট্টর ডানপন্থি উভয় পক্ষের বিরোধিতার মুখে পড়েছে। আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট একে ব্যর্থ সরকারের পরিণতি বলেছেন। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচও চুক্তিটিকে ‘বাজে’ বলে অভিহিত করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা এখন তার রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করেছে।
লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ, লেবানন সংকট ও ৭ অক্টোবরের হামলার পর নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে।
ইরান যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি বাদে নেতানিয়াহু সমালোচনার মুখে
ইরানের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হতে যাওয়া সমঝোতা স্মারককে পিছু হটা নয়, বরং প্রতিরোধ ও বিজয়ের ফলাফল হিসেবে উপস্থাপন করছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ও অর্থনৈতিক চাপে থাকা দেশটিতে কট্টরপন্থি অংশ ও সাধারণ জনগণের মধ্যে এই চুক্তি নিয়ে বিভক্ত মত দেখা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ চুক্তিটিকে সম্ভাব্য রূপান্তরকারী ও চূড়ান্ত বিজয়ের পথে পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সরকারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের মূল লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তবে কিছু সংসদ সদস্য এই খসড়া চুক্তিকে মার্কিন প্রভাবের আশঙ্কা হিসেবে দেখছেন। যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে তেহরান আলোচনায় বাধ্য হয়েছে। চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশিত হয়নি, এবং শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
জনমত বিভক্ত—কেউ কেউ চুক্তিকে স্বস্তির সুযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে সরকারের বিজয় বর্ণনায় আস্থা রাখছেন না। চুক্তির স্থায়িত্ব অনেকাংশে নির্ভর করবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ইসরায়েলের লেবানন নীতির ওপর।
অর্থনৈতিক চাপ ও বিভাজনের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিকে বিজয় বলছে ইরান
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির শর্ত মেনে চললে ইরান এর থেকে লাভবান হতে পারে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান যদি নিজেদের মৌলিকভাবে পরিবর্তন করে, তাহলেই তারা চুক্তি থেকে প্রকৃত সুবিধা পাবে। ভ্যান্স জানান, চুক্তিটি খুবই সহজ—ইরান পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে এবং ইরান সঠিক আচরণ করলে বিভিন্ন সুবিধা পেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইরান যদি সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধ করে এবং পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠনে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে, তাহলে তারা বাস্তব সুবিধা পেতে পারে। কিন্তু এসব না করলে তারা কিছুই পাবে না। ভ্যান্স উল্লেখ করেন, যেভাবেই হোক যুক্তরাষ্ট্রেরই লাভ হবে।
আল জাজিরা সূত্রে প্রকাশিত এই মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের শর্তনির্ভর অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
ভ্যান্স বললেন, শর্ত মানলেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি থেকে লাভবান হতে পারে ইরান
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করা হলে ইরান ‘কঠোর জবাব’ দেবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষ শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করার কথা রয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে আজিজি বলেন, ইরানের দৃঢ়তা কৌশলগত পরিবর্তনে বাধ্য করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্তে আলোচনায় বসেছে। তিনি আরও বলেন, এখন ওয়াশিংটনকে লেবাননের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করে এবং সমঝোতা স্মারকের প্রতিটি ধারা মেনে তার প্রতিশ্রুতি প্রমাণ করতে হবে। আজিজি উল্লেখ করেন, ইরানিদের ওপর একতরফা যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার যুগ শেষ।
এই সতর্কবার্তা ইঙ্গিত দেয় যে, চুক্তির শর্ত ভঙ্গ হলে তেহরান কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ হলে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দিল তেহরান
জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিচার আজ শুরু হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন। এর আগে ৯ জুন বিচার শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের পর আজকের দিন ধার্য করা হয়। ৩০ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, কামরুল ও মেননের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা আওয়ামী লীগ সরকার ও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ পদে থেকে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং কারফিউ জারির প্ররোচনাসহ ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় রাজধানীর বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের হত্যা করা হয়।
এই বিচার প্রক্রিয়া জুলাই বিপ্লব-সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জুলাই বিপ্লবের মানবতাবিরোধী অপরাধে কামরুল-মেননের বিচার শুরু
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো মৌলভীবাজার সফরের উদ্দেশ্যে বুধবার সকালে সিলেটে পৌঁছেছেন তারেক রহমান। তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে রওনা হয়ে সকাল সোয়া ১০টার দিকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়, যাতে আগমন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।
তারেক রহমানের এই সফর মৌলভীবাজারে তার প্রথম সরকারি কর্মসূচির সূচনা নির্দেশ করে, যদিও তার বিস্তারিত কর্মসূচি সম্পর্কে প্রতিবেদনে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবার মৌলভীবাজার সফরে সিলেটে পৌঁছেছেন
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বিএনপি প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা সংক্রান্ত রুল দুই সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছে। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম-২ আসনে তার নির্বাচনের ফলাফল, গেজেট ও শপথ স্থগিত থাকবে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়।
ঋণখেলাপির অভিযোগে সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র প্রথমে নির্বাচন কমিশন বাতিল করেছিল। পরে তিনি হাইকোর্টে রিট করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি পান এবং ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পান। একই আসনের জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন, যেখানে তিনি ঋণখেলাপির অভিযোগ পুনরায় উত্থাপন করেন।
এর আগে আপিল বিভাগ নির্দেশ দিয়েছিল, সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে বিজয়ী হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে। সর্বশেষ আদেশে সেই স্থগিতাদেশ বহাল রাখা হয়েছে যতক্ষণ না হাইকোর্ট রুল নিষ্পত্তি করে।
হাইকোর্টের রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার আলমগীরের ফলাফল স্থগিত
দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত শুরু করেছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ইন্টারপোলকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যা এই বিষয়ে বাংলাদেশের প্রথম আনুষ্ঠানিক অবহিতকরণ। চিঠিতে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এবং প্রত্যর্পণের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমার আগে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তি না থাকলেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে বেনজীরকে ফেরানো সম্ভব হতে পারে, যদিও এতে আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিচ্ছে।
দুদক জানিয়েছে, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার আওতায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং মামলার নথি, আদালতের আদেশসহ প্রাসঙ্গিক তথ্য এনসিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব নথি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হবে।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ফেরাতে ইন্টারপোলকে জানিয়ে প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ
সুপ্রিম কোর্টের জন্য তিন মাসের মধ্যে স্বাধীন পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিতের আপিল শুনানি আগামী ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেছে আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষের সময় প্রার্থনার পর মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং আপিলকারীদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম। বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কারিশমা জাহান। মামলাটি এর আগে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ছিল।
২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রায়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদকে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে এবং তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন সচিবালয় গঠনের নির্দেশ দেয়। এর আগে ১০ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন প্রণয়ন হয় এবং বদিউল আলম মজুমদার আপিল করে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আবেদন করেন।
স্বাধীন সচিবালয় রায় স্থগিতের আপিল শুনানি ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিত
রাজবাড়ীর কালুখালীতে ২৪ বছর বয়সী জামায়াত নেতা আসাদুল ইসলামকে হাত-পা বেঁধে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। সংসদ সদস্য নূরুন্নিসা সিদ্দীকা এই ঘটনাকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সরকার দেশের কোথাও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পারছে না।
জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগ এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে নিহতের দরিদ্র পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকারি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি শোকাহত পরিবারের জন্য দোয়া ও সহায়তা কামনা করেছে।
এই বিবৃতিতে বিরোধী মহলে জননিরাপত্তা ও সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের প্রতিফলন দেখা গেছে, যা রাজবাড়ীর এই সহিংস ঘটনার মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়েছে।
রাজবাড়ীতে হত্যাকাণ্ডে নিন্দা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ নূরুন্নিসা সিদ্দীকার
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৪৫ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।