ক্ষমতার অপব্যবহার ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে সার্বিয়ার অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান মার্কো ক্রিচাককে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। রোববার সংগঠিত অপরাধ দমন বিভাগের প্রধান বোসকো সেকুলোভিচকেও গ্রেপ্তার করা হয়। বেলগ্রেডের প্রধান প্রসিকিউটর নেনাদ স্তেফানোভিচ বলেন, অভিযোগগুলোর কারণে বেলগ্রেডের সাবেক পুলিশপ্রধান ভেসেলিন মিলিচের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং তিনি গুরুতর ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
গত মে মাসে বেলগ্রেডের একটি রেস্তোরাঁয় অপরাধজগতের সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে হত্যার তদন্ত থেকে অভিযোগগুলো সামনে আসে। হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন পর ঘটনায় জড়িত একজনকে সহায়তা এবং অপরাধসংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগে মিলিচ গ্রেপ্তার হন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি ক্রিচাক ও সেকুলোভিচের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেন এবং অভিযোগ করেন, তারা প্রসিকিউটরদের অসম্পূর্ণ ও মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।
প্রসিকিউটর দপ্তর জানিয়েছে, এক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত আইনসভা নির্বাচনের সঙ্গে এসব গ্রেপ্তারের কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যাপক সংস্কারের দাবিতে ছাত্ররা ক্রিচাকসহ কয়েকজন শীর্ষ পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার অপসারণ চেয়েছিল। সূত্রে ক্রিচাককে সাবেক প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিসের অনুগত বলা হয়েছে; বিক্ষোভ দমনে পুলিশের অভিযানের সময় ছাত্র সংগঠনগুলো তার বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতার অভিযোগ তুলেছিল।
ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সার্বিয়ায় দুই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সার্বিয়ায় ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর নির্বাচনে আলেকজান্ডার ভুসিসের রাজনৈতিক শিবিরের পরাজয়কে ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে চলা বিক্ষোভের পর এই ফল এসেছে এবং এটি সার্বিয়ার স্বাধীনতাকামী মানুষের জয়।
নাহিদ ইসলামের ভাষ্য, ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মুখে ভুসিসের ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী সরকার ঐতিহাসিক নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। তিনি এটিকে স্টুডেন্ট লিস্টের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সার্বিয়ার সীমানার বাইরে বাংলাদেশের মানুষসহ লাখো মানুষের জন্য এই ঘটনা অনুপ্রেরণা হতে পারে।
ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলাম সার্বিয়ার জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনী শক্তির কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, জেন-জি যখন জেগে ওঠে, ইতিহাস তখন এগিয়ে যায়। পোস্টে ব্যবহৃত ছবির সূত্র হিসেবে আল জাজিরার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সার্বিয়ার ছাত্রনেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জয়কে ঐতিহাসিক বললেন নাহিদ ইসলাম
রোববারের নির্বাচনে বিরোধী শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন স্টুডেন্ট লিস্টের ঐতিহাসিক জয়ে আলেকসান্দার ভুচিস ও তাঁর সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির ১৪ বছরের আধিপত্যের অবসান হয়েছে। ডিসেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে সার্বিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নতুন নেতৃত্ব তাৎক্ষণিকভাবে পশ্চিমামুখী হওয়ার বদলে আগে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামো সংস্কারে মনোযোগ দিতে পারে।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ক্রোয়েশিয়া, মন্টিনিগ্রো ও কসোভোর সঙ্গে সম্পর্ক দ্রুত বদলাবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেন্টার ফর রিজিওনালিজমের পরিচালক আলেকসান্দার পপভ বলেন, নতুন সরকারকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কমানো এবং বিচারব্যবস্থা, সরকারি কৌঁসুলিদের দপ্তর, পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর মতে, বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পেলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের পথ সহজ হতে পারে।
রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কেও দ্রুত বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। অগ্রাধিকারমূলক দামে গ্যাসের প্রয়োজন, কসোভো বিরোধ এবং পশ্চিমাদের প্রতি জনগণের একাংশের অনাস্থা এ ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে। ইসরাইলের সঙ্গে অস্ত্র ও নজরদারিপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত চুক্তি পর্যালোচনা হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নেতৃত্ব বহু পক্ষের সঙ্গে একযোগে সম্পর্ক রাখার নীতি পুনর্বিবেচনা করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে পারে।
সার্বিয়ায় বড় কূটনৈতিক মোড়ের আগে অভ্যন্তরীণ সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আভাস
সার্বিয়ায় রোববারের নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন জয় পেয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুসিচ পরাজয় স্বীকার করেছেন। টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের তালিকাই নির্বাচনে জয়ী হয়েছে। ঘোষণার পর রাজধানী বেলগ্রেডের রাস্তায় আনন্দ-উল্লাস শুরু হয়; গাড়ির হর্ন, নাচ এবং বিজয়ের স্লোগানে হাজারো মানুষ সেখানে জড়ো হন।
জনতাবাদী ও জাতীয়তাবাদী নেতা ভুসিচ ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট হিসেবে সার্বিয়ার রাজনীতিতে প্রভাবশালী ছিলেন। দুর্নীতি ও ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদের অভিযোগে প্রায় দুই বছর ধরে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ চলার পর তিনি সেপ্টেম্বরে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন। ২০২৪ সালে নোভি সাদে রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর আন্দোলন আরও জোরালো হয়।
প্রাথমিক ফলের ভিত্তিতে ভুসিচ জানান, ২৫০ আসনের সংসদে শিক্ষার্থী-সমর্থিত তালিকা ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পেতে পারে এবং তার সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি পেতে পারে ১০৫টি আসন। জরিপ সংস্থা ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ, যা ১৯৯২ সালের পর সর্বোচ্চ। ভুসিচ বলেন, তার সংগঠন ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী রয়েছে এবং বিরোধী দলে থাকার অভিজ্ঞতা তাদের আছে।
সার্বিয়ার নির্বাচনে শিক্ষার্থী-সমর্থিত তালিকার জয়, পরাজয় স্বীকার ভুসিচের
সার্বিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচনে দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন নেতা আলেকজান্ডার ভুসিসকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন। গত সেপ্টেম্বরে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া ভুসিস সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করে আবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য ভোটে দাঁড়িয়েছেন। ২০২৪ সালে নোভি সাদের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর ছাত্রদের বিক্ষোভ শুরু হয়; দুর্ঘটনার জন্য ব্যাপকভাবে সরকারি দুর্নীতিকে দায়ী করা হয়।
‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ নামে পরিচিত আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য দুর্নীতি নির্মূল ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি। তাদের ২৫০ প্রার্থীর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, অভিনেতা ও কৃষক রয়েছেন, আর নেতৃত্বে আছেন হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ইলিয়া স্রদানোভিচ। মানবাধিকার সংগঠন ও আন্দোলনকর্মীদের অভিযোগ, ওই দুর্ঘটনার পর থেকে দমন-পীড়ন বেড়েছে। ভুসিস ও তাঁর দল দমন-পীড়ন, দুর্নীতি ও প্রতিপক্ষের ওপর নজরদারির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ইপসোস জরিপে ভুসিসের সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির সমর্থন ৪৭ শতাংশ এবং ছাত্রসমর্থিত তালিকার সমর্থন ৪০ শতাংশ বলা হয়েছে, যদিও অন্য কিছু জরিপে ছাত্র আন্দোলন এগিয়ে। বৃহস্পতিবার বেলগ্রেডের কেন্দ্রে আন্দোলনের প্রায় দেড় লাখ সমর্থক সমাবেশ করেন। ভুসিস পেনশন ও সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ এবং তরুণ দম্পতিদের ভর্তুকির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সার্বিয়ায় ভুসিসকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে ছাত্র আন্দোলন, জরিপে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস
দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা ছাত্র আন্দোলন ও বাড়তে থাকা জনঅসন্তোষের মুখে পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ। রাজধানী বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের বাইরে সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণে তিনি পদত্যাগের কথা জানান। আগামী বছর তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, পদত্যাগের ফলে এর আগেই নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথ তৈরি হয়েছে।
২০২৪ সালে নোভি সাদ রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর জনক্ষোভ আরও তীব্র হয়। বিরোধীরা ঘটনাটিকে প্রগ্রেসিভ পার্টির এক দশকের বেশি সময়ের শাসনের প্রকৃত চিত্র হিসেবে তুলে ধরে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে শ্রমিক, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আন্দোলনে যোগ দেন। সরকার পুলিশ মোতায়েনের পর পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে হামলা, নির্যাতন ও বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে।
সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন করতে হবে। অক্টোবরের শেষ দিকে নির্ধারিত সংসদীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা জানিয়েছেন ভুচিচ। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট থাকবেন সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ। পদত্যাগের আগে ভুচিচ ৪৯ জনকে ক্ষমা করেছেন বলে জানিয়েছে আরটিএস।
ছাত্র আন্দোলনের মুখে ভুচিচের পদত্যাগ, সার্বিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে
টানা ১৮ মাস ধরে চলা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুসিচ শনিবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আগাম প্রেসিডেন্ট ও সংসদীয় নির্বাচনেরও ঘোষণা দেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ শহরের একটি রেলওয়ে স্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জনের মৃত্যুর পর দুর্নীতিবিরোধী এই আন্দোলনের সূচনা হয়, যা সরকারের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনরোষে রূপ নেয়।
দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ভুসিচ জানান, তিনি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পদত্যাগ করবেন, তবে নির্দিষ্ট তারিখ জানাননি। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৭ সালের মাঝামাঝি। বিশ্লেষকদের মতে, তার দল সার্বিয়ান প্রোগ্রেসিভ পার্টি নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। অন্যদিকে, বিরোধী দল ও শিক্ষার্থী আন্দোলনের নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন যে তারা নির্বাচনে ভুসিচ ও তার দলকে চ্যালেঞ্জ জানাবেন।
ভুসিচ দুর্নীতি দমন, পেনশন বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে বিরোধীরা তাকে দুর্নীতি, সহিংসতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে, যা তিনি অস্বীকার করেছেন।
শিক্ষার্থীদের দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ভুসিচের পদত্যাগ ও আগাম নির্বাচনের ঘোষণা
শনিবার সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে হাজারো মানুষ সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আগাম নির্বাচনের দাবি জানানো হয় এবং প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলা হয়। বেলগ্রেডের কেন্দ্রীয় চত্বরে শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে, যখন একদল তরুণ দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তারা পুলিশের ব্যারিকেডে পাথর ও বোতল নিক্ষেপ করলে পুলিশ পিপার স্প্রে ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
ভুচিচের কঠোর শাসনের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ সার্বিয়ায় চলমান অসন্তোষের প্রতিফলন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে উত্তর সার্বিয়ার একটি ট্রেন দুর্ঘটনার পর জবাবদিহির দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় এই নতুন বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এক বছরেরও বেশি সময় পরেও বিপুল জনসমাগম প্রমাণ করে যে জনগণের ক্ষোভ এখনো প্রশমিত হয়নি।
এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে সার্বিয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা শিগগিরই কমবে না এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবি আরও জোরালো হতে পারে।
বেলগ্রেডে আগাম নির্বাচনের দাবিতে প্রেসিডেন্ট ভুচিচবিরোধী বিক্ষোভে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণ
ব্যাপক পুলিশি বাধার মুখেও সার্বিয়ায় আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে সরকারবিরোধী আন্দোলন। শনিবার বেলগ্রেডে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। ভ্যালিয়েভো শহরে ক্ষমতাসীন দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। বেশ কয়েক মাস ধরে বিক্ষোভ চললেও, সম্প্রতি আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের নির্যাতনের অভিযোগ ওঠায় ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভ। এতদিন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চললেও বুধবার রাতে সংঘর্ষে আহত হয় ২৭ পুলিশ সদস্য ও প্রায় ৮০ জন বেসামরিক নাগরিক। এছাড়াও আটক করা হয় ৪৭ জনকে। এখন বেড়ে চলেছে আন্দোলনের তীব্রতা।
ব্যাপক পুলিশি বাধার মুখেও সার্বিয়ায় আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে সরকারবিরোধী আন্দোলন। ভ্যালিয়েভো শহরে ক্ষমতাসীন দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা।
সরকারের দুর্নীতি ও অদক্ষতার বিরুদ্ধে গত নভেম্বর থেকে বিক্ষোভ করছেন সার্বিয়ার শিক্ষার্থীরা। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর নোভি সাদে একটি রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৫ জন মারা যাওয়ার পর এ আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। এবার সেই আন্দোলনে যোগ দিয়েছে জনতা। ছাত্রদের ডাকে শনিবার স্থানীয় সময় বিকাল চারটায় সংসদের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পুরো নগর এখন তাদের দখলে। তাদের দাবি, দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের শাস্তি হওয়া উচিত। তারা শুধু দুর্ঘটনা নয়, সার্বিয়া সরকারে সর্বস্তরে দুর্নীতি ও অদক্ষতা বন্ধ চাচ্ছে।
ছাত্রদের ডাকে সার্বিয়ায় রাজধানীতে লাখো জনতা
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৬৫ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।