ইন্দোনেশিয়ার রিয়াউ প্রদেশের ইন্দ্রাগিরি হিলির রিজেন্সির তেম্বিলাহান শহরে কয়েক সপ্তাহের হামলার অভিযোগে একটি বন্য বানরকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার পুলিশ, সামরিক বাহিনী, দমকলকর্মী ও বন্যপ্রাণী কর্মকর্তাদের যৌথ অভিযানে ফাঁদ পেতে প্রাণীটিকে ধরা হয়। ২৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক হামলায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ইন্দ্রাগিরি হিলির পুলিশ প্রধান দনি একো লিস্তিয়ান্তো বলেন, রিয়াউয়ের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংস্থা বিকেএসডে বানরটির সম্ভাব্য লুকানোর স্থানে তিনটি ফাঁদ বসিয়েছিল। এর একটিতে বানরটি ধরা পড়ে। তেম্বিলাহান এলাকায় লম্বা লেজের ম্যাকাকের একটি দল দেখা যাওয়ার পর হামলাগুলো শুরু হয় বলে কর্তৃপক্ষের ধারণা।
হামলার ঘটনাগুলো সড়কে, বাড়ির বাইরে এবং কয়েকটি বাড়ির ভেতরেও ঘটেছে। কয়েকজন আহত ব্যক্তির ক্ষতে সেলাই দিতে হয়েছে। কর্মকর্তারা বড় আকৃতির পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বানরটিকেই সন্দেহ করছিলেন; আটক প্রাণীটির আকার, আক্রমণাত্মক আচরণ ও মুখের বিশেষ দাগ প্রত্যক্ষদর্শী এবং ভুক্তভোগীদের বর্ণনার সঙ্গে মিলেছে। নিরাপত্তার কারণে তেম্বিলাহান জেলার সব স্কুলে তিন দিনের সরাসরি ক্লাস বন্ধ রেখে বুধবার থেকে অনলাইন পাঠদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
রিয়াউয়ে ১৭ জনকে আহত করার অভিযোগে একটি বন্য বানরকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ
ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দ্বীপ জাভার উপকূলে ২৭১ আরোহী বহনকারী মুতিয়ারা সেন্টোসা-২ ফেরিতে ভয়াবহ আগুনে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং অন্তত ৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার সকালে ফেরিটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মাকাসারের উদ্দেশে যাত্রা করছিল। স্থানীয় সময় ভোর ৬টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে সুমেনেপ অঞ্চলের জলসীমায় আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা বাসারনাস।
ফেরিটিতে ২৩২ যাত্রী ও ৩৯ ক্রু সদস্য ছিলেন। রোববার বিকেল পর্যন্ত ২২৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আগুনে জাহাজটির বেশিরভাগ অংশ গ্রাস করে ফেলে। ভিডিওতে এক পাশ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়; আতঙ্কিত যাত্রীরা লাইফ জ্যাকেট পরে ডেকে ও ওপরের অংশে জড়ো হন, আর অনেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দেন।
ফেরি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঘটনাটি প্রায় এক ঘণ্টা পর সুরাবায়া উদ্ধার কার্যালয়কে জানায়। ক্যাপ্টেন মাদুরা দ্বীপের উত্তর প্রান্তের কাছে আগুনের খবর দেওয়ার পর তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। একটি টাগবোট ও কাছের জাহাজ যাত্রী সরাতে শুরু করে। উদ্ধার জাহাজ, দ্রুতগতির নৌযান ও নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে; বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগর তৎপরতায় বাধা দিচ্ছে।
জাভা উপকূলে ফেরিতে আগুনে পাঁচজন নিহত, ৪১ জন নিখোঁজ
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে সুলাওয়েসির দক্ষিণে সেলায়ার দ্বীপের কাছে যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে যাওয়ার তিন দিন পর পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাত বছর বয়সী এক শিশুকন্যাও রয়েছে। বুধবার ৭০ জনের বেশি যাত্রী বহনকারী নৌকাটি ডুবে যায়। উদ্ধারপ্রাপ্তরা জানান, তারা নিখোঁজ ২৫ জনের একটি দলের অংশ ছিলেন এবং প্রবল বাতাসে অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
স্থানীয় উদ্ধার কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ আনোয়ার জানান, তারা দড়ি দিয়ে জেরিক্যান ও কর্কের টুকরো বেঁধে তার ওপর ভেসে ছিলেন। শনিবার বিকেলে স্থানীয় জেলেরা তাদের উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। কয়েক দিন খাবার ও পানি ছাড়া সাগরে ভেসে থাকার কারণে তারা দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন, তবে ইনস্ট্যান্ট নুডলস ও বিস্কুট খেয়ে বেঁচে ছিলেন।
নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এতে পাঁচটি বড় জাহাজ, একটি অনুসন্ধানী বিমান ও একটি হেলিকপ্টার অংশ নিচ্ছে। দেশটিতে দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রায়ই নৌ দুর্ঘটনা ঘটে।
ইন্দোনেশিয়ায় নৌকাডুবির তিন দিন পর পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার
মঙ্গলবার সকালে ইন্দোনেশিয়ার মধ্য সুলাওয়েসি প্রদেশে ৬.৭ মাত্রার একটি অগভীর ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ২৭ মিনিটে পালু শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা জানিয়েছে, পালু ও সিগি এলাকায় ভূমিকম্পের কম্পন জোরালোভাবে অনুভূত হলেও সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই। পালুর বাসিন্দা নুরহাইদা জানান, তিনি রান্নাঘরে কাজ করার সময় প্রবল ঝাঁকুনি অনুভব করেন এবং সন্তানদের নিয়ে দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থান হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প ঘটে। ২০১৮ সালে একই অঞ্চলে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামিতে ২,২০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
ইন্দোনেশিয়ায় ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, হতাহতের খবর নেই
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর মালুকু প্রদেশে অবস্থিত মাউন্ট ডুকোনো আগ্নেয়গিরি শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে অগ্ন্যুৎপাত শুরু করে। এতে দুইজন বিদেশি ও একজন স্থানীয় বাসিন্দা নিহত হন এবং অন্তত ২০ জন পর্বতারোহী আটকা পড়েন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, নিহতদের মধ্যে দুইজন সিঙ্গাপুরের নাগরিক।
উত্তর হালমাহেরার পুলিশ প্রধান এরলিখসন পাসারিবু মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় উদ্ধার সংস্থার প্রধান ইওয়ান রামদানি রয়টার্সকে জানান, আটকা পড়া পর্বতারোহীদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। আটকা পড়াদের মধ্যে নয়জন সিঙ্গাপুরের এবং বাকিরা ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট ছাই প্রায় ১০ কিলোমিটার উঁচুতে উঠে যায়, ফলে কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ তৃতীয় স্তরের সতর্কতা জারি করেছে।
বিবিসি ও রয়টার্সের তথ্যমতে, উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে কারণ আগ্নেয় ছাই ও অস্থিতিশীল ভূখণ্ড উদ্ধারকারীদের অগ্রগতি ব্যাহত করছে।
ইন্দোনেশিয়ায় মাউন্ট ডুকোনো অগ্ন্যুৎপাতে তিনজন নিহত, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত
ইরানের বিশাল তেলবাহী জাহাজ ‘দেরিয়া’ মার্কিন নৌবাহিনীর নজর এড়িয়ে ইন্দোনেশিয়ার লম্বক প্রণালিতে প্রবেশ করেছে। তেল পরিবহন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ট্যাংকারট্র্যাকার্স ডটকম জানায়, জাহাজটি বর্তমানে ইন্দোনেশীয় পানিসীমা অতিক্রম করে রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সংস্থার তথ্যমতে, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে জাহাজটি ভারতে ১৮ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল খালাসের চেষ্টা করেছিল, তবে তা ব্যর্থ হয়।
ট্যাংকারট্র্যাকার্স জানায়, ভারতের ঘটনার পর দেরিয়া দক্ষিণ দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখে, যখন ওই অঞ্চলে থাকা অন্যান্য ইরানি জাহাজকে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানে ফিরে যেতে বাধ্য করছিল। সংস্থাটি আরও জানায়, এক দিন আগে ১৯ লাখ ব্যারেল তেলবাহী আরেকটি ইরানি সুপারট্যাংকার ‘হিউজ’ একইভাবে মার্কিন বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে লম্বক প্রণালিতে প্রবেশ করেছে এবং সেটিও রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাচ্ছিল।
তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলে ইরান থেকে ২৫টি ট্যাংকার যাত্রা শুরু করে। এর মধ্যে সাতটি মার্কিন নৌবাহিনী ফেরত পাঠায়, দুটি জব্দ করে এবং বাকিগুলো গন্তব্যে পৌঁছায়।
মার্কিন নজর এড়িয়ে ইন্দোনেশীয় পানিসীমায় প্রবেশ করল দ্বিতীয় ইরানি তেলবাহী জাহাজ
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৮৪ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে বেকাসি শহরে একটি কমিউটার ট্রেনের সঙ্গে দূরপাল্লার আরেকটি ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। দেশটির রেল অপারেটরের বরাতে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করেন।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ সাইফি জানান, ধ্বংসাবশেষের ভেতরে আটকে পড়াদের উদ্ধার করা অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। তিনি বলেন, এখনো কিছু যাত্রী জীবিত থাকতে পারেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা কমিউটার ট্রেনটিকে পেছন থেকে আসা আরেকটি ট্রেন ধাক্কা দিলে দুর্ঘটনাটি ঘটে এবং নারীদের জন্য নির্ধারিত কোচটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ঘটনায় প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং রেল নিরাপত্তা জোরদারের পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশটিতে এর আগেও একাধিক রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ২০২৪ সালে পশ্চিম জাভার একটি দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছিলেন।
জাকার্তার কাছে ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৪ নিহত, ৮৪ আহত; তদন্তের নির্দেশ
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার অদূরে সোমবার দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত এবং কয়েক ডজন যাত্রী আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, জাকার্তার উপকণ্ঠে বেকাসি তিমুর স্টেশনের কাছে একটি দাঁড়িয়ে থাকা লোকাল ট্রেনকে পেছন থেকে একটি দূরপাল্লার ট্রেন ধাক্কা দিলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে ট্রেনের কয়েকটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, উদ্ধারকারীরা দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন এবং অনেককে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা ‘কেএআই’-এর মুখপাত্র অ্যান পুরবা চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, এখন পর্যন্ত ৩৮ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং তিনি হতাহতদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন।
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি, তদন্ত ও উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।
জাকার্তার কাছে ট্রেন দুর্ঘটনায় চারজন নিহত, বহু আহত
ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এনি ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে বড় প্রাকৃতিক গ্যাসের নতুন মজুত আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। সরকার জানিয়েছে, এই আবিষ্কারের ফলে ইউরোপীয় কোম্পানিটি ২০২৮ সালের মধ্যে দেশটিতে উৎপাদন তিনগুণ বাড়াতে পারবে। পূর্ব কালিমান্তান প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে পাওয়া এই মজুতে প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ও ৩০ কোটি ব্যারেল কনডেনসেট রয়েছে। কোম্পানির মতে, এই আবিষ্কার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য নতুন সরবরাহের পথ খুলে দেবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী বাহলিল লাহাদালিয়া একে বিশাল আবিষ্কার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ২০২৮ সালের মধ্যে দৈনিক ৯০ হাজার ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন সম্ভব হবে, যা ২০২৯–২০৩০ সালে দেড় লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে। সরকার আশা করছে, এতে তেল আমদানি কমবে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাবেও ইন্দোনেশিয়া পড়েছে।
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্ত রাশিয়া ও ফ্রান্স সফর করে তেল সরবরাহ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনা করেছেন, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হতে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে বড় গ্যাস মজুত, ২০২৮ সালে উৎপাদন তিনগুণ হতে পারে
ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্ত করা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ মালাক্কা প্রণালি আবারও বৈশ্বিক আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমায় সামরিক উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য বিস্তৃত অনুমতি চাওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার পর এই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রস্তাবটি এখনো বিবেচনাধীন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
মালাক্কা প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাণিজ্য পরিচালিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের ২৯ শতাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, ইলেকট্রনিকস ও যানবাহন। জলদস্যুতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগও এই অঞ্চলের স্থায়ী ঝুঁকি। বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা কম হলেও দীর্ঘমেয়াদে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে, বিশেষ করে যদি চীন যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিকে কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে।
‘মালাক্কা দ্বিধা’ ধারণাটি চীনের এই নৌপথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বোঝায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চীন নির্ভরতা কমানোর চেয়ে দক্ষিণ চীন সাগর ও আশপাশের সামুদ্রিক রুটে প্রভাব বাড়ানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে মালাক্কা প্রণালির কৌশলগত গুরুত্বে নতুন উদ্বেগ
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন জানিয়েছে, দেশটির অশান্ত পাপুয়া অঞ্চলে এক সামরিক অভিযানে নারী ও শিশুসহ ১২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তারা তদন্ত শুরু করেছে। মঙ্গলবার মধ্য পাপুয়ার কেমব্রু গ্রামে টিপিএনপিবি-ওপিএম বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালিত অভিযানে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে আরও কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
কমিশনের প্রধান অনিস হিদায়াহ এএফপিকে জানান, ইন্দোনেশিয়ার সেনারা এই ঘটনার জন্য দায়ী বলে জোরালো সন্দেহ রয়েছে। সেনাবাহিনী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর হাবেমা টাস্ক ফোর্স দাবি করেছে যে তারা সংঘর্ষে স্বাধীনতাপন্থী গেরিলাদের চার সদস্যকে হত্যা করেছে এবং অন্য এক গ্রামে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও তদন্ত করছে।
কমনাস এইচএএম বলেছে, যে কোনো অভিযানে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন। কমিশন সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে এবং পাপুয়া বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পুনর্বিবেচনার জন্য সেনাবাহিনীকে অনুরোধ করেছে।
পাপুয়ায় সামরিক অভিযানে ১২ বেসামরিক নিহত, তদন্তে মানবাধিকার কমিশন
প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে ফ্রান্সের সঙ্গে নতুন সমঝোতায় পৌঁছেছে ইন্দোনেশিয়া। জাকার্তা জানিয়েছে, প্যারিসে দুই দেশের রাষ্ট্রপতির বৈঠকের পর প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সরঞ্জাম ক্রয় এবং শিল্প উন্নয়ন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠক করেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় প্যারিসের এলিসি প্রাসাদে, যেখানে কৌশলগত সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা শিল্প শক্তিশালী করা এবং জ্বালানি রূপান্তর নিয়ে আলোচনা হয়। ইন্দোনেশিয়ার সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি এই সহযোগিতার মূল লক্ষ্য এবং ফ্রান্সকে ইউরোপে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
খবরে আরও বলা হয়, ইন্দোনেশিয়া সম্প্রতি ব্রিকস জোটে যোগ দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ দেশটির প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
প্যারিসে বৈঠকের পর ফ্রান্সের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি করল ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর মালুক্কা সাগর অঞ্চলে বৃহস্পতিবার ভোরে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র ছিল তেরনাতে শহরের পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ১২৭ কিলোমিটার দূরে এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের পর মার্কিন সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থা ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার উপকূলে সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে।
ইন্দোনেশিয়ার কিছু উপকূলে জোয়ারের উচ্চতার চেয়ে ০.৩ থেকে ১ মিটার পর্যন্ত ঢেউ উঠতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া গুয়াম, জাপান, মালয়েশিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, ফিলিপাইন ও তাইওয়ানের উপকূলে ৩০ সেন্টিমিটারের কম উচ্চতার ঢেউ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জাপান জানিয়েছে, তাদের উপকূলে সামান্য সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিবর্তন হতে পারে, তবে বড় ধরনের সুনামির আশঙ্কা নেই। অস্ট্রেলিয়াও জানিয়েছে, তাদের মূল ভূখণ্ডে কোনো হুমকি নেই।
উত্তর সুলাওয়েসির মানাদো শহরে এক সাংবাদিক জানান, ভূমিকম্পের সময় মানুষ আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে, যদিও বড় ক্ষয়ক্ষতির কোনো চিত্র দেখা যায়নি।
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর মালুক্কা সাগরে ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে সুনামি সতর্কতা
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ডি–৮ শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর ইরান পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ত্রি থারিয়াত জানান, আগামী মাসে নির্ধারিত সম্মেলনটি বর্তমান পরিস্থিতির কারণে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
সম্মেলনটি মূলত ১৩ থেকে ১৫ এপ্রিল জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ডি–৮ অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন মুসলিম উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করে। সদস্য দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্ক। আজারবাইজান ২০২৫ সালে সংগঠনটিতে যোগ দেয়।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলছে, যার একটি উদাহরণ এই সম্মেলনের স্থগিতাদেশ।
ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জাকার্তায় ডি–৮ সম্মেলন স্থগিত
রোববার দুপুরে ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম বানতারগেবাং আবর্জনার স্তূপ ধসে একটি ট্রাক ও খাবারের দোকান চাপা পড়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। অন্তত আরও পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের উদ্ধারে ভারী যন্ত্র ও ট্র্যাকিং কুকুর ব্যবহার করে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টির পর স্তূপের একটি অংশ ধসে পড়ে। ১১০ হেক্টরের বেশি আয়তনের এই স্থানে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টন বর্জ্য জমা রয়েছে। পরিবেশমন্ত্রী হানিফ ফাইসল নুরোফিক স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে বলেন, ২০০৮ সালে উন্মুক্ত আবর্জনার স্তূপ নিষিদ্ধ হলেও সেখানে বর্জ্য জমতে দেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো জানিয়েছেন, দেশের বেশির ভাগ ল্যান্ডফিল ধাপে ধাপে বন্ধ করা হচ্ছে, তবে ২০২৮ সালের মধ্যে সেগুলোর ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যাবে। সরকার আগামী দুই বছরে ৩৪টি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণে ৩৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
জাকার্তার কাছে ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম আবর্জনার স্তূপ ধসে ৪ জনের মৃত্যু
ইন্দোনেশিয়া গাজায় ৮ হাজার সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল মারুলি সিমানজুন্তাক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সেনাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তারা গাজায় চিকিৎসা ও প্রকৌশলগত দায়িত্ব পালন করবে। ইন্দোনেশিয়াই প্রথম দেশ, যারা গাজায় সেনা পাঠানোর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সেনা পাঠানোর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন।
এই পদক্ষেপটি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার অংশ, যার আওতায় গাজায় একটি অনির্বাচিত টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের কথা বলা হয়েছে। পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে গাজা বোর্ড অব পিসের সদস্য হয়েছে এবং ১৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ইন্দোনেশিয়ার এই পদক্ষেপ গাজায় স্থিতিশীলতা আনতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার প্রাথমিক বাস্তবায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গাজায় চিকিৎসা ও প্রকৌশল কাজে ৮ হাজার সেনা পাঠাতে প্রশিক্ষণ শুরু করেছে ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে এবং বুধবার পর্যন্ত ৩২ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও দুর্গম ভূপ্রকৃতির মধ্যেও উদ্ধারকর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি ও ট্র্যাকিং ডিভাইস ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আন্তারার বরাতে জানানো হয়, বুধবার সকালে নিহতের সংখ্যা ছিল ৪৮ এবং নিখোঁজ ৩২ জন। দুর্যোগে অন্তত ৬৮৫ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শনিবার পশ্চিম বান্দুং রিজেন্সির একটি গ্রামে ভূমিধসটি আঘাত হানে, যাতে বহু বাড়িঘর কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।
এদিকে ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর চিফ অব স্টাফ মুহাম্মদ আলী জানান, ওই এলাকায় প্রশিক্ষণ অনুশীলনের সময় ভূমিধসে ২৩ জন সেনা সদস্য মাটিচাপা পড়েন। তাদের মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং ১৯ জন এখনও নিখোঁজ। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভায় ভয়াবহ ভূমিধসে ৫০ জন নিহত, ৩২ জন এখনও নিখোঁজ
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিধসে আটকে পড়া ২৩ জন নৌসেনা নিহত হয়েছেন বলে দেশটির নৌবাহিনী জানিয়েছে। শনিবার ভোরে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে বান্দুং বারাত জেলার পাসির লাঙ্গু গ্রামে এই ভূমিধস ঘটে। রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই পাহাড়ি এলাকায় নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণ মহড়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। নৌবাহিনীর মুখপাত্র ফার্স্ট অ্যাডমিরাল তুঙ্গগুল জানান, ইন্দোনেশিয়া–পাপুয়া নিউগিনি সীমান্তে টহল কার্যক্রমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই মহড়া চলছিল।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র আবদুল মুহারি জানান, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ জনে এবং ৪২ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সেনারা অন্তর্ভুক্ত কি না, তা স্পষ্ট নয়। উদ্ধারকাজে অন্তত ৮০০ জন উদ্ধারকর্মী, সেনা ও পুলিশ সদস্য এবং নয়টি খননযন্ত্র অংশ নিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে ৬৮৫ জন বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে জাভা দ্বীপে বর্ষা মৌসুমের চূড়ান্ত সময় চলছে। এর আগে সুমাত্রা দ্বীপে ঘূর্ণিঝড়জনিত বন্যা ও ভূমিধসে প্রায় ১,২০০ জন নিহত হন এবং এক মিলিয়নের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।
পশ্চিম জাভায় ভূমিধসে প্রশিক্ষণরত ২৩ ইন্দোনেশীয় নৌসেনা নিহত
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশের একটি আবাসিক এলাকায় শনিবার ভোরে ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৮০ জন নিখোঁজ হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এই ভূমিধস ঘটে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নিখোঁজদের সন্ধানে পুনরায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা আগেই সতর্ক করেছিল যে পশ্চিম জাভা ও আশপাশের অঞ্চলে এক সপ্তাহব্যাপী ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
জাকার্তা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে পাসির লাঙ্গু গ্রামের বাসিন্দা দেদি কুর্নিয়াওয়ান জানান, তিনি জীবনে এত বড় ভূমিধস আগে দেখেননি। কম্পাস টিভি জানায়, অস্থির ভূখণ্ড ও টানা বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারেননি, ফলে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। পশ্চিম জাভার বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে জাকার্তা ও আশপাশে বন্যার খবর পাওয়া গেছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দুই মাস আগে সুমাত্রা দ্বীপে ঘূর্ণিঝড়-সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১,২০০ জন নিহত হয়েছিল। নতুন এই ভূমিধস ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পশ্চিম জাভায় ভূমিধসে ১০ নিহত, ৮০ নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযান ব্যাহত
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশের পশ্চিম বান্দুং অঞ্চলে ভূমিধসে সাতজন নিহত এবং আরও ৮২ জন নিখোঁজ হয়েছেন। দেশটির দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র আব্দুল মুহারি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জাভা অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের পর স্থানীয় এক গ্রামে এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। নিখোঁজদের উদ্ধারে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
দেশটির আবহাওয়া বিভাগ এর আগে শুক্রবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য পশ্চিম জাভা প্রদেশে ভারী বৃষ্টিপাত ও বৈরি আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করেছিল। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিপাতের কারণেই ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছে।
গত মাসে উত্তর সুমাত্রা, পশ্চিম সুমাত্রা ও আচেহ প্রদেশে মারাত্মক ভূমিধস ও বন্যায় এক হাজার ১৭০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা ইন্দোনেশিয়ার প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি আবারও সামনে এনেছে।
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভায় ভূমিধসে ৭ জন নিহত, ৮২ জন নিখোঁজ
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১১৯ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।