ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুলাওয়েসি প্রদেশের রাজধানী মানাডোতে একটি বৃদ্ধাশ্রমে অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার রাত ৮টা ৩৬ মিনিটে আগুন লাগে বলে বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে। পোলদা সুলুতের জনসংযোগ কর্মকর্তা আলমসিয়াহ পি. হাসিবুয়ান জানান, উত্তর সুলাওয়েসি আঞ্চলিক পুলিশের হাসপাতালে নিহতদের লাশ শনাক্তের কাজ চলছে।
পুলিশ জানায়, আগুন লাগার পরপরই দমকল বাহিনীর তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এবং রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনের সূত্রপাত এখনো জানা যায়নি, তবে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মানাডো ফায়ার সার্ভিস বিভাগের প্রধান জিমি রতিনসুলু বলেন, বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দাদের বেশিরভাগই বয়সজনিত কারণে শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন এবং আগুন লাগার পর তারা ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন।
ঘটনার কারণ উদঘাটন ও নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার মানাডোতে বৃদ্ধাশ্রমে আগুনে ১৬ জন নিহত, তদন্ত চলছে
ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা থেকে ইয়োকার্তা যাওয়ার পথে সোমবার ভোরে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় ভোরে হাইওয়ে ইন্টারচেঞ্জের কাছে অতিরিক্ত গতিতে চলার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান বুদিওনো জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৩৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলেই ১৫ জনের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে সেমারাং শহরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি ও চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোই দুর্ঘটনার মূল কারণ।
ইন্দোনেশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে, বিশেষ করে মহাসড়কে নিরাপত্তা বিধি অমান্য ও যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতির কারণে। সরকার এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে এবং আসন্ন ছুটির মৌসুমে সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাস দিয়েছে।
জাকার্তা–ইয়োকার্তা মহাসড়কে বাস উল্টে অন্তত ১৬ জন নিহত
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে গত সপ্তাহে শুরু হওয়া ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ৭১২ জনে পৌঁছেছে বলে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (BNPB) জানিয়েছে। তিনটি প্রদেশে ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ এবং প্রায় ১১ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উত্তর ও পশ্চিম সুমাত্রা প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, যেখানে তাপানুলি ও সিবোলগা এলাকায় যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। আকাশপথ ও জলপথে ত্রাণ পাঠানো হলেও অনেক প্রত্যন্ত গ্রামে তা পৌঁছায়নি, ফলে খাদ্য ও পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় লুটপাট ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটছে, যা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে, যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে বিনামূল্যে স্টারলিংক সেবা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় বন্যায় ৭০০ জনের বেশি নিহত, দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতে বিলম্ব
ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪২ জনে দাঁড়িয়েছে এবং এখনো ৪০২ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি)। ঘূর্ণিঝড় সেনিয়ারের প্রভাবে সৃষ্ট এই দুর্যোগে সুমাত্রা দ্বীপ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং অনেক এলাকায় এখনো ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। আকাশপথ ও সমুদ্রপথে ত্রাণ পাঠানো হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও ভারী সরঞ্জামের অভাবে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জাকার্তা থেকে দুটি যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়েছে সিবোলগা ও উত্তর সুমাত্রার মধ্য তাপানুলি এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশ, যেমন থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াতেও মৌসুমি বৃষ্টিপাতে অন্তত ৬০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা ও ভূমিধসে ৪৪২ জন নিহত, সুমাত্রায় উদ্ধার কার্যক্রমে বিঘ্ন
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। শুক্রবার উদ্ধারকারী দল জানায়, উত্তর সুমাত্রায় ৬২ জন নিহত ও ৯৫ জন আহত হয়েছেন, আর পশ্চিম সুমাত্রায় ২২ জন নিহত ও ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সিবোলগা শহরে ৩০ জনের বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্তদের সরিয়ে নেওয়া ও ত্রাণ বিতরণে কাজ করছে। আচেহ প্রদেশেও বন্যা ও ভূমিধসে প্রায় ১,৫০০ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরানো হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সংস্থা জানায়, একটি ট্রান্সমিশন টাওয়ার ধসে পড়ায় বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারে সময় লাগছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মৌসুমি ঝড়ের তীব্রতা বাড়ছে এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৮৪ জন নিহত ও বহু নিখোঁজ
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক দপ্তরের সর্বশেষ ‘ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রস্পেক্টস-২০২৫’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা এখন বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল রাজধানী শহর। শহরটির বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ, যা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ৪ কোটি জনসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে জাপানের টোকিও, যার জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ। প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে বিশ্বের মোট ৮.২ বিলিয়ন মানুষের ৪৫ শতাংশ শহরে বসবাস করে, যেখানে ১৯৫০ সালে এ হার ছিল মাত্র ২০ শতাংশ। ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির দুই-তৃতীয়াংশই শহরে ঘটবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ১৯৭৫ সালে যেখানে ১ কোটি বা তার বেশি জনসংখ্যার শহর ছিল মাত্র ৮টি, ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৩৩টিতে পৌঁছাবে, যার মধ্যে ১৯টি এশিয়ায় অবস্থিত। ইন্দোনেশিয়ার মোট জনসংখ্যা বর্তমানে ২৮৬ মিলিয়ন, যা বিশ্বে চতুর্থ সর্বাধিক।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল রাজধানী শহরের তালিকায় ঢাকাকে ছাড়িয়ে গেল জাকার্তা
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় উত্তর মালুকু প্রদেশের হালমাহেরা এলাকায় ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূতাত্ত্বিক সংস্থা (বিএমকেজি)। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে থাকে। এদিকে, সম্প্রতি বাংলাদেশে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং পরদিন আরও তিনবার মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ঘটনা অঞ্চলের ভূকম্পন ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর মালুকুতে ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প, কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর নেই
ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের সর্বোচ্চ পর্বত সেমেরু আগ্নেয়গিরি বুধবার অগ্ন্যুৎপাত করেছে, যার ফলে কর্তৃপক্ষ সতর্কতার মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে। আগ্নেয়গিরিটি প্রায় ৫.৬ কিলোমিটার উচ্চতায় ছাইয়ের মেঘ উড়িয়ে দিয়েছে এবং দ্রুতগামী পাইরোক্লাস্টিক প্রবাহ প্রায় সাত কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। দেশটির আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা বাসিন্দাদের আগ্নেয়গিরির ক্রেটার থেকে অন্তত ২.৫ কিলোমিটার দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত ৩,৬৭৬ মিটার উচ্চ সেমেরু ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলোর একটি। ঘনবসতিপূর্ণ এই অঞ্চলে অগ্ন্যুৎপাতের ফলে স্থানীয় জনগণ, পরিবহন ও বিমান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সেমেরু, যা মাহামেরু নামেও পরিচিত, অতীতে বহুবার অগ্ন্যুৎপাত করেছে, যার মধ্যে ২০২১ সালের অগ্ন্যুৎপাতে ৬২ জন নিহত হয়েছিল।
ইন্দোনেশিয়ার সেমেরু আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে জাভায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ
ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা প্রদেশে একটি স্কুলভবন ধসে কমপক্ষে ৫০ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতীয় উদ্ধার সংস্থা বাসারনাস। ভবনটির উপরে নতুন তলা নির্মাণের কাজ চলছিল, যদিও স্কুলটির ভিত্তি এত ভার বহনের উপযুক্ত ছিল না। এখন পর্যন্ত ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের প্রায় ৬০ শতাংশ পরিষ্কার করা হয়েছে, তবে স্কুলসংলগ্ন একটি ভবনও ধসে পড়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, নির্মাণের আগে কাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে সতর্ক করা হলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছিল। উদ্ধারকারীরা এখনো ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের সন্ধান করছেন এবং কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির পেছনে অবহেলা ও নিরাপত্তা ত্রুটির তদন্ত শুরু করেছে।
পূর্ব জাভায় ধসে পড়া স্কুলভবনের ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খুঁজে বের করতে ব্যস্ত উদ্ধারকর্মীরা
বালি ও ইস্ট নুসা তেঙ্গারা প্রদেশে ভারী বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, অন্তত দুই জন এখনও নিখোঁজ। নদীগুলো উপচে বন্যা, ভূমিধস ঘটায় এবং ১২০টির বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৫০০-এর বেশি মানুষকে স্কুল ও মসজিদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্টোর নেতৃত্বে ইন্দোনেশিয়ান কর্তৃপক্ষ উদ্ধার ও ত্রাণ কাজের জন্য শতাধিক কর্মী মোতায়েন করেছে। দেনপাসারের মেয়র জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, বহু ভবনে আগুন, নেতা-মন্ত্রীদের বাড়িতে লুটপাট, আঞ্চলিক পার্লামেন্টে অগ্নিসংযোগ, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যু— ইন্দোনেশিয়ায় গত এক সপ্তাহ ধরে গণঅভ্যুত্থান চলছে। বুধবারও আইনপ্রণেতাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও পুলিশি বর্বরতার প্রতিবাদে গোলাপি রঙের পোশাক পরে ঝাড়ু হাতে নারীরা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এমপিদের মাসিক ভাতা বাড়ানোর একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। জাকার্তায় বিক্ষোভের শুরুটা হয়েছিল গত ২৫ আগস্ট। কিন্তু সেই বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয় গত ২৮ আগস্ট রাতে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের একপর্যায়ে ২১ বছর বয়সী এক মোটরসাইকেল চালক পুলিশের গাড়ির নিচে চাপা পড়ে মারা যান। এ ঘটনায় প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো এবং ইন্দোনেশিয়ার পুলিশপ্রধান ক্ষমা চাইলেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়া থেকে থামাতে পারেননি। প্রাবোও আফফানের পরিবারের সঙ্গে দেখাও করেন। জানা গেছে, প্রতি মাসে ইন্দোনেশিয়ার একজন এমপি ১০ কোটি রুপিয়ার বেশি (৬১৫০ ডলার) পেয়ে থাকেন, যা ইন্দোনেশিয়ার গড় আয়ের চেয়ে ৩০ গুণ বেশি। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার একটা বড় অংশ জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এ অবস্থায় বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। তারা সেই ক্ষোভের প্রকাশ করতে রাস্তায় নেমে আসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যুত্থান ইন্দোনেশিয়ার শাসন ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো কয়েকটি শহরে, বিশেষ করে জাকার্তায় ছড়িয়ে পড়া সহিংস বিক্ষোভের কারণে চীনের সফর বাতিল করেছেন। কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছে, এবং অনেক সরকারি ভবন ও পুলিশ স্থাপনায় আগুন লাগানো হয়েছে। বিক্ষোভ শুরু হয় ২১ বছর বয়সী মোটরসাইকেল চালক আফফান কুরনিয়াওয়ানের পুলিশের একটি সাঁজোয়া গাড়িতে মৃত্যুর পর। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ইন্দোনেশিয়াতেই থাকবেন এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন।
দক্ষিণ সুলাওয়েসির মাকাসারে বিক্ষোভকারীদের লাগানো আগুনে অন্তত তিনজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল জাকার্তায় আইনপ্রণেতাদের বেতন, শ্রমিকের মজুরি, কর ও দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থার প্রতিবাদে। পুলিশি যানবাহনের ধাক্কায় একটি রাইড-হেইলিং মোটরবাইক চালকের মৃত্যু হলে সহিংসতা বেড়ে যায়। বান্দুং ও জাকার্তা সহ প্রধান শহরগুলোতেও বিক্ষোভ দেখা দেয়, যেখানে লুটপাট ও অবকাঠামো ক্ষতির ঘটনা ঘটে। বিশ্লেষকরা এটিকে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সরকারের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা বলছেন।
ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকরা আইনপ্রণেতাদের বেতন কমানো, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, কর কমানো এবং দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ করছে। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে সোমবার থেকে আন্দোলন দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়েছে। পুলিশের গাড়িচাপায় ডেলিভারি রাইডার আফান কুর্নিয়াওয়ানের মৃত্যু দেশব্যাপী ক্ষোভ বাড়িয়েছে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করেছে এবং কয়েকটি গাড়ি জ্বালিয়েছে। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং পূর্ণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন, আর নাগরিক অধিকার গোষ্ঠী পুলিশি দমন নিন্দা করেছে।
ইন্দোনেশিয়া মক্কায় একটি বিশেষ হজগ্রাম তৈরি করতে জমি কিনছে। এই পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো সুবিয়ান্তো এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে। মক্কার রয়্যাল কমিশন মক্কার কাছাকাছি আটটি প্লট দিয়েছে, যা ২৫ থেকে ৮০ হেক্টর পর্যন্ত আকারের। সৌদি সরকার বর্তমান বাসিন্দাদের সরিয়ে দেবে, আর ইন্দোনেশিয়া জমি সংগ্রহের কাজ করবে। এই গ্রামে হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা ও বাণিজ্যিক এলাকা থাকবে, যা তাদের যাত্রাকে সহজ করবে।
ইন্দোনেশিয়ায় ৪৪ মিলিয়ন তরুণের মধ্যে ১৬ শতাংশই বেকার—যা থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের তুলনায় দ্বিগুণ। আইন স্নাতক আন্দ্রেয়াস হুটাপেয়ার মতো অনেকেই বহু চেষ্টা করেও স্থায়ী চাকরি পাচ্ছেন না। সিঙ্গাপুরভিত্তিক এক জরিপে দেখা গেছে, অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ইন্দোনেশীয় তরুণরা প্রতিবেশী দেশের তুলনায় অনেক কম আশাবাদী। এই পরিসংখ্যান দেশটির তরুণদের মধ্যে কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার প্রতিফলন ঘটায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়া একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার আওতায় মার্কিন বাজারে ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ১৯% শুল্ক আরোপ হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। চুক্তির অংশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া ৫০টি বোয়িং জেট, ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের জ্বালানি ও ৪৫০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য কিনবে। ট্রাম্পের ৩২% শুল্ক পরিকল্পনার আগে ১ আগস্টের সময়সীমার আগেই চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইন্দোনেশিয়া হয়তো আগামী মাস থেকে কার্যকর হতে যাওয়া তামা আমদানির ওপর ৫০ শতাংশ কর ছাড় পেতে পারে।
সোমবার ইন্দোনেশিয়ার মালুকু প্রদেশের পূর্ব উপকূলে ৬.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্যানুযায়ী, ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬৬ কিলোমিটার গভীরে এবং তুয়াল শহর থেকে ১৭৭ কিলোমিটার দূরে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানানো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে। এর আগে ২০১৮ ও ২০০৪ সালের ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছিল।
ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের মাউন্ট লেওতোবি লাকি লাকি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ১৮ কিমি উঁচু ছাই ছড়িয়ে পড়ে, যা আশপাশের গ্রাম ঢেকে দেয় এবং বহু আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল হয়। বালি, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এখনো হতাহতের খবর নেই, তবে ৫ কিমি পর্যন্ত গ্যাস, পাথর ও লাভা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারী ছাইয়ে একসময় সূর্যের আলো ঢেকে যায়।
ইন্দোনেশিয়ার বালির কাছে কেএমপি তুনু প্রত্যমা জয়া নামের একটি যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে গেছে। ফেরিটিতে ৫৩ যাত্রী, ১২ জন কর্মী ও ২২টি যানবাহন ছিল। দুর্ঘটনার পর এখন পর্যন্ত ২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, তবে অন্তত ৪৩ জন এখনও নিখোঁজ। পূর্ব জাভার কেটাপাং বন্দর থেকে ছাড়ার প্রায় ৩০ মিনিট পর ফেরিটি ডুবে যায়। রাতভর ৯টি নৌযানে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। উত্তাল সমুদ্র ও দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে ইন্দোনেশিয়ায় এমন নৌদুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে।
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৮৩ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।