ইরান ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে কুর্দি সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে। তেহরান জানায়, উত্তর ইরাকে অবস্থানরত যেসব গোষ্ঠীকে তারা ইরানবিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে, তাদের অবস্থানেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলার সময় এমন খবর এসেছে যে ইরাকভিত্তিক কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সমন্বয় করছে। এসব গোষ্ঠী ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে অংশ নিতে পারে। ঘটনাটি ইরান, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল এবং বহিরাগত পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রতিবেদনে হামলার পরিণতি, ক্ষয়ক্ষতি বা ইরাক ও কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ের খবরের মধ্যে ইরানের কুর্দি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসনের সপ্তম দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেছেন। আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন যে ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না, কেবল নিঃশর্ত আত্মসমর্পণই একমাত্র পথ।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান ইরানি নেতৃত্বকে তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করেন না এবং ইরানে নতুন নেতৃত্ব গঠনের আহ্বান জানান। ট্রাম্পের মতে, নতুন নেতৃত্ব ক্ষমতায় এলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানকে পুনর্গঠনে সহায়তা করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, কারণ ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ সাধারণত যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে আরোপিত কঠোর শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল আগ্রাসনের সপ্তম দিনে ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ দাবি ট্রাম্পের
যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বি-২ বোমারু বিমান থেকে হামলা চালিয়েছে বলে শুক্রবার জানানো হয়েছে। তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে এই হামলা পরিচালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল টানা সাত দিন ধরে ইরানে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে, আর ইসরাইল জানিয়েছে তারা দ্বিতীয় ধাপের আক্রমণ শুরু করেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, বোমাবর্ষণের তীব্রতা নাটকীয়ভাবে বাড়তে চলেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, শুক্রবার ভোরে বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমানগুলো ইরানের ভূগর্ভস্থ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের ওপর ডজনখানেক ২,০০০ পাউন্ডের পেনিট্রেটর বোমা নিক্ষেপ করেছে।
আল জাজিরা সূত্রে প্রকাশ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই যৌথ অভিযান ইরানের সামরিক স্থাপনার বিরুদ্ধে সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বি-২ বিমান হামলা, ইসরাইলের আক্রমণ আরও তীব্র
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, কিছু দেশ মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা শুরু করেছে, যদিও তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ, তবে জাতির মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো দ্বিধা করবে না। তিনি আরও বলেন, মধ্যস্থতা তাদের উদ্দেশে হওয়া উচিত, যারা ইরানি জনগণকে অবমূল্যায়ন করেছে এবং সংঘাতকে উসকে দিয়েছে।
তার এই মন্তব্য আসে এমন সময়ে, যখন ইরান প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটি, স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। প্রতিবেশী দেশগুলো ইরানের এসব ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই বক্তব্য ইরানের শান্তি ও প্রতিরক্ষা নীতির দ্বৈত অবস্থানকে তুলে ধরে, যা ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এসেছে।
ইরান জানিয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে কিছু দেশ মধ্যস্থতা শুরু করেছে
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলার পর ইরান তার দীর্ঘদিনের 'কৌশলগত ধৈর্য' নীতি পরিত্যাগ করেছে। লেবানন, ইরাক, ইয়েমেন ও সিরিয়ায় হামলার পাশাপাশি এই আক্রমণ ইরানকে তার নতুন 'সক্রিয় ও নজিরবিহীন প্রতিরোধ' নীতি প্রদর্শনে প্ররোচিত করে। কয়েক দিনের মধ্যেই ইরান কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, জর্ডান, ইসরায়েল ও সাইপ্রাসে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, যা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যায়।
বছরের পর বছর ইরান হিজবুল্লাহ, হুথি, হামাস ও পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের মতো মিত্রদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত প্রতিরোধ বজায় রেখেছিল। কিন্তু হামাস ও হিজবুল্লাহ নেতাদের ওপর ইসরায়েলি হামলা, সিরিয়ার আল-আসাদ সরকারের পতন এবং ২০২৫ সালের ১২ দিনের যুদ্ধ ইরানের প্রতিরোধ কাঠামো দুর্বল করে দেয়। ২০২৪ সালে দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেট ধ্বংস হওয়া ছিল এই নীতির প্রথম বড় ভাঙন।
সাম্প্রতিক উত্তেজনায় কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোও জড়িয়ে পড়েছে, যা তাদের ভারসাম্য রক্ষার কৌশলের ভঙ্গুরতা প্রকাশ করেছে। বাহরাইন ও ইরাকে বিক্ষোভ এবং ইরানের বিরুদ্ধে কুর্দি বাহিনীকে উৎসাহিত করার খবর আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার পর ইরানের আঞ্চলিক পাল্টা আঘাত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধের সপ্তম দিনে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা যুদ্ধের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং ‘শাসন কাঠামো’ লক্ষ্যবস্তু করছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের বি-২ বোমারু বিমান ইরানের গভীরে অবস্থিত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে প্রবেশকারী বোমা নিক্ষেপ করেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী তেহরানে সামরিক, রাজনৈতিক ও আবাসিক এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটেছে, যার মধ্যে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় ও পাস্তুর স্ট্রিটের আশপাশও রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিলুফার স্কয়ারের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও হামলা হয়েছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৮১ জন শিশু রয়েছে এবং মোট মৃতের সংখ্যা ১,৩০০ ছাড়িয়েছে।
শিরাজ, কুম, ইসফাহান ও কেরমানশাহসহ আরও কয়েকটি শহরে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া হামলায় অন্তত ১,৩৩২ জন নিহত হয়েছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি মধ্যস্থতার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ইরান তার মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পরে ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা কুয়েত উপকূলে একটি মার্কিন মালিকানাধীন তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সতর্ক করেছেন যে, আগামী দিনে হামলার তীব্রতা আরও বাড়বে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় তেহরানসহ ইরানে নিহতের সংখ্যা ১,৩০০ ছাড়িয়েছে
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছে যে তারা কুয়েতের উপকূলের কাছে একটি মার্কিন মালিকানাধীন তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় রেডিও এই তথ্য প্রকাশ করে এবং জানায় যে দেশটির যুদ্ধকালীন সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স হামলার তথ্য সরবরাহ করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলায় জাহাজটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে এবং এতে আগুন ধরে গেছে।
তবে এখন পর্যন্ত জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি সম্পর্কে অন্য কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।
এই দাবি ইরানের সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও জাহাজে হামলার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যদিও এসব দাবির স্বাধীন যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি।
কুয়েত উপকূলে মার্কিন তেল ট্যাঙ্কারে হামলার দাবি ইরানের
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের একটি বালিকা স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। মার্কিন সামরিক তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তবে তদন্ত এখনো চলছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। শনিবার মিনাবের ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলাটি ঘটে। কর্মকর্তারা বলছেন, এটি মার্কিন বা ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হতে পারে।
জেনেভায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানান, এই হামলায় ১৬৫ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। নিহতদের স্মরণে দেশে বড় পরিসরে জানাজা ও দাফনের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে এবং তদন্তের ফলাফল প্রকাশ পেলে হামলার প্রকৃত দায় কার ওপর পড়বে তা স্পষ্ট হতে পারে।
তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হলে তা কূটনৈতিকভাবে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের বালিকা স্কুলে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিয়েছে তদন্ত
ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সাম্প্রতিক হামলার দায় তাদের। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সেনাবাহিনীর বরাতে জানিয়েছে যে, স্থলবাহিনীর বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাত্মক ড্রোন ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই হামলা আগামী কয়েক ঘণ্টা ধরে অব্যাহত থাকবে।
এই দাবি এমন সময় এসেছে যখন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে বিভিন্ন সামরিক ও কূটনৈতিক বিরোধ দেখা দিয়েছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিসাইল সংকটের খবরও রয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা পারস্য উপসাগর অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।
ইরানের দাবি, কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, আরও হামলার হুমকি
মার্কিন-ইসরাইলি হামলার মুখে থাকা ইরান জানিয়েছে, তারা ধীরে ধীরে প্রশাসনিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করবে। ঘোষণায় বলা হয়েছে, তেহরান প্রদেশের সব মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও নির্বাহী দপ্তরে রোববার থেকে ২০ শতাংশ কর্মী সরাসরি কর্মস্থলে কাজ করবেন। প্রদেশের সব নারী কর্মী ভার্চুয়ালি কাজ করবেন এবং কিছু ব্যাংক সীমিতভাবে খোলা থাকবে।
এই নির্দেশনা সেবা প্রদানকারী সংস্থার অপারেশনাল ইউনিট, পৌরসভা, চিকিৎসা কেন্দ্র এবং সামরিক, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তেহরান প্রদেশের ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বাসা থেকে কাজের সুযোগ থাকবে না; তাদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে।
ঘোষণাটি এমন সময়ে এসেছে যখন ইরান সাম্প্রতিক হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের মধ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনার মুখোমুখি হচ্ছে।
তেহরানে সীমিত কর্মী নিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে চালু করছে ইরান
ইরানের শিরাজ শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় কমপক্ষে ২০ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছে বলে ফারস প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর জলিল হাসানি জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, শহরের জিবাশাহর এলাকার একটি আবাসিক অংশে হামলাটি চালানো হয়, যেখানে নিরীহ লোকজন নিহত হন। শুক্রবার সকালে তেহরানের মধ্যাঞ্চলেও হামলা হয়, যার মধ্যে ইরানের সেনাবাহিনীর একটি সামরিক একাডেমি ছিল।
বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, লোরেস্তান প্রদেশের পোলদোখতার শহরের আবাসিক এলাকায় ইসরাইল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, এতে অন্তত ছয়জন আহত হন। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সভাপতি পীর হোসেন কোলিভান্দ জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানে মোট ৩,৬৪৩টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৩,০৯০টি বসতবাড়ি।
বহু প্রদেশে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, তবে সামরিক বা কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সূত্রে উল্লেখ করা হয়নি।
ইরানের শিরাজে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় ২০ নিহত, হাজারো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানে ৩ হাজার ৬৪৩টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সভাপতি পীর হোসেন কোলিভান্দ। এর মধ্যে ৩ হাজার ৯০টি বসতবাড়ি, ৫২৮টি বাণিজ্যিক ও পরিষেবা কেন্দ্র, ১৪টি চিকিৎসা বা ওষুধ কেন্দ্র এবং ৯টি রেড ক্রিসেন্ট স্থাপনা রয়েছে।
কোলিভান্দ জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বেশির ভাগ হামলার লক্ষ্য ছিল ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা। আল জাজিরা সূত্রে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে হামলার ফলে বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে।
সম্প্রতি ইরানের শিরাজে এক হামলায় ২০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চলমান সংঘাত ইরানের অর্থনীতি ও অবকাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে এবং আঞ্চলিক জ্বালানি ও পরিবহন খাতেও ঝুঁকি তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল হামলায় ইরানে ৩,৬০০টির বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে, যার ফলে বহু হতাহত ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিরাজে দুই প্যারামেডিক নিহত এবং লোরেস্তান প্রদেশে ছয়জন আহত হয়েছেন। ইসরাইল দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার রাতে পরিচালিত অভিযানে তারা ছয়টি ইরানি ব্যালিস্টিক মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস করেছে এবং তিনটি উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে তেহরানের কেন্দ্রে ইরানি সেনাবাহিনীর একটি সামরিক একাডেমিও ছিল।
ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, লোরেস্তানের পোলদোখতার শহরের আবাসিক এলাকায় ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। তেহরানের বিভিন্ন স্থানে রাতভর বড় ধরনের বিস্ফোরণ হয়েছে, যার মধ্যে আবাসিক এলাকা ও তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশও রয়েছে। এই হামলাগুলো ইরানের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক তৎপরতার বড় ধরনের বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৩ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ইরানি রেড ক্রিসেন্ট ব্যাপক ধ্বংসের কথা নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৭০ কোটি ডলার, যা ভারতের জ্বালানি, বিমান পরিবহন ও রেমিট্যান্স খাতকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের রাতভর হামলা, ছয়টি মিসাইল লঞ্চার ধ্বংসের দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ঘোষণা করেছেন যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নাটকীয়ভাবে বাড়বে। বৃহস্পতিবার রাতে সেন্ট্রাল কমান্ডে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ইরান ও তেহরানের ওপর ফেলা গোলাবারুদের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।
হেগসেথ জানান, যুক্তরাজ্যের দিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি ওয়াশিংটনের হামলা জোরদার করতে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, শুরুতে ব্রিটিশরা অনুমতি না দিলেও শেষ পর্যন্ত তা মঞ্জুর হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার ঘোষণা করেছেন যে কাতারে অবস্থানরত স্কোয়াড্রনে যোগ দিতে আরও চারটি টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠানো হবে এবং ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের শিরাজে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছে, ৩ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ছয়টি মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস করা হয়েছে। যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে ৩৭০ কোটি ডলার।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নাটকীয়ভাবে বাড়বে, জানালেন হেগসেথ
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক তদন্তকারীরা ধারণা করছেন যে দক্ষিণ ইরানের মিনাব এলাকায় একটি বালিকা বিদ্যালয়ে বোমা হামলার জন্য সম্ভবত মার্কিন বাহিনীই দায়ী। গত শনিবারের ওই হামলায় ১৬৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তদন্ত এখনো চলমান এবং কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি বলে জানানো হয়েছে।
দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, তদন্তের বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। জেনেভায় নিযুক্ত ইরানের জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত আলি বাহরাইনি প্রথমে ১৫০ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর কথা জানালেও পরে সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ জনে দাঁড়ায়। নিহত শিক্ষার্থী ও কর্মীদের স্মরণে ইরানে ব্যাপক জানাজা ও শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো স্কুল, হাসপাতাল বা বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, যা এই ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ইরানে ১৬৫ শিশুর মৃত্যু, হামলায় মার্কিন বাহিনীর সম্পৃক্ততার সন্দেহ
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘোষণা করেছে যে দেশটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নায়েনি বলেছেন, ইরান এমন উন্নত অস্ত্র ব্যবহার করতে প্রস্তুত যা এখনো কোনো সংঘাতে ব্যবহৃত হয়নি। তিনি শত্রুদের ‘বেদনাদায়ক শাস্তি’র হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, নতুন ইরানি অস্ত্র আসার পথে, যদিও সেগুলো এখনো বৃহৎ পরিসরে মোতায়েন করা হয়নি।
নায়েনি আরও বলেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরান এখন আগের চেয়ে বেশি প্রস্তুত। আল জাজিরা সূত্রে জানা যায়, ওই হামলায় শিরাজে প্রাণহানি ও বহু বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আইআরজিসির এই ঘোষণা তেহরানের সামরিক প্রস্তুতি ও প্রতিরোধ সক্ষমতার ওপর জোর দেয়।
তবে নতুন অস্ত্রের ধরন ও সম্ভাব্য মোতায়েন সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও নতুন অস্ত্র ব্যবহারে প্রস্তুত ইরান, জানাল আইআরজিসি
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, গত ৭২ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমারু বাহিনী ইরানের প্রায় ২০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই পর্যায়ে ৩০টিরও বেশি ইরানি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। কুপার আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিমানবাহী রণতরির সমান আকারের একটি ইরানি ড্রোনবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে এবং সেটিতে বর্তমানে আগুন জ্বলছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিমানবাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার মেজর লিগ সকার চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মায়ামির সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইরানকে নির্ধারিত সময়ের আগেই এমনভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।
বিবিসি সূত্রে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে চলমান হামলায় বেসামরিক স্থাপনা ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত।
৭২ ঘণ্টায় ৩০টির বেশি ইরানি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের অভিজাত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) শুক্রবার ইসরাইলের বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিবে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ। প্রতিবেদনে বলা হয়, তেল আবিবের কেন্দ্রস্থল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শহরের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে।
ইরানি গণমাধ্যম আরও জানায়, বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত ইসরাইলি দূতাবাসেও হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলা ফিন্যান্সিয়াল হারবার টাওয়ার বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে সংঘটিত হয়। একই সঙ্গে কুয়েতজুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বাজতে শুরু করে এবং শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রায় পুরো অঞ্চলেই তেহরান হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়।
তবে বেশির ভাগ হামলাই প্রতিহত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তেল আবিব ও বাহরাইনে ইসরাইলি দূতাবাসে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিমানবাহিনী সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ইরানকে নির্ধারিত সময়ের আগেই এমনভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে যা আগে কেউ দেখেনি। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ইরান যুদ্ধকে সমর্থন করছে, যদিও সাম্প্রতিক জরিপে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে।
রয়টার্স ও ইপসসের যৌথ জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনীর ইরানে হামলার পর ৪৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এই হামলার বিরোধিতা করেছেন, ২৭ শতাংশ সমর্থন করেছেন এবং ২৯ শতাংশ অনিশ্চিত রয়েছেন। জরিপে মোট ১,২৮২ জন অংশ নেন। ফলাফল অনুযায়ী, ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের জনমত বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
ইরানে চলমান সংঘাতে ইতিমধ্যে শিরাজে ২০ জন নিহত হয়েছেন, ৩ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ইসরাইল ছয়টি মিসাইল লঞ্চার ধ্বংসের দাবি করেছে।
ইরানের বিমানবাহিনী ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের, যুক্তরাষ্ট্রে মতভেদ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যে কোনো স্থল হামলা প্রতিহত করতে ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ গভীর হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন। এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, ইরান মার্কিন স্থল বাহিনীর আগমনের জন্য অপেক্ষা করছে এবং তাদের প্রতিহত করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল হামলা চালায়, তবে তা তাদের জন্য হবে বিপর্যয়কর।
আরাগচি আরও জানান, ইরান বর্তমান যুদ্ধে কোনো যুদ্ধবিরতি চায় না। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের জুনে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরাইলই প্রথম যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছিল। বর্তমান যুদ্ধে কেউ জয়ী নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং বলেন, ইরানের জয় হলো প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করতে পারা।
এদিকে, ইরানে বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর এবং ইসরাইলের হামলার দাবির মধ্যে এই মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
ইরান জানাল যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল হামলা প্রতিহতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৮৮ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।