ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তেহরান এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরুর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ১৫ আগস্ট প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি যুদ্ধবিরতি সমঝোতা স্মারক (ইসলামাবাদ)-এর সর্বশেষ অবস্থা ব্যাখ্যা করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে ‘যুদ্ধের সমাপ্তি’ ঘোষণা করা হয়েছিল; এটি এমন কোনো যুদ্ধবিরতি ছিল না, যা বাড়ানোর প্রয়োজন হতো।
আরাগচি বলেন, স্মারকে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ৬০ দিনের আলোচনার সুযোগের কথা ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ওই সুযোগ লঙ্ঘন করে সংঘর্ষ পুনরায় শুরু করেছে। কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে শুধু বার্তা আদান-প্রদান ও যোগাযোগ বজায় রাখছে বলে তিনি জানান। তবে এ ধরনের যোগাযোগকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
ওমানের সঙ্গে ইরানের আলোচনা আলাদা এবং তা খুঁটিনাটি ও কৌশলগত বিষয় নিয়ে হচ্ছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আলোচনায় হরমুজ প্রণালির সামুদ্রিক সীমারেখা ও জাহাজ চলাচলের পথ নির্ধারণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পুরোনো পথ কার্যকর না থাকায় একটি অস্থায়ী রুট নকশা করা হচ্ছে, যা পরে চূড়ান্ত রুটে রূপান্তরিত হবে। তবে রুট নির্ধারণ হলেও প্রণালি পুনরায় খোলা অন্য শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে মানতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়নি ইরান, বললেন আরাগচি
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার মেজর জেনারেল আহমদ ভাহিদি দাবি করেছেন, ইরান মার্কিন সেনাবাহিনীকে নতজানু হতে বাধ্য করেছে। ১৫ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্দেশে লেখা একটি খোলা চিঠিতে তিনি এই মন্তব্য করেন। চিঠিটি সেপাহ নিউজে প্রকাশিত হয়েছে।
চিঠিতে ভাহিদি লেখেন, ইরান বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে অস্ত্রসজ্জিত সেনাবাহিনীকে নতজানু করেছে। প্রতিবেদনে এই দাবির পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট সামরিক ঘটনা, সময়কাল বা অতিরিক্ত প্রমাণের উল্লেখ করা হয়নি।
গত সপ্তাহে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল করেন। নবনিযুক্ত কয়েকজন সামরিক নেতার মধ্যে জেনারেল আহমদ ভাহিদি একজন ছিলেন। তাঁর খোলা চিঠির বক্তব্যটি ওই নিয়োগ ও প্রতিরক্ষা কাঠামোর পরিবর্তনের পর প্রকাশিত হয়েছে।
আইআরজিসি কমান্ডার আহমদ ভাহিদির চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী নিয়ে ইরানের দাবি
হরমুজ প্রণালি দিয়ে সামুদ্রিক যান চলাচল ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমানের কারিগরি আলোচনা চলমান রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে শিগগিরই সমঝোতা হতে পারে। তিনি ১৫ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত এক বক্তব্যে এ তথ্য জানান।
ইরানের স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি আইএসএনএকে আরাগচি বলেন, আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট নৌপথ ঠিক করা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নৌপথ নির্ধারণসংক্রান্ত একটি কৌশলগত আলোচনা।
আরাগচি স্পষ্ট করেন যে, ওমানের সঙ্গে এ আলোচনা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনার অংশ নয়; দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি জানান, দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন এবং সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারাও আলোচনায় যুক্ত আছেন। এ ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর মতামত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের নৌপথ নির্ধারণে ইরান-ওমান সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে নাকি বন্ধ হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র তেহরানের। ১৫ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রণালিটিকে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে গারিবাবাদি বলেন, ইরান মার্কিন হুমকি বা সামরিক শক্তি প্রদর্শনে ভীত নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রণালিটি খোলা বা বন্ধ করার যেকোনো সিদ্ধান্ত তেহরানই নেবে। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে।
গারিবাবাদি মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই জলপথে নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এটি শুধু ইরানের নির্দেশেই খোলা ও বন্ধ হবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরাজয়ের বাস্তবতা স্বীকার না করে বিভ্রমে থাকলে ইরান অবরোধ বজায় রাখবে। শুক্রবার নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের একটি পুলিশ একাডেমিতে ট্রাম্প বলেন, তিনি খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করবেন।
হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধের সিদ্ধান্ত শুধু তেহরানের, বললেন ইরানি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালিকে শিগগিরই ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড’ ঘোষণার হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ১৫ আগস্ট নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে একটি পুলিশ একাডেমিতে দেওয়া বক্তৃতায় ট্রাম্প এ কথা বলেন। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গারিবাবাদি বলেন, টুইট, বিমানবাহী রণতরি, আদেশ বা নির্বাচনি ভাষণ দিয়ে হরমুজ প্রণালি দখল করা যায় না। তিনি বলেন, ইরান হুমকিতে ভীত হয় না এবং শক্তি প্রদর্শনেও দমে যায় না। তাঁর দাবি, এই প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
গারিবাবাদি আরও বলেন, জলপথটি শুধু ইরানের নির্দেশেই খোলা ও বন্ধ করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র পরাজয়ের বাস্তবতা স্বীকার না করা পর্যন্ত ইরান অবরোধ বজায় রাখবে। ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে অবরোধ চালু রেখেছে এবং মার্কিন অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না। তবে এটি নতুন নীতিগত সিদ্ধান্ত কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণার ট্রাম্পের হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মধ্যেই ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে আবার একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অপরিশোধিত তেল ভরা শুরু হয়েছে। ট্যাংকারট্র্যাকার্সের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ ভাগের পর শুক্রবার প্রথমবারের মতো একটি ইরানি সুপারট্যাংকারে তেল তোলার ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। খবরটি ১৫ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত হয়।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাংকার কোম্পানির একটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার খার্গ দ্বীপের আজারপাদ জেটিতে তেল ভরছিল। জাহাজটিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল তোলা হচ্ছিল। ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ সাধারণত এই দ্বীপের মাধ্যমে হয়।
যুক্তরাষ্ট্র জুলাইয়ের মাঝামাঝি ইরানের বন্দরগুলোতে আবার নৌ অবরোধ আরোপ করার পর দেশটির তেল রপ্তানি ও সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ট্যাংকারট্র্যাকার্স বলেছে, ইরানের সামগ্রিক তেল উৎপাদন বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাহিদার সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ কারণে দেশটির খুব বেশি পরিমাণ তেল রপ্তানির প্রয়োজন নাও হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটির মত।
মার্কিন নৌ অবরোধের মধ্যেও খার্গ দ্বীপে ইরানি সুপারট্যাংকারে তেল ভরার তথ্য
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মানবাধিকারের অজুহাতে ইরানবিরোধী বিবৃতি দেওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, নিজেদের কর্মকাণ্ডের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যদের মানবাধিকার নিয়ে উপদেশ দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। গ্রিসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োরগোস গ্রাপট্রিটিসের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা করেন।
আরাগচি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন, যার মধ্যে নৌ অবরোধ বজায় রাখা এবং ১৮ জুনের সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি ইরানের স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় তেহরানের দৃঢ় সংকল্পের ওপর জোর দেন। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপদ পথ নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সর্বশেষ অবস্থাও তিনি ব্যাখ্যা করেন।
ইরানি মন্ত্রী বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাহীনতা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনের সরাসরি ফল এবং আগ্রাসনকারী ও আইন লঙ্ঘনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। তিনি ইসরাইলের প্রতি কিছু ইউরোপীয় পক্ষের সমর্থন এবং ফিলিস্তিনি, লেবানন ও ইরান প্রসঙ্গে তাদের উদাসীনতার সমালোচনা করেন। গ্রিক মন্ত্রী উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন ও কারিগরি সহায়তার প্রস্তুতির কথা জানান।
ইইউর মানবাধিকারবিষয়ক অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে আরাগচির নৈতিক অধিকার প্রশ্ন
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী উজমায়ি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে এবং এর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ ও দৃঢ়। ১৪ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি বলেন, প্রণালিতে কোনো ধরনের তৎপরতাই আইআরজিসির নৌযোদ্ধাদের নজর এড়ায় না।
উজমায়ি বলেন, হরমুজ প্রণালির বাস্তব পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বিবৃতি বা বিজ্ঞপ্তিতে নয়, মাঠের অবস্থাতেই দেখতে হবে। ইরানের গণমাধ্যমের বরাতে প্রতিবেদনে তাঁর এই বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হরমুজ মেকানিজম’ বাস্তবায়নের কথা বলেন। তাঁর মতে, পারস্য উপসাগরে মিত্রদের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের অক্ষমতা প্রমাণিত হওয়ার পর ওয়াশিংটনের সামরিক নিশ্চয়তা থেকে স্বাধীন অর্থনৈতিক-নিরাপত্তাভিত্তিক এই ব্যবস্থা আঞ্চলিক নতুন শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার টেকসই পথ হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ইরানের শর্ত পূরণ না হলে যুদ্ধকে আক্রমণাত্মক পর্যায়ে নেওয়ার কৌশল বিশ্বব্যাপী শক্তির সমীকরণ বদলাতে পারে।
আইআরজিসি বলেছে হরমুজ প্রণালি বন্ধ এবং এর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ ও দৃঢ়
পাকিস্তানের স্বাধীনতার ৭৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ১৪ আগস্ট প্রকাশিত বার্তায় তিনি বলেন, ইরান ও পাকিস্তানের অভিন্ন স্বার্থ ও ভাগ্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই বাস্তবতা তেহরান ও ইসলামাবাদের মধ্যে আরও নিবিড় সমন্বয় ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসকে দেশটির মহান জাতির অর্জন স্মরণের মূল্যবান সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে তিনি এটিকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের দীর্ঘস্থায়ী ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার পথে একটি নতুন সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখেন। দুই দেশের গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, সভ্যতামূলক ও জনগণের মধ্যকার সম্পর্ককে তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উজ্জ্বলতর দিগন্ত উন্মোচনের মূল্যবান সম্পদ বলে অভিহিত করেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে তেহরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে এবং বিদ্যমান ব্যাপক সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করার প্রস্তুতির কথা জানান তিনি। দুই জাতির অভিন্ন স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও প্রস্তুতি রয়েছে বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়।
পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার ইরান প্রেসিডেন্টের
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে বলে তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে। ১৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ক্ষতি যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের মোট রিপার ড্রোনের প্রায় ২৫ শতাংশের সমান। ঘটনাটি ভবিষ্যতের বড় সামরিক সংঘাতে ড্রোন সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, সব ড্রোন ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার হামলায় ধ্বংস হয়নি। কয়েকটি ক্ষেত্রে ড্রোন ও নিয়ন্ত্রণকক্ষে থাকা পরিচালনাকারীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যদিও এর বিস্তারিত কারণ জানা যায়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। গত জুলাইয়ে এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেছিলেন, ইরান প্রায় ৩০টি রিপার ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
রিপার দীর্ঘ সময় উড়তে পারে এবং সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০০ কেজি অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম বহন করতে পারে। মে মাসে মার্কিন বিমানবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল কেনেথ এস. উইলসবাখ এটিকে যুদ্ধে সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা প্ল্যাটফর্ম বলেন। প্রতিরক্ষা দপ্তর অস্ত্র উৎপাদনকারীদের উৎপাদন বাড়াতে নির্দেশ দেওয়ার মধ্যেই ড্রোনের মজুত ও উৎপাদন সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারানোর দাবি
নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইডে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ তার ঘোষিত প্রাথমিক লক্ষ্যগুলোর কোনোটি অর্জন করতে পারেনি। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল শুরু করা এই যুদ্ধ ইরানের শাসনক্ষমতার কট্টরপন্থি অংশকে দুর্বল করার বদলে আরও শক্তিশালী করেছে।
এইডের মতে, ইতিহাসে স্পষ্টভাবেই উঠে আসবে যে যুদ্ধটি প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। নরওয়ে শুরু থেকেই যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপ ছিল না এবং আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেক দেশ নরওয়ের এই অবস্থানের সঙ্গে একমত হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে এইডে বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রথম দফা হামলার আগে প্রণালিটি উন্মুক্ত ছিল; হামলার জবাবে ইরান পাল্টা আক্রমণ চালায়। যুদ্ধের অবসান ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করাকে অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি এবং বলেন, এটি সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
ইরান যুদ্ধ ঘোষিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ বলে মন্তব্য নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি শর্ত পূরণ না হলে যুদ্ধকে প্রতিরক্ষামূলক পর্যায় থেকে আক্রমণাত্মক পর্যায়ে নেওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর উপদেষ্টা ও সহযোগী মোহাম্মদ মোখবের। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মোখবের বলেন, এই কৌশল বিশ্বে ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দেবে।
গত ৩০ এপ্রিলের এক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেছিলেন, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির বিষয়ে ইরান তার কর্মপন্থার নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। মোখবেরের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন পরিস্থিতি এবং উপসাগরীয় মিত্রদের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা নীতিগত এই পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করেছে।
মোখবের জানান, ইরানের শর্তের মধ্যে যুদ্ধ ও আগ্রাসনের স্থায়ী অবসান, ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ সম্পদ নিঃশর্তে মুক্ত করা রয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নিশ্চয়তা ছাড়া হরমুজকেন্দ্রিক নতুন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলাই অঞ্চলের সবচেয়ে টেকসই পথ হবে।
ইরানের শর্ত পূরণ না হলে যুদ্ধকে আক্রমণাত্মক পর্যায়ে নেওয়ার কৌশলের কথা বললেন মোখবের
যুদ্ধের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার মুখে ইরান সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের নীতিনির্ধারকেরা দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে আটকে রেখে নিজেদের কিছু দাবি মানাতে চাওয়ার হিসাব করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন স্থাপনায় হামলা চালালেও ক্ষয়ক্ষতির নিরপেক্ষ তথ্য নেই।
চ্যাথাম হাউস বলেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের নির্ভরযোগ্য হিসাব নেই। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ কমলেও ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত উৎপাদন করা যায় এবং সামরিক কমান্ড কাঠামো অক্ষুণ্ণ রয়েছে। অধ্যাপক মোহাম্মদ গায়েদির মতে, ইরান দীর্ঘ সময় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ চালাতে এবং হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন ঘটাতে সক্ষম, যদিও নিক্ষেপের মাত্রা কমতে পারে।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্থনীতি ২ দশমিক ৭ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে; আইএমএফ ২০২৬ সালে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ সংকোচন ও ৬৯ শতাংশ মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস দিয়েছে। দেশে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৬২ শতাংশ এবং হরমুজগানে ১০১ শতাংশ ছাড়িয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে ১০ লাখের বেশি কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত এবং প্রায় ২০ লাখ মানুষ বেকার হয়েছেন। যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে তেহরানে মতভেদ থাকলেও গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ স্পষ্ট নয়।
ছয় মাসের যুদ্ধে ইরানের সামরিক সক্ষমতা থাকলেও অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ অবরোধ বজায় রাখতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে এবং অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। ১৪ আগস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার পানামা সফরকালে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, অবরোধ কার্যকর রাখতে অঞ্চলে নৌ উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা মার্কিন সামরিক বাহিনীর আছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই অবরোধে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ক্ষতি হয়েছে।
হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী নিয়মিত জাহাজ আটকে দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা চালিয়ে যাবে। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নিউজম্যাক্সের এক সাক্ষাৎকারে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে আরও অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ঘোষণা আগামী সপ্তাহে আসবে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন এমন চাপ প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগে দেওয়া হয়নি।
যুদ্ধ বন্ধে জুনের সম্ভাব্য চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর তেহরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওয়াম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির দুটি জাহাজ হামলার শিকার হয়। আমিরাত সরকার ঘটনাটিকে ইরানের হামলা হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে।
ইরানে অনির্দিষ্ট নৌ অবরোধ ও আরও অর্থনৈতিক চাপের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের
ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখছে। আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তেহরানের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসের অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম এ অবস্থানের কথা বলেন। প্রতিবেদনটি ১৪ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত ও হালনাগাদ হয়।
খোশচেশমের মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করতে ইরানকে অসম যুদ্ধকৌশল নিতে হবে এবং এই অর্থনৈতিক যুদ্ধে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। তিনি প্রণালিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দর-কষাকষিতে ইরানের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রণালি বন্ধ রেখে ওয়াশিংটনকে একটি সমঝোতা স্মারকে উল্লেখিত শর্ত মেনে নিতে চাপ দিতে চায় তেহরান।
উল্লিখিত শর্তগুলোর মধ্যে আছে ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড়, লেবাননে ইসরাইলের দখলদারত্বের অবসান, গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সমুদ্র অবরোধ বন্ধ করা। খোশচেশম বলেন, ইরান আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ‘পরাজয় স্বীকার করে অঞ্চলটি ছেড়ে চলে যাবে’। তাঁর বক্তব্যে প্রণালি ঘিরে এই অবস্থান সামরিক চাপের চেয়ে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবেই তুলে ধরা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে চায় ইরান
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট ফেলো মাইকেল স্টিফেনস বলেছেন, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চাইছে যাতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সংঘাত আরও যন্ত্রণাদায়ক হয়। ১৩ আগস্ট আল জাজিরাকে তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পর তেহরান নিশ্চিত হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযান চালাতে ইচ্ছুক নয়।
স্টিফেনসের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান মনে করে অর্থনৈতিক চাপ তাদের সরকারের অস্তিত্বের জন্য হুমকি নয়। তাই তারা যুদ্ধের গতি বাড়াতে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য চাপ আরও তীব্র করতে চায়। তার মতে, এ লক্ষ্য পূরণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সংঘাত দীর্ঘায়িত করা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারির যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার আগে ধারণা ছিল, ডিসেম্বরের শেষভাগ ও জানুয়ারির বড় বিক্ষোভের পর ইরান সরকার সহজেই ভেঙে পড়বে। তবে স্টিফেনস বলেন, এখন পরিস্থিতি তেমন মনে হচ্ছে না। বর্তমান অচলাবস্থা ইরানের জন্য কষ্টকর হলেও অস্তিত্বের সংকট নয়; যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ইরানের শাসনব্যবস্থাকে ইচ্ছামতো কাজ করানোর উপায় আছে কি না, তা নিয়েও তিনি অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন।
বিশ্লেষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রাখতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চায় ইরান
পারস্য উপসাগর ও আশপাশের জলসীমায় কয়েক দশকের দূষণজনিত ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। ১৩ আগস্ট ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিকমাধ্যম এক্সে এ দাবি জানান। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল থেকে যেসব পক্ষ লাভবান হয়, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের পরিবেশগত ক্ষতি পূরণে তাদের আইনি ও নৈতিক দায় রয়েছে।
বুধবার হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের কেশম দ্বীপের একটি সৈকতে ঘন কালো তেলের স্তর ভেসে আসে। সিএনএনের ভূ-অবস্থান যাচাই করা ভিডিওতে তেল ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। বাঘাই এটিকে দৃশ্যমান দূষণের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কয়েক দশক ধরে এ অঞ্চলের পানি ও সামুদ্রিক প্রতিবেশ ব্যাপক এবং দীর্ঘস্থায়ী দূষণের শিকার হয়েছে।
বাঘাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই দূষণে ইরানের উপকূলীয় এলাকায় ক্ষতির পরিমাণ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তিনি সস্তা জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশ, জাহাজ চলাচলের বীমা কোম্পানি এবং সামরিক অভিযান ও ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্র পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত দেশ ও তাদের মিত্রদের দায় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলবাহী একটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ট্যাংকারের তেল রাস মাদরাকাহ এলাকার কয়েকটি সৈকতেও পৌঁছেছে।
পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের দূষণ ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, তেহরান পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে চায়। বুধবার পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আগ্রহের কথা জানান। রেজায়ি বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশের নিরাপত্তা সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারে ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রেজায়ির মতে, ইরান ও পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং মুসলিম বিশ্বের ঐক্য শক্তিশালী করতে দুই দেশকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি ইরান, পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও ইন্দোনেশিয়াকে মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
ইরানি কর্মকর্তা দুই দেশের বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বহুগুণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন। জবাবে মোহসিন নাকভি বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান-পাকিস্তান সম্পর্ক নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুই দেশের নেতৃত্বের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে নিরাপত্তা, শান্তি ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইরান ও পাকিস্তান নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও রাজনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনে তেহরানের ভূমিকার সমালোচনা করায় ফ্রান্স ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের নিন্দা করেছেন। ১৩ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি ফ্রান্সের মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনবিষয়ক অবস্থানকে ভণ্ডামি ও দ্বিচারিতা হিসেবে বর্ণনা করেন।
আরাগচির অভিযোগ, পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সরব হলেও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি বলেন, গাজায় ইসরাইলের ‘গণহত্যার’ প্রতি পশ্চিমা সমর্থন এবং ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন এসব দেশের নৈতিক অবস্থানের দাবিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
ফ্রান্স বুধবার জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আরও ২০টি দেশ ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নিন্দা জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। ওই বিবৃতিতে ইরানকে মানবাধিকার সম্মানে অর্থবহ পদক্ষেপ নেওয়া, মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার বন্ধ করা এবং নির্বিচারে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ইরানের বিক্ষোভ ও তা দমনে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে তেহরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর টানাপোড়েনের মধ্যেই আরাগচি এসব মন্তব্য করেন।
ইরানের বিক্ষোভ দমন নিয়ে ফ্রান্সের সমালোচনাকে দ্বিচারিতা বললেন আরাগচি
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খুলবে না। ১২ আগস্ট ২০২৬ তেহরানে চীনের রাষ্ট্রদূত জং পেইউয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী ও ওমান সাগরের নিরাপত্তাহীনতার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন এবং অভিযোগ করেন, ইরানের ওপর অবৈধ যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র পুরো অঞ্চলকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।
রেজায়ির ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র আচরণ পরিবর্তন করে ইরানের শর্ত না মানা পর্যন্ত প্রণালী খোলা হবে না। তিনি যুদ্ধের অবসান, ইরানের জব্দ করা অর্থ ফেরত এবং লেবানন ও গাজাসহ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানান। আরও কিছু শর্ত মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ইরান ও ওমানের মধ্যে প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের পথ নিয়ে কোনো চুক্তি হলে তা অবরোধের প্রশ্ন থেকে আলাদা হবে বলে রেজায়ি উল্লেখ করেন। বৈঠকে জং পেইউ ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার বিরোধিতার কথা বলেন।
যুদ্ধ বন্ধ ও শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালী না খোলার কথা বলেছে ইরান
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৮০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।