চলমান যুদ্ধ বন্ধে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর সব সুযোগ কাজে লাগাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মিশর। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সামরিক হামলা বাতিলের ঘোষণার প্রশংসা করা হয়।
মন্ত্রণালয় জানায়, এই সুযোগটি ব্যবহার করে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার নতুন অধ্যায় শুরু করার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। মিশর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনে তার অক্লান্ত ও আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মিশর সংলাপ ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বর্তমান পরিস্থিতিকে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে শান্তি চুক্তির সুযোগ কাজে লাগাতে আহ্বান মিশরের
২০২৬ সালের ৬ মে মিশরে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীদের জন্য চালু হয়েছে ‘কায়রো মনোরেল’-এর পূর্ব নীল রুট, যা আফ্রিকার প্রথম সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বা চালকবিহীন মনোরেল ব্যবস্থা। ৫৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটটি কায়রোর নাসর সিটির আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম এলাকা থেকে মরুভূমিতে গড়ে ওঠা নতুন প্রশাসনিক রাজধানী পর্যন্ত বিস্তৃত। পাশাপাশি ৪৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ পশ্চিম নীল রুটের নির্মাণকাজ চলছে, যা ৬ অক্টোবর সিটি থেকে গিজা পর্যন্ত সংযোগ স্থাপন করবে। দুইটি রুট চালু হলে নেটওয়ার্কটির মোট দৈর্ঘ্য ১০০ কিলোমিটারের বেশি হবে, যা বিশ্বের দীর্ঘতম মনোরেল হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।
২০১৯ সালে প্রায় ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ফরাসি প্রতিষ্ঠান আলস্টমের নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম। ইংল্যান্ডের ডার্বিতে তৈরি ২৭২টি কোচ নিয়ে গঠিত ৬৮টি ট্রেন ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে চলবে এবং প্রতি দিকে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারবে।
আলস্টম জানিয়েছে, মনোরেলটি পরিবেশবান্ধব ও কম শব্দদূষণকারী। ব্রেকিংয়ের সময় উৎপন্ন শক্তির ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত পুনরুদ্ধার করা সম্ভব, যা জ্বালানি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কমায়। মিশর সরকার আশা করছে, নতুন প্রশাসনিক রাজধানী ভবিষ্যতে ৬৫ লাখ মানুষের আবাসস্থল হবে এবং প্রায় ২০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
আফ্রিকার প্রথম চালকবিহীন মনোরেল চালু করল মিশর, হবে বিশ্বের দীর্ঘতম নেটওয়ার্ক
মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া শহর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরে আবু কির উপসাগরের তলদেশে হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন বন্দর শহর হেরাক্লিয়নের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। ২০০০ সালে ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট ফর আন্ডারওয়াটার আর্কিওলজির একটি দল, বিখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ ফ্রাঙ্ক গুডিওর নেতৃত্বে, নেপোলিয়নের একটি ডুবে যাওয়া যুদ্ধজাহাজের সন্ধান করতে গিয়ে এই শহরের খোঁজ পান। প্রায় ১২০০ বছর ধরে বালির নিচে চাপা পড়ে থাকা শহরটির অস্তিত্ব প্রথম ধরা পড়ে দেবতা হাপির ছয় টন ওজনের একটি মূর্তির অংশ পাওয়ার মাধ্যমে।
পরবর্তী ১৩ বছরে দলটি হেরাক্লিয়নের বিভিন্ন নিদর্শন উদ্ধার করে, যার মধ্যে ছিল দেবতা আমন ও খনসৌয়ের মন্দিরের ভগ্নাংশ, ৬৪টিরও বেশি জাহাজের ধ্বংসাবশেষ, ৭০০টি নোঙর, স্বর্ণমুদ্রা, তামা ও সোনার তৈজসপত্র। এছাড়া তারা দেবী আইসিসের আদলে তৈরি তৃতীয় ক্লিওপেট্রার মূর্তি, গ্রিক ও মিশরীয় ভাষায় খোদাই করা ফলক এবং দেবতা আমনের উদ্দেশ্যে বলি দেওয়া পশুর মমিও উদ্ধার করেন। শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও অনেক নিদর্শন প্রায় অক্ষত অবস্থায় ছিল।
হেরাক্লিয়ন, যার মিশরীয় নাম থনিস, একসময় ভূমধ্যসাগরের প্রধান বন্দর ছিল, যা ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে সমুদ্রে তলিয়ে যায়।
আলেকজান্দ্রিয়ার কাছে সমুদ্রতলে ১২০০ বছর পর প্রাচীন হেরাক্লিয়ন শহর পুনরাবিষ্কৃত
মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি শনিবার সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র নতুন করে আঁকার জন্য পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চলছে। ইসরাইলের দখল থেকে সিনাই উপদ্বীপ মুক্তির ৪৪তম বার্ষিকী উপলক্ষে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, এই পরিকল্পিত প্রচেষ্টার কারণে অঞ্চলটি এক সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি গত অক্টোবরে স্বাক্ষরিত গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় পর্বের পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। এর মধ্যে রয়েছে মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং অবিলম্বে গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন শুরু করা। সিসি আরও বলেন, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করার যেকোনো প্রচেষ্টা মিশর দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করবে।
সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরাইলের দুই বছরব্যাপী হামলায় গাজা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরাইল গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্বে ফিলিস্তিনি বন্দীদের বিনিময়ে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
গাজা সংকটে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার সতর্কতা দিলেন সিসি
মিশরীয় লেখক হোসাম আল হামালাউয়ি মিডল ইস্ট আইয়ের সঙ্গে আলোচনায় বলেন, ২০১১ সালে হোসনি মুবারকের পতনের পর মিশরে গণতন্ত্র নয়, বরং আরও কঠোর ও কেন্দ্রীভূত এক শাসনব্যবস্থার জন্ম হয়। তার বই ‘মিশরে প্রতিবিপ্লব: সিসির নতুন প্রজাতন্ত্র’-এ তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে বিপ্লবের পর রাষ্ট্রব্যবস্থা পুনর্গঠিত হয়ে এক নতুন ধরনের পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়, যার লক্ষ্য ছিল ভবিষ্যতে কোনো গণআন্দোলনকে প্রতিরোধ করা।
লেখক জানান, মুবারকের আমলে পুলিশ ছিল দমনযন্ত্রের মূল শক্তি, আর ২০১১ সালের বিদ্রোহ সেই কাঠামোকে ভেঙে দেয়। সেনাবাহিনী তখন গণতন্ত্র নয়, রাষ্ট্র রক্ষার স্বার্থে হস্তক্ষেপ করে। মুসলিম ব্রাদারহুড ক্ষমতায় এসে নিরাপত্তা খাতে সংস্কার না করে সমঝোতার চেষ্টা করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালের অভ্যুত্থানকে সহজ করে দেয়।
সিসির শাসনে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো একীভূত হয়ে রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করেছে। প্রশাসন, গণমাধ্যম ও নগর পরিকল্পনায় সামরিক নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে, যা লেখকের মতে “নতুন প্রজাতন্ত্র” বা দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্রের প্রতীক।
হামালাউয়ির মতে, সিসির মিশর ভবিষ্যৎ বিদ্রোহ ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ পুলিশি রাষ্ট্র গড়েছে
মিশর সরকার ঘোষণা করেছে, শনিবার থেকে এক মাসের জন্য প্রতিদিন রাত ৯টার মধ্যে সব দোকান, রেস্তোরাঁ ও শপিং সেন্টার বন্ধ করতে হবে। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাস্তার বাতি ও বিজ্ঞাপনের আলোকসজ্জা কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এপ্রিল মাসে সপ্তাহে একদিন বাড়ি থেকে কাজের সুযোগও থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবৌলি জানিয়েছেন, জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে পেট্রোলের খরচ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যদিও মিশর যুদ্ধে জড়িত নয়, হরমুজ প্রণালির অবরোধের কারণে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশটি সংকটে পড়েছে।
হোটেল ও পর্যটন কেন্দ্রগুলো এই বিধিনিষেধের বাইরে থাকবে, কারণ মিশরের অর্থনীতির প্রায় এক-দশমাংশ পর্যটন খাতের ওপর নির্ভরশীল। হাসপাতাল, স্কুল ও কারখানার মতো জরুরি সেবাগুলোও বাড়ি থেকে কাজের নিয়মের বাইরে থাকবে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকটে মিশরে রাত ৯টার পর দোকান বন্ধের নির্দেশ
ইসরাইল–মিশর সীমান্তে অবস্থিত ছোট রিসোর্ট শহর তাবা এখন ইসরাইলি ও বিদেশি নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাবে পরিণত হয়েছে। ইরান ইসরাইল–যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আগ্রাসনের জবাব দিতে শুরু করলে ইসরাইল তার আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। এরপর দেশ ছেড়ে যাওয়া বা দেশে ফেরার জন্য অনেক ইসরাইলি তাবা সীমান্ত ব্যবহার করছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম হামলার পর থেকে হাজার হাজার যাত্রী তাবা সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত করছেন। কেউ কেউ ইউরোপসহ অন্যান্য দেশে যাওয়ার জন্য মিশরে প্রবেশ করছেন, আবার অনেকে তাবা বিমানবন্দরে নেমে বাসে ইসরাইলে যাচ্ছেন। যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে তাবা বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা হয়েছে।
লোহিত সাগর তীরবর্তী এই শহরটি এখন ব্যস্ত ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে এবং বিমান সংস্থাগুলো আঞ্চলিক ফ্লাইটের রুট পরিবর্তন করছে। ১ মার্চ ইসরাইলের আরকিয়া এয়ারলাইন তাবা ও এথেন্সের মধ্যে ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দেয় এবং পরে ইউরোপের ছয়টি গন্তব্যে রুট বাড়ায়। একটি সাইপ্রিয়ট ও একটি গ্রিক এয়ারলাইনও তাবায় ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে ইসরাইলের প্রধান বিমান সংস্থা এল আল তাবায় ফ্লাইট সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
যুদ্ধের মধ্যে আকাশসীমা বন্ধে ইসরাইলিদের পালানোর রুট তাবা বিমানবন্দর
মিশরের কায়রোতে অবস্থিত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১০৮৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে। অনুষ্ঠানে ইসলামি জ্ঞানচর্চা, ইবাদত ও সভ্যতার প্রতীক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টির ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি অধ্যাপক ড. নাজির আইয়াদ বলেন, আল-আজহার কোনো শাসকের ক্ষমতার ভিত্তিতে নয়, বরং জ্ঞানের শক্তি ও কোরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. সালামা জুমা দাউদ বলেন, আল-আজহারের পণ্ডিতরা ছিলেন জ্ঞানের মহাসমুদ্র, যাদের চিন্তা ও জ্ঞান সাধারণ মানুষকে সমৃদ্ধ করেছে।
ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ফাতেমীয় খলিফা আল-মুইজ লি দ্বিনিল্লাহ ৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে আল-আজহারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে প্রথমবারের মতো এখানে জামাতে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১১৭২ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান সালাউদ্দিন আল আইয়ুবী এটিকে চার মাযহাবভিত্তিক সুন্নি ইসলামের কেন্দ্রীয় মারকাজে রূপান্তর করেন, যা পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী সুন্নি জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়।
কায়রোতে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় রমজান মাসে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য ইফতারের আয়োজন করেছে, যার মধ্যে প্রায় চার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীও রয়েছেন। ঐতিহাসিক আল-আজহার মসজিদে অনুষ্ঠিত এই ইফতারে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় যাচাইয়ের পর টোকেনের মাধ্যমে অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি ড. মুহাম্মাদ আল-দুওয়াইনি-র তত্ত্বাবধানে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আজানের আগে ইফতারের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন।
সুউচ্চ মিনারবেষ্টিত মসজিদের শান্ত পরিবেশে নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে ইফতার ও নামাজ আদায় করেন। আজানের সঙ্গে খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু হয়, এরপর পরিবেশিত হয় মিশরের ঐতিহ্যবাহী খাবার—ভাত, স্থানীয় রুটি, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিকেন ফ্রাই, কোপ্তা, সবজি ও মিষ্টান্ন। আজানের আগে ক্বারীর তেলাওয়াত পুরো পরিবেশকে আধ্যাত্মিক আবহে ভরিয়ে তোলে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আবু সাওবান আকন্দ জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সহপাঠীদের সঙ্গে একত্রে ইফতার করার অভিজ্ঞতা অনন্য। এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও আধ্যাত্মিক বন্ধনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
আল-আজহারে বাংলাদেশিসহ ৭ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর দৈনিক ইফতার আয়োজন
মিশরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পোর্ট সাইদ প্রদেশে একটি ট্রাক ও যাত্রীবাহী পিকআপের সংঘর্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন এবং তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে পোর্ট সাইদের দক্ষিণে অ্যাক্সিস হাইওয়েতে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে আল জাজিরা ও রাষ্ট্রীয় দৈনিক আল-আহরাম জানিয়েছে।
দুর্ঘটনার পর অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, দুটি বড় ট্রাকের মাঝে পিকআপটি পিষ্ট হয়ে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়েছে। পিকআপটিতে স্থানীয় জেলেরা উপকূলীয় এলাকায় মাছের খামারে যাচ্ছিলেন। মিশরের প্রধানমন্ত্রী মোস্তাফা মাদবৌলি নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আর্থিক সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি জানিয়েছেন, পোর্ট সাইদ প্রদেশের গভর্নরের মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দুর্ঘটনার পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মিশরের পোর্ট সাইদে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ১৮ জন নিহত
নেদারল্যান্ডস মিশরকে ৩ হাজার ৫০০ বছরের পুরোনো একটি ভাস্কর্য ফেরত দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির সংস্কৃতিমন্ত্রী গোক মুস নেদারল্যান্ডসে মিশরের রাষ্ট্রদূত ইমাদ হাননার হাতে ভাস্কর্যটি তুলে দেন। ধারণা করা হয়, এটি ফারাও তৃতীয় টুটমসের শাসনামলের এক জ্যেষ্ঠ রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তার ভাস্কর্য, যা দক্ষিণ মিশরের লুক্সর থেকে উদঘাটন করা হয়েছিল।
ভাস্কর্যটি ২০২২ সালে মাসট্রিক্সটের এক মেলায় প্রদর্শিত হয়েছিল। পরে নেদারল্যান্ডস পুলিশ এটি জব্দ করে এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ তদন্তে প্রমাণ পায় যে ২০১১ সালের আরব বসন্তের সময় অস্থিরতার সুযোগে এটি মিশর থেকে পাচার করা হয়েছিল।
গোক মুস বলেন, নেদারল্যান্ডসের নীতি হলো যা তাদের নয়, তা ন্যায্য প্রাপককে ফিরিয়ে দেওয়া। ইমাদ হাননা বলেন, এই ফেরত দেওয়া ঘটনা মিশরের পর্যটন ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ভবিষ্যতে পর্যটকদের আকর্ষণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
যৌথ তদন্তের পর মিশরকে ৩৫০০ বছরের পুরোনো ভাস্কর্য ফেরাল নেদারল্যান্ডস
মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি রোববার কায়রোতে মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউয়ের সঙ্গে বৈঠকে এই আহ্বান জানান বলে টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে।
বৈঠকে দুই কূটনীতিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, তারা মিশর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় পর্যালোচনা করেন। আলোচনায় গাজা, সুদান, আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল এবং মিশরের পানি নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়।
আবদেলাত্তি গাজায় ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নের গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং দ্রুত পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের জন্য ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার ও রাফাহ সীমান্ত পুনরায় চালুর আহ্বান মিশরের
ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক স্থানচ্যুতি মেনে নেওয়ার শর্তে দেওয়া বিপুল অঙ্কের আর্থিক প্রস্তাব মিশর সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেল আতি। এমবিসি মিশরের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘আল-হেকায়া’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এমন প্রস্তাব গ্রহণ করা মানে হবে “জঙ্গলের আইন” মেনে নেওয়া। তিনি জানান, মিশরের কাছে তিনটি পৃথক প্রস্তাব আসে, যার প্রতিটিতেই বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধার প্রলোভন ছিল, যার মধ্যে ঋণ বাতিল ও আর্থিক প্রণোদনার কথাও ছিল।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিশর সব প্রস্তাবই দৃঢ়ভাবে নাকচ করেছে এবং কায়রোর অবস্থান স্পষ্ট ও অপরিবর্তনীয়। তিনি জানান, ইসরাইলি আলোচকরাও মিশরের এই অবস্থান ভালোভাবেই বুঝে নিয়েছেন। আবদেল আতি বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে ৪৫ বছরের বেশি সময় ধরে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকায় উভয় দেশই একে অপরের অবস্থান ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবগত।
তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় দখলদার শক্তি হিসেবে সীমান্ত ক্রসিং খুলে দিয়ে মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা ইসরাইলের দায়িত্ব হলেও তা বাস্তবে মানা হচ্ছে না। সাক্ষাৎকারের শেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, মিশর আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অটল থাকবে।
ফিলিস্তিনিদের স্থানচ্যুতি সংক্রান্ত আর্থিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আন্তর্জাতিক আইন মানার অঙ্গীকার মিশরের
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধর্মীয় ও নৈতিক প্রতিষ্ঠান আল-আজহার শিশুদের প্রতি যৌন নির্যাতনকে মানবজাতির বিরুদ্ধে নিকৃষ্টতম পাপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, এই অপরাধ শুধু আইনের দৃষ্টিতে নয়, মানবতার মমতা ও নৈতিকতার ওপরও আঘাত। আল-আজহার অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এমন শাস্তি দিতে হবে যা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অপরাধীদেরও ভয় জাগায়। একই সঙ্গে তারা আক্রান্ত শিশুদের মানসিক সহায়তায় মনোবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও ধর্মীয় পরামর্শকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। ডিজিটাল যুগে অনলাইন শোষণের ঝুঁকির দিকেও সতর্ক করে আল-আজহার শক্তিশালী আইন, কঠোর নজরদারি ও দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে। বিবৃতির শেষে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, শিশু সুরক্ষা একটি বৈশ্বিক দায়িত্ব, যা পরিবার, রাষ্ট্র, শিক্ষক, গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারকদের একসঙ্গে বহন করতে হবে, কারণ শিশুদের নিরাপত্তাই সভ্যতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।
শিশু নির্যাতন বন্ধে কঠোর শাস্তি ও বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান জানাল আল-আজহার
কায়রোতে মিশরের গোয়েন্দা প্রধান হাসান রাশেদের সঙ্গে বৈঠক করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের প্রতিনিধি দল। বৈঠকে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির অগ্রগতি, ইসরাইলের লঙ্ঘন এবং চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনা হয়। হামাস জানায়, তারা যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে ইসরাইলের অব্যাহত হামলা চুক্তিকে দুর্বল করছে। সংগঠনটি মধ্যস্থতাকারীদের আহ্বান জানায়, লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো নথিভুক্ত করে তা বন্ধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে। গাজার সরকারি গণমাধ্যম জানায়, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ৩৪২ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও শত শত আহত হয়েছেন। ইসরাইল জানিয়েছে, জিম্মি ইসরাইলিদের সব লাশ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শুরু হবে না। হামাস বলছে, গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে লাশ উদ্ধারে সময় লাগছে। এই বৈঠক মিশরের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
গাজা যুদ্ধবিরতি ও ইসরাইলি লঙ্ঘন নিয়ে কায়রোতে মিশরীয় গোয়েন্দা প্রধানের সঙ্গে হামাসের বৈঠক
দুই বছরের দীর্ঘ গাজা যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সোমবার (১৩ অক্টোবর) মিশরের পর্যটন নগরী শারম আল-শেখে বসছে বিশ্বনেতাদের শান্তি সম্মেলন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির যৌথ সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে ২০টিরও বেশি দেশের নেতারা অংশ নেবেন। ইতোমধ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ইতালির জর্জিয়া মেলোনি, স্পেনের পেদ্রো সানচেজ ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বা হামাসের প্রতিনিধি যোগ দেবেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজার মানুষ যখন ঘরে ফিরছেন, তখনই এই সম্মেলন নতুন শান্তির আশার আলো জাগিয়েছে। এই উদ্যোগের সূত্রপাত ট্রাম্পের ওয়াশিংটনে ঘোষিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা থেকে।
গাজায় স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে শারম আল-শেখ সম্মেলনের সভাপতিত্বে প্রস্তুত ট্রাম্প ও সিসি
মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেছেন, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন না হলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী ও বাস্তব শান্তি সম্ভব নয়। ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে মিশরের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি, বন্দি বিনিময়, মানবিক সহায়তা, পুনর্গঠন এবং একটি কার্যকর রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করাই দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার একমাত্র উপায়। বর্তমানে মিশর আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে এই আলোচনা আয়োজন করছে। তবে আলোচনার মাঝেও ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে; সোমবার ভোরে অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন ত্রাণ সংগ্রহে গিয়েছিলেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও ১ লাখ ৬৯ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। বহু মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিসির এই মন্তব্যকে অনেকেই আঞ্চলিক হতাশার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
স্থায়ী শান্তির একমাত্র পথ হিসেবে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির
ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা নিয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মিশর ও কাতার। এর আগে নেতানিয়াহু দাবি করেন, 'গাজা পুনর্গঠনের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে' এবং 'অর্ধেক জনগণ গাজা ছাড়তে চায়'। যদিও তিনি বলেন, এটি সমষ্টিগত নির্বাসন নয়। আমি তাদের জন্য রাফাহ খুলে দিতে পারি, কিন্তু মিশর তা সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ করে দেবে।' এদিকে এক বিবৃতিতে মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেতানিয়াহুর এসব মন্তব্যকে 'অঞ্চলে উত্তেজনা দীর্ঘায়িত করার এবং অস্থিতিশীলতা চিরস্থায়ী করার চলমান প্রচেষ্টা, একই সঙ্গে গাজায় ইসরাইলি লঙ্ঘনের দায় এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল' হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। মিশর ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বা জবরদস্তিমূলক বাস্তুচ্যুতি 'স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে।' বিবৃতিতে বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধের শামিল। মিশর কখনও এসব কর্মকাণ্ডে শরিক হবে না কিংবা ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করার সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে না। কাতারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'দখলদাররা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যে সমষ্টিগত শাস্তির নীতি প্রয়োগ করছে … তা কখনও ফিলিস্তিনি জনগণকে তাদের ভূমি থেকে বিতাড়িত করতে বা তাদের বৈধ অধিকার কেড়ে নিতে সফল হবে না।
ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা নিয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মিশর ও কাতার।
মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া উপকূলে সমুদ্রতলে চাপা পড়ে থাকা দুই হাজার বছরেরও বেশি সময়ের পুরোনো এক শহরের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া গেছে। এর কিছু নিদর্শন পানির নিচ থেকে তুলে আনা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রাচীন কানোপাস নগরীর সম্প্রসারিত অংশ। এর মধ্যে রয়েছে মাথাভাঙা একটি মূর্তি, চুনাপাথরের তৈরি ভবন, বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাঠামো, প্রত্নবস্তু ও ডকইয়ার্ডের ধ্বংসাবশেষ। টলেমীয় শাসনামলে প্রায় ৩০০ বছর ও রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে আরও ৬০০ বছর সমৃদ্ধ নগরী হিসেবে পরিচিত ছিল এই শহর। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি আর ভূমিকম্পের কারণে শহরটি এবং পাশের বন্দর হেরাক্লিয়ন পানির নিচে তলিয়ে যায়। মিশরের পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রী শরিফ ফাতি বলেন, সাগরের নিচে এখনো অসংখ্য নিদর্শন রয়ে গেছে। তবে খুব নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী, কেবল কিছু জিনিসই আমরা তুলছি। বাকিগুলো আমাদের জলমগ্ন ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই থাকবে। উল্লেখযোগ্য নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে, রাজপরিবারের ভাস্কর্য ও রোম-পূর্ব যুগের স্ফিংক্স মূর্তি। তবে অনেক মূর্তিই অসম্পূর্ণ—কোনোটি মস্তকবিহীন, আবার কোনোটি আংশিক ভাঙা।
মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া উপকূলে সমুদ্রতলে চাপা পড়ে থাকা দুই হাজার বছরেরও বেশি সময়ের পুরোনো এক শহরের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া গেছে।
গাজার দুঃসময়ে আবারও এগিয়ে এলো মিসরের আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক হৃদয়। আজহারের প্রধান ইমাম ও বাইতুল যাকাত ও সাদাকাহ’র পরিচালক ড. আহমেদ আত-তাইয়েবের নির্দেশে গাজায় রওনা হলো এক মহৎ কাফেলা—একাদশ ত্রাণ কাফেলা, বহন করছে হাজার হাজার টন খাদ্য, ওষুধ, শিশুদের দুধ, কম্বল এবং সম্পূর্ণ সজ্জিত এক হাজার তাঁবু। শাইখুল আজহারের উদাত্ত আহ্বান—“তোমাদের সম্পদ দিয়ে জিহাদ করো, ফিলিস্তিনকে সাহায্য করো”—আজ এক বিশ্বজনীন প্রতিজ্ঞায় পরিণত হয়েছে। যারা চান, তারাও এই দয়ার কাফেলার অংশ হতে পারেন। আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠিত বাইতুল যাকাত ও সাদাকাহ একটি বিশ্বস্ত সেতু, যার মাধ্যমে আপনার দান পৌঁছে যাবে সরাসরি গাজার ভাঙা হৃদয়ে।
আজহারের প্রধান ইমাম ড. আহমেদ আত-তাইয়েবের নির্দেশে গাজায় রওনা হলো কাফেলা—একাদশ ত্রাণ কাফেলা, বহন করছে হাজার হাজার টন খাদ্য, ওষুধ, শিশুদের দুধ, কম্বল এবং সম্পূর্ণ সজ্জিত এক হাজার তাঁবু।
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৩৭ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।