ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক স্থানচ্যুতি মেনে নেওয়ার শর্তে দেওয়া বিপুল অঙ্কের আর্থিক প্রস্তাব মিশর সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেল আতি। এমবিসি মিশরের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘আল-হেকায়া’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এমন প্রস্তাব গ্রহণ করা মানে হবে “জঙ্গলের আইন” মেনে নেওয়া। তিনি জানান, মিশরের কাছে তিনটি পৃথক প্রস্তাব আসে, যার প্রতিটিতেই বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধার প্রলোভন ছিল, যার মধ্যে ঋণ বাতিল ও আর্থিক প্রণোদনার কথাও ছিল।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিশর সব প্রস্তাবই দৃঢ়ভাবে নাকচ করেছে এবং কায়রোর অবস্থান স্পষ্ট ও অপরিবর্তনীয়। তিনি জানান, ইসরাইলি আলোচকরাও মিশরের এই অবস্থান ভালোভাবেই বুঝে নিয়েছেন। আবদেল আতি বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে ৪৫ বছরের বেশি সময় ধরে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকায় উভয় দেশই একে অপরের অবস্থান ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবগত।
তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় দখলদার শক্তি হিসেবে সীমান্ত ক্রসিং খুলে দিয়ে মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা ইসরাইলের দায়িত্ব হলেও তা বাস্তবে মানা হচ্ছে না। সাক্ষাৎকারের শেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, মিশর আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অটল থাকবে।
ফিলিস্তিনিদের স্থানচ্যুতি সংক্রান্ত আর্থিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আন্তর্জাতিক আইন মানার অঙ্গীকার মিশরের
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধর্মীয় ও নৈতিক প্রতিষ্ঠান আল-আজহার শিশুদের প্রতি যৌন নির্যাতনকে মানবজাতির বিরুদ্ধে নিকৃষ্টতম পাপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, এই অপরাধ শুধু আইনের দৃষ্টিতে নয়, মানবতার মমতা ও নৈতিকতার ওপরও আঘাত। আল-আজহার অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এমন শাস্তি দিতে হবে যা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অপরাধীদেরও ভয় জাগায়। একই সঙ্গে তারা আক্রান্ত শিশুদের মানসিক সহায়তায় মনোবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও ধর্মীয় পরামর্শকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। ডিজিটাল যুগে অনলাইন শোষণের ঝুঁকির দিকেও সতর্ক করে আল-আজহার শক্তিশালী আইন, কঠোর নজরদারি ও দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে। বিবৃতির শেষে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, শিশু সুরক্ষা একটি বৈশ্বিক দায়িত্ব, যা পরিবার, রাষ্ট্র, শিক্ষক, গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারকদের একসঙ্গে বহন করতে হবে, কারণ শিশুদের নিরাপত্তাই সভ্যতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।
শিশু নির্যাতন বন্ধে কঠোর শাস্তি ও বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান জানাল আল-আজহার
কায়রোতে মিশরের গোয়েন্দা প্রধান হাসান রাশেদের সঙ্গে বৈঠক করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের প্রতিনিধি দল। বৈঠকে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির অগ্রগতি, ইসরাইলের লঙ্ঘন এবং চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনা হয়। হামাস জানায়, তারা যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে ইসরাইলের অব্যাহত হামলা চুক্তিকে দুর্বল করছে। সংগঠনটি মধ্যস্থতাকারীদের আহ্বান জানায়, লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো নথিভুক্ত করে তা বন্ধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে। গাজার সরকারি গণমাধ্যম জানায়, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ৩৪২ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও শত শত আহত হয়েছেন। ইসরাইল জানিয়েছে, জিম্মি ইসরাইলিদের সব লাশ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শুরু হবে না। হামাস বলছে, গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে লাশ উদ্ধারে সময় লাগছে। এই বৈঠক মিশরের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
গাজা যুদ্ধবিরতি ও ইসরাইলি লঙ্ঘন নিয়ে কায়রোতে মিশরীয় গোয়েন্দা প্রধানের সঙ্গে হামাসের বৈঠক
দুই বছরের দীর্ঘ গাজা যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সোমবার (১৩ অক্টোবর) মিশরের পর্যটন নগরী শারম আল-শেখে বসছে বিশ্বনেতাদের শান্তি সম্মেলন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির যৌথ সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে ২০টিরও বেশি দেশের নেতারা অংশ নেবেন। ইতোমধ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ইতালির জর্জিয়া মেলোনি, স্পেনের পেদ্রো সানচেজ ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বা হামাসের প্রতিনিধি যোগ দেবেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজার মানুষ যখন ঘরে ফিরছেন, তখনই এই সম্মেলন নতুন শান্তির আশার আলো জাগিয়েছে। এই উদ্যোগের সূত্রপাত ট্রাম্পের ওয়াশিংটনে ঘোষিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা থেকে।
গাজায় স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে শারম আল-শেখ সম্মেলনের সভাপতিত্বে প্রস্তুত ট্রাম্প ও সিসি
মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেছেন, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন না হলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী ও বাস্তব শান্তি সম্ভব নয়। ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে মিশরের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি, বন্দি বিনিময়, মানবিক সহায়তা, পুনর্গঠন এবং একটি কার্যকর রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করাই দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার একমাত্র উপায়। বর্তমানে মিশর আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে এই আলোচনা আয়োজন করছে। তবে আলোচনার মাঝেও ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে; সোমবার ভোরে অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন ত্রাণ সংগ্রহে গিয়েছিলেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও ১ লাখ ৬৯ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। বহু মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিসির এই মন্তব্যকে অনেকেই আঞ্চলিক হতাশার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
স্থায়ী শান্তির একমাত্র পথ হিসেবে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির
ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা নিয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মিশর ও কাতার। এর আগে নেতানিয়াহু দাবি করেন, 'গাজা পুনর্গঠনের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে' এবং 'অর্ধেক জনগণ গাজা ছাড়তে চায়'। যদিও তিনি বলেন, এটি সমষ্টিগত নির্বাসন নয়। আমি তাদের জন্য রাফাহ খুলে দিতে পারি, কিন্তু মিশর তা সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ করে দেবে।' এদিকে এক বিবৃতিতে মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেতানিয়াহুর এসব মন্তব্যকে 'অঞ্চলে উত্তেজনা দীর্ঘায়িত করার এবং অস্থিতিশীলতা চিরস্থায়ী করার চলমান প্রচেষ্টা, একই সঙ্গে গাজায় ইসরাইলি লঙ্ঘনের দায় এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল' হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। মিশর ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বা জবরদস্তিমূলক বাস্তুচ্যুতি 'স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে।' বিবৃতিতে বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধের শামিল। মিশর কখনও এসব কর্মকাণ্ডে শরিক হবে না কিংবা ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করার সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে না। কাতারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'দখলদাররা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যে সমষ্টিগত শাস্তির নীতি প্রয়োগ করছে … তা কখনও ফিলিস্তিনি জনগণকে তাদের ভূমি থেকে বিতাড়িত করতে বা তাদের বৈধ অধিকার কেড়ে নিতে সফল হবে না।
মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া উপকূলে সমুদ্রতলে চাপা পড়ে থাকা দুই হাজার বছরেরও বেশি সময়ের পুরোনো এক শহরের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া গেছে। এর কিছু নিদর্শন পানির নিচ থেকে তুলে আনা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রাচীন কানোপাস নগরীর সম্প্রসারিত অংশ। এর মধ্যে রয়েছে মাথাভাঙা একটি মূর্তি, চুনাপাথরের তৈরি ভবন, বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাঠামো, প্রত্নবস্তু ও ডকইয়ার্ডের ধ্বংসাবশেষ। টলেমীয় শাসনামলে প্রায় ৩০০ বছর ও রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে আরও ৬০০ বছর সমৃদ্ধ নগরী হিসেবে পরিচিত ছিল এই শহর। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি আর ভূমিকম্পের কারণে শহরটি এবং পাশের বন্দর হেরাক্লিয়ন পানির নিচে তলিয়ে যায়। মিশরের পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রী শরিফ ফাতি বলেন, সাগরের নিচে এখনো অসংখ্য নিদর্শন রয়ে গেছে। তবে খুব নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী, কেবল কিছু জিনিসই আমরা তুলছি। বাকিগুলো আমাদের জলমগ্ন ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই থাকবে। উল্লেখযোগ্য নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে, রাজপরিবারের ভাস্কর্য ও রোম-পূর্ব যুগের স্ফিংক্স মূর্তি। তবে অনেক মূর্তিই অসম্পূর্ণ—কোনোটি মস্তকবিহীন, আবার কোনোটি আংশিক ভাঙা।
গাজার দুঃসময়ে আবারও এগিয়ে এলো মিসরের আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক হৃদয়। আজহারের প্রধান ইমাম ও বাইতুল যাকাত ও সাদাকাহ’র পরিচালক ড. আহমেদ আত-তাইয়েবের নির্দেশে গাজায় রওনা হলো এক মহৎ কাফেলা—একাদশ ত্রাণ কাফেলা, বহন করছে হাজার হাজার টন খাদ্য, ওষুধ, শিশুদের দুধ, কম্বল এবং সম্পূর্ণ সজ্জিত এক হাজার তাঁবু। শাইখুল আজহারের উদাত্ত আহ্বান—“তোমাদের সম্পদ দিয়ে জিহাদ করো, ফিলিস্তিনকে সাহায্য করো”—আজ এক বিশ্বজনীন প্রতিজ্ঞায় পরিণত হয়েছে। যারা চান, তারাও এই দয়ার কাফেলার অংশ হতে পারেন। আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠিত বাইতুল যাকাত ও সাদাকাহ একটি বিশ্বস্ত সেতু, যার মাধ্যমে আপনার দান পৌঁছে যাবে সরাসরি গাজার ভাঙা হৃদয়ে।
মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় গাজায় ফিলিস্তিনিদের অনাহারের বিষয়ক ইসরাইলকে নিন্দার কঠোর বিবৃতি প্রকাশ করেছিল, যা মিশরের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে সরানোর চাপের কারণে প্রত্যাহার করতে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় বিবৃতিটি যুদ্ধবিরতি আলোচনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রত্যাহার করেছে। আল-আজহার কর্তৃপক্ষ গাজার রক্তপাত বন্ধ ও নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের জরুরি প্রয়োজন মেটানোর আশায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল মুসলিম স্কলার্স ইউনিয়নের প্রধান আলী আল-কারদাগি বিবৃতির প্রত্যাহারকে অন্যায় বলে নিন্দা জানিয়েছেন। এই সময় নেদারল্যান্ডস ও মিশরের মানবাধিকারকর্মীরা গাজার অবরোধ ও সীমান্ত বন্ধের প্রতিবাদ করেন।
মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি বলেন, তারা গাজায় একটি টেকসই সমাধান ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য কাজ করছে। প্রস্তাবটি মিশর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ প্রচেষ্টা এবং এটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রথম পদক্ষেপ। আলোচনায় ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও গাজায় দ্রুত চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার বিষয় রয়েছে। এই পদক্ষেপ গত ১৯ জানুয়ারির চুক্তি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং স্থায়ীভাবে শত্রুতা বন্ধে সহায়তা করবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আগ্রাসন পুনরায় শুরু হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি হবে।
গাজায় ইসরাইলের চলমান গণহত্যার প্রেক্ষাপটে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক মুসলিম আলেম সংগঠন (আইইউএমএস) ফতোয়া দিয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে মুসলিমদের জিহাদে নামার আহ্বান জানিয়েছে, তাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ ও শরিয়ার নীতিমালার লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি শেইখ নজির আয়াদ। আইইউএমএস-এর দেয়া ফতোয়ায় বলা হয়, প্রতিটি ‘সক্ষম মুসলমানের’ ওপর ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ধর্মীয় দায়িত্ব এবং মুসলিম দেশগুলোর উচিত অবিলম্বে সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপ করে এই গণহত্যা বন্ধ করা। একইসঙ্গে ইসরাইলের ওপর পূর্ণ অবরোধ আরোপেরও আহ্বান জানানো হয়। শেখ আয়াদ বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ সমাজের নিরাপত্তা ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে।' জিহাদের ঘোষণা দেওয়ার এখতিয়ার শুধুমাত্র বৈধ রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের বলেও দাবি করেছেন এই মুফতি।
মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি জানিয়েছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনের পরিকল্পনা প্রস্তুত। ফিলিস্তিনিরা যেন তাদের নিজ ভূমিতে থাকতে পারেন তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ৪ মার্চ পরিকল্পনাটি কায়ারোতে অনুষ্ঠিতব্য একটি জরুরি আরব শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, মিশর এই পরিকল্পনার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন এবং তহবিল চাইবে, বিশেষ করে গাজার পুনর্গঠনের অর্থায়নে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেবে। তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত করব যাতে আরব শীর্ষ সম্মেলনের ফলাফল বিশ্বের কাছে সর্বোত্তম উপায়ে উপস্থাপন করা হয়।
গাজায় ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস ও ইসরাইলের মধ্য দিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি কার্যকরের বিষয়ে মিশরের কায়রোতে আলোচনা চলছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ মিশর বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা করতে ইসরাইল, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল কায়রোতে পৌঁছেছে। প্রথম পর্যায়ের যুদ্ধবিরতি ১ মার্চ শেষ হতে চলেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার চার মৃতদেহের বিনিময়ে শতাধিক ফিলিস্তিনি মুক্তি পেয়েছে। বিগত যুদ্ধে গাজায় ৪৮ হাজারের অধিক শহীদ হয়েছেন এবং ইসরাইলে ১২ শতাধিক নিহত হয়েছে।
মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজার পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠেয় বিশেষ আরব লীগ সম্মেলন, যা আগামী সপ্তাহে হওয়ার কথা ছিল, তা পিছিয়ে যাচ্ছে। সম্মেলন ৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। ঠিক করা হয়েছে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সাথে আলোচনা করে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ডাকা হয়েছে সম্মেলন, যে প্রস্তাবে গাজা দখল ও গাজাবাসীদের বাস্তুচ্যুত করার কথা বলা হয়েছে। আরব দেশগুলো, বিশেষ করে মিশর, জর্দান, এবং সৌদি আরব, নিজেদের গাজায় সহযোগিতা শক্তিশালী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজতে মনোনিবেশ করবে। একে মার্কিন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৬০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।