লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ৩২৮ জন নিহত এবং ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেশটির মানবিক পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও দখলকৃত এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার অনিশ্চিত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের জন্য ওয়াশিংটন ডিসির স্টেট ডিপার্টমেন্টে পৌঁছেছেন। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এক্স-এ জানিয়েছে, ২০০৯ সালের পর এটি কোনো লেবানিজ প্রেসিডেন্টের প্রথম ওয়াশিংটন সফর। আউনের মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
এই সফরটি লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে মার্কিন সমর্থিত সরাসরি আলোচনার সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর কয়েকদিন আগে রোমে দুই দেশের কর্মকর্তারা মার্কিন মধ্যস্থতায় আলোচনার আরেকটি পর্ব শেষ করেছেন বলে আলজাজিরা জানিয়েছে।
ইসরাইলি হামলায় লেবাননে ৪,৩২৮ নিহত, আলোচনায় অংশ নিতে ওয়াশিংটনে আউন
ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত কাঠামো চুক্তি বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে সামরিক প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) কর্তৃক পাঠানো এই প্রতিনিধিদল শুক্রবার বৈরুতে পৌঁছেছে।
আগামী সপ্তাহে রোমে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। লেবাননের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানান, আলোচনার মূল বিষয় হবে ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় স্বাক্ষরিত কাঠামো চুক্তির বাস্তবায়ন, যাতে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা রয়েছে। আনাদোলু বার্তা সংস্থা জানায়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে সেন্টকম উভয় দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে।
এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা নির্দেশ করে, যা যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে সহায়তা করছে।
ইসরাইল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে বৈরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিনিধিদল
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর এক যোদ্ধা ও আরেক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে হত্যার দাবি করেছে। আলি আল-তাহের পর্বতশিলার একটি ভূগর্ভস্থ টানেলের কাছে এই হামলা চালানো হয়, যেটিকে ইসরাইল নিজেদের নিরাপত্তা অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে। সামরিক বাহিনীর দাবি, নিহত হিজবুল্লাহ যোদ্ধা সেখানে অবস্থানরত ইসরাইলি সৈন্যদের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছিলেন এবং সুনির্দিষ্ট বিমান হামলার মাধ্যমে তাকে হত্যা করা হয়।
ইসরাইলি বাহিনী জানায়, একই নিরাপত্তা অঞ্চলে পৃথক আরেকটি বিমান হামলায় একটি গাড়িতে থাকা এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করা হয়। ওই ব্যক্তি ইসরাইলি সৈন্যদের জন্য হুমকি তৈরি করায় তাকেও হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সামরিক বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, হিজবুল্লাহ সদস্যদের ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো থেকে বের হতে বা ওই এলাকায় কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না।
দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ যোদ্ধা ও সন্দেহভাজনকে হত্যার দাবি ইসরাইলের
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ওয়াশিংটন সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসার সঙ্গে বৈঠক করে সফরের প্রস্তুতি ও দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকে আউন দক্ষিণ লেবাননে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, আউন যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরাইলের ওপর চাপ প্রয়োগ করে হামলা বন্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তিনি দখলকৃত লেবাননের শহরগুলোতে ইসরাইলি গোলাবর্ষণ ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধেরও দাবি করেন। রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা বলেন, আউনের ওয়াশিংটন সফর লেবাননের স্থিতিশীলতার প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
তিনি আরও জানান, আগামী ১৪–১৫ জুলাই ইতালির রোমে লেবানন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি ফলো-আপ বৈঠক হবে এবং কয়েক দিনের মধ্যে একটি মার্কিন সামরিক প্রতিনিধি দল বৈরুতে পৌঁছে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের পর নির্ধারিত এলাকাগুলো লেবাননের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের সমন্বয় করবে।
দক্ষিণ লেবাননের উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট আউন
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলাকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ইসরাইল এমন কিছু বিমান হামলা চালিয়েছে, যাতে পুরো পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। অ্যামনেস্টি ৬ থেকে ১৩ মার্চের মধ্যে বেসামরিক বাড়িঘরে চালানো তিনটি হামলা পর্যালোচনা করেছে, যেখানে ২৪ জন নিহত হয়, তাদের মধ্যে ১২ জন শিশু।
সংস্থাটি বলেছে, এসব হামলায় পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, তাই এগুলোকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্ত করা উচিত। অ্যামনেস্টি আরও জানিয়েছে, তারা ইসরাইলি সেনাবাহিনীর কাছে এই হামলাগুলোর লক্ষ্য সম্পর্কে জানতে চাইলেও কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পায়নি।
আলজাজিরা সূত্রে প্রকাশিত এই বিবৃতিতে লেবাননে ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতে বেসামরিক প্রাণহানির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
লেবাননে ইসরাইলি হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্তের আহ্বান অ্যামনেস্টির
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন চলতি জুলাই মাসের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে হোয়াইট হাউসে যাচ্ছেন। ইসরাইলের সঙ্গে রূপরেখা চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে এই সফর হবে। গত রোববার দুই নেতার মধ্যে ১৭ মিনিটের একটি ইতিবাচক ফোনালাপের পর সফরের প্রস্তুতি শুরু হয়। লেবাননের দৈনিক আন-নাহারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আউন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আউন স্বীকার করেন, ইসরাইলের সঙ্গে এই চুক্তি আদর্শ নয়, তবে দক্ষিণ লেবাননের বর্তমান শক্তির ভারসাম্য ইসরাইলের পক্ষে থাকায় এটি মেনে নিতে হয়েছে। তিনি বলেন, এটি কেবল একটি রূপরেখা, চূড়ান্ত চুক্তি নয়, এবং লেবাননের সেনাবাহিনীর ঐক্য নিয়ে কেউ বাজি ধরবেন না। আউন আরও বলেন, এই চুক্তি লেবাননের দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের লড়াই থামাবে না।
তিনি জানান, নাবাতিহ জেলার জাওতার এলাকায় পরীক্ষামূলক নিরাপত্তা মোতায়েনের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি শুরু হবে। লেবাননের সেনারা কিছু শহরের নিয়ন্ত্রণ নেবে, যাতে ইসরাইলি বাহিনী ধীরে ধীরে সরে যেতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে অনুরোধ করা হয়েছে আলি আল-তাহের পাহাড় লেবাননের নিয়ন্ত্রণে রাখতে, যা ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু মেনে নিয়েছেন বলে আউন জানান।
ইসরাইল চুক্তি এগিয়ে নিতে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে যাচ্ছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট আউন
দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি হামলার পর পড়ে থাকা চারটি বিশাল আকারের অবিস্ফোরিত বোমা ও গোলাবারুদ নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করেছে লেবাননের সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বিশেষজ্ঞ বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল নাবাতিয়েহ অঞ্চলের মিফদুন এবং বিনতে জবেইল জেলার বারাআশিত, কফর দুনিন ও শাকরা শহরে অভিযান চালিয়ে বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করে। এটি হামলার পর অবশিষ্ট বিস্ফোরক অপসারণের চলমান কার্যক্রমের অংশ।
সেনাবাহিনী স্থানীয় বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে এবং কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা বিস্ফোরকসদৃশ কিছু দেখলে দ্রুত নিকটস্থ সেনা ক্যাম্প বা সামরিক কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করেছে। বিবৃতিতে জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
এই অভিযান লেবাননের বেসামরিক এলাকাগুলোকে নিরাপদ রাখতে চলমান প্রচেষ্টার অংশ হলেও, প্রতিবেদনে হামলার সময় বা পরিসর সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
দক্ষিণ লেবাননে চারটি অবিস্ফোরিত ইসরাইলি বোমা নিষ্ক্রিয় করল সেনাবাহিনী
দক্ষিণ লেবাননের বিনত জেবাইলে সামরিক অভিযানের সময় মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন ইসরাইলি সেনা আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। শুক্রবার লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিন জানায়, ৬৭৯তম ব্রিগেডের একটি ইউনিট একটি ভবনে প্রবেশ করলে বন্দুকধারীর গুলিতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। পরে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ওই ভবনে বিমান হামলা চালায় এবং তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে, তবে হামলাকারীর অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কাঠামো ও আঞ্চলিক সমঝোতা থাকা সত্ত্বেও ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে আইতা আল-শাবে বিস্ফোরক হামলায় দুই রিজার্ভ সেনা আহত হন এবং দেইর সেরিয়ানে এক হিজবুল্লাহ যোদ্ধার হামলায় ইসরাইলি এক ক্যাপ্টেন নিহত হন।
ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে ২০ জুন পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনী লেবাননে ৬৩৭টি সামরিক অভিযান চালিয়েছে, যার মধ্যে ৪৪০টি ‘ইয়েলো লাইন’-এর ভেতরে এবং ১৮৭টি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে।
দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষে তিন ইসরাইলি সেনা আহত, একজনের অবস্থা গুরুতর
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ঘোষণা করেছেন, ইসরাইলের কাছে লেবাননের এক ইঞ্চি ভূখণ্ডও ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে সরকারের চলমান আলোচনা কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ বা বিশ্বাসঘাতকতা নয়। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই অবস্থান জানানো হয়।
আউন বলেন, লেবাননের জন্য যুদ্ধ ও পরাধীনতার যুগ থেকে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে এবং দেশের অধিকাংশ মানুষ, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের জনগণ, মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে বাঁচার অধিকার রাখে। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলের সঙ্গে করা চুক্তি নিয়ে সমালোচনা উঠেছে, যেখানে অনেকে মনে করছেন লেবাননের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
এই অভিযোগ নাকচ করে আউন বলেন, কাঠামোগত সমঝোতার শর্তগুলো লেবাননের অধিকার ও মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়; বরং এগুলোর পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, যারা সার্বভৌমত্বের নীতিকে সম্মান করেন, তাদের রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকেও সম্মান করা উচিত।
ইসরাইলকে কোনো ভূখণ্ড ছাড় নয়, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান লেবাননের প্রেসিডেন্টের
লেবানন ও সিরিয়া একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার অঙ্গীকারে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। আলজাজিরার খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বৈরুতে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামের উপস্থিতিতে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি ও দুই দেশের প্রতিনিধিদল এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, চুক্তিতে উভয় দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, জাতীয় ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই সমঝোতা এমন সময়ে হয়েছে, যখন লেবানন ও সিরিয়া উভয় দেশই ইসরাইলের চলমান সামরিক হামলা ও দখল অভিযানের মুখোমুখি। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়েও তারা বাড়তি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।
ইসরাইলি হামলার প্রেক্ষাপটে লেবানন-সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব চুক্তি স্বাক্ষর
লেবাননে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক সমন্বয়কারী ইমরান রিজা জানিয়েছেন, ইসরাইলের আগ্রাসনে দেশটিতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। মঙ্গলবার বৈরুতে এক সেমিনারে তিনি বলেন, বর্তমানে লেবাননের ১৪ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।
রিজা বলেন, সহায়তা অপরিহার্য হলেও শুধু ত্রাণ সরবরাহ করে এই সংকটের ব্যাপকতা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই জরুরি অবস্থা কেবল মানবিক নয়, বরং দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত এবং এটি শ্রমবাজারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত এসব হামলায় অন্তত ৪ হাজার ২৭৮ জন নিহত হয়েছেন।
ইসরাইলি হামলায় লেবাননে ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত, জানাল জাতিসংঘ
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪ হাজার ২৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ক্রমবর্ধমান হতাহতের ঘটনায় দেশটির মানবিক পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটছে।
টানা কয়েক মাসের সরাসরি আলোচনার পর শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইল একটি কাঠামোগত চুক্তিতে সই করেছে। তবে এই চুক্তিতে লেবাননের দখলকৃত অঞ্চল থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। এতে করে চুক্তির স্থায়িত্ব ও শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও সেনা প্রত্যাহার অনিশ্চিত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে এবং মানবিক সংকট গভীরতর হচ্ছে।
ইসরাইলি হামলায় লেবাননে নিহত ৪,২৫৭, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ
ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের মায়দাল জৌন শহরে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত ২০০ মিটার দীর্ঘ একটি টানেল ধ্বংস করেছে। রোববার প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজের যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করা হয়েছিল। ইসরাইলের দাবি, টানেলটিতে শত শত অস্ত্র ও রকেট লঞ্চার ছিল। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরাইলি বাহিনী নাবাতিহ এলাকায় হিজবুল্লাহ যোদ্ধা ও একটি রকেট লঞ্চারে হামলা চালায়।
এই হামলা লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-মধ্যস্থতাকারী নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের দুই দিন পর ঘটে। চুক্তিতে লেবাননের সেনা মোতায়েন ও দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশ থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে, যদিও ইসরাইলি বাহিনী একটি বর্ধিত নিরাপত্তা অঞ্চলে অবস্থান করবে। হিজবুল্লাহ এই হামলাকে যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে এবং দেশের সুরক্ষার অধিকার বজায় রাখার কথা জানিয়েছে।
হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেম নিরাপত্তা চুক্তিটিকে ইসরাইলের কাছে আত্মসমর্পণ বলে বর্ণনা করে সশস্ত্র প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংঘাতের কারণে ১০ লাখেরও বেশি লেবাননের নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর টানেল ধ্বংসের দাবি ইসরাইলের, সীমান্তে নতুন উত্তেজনা
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ অভিযোগ করেছে যে ইসরাইলি বাহিনী যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে এবং তারা লেবানন রক্ষার পূর্ণ অধিকার রাখে। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, গত রোববার দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনী একাধিক হামলা চালিয়েছে। নাবাতিহ ও মায়ফাদৌন শহরের আবাসিক ভবন, ফারউন শহরের উন্মুক্ত এলাকা এবং বিন্ত জবেইলে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া তাইবেহ ও হাদাতা এলাকার ভবনগুলোতেও বিস্ফোরণ হয়েছে।
এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিজেদের জন্মভূমি ও জনগণকে রক্ষার অধিকার তাদের রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মার্চের শুরু থেকেই ইসরাইল লেবাননে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতি লেবানন সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ইসরাইলি হামলার পর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে লেবানন রক্ষার ঘোষণা হিজবুল্লাহর
হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে স্বাক্ষরিত কাঠামোগত চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন। শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি জানান, শুক্রবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বৈরুত-তেল আবিবের পঞ্চম দফা আলোচনার পর স্বাক্ষরিত এই চুক্তি বাতিল ও অকার্যকর। তিনি ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
কাসেম সতর্ক করে বলেন, লেবাননের প্রতিরোধ বাহিনীর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারকে যুক্ত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এটি লেবাননকে ইসরাইলের হাতে পুতুলে পরিণত করবে। চুক্তিটি নিয়ে লেবাননে বিতর্ক বাড়ছে; কেউ একে ঐতিহাসিক ও সম্ভাবনাময় সমাধান বলছেন, আবার কেউ একে ইসরাইলের কাছে একতরফা ছাড় হিসেবে নিন্দা করছেন।
লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে ইসরাইলের হামলায় চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং আরও চার হাজারের বেশি আহত হয়েছে, যা আলোচনার পটভূমিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন-ইসরাইল চুক্তি প্রত্যাখ্যান, সেনা প্রত্যাহারের দাবি হিজবুল্লাহর
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনারা অবস্থান করবে। তার এই মন্তব্য আসে এমন সময়ে, যখন বৈরুত ও তেলআবিব কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি ত্রিপক্ষীয় কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছেছে। নেতানিয়াহু এই সমঝোতাকে ইরানের জন্য বড় আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, তেহরান ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারে বাধ্য করতে চেয়েছিল।
ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আয়োজিত পাঁচ দফা আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণে লেবানন ও ইসরাইল এই কাঠামোগত চুক্তিতে সম্মত হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এটি কেবল শুরু। পরে এক বিবৃতিতে তিনি জানান, জাতিসংঘের সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১০০ মিলিয়ন ডলার মানবিক সহায়তা এবং লেবাননের সেনাবাহিনীকে ৩০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে।
এই ঘটনাগুলো ইসরাইল, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা ও সহায়তার ভূমিকা তুলে ধরে।
হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত লেবাননে থাকবে ইসরাইলি বাহিনী
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া ১৪ দফার একটি ফ্রেমওয়ার্ক বা সমঝোতা চুক্তির খসড়া প্রকাশ করেছে, যা এর আগে ওয়াশিংটন ডিসিতে স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননের সেনাবাহিনী ধীরে ধীরে দেশের তথাকথিত ‘পাইলট জোন’ বা পরীক্ষামূলক অঞ্চলগুলোতে পূর্ণ নিরাপত্তা দায়িত্ব নেবে। ইসরাইল ও লেবানন প্রাথমিকভাবে দুটি পাইলট জোনে সম্মত হয়েছে, তবে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। পারস্পরিক সম্মতিতে পরবর্তীতে আরও অঞ্চল যুক্ত হতে পারে।
লেবানন সরকার রাষ্ট্রের একক নিয়ন্ত্রণ পুনর্গঠন করবে এবং সব অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ ও যাচাইকৃত নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করবে, যা মূলত হিজবুল্লাহকে নির্দেশ করে। ইসরাইল জানিয়েছে, এই ধরনের গোষ্ঠীর হুমকি দূর হলে লেবাননে ভবিষ্যতে তাদের সামরিক উপস্থিতির প্রয়োজন থাকবে না। তারা আরও নিশ্চিত করেছে যে লেবাননের প্রতি তাদের কোনো ভূখণ্ডগত লোভ নেই।
চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র লেবাননের পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ঐক্যবদ্ধ করবে। পাশাপাশি, ইসরাইল ও লেবানন একটি যৌথ কর্মীদল গঠন করবে পূর্ণাঙ্গ শান্তি ও নিরাপত্তা চুক্তির খসড়া তৈরির জন্য। যুক্তরাষ্ট্র পৃথকভাবে ১০ কোটি ডলারের মানবিক সহায়তা ও ৩ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ লেবাননের সেনাবাহিনীকে প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে।
ইসরাইল-লেবানন ১৪ দফা চুক্তির খসড়া প্রকাশ, লেবাননের পুনর্গঠনে সহায়তার প্রতিশ্রুতি
হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম সতর্ক করে বলেছেন, ইসরাইলকে অবশ্যই শর্তহীনভাবে লেবানন ত্যাগ করতে হবে। শুক্রবার সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি বলেন, ইসরাইল কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে লেবাননে অবস্থান করছে না, বরং দেশটি দখল করার উদ্দেশ্যেই সেখানে প্রবেশ করেছে। তিনি জানান, হিজবুল্লাহর সংযম দুর্বলতা নয়, বরং এটি ছিল ধৈর্যের কৌশল, যা বিজয়ের একমাত্র পথ।
কাসেম স্পষ্টভাবে জানান, লিটানি নদীর উত্তরে হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণ করবে না এবং অস্ত্র সংক্রান্ত আলোচনা কেবল ইসরাইলের পূর্ণাঙ্গ ও শর্তহীন প্রত্যাহারের পরই হবে। তিনি দাবি করেন, ইসরাইলের আগ্রাসনের লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহকে নির্মূল করা, কিন্তু তারা তা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। কাসেম লেবাননের কর্তৃপক্ষকে শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রভাব প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক আমেরিকা ও ইসরাইলের পরাজয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, যা ইরানের দৃঢ় অবস্থানের ফল।
ইসরাইলের শর্তহীন প্রত্যাহার ও জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানালেন হিজবুল্লাহ প্রধান
দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযানের সময় এক ইসরাইলি সেনা নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। নিহত সেনার নাম মাস্টার সার্জেন্ট (রিজার্ভ) বাসিল সুইদ, যিনি সপ্তম সাঁজোয়া ব্রিগেডের ৭৫তম ব্যাটালিয়নের চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেনাবাহিনী জানায়, অভিযানের সময় তার জ্বালানি ভরার ট্রাক উল্টে গেলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। আহত সেনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, নিহত সেনার পরিবারের কাছে মৃত্যুর খবর পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে শনিবার ভোরে হিজবুল্লাহর হামলায় এক ইসরাইলি সেনা নিহত ও ১৩ জন আহত হন, আর শুক্রবার একই এলাকায় আরেক হামলায় চারজন ইসরাইলি সেনা নিহত হন।
এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলো দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযানে ইসরাইলি সেনা নিহত, আহত আরও একজন
জাতিসংঘ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে দক্ষিণ লেবাননে ১১ হাজারের বেশি আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, ফলে বহু পরিবার এমন অবস্থায় পড়েছে যাদের ফেরার মতো কোনো ঘর অবশিষ্ট নেই। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের জানান, নতুন মূল্যায়নে দেখা গেছে আরও প্রায় ২ হাজার ২০০ ভবন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, চলমান অনিশ্চয়তা এবং বিস্ফোরিত না হওয়া অস্ত্রের ঝুঁকি নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের পথে বড় বাধা হয়ে আছে।
তবুও অনেক মানুষ দক্ষিণ লেবাননে ফিরে যাচ্ছেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এক রাতেই প্রায় ১৯ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন, ফলে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের সংখ্যা কমে প্রায় ৯০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘ আরও জানিয়েছে, ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং প্রয়োজনীয় সেবা পুনরুদ্ধারের অভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
এই প্রতিবেদন দক্ষিণ লেবাননের মানবিক ও পুনর্গঠন সংকটের গভীরতা তুলে ধরেছে।
দক্ষিণ লেবাননে ১১ হাজারের বেশি ঘর ধ্বংস, বহু পরিবার গৃহহীন
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৪৮ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।