লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের পরিকল্পনার প্রথম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানায়, এই ধাপে ইসরাইল সীমান্ত থেকে লিতানি নদী পর্যন্ত অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। সেনাবাহিনী আরও জানায়, ভবিষ্যতে এই নিরস্ত্রীকরণ কার্যক্রম লেবাননের অন্যান্য এলাকায়ও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, লিতানি নদীর দক্ষিণে পুরো এলাকা এখন সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে, যদিও সীমান্তের কাছে ইসরাইলের দখলে থাকা কিছু ভূখণ্ড এর বাইরে রয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরাইলের সঙ্গে ভয়াবহ যুদ্ধে দুর্বল হয়ে পড়লেও ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ লেবাননের অন্য অংশে অস্ত্র সমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইলের লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সরে যাওয়ার কথা থাকলেও দেশটি এখনো সীমান্তবর্তী পাঁচটি কৌশলগত অবস্থান ধরে রেখেছে।
লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ নিষ্ক্রিয় করা এবং হিজবুল্লাহর খনন করা সুড়ঙ্গ শনাক্ত করার কাজ চালিয়ে যাবে, পাশাপাশি ভবিষ্যতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যাতে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে না পারে সে জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসরাইল সীমান্ত থেকে লিতানি নদী পর্যন্ত হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণের প্রথম ধাপ সম্পন্ন
সোমবার দক্ষিণ লেবাননের সিদন জেলায় একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে আনাদোলু জানিয়েছে, হামলাটি আকটনিত–কুনৈত্রা সড়কে ঘটে। ঘটনাটি ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে নতুন শান্তিচুক্তি লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইসরাইল এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণ লেবাননে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসরাইলি সেনারা প্রায় প্রতিদিন লেবাননের আকাশসীমায় হামলা চালাচ্ছে, যা হিজবুল্লাহর সদস্য ও অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে করা হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে গাজার যুদ্ধের পর সীমান্তে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সংঘর্ষের পর দুই দেশ শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেছিল, যেখানে ৪,০০০ জনের বেশি নিহত এবং ১৭,০০০ জন আহত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ইসরাইলি সেনাদের দক্ষিণ লেবানন থেকে সরে যাওয়ার কথা ছিল, তবে তারা আংশিকভাবে সরে গিয়ে সীমান্তের পাঁচটি পোস্টে এখনও সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত, সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি
জাতিসংঘের লেবাননে সাময়িক শান্তিরক্ষা বাহিনী (ইউনিফিল) শুক্রবার জানিয়েছে, ইসরাইলি অবস্থান থেকে শটগান ও মেশিনগানের গুলি দক্ষিণ লেবাননে শান্তিরক্ষীদের খুব কাছাকাছি পড়েছে। কোনো হতাহতের খবর না থাকলেও ইউনিফিল ঘটনাটিকে নিন্দা জানিয়ে একে “উদ্বেগজনক প্রবণতা” হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা ব্লু লাইন সীমান্ত এলাকায় বারবার ঘটছে।
ইউনিফিল জানায়, প্রথম ঘটনায় ১৫টি ছোট অস্ত্রের গুলি শান্তিরক্ষীদের থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে পড়ে। কিছুক্ষণ পর একই এলাকায় আরেকটি টহলের সময় প্রায় ১০০ রাউন্ড মেশিনগানের গুলি তাদের কাছাকাছি পড়ে। শান্তিরক্ষীরা জানান, গুলির উৎস ছিল ব্লু লাইনের দক্ষিণে অবস্থিত ইসরাইলি সেনার অবস্থান। ইউনিফিল জানায়, তারা আগেই ইসরাইলি সেনাদের তাদের টহল কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেছিল এবং পরে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে গুলিবর্ষণ বন্ধের অনুরোধ জানায়।
বিবৃতিতে ইউনিফিল ইসরাইলি সেনাদের প্রতি আহ্বান জানায়, ব্লু লাইনের কাছে শান্তিরক্ষীদের ওপর আক্রমণ বন্ধ করে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা করতে।
দক্ষিণ লেবাননে শান্তিরক্ষীদের কাছে ইসরাইলি গুলিবর্ষণে জাতিসংঘের নিন্দা
হিজবুল্লাহ মহাসচিব শেখ নাইম কাসেম রোববার এক অনুষ্ঠানে ঘোষণা দেন যে, কোনো অবস্থাতেই হিজবুল্লাহ আত্মসমর্পণ করবে না। তিনি ইসরাইলের আকাশ, স্থল ও নৌ আগ্রাসন বন্ধের দাবি জানিয়ে দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। কাসেম বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন ও বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে। তিনি সতর্ক করেন, যদি লেবাননের দক্ষিণ অংশ ইসরাইলের দখলে যায়, তবে দেশের বাকি অংশও বিপদের মুখে পড়বে।
কাসেম বলেন, ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও ইসরাইল লেবাননের ওপর আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, লেবাননকে হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণ মেনে নিতে হবে, নয়তো সার্বভৌমত্ব ও ভূমি পুনরুদ্ধারে জাতীয়ভাবে জেগে উঠতে হবে।
তিনি আরও বলেন, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ একটি ইসরাইল-মার্কিন প্রকল্প, যা লেবাননের নয়, ইসরাইলের স্বার্থে কাজ করছে। তাই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইসরাইলের বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান জানালেন হিজবুল্লাহ নেতা, নিরস্ত্রীকরণ প্রত্যাখ্যান
দক্ষিণ লেবাননে টহল কার্যক্রম চলাকালে ইসরাইলি সেনা অবস্থান থেকে ছোড়া গুলি ও বিস্ফোরণে এক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিল। ঘটনাটি ঘটে বাস্তারা গ্রামে, যেখানে ব্লু লাইন-এর দক্ষিণে অবস্থিত ইসরাইলি অবস্থান থেকে ভারী মেশিনগানের গুলি ইউনিফিল টহল দলের কাছাকাছি আঘাত হানে। কিছুক্ষণ পর কাছাকাছি একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটে। ইউনিফিল জানায়, গুলির শব্দ ও বিস্ফোরণের ফলে এক শান্তিরক্ষী কানে আঘাতজনিত সমস্যায় হালকা আহত হন, তবে কোনো অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
ইউনিফিলের বিবৃতিতে বলা হয়, ব্লু লাইন সংলগ্ন সংবেদনশীল এলাকায় টহলের আগে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে অবহিত করা হয়েছিল। শুক্রবার প্রকাশিত এই বিবৃতির তথ্য আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গাজায় ইসরাইলি যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এক বছরের বেশি সংঘর্ষের পর ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যেখানে চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১৭ হাজার আহত হয়েছিলেন।
দক্ষিণ লেবাননে টহলের সময় ইসরাইলি গুলিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী আহত
ইসরাইলের নিরস্ত্রীকরণের হুমকি প্রত্যাখ্যান করতে লেবানন সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি বলেছে, এই শর্ত মানলে দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হবে। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, হিজবুল্লাহর বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকলেও লেবাননের দখলকৃত অঞ্চল থেকে ইসরাইলি বাহিনী সম্পূর্ণভাবে সরে যায়নি, যা জাতীয় অগ্রাধিকার লঙ্ঘন করছে।
হিজবুল্লাহ অভিযোগ করেছে, দক্ষিণ লেবাননের পাঁচটি সীমান্ত চৌকিতে ইসরাইলি সেনারা এখনো অবস্থান করছে, যা জানুয়ারির প্রত্যাহার চুক্তির পরিপন্থী। সংগঠনটি বলেছে, ইসরাইলি দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকলে প্রতিরোধের অধিকার তাদের রয়েছে এবং এটি বৈধ। অন্যদিকে, ইসরাইল বছরের শেষ নাগাদ হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার শর্তে আক্রমণ বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি যুদ্ধবিরতির পরবর্তী অনিশ্চয়তা ও সীমান্তে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ইসরাইলের আংশিক প্রত্যাহার এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
ইসরাইলি নিরস্ত্রীকরণের হুমকি প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানাল হিজবুল্লাহ, সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ছে
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের সিডন জেলায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। সোমবার আকতনিত–কুনেইত্রা সড়কে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে। সংস্থাটি ঘটনাটিকে ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধবিরতি চুক্তির নতুন লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইসরাইলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দক্ষিণ লেবাননে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইসরাইল প্রায় প্রতিদিনই লেবাননের ভেতরে বিমান হামলা চালাচ্ছে। ইসরাইল বলছে, এসব হামলা হিজবুল্লাহর সদস্য ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ সংঘর্ষের পর দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়, যেখানে ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত ও প্রায় ১৭ হাজার আহত হয়েছিলেন।
যুদ্ধবিরতি অনুযায়ী জানুয়ারিতে ইসরাইলের সেনা দক্ষিণ লেবানন থেকে প্রত্যাহারের কথা থাকলেও তারা এখনো পাঁচটি সীমান্ত চৌকিতে অবস্থান করছে। এতে লেবানন সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে যে, সীমান্তে নতুন করে সংঘাত শুরু হতে পারে।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত ৩, সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ছে
দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে আর্টিলারি ও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী, যা সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। আল-ওয়াজ্জানি ও আল-মাজিদিয়াহ অঞ্চলে গোলাবর্ষণের পাশাপাশি রাস আল-নাকুরা উপকূলে লেবানিজ জেলেদের নৌকার দিকে ইসরাইলি নৌযান থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে। এসব হামলায় সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
লেবানিজ সূত্র ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলাগুলো সীমান্তে সাময়িক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে বিপন্ন করছে। লেবাননের সেনাবাহিনী ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী (ইউএনআইএফআইএল) পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন হামলা অব্যাহত থাকলে সীমান্তে স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যাহত হতে পারে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ, সীমান্তে নতুন উত্তেজনা
ইসরায়েল সোমবার দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে মাউন্ট সাফি, জবা ও জেফতা উপত্যকা অন্তর্ভুক্ত বলে জানিয়েছে লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলাগুলো হিজবুল্লাহর রাদওয়ান বাহিনীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা ও রকেট নিক্ষেপ কেন্দ্র লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও, কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ২০২৪ সালের মার্কিন-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ক্ষোভ বেড়েছে।
এই হামলার কয়েকদিন আগে ইসরায়েল ও লেবানন যুদ্ধবিরতি তদারকির জন্য বেসামরিক দূত পাঠাতে সম্মত হয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আহ্বানের ফল। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন, আর প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। জাতিসংঘ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে অন্তত ১২৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে, যা সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সম্প্রতি বৈরুতে হিজবুল্লাহ কমান্ডার হাইথাম আলি তাবতাবাই নিহত হওয়ার পর এই হামলা নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, অব্যাহত বিমান হামলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন সংঘাতের পথ খুলে দিতে পারে।
ইসরায়েলের নতুন বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভাঙার আশঙ্কা বাড়ছে
ইসরাইল সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে দক্ষিণ লেবাননে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর এলিট রাদওয়ান ফোর্সের অবকাঠামো। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই হামলায় রাদওয়ান ফোর্সের প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে, যা ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতির জন্য ব্যবহৃত হতো। এটি সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর অন্যতম বড় সামরিক অভিযান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইল একাধিকবার লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই হামলা হচ্ছে। ইসরাইল বলছে, এসব অভিযান হিজবুল্লাহর হুমকি দূর করার অংশ, এবং সীমান্তে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেনা মোতায়েন অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক হামলা যুদ্ধবিরতির স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে এবং ইরানসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়াতে পারে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা দুর্বল থাকায় উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর রাদওয়ান ফোর্সের ঘাঁটিতে ইসরাইলের বিমান হামলা
ইসরাইল সোমবার ভোরে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর এলিট রাদওয়ান ফোর্সের প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা কেন্দ্র, যেখান থেকে ইসরাইলবিরোধী অভিযান পরিচালিত হতো বলে দাবি করা হয়েছে। বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে সংঘটিত এই হামলাকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র বলে বর্ণনা করা হচ্ছে।
ইসরাইলি বাহিনী জানায়, হামলার উদ্দেশ্য ছিল সীমান্তবর্তী এলাকায় হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা। ২৭ নভেম্বর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে বৈরুতসহ দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ইসরাইল প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালাচ্ছে। লেবাননের স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যদিও হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই নতুন উত্তেজনা চলমান যুদ্ধবিরতিকে দুর্বল করতে পারে এবং সংঘাতকে লেবাননের গভীরে টেনে নিতে পারে। সীমান্তে ইসরাইল এখনো পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেনা মোতায়েন রেখেছে।
দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর রাদওয়ান ফোর্সের ঘাঁটিতে ইসরাইলের বিমান হামলা
লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর উপপ্রধান শেখ নাঈম কাসেম ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলসহ কোনো শক্তিই হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে পারবে না। ৫ ডিসেম্বর নিহত আলেমদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, হিজবুল্লাহ লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং কোনো অবস্থাতেই আত্মসমর্পণ করবে না।
তিনি হিজবুল্লাহকে দেশপ্রেম, স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, সংগঠনটি লেবাননের ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে কাসেম যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন।
নাঈম কাসেম আরও বলেন, হিজবুল্লাহ সব রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সহযোগিতায় প্রস্তুত এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তিনি শেষে উল্লেখ করেন, হিজবুল্লাহ তাদের দায়িত্ব পালন করেছে, এখন দেশের স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়ার পালা লেবানন সরকারের।
নাঈম কাসেমের ঘোষণা—যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের চাপেও হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র হবে না
চার দশক পর যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে সরাসরি আলোচনায় বসেছে লেবানন ও ইসরাইল। সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ব্লু লাইন এলাকায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয়। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম জানান, এটি কোনও শান্তি আলোচনা নয়, বরং শত্রুতা কমানো, লেবাননের বন্দিদের মুক্তি এবং ইসরাইলি সেনাদের প্রত্যাহার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা। তিনি ২০০২ সালের আরব শান্তি উদ্যোগের প্রতি লেবাননের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন, যেখানে ১৯৬৭ সালে দখল করা ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলের প্রত্যাহারের বিনিময়ে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রস্তাব রয়েছে। বৈঠকে বেসামরিক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তি দীর্ঘমেয়াদি সংলাপের ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরাইলি সরকারের মুখপাত্র একে ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ হিসেবে দেখেন। যুক্তরাষ্ট্র দুই পক্ষকেই কমিটির কার্যক্রম ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের বাইরে সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে ৪০ বছর পর লেবানন-ইসরাইলের সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর উপমহাসচিব নাঈম কাসেম ঘোষণা দিয়েছেন, ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত শীর্ষ সামরিক কমান্ডার হাইথাম আলী তাবাতাবাইয়ের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবে। ২৩ নভেম্বর বৈরুতের কাছে ইসরাইলের হামলায় তাবাতাবাই নিহত হন। ২৭ নভেম্বর টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে কাসেম বলেন, এই হত্যাকাণ্ড ‘স্পষ্ট আগ্রাসন ও নৃশংস অপরাধ’, যার জবাব দেওয়ার অধিকার হিজবুল্লাহর আছে। তিনি বলেন, কখন প্রতিশোধ নেওয়া হবে, তা হিজবুল্লাহ নিজেই নির্ধারণ করবে। নতুন যুদ্ধের সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিয়ে কাসেম লেবাননকে নিজস্ব সেনাবাহিনী ও জনগণের ওপর নির্ভর করে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পোপ লিওর আসন্ন লেবানন সফর শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে ইসরাইলি মুখপাত্র আভিচায় আড্রেয়ি দাবি করেন, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়।
ইসরাইলি হামলায় কমান্ডার নিহতের প্রতিশোধ নেবে হিজবুল্লাহ, লেবাননে উত্তেজনা বৃদ্ধি
ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম বর্ষপূর্তির দিনে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থা জানায়, জেজিন এলাকার আল-মাহমুদিয়া ও আল-জারমা অঞ্চলে একাধিক হামলা হয়েছে। ইসরাইলি বাহিনী জানায়, এসব হামলায় হিজবুল্লাহর অবকাঠামো, অস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, সামরিক চৌকি ও অস্ত্রাগার ধ্বংস করা হয়েছে। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীর সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতেই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি ইসরাইলের। ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, হিজবুল্লাহকে লিতানি নদীর উত্তরে সরে যেতে বলা হয়েছিল, তবে সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। লেবানন সরকার চলতি বছরের শেষ নাগাদ দক্ষিণাঞ্চল থেকে হিজবুল্লাহর সব সামরিক অবকাঠামো অপসারণের পরিকল্পনা করেছে। ইসরাইল জানিয়েছে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
যুদ্ধবিরতির বর্ষপূর্তিতে লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থানে ইসরাইলের নতুন বিমান হামলা
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলি দাহিয়েহ জেলায় ইসরাইলি বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর চিফ অব স্টাফ হাইথাম আলী আল-তাবতাবাইসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। রবিবার ইসরাইলি সেনাবাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, আল-তাবতাবাই সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। আরব নিউজ তাকে হিজবুল্লাহর দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় আরও ২৮ জন আহত হয়েছেন। হিজবুল্লাহ তাদের নেতার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছে, ইসরাইল এ হামলার মাধ্যমে একটি ‘গুরুতর সীমারেখা’ অতিক্রম করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় কার্যকর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই হামলা চালানো হয়। ইসরাইলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, হিজবুল্লাহ সামরিক শক্তি পুনর্গঠন, অস্ত্র চোরাচালান ও বিস্ফোরক ড্রোন উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে, যা নতুন করে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।
বৈরুতে ইসরাইলি হামলায় হিজবুল্লাহ নেতা হাইথাম আল-তাবতাবাই নিহত, যুদ্ধবিরতি হুমকির মুখে
দক্ষিণ লেবাননের মারজায়উন জেলায় জলপাই চাষিরা ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর এক বছরের যুদ্ধের পর জীবিকা পুনর্গঠনে সংগ্রাম করছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি বাহিনী সীমান্ত এলাকায় ভূমি সমতল করে প্রায় ৫৬ হাজার জলপাই গাছ উপড়ে ফেলে তথাকথিত বাফার জোন তৈরি করে। হুলা ও ব্লিদার কৃষক খায়রাল্লাহ ইয়াকুব ও হুসেইন দাহের এখনো ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণের ঝুঁকিতে তাদের বাগানে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ২৭০ জনেরও বেশি লেবানিজ নিহত হয়েছে। এফএওর হিসাব অনুযায়ী, জলপাই খাতে ক্ষতির পরিমাণ ২৩৬ মিলিয়ন ডলার। কৃষকরা গবাদিপশু ও যন্ত্রপাতি হারিয়েছেন, জলপাই তেল উৎপাদন প্রায় বন্ধ। সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিজন কৃষককে সর্বোচ্চ ২,৫০০ ডলার ক্ষতিপূরণ ও ২ লাখ জলপাই চারা রোপণের, তবে সহায়তা এখনো সীমিত। পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে শতাব্দীপ্রাচীন কৃষি ঐতিহ্য হারানোর আশঙ্কা করছেন তারা।
ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের পর বিপর্যস্ত জলপাই চাষিরা পুনর্গঠনে বিপদ ও অবহেলার মুখে
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সাইদার কাছে আইন আল-হিলওয়ে ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) একটি মসজিদের পার্কিং লটে থাকা গাড়িতে হামলাটি চালানো হয়। ইসরাইল দাবি করেছে, হামাসের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামাস এ দাবি অস্বীকার করে বলেছে, শিবিরে তাদের কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নেই এবং এ হামলা নিরীহ ফিলিস্তিনি জনগণ ও লেবাননের সার্বভৌমত্বের ওপর বর্বর আগ্রাসন। ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন এবং আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর আগে একই দিনে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের অন্য এলাকায় ইসরাইলি হামলায় আরও দুজন নিহত হন। এই হামলাগুলো সীমান্ত অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
লেবাননে ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় ১৩ নিহত, সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি
লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী একটি মেরকাভা ট্যাংক থেকে তাদের টহল দলের দিকে গুলি চালায়, যার ভারী মেশিনগানের গুলি মাত্র পাঁচ মিটার দূরে পড়ে। কেউ আহত হননি। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, খারাপ আবহাওয়ার কারণে শান্তিরক্ষীদের সন্দেহভাজন হিসেবে ভুল শনাক্ত করা হয়েছিল এবং কেবল সতর্কতামূলক গুলি চালানো হয়। ইউনিফিল ঘটনাটিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাবের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে, যা দক্ষিণ লেবাননে শুধুমাত্র জাতিসংঘ ও লেবাননের সেনাবাহিনীর উপস্থিতি অনুমোদন করে। প্রায় ৩০ মিনিট পর শান্তিরক্ষীরা এলাকা ত্যাগ করতে সক্ষম হন। গত নভেম্বরের যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। লেবানন ইসরায়েলকে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে, অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে তারা হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের লক্ষ্য করছে। ইউনিফিল ইসরায়েলকে শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী আচরণ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
লেবাননে যুদ্ধবিরতি উত্তেজনার মধ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের কাছে ইসরায়েলি ট্যাংকের ভুলবশত গুলি
জাতিসংঘের লেবাননে অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী (ইউনিফিল) জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নির্মিত একটি প্রাচীর ব্লু লাইন অতিক্রম করেছে, যা ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কার্যত সীমান্ত হিসেবে বিবেচিত। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দ্যুজারিক জানান, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) নির্মিত কংক্রিট প্রাচীরের কারণে লেবাননের প্রায় ৪,০০০ বর্গমিটার এলাকা স্থানীয় জনগণের জন্য অপ্রবেশযোগ্য হয়ে পড়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব ইয়ারুন এলাকায় নির্মাণাধীন আরেকটি অংশও লেবাননের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে বলে ইউনিফিল জানায়। সংস্থাটি ইসরায়েলকে প্রাচীর অপসারণের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব এবং লেবাননের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, এটি ২০২২ সালে শুরু হওয়া সীমান্ত সুরক্ষা প্রকল্পের অংশ। ১৯৭৮ সাল থেকে কার্যরত ইউনিফিল বর্তমানে ৫০টি দেশের ১০,০০০-এরও বেশি সেনা নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
জাতিসংঘ জানায় ইসরায়েলি প্রাচীর লেবাননে প্রবেশ করে সার্বভৌমত্ব ও জাতিসংঘ প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছে
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৮৩ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।