দক্ষিণ লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী বাহিনী ইউএনআইএফআইএলের ম্যান্ডেট ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার আগে নতুন সামরিক ও বেসামরিক মিশন গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইইউর কূটনৈতিক সংস্থা ইইএএস তিন বছরের একটি মিশনের প্রস্তাব দিয়েছে। এর উদ্দেশ্য লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীকে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া, পাশাপাশি সীমান্ত ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় সহায়তা করা। ইইউ কর্মকর্তাদের মতে, এটি ইউএনআইএফআইএলকে সরাসরি প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নয়।
প্রতিদিনের কাছাকাছি ইসরাইলি হামলা, লেবাননের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড দখলে থাকা এবং প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার মানুষের বাস্তুচ্যুতির প্রেক্ষাপটে বিষয়টি সামনে এসেছে। চলতি সপ্তাহে আয়ারল্যান্ডে ইইউর প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে লেবানন আলোচনায় আসতে পারে। ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস মে মাসে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তায় ইউরোপীয় মিশন গঠনের প্রস্তুতির কথা বললেও ইউএনআইএফআইএলের পুরো দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে সংশয় জানান।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইউএনআইএফআইএল চলে গেলে সাময়িক নিরাপত্তাশূন্যতার ঝুঁকি গুরুতর হতে পারে। জুনে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ৯০০ থেকে ৩ হাজার সেনার তিনটি বিকল্প দেন; তখন ইউএনআইএফআইএলে প্রায় ৭ হাজার সেনা ছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, সম্ভাব্য নতুন মিশনের সাফল্য বাহিনীর ধরন নয়, বরং উভয় পক্ষের গ্রহণযোগ্য বিস্তৃত রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করবে।
২০২৬ সালে ইউএনআইএফআইএলের মেয়াদ শেষের আগে লেবাননে নতুন ইইউ মিশন নিয়ে আলোচনা
যুদ্ধ ও অস্থিরতার মধ্যেও লেবাননের বৈরুতের দক্ষিণ-পূর্বে পাহাড়ি এলাকা মাআসের আল-শুফে একটি প্রাচীন রোমান মন্দিরের স্তম্ভ ও ভিত্তির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা, মন্দিরটি খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দী থেকে খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীর মধ্যে নির্মিত হয়েছিল। মন্দিরকে কেন্দ্র করে সে সময় একটি বড় স্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লেবাননের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আঞ্চলিক প্রত্নতত্ত্ব কর্মকর্তা মিরিয়াম জিয়াদ জানান, পরবর্তী সময়ে ১২ থেকে ১৩ শতকের মধ্যে ক্রুসেডাররা মন্দিরটির স্থানে একটি দুর্গ নির্মাণ করেছিল। ফলে একই স্থানে রোমান যুগ ও মধ্যযুগের ইতিহাসের নিদর্শন মিলেছে। স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষ ২০১৭ সালে পাহাড়ে বড় বড় পাথরের ব্লক খুঁজে পায়। পাঁচ বছর পর একটি ইতালীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ববিদদের দল সেখানে খনন শুরু করে।
প্রত্নতত্ত্ববিদরা শিগগিরই মাআসের আল-শুফে আবার খননকাজ শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন। বালবেকেও রোমান যুগের বিশাল ও অনেকটাই সংরক্ষিত মন্দির কমপ্লেক্স রয়েছে। তবে ইসরাইল-হিজবুল্লাহর সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থলে খনন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
বৈরুতের কাছে রোমান মন্দিরের নিদর্শন, সংঘাতে দক্ষিণের সংরক্ষণ কাজ ব্যাহত
হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে হওয়া কাঠামোগত চুক্তি আবারও প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন, ইরান-সমর্থিত তার গোষ্ঠী আত্মসমর্পণ করবে না। ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পর শুক্রবার আল-মানার টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে তিনি চুক্তিটি বাতিলের আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সরাসরি আলোচনার পর জুনের শেষ দিকে চুক্তিটি হয়। এতে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা, দক্ষিণ লেবানন থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা রয়েছে; শুরুতে কিছু ‘পরীক্ষামূলক এলাকায়’ প্রক্রিয়াটি চালুর পরিকল্পনা আছে। কাসেম চুক্তিকে অবৈধ, অপমানজনক ও লেবাননের সার্বভৌমত্বের জন্য ধ্বংসাত্মক বলেন এবং পরীক্ষামূলক এলাকা ও যাচাইব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করেন।
রোমে চলতি মাসের শুরুতে হওয়া আলোচনার পর এক লেবাননি কর্মকর্তা জানান, বাস্তবায়ন তদারকির জন্য সম্ভাব্য কয়েকটি দেশের সংক্ষিপ্ত তালিকা নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে নতুন দফা আলোচনা হওয়ার কথা, তবে তারিখ ঘোষণা হয়নি। শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননে, নাবাতিয়েহসহ কয়েকটি স্থানে ইসরাইলি বিমান হামলার খবর দিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা। ইসরাইলি সেনারা সীমান্তসংলগ্ন প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীর নিরাপত্তা অঞ্চলে অবস্থান করছে।
হিজবুল্লাহপ্রধান কাসেম লেবানন-ইসরাইল চুক্তি ও নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, লেবাননের অনুরোধে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী শান্তিরক্ষা বাহিনী ইউএনআইএফআইএলের ম্যান্ডেট বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা। যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র সদস্য হিসেবে এ অনুরোধের বিরোধিতা করছে। ইউএনআইএফআইএলের বর্তমান ম্যান্ডেট চলতি বছরের শেষ দিকে শেষ হওয়ার কথা। বাহিনীটি দক্ষিণ লেবাননে, বিশেষ করে ইসরাইল সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মিশনের মেয়াদ বাড়ানোর বিরোধিতা করছে। তাদের অভিযোগ, হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণে ইউএনআইএফআইএল কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিরাপত্তা পরিষদের অন্য সব সদস্য লেবাননের অনুরোধকে সমর্থন করছে। দক্ষিণ লেবাননে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার পাশাপাশি ইসরাইলের সীমান্তসংলগ্ন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণেও ভূমিকা পালন করে ইউএনআইএফআইএল।
২০২৫ সালের আগস্টে নিরাপত্তা পরিষদ ইউএনআইএফআইএলের কার্যক্রম ধাপে ধাপে বন্ধ করে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ মিশন গুটিয়ে নেওয়ার পক্ষে ভোট দেয়। পরে লেবাননের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে এবং ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে লেবানন ম্যান্ডেট বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে। মিশনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তিই এখন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লেবাননে ইউএনআইএফআইএলের মেয়াদ বাড়াতে সমর্থন, বিরোধিতায় একা যুক্তরাষ্ট্র
হিজবুল্লাহ মহাসচিব নাইম কাসেম ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া বলে উল্লেখিত একটি কাঠামো চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন। দলটির আল-মানার টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত ভাষণে তিনি বলেন, তাঁর দল এ চুক্তির বিরুদ্ধে এবং এর পতন চায়। তিনি আরও বলেন, হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা আত্মসমর্পণ করবেন না।
কাসেমের ভাষ্য অনুযায়ী, কাঠামো চুক্তিটি অবৈধ, বেআইনি ও অপমানজনক। তিনি এটিকে লেবাননের সার্বভৌমত্বের জন্য ধ্বংসাত্মক বলেও বর্ণনা করেন। ভাষণে তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, হিজবুল্লাহ মাথা উঁচু রাখবে এবং আত্মসমর্পণ করবে না।
হিজবুল্লাহ মহাসচিব বলেন, তাঁর দল ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নকে সমর্থন করেছিল। ওই যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য ছিল ইসরাইলের সঙ্গে আগের যুদ্ধের অবসান ঘটানো। তবে সূত্রে চুক্তির শর্ত, এর বিস্তারিত বা ইসরাইল ও লেবাননের কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি।
ইসরাইল-লেবানন কাঠামো চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে আত্মসমর্পণ না করার ঘোষণা কাসেমের
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী ফসফরাস গোলা, বিমান হামলা ও ভারী কামানের গোলাবর্ষণ করেছে। ভোরে মানসুরি, বেইত আল-সাইয়াদ ও মাজদাল জউনে ভারী গোলাবর্ষণের খবর আসে এবং রাতভর ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটে। বেইত আল-সাইয়াদে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে; সংস্থাটির দাবি, গ্রামের প্রায় কোনো বাড়িই ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়নি।
হাদাথা, বেইত ইয়াহুন ও আইতা আল-জাবালেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ লেবাননের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের শহর ও গ্রামের আকাশে ইসরাইলি ড্রোন উড়তে দেখা যায়। নাবাতিয়েহ আল-ফাওকার উত্তরে আলি আল-তাহের পাহাড় এলাকায় ইসরাইলি যুদ্ধবিমান দুটি হামলা চালায়। দাওহাত কাফর রেম্মান, দাবশা পাহাড় ও আলি আল-তাহেরের বনাঞ্চলেও কামানের গোলাবর্ষণের খবর রয়েছে, যেখানে ফসফরাস গোলা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
দক্ষিণ লেবাননে ফসফরাস ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো আগেও উদ্বেগ জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাদা ফসফরাসের ব্যবহার বেসামরিক মানুষের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে এ অস্ত্র ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে একটি নিরাপত্তা কাঠামো কার্যকর থাকার কথা থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে হামলা ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় ফসফরাস গোলা ব্যবহারের অভিযোগ
চলমান ইসরাইল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধ লেবাননের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা দেওয়ায় ২০২৬ সালে দেশটির অর্থনীতি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, পর্যটন খাতে ধস, ভোগব্যয় কমে যাওয়া, পণ্য সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন, নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি এই সংকোচনের প্রধান কারণ। লেবাননের কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ইসরাইলি বিমান হামলা ও স্থল অভিযানে ৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।
২০১৯ সাল থেকে লেবানন গুরুতর আর্থিক সংকটে রয়েছে। সর্বশেষ সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বব্যাংকের প্রাথমিক হিসাবে ২০২৫ সালে প্রকৃত জিডিপি ৪ দশমিক ২ শতাংশ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল, যা আর্থিক সংকট শুরুর পর সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি হতো। সংস্থাটি জানিয়েছে, সরবরাহব্যবস্থার বাধা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও তেলের দাম বাড়ায় চলতি বছর মূল্যস্ফীতি ১৭ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে; এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও কমবে।
বিশ্বব্যাংকের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পরিচালক দাহলিয়া খলিফা আস্থা পুনরুদ্ধার, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের অর্থায়নের জন্য সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন ও সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। গত সপ্তাহে পার্লামেন্ট ব্যাংক পুনর্গঠন আইনের সংশোধনী অনুমোদন করেছে। আইএমএফ এটিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেছে এবং আগামী মাসে বৈরুতে অর্থনৈতিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু হবে।
যুদ্ধের প্রভাবে ২০২৬ সালে লেবাননের অর্থনীতি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমতে পারে
লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থা এনএনএর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোরে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী ভারী গোলাবর্ষণ ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। ২২ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে আল-মানসুরি শহর, বাইত আল-সাইয়াদের আশপাশ এবং মাজদাল জৌনের উপকণ্ঠে কামানের গোলা নিক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।
এনএনএ জানিয়েছে, রাতভর ওই তিন শহর ও গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কোনো বাড়িই অক্ষত ছিল না। হাদ্দাথা, বেইত ইয়াহুন ও আইতা আল-জাবাল এলাকাতেও একই ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে। কাছাকাছি উপত্যকাগুলোর দিকে মেশিনগানের গুলি ছোড়ার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
একজন সংবাদদাতা জানান, দক্ষিণ লেবাননের আলি আল-তাহির উচ্চভূমির আশপাশে ইসরাইলি বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন শহর ও গ্রামের আকাশে ইসরাইলি ড্রোনের অবিরাম উড্ডয়নের খবরও পাওয়া গেছে। এসব হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি গোলাবর্ষণ, বিমান হামলা ও ড্রোন উড্ডয়নের খবর
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি আগ্রাসনে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৩৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। ২ মার্চ দক্ষিণ লেবাননে হামলা শুরুর পর থেকে এসব প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে ১২ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
নিহতদের মধ্যে ৩৯৩ জন নারী এবং ২৫৭ জন শিশু রয়েছে। ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১৩৫ জন স্বাস্থ্যকর্মীও প্রাণ হারিয়েছেন। চলমান হামলার মধ্যে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
শনিবার দেইর এজ-জাহরানি ও আনসার শহরে ইসরাইলি হামলায় শিশুদেরসহ আরও ১১ জন নিহত হয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এই হতাহতের পরিসংখ্যান দক্ষিণ লেবাননে ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া আগ্রাসনের সময়কালকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
ইসরাইলি হামলায় লেবাননে নিহত ৪,৩৪৬; আহত ১২ হাজারের বেশি
দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ জেলার কাছে ও লিতানি নদীর উত্তরে অবস্থিত আলি আল-তাহের রিজ ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর নতুন সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। গত ২ মার্চ থেকে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার পর কৌশলগত এই উচ্চভূমি ঘিরে উত্তেজনা বেড়েছে। রিজটির উচ্চতা ও অবস্থান এটিকে নাবাতিহ-লিতানি এলাকার চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
আলি আল-তাহের বিউফোর্ট ক্যাসল ও আশপাশের কৌশলগত উচ্চভূমির সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও নজরদারি ব্যবস্থার অংশ। এই অবস্থানগুলো পরস্পরকে নজরদারি ও গোলাবর্ষণের সক্ষমতা দিতে পারে। ২০০০ সালে দক্ষিণ লেবানন থেকে প্রত্যাহারের আগে ইসরাইলি বাহিনী ওই এলাকায় অবস্থান করেছিল। পরে হিজবুল্লাহ এটিকে নিজেদের প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর অংশ হিসেবে গড়ে তোলে।
মে মাসে বিউফোর্ট ক্যাসল ও আশপাশের এলাকা দখলের পর ইসরাইল আলি আল-তাহেরসহ কয়েকটি কৌশলগত অবস্থান নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে। ইসরাইলের দাবি, রিজটির নিচে হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার ও ভূগর্ভস্থ অস্ত্র স্থাপনা রয়েছে। লেবানন সরকার ও হিজবুল্লাহ ইসরাইলি উপস্থিতিকে দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে মনে করে।
আলি আল-তাহের রিজ দক্ষিণ লেবাননের নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র
দক্ষিণ লেবাননে সাম্প্রতিক ইসরাইলি বিমান হামলার পর ইসরাইলকে ‘উপযুক্ত জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হিজবুল্লাহ। ১৬ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংগঠনটি লেবাননের ওপর হামলা, যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন এবং সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা আর মেনে নেবে না। একই সঙ্গে ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা বন্ধ করতে লেবানন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।
হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইলকে বুঝতে হবে যে লেবাননের বিষয়ে হামলা ও হস্তক্ষেপের সুযোগ আর নেই। সংগঠনটির অভিযোগ, লেবানন কর্তৃপক্ষ ইসরাইলের সঙ্গে ‘অপমানজনক সরাসরি আলোচনার পথে’ এগোচ্ছে এবং ইসরাইলকে বিনা মূল্যে ছাড় দিচ্ছে। এ ধরনের আলোচনা ও ছাড় বন্ধ করার দাবিও জানিয়েছে হিজবুল্লাহ।
এর আগে শনিবার আনসার ও দেইর আল-জাহরানি এলাকায় ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন বলে লেবাননের পক্ষ জানিয়েছে; নিহতদের মধ্যে তিন শিশু রয়েছে। ইসরাইলি বাহিনী বলেছে, হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ও কমান্ড-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তারা ব্যাডার ইউনিটের জ্যেষ্ঠ কমান্ডার আবু হাসান আলা এবং আনসারে কমান্ডার আলি সামির আল-হাজ হাসানকে হত্যার দাবিও করেছে।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলার পর পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি হিজবুল্লাহর
লেবাননে ইসরাইলের চলমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আরব লীগ। শনিবারের হামলায় ১১ জন নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে সংস্থাটি ঘটনাকে ‘বিপজ্জনকভাবে উত্তেজনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। আরব লীগের মতে, এই হামলা চলমান সংঘাত নিরসনের সব প্রচেষ্টাকে ভেস্তে দেওয়ার হুমকি সৃষ্টি করছে।
আরব লীগের মুখপাত্র বলেন, ইসরাইলের নীতি ও কার্যকলাপ সংঘাত দীর্ঘায়িত করা, আলোচনায় বাধা দেওয়া এবং নতুন একটি বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার অভিপ্রায় প্রকাশ করে। তিনি এই বাস্তবতাকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও প্রত্যাখ্যাত বলে উল্লেখ করেন। এর আগে লেবানন ও ইরান সরকারও শনিবারের হামলার নিন্দা জানিয়েছিল।
মুখপাত্র সতর্ক করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়—বিশেষত ওয়াশিংটন—ইসরাইলের ‘যুদ্ধযন্ত্র’ বন্ধ না করলে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব মানতে বাধ্য না করলে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ২০০৬ সালে গৃহীত প্রস্তাবটিতে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে শত্রুতার পূর্ণ অবসানের আহ্বান জানানো হয়। এতে হিজবুল্লাহর সব হামলা ও ইসরাইলের সব আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধের কথা বলা হয়েছে।
লেবাননে ইসরাইলি হামলাকে বিপজ্জনক উত্তেজনা বলে নিন্দা আরব লীগের
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে হামলায় হিজবুল্লাহর ব্যাডার ইউনিটের জ্যেষ্ঠ কমান্ডার আবু হাসান আলা নিহত হয়েছেন। ১৬ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার এক্সে দেওয়া পোস্টে ইসরাইল এ দাবি জানায়। তাদের ভাষ্য, আলা দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতিতে ভূমিকা রাখছিলেন, যার মধ্যে বিস্ফোরক ড্রোন হামলার পরিকল্পনাও ছিল।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে আনসার গ্রামে হামলায় হিজবুল্লাহ কমান্ডার আলি সামির আল-হাজ হাসান নিহত হয়েছেন বলে দাবি করে ইসরাইল। ইসরাইলি বাহিনীর মতে, তিনি রাদওয়ান বাহিনীর ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ছিলেন এবং আনসারের একটি কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তবে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম বলেন, নিহতরা কোনো সামরিক স্থাপনায় ছিলেন না; নারী ও শিশুরাও সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছিল না।
শনিবার আনসারে একটি বাড়িতে হামলায় সাতজন এবং দেইর আল-জাহরানিতে পৃথক হামলায় আরও চারজন নিহত হয় বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুই নারী ও তিন শিশু ছিল এবং ১৯ জন আহত হয়। হিজবুল্লাহ উপযুক্ত জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন হামলাকে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা বলেছেন।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় দুই হিজবুল্লাহ কমান্ডার নিহতের দাবি
দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলে ইসরাইলি হামলায় একই পরিবারের সদস্যসহ অন্তত ১১ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ইরান। ১৬ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইরান বলেছে, ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় সব ধরনের উপায় ব্যবহারের আইনি ও বৈধ অধিকার লেবাননের রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই একই পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে চালানো হামলাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, লেবাননের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করে ইসরাইলের ধারাবাহিক আগ্রাসনের অংশ হিসেবেই এসব হামলা ঘটছে। তিনি দখল করা লেবাননি ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি বাহিনীর অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানান এবং লেবাননের জনগণের ‘সম্মানজনক প্রতিরোধের’ প্রশংসা করেন।
বাঘাই আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করেন। তিনি লেবাননের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় ইরানের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেন। হিজবুল্লাহ হামলাটিকে ‘বর্বর গণহত্যা’ বলেছে। এদিকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার চাপ দিচ্ছে; হিজবুল্লাহ এ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে চুক্তিটিকে সংবিধানবিরোধী বলছে।
নাবাতিয়েহ হামলার নিন্দা করে লেবাননের আত্মরক্ষার অধিকার সমর্থন করল ইরান
দক্ষিণ লেবাননে শনিবার ইসরাইলের কয়েক দফা বিমান হামলায় দুই নারী ও তিন শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, আনসার গ্রামে একটি বাড়িতে ইসরাইলি যুদ্ধবিমানের হামলায় সাতজন নিহত হন। দেইর আল-জাহরানি গ্রামে পৃথক হামলায় আরও চারজন নিহত হন। ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিকে লেবাননে অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা বলা হচ্ছে।
লেবাননের সরকারি বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননজুড়ে আরও কয়েক দফা বিমান হামলা হয়েছে এবং গত দুই মাসে লেবাননের ভূখণ্ডের সবচেয়ে গভীরে হামলাও এটি। ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলেছে, আনসারে হিজবুল্লাহর রাদওয়ান বাহিনীর একটি কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এতে রাদওয়ান বাহিনীর ব্যাটালিয়ন কমান্ডার আলি সামির আল-হাজ হাসান নিহত হয়েছেন।
ইসরাইলি বাহিনী বলেছে, হামলার সময় হাসানের পরিবারের সদস্যরা ওই স্থানে ছিলেন, তবে তারা লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না। হিজবুল্লাহ হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার কথা বলেছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম দাবি করেন, নিহতরা কোনো সামরিক স্থাপনায় ছিলেন না। প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন হামলাকে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় দুই নারী ও তিন শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত
দক্ষিণ লেবাননের আনসার শহরে ইসরাইলি বিমান হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে। শনিবার ভোরে হামলাটি চালানো হয়। প্রতিবেদনটি ১৫ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত ও পরে হালনাগাদ করা হয়েছে।
এর আগে কুদস নিউজ নেটওয়ার্ক জানায়, ইসরাইল নাবাতিয়াহ জেলার আনসারের উপকণ্ঠ এবং নাবাতিয়াহ আল-ফাওকার কাছাকাছি এলাকায় হামলা চালিয়েছে। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ভোরে ইসরাইলি সেনারা বিন্ট জেবাইলের বেশ কয়েকটি বাড়ি উড়িয়ে দিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কুনিন-সাফ আল-হাওয়া সড়কের পাশের আবাসিক এলাকায় ব্যাপক গুলিবর্ষণ করেছে ইসরাইলি বাহিনী। টায়ার জেলার আল-মানসুরি শহরের আল-মাশা’ মহল্লাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। আলি আল-তাহের পাহাড় এলাকার দখল নিতে ইসরাইলি বাহিনী অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননের আনসারে ইসরাইলি বিমান হামলায় সাতজন নিহত
হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাইম কাসেম বলেছেন, দখলদার ইসরাইল কেবল শক্তির ভাষাই বোঝে। ১৫ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৬ সালের যুদ্ধে ইসরাইলের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর ‘বিজয়ের’ বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।
কাসেমের ভাষ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ দুজন ইসরাইলি সেনাকে বন্দি করার পর ২০০৬ সালের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তিনি বলেন, এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল ইসরাইলি কারাগারে থাকা অপহৃত লেবানিজদের মুক্তি নিশ্চিত করা।
হিজবুল্লাহ মহাসচিব বলেন, লেবানিজ বন্দিদের মুক্তির জন্য যোগাযোগ ও কূটনৈতিক সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ইসরাইলি সেনাদের অপহরণ করা হয়। তিনি বলেন, ইসরাইলের কারাগারে থাকা বন্দিদের পরিত্যাগ না করার প্রতিশ্রুতি পূরণে এই পদক্ষেপ প্রয়োজনীয় ছিল।
২০০৬ যুদ্ধের বার্ষিকীতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে শক্তির ভাষার কথা বললেন নাইম কাসেম
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করেছেন যে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি পরিকল্পনাকে ক্ষুণ্ন করছে। ১৩ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি বলেন, এ উপস্থিতি লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে চুক্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যও উপযোগী নয়।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে লেবানন ও ইসরাইল একটি কাঠামো চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তিতে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের কথা বলা হয়।
এর আগে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ বলেছিলেন, দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ ইসরাইলি সেনারা অবস্থান করবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তা এর জবাবে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করে সব পক্ষ তাদের সম্মত কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, ইসরাইল স্পষ্ট করেছে যে লেবাননে তাদের কোনো ভূখণ্ডগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনার স্থায়ী উপস্থিতি শান্তি পরিকল্পনা ক্ষুণ্ন করছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা
লেবাননের পার্লামেন্ট বুধবার বহুল প্রতীক্ষিত সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করেছে। ১৩ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আইনের ফলে হাজার হাজার বন্দি ও পলাতক ব্যক্তি উপকৃত হবেন। পার্লামেন্ট অধিবেশনেই আইনটি পাস হয় বলে জানানো হয়েছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরে আইনটি পাসের দাবি জানিয়ে আসছিল। এর অন্যতম লক্ষ্য কারাগারের অতিরিক্ত ভিড় কমানো, যেখানে বহু বন্দি বছরের পর বছর বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকারের কার্যালয় সাধারণ ক্ষমা প্রদান এবং ব্যতিক্রমীভাবে নির্দিষ্ট কিছু সাজার মেয়াদ কমানোর জন্য খসড়া আইন অনুমোদনের ঘোষণা দিয়েছে।
তবে কতজন ব্যক্তি এই আইনের সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য দেয়নি। ২০২৪ সালে সিরিয়ার সাবেক শাসক বাশার আল-আসাদের পতনের পর সাধারণ ক্ষমার বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। কারণ, লেবাননের অনেক বন্দি সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট ঘটনার কারণে কারাবন্দি ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লেবাননের পার্লামেন্ট সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করেছে; এতে হাজারো বন্দি ও পলাতক উপকৃত হতে পারেন
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় পরিকল্পিতভাবে বনাঞ্চল, কৃষিজমি ও বসতিতে আগুন লাগানোর অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, সিভিল ডিফেন্স কর্মী ও পরিবেশবাদীরা। ১৩ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার খিয়াম এলাকার বাইরে একটি বনাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনী ফ্লেয়ার ছোড়ার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নাবাতিয়েহ অঞ্চলের সিভিল ডিফেন্স প্রধান হুসেইন ফাকিহ বলেন, আগুন নেভাতে যাওয়া কর্মীরাও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছেন।
১৭ জুন হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দক্ষিণ লেবাননে অগ্নিকাণ্ড অব্যাহত থাকার কথা উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ফাকিহের দাবি, সীমান্ত ও যুদ্ধক্ষেত্রসংলগ্ন এলাকার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ জমি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত, যদিও তাঁর কাছে সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। তিনি অগ্নিবোমা, দাহ্য পদার্থবাহী ছোট ড্রোন, সাদা ফসফরাস শেল ও ইলুমিনেশন ফ্লেয়ার ব্যবহারের অভিযোগ করেন। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর কাছে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলেও তারা জবাব দেয়নি।
কাফরশুবায় আগুন নেভাতে অনুমতির সীমাবদ্ধতার কথাও জানান সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তা সমীর হারদান। পরিবেশকর্মীরা বন ধ্বংসকে জীববৈচিত্র্য ও জীবিকার দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হিসেবে দেখছেন। ইয়ারুনের মেয়র হাফেজ ঘাসামের ভাষ্য, উপগ্রহচিত্রে গ্রামের ৯০০ বাড়ির মধ্যে ৮৮০টি বুলডোজারে ধ্বংস হওয়ার প্রমাণ দেখা গেছে; জলপাই ও ফলের বাগানেও আগুন দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
দক্ষিণ লেবাননে আগুন ও ধ্বংসে বন, কৃষিজমি ও বসতির ক্ষতির অভিযোগ
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ২২৩ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।