ইরানের সেনাবাহিনী কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বড় সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছে। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘কামিকাজে’ বা আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল ক্যাম্প আরিফজানের প্রশাসনিক ভবন ও দিকনির্ণয় অ্যান্টেনা, ক্যাম্প আল-আদিরির হেলিকপ্টার পার্কিং এলাকা এবং আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটির সেনা আবাসন।
বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন বাহিনীর তৎপরতায় অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে এবং ইসলামিক রিপাবলিকের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। এর আগে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) আহমেদ আল-জাবের ও আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে মার্কিন স্থাপনায় হামলার দাবি করেছিল।
হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের তিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরান
২০২৬ সালের ২০ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি আগাম সতর্কীকরণ রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। পৃথক হামলায় একটি বিমান সরঞ্জাম গুদাম ও এমকিউ-৯ ড্রোন রাখার হ্যাঙ্গারে আঘাত হানা হয়, এতে কয়েকটি বিমানে আগুন ধরে যায়।
এদিকে, ইরান পশ্চিমাঞ্চলীয় কারমানশাহ প্রদেশের এসলামাবাদ-ই ঘার্ব এলাকায় একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। মেহর নিউজ জানিয়েছে, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের অধীনে পরিচালিত একটি উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোনটি ধ্বংস করে।
আলজাজিরা সূত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় রাডার ধ্বংস, বিমানে আগুন
আলজাজিরার খবরে জানা গেছে, কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র টানা দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো হামলার শিকার হয়েছে। দেশটির বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার পর কেন্দ্রটির কয়েকটি স্থাপনায় আগুন লাগে এবং দমকল ও জরুরি সেবার কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগুনে বিপুলসংখ্যক বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হামলার ধরন, হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
একই স্থাপনায় দুই দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় হামলা কুয়েতের জ্বালানি ও পানি সরবরাহ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
দুই দিনে দ্বিতীয় হামলায় কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত
ইরান কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের ড্রোনগুলো ক্যাম্প আল আদিরির একটি গোলাবারুদের ডিপোতে আঘাত হানে এবং আলি আল সালেম বিমানঘাঁটির প্যাট্রিয়ট ও আকাশ প্রতিরক্ষা রাডারেও হামলা চালানো হয়।
ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদুল্লাহি সতর্ক করে বলেছেন, যেকোনো আগ্রাসন বা বর্বরতার চূড়ান্ত ও বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে। বিবৃতিতে হামলাগুলোকে মার্কিন আগ্রাসনের জবাব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আলজাজিরা সূত্রে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা যুক্তরাষ্ট্র ও কুয়েতের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।
কুয়েতে দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি
কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) জানিয়েছে, ইরানের পুনরাবৃত্ত হামলায় কুয়েতের তেল খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুয়েতের সরকারি বার্তা সংস্থা কুনার বরাতে কেপিসি জানায়, হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং ব্যাপক বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে স্থাপনাটি খালি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে।
অন্যদিকে, জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে যে গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা চারটি ড্রোন শনাক্ত করে ভূপাতিত করা হয়েছে। তারা জানায়, এসব ঘটনার ফলে কোনো হতাহত বা সম্পদের ক্ষতি হয়নি।
এই ঘটনাগুলো আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উত্তেজনা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যদিও হামলার উদ্দেশ্য বা পরিসর সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ইরানের হামলায় কুয়েতের তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত, জর্ডানে চার ড্রোন ভূপাতিত
ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ ও পানি পরিশোধন কেন্দ্রে আগুন লেগেছে বলে জানিয়েছে কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানায়, কেন্দ্র ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিদ্যুৎ গ্রিডের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কয়েকটি জেনারেটিং ইউনিট বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডের পরপরই সব পরিচালন ও জরুরি পরিকল্পনা সক্রিয় করা হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ ও পানি নেটওয়ার্কের ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়েছে এবং পরিষেবার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব সীমিত রাখা গেছে। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক প্রযুক্তিগত ও পরিচালন পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
আলজাজিরা সূত্রে জানা যায়, মন্ত্রণালয় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা আগুনের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি, তবে পরিষেবা কার্যক্রমে বড় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে।
ইরানের হামলার পর কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি কেন্দ্রে আগুন, জরুরি পরিকল্পনা চালু
ইরানের সাম্প্রতিক হামলার জেরে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড্ডয়ন ও অবতরণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে কুয়েত এয়ারওয়েজ। সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিস্থিতির কারণে তাদের বেশির ভাগ ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। যাত্রীদের সর্বশেষ ফ্লাইট তথ্য জানতে অফিসিয়াল চ্যানেল পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুকিংয়ে নিবন্ধিত ফোন নম্বরে বিজ্ঞপ্তি ও টেক্সট মেসেজ পাঠিয়ে যাত্রীদের আপডেট জানানো হবে। ইরানের হামলার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিমান চলাচলে প্রভাব পড়েছে এবং সংস্থাটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কুয়েত এয়ারওয়েজের এই পদক্ষেপে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ ফ্লাইট পরিচালনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করবে।
ইরানের হামলার পর কুয়েত এয়ারওয়েজের ফ্লাইট স্থগিত, আঞ্চলিক বিমান চলাচলে প্রভাব
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো বদলে যাওয়ায় পাকিস্তানের সঙ্গে একটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তির আলোচনায় নেমেছে কুয়েত। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সামরিক সহায়তার বিনিময়ে জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে কুয়েত। এক পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কুয়েত হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা, যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করতে চায়। আলোচনাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
ইরানের পাল্টা হামলায় কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি শোধন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটিতে প্রায় ১৪ হাজার মার্কিন সেনা থাকলেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কুয়েত এখনো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অংশীদার এবং ইরানের সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে, যার ফলে তারা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন হুমকির মুখে।
২০২৫ সালে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তির পর কুয়েতের এই উদ্যোগ ইসলামাবাদের আঞ্চলিক ভূমিকা বাড়াচ্ছে। তবে কুয়েতের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তি পাকিস্তানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ দেশটি সামরিকভাবে দুর্বল এবং প্রভাব সীমিত।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে পাকিস্তানের সামরিক সহায়তা চায় কুয়েত
কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে ইরানের চালানো ড্রোন হামলায় তাদের কয়েকজন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানি ড্রোন কুয়েতের একাধিক সামরিক স্থাপনা ও সেনা ক্যাম্পে হামলা চালায়, এতে কুয়েত ল্যান্ড ফোর্সের সদস্যরা আহত হন। তবে কতজন আহত হয়েছেন বা কোন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল খালেদ দিরজ সাদ আল-শুরাইয়ান এবং ডেপুটি চিফ অব জেনারেল স্টাফ এয়ার ভাইস মার্শাল সাবাহ জাবের আল-আহমাদ আল-সাবাহ হাসপাতালে গিয়ে আহত সেনাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন। চিকিৎসকরা তাদের আহতদের অবস্থা ও চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন।
এর আগে কুয়েত জানিয়েছিল, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে, যদিও সর্বশেষ ঘটনায় সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ইরানি ড্রোন হামলায় কুয়েতের একাধিক সামরিক স্থাপনায় সেনা আহত
কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় দেশটির একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার পর স্থাপনাটিতে আগুন লাগে এবং অবকাঠামোর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা পরে দমকল বাহিনী নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে কারিগরি দল ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিটগুলো মেরামত করছে এবং জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের স্থিতিশীলতা পর্যবেক্ষণ করছে। নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা কুয়েতের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হিমার্স রকেট সিস্টেম ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। আইআরজিসি আরও জানায়, এসব স্থানে মার্কিন বাহিনী ও ইসরাইল-সমর্থিত যোদ্ধারা অবস্থান করছিল এবং হামলায় বহু সরকারবিরোধী ও মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, পাল্টাপাল্টি অভিযান এখনও চলছে।
তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আইআরজিসির এসব দাবির স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।
ইরানের হামলায় কুয়েতের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত, আইআরজিসির দাবি যাচাই হয়নি
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কুয়েতের মিনা আবদুল্লাহ এলাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন বাহিনীর প্রধান সরবরাহ ও সহায়তা কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় ঘাঁটিতে আগুন লাগে বলে আইআরজিসি দাবি করেছে। সংস্থাটি জানায়, তাদের ‘নাসর-২’ অভিযানের চতুর্থ ধাপে ‘কেজেএল’ স্থাপনাটি ধ্বংস হয়েছে।
আইআরজিসি জানায়, এর আগে মঙ্গলবার রাতে মার্কিন বাহিনী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় ঘাঁটি ও অন্যান্য স্থানে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা হামলা চালিয়েছিল। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ পুনরায় কার্যকর করেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় সাময়িক শান্তি চুক্তি কার্যত ভেস্তে গেছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে।
কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, উপসাগরে নতুন উত্তেজনা
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, তাদের বিমান বাহিনী আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটির জ্বালানি ট্যাঙ্ক ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে এবং আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটির একটি কৌশলগত এফপিএস রাডার ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছে। সংস্থাটি জানায়, এই হামলাগুলো ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জবাবে তাদের ‘চোখের বদলে চোখ’ অভিযানের তৃতীয় পর্বের অংশ।
আইআরজিসি জানায়, বিস্ফোরণের শব্দগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিরোধমূলক হামলার ফল এবং জনগণকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানায়। তারা আরও সতর্ক করে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ইরান মেনে নেবে না।
আনাদোলু সূত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যা বা মার্কিন প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
কুয়েতে দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরান, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি
কুয়েত জানিয়েছে, দেশটির তিনটি সীমান্ত চৌকি এবং একটি অফশোর তেল উত্তোলন প্ল্যাটফর্মে হামলা হয়েছে। এসব হামলায় অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে এবং অন্তত একজন কর্মী আহত হয়েছেন। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে দেশের উত্তরাঞ্চলের তিনটি স্থল সীমান্ত কেন্দ্র ‘অপরাধমূলক হামলার’ শিকার হয়েছে।
কুয়েত অয়েল কোম্পানি পরিচালিত আঞ্চলিক জলসীমার একটি অফশোর ড্রিলিং প্ল্যাটফর্মে একটি ড্রোন আঘাত হানে, এতে সেখানে কর্মরত একজন আহত হন। হামলার দায় এখনো কেউ স্বীকার করেনি।
কর্তৃপক্ষ ঘটনাগুলোর তদন্ত শুরু করেছে, তবে হামলার উৎস ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি।
কুয়েতে সীমান্ত চৌকি ও তেল প্ল্যাটফর্মে ড্রোন হামলায় আহত এক কর্মী
ইরানের হামলায় ছোড়া স্প্লিন্টারের আঘাতে কুয়েতের বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অচল হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। তবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। ক্ষতিগ্রস্ত লাইনগুলো মেরামতে জরুরি প্রকৌশলী দল ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে দেশটির আকাশসীমায় দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৩টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়, যা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো সম্পূর্ণ সচল রাখতে মেরামত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের হামলায় কুয়েতের বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত, সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেনি
কুয়েতের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশটির বাজেট ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ১ বিলিয়ন কুয়েতি দিনার, যা প্রায় ২৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেলের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় এই ঘাটতি বেড়েছে।
আগের অর্থবছরের তুলনায় বাজেট ঘাটতি ১৩ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের মোট রাজস্ব প্রাথমিক পূর্বাভাসের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম হয়েছে। এর মধ্যে তেল খাত থেকে আয় ১১ দশমিক ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন কুয়েতি দিনারে, যা প্রায় ৪৯ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
তেলের আয়ের এই পতন কুয়েতের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং দেশটির বাজেট ভারসাম্য রক্ষায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
তেলের আয় কমে কুয়েতের বাজেট ঘাটতি ২৩.৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে
ইরানের সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়েছে কুয়েত। ২০২৬ সালের ২৮ জুন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে দেশটি জানায়, ইরানের এই ‘আগ্রাসন’ কুয়েতের সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়।
কুয়েত জানায়, তারা তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং নাগরিক ও ভূখণ্ডের বাসিন্দাদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্ণ অধিকার রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে বোমাবর্ষণের পর ইরান কুয়েতের আলি আল সালেম ঘাঁটিতে হামলা চালায়, যা মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে বলে তেহরান দাবি করে।
এই ঘটনায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে, তবে কুয়েত শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ইরানের হামলাকে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানাল কুয়েত
কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী গত ৪৮ ঘণ্টায় দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা ২৪টি শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন প্রতিহত করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল সৌদ আব্দুলআজিজ আল-ওতাইবি জানিয়েছেন, ইরানের এই ড্রোন হামলায় সামান্য বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং নাগরিক ও বাসিন্দাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সতর্ক রয়েছে। বাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আল জাজিরা ও স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, কুয়েত আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ করছে।
৪৮ ঘণ্টায় কুয়েতের আকাশে ইরানের ২৪ ড্রোন প্রতিহত, কোনো হতাহত নেই
ইরানের হামলার পর কুয়েত সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিট থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে এবং ফ্লাইটগুলোকে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হবে। এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য।
কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর জানিয়েছে, কুয়েত রাষ্ট্রের ওপর ইরানি হামলা এবং এর ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং বিপদের কারণ দূর হলে আকাশসীমা পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিমান চলাচল স্বাভাবিকভাবে পুনরায় শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের হামলার পর কুয়েত আকাশসীমা বন্ধ করে বেসামরিক উড়োজাহাজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে
ইরান কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কুয়েতের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা এই হামলা প্রতিহত করেছে। ইরান জানিয়েছে, এই অঞ্চলের বিমান ও নৌঘাঁটিসহ মোট ২১টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায়, অভিযোগ ছিল ইরান একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কেশম দ্বীপ, জাস্ক, সিরিক ও বন্দর আব্বাসে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটেছে। এসব ঘটনার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে।
কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, প্রতিশোধমূলক অভিযানের দাবি
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কুয়েতের কাছে ১ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সময় ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে কুয়েত অন্যতম। এই বিক্রির অংশ হিসেবে দেশটি মার্কিন প্রতিরক্ষা সংস্থা অ্যান্ডুরিলের কাছ থেকে ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি কিনবে। অ্যান্ডুরিল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সমর্থক।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই বিক্রয় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার উদ্দেশ্যকে সহায়তা করবে। এটি ন্যাটো-বহির্ভূত একটি প্রধান মিত্র দেশের নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে অবদান রাখবে। কুয়েতকে এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় অংশীদারদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দেয়, যা আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় তাদের কৌশলগত আগ্রহকে প্রতিফলিত করে।
কুয়েতকে ১.৯৮ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১১১ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।