সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আলেপ্পোর কয়েকটি এলাকায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে। সরকারি বাহিনী ও কুর্দি যোদ্ধাদের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর শুক্রবার ভোর থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। কয়েক দিনের সহিংসতায় হাজারো বেসামরিক মানুষ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন, যা ইসলামপন্থী কর্তৃপক্ষ ক্ষমতা নেওয়ার পর সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মঙ্গলবার থেকে আলেপ্পোয় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই চলছিল। উভয় পক্ষই সংঘর্ষের জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, শেখ মাকসুদ, আশরাফিয়েহ ও বানি জেইদ এলাকায় ভোর ৩টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়েছে, যাতে আবাসিক এলাকায় নতুন উত্তেজনা এড়ানো যায়। কুর্দি যোদ্ধাদের সকাল ৯টার মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যমতে, প্রায় ১৬ হাজার মানুষ ইতিমধ্যে এলাকা ছেড়েছেন। এসডিএফ প্রধান মাজলুম আবদি বলেন, কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় হামলা সমঝোতার সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ন করছে এবং একীভূতকরণ চুক্তি নিয়ে আলোচনা স্থবির হয়ে আছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আলেপ্পো এসডিএফের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে তুরস্ক ও ইসরাইলও এতে জড়িয়ে পড়তে পারে, যা সিরিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠবে।
আলেপ্পোয় কুর্দি সংঘর্ষের পর সিরিয়ার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা
সিরিয়ার আলেপ্পোয় সেনাবাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে হাজার হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন আশরাফিহ, শেখ মাকসুদ, বানি জেইদ, আল-সিরিয়ান, আল-হুলোক ও আল-মিদানসহ বিভিন্ন এলাকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছে বলে আল জাজিরা জানিয়েছে।
আলেপ্পোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ড জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জানমালের ঝুঁকি এড়ানো। কারফিউ চলাকালে জনসাধারণের চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। শহরের গণমাধ্যম বিভাগ জানিয়েছে, সপ্তাহের শুরুতে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর আশরাফিহ ও শেখ মাকসুদ এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ পালিয়েছে।
সিরীয় সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, এসডিএফ কামান ও মর্টার শেল দিয়ে বেসামরিক এলাকায় হামলা চালাচ্ছে, এতে অন্তত ২২ জন নিহত ও ১৭৩ জন আহত হয়েছে। তবে এসডিএফ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, হতাহতের ঘটনা দামেস্ক সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত গোষ্ঠীগুলোর হামলায় ঘটেছে।
আলেপ্পোয় সেনা-এসডিএফ সংঘর্ষে কারফিউ ও ব্যাপক জনপলায়ন
সিরিয়ার আলেপ্পোয় কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) ও সেনাবাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের কারণে হাজার হাজার মানুষ শহর ছেড়ে পালাচ্ছে। বুধবার রাতে কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার শুরু হওয়া সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এদের বেশির ভাগই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আফরিন উপত্যকার দিকে যাচ্ছে। অনেকেই সেনাবাহিনীর তৈরি মানবিক করিডর দিয়ে পায়ে হেঁটে আলেপ্পো ছাড়ছে, তবে তারা কবে ফিরতে পারবে তা অনিশ্চিত।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা প্রাণ বাঁচাতে শহর ছেড়েছেন। আলেপ্পোর আহমেদ বলেন, তারা সংঘর্ষ থেকে পালিয়ে এসেছেন কিন্তু কোথায় যাবেন জানেন না। ৪১ বছর বয়সী আম্মার রাজি জানান, তিনি ও তার পরিবার ছয় সন্তানসহ দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন এবং তারা আর ফিরতে পারবেন কি না তা জানেন না।
একজন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত নয়জন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতির কারণে বুধবার আলেপ্পোর স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিমানবন্দরের ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
আলেপ্পোয় সেনা ও এসডিএফ সংঘর্ষে ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত
সিরিয়ার আলেপ্পো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার আলেপ্পোতে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে কুর্দী নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) সংঘর্ষের পর এই সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। দেশটির জেনারেল অথরিটি অব সিভিল অ্যাভিয়েশন জানিয়েছে, যাত্রী, বিমান ক্রু এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থগিতাদেশ চলাকালে সব নির্ধারিত ফ্লাইট দামেস্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে, যতক্ষণ না প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়। কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তকে সতর্কতামূলক ও অস্থায়ী বলে উল্লেখ করেছে এবং জানিয়েছে, মূল্যায়ন শেষ হলে বা নতুন কোনো ঘটনা ঘটলে পরবর্তী ঘোষণা দেওয়া হবে।
যাত্রীদের ফ্লাইট সংক্রান্ত তথ্যের জন্য নিজ নিজ বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আলেপ্পোতে সন্ত্রাসী হামলার জন্য ওয়াইপিজি নেতৃত্বাধীন এসডিএফকে দায়ী করা হচ্ছে, যেখানে এক সেনা ও চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং কয়েকজন আহত হন।
কুর্দী নেতৃত্বাধীন এসডিএফের সঙ্গে সংঘর্ষে আলেপ্পো বিমানবন্দরে ফ্লাইট বন্ধ
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার রাতে রয়্যাল এয়ারফোর্স ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথভাবে সিরিয়ার একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনার ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই স্থাপনাটি আইসিসের অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হতো। মন্ত্রণালয় জানায়, লক্ষ্যবস্তুটি কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত ছিল এবং হামলায় কোনো সাধারণ মানুষের ঝুঁকি তৈরি হয়নি।
যদিও আইসিস ২০১৯ সালে সিরিয়ায় ভূখণ্ডগতভাবে পরাজিত হয়েছিল, তারা এখনও দেশটির মরুভূমি অঞ্চলে সক্রিয়। ইউনেস্কো তালিকাভুক্ত প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের জন্য পরিচিত পালমিরা একসময় আইসিসের নিয়ন্ত্রণে ছিল। গত মাসে পালমিরায় একক আইসিস বন্দুকধারীর হামলায় দুই মার্কিন সৈন্য ও একজন মার্কিন নাগরিক নিহত হন। এর প্রতিশোধে মার্কিন বাহিনী সিরিয়ায় আইসিসের কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়।
এই যৌথ অভিযান সিরিয়ায় আইসিসের পুনরুত্থান ঠেকাতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
সিরিয়ায় আইসিসের স্থাপনায় ফ্রান্স-যুক্তরাজ্যের যৌথ বিমান হামলা
পশ্চিম সিরিয়ায় আলাওয়ি সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ চলাকালে রোববার নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার হোমস শহরের একটি মসজিদে বোমা হামলায় আটজন নিহত হওয়ার পর উপকূলীয় ও মধ্য সিরিয়াজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। নতুন ইসলামপন্থী সরকারের অধীনে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, লাতাকিয়ায় বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে দুইজন নিহত হন, তবে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানায়, সাবেক শাসন ব্যবস্থার অবশিষ্টদের হামলায় তিনজন নিহত ও প্রায় ৬০ জন আহত হয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নিহতদের একজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছিলেন। লাতাকিয়া ও জাবলেহ শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরকারের সমর্থকদের সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনী হস্তক্ষেপ করে এবং আকাশে গুলি ছোড়ে।
আলাওয়ি ধর্মীয় নেতা গাজাল গাজালের আহ্বানে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে রাজনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ ও সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষার দাবি ওঠে। আলাওয়ি কাউন্সিল নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে সমর্থকদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানায়।
হোমস মসজিদে হামলার পর সিরিয়ায় আলাওয়ি বিক্ষোভে গুলিতে নিহত তিনজন
সিরিয়ার কেন্দ্রীয় শহর হোমসের একটি মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালে বিস্ফোরণে অন্তত আটজন নিহত ও আঠারো জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ঘটনাটি ঘটে ওয়াদি আল-ধাহাব এলাকার আল-খোদারি স্ট্রিটে অবস্থিত ইমাম আলি ইবনে আবি তালিব মসজিদে। জরুরি ও অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, এবং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিরাপত্তা ইউনিটগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, এই কাপুরুষোচিত হামলা মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত এবং এর উদ্দেশ্য দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করা।
হোমসের মসজিদে জুমার নামাজে বিস্ফোরণে আটজন নিহত, আঠারো জন আহত
সিরিয়ার ভেতরে রাডার সিস্টেম মোতায়নের মাধ্যমে তুরস্ক তার উপস্থিতি জোরদার করছে বলে পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে আই২৪নিউজ জানিয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে সিরিয়ার আকাশসীমায় ইসরাইলের স্বাধীন চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং ইরানসহ অন্যান্য অঞ্চলে অভিযানের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে।
মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ায় তুর্কি রাডার স্থাপনের ফলে তুরস্ক ইসরাইলি বিমানের গতিবিধি ট্র্যাক করতে পারবে। এমনকি ইরাক বা ইরানে মিশনে যাওয়ার পথেও ইসরাইলি বিমান তুরস্কের নজরদারিতে পড়বে। ইসরাইলি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সম্ভাবনা একটি ‘সম্ভাব্য হুমকি’, যা ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতাকে সীমিত করতে পারে।
এই পরিস্থিতি সিরিয়াকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে, যেখানে তুরস্ক ও ইসরাইল উভয়েই নিজেদের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
সিরিয়ায় তুরস্কের রাডার মোতায়নে ইসরাইলের আকাশসীমা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মুরহাফ আবু কাসরা মঙ্গলবার মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানার তথ্যমতে, বৈঠকে সামরিক শিল্পে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার, সামরিক সরঞ্জাম আধুনিকীকরণ এবং গবেষণা ও প্রযুক্তি বিনিময় নিয়ে আলোচনা হয়। এসব উদ্যোগ সিরিয়ার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে জানানো হয়েছে।
গত ডিসেম্বর দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটি নতুন সিরীয় সরকারের প্রথম রাশিয়া সফর। আসাদ বর্তমানে রাশিয়ায় আশ্রয়ে থাকলেও, মস্কো নতুন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী। বিশেষ করে সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত হমেইমিম বিমানঘাঁটি ও তারতুস নৌঘাঁটির ব্যবহার বজায় রাখা রাশিয়ার অন্যতম লক্ষ্য।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই বৈঠক রাশিয়ার মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব ধরে রাখার কৌশলের অংশ। আলোচনার ফলাফল সিরিয়ার প্রতিরক্ষা কাঠামো ও রাশিয়ার আঞ্চলিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আসাদ অপসারণের পর সিরিয়ার নতুন মন্ত্রিসভার সঙ্গে পুতিনের সামরিক সহযোগিতা আলোচনা
সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে সিরীয় সেনাবাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত দুজন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) শেখ মাকসুদ ও লায়রমুন এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলিতে ভারি অস্ত্র ব্যবহার হয়, ফলে বহু পরিবার এলাকা ছেড়ে পালায়। সিরিয়ান সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, সংঘর্ষে তাদের দুই উদ্ধারকর্মী ও দুই শিশু আহত হয়েছে।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসডিএফকে যৌথ চেকপোস্টে হামলার অভিযোগে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়েছে, অন্যদিকে এসডিএফ সরকারপন্থী গোষ্ঠীগুলোকেই বেসামরিক এলাকায় হামলার জন্য দায়ী করেছে। পরে উভয় পক্ষই গভীর রাতে গোলাগুলি বন্ধে সম্মত হয়।
এই সংঘর্ষ এমন সময়ে ঘটেছে, যখন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান দামেস্ক সফরে এসডিএফকে সিরীয় সেনাবাহিনীতে একীভূত করার বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত এসডিএফকে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা সিরিয়ার জাতীয় ঐক্যের জন্য জটিল ইস্যু, যা তুরস্কের বিরোধিতায় আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে।
আলেপ্পোতে সিরীয় সেনা ও এসডিএফ সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৩, উত্তেজনা বাড়ছে
ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ট (আইএসআইএস)-এর বিরুদ্ধে সিরিয়ায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালে জানান, পালমিরায় দুই মার্কিন সেনা ও একজন দোভাষী নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর এই প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু হয়েছে। সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও কামান দিয়ে একযোগে আঘাত হানা হয়েছে।
মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অভিযানে ৭০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ১০০টিরও বেশি নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। জর্ডান থেকেও বিমান এতে অংশ নিয়েছে। সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার অংশীদারদের ক্ষতি করতে চাওয়া সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আইএসআইএসবিরোধী লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আহ্বান করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসবিরোধী উপস্থিতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দেয়। তবে আইএসআইএসের অবশিষ্ট সেল সক্রিয় থাকায় সংঘাতের ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে।
আইএসআইএস হামলার জবাবে সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক অভিযান
সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের শাসনামলে সিরিয়ার ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস। সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন পায়। গৃহযুদ্ধ ও দীর্ঘ সংঘাতে বিপর্যস্ত সিরিয়ায় দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিনেটে বিলটির পক্ষে ভোট দেন ৭৭ জন সিনেটর এবং বিপক্ষে ২০ জন। সৌদি আরব ও তুরস্কের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নেয় বলে জানা গেছে। সিনেটের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কমিটির সদস্য জিয়ান্নে শাহীন বলেন, এই সিদ্ধান্ত সিরিয়ার জনগণকে পুনর্গঠনের বাস্তব সুযোগ দেবে। নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা, যিনি একসময় আল কায়দার সিরিয়া শাখার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, শুরু থেকেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি দেশের পুনর্গঠনের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করবে, তবে শাসনব্যবস্থা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্নও তুলবে।
সিরিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত
সিরিয়ার উৎখাত হওয়া প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তার পরিবার এক বছরেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে নির্জন ও বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন বলে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে। ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর রুশ বাহিনীর সহায়তায় দেশত্যাগের পর তিনি আবারও তার পুরোনো পেশা চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। বর্তমানে তিনি রুশ ভাষা শিখছেন এবং চিকিৎসা দক্ষতা পুনর্দীক্ষণ করছেন।
আল-আসাদ পরিবার মস্কোর পশ্চিমাঞ্চলের রুবলিওভকার অভিজাত গেটেড কমপ্লেক্সে বসবাস করছে, যেখানে রাশিয়ার উচ্চপদস্থ রাজনীতিক ও ধনীরা থাকেন। রুশ কর্তৃপক্ষ তাদের ওপর ঘনিষ্ঠ নজরদারি রাখছে এবং বাইরের যোগাযোগ সীমিত করেছে।
রাশিয়ার কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, আসাদ নিরাপদে আছেন কিন্তু কোনো রাজনৈতিক বা গণমাধ্যম কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। তার সন্তানরা নতুন জীবনে মানিয়ে নিচ্ছে—কন্যা জেইন এমজিআইএমও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন, আর পুত্র হাফেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছদ্মনামে সক্রিয়।
রাশিয়ায় নির্জন জীবনে বাশার আল-আসাদ, চিকিৎসা পেশায় ফিরেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট
সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলের ঐতিহাসিক শহর পালমিরার কাছে আইএসের হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও এক দোভাষী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও তিন মার্কিন সেনা। স্থানীয় সময় ১৩ ডিসেম্বর মার্কিন ও সিরীয় বাহিনীর যৌথ অভিযানের সময় এই হামলা ঘটে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। এক মাসেরও কম আগে দুই দেশ আইএসবিরোধী সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল জানান, সেনারা স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন, তখনই এক বন্দুকধারী গুলি চালায়। হামলাকারী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামলাকারী সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছিলেন এবং তার মধ্যে চরমপন্থি চিন্তাধারা ছিল। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দুই সিরীয় নিরাপত্তা সদস্যও আহত হন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেন, যারা মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করবে, তাদের পরিণতি ভয়াবহ হবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলাকে “ভয়াবহ” বলে উল্লেখ করে ট্রুথ সোশ্যালে “কঠোর প্রতিশোধের” হুঁশিয়ারি দেন এবং নিহতদের “মহান দেশপ্রেমিক” হিসেবে আখ্যা দেন।
সিরিয়ায় আইএস হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত, ট্রাম্পের কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি
সিরিয়ার পালমিরা এলাকায় আইএসআইএসের অতর্কিত হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও একজন স্থানীয় দোভাষী নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সংস্থাটি জানায়, একমাত্র আইএস সদস্য যৌথ মার্কিন-সিরীয় টহল গাড়িতে হামলা চালায় এবং পাল্টা হামলায় সে নিহত হয়।
মার্কিন দূত টম ব্যারাক জানান, হামলাটি যৌথ টহল দলের ওপর চালানো হয়, যা ওই অঞ্চলে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নিয়োজিত ছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিশ্চিত করেছেন যে হামলাকারী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছে। নিহত সেনাদের পরিচয় পরিবারের সদস্যদের জানানো না পর্যন্ত প্রকাশ করা হবে না।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, হামলার স্থানটি সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নিয়ন্ত্রণাধীন নয়, যা ওই অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা ও আইএসের অবশিষ্ট হুমকির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।
সিরিয়ার পালমিরায় আইএস হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও দোভাষী নিহত
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা অভিযোগ করেছেন, ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং নিরাপত্তার অজুহাতে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। দোহা ফোরামে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তার সরকার শান্তি, জাতীয় ঐক্য ও নারীর ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং সংবিধান ঘোষণার পাঁচ বছরের মধ্যে সংসদ নির্বাচন আয়োজন করবে।
সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আল-শারা বলেন, ইসরাইল অক্টোবর ৭ হামলাকে অজুহাত করে পুরো অঞ্চলে সামরিক অভিযান বাড়াচ্ছে। তিনি ইসরাইলকে ১৯৭৪ সালের গোলান মালভূমি যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানান এবং সতর্ক করেন, এই চুক্তি পরিবর্তনের চেষ্টা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
আল-শারা আরও বলেন, সিরিয়া অভ্যন্তরীণ ঐক্যের পথে অগ্রসর হচ্ছে, বিভিন্ন গোষ্ঠীকে ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতি পরিহার করা হচ্ছে। তিনি নারীর অধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতের শাসনব্যবস্থা জনগণের অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করবে।
ইসরাইলকে উত্তেজনা বাড়ানোর অভিযোগ, শান্তি ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য দেশের পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধি দল এই সপ্তাহে সিরিয়া ও লেবাননে সফরে যাচ্ছে। ছয় বছর পর এটি পরিষদের প্রথম মধ্যপ্রাচ্য সফর। ডিসেম্বর মাসে পরিষদের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে স্লোভেনিয়া, এবং তাদের নেতৃত্বেই এই সফর অনুষ্ঠিত হবে। স্লোভেনিয়ার জাতিসংঘ দূত স্যামুয়েল জ্বোগার জানান, সিরিয়ানদের সঙ্গে আস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সফরে অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিরিয়ার প্রতি পরিষদের প্রত্যাশা তুলে ধরা হবে। সফরটি বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের প্রথম বার্ষিকীর প্রাক্কালে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা ১৯৬৩ সাল থেকে বাথ পার্টির দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটায়। জ্বোগার আরও জানান, সিরিয়া, ইসরাইল, লেবানন ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সংলাপ উৎসাহিত করা হবে। ডিসেম্বরজুড়ে ফিলিস্তিন, ইউক্রেন ও আফগানিস্তান ইস্যুতেও পরিষদের বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সিরিয়া ও লেবাননে আস্থা পুনর্গঠনে স্লোভেনিয়ার নেতৃত্বে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সফর
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলকে সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং দুই দেশের মধ্যে ‘দৃঢ় ও প্রকৃত সংলাপ’ বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সিরিয়ার অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয়। তার এই মন্তব্য আসে ইসরাইলের সাম্প্রতিক সিরিয়া হামলার পর, যেখানে দামেস্কের উপকণ্ঠে ১৩ জন নিহত হন। নবগঠিত সিরিয়ান সরকার এই হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। যদিও ট্রাম্প সরাসরি হামলার উল্লেখ করেননি, তিনি নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারারের নেতৃত্বে সিরিয়ার অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি আল-শারারের ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ না করে সংলাপ বজায় রাখতে ইসরাইলকে আহ্বান ট্রাম্পের
দামেস্কে ইসরাইলি বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছে ফ্রান্স। সিরিয়ায় ফ্রান্সের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জিন-ব্যাপটিস্ট ফাইভরে সামাজিকমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, ফ্রান্স আন্তর্জাতিক আইন ও ১৯৭৪ সালের বিচ্ছিন্নতা চুক্তি অনুযায়ী সিরিয়ার ঐক্য ও স্থিতিশীলতা রক্ষার গুরুত্ব স্বীকার করে। তিনি ইসরাইলের সামরিক অভিযানে বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে সিরিয়াকে শান্তি ও স্থিতিশীলতার কেন্দ্রে পরিণত করার প্রচেষ্টায় অংশ নিতে আহ্বান জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ইসরাইল সিরিয়ায় এক হাজারেরও বেশি বিমান হামলা এবং ৪০০টিরও বেশি আন্তঃসীমান্ত অভিযান চালিয়েছে। বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ইসরাইল গোলান মালভূমিতে বাফার জোন দখল করে, যা ১৯৭৪ সালের চুক্তির লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দামেস্কে ১৩ বেসামরিক নিহতের পর সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইসরাইলকে আহ্বান জানাল ফ্রান্স
সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর ১৫টি অস্ত্রাগার ধ্বংস করেছে মার্কিন-সিরীয় যৌথ বাহিনী। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকম জানায়, ২৪ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ১৩০টিরও বেশি মর্টার ও রকেট, বিপুল পরিমাণ অ্যাসল্ট রাইফেল, মেশিনগান, অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে। ২০১৩ সালে উত্থানের পর আইএস সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করেছিল, তবে টানা অভিযানে তাদের প্রভাব এখন অনেক কমে গেছে। সাম্প্রতিক এই অভিযানটি আইএসের অবশিষ্ট ঘাঁটি নির্মূলের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। এদিকে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পতনের পর অন্তবর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা দায়িত্ব নেন এবং সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা নিশ্চিত করেন।
দক্ষিণ সিরিয়ায় আইএসের ১৫ অস্ত্রাগার ধ্বংস করল মার্কিন-সিরীয় বাহিনী
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৬০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।