২০২৬ সালের ৭ জুলাই সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সফর চলাকালীন একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। রয়টার্সের এক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ম্যাক্রোঁ যে হোটেলে অবস্থান করছিলেন, তার কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকস্মিক বিস্ফোরণে শহর কেঁপে ওঠে।
ম্যাক্রোঁ বর্তমানে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারাসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে দামেস্কে অবস্থান করছেন। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরেও একটি বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে কয়েকজন আহত হন। সিরিয়ার সংবাদমাধ্যম আল-ইখবারিয়া জানায়, বিস্ফোরণের সময় প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে আহমদ আল-শারা ম্যাক্রোঁকে স্বাগত জানাচ্ছিলেন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ভবন এলিসি প্যালেস জানিয়েছে, আল-শারার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ নিজে কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনেননি। ঘটনার বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সিরিয়া সফরে দামেস্কে ম্যাক্রোঁর হোটেলের কাছে বিস্ফোরণ
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সোমবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে পৌঁছেছেন। ২০২৪ সালে সিরিয়ায় নতুন সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর এটি কোনো পশ্চিম ইউরোপীয় রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম সফর। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সফরটি মঙ্গলবার শেষ হবে। ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, ম্যাক্রোঁ একটি মুক্ত ও বহুমাত্রিক সিরিয়ার পক্ষে সমর্থন জানাবেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখবে।
দামেস্কে পৌঁছানোর পর সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি তাঁকে স্বাগত জানান। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং দুর্বল অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। সর্বশেষ ২০০৯ সালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি সিরিয়া সফর করেছিলেন, এরপর ২০১১ সালে আসাদ সরকারের দমননীতির কারণে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা এই সফরকে আন্তর্জাতিক উপস্থিতি পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং বলেছে, এটি সিরিয়া-ফ্রান্স সম্পর্কের নতুন যুগের সূচনা।
আসাদ অপসারণের পর সিরিয়ায় প্রথম পশ্চিম ইউরোপীয় নেতা হিসেবে দামেস্কে ম্যাক্রোঁর সফর
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের একটি ক্যাফেতে বোমা বিস্ফোরণে অন্তত পাঁচজন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার আল-নাসর সড়কে বিচার প্রাসাদের কাছে অবস্থিত ওই ক্যাফেতে বিস্ফোরণ ঘটে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-ইখবারিয়া এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিস্ফোরণের আগে থেকেই ক্যাফের ভেতরে বিস্ফোরক রাখা ছিল। বিস্ফোরণের পর নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং হামলার সঙ্গে কারা জড়িত তা জানতে তদন্ত শুরু করে।
এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে হামলার উদ্দেশ্য ও দায়ীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
দামেস্কে ক্যাফেতে বোমা বিস্ফোরণে পাঁচজন নিহত, ১৬ জন আহত
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সাঁজোয়া যান ও ট্যাংক নিয়ে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় কুনেইত্রা প্রদেশে আকস্মিকভাবে প্রবেশ করে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। অধিকৃত গোলান মালভূমি সংলগ্ন এই সীমান্ত এলাকায় ঘটনাটি ১৬ মে ২০২৬ তারিখে ঘটে বলে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সরকারি ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যে জানা যায়, অনুপ্রবেশের দুটি পৃথক ঘটনা ঘটে। প্রথম ঘটনায় চারটি ইসরাইলি সামরিক যান সাইদা আল-হানউত গ্রামে প্রবেশ করে কয়েকটি বাড়ি ঘেরাও করে তল্লাশি চালায়, তবে কাউকে আটক করা হয়নি। কিছু সময় পর তিনটি ট্যাংক আল-মুয়াল্লাকা গ্রামের কাছে তেল আল-দ্রেইয়াত এলাকায় সীমান্ত অতিক্রম করে কিছু সময় অবস্থান নেয় এবং পরে ফিরে যায়। ইসরাইলি বাহিনী এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, গোলান মালভূমি সংলগ্ন এই সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ঘটনাটিকে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
গোলান মালভূমি সংলগ্ন কুনেইত্রায় ইসরাইলি সাঁজোয়া যান প্রবেশে উত্তেজনা বৃদ্ধি
দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরাইলি বাহিনীর ঘরবাড়ি ধ্বংসের ঘটনায় যুদ্ধাপরাধের তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলি বাহিনী ওই অঞ্চলে অভিযান ও গোলাবর্ষণ জোরদার করেছে, যার ফলে কৃষিজমি ও আবাসিক স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অ্যামনেস্টির মতে, ইসরাইল ১৯৭৪ সালের বিচ্ছেদ চুক্তি লঙ্ঘন করে অধিকৃত গোলান মালভূমির বাইরে সিরিয়ার অতিরিক্ত ভূখণ্ড দখল করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ইসরাইলি বাহিনী ঘনঘন অভিযান চালাচ্ছে, তরুণদের আটক করছে এবং আগাছানাশক ব্যবহারের কারণে কৃষকরা জমিতে প্রবেশ করতে পারছেন না। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত দাবি করেছে অ্যামনেস্টি।
তদন্তের এই আহ্বান সিরিয়ায় ইসরাইলি সামরিক কার্যক্রম ও বেসামরিক ক্ষতির বিষয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগকে আরও জোরদার করেছে।
দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরাইলি অভিযানে যুদ্ধাপরাধ তদন্তের দাবি অ্যামনেস্টির
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা শনিবার সরকারে বড় ধরনের রদবদল করেছেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানার তথ্যমতে, তিনি কয়েকজন মন্ত্রী ও কর্মকর্তাকে পদচ্যুত করেছেন, যাদের মধ্যে তার ভাই মাহের আল-শারাও রয়েছেন। হোমসের সাবেক গভর্নর আবদুল রহমান বদরুদ্দিন আল-আমা’কে প্রেসিডেন্সি কার্যালয়ের মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তথ্যমন্ত্রী হামজা আলমুস্তাফা ও কৃষিমন্ত্রী আমজাদ বদরকে সরিয়ে যথাক্রমে খালেদ ফাওয়াজ জারুর ও বাসেল হাফেজ আল-সুয়েদানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নতুন তথ্যমন্ত্রী খালেদ ফাওয়াজ জারুর এর আগে দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গণমাধ্যম অনুষদের প্রধান ছিলেন। এই রদবদলের কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ২০২৪ সালে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৫ সালের মার্চে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভায় প্রেসিডেন্ট শারার ঘনিষ্ঠদের প্রভাব ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রেসিডেন্ট শারা হোমস, কুনেইত্রা, লাতাকিয়া ও দেইর ইজ্জোরসহ কয়েকটি প্রদেশে নতুন গভর্নর নিয়োগ দিয়েছেন।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট শারা বড় রদবদলে ভাইসহ কয়েক মন্ত্রীকে সরালেন
রবিবার ভোরে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে সন্দেহভাজন ঘাঁটি ও গুদাম লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে জর্ডান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী জানায়, সীমান্তজুড়ে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান দমন এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়। রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা পেট্রা জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব স্থাপনা চিহ্নিত করে ধ্বংস করা হয়েছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানের চেষ্টা বেড়েছে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-ইখবারিয়া জানিয়েছে, সুয়াইদা প্রদেশের শাহবা গ্রামে একটি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়, যেখানে অস্ত্র ও মাদক মজুত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাবেক একটি নিরাপত্তা ঘাঁটির আশপাশেও হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে ড্রোন ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচল দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সিরিয়া-জর্ডান সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে এবং জর্ডান এর আগেও এমন অভিযান চালিয়েছে।
এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন সিরিয়ায় রাজনৈতিক পরিবর্তন চলছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আহমাদ আল-শারার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়।
সিরিয়ার দক্ষিণে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান ঠেকাতে জর্ডানের বিমান হামলা
সিরিয়ায় ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তার সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রথম বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার সকাল ১১টায় রাজধানী দামেস্কে প্রকাশ্য শুনানি শুরু হয়, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে প্রথম বিচার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অভিযুক্তদের মধ্যে কেবল একজন, আসাদের খালাতো ভাই ও সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আতেফ নাজিব আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার সাবেক প্রধান নাজিবকে হাতকড়া পরা অবস্থায় আদালতে হাজির করা হয়।
২০১১ সালে দারায় সরকারবিরোধী গ্রাফিতি আঁকার অভিযোগে কিশোরদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ঘটনায় নাজিবের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনাই দেশজুড়ে বিক্ষোভের সূচনা করে, যা পরবর্তীতে ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর আসাদ সরকারের পতনের পর তিনি রাশিয়ায় পালিয়ে যান। এই যুদ্ধে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত এবং আরও কয়েক লাখ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
আদালত আগামী ১০ মে পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে। পরবর্তী পর্যায়ে ওয়াসিম আল-আসাদ, সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আহমেদ বদরুদ্দিন হাসুনসহ আরও কয়েকজন সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তার বিচার অনুষ্ঠিত হবে।
১৩ বছরের সংঘাত শেষে দামেস্কে আসাদ সরকারের প্রথম বিচার শুরু
সিরিয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য বিচার শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানার তথ্যমতে, রোববার রাজধানী দামেস্কে আদালতে হাজির হন আতেফ নাজিব, যিনি সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও আসাদের চাচাতো ভাই। দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে সিরীয় জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০১১ সালে দারায় সরকারবিরোধী গ্রাফিতি আঁকার অভিযোগে কিশোরদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ঘটনাটি নাজিবের অধীনেই ঘটে, যা আসাদ সরকারের দমননীতির বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভের সূচনা করে। পরবর্তীতে সরকারের কঠোর দমন অভিযান দীর্ঘ ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এরপর আসাদ রাশিয়ায় পালিয়ে যান এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরাও দেশ ত্যাগ করেন।
এই মামলায় আসাদ, তার ভাই মাহের আল-আসাদসহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অনুপস্থিতিতে অভিযুক্ত হয়েছেন। তবে একমাত্র আতেফ নাজিবকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচার আগামী মাসে পুনরায় শুরু হবে, আর আদালতের বাইরে মানুষ বিচার শুরুকে স্বাগত জানায়।
সিরিয়ায় আসাদ আমলের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রথম প্রকাশ্য বিচার শুরু
সিরিয়া বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে যে তারা মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত সব সামরিক ঘাঁটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এই পদক্ষেপটি আসে হাসাকাহ প্রদেশের কাসরাক বিমানঘাঁটি থেকে শেষ মার্কিন কনভয় ও সরঞ্জাম প্রত্যাহারের পর, যা ২০১৪ সালে আইএসআইএল বিরোধী অভিযানে মার্কিন উপস্থিতির সূচনা করেছিল। প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দামেস্কে সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর শীর্ষ দুই নেতা মাজলুম আবদি ও ইলহাম আহমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যেখানে কুর্দি যোদ্ধাদের জাতীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হস্তান্তর দেশের পূর্ণ সার্বভৌম কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার প্রতিফলন। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয়ের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং নভেম্বর মাসে আল-শারার ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড নিশ্চিত করেছে যে সিরিয়ার সব প্রধান ঘাঁটি পরিকল্পিতভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এই হস্তান্তর জানুয়ারিতে দামেস্ক ও এসডিএফের মধ্যে হওয়া চুক্তির অংশ, যার মাধ্যমে কুর্দি যোদ্ধারা জাতীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং সীমান্ত ও শহরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ সরকারে ফিরে এসেছে।
মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পর সিরিয়া সাবেক ঘাঁটিগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিল
দীর্ঘদিন নাগরিকত্বহীন থাকার পর সিরিয়ার কুর্দিরা অবশেষে নাগরিকত্ব নিবন্ধনের সুযোগ পাচ্ছেন। গত সপ্তাহ থেকে সারা দেশে নিবন্ধনকেন্দ্রে ভিড় করছেন অনিবন্ধিত কুর্দিরা। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারারের জারি করা ডিক্রির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, যাতে অনিবন্ধিত কুর্দিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা করা হয়। ৪৯ বছর বয়সি আহমাদসহ অনেকেই জানিয়েছেন, নাগরিকত্ব না থাকায় তারা সম্পত্তি নিবন্ধন, পড়াশোনা বা ভ্রমণ করতে পারেননি।
ডিক্রিতে কুর্দিদের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত অধিকার স্বীকৃত হয়েছে এবং কুর্দি ভাষাকে জাতীয় ভাষা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুর্দি যোদ্ধা ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের পর একটি চুক্তির মাধ্যমে কুর্দি প্রশাসনকে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রের সঙ্গে একীভূত করা হয়। ফেব্রুয়ারিতে কুর্দি সামরিক নেতা সিপান হামোকে পূর্বাঞ্চলের প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রীর সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিবন্ধন কেন্দ্রগুলো এক মাস খোলা থাকবে এবং প্রয়োজনে সময় বাড়ানো হতে পারে। সিভিল অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা আবদাল্লাহ আল-আবদাল্লাহ বলেন, এত বছর পর নাগরিকত্ব পাওয়াই কুর্দিদের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতিপূরণ।
দীর্ঘদিন পর সিরিয়ার কুর্দিদের নাগরিকত্ব নিবন্ধন শুরু নতুন সরকারি ডিক্রিতে
লেবাননে ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সিরিয়া এবং তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরাইলি আগ্রাসনকে আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বুধবার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ইসরাইলি বাহিনী দেশজুড়ে প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়, যার বেশিরভাগই রাজধানী বৈরুতে কেন্দ্রীভূত ছিল। এসব হামলায় ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ১,১৬০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এও একই বার্তা পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, ইসরাইলের এই ধারাবাহিক হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের মূলনীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
মিডল ইস্ট আই-এর সূত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে হামলার ব্যাপকতা ও বেসামরিক হতাহতের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে এবং সিরিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির দাবি জানানো হয়েছে।
লেবাননে ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানিয়ে যুদ্ধবিরতির আহ্বান সিরিয়ার
মঙ্গলবার লন্ডন সফরকালে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ঘোষণা করেছেন যে, তার দেশ আক্রান্ত না হলে কোনো যুদ্ধে জড়াবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা জবাব দিচ্ছে—এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই শারার এই মন্তব্য আসে।
লন্ডনের চ্যাথাম হাউস থিঙ্ক ট্যাঙ্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শারা বলেন, ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের পর তিনি সিরিয়াকে নতুন কোনো সংঘাতে জড়াতে চান না। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেন, দামেস্ক ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-মার্কিন যুদ্ধে অংশ নেবে না, যদি না সিরিয়া নিজে আক্রান্ত হয়।
শারা আরও জানান, কোনো চাপ সৃষ্টি না হলে এবং কূটনৈতিক সমাধান না আসা পর্যন্ত সিরিয়া এই সংঘাতে জড়াবে না, যা তার সরকারের সতর্ক অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।
ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আক্রান্ত না হলে যুদ্ধে যাবে না সিরিয়া
২০২৬ সালের ২৯ মার্চ সকালে ইরাক থেকে সিরিয়ার কাসরাক এলাকায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছেন সিরিয়ার সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী সিপান হামো। তিনি জানান, ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপিত চারটি ড্রোন ঘাঁটিটিকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল, তবে কোনো হতাহত ছাড়াই সেগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে। হামো দাবি করেন, হামলাটি প্রতিহত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সিরিয়া এ ঘটনার জন্য ইরাককে দায়ী করছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি রোধে ইরাককে আহ্বান জানাচ্ছে। এই বক্তব্যটি সামাজিক মাধ্যম এক্সে প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এর এক দিন আগে সিরিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছিল যে তারা ইরাক থেকে চালানো আরেকটি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে, যা দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আল-তানফ ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল, যেখানে আগে মার্কিন বাহিনী অবস্থান করত।
ইরাক থেকে সিরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিতে চার ড্রোন হামলা, হতাহত নেই
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বলেছেন, তার সরকার চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ থেকে দেশকে দূরে রাখতে কাজ করছে। শুক্রবার দামেস্কের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ঈদুল ফিতরের নামাজের পর এক ভাষণে তিনি বলেন, সিরিয়া অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি পদক্ষেপ নিচ্ছে যাতে কোনো সংঘাতে জড়িয়ে না পড়ে।
আল-শারা উল্লেখ করেন, গত ১৫ বছর বা তারও আগে থেকে সিরিয়া সংঘাত ও অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল, তবে বর্তমানে দেশটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখছে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় ও বিরল ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি আরও বলেন, সিরিয়াকে সংঘাত থেকে দূরে রেখে দেশকে উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের পথে এগিয়ে নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।
সিরিয়াকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকে দূরে রাখতে প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রেসিডেন্ট আল-শারা
সিরিয়া সরকার অভিযোগ করেছে, ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ লেবানন থেকে সিরিয়ার ভেতরে রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, সেনা কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দামেস্কের পশ্চিমে সেরঘায়া শহরের কাছে আঘাত হেনেছে। সিরিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ তাদের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় সংগঠনটির শক্তিবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
সানা জানায়, সিরিয়ার আরব সেনা এক বিবৃতিতে বলেছে, সিরিয়াকে লক্ষ্য করে কোনো আক্রমণ সহ্য করা হবে না। ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে হিজবুল্লাহ ইসরাইলে আক্রমণ চালায়, যার ফলে লেবানন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন হিজবুল্লাহকে দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন, আর সংসদীয় দলের প্রধান বলেছেন প্রতিরোধ ছাড়া তাদের আর কোনো বিকল্প নেই।
লেবানন থেকে সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগে হিজবুল্লাহকে দোষারোপ করল সিরিয়া
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কামিশলি শহরে একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তুরস্কের সীমান্তের কাছাকাছি এই এলাকায় স্থানীয় লোকজন ধ্বংসাবশেষের পাশে ভিড় করেছেন বলে ছবিতে দেখা গেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি ঠিক কখন সেখানে পড়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তুরস্কের দাবি, ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসা একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। কামিশলিতে পাওয়া ধ্বংসাবশেষটি সেই ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি ইরান, সিরিয়া ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ইরান বা সিরিয়ার পক্ষ থেকে এখনো ক্ষেপণাস্ত্রটির উৎস বা ভূপাতিত হওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ন্যাটোর ভূপাতিতের দাবির পর সিরিয়ায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার
ইসরায়েলের সতর্কবার্তার পর লেবাননের সঙ্গে সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে সিরিয়া। বুধবার আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরায়েলি বাহিনী সীমান্ত ক্রসিং লক্ষ্যবস্তু করতে পারে এমন সতর্কতা পাওয়ার পর সিরিয়ার স্থল ও সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপটি সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে।
জেদেদেত ইয়াবুস সীমান্ত ক্রসের গণমাধ্যম কর্মকর্তা জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত সিরীয়রা লেবানন থেকে পালিয়ে আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আগমন খোলা থাকবে। তবে সীমান্ত ক্রসিংগুলো সাধারণ চলাচলের জন্য বন্ধ থাকবে।
ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সীমান্ত বন্ধের এই সিদ্ধান্ত মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের সতর্কবার্তার পর লেবানন সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করল সিরিয়া
সিরিয়ার কুর্দি সশস্ত্র সংগঠন পিপলস প্রটেকশন ইউনিট (ওয়াইপিজি) প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারার সরকারের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে অস্ত্র ত্যাগ করে সিরিয়ার সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হতে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রত্যাহার এবং তুরস্কের কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) বিলুপ্তির পর এই চুক্তি ওয়াইপিজির অবস্থান দুর্বল করে দেয়। এর ফলে সিরিয়ায় কুর্দিদের দীর্ঘদিনের সশস্ত্র লড়াইয়ের অবসান ঘটছে এবং দামেস্কের কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব আরও সুসংহত হচ্ছে।
এই পরিবর্তন প্রতিবেশী ইরাকের জন্য নতুন নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সিরিয়ার সঙ্গে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত ভাগ করা ইরাক এখন পশ্চিম সীমান্তে সন্ত্রাসবাদ, বন্দি স্থানান্তর এবং কুর্দি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ মোকাবিলায় সতর্ক হচ্ছে। ইতোমধ্যে সিরিয়া থেকে হাজার হাজার ইসলামিক স্টেট (আইএস) বন্দি ইরাকে স্থানান্তরিত হয়েছে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনি ব্যবস্থাকে জটিল করে তুলেছে।
ওয়াইপিজি-দামেস্ক চুক্তি আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য সৃষ্টি করেছে। ইরাক এখন সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সিরিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
সিরিয়ায় ওয়াইপিজির বিলুপ্তি, ইরাক সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে উদ্যোগ নিচ্ছে
ইসলামিক স্টেট (আইএস) শনিবার সিরিয়ার আহমেদ আল-শারার সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। প্রায় দুই বছর পর আইএস মুখপাত্র আবু হুজাইফা আল-আনসারির প্রকাশিত এটি প্রথম অডিও বার্তা। অনলাইনে প্রকাশিত আগে থেকে রেকর্ড করা ওই বার্তায় তিনি সিরিয়ার নতুন শাসনব্যবস্থা, ধর্মনিরপেক্ষ সরকার ও ন্যাশনাল আর্মির বিরুদ্ধে লড়াইকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
আল-আনসারির আগের বার্তা প্রকাশিত হয়েছিল ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে, যেখানে তিনি গাজায় ইসরাইলের হামলার প্রতিশোধ নিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদ উৎখাতের পর সিরিয়ার বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। আল-শারা অতীতে আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ক্ষমতায় এসে মধ্যপন্থি ভাবমূর্তি গড়ার চেষ্টা করছেন।
সম্প্রতি সিরিয়ার সেনারা কুর্দি বাহিনীর বিরুদ্ধে অগ্রসর হয়েছে, ফলে কুর্দি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বন্দি আইএস সদস্যদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়া থেকে ৫,৭০০–এর বেশি আইএস বন্দিকে ইরাকের কারাগারে স্থানান্তর করেছে।
সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আহ্বান জানাল আইএস
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১০৩ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।