যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৪৭ বছর পর সিরিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। সোমবার ট্রাম্প প্রশাসন সিদ্ধান্তটি কার্যকর করে। ১৯৭৯ সালে সিরিয়াকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক বিধিনিষেধের পর এ পদক্ষেপ সিরিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, সিরিয়ার নতুন সরকার আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ থেকে দূরে থাকার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপ বিবেচনায় রেখেই তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে গত জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ার ওপর থেকে ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
যুক্তরাষ্ট্র হায়াত তাহরির আল-শামের ওপর থাকা সন্ত্রাসী সংগঠনের তকমাও প্রত্যাহার করেছে। সংগঠনটি একসময় আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে ছিল। আল-শারা সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় এখন ইরান, উত্তর কোরিয়া ও কিউবা রয়েছে।
প্রায় ৪৭ বছর পর সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র
সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ঘনিষ্ঠ শীর্ষ ধর্মীয় কর্মকর্তা আহমেদ বদরউদ্দিন হাসুনকে দেশটির আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত অপরাধের দায়ে এ সাজা ঘোষণা করা হয়। ২০০৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতির দায়িত্বে থাকা হাসুনকে গত বছরের মার্চে দামেস্ক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। চলতি বছরের জুনে তার বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।
বিচারক ফখরুদ্দিন আল-আরিয়ান বলেন, হাসুন এবং তার অধীন সরকারি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে আসাদ সরকারের সামরিক অভিযানের পক্ষে ধর্মীয় বৈধতা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিল। আদালতে সাধারণ মানুষের ওপর প্রাণঘাতী ব্যারেল বোমা হামলা, ইদলিবের বাসিন্দাদের বাড়িঘর ধ্বংসের নির্দেশ এবং পূর্ব আলেপ্পো থেকে বেসামরিক মানুষদের উচ্ছেদে সেনাবাহিনীকে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডে উসকানির দায়ে তাকে ২০ বছর এবং সহিংসতা দীর্ঘায়িত করার দায়ে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন। অপরাধের গুরুতরতার কারণে তিনি সাধারণ বা বিশেষ রাষ্ট্রীয় ক্ষমা পাবেন না। তার সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গৃহযুদ্ধকালীন অপরাধে সিরিয়ার সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আহমেদ হাসুনের যাবজ্জীবন
তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক বলেছেন, সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে ইসরাইলের বোমা হামলা ছিল ‘অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি’। সোমবার রাতে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ঘাঁটিটিতে হামলা চালায়। ঘাঁটিটি তুরস্ক সীমান্ত থেকে প্রায় ৪৫ মাইল এবং ইসরাইল থেকে প্রায় ১৮০ মাইল উত্তরে। শুরুতে দায় স্বীকার না করলেও পরে ইসরাইল হামলার কথা স্বীকার করে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, তুরস্ক তাদের বর্তমান অবস্থানের দক্ষিণে ওই ঘাঁটিতে সামরিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছিল এবং সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল। তিনি বলেন, নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতেই হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় নেতানিয়াহু ও তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের দপ্তরের মধ্যে তীব্র কথার লড়াইও হয়।
ব্যারাক বলেন, হামলার আগে সিরিয়া বা তুরস্ক ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ বা আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিচ্ছিল—এমন কোনো প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নেই। সিরিয়া মোসাদকে জানিয়েছিল, সেখানে তুর্কি সেনা, সামরিক বহর বা অস্ত্র নেই। আলোচনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র একটি সমন্বয় কাঠামোও গড়েছিল। ব্যারাক আশা করেন, সব পক্ষ আলোচনায় ফিরে উত্তেজনা কমাবে।
তুরস্ক সীমান্তের কাছে ইসরাইলি হামলাকে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা বললেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত
সিরিয়ায় ইসরাইলি বিমান হামলাকে কেন্দ্র করে তেলআবিব ও আঙ্কারার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। তবে তুরস্ককে শত্রুতে পরিণত করতে চায় না ইসরাইল। ইসরাইলের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংঘাত এড়াতে দুই দেশের মধ্যে গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। আমার দেশ অনলাইন ২৩ আগস্ট ২০২৬ এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।
কান নিউজকে ওই কর্মকর্তা বলেন, বার্তাগুলো কোনো কাজে না এলে ইসরাইলকে পদক্ষেপ নিতে হয়। ইসরাইল সতর্ক করেছে, সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠলে তা প্রতিহত করা হবে। বিশেষ করে সিরিয়ায় তুরস্কের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন ঠেকানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে দেশটি।
এই প্রেক্ষাপটে উত্তর সিরিয়ার আবু আল-দুহুর সামরিক ঘাঁটির অবকাঠামো ও রানওয়েতে হামলা চালায় ইসরাইল। তেলআবিবের দাবি, তুর্কি সামরিক সরঞ্জাম সেখানে পৌঁছানোর আগেই হামলা চালিয়ে দামেস্ককে বার্তা দেওয়া হয়েছে। ইসরাইল বলেছে, সিরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তাদের আপত্তি নেই, তবে সীমান্তে নতুন নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। তুরস্ক হামলার সময় ঘাঁটিতে তুর্কি প্রতিনিধি বা সেনা থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
সিরিয়া ইস্যুতে উত্তেজনার মধ্যে গোপন যোগাযোগে সংঘাত এড়াতে চাইছে ইসরাইল ও তুরস্ক
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি জানিয়েছেন, ইসরাইলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা আপাতত বন্ধ রয়েছে এবং তা পুনরায় শুরুর কোনো তারিখ নির্ধারিত হয়নি। ২৩ আগস্ট ২০২৬ সালে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সিরিয়া ইসরাইলকে বিশ্বাস করে না। চলতি সপ্তাহের শুরুতে সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে ইসরাইল হামলা চালানোর পর দুই দেশের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় বলে তিনি জানান।
শাইবানি বলেন, দামেস্ক আশা করছে শিগগিরই ইসরাইলের সঙ্গে আলোচনা আবার শুরু হবে। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে বলেও তিনি জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ইসরাইলকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে ধারাবাহিকভাবে চাপ দিচ্ছে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সামরিক কৌশলেরও সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের নিরাপত্তা ধরে রাখার চেষ্টা করে ইসরাইল সফল হয়নি। এর বিপরীতে সিরিয়া সমঝোতা, শান্তি ও কূটনীতির জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে হামলার পর ইসরাইলের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত বলছে সিরিয়া
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গ্রামের বেসামরিক গাড়িতে ইসরাইলি ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়েছে কুয়েত। হামলায় কয়েকজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানায়। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে ২৩ আগস্ট ২০২৬।
কুয়েত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরাইলের বারবার হামলা বন্ধে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সিরিয়ায় ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর পুনরাবৃত্ত আগ্রাসন বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও নিরাপত্তা পরিষদকে ভূমিকা নিতে হবে।
ইসরাইল হামলার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, এতে ‘সন্ত্রাসীদের’ লক্ষ্য করা হয়েছিল এবং তাদের বাহিনীর জন্য তৈরি হওয়া ‘তাৎক্ষণিক হুমকির’ জবাবে হামলাটি চালানো হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে এটি সিরিয়ায় ইসরাইলের দ্বিতীয় হামলা। এর আগে মঙ্গলবার ইদলিব প্রদেশের আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়; ইসরাইলের দাবি, সেখানে তুরস্কের সেনা মোতায়েন করা হচ্ছিল।
দামেস্কের কাছে ইসরাইলি ড্রোন হামলার পর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ চেয়েছে কুয়েত
প্রায় ৫০ বছর পর সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে সিরিয়ার ওপর থাকা ব্যাপক মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দেশটির পুনঃএকীভূত হওয়ার পথ আরও প্রশস্ত হতে পারে। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে ২৩ আগস্ট ২০২৬।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর ৮ জুলাই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বিষয়টি কংগ্রেসকে জানায়। আইন অনুযায়ী ৪৫ দিনের পর্যালোচনার সময়সীমা শনিবার শেষ হবে। কংগ্রেস বাধা না দিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন।
১৯৭৯ সালে সিরিয়াকে প্রথম এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে দেশটির ওপর কয়েক দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যা ২০১১ সালের গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী গৃহযুদ্ধের পর আরও ব্যাপক হয়। তবে তালিকা থেকে বাদ পড়লেও সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উঠবে না। সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
প্রায় ৫০ বছর পর সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
সিরিয়ার ইদলিবের আবু-জুহুর বিমানঘাঁটিতে গত সপ্তাহে ইসরাইলি হামলার পর তুরস্ক অভিযোগ করেছে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে নতুন ফাঁদ তৈরি করছেন। বৃহস্পতিবার তুরস্কের প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানায়, নেতানিয়াহুর মতো ব্যক্তির ফাঁদে পা না দেওয়ার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা তাদের আছে।
ইসরাইল দাবি করেছিল, ওই ঘাঁটিতে তুরস্ক সেনা মোতায়েনের চেষ্টা করছিল বলেই হামলা চালানো হয়েছে। তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। হামলায় বিমানঘাঁটির রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ইসরাইল জানায়, হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে তুরস্কের একটি সামরিক প্রতিনিধি দল ঘাঁটিটি পরিদর্শন করেছিল, তবে তুরস্ক ওই দাবিও অস্বীকার করেছে।
সিরিয়ার একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা বলেছে, তুর্কি প্রতিনিধি দলটি কেবল বিমানঘাঁটি পুনর্গঠনের বিষয়টি দেখতে সেখানে গিয়েছিল। তবু নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তুর্কি সেনারা ঘাঁটিতে গিয়েছিল এবং তাদের উপস্থিতি ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। ইসরাইলি আর্মি রেডিওকে তিনি বলেন, উত্তরের দিকে তুর্কি সামরিক বাহিনীর অগ্রগতি ইসরাইল মেনে নেবে না।
সিরিয়ার আবু-জুহুর ঘাঁটিতে হামলার পর নেতানিয়াহুর দাবিকে প্রত্যাখ্যান তুরস্কের
সিরিয়ার ইদলিবে তুরস্ক সীমান্ত থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরের আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে মঙ্গলবার হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। ১৯ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রানওয়ে সংস্কারের কাজ পরিদর্শনে তুর্কি সামরিক প্রতিনিধিদল ঘাঁটিটিতে যাওয়ার পর হামলাটি হয়। তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক সতর্ক করেছেন, এ ঘটনায় তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
ব্যারাক বলেন, হামলার আগে তুরস্ককে সতর্ক করা হয়নি। ফলে তারা ভুলবশত এটিকে নিজেদের ওপর হামলা মনে করে পাল্টা বিমান পাঠাতে পারত। তবে হামলায় কোনো প্রাণহানির খবর না থাকা এবং পরিস্থিতি বড় সংঘাতে না গড়ানোয় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন। ইসরাইল ইঙ্গিত দিয়েছে, সিরিয়ার বিমানঘাঁটিগুলোতে তুর্কি সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই হামলা চালানো হয়েছে।
ভবিষ্যতের ভুল বোঝাবুঝি ঠেকাতে ইসরাইল, সিরিয়া ও তুরস্কের মধ্যে সমন্বয় বা ডিকনফ্লিকশন ব্যবস্থা গড়ার আহ্বান জানান ব্যারাক। যুক্তরাষ্ট্র এমন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে বলে তিনি জানান। তার প্রস্তাবিত ২৪ ঘণ্টার যোগাযোগকেন্দ্রে হিব্রু, আরবি, ইংরেজি ও তুর্কি ভাষাজানা কর্মকর্তারা থাকবেন। তুর্কি সামরিক মোতায়েন ও রাডার নিয়ে ইসরাইলের উদ্বেগ আলোচনার মাধ্যমে নিরসন সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তুরস্ক সীমান্তের কাছে ইসরাইলি হামলার পর সমন্বয় ব্যবস্থার আহ্বান মার্কিন দূতের
১৯ আগস্ট ২০২৬ সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। হামলায় ঘাঁটির রানওয়ে ও কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সিরিয়া ও তুরস্ক তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক হামলাকে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ভুল বোঝাবুঝি ও অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ এড়াতে তুরস্ক, ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে একটি সমন্বয় ব্যবস্থা গঠনের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইসরাইলের দাবি, সিরিয়া ওই বিমানঘাঁটিতে তুর্কি সেনা মোতায়েনের সুযোগ দিয়ে বিদ্যমান একটি নিরাপত্তা সমঝোতা লঙ্ঘনের পথে এগোচ্ছিল। তুরস্ক এ অভিযোগ নিশ্চিত করেনি। অন্যদিকে সিরিয়া হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
ইসরাইলি হামলায় সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটির রানওয়ে ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত
সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানবন্দরে ইসরাইলি বিমান হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। ১৯ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ এ হামলাকে সিরিয়ার ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও আকাশসীমা লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, এই বিমান হামলা বন্ধ হওয়া উচিত এবং জাতিসংঘ এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। হামলার নিন্দা জানিয়ে সিরিয়া জাতিসংঘ মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে চিঠি পাঠানোর পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রতিবেদনে হামলায় হতাহত, ক্ষয়ক্ষতি বা হামলার নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। ইসরাইলের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়নি। সিরিয়ার পাঠানো চিঠি বা জাতিসংঘের বক্তব্যের পর নিরাপত্তা পরিষদ কিংবা অন্য কোনো জাতিসংঘ সংস্থার সম্ভাব্য পদক্ষেপও প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।
আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে হামলার পর ইসরাইলি বিমান হামলা বন্ধে জাতিসংঘের আহ্বান
সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের চাচাতো ভাই ওয়াসিম আল-আসাদকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত। মঙ্গলবার ঘোষিত রায়ে বিচারক ফাখর আল-দীন আল-আরিয়ান বলেন, পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, নির্যাতন এবং একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালত এসব অপরাধকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
রায় ঘোষণার সময় ওয়াসিম আল-আসাদ আসামির কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। এটি সিরিয়ার মাটিতে উপস্থিত অবস্থায় আসাদ পরিবারের কোনো সদস্যের প্রথম বিচার ও দণ্ড বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাশার আল-আসাদ ও তার ভাই মাহের আল-আসাদকেও আগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও তারা রাশিয়ায় নির্বাসনে থাকায় সেসব রায় অনুপস্থিতিতে হয়েছিল। আল জাজিরার সাংবাদিক ওবাইদা হিত্তো রায়টিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেছেন এবং জামাল মনসুর একে সিরীয়দের জন্য গৌরবের দিন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ওয়াসিমকে ২০২৫ সালের জুনে লেবানন থেকে সিরিয়ায় ফেরার পর গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সরকারপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী গঠন ও নেতৃত্ব, সিরীয়দের অপহরণ ও হত্যা এবং পূর্ব ঘৌতার বেসামরিক এলাকায় সামরিক অভিযানে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল। ক্যাপ্টাগন উৎপাদন ও পাচারের অভিযোগে পর্যাপ্ত সরাসরি প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আদালত তার সম্পদ বাজেয়াপ্তেরও নির্দেশ দিয়েছেন; মামলা বৃহত্তর অন্তর্বর্তীকালীন বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ।
যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে ওয়াসিম আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড
দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশের গ্রামীণ মারিয়াহ গ্রামের কয়েকটি অংশে বেসামরিক মানুষের বাড়িঘর লক্ষ্য করে গুলি চালানোর খবর দিয়েছে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। ১৫ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইল নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী এ গুলি চালায়। গুলির শব্দ ও হামলার কারণে গ্রামের কিছু বাসিন্দা নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হন।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-ইখবারিয়া জানিয়েছে, হামলাটি বেসামরিক বসতিকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। তবে ঘটনাটিতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনটিতে হামলার সময়, কতটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা কতজন বাসিন্দা স্থানান্তরিত হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ সিরিয়ায় কয়েক মাস ধরে ইসরাইলি বাহিনীর অনুপ্রবেশ ও হামলার ঘটনা চলছে; এর মধ্যে অভিযান, তল্লাশি ও গ্রেপ্তার রয়েছে। বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর এসব তৎপরতা বেড়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর ইসরাইল ১৯৭৪ সালের বিচ্ছিন্নকরণ চুক্তি অকার্যকর ঘোষণা করে এবং সিরিয়ার বাফার জোনের নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
দারার মারিয়াহ গ্রামে গুলির পর কিছু বাসিন্দা বাড়িঘর ছেড়ে চলে গেছেন
সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ, তার ভাই মাহের আল আসাদ এবং দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশের সাবেক রাজনৈতিক নিরাপত্তা প্রধান আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দামেস্কের একটি ফৌজদারি আদালত। মঙ্গলবার ঘোষিত রায়ে বাশার আল আসাদকে শিশুসহ একাধিক ব্যক্তিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা, নির্যাতন, নির্বিচারে আটক এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
আতেফ নাজিবের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন ও নির্বিচারে আটক, গুলি ব্যবহার করে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে অংশগ্রহণ এবং আটককেন্দ্রে পদ্ধতিগত গণহত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্ত এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে ২০১১ সালে দারায় বিক্ষোভ শুরুর পর আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা অভিযানে নাজিব জড়িত ছিলেন।
নাজিবের বিচার তার উপস্থিতিতে হয়েছে, তবে বাশার ও মাহের আল আসাদের বিচার হয়েছে তাদের অনুপস্থিতিতে। চতুর্থ ফৌজদারি আদালত বাশার ও মাহের আল আসাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রেপ্তারি অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। ২০২৪ সালে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল শারার নেতৃত্বাধীন যোদ্ধাদের ১১ দিনের অভিযানে আল আসাদ সরকারের পতন ঘটে; এরপর তিনি মস্কোতে পালিয়ে যান।
দামেস্কের আদালতে বাশার, মাহের আল আসাদ ও আতেফ নাজিবের মৃত্যুদণ্ড
সিরিয়া জানিয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে, যার আওতায় দেশটিতে থাকা রাশিয়ার দুটি সামরিক ঘাঁটিকে যৌথ প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে। সিরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা সানা রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করে। দুই দেশ আগামী তিন মাসের মধ্যে এই রূপান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন করার বিষয়ে একমত হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় হেমেইমিম বিমানবন্দর এবং তারতুস বন্দরে অবস্থিত রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো ‘যৌথ প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনকেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে সানা জানিয়েছে। সমঝোতাটির মাধ্যমে সিরিয়া ও রাশিয়া উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ঘাঁটি দুটির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। সমঝোতার পর ওই কেন্দ্রগুলোতে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতির ধরন কী হবে, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি। প্রতিবেদনে সমঝোতা স্মারকের অন্য কোনো শর্ত বা কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য দেওয়া হয়নি।
তিন মাসের মধ্যে রুশ ঘাঁটি যৌথ প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে রূপান্তরের সমঝোতা
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বলেছেন, দামেস্ক ইসরাইলের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তি করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ২৬ জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত আল জাজিরার ‘আল মুকাবালা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কয়েকটি দেশের অংশগ্রহণে আলোচনা এগোচ্ছে এবং এটি ভবিষ্যতে একটি বিস্তৃত শান্তি চুক্তির পথ তৈরি করতে পারে।
আল-শারা বলেন, প্রস্তাবিত সমঝোতার লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানো। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ চুক্তির কারণে অধিকৃত গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হবে না। তিনি জানান, সিরিয়া এখন ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায় না এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি সংকট সমাধানের ভিত্তি হতে পারে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর আল-শারা ক্ষমতায় আসেন। এরপর দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরাইলের একাধিক সামরিক অভিযান ও বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে তার বক্তব্য এসেছে। সাক্ষাৎকারে তিনি লেবাননে সিরিয়ার সামরিক হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা নাকচ করেন এবং বলেন, লেবাননের অস্থিতিশীলতা সরাসরি সিরিয়াকে প্রভাবিত করবে।
ইসরাইলের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে নিরাপত্তা চুক্তির আলোচনায় সিরিয়া
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরাইলি বাহিনীর সামরিক অনুপ্রবেশ অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। ২৬ জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ায় তাঁর সরকারি সফরের সময় অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের কথাও বলেন।
গুতেরেস বলেন, ইসরাইল ১৯৭৪ সালের বলপ্রয়োগ নিরসন চুক্তি লঙ্ঘন করছে এবং এ ধরনের লঙ্ঘন গ্রহণযোগ্য নয়; তা বন্ধ করতে হবে। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধের পর সিরিয়া ও ইসরাইলের মধ্যে ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। জাতিসংঘ প্রধান আরও বলেন, সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে পূর্ণ গুরুত্ব ও সম্মান দিতে হবে।
গুতেরেস বর্তমানে ১৭ বছরের মধ্যে প্রথম জাতিসংঘ প্রধান হিসেবে সিরিয়ায় ঐতিহাসিক সরকারি সফরে রয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল ১৯৬৭ সাল থেকে সিরিয়ার গোলান হাইটস দখল করে রেখেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎস গোলান হাইটসের বাফার জোন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে বাহিনীকে নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষাপটে অঞ্চলটির পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে।
সিরিয়ায় ইসরাইলি সামরিক অনুপ্রবেশ বন্ধে গুতেরেসের আহ্বান
সিরিয়ার দেইর ইজোর থেকে দামেস্কগামী সড়কে শনিবার দুটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন। সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত বাস দুটির একটিতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন এবং অন্যটি ছিল সাধারণ যাত্রীবাহী বাস।
দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার এবং লাশ সরিয়ে নিতে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। সানা জানিয়েছে, পালমিরা বিমানবন্দর থেকে আহত ও নিহতদের হোমস শহরের একটি সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনাটি দেইর ইজোর ও দামেস্কের মধ্যকার সড়কে ঘটলেও সংঘর্ষের কারণ সম্পর্কে প্রতিবেদনে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি দুর্ঘটনা মোকাবিলা এবং আহতদের চিকিৎসায় সব ধরনের সহায়তা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার দেওয়া হতাহতের সংখ্যা অনুযায়ী, এ ঘটনায় মোট অন্তত ৬৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন বা আহত হয়েছেন।
দেইর ইজোর-দামেস্ক সড়কে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৩৫, আহত ৩০
প্রায় দেড় দশকের বেশি সময় পর সিরিয়া সফরে গেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ২৫ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার তিনি দেশটিতে পৌঁছান। ২০১১ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরুর পর কোনো জাতিসংঘ মহাসচিবের এটি প্রথম সিরিয়া সফর। দামেস্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গুতেরেস ও তাঁর সফরসঙ্গীদের স্বাগত জানান সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি।
তিন দিনের সফরে গুতেরেস সিরিয়ার রাজনৈতিক উত্তরণ প্রক্রিয়ার প্রতি জাতিসংঘের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করবেন। প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করে। এর আগে সর্বশেষ ২০০৯ সালে তৎকালীন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন সিরিয়া সফর করেছিলেন।
বান কি-মুনের সফরের দুই বছর পর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ নিহত হন এবং সিরিয়া দীর্ঘ সময় সংঘাতে ছিল। বর্তমান সফরে গুতেরেস প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে বৈঠক করবেন। তিনি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সদস্যদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। সম্প্রতি কার্যক্রম শুরু করা সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন পার্লামেন্টে তাঁর ভাষণ দেওয়ারও কথা রয়েছে।
দেড় দশকের বেশি সময় পর সিরিয়া সফরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানার বরাতে জানা গেছে, গত দুই দিনে কুনেইত্রা অঞ্চলের গ্রামীণ এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী একাধিকবার অনুপ্রবেশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচটি সামরিক যান আল-সামদানিয়াহ আল-শারকিয়াহ এলাকায় প্রবেশ করে এবং ইসরাইলি সেনারা সেখানে একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে পথচারীদের তল্লাশি চালায়। অন্যদিকে, আল-হামিদিয়াহ এলাকায় অবস্থানরত ইসরাইলি সেনারা একটি মর্টার শেল ও ধোঁয়াবোমা নিক্ষেপ করে, তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগের দিন সন্ধ্যায় ড্রোন নজরদারির মধ্যে কুদনা বাঁধের কাছে ইসরাইলের ছয়টি সামরিক যান অগ্রসর হয়ে পরে পিছু হটে। দামেস্ক এসব অভিযানকে ১৯৭৪ সালের ‘সেনা প্রত্যাহার চুক্তি’র স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং দক্ষিণ সিরিয়া থেকে ইসরাইলি বাহিনী সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহারের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
এই ঘটনাগুলো ইসরাইল-সিরিয়া সীমান্তে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কুনেইত্রায় ইসরাইলি অনুপ্রবেশে সিরিয়ার নিন্দা, ১৯৭৪ চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ২৪৯ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।