নেদারল্যান্ডসের দক্ষিণ হল্যান্ড প্রদেশের স্কিপলাউডেন গ্রামে বিশ্বের প্রথম ল্যাব-উৎপাদিত বা কালচারড গোশতের খামার স্থাপন করা হচ্ছে। পনির প্রস্তুতকারক কার্ন ভ্যান লিউয়েনের নেতৃত্বে এই সপ্তাহেই একটি দুগ্ধ খামারে প্রথম উৎপাদন মডিউল স্থাপন করা হবে। গবেষক উইলেম ভান এলেন প্রথম কালচারড মিট ধারণাটি দেন, আর ২০১৩ সালে মাসট্রিখট বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্ক পোস্ট গুগলের অর্থায়নে গরুর পেশির স্টেম সেল থেকে বিশ্বের প্রথম ল্যাব-উৎপাদিত হ্যামবার্গার তৈরি করেন। নিবিড় পশুপালনে প্রাণীর কষ্ট কমানো ও পরিবেশগত প্রভাব হ্রাস করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। স্কিপলাউডেনের এই পাইলট প্রকল্পে সরাসরি খামারেই ক্ষুদ্র পরিসরে কালচারড গোশত উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সালের বসন্তে সেখানে একটি অভিজ্ঞতা কেন্দ্র চালু হবে, যেখানে দর্শনার্থীরা পুরো প্রক্রিয়া দেখতে পারবেন। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বায়ো-রিঅ্যাক্টরে প্রাণীর কোষকে পুষ্টি উপাদানসহ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বৃদ্ধি করা হয়, যা প্রাণীর শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের অনুরূপ।
নেদারল্যান্ডসে প্রাণীর কোষ থেকে তৈরি বিশ্বের প্রথম ল্যাব-উৎপাদিত গোশতের খামার চালু হচ্ছে
চীন ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে নেক্সপেরিয়া ইস্যু নিয়ে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এএসএমএলের ব্যবসায় কোনো প্রভাব ফেলেনি বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ক্রিস্তফ ফুকেট। ডাচ এক টেলিভিশনকে তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদে এর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না এবং সংকটের কঠিন সময়ও পেরিয়ে গেছে। সম্প্রতি প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে উদ্বেগের কারণে নেদারল্যান্ডস সরকার চিপ নির্মাতা নেক্সপেরিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেয়, যার ফলে ইউরোপীয় কার্যক্রম ও চীনা কারখানার মধ্যে অচলাবস্থা দেখা দেয়। এতে গাড়ি শিল্পের জন্য অপরিহার্য চিপ সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং বৈশ্বিক গাড়ি নির্মাতারা চাপে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সরবরাহ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। ফুকেট বলেন, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে আগেই আলোচনা করা উচিত ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আগামী সপ্তাহে একটি ডাচ প্রতিনিধি দল চীন সফর করবে।
নেক্সপেরিয়া ইস্যুতে চীন-নেদারল্যান্ডস উত্তেজনা এএসএমএলের ব্যবসায় প্রভাব ফেলেনি
গাজায় সামরিক আগ্রাসন ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলের অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের ঘটনায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপে ব্যর্থ হয়ে পদত্যাগ করেছেন নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাসপার ফেল্ডক্যাম্প। তিনি জানান, অর্থবহ পদক্ষেপে ঐকমত্য আনতে পারেননি এবং মন্ত্রিসভায় তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়েছেন। তবে ফেল্ডক্যাম্প ইসরাইলের দুই মন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ও ইতামার বেন-গভিরের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেন এবং নৌবাহিনীর জাহাজের যন্ত্রাংশের তিনটি রপ্তানি অনুমতি বাতিল করেন। তিনি সতর্ক করেন, গাজার পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং এই অস্ত্র অবাঞ্ছিত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে। ফেল্ডক্যাম্পের পদত্যাগের পর তার দলের সব মন্ত্রী ও রাষ্ট্রমন্ত্রীও সংহতি জানিয়ে সরে দাঁড়ান। ডাচ পার্লামেন্টের বিরোধী দলগুলো ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়ে আসছিল। ফেল্ডক্যাম্প ইইউর সঙ্গে ইসরাইলের বাণিজ্য চুক্তি স্থগিতের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তবে জার্মানির বিরোধিতায় তা আটকে যায়। পরে নেদারল্যান্ডসকে এককভাবে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবিও জোরদার হয়।
নেদারল্যান্ডস ৩০০ সৈন্য এবং একটি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পোল্যান্ডে মোতায়েন করছে, যা ন্যাটো অঞ্চল রক্ষা, ইউক্রেনে সরবরাহ নিরাপদ রাখা এবং রাশিয়ার আগ্রাসন প্রতিরোধের জন্য। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুবেন ব্রেকেলম্যানস এই তথ্য জানান। পূর্ব পোল্যান্ডে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে সন্দেহভাজন রাশিয়ান ড্রোন হামলার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। জার্মানি ও রোমানিয়াতেও সামরিক জেট মোতায়েন করা হয়েছে। ড্রোন হামলায় কোনো হতাহতের খবর নেই।
ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাসপার ভেল্ডক্যাম্প বলেন, সহিংসতা উসকে দেওয়া ও জাতিগত নির্মূলকে সমর্থনের অভিযোগে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচকে নেদারল্যান্ডসে আর স্বাগত জানানো হবে না। তিনি বলেন, তাদের আচরণ শান্তি প্রতিষ্ঠার যেকোনো ধরনের সম্ভাবনাকে বিপন্ন করে এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিমালার লঙ্ঘন ঘটায়। এর প্রতিক্রিয়ায় উগ্রবাদী মন্ত্রী বেন-গভির বলেন, আমাকে যদি পুরো ইউরোপ থেকেও নিষিদ্ধ করা হয়, তবু আমি দেশের জন্য কাজ করে যাব। এছাড়া ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে নেদারল্যান্ডস সরকার ইসরাইলের সামরিক সরঞ্জাম কিংবা দ্বৈত ব্যবহারের পণ্যের ১১টি রপ্তানি লাইসেন্স বাতিল করেছে। তবে আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার উপাদান-সম্পর্কিত দুটি লাইসেন্স অনুমোদন করা হয়েছে। ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতকে জরুরি আলোচনার জন্য তলব করা হবে।
নেদারল্যান্ডস তাদের ২০২৫ সালের রাষ্ট্রীয় হুমকি রিপোর্টে ইসরাইলকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিদেশি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের পর ইসরাইলকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের জন্য সতর্ক করা হয়েছে। এ রিপোর্টে ইসরাইলের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক চাপ, গুপ্তচরবৃত্তি ও সামরিক হুমকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৬০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।