মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা এবং তেল সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্নের উদ্বেগে শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলের দিকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় এ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ৪ ডলার ৮ সেন্ট, বা ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১০৪ ডলার ২৮ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
ইউরোপের শেয়ারবাজারেও দরপতন হয়েছে। ইউরোপের ৬০০টি বড় প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর নিয়ে গঠিত এসটক্স ৬০০ সূচক শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ কমেছে। ফ্রান্সের সিএসি ৪০ সূচক কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।
সরকারি ঋণের বোঝা বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে ইউরোপের বাজারে চাপ অব্যাহত রয়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলের আবহাওয়াজনিত কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, সম্ভাব্য যুদ্ধ বা পরবর্তী বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে উৎসে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য নেই।
যুদ্ধ ও সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে
বিশ্বজুড়ে জীববৈচিত্র্যের দ্রুত পতন ঠেকাতে খাদ্য উৎপাদন ও ভোগের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড বা ডব্লিউডব্লিউএফ। সংস্থাটির ২০২৬ সালের লিভিং প্ল্যানেট রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৭০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পর্যবেক্ষণ করা বন্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর গড় আকার ৭৩ শতাংশ কমেছে। হিসাবটি ৫ হাজার ৭৯০টি প্রজাতির ৩৫ হাজার ৮০৩টি জনগোষ্ঠীর তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে, যেখানে স্থল ও মিঠাপানির বন্যপ্রাণীর গড় জনগোষ্ঠী ৯৫ শতাংশ কমেছে। বাস্তুতন্ত্রের হিসাবে মিঠাপানির প্রাণীদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ; তাদের পর্যবেক্ষিত জনগোষ্ঠীর গড় আকার কমেছে ৮৫ শতাংশ। ডব্লিউডব্লিউএফ বলেছে, খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি সম্প্রসারণের কারণে আবাসস্থল ধ্বংস ও অবক্ষয় জীববৈচিত্র্য হ্রাসের সবচেয়ে বড় চালিকা শক্তি।
সংস্থাটির মতে, প্রকৃতি ও এর সেবা ব্যবস্থার ওপর বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ প্রায় ৫৮ ট্রিলিয়ন ডলারের কার্যক্রম নির্ভরশীল। তবে বন্য বাঘ, সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপ ও কিছু টুনা প্রজাতির পুনরুদ্ধার কার্যকর পদক্ষেপের সম্ভাবনা দেখায়। ডব্লিউডব্লিউএফ প্রকৃতিবান্ধব কৃষি, খাদ্য অপচয় কমানো, বন ধ্বংস বন্ধ এবং পুনরুদ্ধারমূলক বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
বন্যপ্রাণীর পতন ঠেকাতে খাদ্যব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের আহ্বান ডব্লিউডব্লিউএফের
জাতিসংঘ জানিয়েছে, এল নিনোর তীব্রতা আরও বাড়ছে এবং এটি ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বৃহস্পতিবার প্রকাশিত মাসিক ‘গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেট’-এ বলেছে, ১৯৫০ সালের পর দেখা অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো হতে পারে এটি। প্রাকৃতিক এই আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলে তাপমাত্রা বাড়াতে পারে এবং মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও তীব্র করতে পারে।
ডব্লিউএমওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে এবং বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যেতে পারে। এতে খরা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে এল নিনো দেখা দেয়, যা বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের বৈশ্বিক ধরনকে প্রভাবিত করে। সাধারণত এটি প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর হয় এবং প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী থাকে।
সংস্থাটি বলেছে, ২০২৬ সালের অক্টোবর-নভেম্বর-ডিসেম্বরে মধ্য ও পূর্বাঞ্চলীয় ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা রেকর্ড পর্যায়ে যেতে পারে। জুনে তাপমাত্রার অস্বাভাবিকতা ছিল ১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আগস্টে তা ২ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে ওঠে; অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর তা প্রায় ৩ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে পৌঁছাতে পারে। মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেছেন, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এল নিনো থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ।
ডব্লিউএমও বলছে, শক্তিশালী এল নিনো ডিসেম্বরে চূড়ায় উঠতে পারে
যথাযথ কাগজপত্র ছাড়াই নিয়ম ভেঙে কঙ্গো বাছাইপর্বে গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসিকে খেলিয়েছে—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নতুন বিতর্কে পড়েছেন। সূত্র অনুযায়ী, ফিফার আইন বিভাগ বিষয়টি তদন্ত করে এবং নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশন এ নিয়ে অভিযোগ তোলে।
অভিযোগে উল্লিখিত বিষয়গুলো সামনে এলেও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কারিগরি কারণ দেখিয়ে অভিযোগটি খারিজ করে ফিফা। পরে জ্যামাইকাকে হারিয়ে কঙ্গো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয় এবং এমপাসি গোলপোস্টে দায়িত্ব পালন করেন, যার মধ্যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচও ছিল।
ফিফা বলেছে, সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে তাদের একটি স্বায়ত্তশাসিত কমিটি নিয়েছে এবং এতে ইনফান্তিনোর কোনো ভূমিকা ছিল না। তবে তদন্ত চলাকালে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ভেরন মোসেঙ্গো-ওম্বা কঙ্গো ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ ঘটনায় ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
কঙ্গোর গোলরক্ষক যোগ্যতা অভিযোগে ইনফান্তিনোকে ঘিরে নতুন বিতর্ক
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগামী চক্রে দলের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশসহ টেস্ট খেলুড়ে ১২টি দেশই প্রতিযোগিতায় জায়গা পেতে পারে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ বলেছেন, প্রতিটি টেস্ট খেলুড়ে দেশকে চ্যাম্পিয়নশিপের আওতায় আনার সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছে আইসিসি।
বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে নয়টি দল অংশ নেয়। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তান এখনো এই প্রতিযোগিতার বাইরে রয়েছে। ১২ দলের কাঠামো চালু হলে বাংলাদেশের সূচি, প্রতিপক্ষ এবং পয়েন্টের সমীকরণে পরিবর্তন আসবে। ছোট দলগুলোর সঙ্গে আরও বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগও বাড়তে পারে।
তবে ১২ দলের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চালু করা সহজ নয়, কারণ টেস্ট আয়োজনের আর্থিক ব্যয় বড় বিষয়। বিশেষ করে আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের জন্য দীর্ঘ সূচি সামলানো কঠিন হতে পারে। গ্রিনবার্গের মতে, ম্যাচ আয়োজনের খরচের বাইরে খেলোয়াড় তৈরি, অবকাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণেও বড় বিনিয়োগ দরকার। পর্যাপ্ত আয় ছাড়া অনেক দেশের জন্য নিয়মিত টেস্ট আয়োজন কঠিন হতে পারে।
বাংলাদেশসহ ১২ দল নিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সম্প্রসারণ ভাবছে আইসিসি
জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অরৈখিক প্রভাব এবং অসমমিত সংশ্লেষণে স্ব-অনুঘটনের ভূমিকা আবিষ্কারের জন্য ২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফরাসি বিজ্ঞানী অঁরি কাগান ও জাপানের বিজ্ঞানী কেনসো সোআই। নোবেল পুরস্কার প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ বুধবার এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।
শত বছরেরও বেশি পুরোনো এ পুরস্কার প্রদান করে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস। কাগান ও সোআই যৌথভাবে ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা পাবেন, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান।
বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিজ্ঞান পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত নোবেল পাওয়ার পাশাপাশি দুই বিজ্ঞানী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক স্বীকৃতি পাবেন। ঘোষণায় জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার অরৈখিক প্রভাব এবং অসমমিত সংশ্লেষণে স্ব-অনুঘটনের ভূমিকা নিয়ে তাঁদের আবিষ্কারকে পুরস্কারের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পেলেন অঁরি কাগান ও কেনসো সোআই
একসময়ের জনপ্রিয় চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টি পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল, আইসিসি। বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগের সেরা দল নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১৪ সালের পর থেকে টুর্নামেন্টটি বন্ধ রয়েছে।
ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ব্যাপক বিস্তার ও জনপ্রিয়তা বাড়ার প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিযোগিতাটি ফের চালুর আলোচনা জোরালো হয়েছিল। আইপিএল, বিগ ব্যাশ, সিপিএল এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া লিগের শীর্ষ দলগুলো এই টুর্নামেন্টে অংশ নিত। ছয়টি আসরের মধ্যে ভারতীয় দল চারবার শিরোপা জিতেছিল।
তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির কারণে উদ্যোগটি বাস্তবসম্মত হয়নি। বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সঙ্গে উপযুক্ত সময়ে সূচি সমন্বয় করাও জটিল হয়ে দাঁড়ায়। সব দিক বিবেচনার পর আইসিসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টি ফেরানোর ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করেছে।
সূচি জটিলতায় চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টি ফেরানোর পরিকল্পনা বাতিল করেছে আইসিসি
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বুধবার, ৭ অক্টোবর বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ৯৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৫১ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৮২ সেন্ট বেড়ে ৯০ দশমিক ২৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদন এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা এবং সৌদি আরবে ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলা সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এসব উদ্বেগ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে প্রভাব ফেলেছে।
সরবরাহ ঘিরে এই নতুন অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে আরও জোরদার করেছে। প্রতিবেদনের তথ্যসূত্র হিসেবে আল জাজিরার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সরবরাহ উদ্বেগে ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলার ছাড়িয়েছে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়মিত এবং জ্ঞানভিত্তিক কাজের বড় অংশ দ্রুত সম্পন্ন করতে পারায় অফিসে সরাসরি কাজের গুরুত্ব নতুন করে সামনে আসছে। উৎস অনুযায়ী, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা থেকে শেখা, মেন্টরিং এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
করোনা মহামারির পর ঘরে বসে কাজ বা রিমোট ওয়ার্কিং ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। এতে যাতায়াতের সময় ও খরচ কমে এবং কর্মীরা নিজেদের সময়ের ওপর বেশি নিয়ন্ত্রণ পান। তবে দীর্ঘ সময় পুরোপুরি দূর থেকে কাজ করলে নতুন কর্মীদের বাস্তব কর্মপরিবেশে শেখার সুযোগ কমতে পারে। অফিসে অভিজ্ঞ সহকর্মীদের কাজের ধরন, সমস্যা সমাধান এবং প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়া সরাসরি দেখার সুযোগ থাকে।
এআই নতুন কর্মীদের করা সহজ ও নিয়মিত কাজও করে দিতে পারে, যা কাজের চাপ কমালেও অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি পথ সীমিত করতে পারে। ছোট কাজের মধ্য দিয়েই অনেক কর্মী জটিল দায়িত্ব পালনের দক্ষতা গড়ে তোলেন। তাই অফিস ও রিমোট কাজের মধ্যে একটিকে বাদ না দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে; মানবিক বিচারবোধ, নেতৃত্ব, সম্পর্ক এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রয়োজন থাকবে।
এআইয়ের যুগে অফিসে শেখা, মেন্টরিং ও মানবিক সহযোগিতার গুরুত্ব বাড়তে পারে
আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে নির্ণায়ক অবদান এবং মহাজাগতিক উৎসের উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কারের জন্য ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হ্যালজেন। নোবেল কমিটি মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তাঁর নাম ঘোষণা করে। দ্য রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস তাঁকে পুরস্কারে ভূষিত করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং সংস্থাটির মহাসচিব ফোনে তাঁকে এ সম্মাননার খবর জানান।
ফ্রান্সিস হ্যালজেন প্রথম উপলব্ধি করেছিলেন যে অ্যান্টার্কটিকার বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনো নামে পরিচিত কণার গতিপথ শনাক্ত করা সম্ভব। নোবেল কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, অত্যন্ত উচ্চ-শক্তির মহাজাগতিক নিউট্রিনো খুবই বিরল। ফলে পর্যাপ্ত সংঘর্ষ পর্যবেক্ষণের জন্য বিপুল আয়তনের বরফ দরকার হয়।
হ্যালজেনের গবেষণার আইসকিউব এক ঘনকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এর নির্মাণকাজ ২০১১ সালে শেষ হয়। উৎসের তথ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে মহাবিশ্বে নিউট্রিনোর উৎস অনুসন্ধান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
আইসকিউব নিউট্রিনো গবেষণায় ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হ্যালজেন
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়ে সতর্ক করেছেন, মহাকাশকে সামরিক প্রতিযোগিতার নতুন ক্ষেত্র বানালে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। তুরস্কের আনতালিয়ায় আন্তর্জাতিক মহাকাশচারী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবার প্রকাশ্যে পৃথিবীর কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করার পর এরদোয়ান এ মন্তব্য করেন। মার্কিন বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক গত মাসে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কক্ষপথে এমন ‘স্পেস কন্ট্রোল উইপন’ রয়েছে, যা শত্রুপক্ষের হামলা থেকে মার্কিন বাহিনীকে রক্ষায় ব্যবহৃত হতে পারে। অস্ত্রগুলোর ধরন, সক্ষমতা বা অবস্থান জানানো হয়নি। রাশিয়া ও চীনও মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্ক করেছে।
সামরিক মহাকাশ সক্ষমতার মধ্যে স্যাটেলাইট অচল করার প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক জ্যামিং, লেজার ও সাইবার হামলা রয়েছে। স্যাটেলাইট জিপিএস, যোগাযোগ, গোয়েন্দা তথ্য, নেভিগেশন ও সামরিক লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়। স্যাটেলাইট ধ্বংস হলে ধ্বংসাবশেষের ঝুঁকিও বাড়ে। ১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি গণবিধ্বংসী অস্ত্র নিষিদ্ধ করলেও কক্ষপথে প্রচলিত অস্ত্রের বিষয়ে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই।
মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতার ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে এরদোয়ানের সতর্কবার্তা
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল চলতি বছরের জুলাইয়ে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া: দ্য সাপ্লাই অব ওয়েপন্স অ্যান্ড মিউনিশন্স টু ইসরাইল’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় সামরিক আগ্রাসনের পুরো সময়ে ভারত ইসরাইলে বিপুল অস্ত্রের যন্ত্রাংশ ও গোলাবারুদের উপাদান পাঠিয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, এই রপ্তানি ইসরাইলের চলমান গণহত্যায় উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করছে। উৎসে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে পেলেট গান ব্যবহারের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
পেলেট গানকে ১২-বোর পাম্প-অ্যাকশন শটগান হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যার একটি কার্তুজ থেকে শত শত ধাতব ছররা বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ভারত ২০১০ সালে কাশ্মীরে এটি ব্যবহার শুরু করে এবং একে প্রাণঘাতী নয় বা কম প্রাণঘাতী অস্ত্র বলেছে। উৎসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে এ অস্ত্রের আঘাতে ২৪ জন নিহত হন। ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাশ্মীরে ১৮ জন নিহত, ২,৯৪২ জন আহত এবং ১,৪৫৯ জনের গুরুতর চোখের আঘাতের ঘটনা ঘটে; ১৩৯ জন অন্ধ হন।
উৎসে বলা হয়েছে, কৃষক বিক্ষোভ, মণিপুর এবং পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের মিছিল ঠেকাতেও পেলেট গান ব্যবহার করা হয়। দিল্লিতে অন্তত ১০ জন আহত হন। ফিলিস্তিন, চিলি, বাংলাদেশ ও ইরানেও এ অস্ত্র ব্যবহারের উল্লেখ করে লেখাটি বলেছে, জবাবদিহির অভাবের মধ্যে বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে পেলেট গানের ব্যবহার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।
অ্যামনেস্টি প্রতিবেদনে ভারত-ইসরাইল অস্ত্রযোগ ও পেলেট গানের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ
বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্সে ১৯৬০ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছিল, ১৩ নভেম্বর ২০২৬ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা প্রায় অসীম পর্যায়ে পৌঁছালে মানবসভ্যতা ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে। গবেষণাটির লেখক ছিলেন অস্ট্রীয়-আমেরিকান সাইবারনেটিকস বিশেষজ্ঞ হেইঞ্জ ফন ফোয়েস্টার এবং তাঁর দুই শিক্ষার্থী প্যাট্রিসিয়া এম. মোরা ও লরেন্স ডব্লিউ. অ্যামিয়ট। তাঁদের হিসাব ছিল, জনসংখ্যা সাধারণ হারে নয়, ক্রমবর্ধমান গতিতে বাড়ছে।
প্রায় ২ হাজার বছরের ২৪টি জনসংখ্যার হিসাব বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দাবি করেছিলেন যে মানুষের সংখ্যা প্রচলিত পূর্বাভাসকে ধারাবাহিকভাবে ছাড়িয়ে গেছে। এ ধারা চললে ২০২৬ সালে জনসংখ্যা ‘অসীমের কাছাকাছি’ পৌঁছাবে বলে তাঁরা ধারণা করেন। গবেষণাটি বিজ্ঞানী ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং ১৯৬০ থেকে ১৯৮০-এর দশকে জনসংখ্যাবিদ্যা, পরিবেশবিদ্যা ও জেনেটিকসের বিভিন্ন বইয়ে উদ্ধৃত হয়।
পূর্বাভাসটি কয়েক দশক পর্যন্ত তুলনামূলকভাবে নির্ভুল ছিল। তবে ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে বিশ্ব জনসংখ্যা পূর্বাভাসের চেয়ে ধীরগতিতে বাড়তে শুরু করে, যার অন্যতম কারণ জন্মহার কমে যাওয়া। বর্তমানে বিশ্বে জন্মহার ১৯৬০ সালের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। ফলে ১৩ নভেম্বর ২০২৬-এ মানবসভ্যতার অবসানের আশঙ্কার বাস্তব ভিত্তি নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
১৯৬০ সালের জনসংখ্যা পূর্বাভাসে ১৩ নভেম্বর ২০২৬ ধ্বংসের আশঙ্কার বাস্তব ভিত্তি নেই
দ্য ডিসেন্ট তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ছবি নিয়ে ছড়ানো এআই ও কাটআউট-সংক্রান্ত দাবি যাচাই করেছে। ৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ছবিটি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসা বিশ্বনেতা ও তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে ট্রাম্পের আয়োজিত সংবর্ধনায় তিনি অংশ নিয়েছিলেন। ছবির উৎস হিসেবে হোয়াইট হাউসের নাম উল্লেখ করা হয়।
বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্ট দাবি করে, ট্রাম্পের অবয়ব ছবিতে বসানো হয়েছে বা তারেক রহমান ট্রাম্পের ফটো কাটআউটের পাশে দাঁড়িয়েছেন। একই ধরনের প্রশ্ন ওঠে কসোভো, আলবেনিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া ও রোমানিয়ার নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের ছবিগুলো নিয়েও। কসোভোর সংবাদমাধ্যম কোহা জানায়, সংবর্ধনায় ট্রাম্প নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং বিভিন্ন দেশের নেতারা একে একে তাঁর পাশে এসে আনুষ্ঠানিক ছবি তোলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে শুধু হোয়াইট হাউসের নির্দিষ্ট আলোকচিত্রীদের ছবি তোলার অনুমতি ছিল এবং প্রক্রিয়াকরণের পর ছবিগুলো প্রতিনিধিদলগুলোর কাছে পাঠানো হয়। এ কারণে একাধিক দেশের ছবি প্রায় একই সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। যাচাইয়ে আলোচিত নেতাদের ছবিতে এআই ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ট্রাম্পের কার্ডবোর্ড প্রতিকৃতির একটি আলাদা ভাইরাল ছবি ওপেনএআই ব্যবহার করে তৈরি বলে দ্য ডিসেন্ট জানিয়েছে।
ফ্যাক্টচেকে ট্রাম্পের একই ভঙ্গির ছবিকে আনুষ্ঠানিক আয়োজনের ফল বলা হয়েছে
একই মডেলের পেট্রোল সংস্করণের তুলনায় ডিজেল গাড়ির দাম সাধারণত বেশি হয় ইঞ্জিন প্রযুক্তি, শক্তিশালী যন্ত্রাংশ এবং নির্গমন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে। ডিজেল ইঞ্জিনে বাতাসকে অনেক বেশি চাপ দিয়ে সংকুচিত করা হয়। তাই এর ভেতরের যন্ত্রাংশ এমনভাবে তৈরি করতে হয়, যাতে তারা বেশি চাপ ও তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ে, যদিও দুটি গাড়ি দেখতে প্রায় একই রকম হতে পারে।
আধুনিক ডিজেল গাড়িতে টার্বোচার্জার, ইন্টারকুলার এবং উচ্চচাপের ফুয়েল ইনজেকশন ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়। কমন রেইল ডাইরেক্ট ইঞ্জেকশন প্রযুক্তিতে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে উচ্চচাপে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়, যার উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়বহুল। দূষণ কমাতে ডিজেল পার্টিকুলেট ফিল্টার, কিছু ক্ষেত্রে সিলেক্টিভ ক্যাটালিটিক রিডাকশন প্রযুক্তি এবং অ্যাডব্লু-এর মতো তরলও ব্যবহার করা হয়।
দীর্ঘ দূরত্বে নিয়মিত চললে ডিজেল গাড়ির জ্বালানি সাশ্রয় ও বেশি মাইলেজ বাড়তি কেনার খরচের কিছু অংশ সময়ের সঙ্গে পুষিয়ে দিতে পারে। তবে টার্বোচার্জার, ইনজেক্টর বা ডিপিএফ-সংক্রান্ত সমস্যায় মেরামত ব্যয় উল্লেখযোগ্য হতে পারে। শহরে অল্প দূরত্বে ব্যবহারের জন্য পেট্রোল গাড়ি অনেকের কাছে বেশি সুবিধাজনক হতে পারে।
শক্তিশালী ইঞ্জিন ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির কারণে ডিজেল গাড়ির দাম বেশি
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিজ্ঞাপনে এআই দিয়ে তৈরি মানুষের ছবি ও ভিডিওর বাড়তি ব্যবহার তরুণদের মধ্যে অবাস্তব সৌন্দর্যের মানদণ্ড, শরীর নিয়ে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়াতে পারে। মানসিক ব্যাধি থেকে সুস্থ হওয়া শিক্ষার্থী মিয়া পেরুমাল বলেন, তিনি অনলাইনে অত্যন্ত রোগা ও সুন্দর এআই-নির্মিত মানুষের ছবি এবং সেগুলোর মতো শরীর পাওয়ার উপায় জানতে চাওয়া ১২ বছর বয়সী মেয়েদের মন্তব্য দেখেছেন।
ইউডব্লিউই ব্রিস্টলের সেন্টার ফর অ্যাপিয়ারেন্স রিসার্চের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ফিলিপ্পা ডিডরিখস বলেন, অন্যের সঙ্গে তুলনা স্বাভাবিক হলেও তা সংকীর্ণ সৌন্দর্যমানকে কেন্দ্র করে হলে আত্মবিশ্বাস কমতে পারে। বাস্তবে অস্তিত্বহীন ডিজিটাল ছবির সঙ্গে নিজের চেহারা তুলনা করলে নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। যথাযথ নির্দেশনা না থাকলে এআই তার প্রশিক্ষণ ডেটার প্রচলিত সৌন্দর্যধারণাই অনুসরণ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাভাবিক মসৃণ ত্বক, চোখ বা চুলের অস্বাভাবিক গঠন এবং লোমকূপ বা দাগের অনুপস্থিতি এআই ছবির ইঙ্গিত হতে পারে, যদিও শনাক্তকরণ কঠিন হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্যাশন মডেল এআই-নির্মিত জানার পর অনেক ভোক্তার প্রতিক্রিয়া নেতিবাচক হয়। এইচঅ্যান্ডএম ২০২৫ সালে বাস্তব মডেলদের ডিজিটাল টুইন তৈরির পরীক্ষা স্থগিত করেছিল।
এআই-নির্মিত সৌন্দর্যের ছবি তরুণদের শরীর নিয়ে চাপ বাড়াতে পারে বলে সতর্কতা
চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি অভিযান ও স্থায়ী ঘাঁটির বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া। নাসা চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সীমিত মানব হস্তক্ষেপে চলতে সক্ষম চুল্লির প্রস্তুতি নিতে ঠিকাদারদের বলেছে এবং ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। রাশিয়া ও চীন যৌথভাবে ২০৩৬ সালের মধ্যে চন্দ্র চুল্লি চালুর পরিকল্পনা করছে।
স্থায়ী ঘাঁটি, বরফে জমে থাকা পানি ও অন্যান্য সম্পদ অনুসন্ধান এবং সৌরজগতের আরও গভীরে অভিযান এই পরিকল্পনার পেছনের লক্ষ্য। চাঁদের রাত পৃথিবীর হিসাবে প্রায় দুই সপ্তাহ দীর্ঘ হওয়ায় সৌর প্যানেল তখন কার্যকর থাকে না। দক্ষিণ মেরুর চরম তাপমাত্রাতেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পারমাণবিক চুল্লি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। রাশিয়ার সেলেনা চুল্লির সক্ষমতা সর্বোচ্চ ১০ কিলোওয়াট এবং নাসার লুনার রিঅ্যাক্টর ১-এর পরিকল্পিত সক্ষমতা ২০ কিলোওয়াট।
বিশেষজ্ঞরা উৎক্ষেপণ ব্যর্থতা, ভারী তেজস্ক্রিয় উপাদান চাঁদে নিরাপদে নামানো এবং দুর্ঘটনায় দূষণের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া জানিয়েছে, চাঁদে পৌঁছানোর আগে চুল্লি সক্রিয় করা হবে না। তবু তাপ অপসারণ, বিকিরণ সুরক্ষা ও কাঠামোগত স্থায়িত্বের মতো মৌলিক প্রশ্ন এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত উদ্বেগের মধ্যেই চন্দ্র চুল্লি পরিকল্পনা এগোচ্ছে
ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান ডেভিড রবিনসন পদত্যাগ করেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা সংস্কৃতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। রবিনসনের অভিযোগ, দ্রুত নতুন এআই পণ্য উন্মোচনের প্রতিযোগিতায় ওপেনএআই প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। পদত্যাগের সময় বা স্থান সম্পর্কে উৎসে কিছু বলা হয়নি।
দ্য আটলান্টিকে প্রকাশিত এক নিবন্ধে রবিনসন বলেন, শুধু নতুন আইন বা নিরাপত্তানীতি নয়, এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর সাংগঠনিক সংস্কৃতিতেও বড় পরিবর্তন দরকার। তাঁর মতে, এআইয়ের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে বর্তমান নিরাপত্তা ব্যর্থতাগুলো আরও গুরুতর হতে পারে। মানুষের সরাসরি তদারকি ছাড়া ওপেনএআইয়ের এজেন্ট হাগিং ফেসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রম চালানোর ঘটনার পরও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ওই ঘটনার পর ওপেনএআই কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা বাড়ালেও রবিনসনের দাবি, ঝুঁকির তুলনায় এআই উন্নয়নের গতি অত্যন্ত বেশি। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন গবেষকও সম্ভাব্য এআই ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। তবে সমালোচকদের মতে, মানবসভ্যতা ধ্বংসের মতো নির্দিষ্ট পূর্বাভাসের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সীমিত। রবিনসন আশঙ্কা করেন, নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়া এআই হাসপাতালের কম্পিউটার ব্যবস্থা জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবির মতো বড় ক্ষতি ঘটাতে পারে।
এআই নিরাপত্তা সংস্কৃতি ও দ্রুত উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগে পদত্যাগ ডেভিড রবিনসনের
ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ৩ অক্টোবর এক দিনেই ইলন মাস্কের নিট সম্পদ ৬১ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। এতে বিশ্বের শীর্ষ ধনী প্রযুক্তি উদ্যোক্তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে। এই বৃদ্ধির ফলে তিনি এক ট্রিলিয়ন বা এক লাখ কোটি ডলারের সম্পদের মাইলফলকের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, টেসলার শেয়ারের শক্তিশালী উত্থান এবং মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারের ইতিবাচক পারফরম্যান্স মাস্কের সম্পদ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। শুক্রবারের লেনদেনে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সময়ে টেসলার শেয়ারের মূল্যও প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
দুই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের এই উল্লেখযোগ্য উত্থানের সরাসরি প্রভাব পড়েছে মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদে। এর ফলে তার মোট সম্পদ দ্রুত বেড়ে আবারও এক ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই উত্থান বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় মাস্কের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে এবং অন্য শীর্ষ ধনকুবেরদের সঙ্গে তার সম্পদের ব্যবধান বাড়িয়েছে।
টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ার বাড়ায় একদিনে মাস্কের সম্পদ বেড়েছে ৬১ বিলিয়ন ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি-৭ জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ছাড়তে সম্মত হয়েছে। শুক্রবার জোটের দেশগুলো এ বিষয়ে একমত হয়। তারা জি-৭ভুক্ত দেশগুলো থেকে জ্বালানি তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মাধ্যমে এই তেল ছাড়ার কার্যক্রম সমন্বয় করা হবে।
ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোকে নিজস্ব মজুত থেকে তেল ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। তাঁর প্রশাসন সতর্ক করেছিল, ইউরোপ পদক্ষেপ না নিলে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। এতে ইউরোপে ডিজেলের সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারত, কারণ অঞ্চলটি ক্রমেই মার্কিন ডিজেলের ওপর বেশি নির্ভরশীল হচ্ছে। ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দাম কমাতে চান ট্রাম্প।
জি-৭ জানিয়েছে, তেল ছাড়ার প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হয়ে চার মাস চলবে। ঐকমত্যের ভিত্তিতে আগামী ২০ দিনের মধ্যে সদস্যদেশগুলো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল ছাড়বে। ১০ কোটি ব্যারেলের মধ্যে অপরিশোধিত তেল ও ডিজেলের পরিমাণ কত হবে, তা জানানো হয়নি। অতিরিক্ত ডিজেল ছাড়ার প্রয়োজন নিয়ে কয়েক দিনের মধ্যে আইইএর আওতায় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
আইইএর সমন্বয়ে জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়বে জি-৭
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ২৩০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।