টিকটক ব্যবহারকারীদের মধ্যে ডাইরেক্ট মেসেজের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর নতুন সুবিধা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। টেকক্রাঞ্চ ব্লুমবার্গের বরাতে জানিয়েছে, আইফোনের জন্য টিকটক অ্যাপের সর্বশেষ সংস্করণের কোড বিশ্লেষণে ফিচারটির অস্তিত্বের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সুবিধাটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য কবে উন্মুক্ত হবে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি কোনো সময়সীমা জানায়নি।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কেউ টাকা পাঠালে প্রাপক একটি নির্দিষ্ট বোতামে চাপ দিয়ে তা গ্রহণ করতে পারবেন। লেনদেনের সঙ্গে ছোট বার্তা যুক্ত করার সুযোগও থাকতে পারে। এ অর্থ লেনদেনে টিকটকের নিজস্ব পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহৃত হতে পারে, যা বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে টিকটক শপের কেনাকাটায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
আর্থিক সেবায় টিকটকের আগ্রহ নতুন নয়। মার্চে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ব্রাজিলে ঋণ ও অর্থ লেনদেনসেবা দিতে আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজের অনুমতি চেয়েছিল কোম্পানিটি। ফিচারটি পরীক্ষামূলক উন্নয়ন পর্যায়ে থাকায় এটি বিশ্বব্যাপী চালু হবে কি না বা কোন দেশে আগে পাওয়া যাবে, তা নিশ্চিত নয়।
ডাইরেক্ট মেসেজে ব্যবহারকারীদের মধ্যে টাকা পাঠানোর ফিচার আনতে প্রস্তুতি নিচ্ছে টিকটক
জলবায়ু পরিবর্তন এখন পরিবেশগত সংকটের পাশাপাশি অর্থনীতির জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে। তাপপ্রবাহ, বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, দাবানল ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি কৃষি, শিল্প, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুলনামূলক কম কার্বন নিঃসরণকারী দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোই অনেক ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিতে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালে দুর্যোগ বা চরম আবহাওয়ায় আক্রান্ত নিম্নআয়ের দেশের ৬৯ শতাংশ মানুষ আয় হারানোর এবং ৭২ শতাংশ সম্পদ হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
কৃষিনির্ভর অর্থনীতি, ছোট দ্বীপরাষ্ট্র, বাইরে কাজ করা শ্রমিক এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছে। কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ১৩ কোটি পর্যন্ত মানুষ চরম দারিদ্র্যে পড়তে পারে বলে বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস। আইপিসিসির মতে, ছোট দ্বীপরাষ্ট্রে জিডিপির তুলনায় চরম আবহাওয়াজনিত ক্ষতি বেশি হতে পারে, যা সরকারি বাজেট ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে চাপ সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ে বছরে গড়ে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। ২০৫০ সালের মধ্যে কৃষি জিডিপির এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত ক্ষতির ঝুঁকি এবং ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষের অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো, আগাম সতর্কীকরণ, কৃষি অভিযোজন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সামাজিক সুরক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কম নিঃসরণকারী দেশগুলো কম অভিযোজন সক্ষমতা নিয়ে বেশি জলবায়ু ক্ষতির মুখে
ইরানের সামরিক তৎপরতা ও অব্যাহত সমুদ্রপথের নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধের আগের সাত দিনের গড়ের প্রায় ২০ শতাংশে নেমেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনটি ২২ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত হয়।
ইউকেএমটিওর গবেষণা অনুযায়ী, প্রণালিটিতে প্রতিদিন জাহাজ চলাচলের সংখ্যা এক অঙ্কে রয়েছে। গত এক সপ্তাহে ১০৩টি জাহাজ এই কৌশলগত জলপথে প্রবেশ করেছে এবং ৮৯টি বের হয়েছে। প্রবেশ ও বের হওয়া মিলিয়ে মোট চলাচল ছিল ১৯২টি। এ পথে চলাচলকারী জাহাজের ৪৫ শতাংশই ট্যাংকার।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের জাহাজ হয়রানি অব্যাহত থাকার কথাও জানিয়েছে ইউকেএমটিও। এর মধ্যে ড্রোন উড্ডয়ন, ভিএইচএফ রেডিওতে বার্তা এবং সক্রিয় মাইনঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জাহাজ চলাচলের আশঙ্কা রয়েছে। প্রণালির দক্ষিণে ওমানের জলসীমা দিয়ে যাওয়া পথটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। ৬ জুলাই থেকে নথিভুক্ত ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য প্রক্ষেপণাস্ত্র ঘটনার ১৬টিই ওই দক্ষিণ ওমানি রুটে ঘটেছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব গড়ের ২০ শতাংশে নেমেছে
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর বিশ্ব তেলের বাজারে চাপ সীমিত রাখতে চীনের কৌশলগত তেল মজুত ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা রাখছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ২১ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রণালি বন্ধের ছয় মাস পরও বৈশ্বিক তেল সরবরাহের আনুমানিক ১০ থেকে ১৪ শতাংশ বাজারে পৌঁছাতে পারছে না, তবু আগের কয়েকটি মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মতো ব্যাপক অস্থিরতা দেখা যায়নি।
যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হতো, যা বিশ্বের দৈনিক তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। বর্তমান সংকটে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। বছরের শুরুতে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬০ ডলার থাকা ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বর্তমানে প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে।
১৯৭৩ সালের আরব তেল অবরোধে সরবরাহ মাত্র ৭ শতাংশ ব্যাহত হলেও দাম প্রায় চার গুণ বেড়েছিল। ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লব এবং ১৯৯০ সালে কুয়েত আক্রমণের সময় ৬ থেকে ৭ শতাংশ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়ে তেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়ে। চীন বড় পরিমাণে নতুন অপরিশোধিত তেল না কিনে নিজেদের মজুত ব্যবহার করায় বাজারে অতিরিক্ত চাহিদার চাপ তৈরি হচ্ছে না।
হরমুজ বন্ধের মধ্যেও চীনের মজুত ব্যবহারে তেলের বাজারে চাপ তুলনামূলক কম
ওয়াশিংটনের নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে চীন। আলজাজিরার বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় ২১ আগস্ট ২০২৬।
লিন জিয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের ভিত্তি নেই এমন একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে চীন। তিনি বলেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগ এবং চাপ সৃষ্টির কৌশল শুধু উত্তেজনা বাড়াবে, যা কারও স্বার্থে নয়।
চীনা মুখপাত্র সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, বিরোধগুলো সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। তবে উৎসে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত, ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্ভাব্য আলোচনার পরিকল্পনা কিংবা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানিয়েছে চীন
আমার দেশে ২১ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত আল জাজিরার একটি মতামত নিবন্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ইসরাইল পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসলামবিদ্বেষ উসকে দিয়ে আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। নিবন্ধটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ডানপন্থি রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে ইসরাইল নিজেকে কথিত ‘কট্টরপন্থি ইসলাম’-এর বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্বের রক্ষাকবচ হিসেবে উপস্থাপন করছে।
নিবন্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য ও রাজনৈতিক প্রচারণা বৃদ্ধি, ‘শরিয়া-ফ্রি আমেরিকা ককাস’-এর মতো উদ্যোগ এবং মসজিদে হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর জর্জ ডব্লিউ বুশের ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলার বার্তার সঙ্গে বর্তমান মার্কিন ডানপন্থি রাজনীতির পার্থক্যও তুলে ধরা হয়। চলতি জানুয়ারিতে জেরুজালেমে ইসরাইল আয়োজিত ইহুদিবিদ্বেষবিরোধী সম্মেলনে ইউরোপের কট্টর ডানপন্থি দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন বলেও নিবন্ধে বলা হয়েছে।
বিশ্লেষণটিতে ইসরাইলের জনসংযোগ ও হাসবারা প্রচারণার ভূমিকার অভিযোগ তোলা হয়েছে এবং কানাডায় মুসলিম অভিবাসীদের হুমকি হিসেবে দেখানোর কথাও বলা হয়েছে। গাজা যুদ্ধের কারণে ইসরাইলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর প্রচারণা জোরদার হয়েছে বলে এতে দাবি করা হয়। তবে মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ায় ইসলামবিদ্বেষের মাধ্যমে পশ্চিমা সমর্থন ফেরানো নিয়ে নিবন্ধটি সংশয় প্রকাশ করেছে।
মতামত নিবন্ধে পশ্চিমা সমর্থন ফেরাতে ইসলামবিদ্বেষ ব্যবহারের অভিযোগ ইসরাইলের বিরুদ্ধে
জাতিসংঘ মহাসচিব পদপ্রার্থী ও ইকুয়েডরের কূটনীতিক ইভোনে বাকি বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদের এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব জনসংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়লেও পরিষদ সেই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেনি, ফলে প্রায়ই অচলাবস্থা তৈরি হচ্ছে। মঙ্গলবার টোঙ্গা আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণ পরিষদে তার মনোনয়ন জমা দেয়।
বাকির মতে, জনসংখ্যার অংশ কমে গেলেও কিছু মহাদেশ স্থায়ী আসন ধরে রেখেছে, কিন্তু দ্রুত বর্ধনশীল আফ্রিকার কোনো স্থায়ী আসন নেই। এই বৈষম্যই নিরাপত্তা পরিষদের কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি করছে বলে তিনি মনে করেন। ৭৫ বছর বয়সি বাকি ইকুয়েডরের সাবেক মন্ত্রী এবং ফ্রান্স, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বন্ধুত্বের কথাও স্বীকার করেছেন।
মহাসচিব নির্বাচিত হলে শুধু নিউইয়র্কে বসে প্রশাসনিক কাজ না করে যুদ্ধ ও সংঘাতপূর্ণ এলাকাতেও সরাসরি কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন বাকি। ইউক্রেন ও গাজা যুদ্ধসহ বিভিন্ন সংঘাত সমাধানে নারীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি বলেন। এখন প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা আটজন; নির্বাচিত মহাসচিব ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি দায়িত্ব নেবেন।
নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার ও আফ্রিকার স্থায়ী আসনের দাবি ইভোনে বাকির
যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি গোপন নৌপথ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা করেছে বলে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ২০ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতি রাতে ১৫ থেকে ২০টি ট্যাংকার এ পথে পারাপার হচ্ছে। কর্মকর্তাদের দাবি, এর মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন বাহিনী তেলভর্তি ট্যাংকারের পাশাপাশি খালি ট্যাংকারকেও আরব সাগর থেকে হরমুজ পেরিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর বন্দরে যেতে সহায়তা করছে। নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে বড় বহরে জাহাজগুলোকে দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ দিয়ে পার করা হচ্ছে। মার্কিন বিমানবাহিনী ইরানের ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা থেকে জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দিচ্ছে বলেও কর্মকর্তারা দাবি করেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহের সামরিক অভিযানে ইরানের রাডার ও সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থা দুর্বল হয়েছে। তারা চলতি সপ্তাহে আটটি ইরানি ড্রোন ও দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ দিয়ে এখনো বিপুল তেল বের হচ্ছে এবং ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, গোপন হরমুজ রুটে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেল যাচ্ছে
আমার দেশ অনলাইনে ২০ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিদেশে সরকারকে প্রভাবিত বা পরিবর্তনের যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলাফল পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে ইরানকে কেন্দ্রীয় উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৫৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ ও ব্রিটেন ইরানের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেককে ক্ষমতাচ্যুত করে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভিকে পুনরায় ক্ষমতায় আনে। তেলশিল্প জাতীয়করণের উদ্যোগ পশ্চিমা বিরোধিতার অন্যতম কারণ ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শাহের কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে রূপ নেয় এবং আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে শাহের পতন ঘটে। এরপর ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র থেকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হয়। ইরাক-ইরান যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে বেরিয়ে যায় এবং নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে।
ইরাক, আফগানিস্তান ও লিবিয়ায় মার্কিন বা পশ্চিমা হস্তক্ষেপের ফল মিশ্র ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গুয়াতেমালা, ব্রাজিল ও চিলিতে শীতল যুদ্ধকালীন যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত হস্তক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরকার উৎখাতের চেয়ে পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন; তাই সামরিক বা পারমাণবিক সক্ষমতা মোকাবিলা এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থা বদলের প্রচেষ্টার মধ্যে পার্থক্য করা উচিত।
বিদেশে সরকার পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টার মিশ্র ফল নিয়ে প্রতিবেদন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সহায়তা দেওয়া বা দেশটির সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করা দেশগুলোর জন্য ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ২০ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ সতর্কতা দেন। ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা’ শুরু করার ঘোষণা দিলেও এর বিস্তারিত জানাননি এবং কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি।
ট্রাম্প বলেন, কোনো দেশের ব্যাংক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থা ইরানকে আর্থিক কিংবা বাণিজ্যিক সহায়তা দিলে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ প্রায় ছয় মাসে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে এ ঘোষণা এসেছে। কূটনৈতিক সমাধানের তাৎক্ষণিক কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এর আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছিলেন, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে ওয়াশিংটন আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে। প্রতিবেদনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইরানকে সামরিক সহায়তা ও ড্রোন প্রযুক্তি দেওয়ার অভিযোগের কথা বলা হয়েছে; চীন ইরানি তেল কিনে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ট্রাম্প ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনী ব্যাপকভাবে ধ্বংসের দাবি করে বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার শর্তে ভবিষ্যতে আবার আলোচনা হতে পারে।
ইরানকে সহায়তা বা বাণিজ্য করলে কঠোর মার্কিন অর্থনৈতিক শাস্তির হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং জ্যেষ্ঠ ট্রায়াল আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়ের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাকে আদালতের স্বাধীনতার ওপর প্রকাশ্য আক্রমণ বলে নিন্দা জানিয়েছে। বুধবারের বিবৃতিতে আদালত বলেছে, এ পদক্ষেপ একটি নিরপেক্ষ বিচারিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। বিচারক, কৌঁসুলি ও কর্মীদের লক্ষ্য করে এমন ব্যবস্থা আইনের শাসন দুর্বল করে বলেও সতর্ক করেছে আইসিসি। জাপানি বিচারক আকানে ২০২৪ সালের মার্চ থেকে আইসিসির সভাপতি এবং সেয়ে সেনেগালের নাগরিক।
যুক্তরাষ্ট্র আইসিসিকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও মারাত্মকভাবে রাজনীতিকীকৃত প্রতিষ্ঠান আখ্যা দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এমন রাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের তদন্ত, গ্রেপ্তার, আটক বা বিচারের আইসিসি প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যারা আদালতের এখতিয়ার মেনে নেয়নি। তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো উদাহরণ দেননি। ইসরাইলকে নিয়ে আইসিসির তদন্ত ও কার্যক্রমের জেরে এর আগেও ওয়াশিংটন কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।
জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। টোকিও আইসিসির পাশে থাকার কথা জানিয়ে গুরুতর অপরাধের বিচার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। উরসুলা ফন ডার লিয়েন ও আন্তোনিও কস্তা বলেন, আইসিসি কর্মকর্তাদের বাইরের চাপ ছাড়া স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম হতে হবে। নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং দেশটির আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবেন না।
আইসিসি প্রধান ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নিন্দা আদালতের
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়লে ইউরোপে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে ইরান। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ইরানি সরকারের দুই সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বুলগেরিয়া ও সাইপ্রাসে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাও রয়েছে। ১৯ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা কার্যত ভেঙে পড়ার প্রেক্ষাপটে এ বিষয়টি সামনে এসেছে।
মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না এবং নতুন আলোচনা শুরুর পরিকল্পনাও নেই। বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক বিনিময় ও আর্থিক লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা দেয়। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযানে সহযোগিতা না করার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্রদের বিরুদ্ধেও ট্রাম্প কঠোর ভাষা ব্যবহার করছেন।
বিরোধের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হরমুজ প্রণালি। ট্রাম্পের দাবি, নৌপথটি খোলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে স্বাভাবিক চলাচল করছে, তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে জাহাজ চলাচল এখনো খুবই কম। এ সপ্তাহে প্রণালিতে চলাচলরত একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলায় একজন নিহত হন। বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন, অচলাবস্থা চললে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ভেঙে পড়ার মধ্যে ইউরোপে মার্কিন স্থাপনায় হামলা ভাবছে তেহরান
মেটা ফেসবুকে কনটেন্টের রিচ নির্ধারণের নীতিতে পরিবর্তন এনেছে; এতে মৌলিক ও মানসম্পন্ন কনটেন্ট অগ্রাধিকার পাবে এবং নিম্নমানের বা ব্যাপক হারে তৈরি এআইনির্ভর কনটেন্টের বিতরণ কমবে। ১৯ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়, তবে মানুষের সৃজনশীল অবদান বা সম্পাদনাবিহীন পোস্ট নিউজফিড ও রিলে কম দেখানো হবে।
কনটেন্ট মৌলিক কি না নির্ধারণে নির্মাতার মূল ধারণা, সম্পাদনা, ধারাভাষ্য ও নিজস্ব উপস্থাপনা দেখা হবে। অন্যের ভিডিও ডাউনলোড করে পুনরায় পোস্ট করা, লোগো বা সাবটাইটেল যোগ করা কিংবা প্লে-ব্যাক গতি বদলানোকে মৌলিক কাজ ধরা হবে না। মার্চে মেটার নিউজরুম জানায়, মৌলিক নির্মাতারা বেশি রিচ ও আয়ের সুযোগ পাবেন এবং অমৌলিক কনটেন্ট পেছনে পড়বে।
এআই-তৈরি ছবি, অডিও ও বাস্তবসদৃশ ভিডিওতে ‘Made with AI’ লেবেল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মে থেকে সাধারণ পোস্টে এবং জুলাই থেকে বিজ্ঞাপনে লেবেলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হচ্ছে। এআই ব্যবহারের কারণে আয় বন্ধ হবে না, তবে অমৌলিক, ব্যাপক উৎপাদিত বা পুনরায় পোস্ট করা কনটেন্টের মনিটাইজেশন বন্ধ হবে। বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম এনগেজমেন্ট কম গুরুত্ব পাবে, আর প্রকৃত মন্তব্য ও শেয়ার বেশি মূল্য পাবে।
মৌলিক কনটেন্টে অগ্রাধিকার দিচ্ছে মেটা, কমছে অমৌলিক এআই পোস্টের রিচ ও আয়
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড মাস্টার্স ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব এবং বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মালিকানা বা অংশীদারত্ব বিক্রির পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করেছেন। ১৯ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাস্টার্স এই পরিকল্পনাকে ‘আত্মঘাতী’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, বিশ্বকাপের শেয়ার বিক্রির কথা ফিফার ভাবা উচিত হয়নি।
মাস্টার্সের ভাষ্য, সমস্যাটি ফিফাই তৈরি করেছে এবং এর সমাধানও তাদের খুঁজতে হবে। অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফিফার কাজ হওয়া উচিত বিশ্ব ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষা করে আমানত হিসেবে এসব প্রতিযোগিতা আয়োজন করা। তাঁর মতে, প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি বাজে এবং এটি সংস্থাটির নিজের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনফান্তিনোর কর্মকাণ্ড নিয়ে উয়েফাও সমালোচনা করেছে এবং ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাঁর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। লা লিগা প্রধান হাভিয়ের তেবাস তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন। আগামী বছর পুনর্নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কোনো ঐক্য প্রার্থী এলে, মাস্টার্সের মতে তার এজেন্ডায় ফিফা সংস্কার এবং সভাপতির ভূমিকা ও ক্ষমতাসংশ্লিষ্ট কাঠামোগত পরিবর্তন থাকা উচিত।
বিশ্বকাপ অংশীদারত্ব বিক্রির পরিকল্পনায় ফিফাকে তীব্র সমালোচনা মাস্টার্সের
ক্যাসপারস্কির ৭ হাজার ২০০ জনের ওপর বিভিন্ন দেশে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, জেন-জির অনেকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শুধু তথ্য বা কাজের প্রযুক্তি হিসেবে নয়, বন্ধুর মতোও ব্যবহার করছে। ১৯ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, জেন-জির ২৭ শতাংশ এআইয়ের সঙ্গে বন্ধুর মতো কথা বলে এবং ২৮ শতাংশ এমন ব্যক্তিগত বিষয়ে পরামর্শ নেয়, যা তারা অন্য মানুষের সঙ্গে সহজে ভাগ করতে চায় না।
গবেষণা অনুযায়ী, অন্য প্রজন্মের তুলনায় জেন-জির মধ্যে এআই ব্যবহারের হার বেশি। জরিপে অংশ নেওয়া তরুণদের ৪৭ শতাংশ প্রতিদিন বা নিয়মিত এআই ব্যবহারের কথা জানিয়েছে। তাদের ৫৬ শতাংশ তথ্য খোঁজার জন্য, ৪৯ শতাংশ পড়াশোনায়, ৪৭ শতাংশ নতুন ধারণা তৈরিতে এবং ৩৯ শতাংশ কর্মক্ষেত্রের নানা কাজে এআই ব্যবহার করে।
জরিপে নিরাপত্তা বিষয়ে সতর্কতার ঘাটতিও উঠে এসেছে। মাত্র ৪২ শতাংশ জেন-জি ব্যবহারকারী নিয়মিত তথ্য যাচাই ও ব্যক্তিগত বা গোপন তথ্য না দেওয়ার মতো সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়। ৫২ শতাংশ মাঝে মাঝে এসব পদক্ষেপ নেয় এবং ৬ শতাংশ কোনো ব্যবস্থা নেয় না। ক্যাসপারস্কির ভ্লাদিস্লাভ তুশকানভ বলেছেন, এআইয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত কথোপকথনকে সম্পূর্ণ গোপন বা নির্ভরযোগ্য ধরে নেওয়া উচিত নয়।
ক্যাসপারস্কি জরিপে জেন-জির এআইকে বন্ধু ও ব্যক্তিগত পরামর্শদাতা হিসেবে ব্যবহারের চিত্র
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে এবং বিশ্ববাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার গ্রিনিচ মান সময় ০০:০৪ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২৬ সেন্ট বা ০ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ২৮ ডলারে দাঁড়ায়।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ৩৭ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ৩১ ডলারে লেনদেন হয়। মঙ্গলবারের লেনদেন শেষে উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যে বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় সরবরাহ উদ্বেগ বাড়ায় চতুর্থ দিন তেলের দাম বাড়ল
ওপেনএআই ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য শেখা, সমালোচনামূলক চিন্তা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এআই ব্যবহারে সহায়ক আলাদা অভিজ্ঞতা ChatGPT for Teens চালু করেছে। সিস্টেম কাউকে ১৮ বছরের কম বয়সী হিসেবে অনুমান করলে বা ব্যবহারকারী নিজের বয়স ১৩ থেকে ১৭ বললে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই অভিজ্ঞতায় নেওয়া হবে। এতে শক্তিশালী অন্তর্নির্মিত সুরক্ষা, শেখাকেন্দ্রিক টুল এবং অভিভাবকদের জন্য অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
স্টাডি মোড সরাসরি উত্তর দেওয়ার বদলে নির্দেশনামূলক প্রশ্ন ও ধাপে ধাপে সহায়তা ব্যবহার করে। দায়িত্বশীল হোমওয়ার্ক রিমাইন্ডার কোনো শিক্ষার্থী কাজ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে হলে তাকে সহযোগিতামূলক সমস্যা সমাধানের জন্য স্টাডি মোডে পাঠাতে পারে। প্ল্যাটফর্মে কুইজ, শেখার ভিজ্যুয়ালাইজেশন এবং স্টাডি আওয়ারসও থাকবে, যেখানে কিশোর বা অভিভাবক নির্দিষ্ট সময়ে স্টাডি মোড ডিফল্টভাবে চালু রাখতে পারবেন।
ডিফল্ট সুরক্ষা আত্মক্ষতি, সহিংসতা, খাওয়াদাওয়া-সংক্রান্ত ব্যাধি, বিপজ্জনক কাজ এবং স্পষ্ট যৌন বা গ্রাফিক কনটেন্টের ক্ষেত্রগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। সংযুক্ত অ্যাকাউন্টের অভিভাবকেরা কুইয়েট আওয়ারস নির্ধারণ, নির্বাচিত সেটিংস পরিচালনা এবং সীমিত উচ্চঝুঁকির পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নোটিফিকেশন পাবেন। ওপেনএআই খাওয়াদাওয়া-সংক্রান্ত ব্যাধি বিষয়ে অতিরিক্ত নোটিফিকেশন যোগ করছে এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের এআই বোঝার উপকরণ দিতে CodeAI-এর সঙ্গে অংশীদারত্ব ঘোষণা করেছে।
স্টাডি মোড, নিরাপত্তা সুরক্ষা ও অভিভাবক নিয়ন্ত্রণসহ কিশোরদের জন্য চ্যাটজিপিটি চালু
ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি এবং গাজায় চলমান পরিস্থিতির প্রতিবাদে আগামী ১০ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর প্যালেস্টাইন। ১৯ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন দেশের ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠন, মানবাধিকারকর্মী, শ্রমিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে এতে অংশ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার তুলে ধরা, গাজায় যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানানো এবং তাদের প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি। ঘোষিত ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডে অব অ্যাকশনে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ, সমাবেশ, মিছিল ও অন্যান্য শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর প্যালেস্টাইন বলেছে, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানানো এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপ বাড়ানোই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। গাজায় যুদ্ধ ও মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে জনমত আরও সংগঠিত করার চেষ্টা করা হবে। সংগঠনটি বিভিন্ন দেশের ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিজ নিজ এলাকায় ১০ অক্টোবরের কর্মসূচি সফল করতে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
১০ অক্টোবর ফিলিস্তিনের পক্ষে বিশ্বব্যাপী কর্মসূচির ডাক
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বিক্রির পরিকল্পনার সমালোচনা করার পর চাকরি হারিয়েছেন সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কেভিন লামুর। ফিফার একজন মুখপাত্র বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৭ আগস্ট ২০২৬ সালে ফিফার সঙ্গে কেভিনের কর্মসম্পর্ক শেষ হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বিক্রি নিয়ে ফিফার প্রস্তাবটি তুমুল বিতর্কিত। এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিলেন কেভিন লামুর। তার সমালোচনার সঙ্গে চাকরি হারানোর ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিতর্কিত প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার তিন সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে কেভিনের চাকরি চলে যায়। ফিফার মুখপাত্র কর্মসম্পর্ক শেষ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, প্রতিবেদনে বরখাস্তের বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত কারণ বা পরবর্তী পদক্ষেপের তথ্য দেওয়া হয়নি।
বিশ্বকাপ অংশীদারত্ব বিক্রির পরিকল্পনার সমালোচনার পর কেভিন লামুরকে বরখাস্ত করেছে ফিফা
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর নির্ভরতা কমাতে চীন আর্কটিক মহাসাগর হয়ে রাশিয়ার উত্তর উপকূল ঘেঁষা ‘আইস সিল্ক রোড’ চালু করেছে। চীনা জাহাজ কোম্পানি সি লিজেন্ড রাশিয়ার নর্দার্ন সি রুট ব্যবহার করে চীন থেকে ইউরোপে নিয়মিত পণ্য পরিবহন শুরু করেছে। এই রুটে চীনের নিংবো বন্দর থেকে যুক্তরাজ্যের ফেলিক্সস্টো বন্দরে পণ্য নেওয়া হবে।
সুয়েজ খাল হয়ে চীন থেকে ইউরোপে যেতে ৪০ দিনের বেশি সময় লাগতে পারে, যেখানে আর্কটিক রুটে সময় প্রায় ১৮ থেকে ২০ দিনে নামানো সম্ভব বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে জ্বালানি ব্যয় ও পরিবহন সময় কমতে পারে। সুয়েজ খাল, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধ, হামলা বা রাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্ব বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলে বিকল্প পথের প্রয়োজন বাড়ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনে আর্কটিকের বরফ কমা এবং বরফভাঙা জাহাজের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই পথের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বাড়ছে। তবে অনিশ্চিত আবহাওয়া, বরফজনিত ঝুঁকি, আইসব্রেকারের প্রয়োজন, বেশি বীমা খরচ এবং রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণের কারণে রাজনৈতিক ঝুঁকি রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রুটটি শিগগির সুয়েজ বা হরমুজকে প্রতিস্থাপন করবে না, তবে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে।
চীন আর্কটিক নৌপথে ইউরোপে পণ্য পরিবহন শুরু করেছে
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৩৪ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।