ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শুক্রবার যৌথভাবে এক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন, যেখানে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সংঘাত শেষ হলে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিতে একটি বহুজাতিক বাহিনী গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়। গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১২টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইউরোপের প্রায় ৩০ জন নেতা এবং আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এলিসি প্রাসাদের তথ্যমতে, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক মিশন মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলে ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে, ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বেড়ে যায়। বর্তমানে নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নিজস্ব অবরোধ বজায় রেখেছে। ইউরোপীয় নেতারা আশঙ্কা করছেন, অবরোধ অব্যাহত থাকলে মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্য সংকট ও জ্বালানি ঘাটতি আরও বাড়বে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এই অবরোধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে এবং ফরাসি নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব পড়ছে।
কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরই এ ধরনের বাহিনী মোতায়েন করা হবে। একই সঙ্গে ইউক্রেনকে সহায়তায় যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে একটি ইউরোপীয় বাহিনী গঠনের উদ্যোগেও নেতৃত্ব দিচ্ছেন ম্যাক্রোঁ ও স্টারমার।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় যুদ্ধ-পরবর্তী বহুজাতিক মিশন নিয়ে ম্যাক্রোঁ-স্টারমারের আলোচনা
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নিশ্চিত করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত সত্ত্বেও ইরান ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে খেলবে। সিএনবিসি আয়োজিত এক অর্থনৈতিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ইরান অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপে অংশ নেবে এবং তিনি আশা করেন, তখন পরিস্থিতি শান্ত থাকবে। ইনফান্তিনো জোর দিয়ে বলেন, খেলাধুলা রাজনীতির বাইরে থাকা উচিত এবং ফিফা সেই সেতুবন্ধন রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে।
ইরান পূর্বে যুদ্ধাবস্থার কারণে ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি তুললেও ফিফা তা প্রত্যাখ্যান করে। ইনফান্তিনো বলেন, ইরান যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং তাদের খেলোয়াড়রা খেলতে চায়, তাই তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফিফা রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও বিশ্ব ফুটবলের ঐক্য বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সূচি অনুযায়ী, ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ, যা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে। ইরান ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে, এরপর বেলজিয়াম ও মিসরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
ইনফান্তিনো বললেন, যুক্তরাষ্ট্রেই ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবে ইরান
এশিয়ার বাজার খোলার পর আন্তর্জাতিক তেলের দাম কমে গেছে। ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে—এমন আশাবাদ থেকেই বাজারে এই প্রভাব পড়েছে। শুক্রবার (০০:২১ GMT) পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ১ শতাংশের বেশি কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮.০৫ ডলারে নেমে আসে, আর যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দামও ৯৪ ডলারের নিচে নেমে গেছে।
এর আগে মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার কারণে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। সম্প্রতি তা কমে ১০০ ডলারের নিচে নেমেছে, যদিও পুরো সপ্তাহে দাম ৯০ ডলারের ঘরেই ছিল। ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কমে আসায় বাজারে এই পতন দেখা যাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এই সপ্তাহে পাকিস্তানে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। এই সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধবিরতি ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ইঙ্গিতে তেলের দাম কমেছে
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আক্রমণের পর পোপ লিও বিশ্বজুড়ে স্বৈরাচারী শাসনের নিন্দা জানিয়েছেন। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যামেরুন সফরকালে তিনি যুদ্ধের পেছনে শত শত কোটি ডলার ব্যয়কারী বিশ্ব নেতাদের তীব্র সমালোচনা করেন এবং তার মন্তব্যকে অস্বাভাবিকভাবে জোরালো বলে বর্ণনা করা হয়।
পোপ লিও বলেন, যুদ্ধের নায়কেরা এমন ভান করেন যেন তারা জানেন না যে ধ্বংস করতে এক মুহূর্তই যথেষ্ট, অথচ পুনর্গঠনের জন্য এক জীবনও যথেষ্ট নয়। তিনি আরও বলেন, হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও নিরাময়, শিক্ষা ও পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের অভাব রয়েছে।
তার এই বক্তব্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি একটি শক্ত বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে যুদ্ধের পরিবর্তে মানবিক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
ট্রাম্পের আক্রমণের পর স্বৈরাচারী শাসন ও যুদ্ধ ব্যয়ের নিন্দা পোপ লিওর
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, মে বা জুন মাস নাগাদ বিমান চলাচল ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধস নামতে পারে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালির মাধ্যমে হয়, যা বন্ধ থাকায় এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে।
বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জি ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, জ্বালানি স্বল্পতার কারণে মে মাস থেকেই ফ্লাইট বাতিল শুরু হতে পারে। আইইএ সতর্ক করেছে, ইউরোপ যদি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা তেলের অন্তত ৫০ শতাংশ বিকল্প উৎস থেকে সংগ্রহ করতে না পারে, তবে জুন নাগাদ তাদের মজুত ২৩ দিনের সংকটকালীন স্তরে নেমে আসবে। ওইসিডি ইউরোপীয় দেশগুলো, যার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটেন ও নরওয়ে রয়েছে, তাদের ৩০ শতাংশের বেশি জেট ফুয়েল আমদানি করে, যার বেশিরভাগই আসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে।
ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, এখনো পুরোপুরি জ্বালানি ফুরিয়ে যায়নি, তবে সরবরাহ সংকট অনিবার্য হয়ে উঠেছে। মুখপাত্র আন্না-কাইসা ইকোনেন সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে মে মাস থেকে বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলে নজিরবিহীন অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধে জেট জ্বালানি সংকট, বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল হুমকিতে
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করেছেন বর্ণাঢ্য উৎসবের মাধ্যমে। পর্তুগালের পোর্তো শহরে সেন্ট্রো সিনেমা বাতালহো ও পোর্তো বাংলাদেশ কমিউনিটির যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় পিঠা উৎসব, যেখানে পরিবেশিত হয় দেশীয় পিঠা ও প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘বরবাদ’। আয়োজকদের মতে, প্রবাসে থেকেও বাংলা সংস্কৃতি ধরে রাখার এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও চলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে টাইমস স্কয়ার ও জ্যাকসন হাইটসে মঙ্গল শোভাযাত্রা, সংগীত, নৃত্য ও লোকজ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে জমে ওঠে বর্ষবরণ উৎসব। পান্তা-ইলিশ, পিঠা উৎসব ও শিশুদের অংশগ্রহণ উৎসবকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত। মিশরের কায়রোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা হেলিওপোলিস আন্তর্জাতিক উদ্যানে আয়োজন করেন বৈশাখী উৎসব, যেখানে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, দেশীয় খাবার ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। মালয়েশিয়াতেও প্রবাসীরা লাল-সাদা পোশাকে গান, কবিতা ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের মাধ্যমে উদযাপন করেন পহেলা বৈশাখ।
প্রবাসীদের মতে, এসব আয়োজন শুধু আনন্দের নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
বিশ্বজুড়ে প্রবাসীদের বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন
২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল এমিরেটস স্টেডিয়ামে স্পোর্টিং সিপির বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেও উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে উঠেছে আর্সেনাল। কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে গোল না পেলেও প্রথম লেগে লিসবনে ১–০ ব্যবধানে জয়ের সুবাদে গানাররা শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করে। ম্যাচে আর্সেনাল বল দখলে এগিয়ে ছিল ৫৫ শতাংশ সময়, মোট ১৬টি শট নেয় যার মধ্যে মাত্র একটি ছিল লক্ষ্যে। স্পোর্টিং সিপি ১০টি শট নেয়, যার মধ্যে একটি ছিল অনটার্গেটে।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্পোর্টিং চাপ সৃষ্টি করলেও আর্সেনাল পাল্টা আক্রমণে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে, যার মধ্যে লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের একটি হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। শেষ দিকে গোলের সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি স্পোর্টিং। গোলরক্ষক ডেভিড রায়া ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় বিপদ এড়ায় স্বাগতিকরা।
সেমিফাইনালে আর্সেনালের প্রতিপক্ষ অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, যারা বার্সেলোনাকে ৩–২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে। প্রথম লেগ হবে ৩০ এপ্রিল মাদ্রিদে, ফিরতি লেগ ৬ মে এমিরেটসে। অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখ।
স্পোর্টিংয়ের সঙ্গে ড্র করেও চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে আর্সেনাল
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিসার্চ, অ্যাডভোকেসি, পলিসি অ্যান্ড ক্যাম্পেইনস বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক এরিকা গুয়েভারা রোসাস ইসরাইলের সঙ্গে সব ধরনের সামরিক সহযোগিতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বিভিন্ন অঞ্চলে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন চালিয়ে যাচ্ছে।
রোসাসের মতে, এসব লঙ্ঘনের মধ্যে রয়েছে গাজায় গণহত্যা, পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ, বর্ণবৈষম্য ও দখলদারি নীতি, পাশাপাশি লেবাননে হামলা ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা আন্তর্জাতিক অপরাধে সম্পৃক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তিনি বিশেষভাবে ইতালি সরকারকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন–ইসরাইল অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি স্থগিতের পক্ষে অবস্থান নিতে আহ্বান জানান এবং বলেন, কেবল বক্তব্য নয়, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণহত্যা বন্ধে এখন বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরাইলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বন্ধের আহ্বান অ্যামনেস্টির
ক্রিকেটের ‘বাইবেল’খ্যাত উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমানাকের সর্বশেষ সংস্করণে বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। সম্পাদক লরেন্স বুথ বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ক্রমশ অরওয়েলীয়’ বলে বর্ণনা করে দাবি করেছেন, খেলাধুলার ওপর রাজনীতির প্রভাব এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী ও চেয়ারম্যান দুজনই ভারতীয়, এবং চেয়ারম্যান জয় শাহ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ছেলে ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
উইজডেনের মতে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কার্যত ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের একটি ক্রীড়া সহযোগী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে, যা ভারতের প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করেছে। ২০২৫ সালের এশিয়া কাপের উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে, ভারত-পাকিস্তানের সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে খেলোয়াড়দের হাত না মেলানো ক্রিকেটে রাজনীতির অনুপ্রবেশের স্পষ্ট চিত্র। ভারতের অধিনায়কের জয় সশস্ত্র বাহিনীকে উৎসর্গ করা এবং মোদির সামরিক ভাষায় বার্তা দেওয়াও রাজনৈতিক প্রতীকের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশেও পড়ছে। সবশেষে উইজডেন সতর্ক করেছে, ভারতের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক প্রভাবের ছায়ায় বিশ্ব ক্রিকেট তার প্রতিযোগিতামূলক চরিত্র ধরে রাখতে পারবে কি না, তা এখন বড় প্রশ্ন।
বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উইজডেনের কঠোর সমালোচনা
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চলতি বছরের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩.১ শতাংশ করেছে, যা আগের ৩.৩ শতাংশের তুলনায় কম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে এবং আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালায়। এতে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়ে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়েছে এবং আমদানি-নির্ভর দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইএমএফের সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ৩.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থেকে এটি একটি উল্লেখযোগ্য পতন। ইরানের ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস ৭.২ পয়েন্ট কমে ৬.১ শতাংশ সংকোচনের দিকে গেছে, সৌদি আরবের প্রবৃদ্ধি ৪.৫ থেকে ৩.১ শতাংশে নেমেছে। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধি ১.১ শতাংশে এবং মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার ১.৯ শতাংশে নামানো হয়েছে। আইএমএফ জানিয়েছে, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ৪.৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা জানুয়ারির তুলনায় ০.৬ পয়েন্ট বেশি।
তেলবাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সম্ভাবনায় দাম কিছুটা কমেছে। আইএমএফ সতর্ক করেছে, সংঘাতের প্রভাব অসম হবে এবং নিম্নআয় ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়বে।
হরমুজ অবরোধে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩.১ শতাংশে নামাল আইএমএফ
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের প্রথম মাসেই বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি তেল ও গ্যাস কোম্পানি প্রতি ঘণ্টায় ৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অতিরিক্ত মুনাফা করেছে বলে দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশেষ বিশ্লেষণে জানা গেছে। মার্চ মাসে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি গড়ে ১০০ ডলারে পৌঁছানোর ফলে কোম্পানিগুলো প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত আয় করেছে। যদি তেলের দাম এই পর্যায়ে থাকে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগে, তবে বছরের শেষে মোট মুনাফা ২৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
সবচেয়ে বেশি লাভবানদের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরামকো, গ্যাজপ্রম ও এক্সনমোবিল, যারা জলবায়ু পদক্ষেপের বিরোধী হিসেবেও পরিচিত। জ্বালানির দাম বাড়ায় সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইতালি, ব্রাজিল ও জাম্বিয়াসহ কয়েকটি দেশ কর কমিয়েছে, ফলে সরকারগুলোর রাজস্ব কমেছে। ইউরোপীয় কমিশন যুদ্ধকালীন মুনাফার ওপর কর আরোপের প্রস্তাব বিবেচনা করছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, কর্পোরেট মুনাফা বাড়লেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়তে পারে।
ইরান সংঘাতে তেলের দাম বাড়ায় ঘণ্টায় ৩০ মিলিয়ন ডলার মুনাফা করছে তেল কোম্পানিগুলো
অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস) নতুন অ্যাপ্লিকেশন ‘অ্যামাজন বায়ো ডিসকভারি’ চালু করেছে, যা কম্পিউটেশনাল ডিজাইন ও ল্যাব যাচাই প্রক্রিয়াকে একত্রে নিয়ে আসে। এই প্ল্যাটফর্মে ৪০টিরও বেশি এআই বায়োলজি মডেল রয়েছে এবং ব্যবহারকারীরা নিজস্ব বা তৃতীয় পক্ষের মডেলও যুক্ত করতে পারেন। এতে এজেন্টিক সহায়ক রয়েছে, যা গবেষকদের মডেল নির্বাচন, কনফিগারেশন ও প্রার্থী মূল্যায়নে সহায়তা করে। কন্ট্রাক্ট রিসার্চ অর্গানাইজেশন অংশীদারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের মাধ্যমে ল্যাব পরীক্ষার ফলাফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমে ফিরে আসে, যা পরবর্তী গবেষণা চক্র উন্নত করে।
এডব্লিউএস জানিয়েছে, এই টুলটি কম্পিউটেশনাল জীববিজ্ঞানী ও বেঞ্চ বিজ্ঞানীদের মধ্যে সহযোগিতার বাধা দূর করতে তৈরি হয়েছে। এটি একটি নো-কোড পরিবেশে ওয়ার্কফ্লো তৈরি ও পরীক্ষার সুযোগ দেয়। কম্পিউটেশনাল বিশেষজ্ঞরা পুনঃব্যবহারযোগ্য ওয়ার্কফ্লো তৈরি করতে পারেন, আর বেঞ্চ বিজ্ঞানীরা কোড ছাড়াই একাধিক পরীক্ষা চালাতে ও প্যারামিটার পরিবর্তন করতে পারেন। উভয় দল একই ডেটা ও ফলাফলের উপর কাজ করে, যা পুনরুত্পাদনযোগ্যতা ও গতি বাড়ায়।
অ্যামাজন বায়ো ডিসকভারি এডব্লিউএসের নিরাপদ অবকাঠামোর উপর নির্মিত এবং এখনই ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত। এটি গবেষণা সংস্থাগুলোর জন্য ল্যাব-ইন-দ্য-লুপ ওষুধ আবিষ্কারকে আরও সহজ ও সম্প্রসারণযোগ্য করে তুলতে তৈরি হয়েছে।
এডব্লিউএস চালু করল অ্যামাজন বায়ো ডিসকভারি, এআই ও ল্যাব যাচাই একত্রে আনছে
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ইরানকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে চীনের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জবাবে বেইজিং জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, তবে চীন কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই অভিযোগকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে, তবে চীন দৃঢ়ভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে। তিনি আরও বলেন, চীন ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করছে বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে ঘিরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির পর চীনের কঠোর পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঘোষণা
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই মালাক্কা প্রণালি নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সদ্য সম্পন্ন প্রতিরক্ষা চুক্তি এই জল্পনা উস্কে দিয়েছে যে, ওয়াশিংটনের মনোযোগ এখন সম্ভবত মালাক্কা প্রণালির দিকে বাড়ছে। এই সপ্তাহের শুরুতে চূড়ান্ত হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বিমান ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করে আরও বেশি অভিযান চালাতে পারবে। যদিও একে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বলা হয়েছে, এটি কার্যত মালাক্কা প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও কার্যক্রমের পরিধি বাড়াবে।
ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর যৌথভাবে এই নৌপথ পরিচালনা করে। নতুন চুক্তির পর প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র কি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সংকীর্ণ পথগুলো সুরক্ষিত করতে তার ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল পুনর্বিন্যাস করছে। মালাক্কা প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর, যা জ্বালানি, উৎপাদিত পণ্য ও শিল্প উপকরণ পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ করে চীন জ্বালানি আমদানির জন্য এই পথের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যা এর কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে।
মালাক্কা প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নজর বাড়ায় নতুন উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে ক্ষতির আশঙ্কা ছিল, তার বড় অংশ ইতোমধ্যেই হয়ে গেছে। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বসন্তকালীন বৈঠকে সংস্থাটি নতুন অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রকাশ করে জানায়, সংঘাত এখনই থেমে গেলেও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে যাবে।
আইএমএফ সতর্ক করে বলেছে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এবং অবকাঠামোগত ক্ষতি বাড়তে থাকলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে এবং আগামী বছরে মুদ্রাস্ফীতি ৬ শতাংশের বেশি হতে পারে। সংস্থার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রভাব সব দেশে সমানভাবে পড়বে না; মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে।
উন্নয়নশীল দেশগুলো উন্নত দেশের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ প্রভাব অনুভব করবে, বিশেষ করে জ্বালানি আমদানি-নির্ভর অর্থনীতিতে। বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও সরবরাহ অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে খাদ্য, জ্বালানি ও পরিবহন খাতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল–ইরান সংঘাতে বৈশ্বিক অর্থনীতির বড় ক্ষতি ইতোমধ্যেই হয়েছে বলে জানাল আইএমএফ
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে যে ইরানে যুদ্ধের উত্তাপ বৃদ্ধি এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে পারে। সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানি বাজারে ধারাবাহিক ধাক্কায় বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি বর্তমান ৩ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
আইএমএফ তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছে। যুদ্ধ স্বল্পস্থায়ী হলে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে তেলের দাম গড়ে ৮২ ডলারে নামতে পারে। মধ্যম পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এ বছর তেলের দাম ১০০ ডলারের আশেপাশে থাকবে এবং ২০২৭ সালে তা ৭৫ ডলারে নেমে আসতে পারে, ফলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের ৩ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়াবে। সবচেয়ে নেতিবাচক পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালে তেলের দাম ১১০ ডলার এবং ২০২৭ সালে ১২৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়ের-অলিভিয়ের গৌরিনকাস বলেছেন, বর্তমান সরবরাহ বিঘ্ন ও যুদ্ধের অনিশ্চয়তা বিবেচনায় মধ্যম বা প্রতিকূল পরিস্থিতিই এখন বেশি বাস্তবসম্মত। সংস্থাটি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে এই সংকট বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে।
ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি অস্থিরতায় বিশ্বমন্দার আশঙ্কা জানিয়েছে আইএমএফ
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এবং জ্বালানির দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে পারে। ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল ওয়াশিংটনে প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি আগামী বছর ২ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে, আর পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় সংকট অব্যাহত রয়েছে।
আইএমএফ জানিয়েছে, তেলের দাম গড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার থেকে ২০২৭ সালে ১২৫ ডলারে পৌঁছালে প্রবৃদ্ধি আরও কমবে এবং মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে উঠতে পারে। প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়েরে-অলিভিয়ের গোরিনচা বলেছেন, এমন পরিস্থিতি অনেকের কাছে মন্দার মতো অনুভূত হবে, বেকারত্ব ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বাড়বে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উন্নত অর্থনীতি হতে পারে, আর ইরান, ইরাক ও কাতারে এ বছর প্রবৃদ্ধি তীব্রভাবে সংকুচিত হবে।
যদি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংঘাতের সমাধান হয় এবং জ্বালানি রপ্তানি স্বাভাবিক হয়, তবে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হতে পারে, যদিও তা আগের পূর্বাভাসের চেয়ে কম।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা জানিয়েছে আইএমএফ
বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালীতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই ইউরোপের দেশগুলো একটি বড় জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এই পরিকল্পনা কার্যকর করা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হুমকিতে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলো চরম উদ্বেগে রয়েছে, কারণ তাদের অর্থনীতি মূলত এই প্রণালী দিয়ে তেল রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। এদিকে কাতার সমুদ্রপথে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে এবং সৌদি আরব জানিয়েছে যে তারা তাদের পূর্ব–পশ্চিম পাইপলাইন পূর্ণ ক্ষমতায় চালু করেছে।
সৌদি আরবের এই পাইপলাইন প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পারে এবং মানিফা তেলক্ষেত্র থেকে অতিরিক্ত ৩ লাখ ব্যারেল সরবরাহের প্রস্তুতি রয়েছে। সংকটময় পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো বিকল্প রুট ও নতুন কৌশলের ওপর নির্ভর করছে অর্থনীতি সচল রাখতে।
যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াই হরমুজ প্রণালী সচল রাখতে ইউরোপের জোট পরিকল্পনা
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, সারা বিশ্বে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক আইন পদদলিত হচ্ছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, শক্তি প্রয়োগের নিয়মগুলো উপেক্ষা করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড রক্ষার প্রয়োজনীয়তা এখন আগের চেয়ে বেশি।
গুতেরেস জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান আলোচনা মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহাসচিব জোর দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই এবং সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে হবে, একইসঙ্গে যুদ্ধবিরতি অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।
আল-জাজিরা সূত্রে প্রকাশিত এই বক্তব্যে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষিত, আলোচনার আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনায় বসতে পারে। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শিগগিরই কিছু ঘটতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানে যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী।
এর আগে সপ্তাহান্তে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফসহ অন্যদের মধ্যে বৈঠক হয়। তবে সেই বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানায়, তেহরান ও পাকিস্তানের মধ্যে বার্তা বিনিময় হয়েছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।
এতে বোঝা যায়, কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র–ইরান নতুন আলোচনার সময় বা স্থান এখনো নিশ্চিত হয়নি।
ট্রাম্পের দাবি, দুই দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বৈঠক হতে পারে
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৬১ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।