ইউক্রেনের একটি বন্দরের দিকে যাওয়ার পথে তানজানিয়ার পতাকাবাহী একটি বেসামরিক জাহাজে রুশ ড্রোন হামলায় ক্যাপ্টেন নিহত এবং তিন নাবিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কিয়েভ। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের পুনরুদ্ধার, অবকাঠামো ও পরিবহন মন্ত্রণালয় এ অভিযোগ জানায়। হামলার পর জাহাজটির কারিগরি অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়টি মস্কোর বিরুদ্ধে ইউক্রেনের বন্দর অবকাঠামো ও বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজকে নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ করেছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের হামলা নাবিকদের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং কৃষ্ণসাগরের সরবরাহ ও পরিবহনপথের স্থিতিশীলতার জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।
বেসামরিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা জোরদার, সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ সচল রাখা এবং কৃষ্ণসাগরে নিরাপত্তা ঝুঁকির আরও বিস্তার ঠেকাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে ইউক্রেন। তবে ইউক্রেনের এই অভিযোগের বিষয়ে রাশিয়া এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
কিয়েভের দাবি, তানজানিয়ার পতাকাবাহী জাহাজে হামলায় ক্যাপ্টেন নিহত ও তিন নাবিক আহত
শীত সামনে রেখে ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলা আরও জোরদার করছে রাশিয়া; যুদ্ধ শেষ করার কার্যকর কোনো পথও এখনো দেখা যাচ্ছে না। সূত্র অনুযায়ী, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পরাজয় মেনে নেওয়ার বদলে সংঘাত চালিয়ে যেতে বেশি আগ্রহী। বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জরুরি অবকাঠামোয় হামলা ইউক্রেনের মানুষের শীতকালীন জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
সূত্রে বলা হয়েছে, এসব হামলা শুধু সামরিক লক্ষ্যভিত্তিক নয়; ভয় ও দুর্ভোগ ব্যবহার করে ইউক্রেনের প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করার কৌশলও। যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতি ও চাপ বাড়লেও পুতিন পরাজয় স্বীকারের কোনো লক্ষণ দেখাননি। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান ও অস্ত্র সরবরাহে পরিবর্তন ইউক্রেনের ঝুঁকি বাড়িয়েছে, আর ইউরোপীয় দেশগুলোও সেই ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি।
অনেক ইউক্রেনীয় শান্তি চান, তবে তার বিনিময়ে ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে রাজি নন। সূত্রটি ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে উপেক্ষা না করে টেকসই সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে। ন্যাটো ও পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলোর আরও ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ় পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হলেও, কঠোর পদক্ষেপ সংঘাত বাড়িয়ে দিতে পারে—এ ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
রুশ হামলা জোরদারে ইউক্রেনের শীতকালীন ঝুঁকি বাড়ছে, ন্যাটোর দৃঢ় পদক্ষেপের আহ্বান
ইউক্রেনের ইয়াহোদিন এলাকায় পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ জেটচালিত ড্রোন হামলায় একটি ট্রেনের ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলার কিছুক্ষণ আগে কিয়েভের একটি সম্মেলন শেষে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ইউরোপের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা একই রেলপথ দিয়ে অন্য একটি ট্রেনে ওই এলাকা অতিক্রম করেন।
ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার শিকার ট্রেনটির সব যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে সংস্থা উকরজালিজনিৎসিয়া বলেছে, ড্রোন আঘাতের ১৫ মিনিট আগে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সময়সূচির পরিবর্তন ও রুশ হামলার হুমকির কারণে জনসনদের বহনকারী কূটনৈতিক ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেশন ছাড়ে।
ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে আঘাত হানে। রাশিয়া পশ্চিম ইউক্রেনের রেল অবকাঠামোয় হামলার কথা বলেছে, আর উকরজালিজনিৎসিয়া দাবি করেছে জনসনদের ট্রেনই লক্ষ্য ছিল। জনসন দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা সরবরাহের আহ্বান জানান। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।
পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ ড্রোন হামলায় ট্রেন ক্ষতিগ্রস্ত, নিরাপদে জনসন
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাশিয়া প্রস্তুত, তবে আলোচনা চলাকালে মস্কো তার সামরিক অভিযান বন্ধ করবে না। মস্কোতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক চাইলে তাকে মস্কোতে আসতে হবে।
ল্যাভরভের দাবি, জেলেনস্কিকে মস্কোতে আসার আমন্ত্রণ রাশিয়ার পক্ষ থেকে বড় ধরনের সদিচ্ছার পদক্ষেপ। তার মতে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এখনো রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা নিষিদ্ধ করে জারি করা নিজের ডিক্রি বাতিল করেননি।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আলোচনায় বসার ক্ষেত্রে রাশিয়ার সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি নেই এবং মস্কো এখনো আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা শুরু হলেও রাশিয়ার সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আলোচনায় প্রস্তুত রাশিয়া, তবে চলবে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান
যুক্তরাজ্যের সেনাপ্রধান এয়ার চিফ মার্শাল স্যার রিচার্ড নাইটন শুক্রবার বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দেশটির পাঁচ লাখের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন। তাঁর হিসাবে, যুদ্ধে রাশিয়ার মোট সামরিক হতাহতের সংখ্যা ১৫ লাখ। এই হিসাব ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত সংখ্যার সঙ্গে অনেকটা মিলে যায়, তবে রুশ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
নাইটন জানান, যুদ্ধে রাশিয়া ১০ হাজারের বেশি সাঁজোয়াযান, প্রায় তিন হাজার আকাশ প্রতিরক্ষা ও কামান ব্যবস্থা এবং ৩৭০টির বেশি বিমান ও হেলিকপ্টার হারিয়েছে। পশ্চিমা কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, বড় সামরিক বাহিনী থাকা সত্ত্বেও রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে খুব বেশি অগ্রসর হতে পারছে না এবং চলতি বছরে তাদের অগ্রযাত্রার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তিনি ইউক্রেনের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির কোনো হিসাব দেননি।
শুক্রবার কিয়েভে দ্বিতীয় দিনের মতো রুশ ড্রোন হামলায় দুটি উকর্নফতা গ্যাস স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়; এতে দুজন নিহত ও ছয়জন আহত হন। অন্যদিকে, রাশিয়া দাবি করেছে যে তারা ১৬টি অঞ্চল, দখলকৃত ক্রিমিয়া এবং আজভ ও ক্যাস্পিয়ান সাগরের জলসীমায় ৭৭৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা কমাতে আটটি অঞ্চল লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের হিসাবে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পাঁচ লাখের বেশি সেনা নিহত
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, কিয়েভের বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইউক্রেন, কিন্তু রুশ হামলার কারণে এখনো আকাশপথে রাজধানীতে পৌঁছানো সম্ভব নয়। রোববার কিয়েভে সফররত মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি সতর্ক করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শীতকাল পর্যন্ত গড়াতে পারে। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই ইউক্রেনের আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে।
মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার শনিবার মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর কিয়েভে যান। এটি ছিল ইউক্রেনের রাজধানীতে তাদের প্রথম সফর। তারা জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনাকে ইতিবাচক বললেও যুদ্ধ বন্ধে বড় কোনো অগ্রগতির ঘোষণা দেননি। জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে আলোচনা করবে এবং দুই দেশের নেতার সরাসরি বৈঠক ছাড়া ভূখণ্ড-সংক্রান্ত বিরোধের সমাধান সম্ভব নয়।
উইটকফ আলোচনাকে অত্যন্ত অর্থবহ, গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবভিত্তিক বলে উল্লেখ করেন এবং প্রয়োজন হলে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, মস্কোয় বাস্তবভিত্তিক কিছু পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা আগামী কয়েক সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে। ক্রেমলিনও সম্ভাব্য সমাধানের কয়েকটি ধারণা উপস্থাপনের কথা জানিয়েছে, তবে বিস্তারিত দেয়নি।
যুদ্ধ শীত পর্যন্ত চলার আশঙ্কার মধ্যে কিয়েভ বিমানবন্দর চালুর প্রস্তুতি ইউক্রেনের
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যে পর্নোগ্রাফি বৈধ করার একটি বিল ইউক্রেনের পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদনশিল্পকে বৈধ অর্থনীতির আওতায় এনে এ খাত থেকে বছরে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার কর রাজস্ব পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। বিলটির অন্যতম উদ্যোক্তা পার্লামেন্টের অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াক বলেন, এই অর্থ দিয়ে বছরে প্রায় ৩০ হাজার ড্রোন কেনা সম্ভব হতে পারে।
বর্তমানে ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি তৈরি, সংরক্ষণ ও বিতরণ আইনত অপরাধ এবং এসব কর্মকাণ্ডে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড হতে পারে। তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অনলাইন প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্টের বাজার দ্রুত বেড়েছে। যুদ্ধের মধ্যে সরকার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কনটেন্ট নির্মাতাদের কাছ থেকে কর আদায়ের উদ্যোগ নেয়, কিন্তু আয় ঘোষণা করলেই তাদের এমন কর্মকাণ্ডের তথ্য প্রকাশ পায় যা এখনও আইনে অপরাধ।
ঝেলেজনিয়াক পরিস্থিতিটিকে ‘দুঃখজনক ও হাস্যকর’ বলেছেন। তার মতে, আয় গোপন করলে কর না দেওয়ার মামলা হতে পারে, আর আয় ঘোষণা করলে পর্নোগ্রাফি আইন ভঙ্গের অভিযোগের ঝুঁকি থাকে। বিলটি আইনে পরিণত হলে এই জটিলতা দূর করে সরকার নিয়মিত কর আদায় করতে পারবে। ফেনিক্স ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রায় ৭ হাজার ৯০০ ইউক্রেনীয় ওনলিফ্যানস থেকে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি আয় করেন।
যুদ্ধ ব্যয়ের রাজস্ব বাড়াতে পর্নোগ্রাফি বৈধ ও করযোগ্য করার বিল এনেছে ইউক্রেন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে শান্তি প্রস্তাব নিয়ে তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে মস্কো ও কিয়েভে পাঠাচ্ছেন। শুক্রবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন তাঁরা। তিনি জানান, শান্তির জন্য তাদের একটি পরিকল্পনা আছে এবং দুই দূতকে দক্ষ আলোচক হিসেবে বর্ণনা করেন।
অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, কুশনার ও উইটকফের শুক্রবার রওনা হওয়ার কথা ছিল। শনিবার ক্রেমলিনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এবং রোববার কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁদের বৈঠকের কথা রয়েছে। ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এএফপিকে রোববারের কিয়েভ সফরের কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ক্রেমলিন।
ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত কিয়েভে এটাই দুই দূতের প্রথম সফর হলেও তাঁরা আগে মস্কো গেছেন। পরিকল্পনায় ইউক্রেনকে কোনো ভূখণ্ড ছাড়ার প্রস্তাব আছে কি না, ট্রাম্প তা বলেননি। জেলেনস্কি আগে আকাশপথে হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিলেন, শর্ত ছিল রাশিয়াকেও একইভাবে হামলা বন্ধ রাখতে হবে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুশ আক্রমণের পর শুরু হওয়া যুদ্ধ চার বছর ধরে চলছে।
ইউক্রেন শান্তি প্রস্তাব নিয়ে কুশনার ও উইটকফকে মস্কো ও কিয়েভে পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প
কার্পাথিয়ান পর্বতমালার পাদদেশে স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও রোমানিয়ার মাঝের ইউক্রেনের পশ্চিমতম অঞ্চল জাকারপট্টিয়া রাশিয়ার ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির আগ্রাসনের পর থেকে তুলনামূলকভাবে বড় হামলা এড়িয়েছে। পূর্ব ইউক্রেনে তীব্র যুদ্ধ এবং অন্য অঞ্চলে রুশ ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চললেও, এখানকার বাসিন্দারা বিমান হামলার সাইরেন ও বিস্ফোরণ ছাড়াই রাত কাটাতে পারাকে বড় স্বস্তি মনে করেন।
বোমা হামলা ও রুশ দখল থেকে পালিয়ে আসা বহু অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষ জাকারপট্টিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। হাঙ্গেরি সীমান্ত থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের বেরেহোভে বাখমুত যুদ্ধে গুরুতর আহত সাবেক সেনা সদস্য সেরহি লাজারেঙ্কো ফিরেছেন। খারকিভ অঞ্চল থেকে একটি ধাতব পণ্য উৎপাদনকারী বড় কোম্পানিও বেরেহোভে স্থানান্তরিত হয়ে পরিত্যক্ত কারখানা সংস্কার করে উৎপাদন শুরু করেছে।
তবে যুদ্ধের প্রভাব পুরোপুরি দূর হয়নি। জাকারপট্টিয়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট কম এবং যুদ্ধকালীন কারফিউ নেই, কিন্তু স্থানীয়রা সম্মুখযুদ্ধে পরিচিতজন হারিয়েছেন। বেরেহোভে নিহত সেনাদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় ১০০ বাসিন্দা অংশ নেন; বাখমুত যুদ্ধে নিহত একজনের স্মারকফলকও স্থাপন করা হয়, যার মরদেহ কখনো ফেরানো যায়নি। তেতিয়ানা দুব বলেন, শারীরিকভাবে যুদ্ধ না থাকলেও ভবিষ্যৎ ও যুদ্ধের স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা মানসিকভাবে হতাশাজনক।
যুদ্ধের বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দিয়ে তুলনামূলক শান্ত রয়েছে জাকারপট্টিয়া
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা হুর এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা সিকিউরিটি সার্ভিস অব ইউক্রেনের সদস্যদের মধ্যে বুধবার ভোরে গুলিবিনিময় হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার উত্তেজনার পর রাশিয়ার নাগরিক ও ইউক্রেনের পক্ষে লড়াইরত জ্যেষ্ঠ কমান্ডার স্তেপান কাপলুনভের অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে এ ঘটনা ঘটে। এতে হুরের তিন সদস্য গুলিবিদ্ধ হন, তাঁদের একজনের অবস্থা গুরুতর।
বৃহস্পতিবার এসবিইউ কাপলুনভের বিরুদ্ধে রুশ নিরাপত্তা সংস্থার হয়ে হত্যাচক্রান্তের অভিযোগ তোলে এবং জানায়, স্বীকারোক্তির পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কাপলুনভ ও অন্যরা বলেন, স্বীকারোক্তি জোর করে নেওয়া হয়েছে। কাপলুনভের দাবি, ১০ দিন আগে তাঁকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে হাতকড়া ও চোখ বেঁধে রুশ গুপ্তচর হিসেবে স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেওয়া হয়। এসবিইউ গুলি চালানোর কথা স্বীকার করে বলেছে, তল্লাশির সময় তাদের কর্মকর্তারা বাধার মুখে পড়েছিলেন।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ঘটনাকে ‘একেবারেই লজ্জাজনক ঘটনা’ আখ্যা দিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। জড়িত ইউনিটগুলোর কমান্ডারদের ভূমিকাও তদন্ত হবে। হুর কমান্ডার ওলেক্সি সেরেদিউক এসবিইউর কর্মকাণ্ডকে সংঘাতের সূত্রপাত বলে দাবি করেছেন। কাপলুনভের আইনজীবী জানান, কমান্ডারদের আলোচনার পর তদন্ত এগোনোর বিষয়ে সমঝোতা হলেও সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গুলি শুরু হয়।
কিয়েভে এসবিইউর সঙ্গে গুলিবিনিময়ে হুরের তিন সদস্য আহত
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মঙ্গলবার রাতে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোনের কারণে রাশিয়ার আকাশসীমা বিমান চলাচলের জন্য ‘সম্পূর্ণ অনিরাপদ’ হয়ে উঠেছে। তিনি রাশিয়ার আকাশপথ ব্যবহারকারী বিমান সংস্থা, বিমা প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ব্যবহারকারীদের সতর্ক করেন। তবে তিনি বলেন, ইউক্রেন কোনো বেসামরিক বিমান চলাচল বা কোনো বেসামরিক বিমানকে হুমকি দিচ্ছে না।
জেলেনস্কি বলেন, ড্রোনে ভরা আকাশ বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য নিরাপদ নয় এবং যুদ্ধ চলা পর্যন্ত রাশিয়ার আকাশ ড্রোনের দখলেই থাকবে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনীয় ড্রোনের কারণে রাশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরে বারবার উড়োজাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং হামলার সংখ্যাও বেড়েছে। এর জবাবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জেলেনস্কির বক্তব্যকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের ঘোষণা’ বলে আখ্যা দেন।
এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে রাশিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। পুতিন স্বীকার করেন, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার ভেতরে তেল শোধনাগারসহ বেসামরিক স্থাপনায় ক্ষতি হয়েছে এবং সেগুলো যথেষ্ট সুরক্ষিত ছিল না। তিনি একই সঙ্গে দাবি করেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া এগিয়ে যাচ্ছে।
ড্রোন তৎপরতার মধ্যে রাশিয়ার আকাশপথ অনিরাপদ বলে সতর্ক করলেন জেলেনস্কি
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উপকণ্ঠে বুখা জেলার মিলা গ্রামের একটি আবাসিক এলাকার কাছে অস্ত্রভান্ডারে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে হওয়া এ হামলায় আরও ৪২ জন আহত হন এবং প্রায় ৪০০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
অস্ত্রগুদামে হামলার পর সেখানে গোলা, মাইন ও ড্রোন বিস্ফোরিত হতে থাকে। এতে আশপাশের প্রায় ১৩০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের একটি সেবাকেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আবাসিক এলাকার এত কাছে বিস্ফোরক সংরক্ষণকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলেছেন। সরকারি কর্মকর্তাদের অবহেলার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি গোলাবারুদের গুদাম, যেখানে দূরপাল্লার ড্রোনের উপাদান ও লঞ্চ বুস্টার রাখা ছিল। এ ঘটনার পর আবাসিক এলাকার কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে ইউক্রেনে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। গত জুলাইয়ে কিয়েভের কাছে আরেক অস্ত্রগুদামে হামলার পর বিস্ফোরণে নয়জন নিহত এবং শতাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
কিয়েভের কাছে অস্ত্রাগারে রুশ ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৭ জন নিহত
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের পশ্চিমে মিলা শহরের একটি গুদামে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। হামলার পর স্থাপনাটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে। ইউক্রেনের প্রসিকিউটররা ধারণা করছেন, সেখানে বিস্ফোরকসামগ্রী মজুত ছিল।
কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তিমুর তাকাচেঙ্কো বলেছেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। নিহতদের মধ্যে দিমিত্রিভস্কা গ্রামের মেয়র তারাস দিদিচ রয়েছেন। হামলার তারিখ বা আহত ব্যক্তিদের বিষয়ে সূত্রে অতিরিক্ত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয়। গুদামে বিস্ফোরকসামগ্রী মজুত রাখা বৈধ ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের ভূখণ্ডে দূরপাল্লার হামলা জোরদার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিয়েভের পশ্চিমে গুদামে রুশ ড্রোন হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত
পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরীগুলোর প্রতিরক্ষা জোরদারে নতুন সামরিক উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সম্মুখ সারির এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি থার্ড আর্মি কোরের প্রধান আন্দ্রি বিলেতস্কি ও ফার্স্ট কোর আজভের কমান্ডার দেনিস প্রোকোপেনকোকে নতুন একটি সামরিক গ্রুপিংয়ের নেতৃত্ব দেন। তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কোস্তিয়ানতিনিভকা, ক্রামাতোরস্ক ও স্লোভিয়ানস্কসহ ‘দুর্গবেষ্টনী’ হিসেবে পরিচিত শহরগুলোর প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার।
রুশ বাহিনী এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ঘাঁটির দিকে চাপ বাড়িয়েছে। ওপেন-সোর্স সামরিক মানচিত্র বিশ্লেষণকারী ডিপস্টেটের তথ্য অনুযায়ী, রুশ সেনারা কোস্তিয়ানতিনিভকার আরও ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে। একই সময়ে ক্রামাতোরস্ক ও স্লোভিয়ানস্কে ব্যাপক বিমান ও গোলাবর্ষণ চালানো হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষক মাইকোলা বিলেস্কভ নিয়োগের সিদ্ধান্তকে সঠিক বলেছেন এবং ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভদি একে প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট যুদ্ধের’ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেন এক দিনে রাশিয়ার ভেতরে ১৬টি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। রুশ হামলায় খেরসনের একটি তাপ ও বিদ্যুৎকেন্দ্র মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্রিভি রিহর একটি শিল্প স্থাপনায় হামলায় দুইজন আহত হয়েছেন। দুই দেশ সীমিত বন্দি বিনিময়ও করেছে; উৎসের তথ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষ ১০ জন করে যুদ্ধবন্দিকে মুক্তি দিয়েছে।
দোনেৎস্কের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর প্রতিরক্ষা জোরদারে নতুন কমান্ডার নিয়োগ
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনকে আরও আত্মনির্ভর করতে দেশটির নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করছে ব্রিটেন। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ব্রিটেন উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি ও তথ্য দিচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে পশ্চিমা দেশগুলোর অস্ত্র সরবরাহের ওপর কিয়েভের নির্ভরতা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিটেন সম্প্রতি ফ্রান্সের তৈরি স্কাল্প ক্ষেপণাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপাদানসংক্রান্ত গোপন তথ্য ইউক্রেনকে দিয়েছে। এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে ইউক্রেনের মাটিতেই একই ধরনের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি ও সংযোজন করা সম্ভব হতে পারে। ইউক্রেনের অস্ত্র উৎপাদন খাতে এ সহায়তাকে বড় পরিবর্তনের পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, মজুতসংকট ও সরবরাহ বিলম্বে কিয়েভকে অপেক্ষা করতে হয়েছে। ইউক্রেন নিজ দেশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও তৈরির চেষ্টা করছে এবং রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় এখন অনেকটা মার্কিন প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। ব্রিটেন ও ইউরোপের দেশগুলো রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
পশ্চিমা অস্ত্রনির্ভরতা কমাতে ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে ব্রিটেনের সহায়তা
রাশিয়ার হামলা তীব্র হওয়ার মধ্যে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় মিত্ররা সোমবার কিয়েভে বৈঠকে বসছেন। ইউক্রেনের জন্য জরুরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ বাড়ানো এবং মস্কোর ওপর আরও চাপ তৈরির বিষয়টি আলোচনায় থাকার কথা। ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ জোটের এই বৈঠকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির নেতারা যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন। কয়েকটি দেশের নেতা ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেবেন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তারও কিয়েভে যাওয়ার কথা রয়েছে।
এএফপির খবরে বলা হয়েছে, রুশ হামলায় ইউক্রেনে বেসামরিক মৃত্যুর সংখ্যা ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর প্রথম কয়েক মাসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিয়েভে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে এবং রাজধানীতে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। প্রায় প্রতিটি হামলার পর হাজার হাজার মানুষ মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নিচ্ছেন; অন্যরা বেসমেন্ট ও আশ্রয়কেন্দ্রে থাকছেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম আন্তর্জাতিক সফরে কিয়েভে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তিনি ন্যায়সংগত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত পিছিয়ে না যাওয়ার কথা বলেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ শনিবার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ইউক্রেন বলছে, দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে তাদের উন্নত প্রযুক্তির ব্যবস্থা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন।
রুশ হামলা বাড়ার মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে কিয়েভে ইউরোপীয় মিত্রদের বৈঠক
ইউক্রেনের জন্য ৬১০ কোটি ইউরো বা ৭১০ কোটি ডলারের নতুন প্রতিরক্ষা সহায়তা অনুমোদন করেছে ইউরোপীয় কমিশন। এই সহায়তায় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ এবং রাডার সরবরাহ করা হবে। ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসে সোমবার এ ঘোষণা দেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন।
ফন ডার লিয়েন বলেন, ইউরোপের সমর্থন অটুট ও বাস্তব—এটি ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসে স্পষ্ট করা হচ্ছে। রাশিয়া হামলা জোরদার করায় ইউক্রেনকে জনগণ সুরক্ষা এবং আকাশ প্রতিরক্ষায় সহায়তার জন্য ইউরোপও সহযোগিতা বাড়াচ্ছে বলে তিনি জানান। প্রয়োজনের সময়ে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহে ইউরোপ ইউক্রেনের পাশে থাকবে বলেও তিনি বলেন।
এই অর্থায়ন ৯ হাজার কোটি ইউরোর ইউক্রেন সাপোর্ট লোনের অংশ। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে ৬ হাজার কোটি ইউরো এবং ২০২৬-২৭ সালের বাজেট সহায়তায় ৩ হাজার কোটি ইউরো বরাদ্দ রয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও ইইউ কাউন্সিল ঋণটি প্রতিষ্ঠা করে। ২০২২ থেকে ইইউ ও সদস্যরাষ্ট্রগুলো ইউক্রেনকে ২২ হাজার ২০ কোটি ইউরো সহায়তা দিয়েছে, যার মধ্যে স্থগিত রুশ সম্পদ থেকে পাওয়া ৩৮০ কোটি ইউরো রয়েছে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সহায়তায় ৬১০ কোটি ইউরো অনুমোদন ইউরোপীয় কমিশনের
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ইউক্রেনে নির্বাচন হলে দেশটি বিভক্ত হয়ে ‘ধ্বংস’ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত রোববার তিনি সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভের যুদ্ধের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান নিয়ে প্রথমবার মন্তব্য করেন। জেলেনস্কি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের দিকে এগোনো মানে দেশ ধ্বংসের পথ বেছে নেওয়া।
ইউক্রেনের আইনে যুদ্ধ চলাকালে নির্বাচন আয়োজন নিষিদ্ধ এবং বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অবস্থায় ভোট করা অত্যন্ত কঠিন। যুদ্ধের কারণে বিপুলসংখ্যক ইউক্রেনীয় বিদেশে আছেন, অনেকে রুশ দখলকৃত এলাকায় বসবাস করছেন এবং লাখ লাখ মানুষ সম্মুখযুদ্ধে রয়েছেন। ফলে ভোটারদের বড় অংশকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা কঠিন হবে। জেলেনস্কির প্রতি জনসমর্থন প্রায় ৬০ শতাংশের কাছাকাছি স্থিতিশীল রয়েছে।
কিয়েভ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজির ৫ আগস্টের জরিপে ৫৭ শতাংশ ইউক্রেনীয় যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর নির্বাচন চান। জেলেনস্কি বলেন, মিত্ররা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে যুদ্ধের মধ্যেও নির্বাচন সম্ভব হতে পারে, তবে কোনো মিত্র এখনো এমন পরিকল্পনা দেয়নি। তাঁর কৌশল যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ইউক্রেনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে টিকিয়ে রাখা।
জেলেনস্কি বললেন, যুদ্ধকালে নির্বাচন ইউক্রেনকে বিভক্ত করতে পারে
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে রাশিয়া নতুন করে অন্তত তিন লাখ সেনা সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাঁর আশঙ্কা, আগামী সেপ্টেম্বরে রুশ পার্লামেন্ট নির্বাচন শেষে এই সেনা সমাবেশ শুরু হতে পারে। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে ২৪ আগস্ট ২০২৬।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া ২০২৭ সালে আরও প্রায় পাঁচ লাখ সেনা সংগ্রহের চেষ্টা করতে পারে। তাঁর দাবি, রুশ বাহিনী দোনেৎস্কসহ পূর্ব ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে বিপুল সেনা ও সরঞ্জাম ক্ষয়ক্ষতির পরও তারা বড় ধরনের ভূখণ্ড দখল করতে পারেনি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াচ্ছে এবং ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। শীতে রুশ বাহিনী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় হামলা চালাতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেন। তিনি আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানান এবং ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে চুক্তির কথা বলেন। মস্কো তাৎক্ষণিকভাবে তিন লাখ সেনা সমাবেশের দাবি নিশ্চিত করেনি।
জেলেনস্কির দাবি, সেপ্টেম্বরে নির্বাচনের পর তিন লাখ সেনা সমাবেশ করতে পারে রাশিয়া
ইউক্রেনের বরখাস্ত হওয়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইল ফেদোরভ বলেছেন, ব্যাপক দুর্নীতি দেশটিতে যুদ্ধের অবসান এবং পুনর্গঠনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারি কাঠামো, সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিদ্যমান পদ্ধতি ও দুর্নীতির মাত্রার কারণে কার্যকরভাবে যুদ্ধ শেষ করা বা পুনর্গঠনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা অসম্ভব।
ফেদোরভের ভাষ্য অনুযায়ী, সমস্যাটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ঘিরে নয়। তিনি অভিযোগ করেন, ইউক্রেন সরকারের শত শত ব্যক্তি দুর্নীতির নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত এবং তারা বছরের পর বছর সরকারি অর্থ থেকে লাভবান হয়ে আসছেন। এর ফল হিসেবে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ধীর হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনে সাম্প্রতিক এক দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের লক্ষ্য ছিল একটি সংগঠিত দুর্নীতি চক্র। অভিযোগ রয়েছে, ওই চক্রের সঙ্গে কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কার্যালয়ের কয়েকজন সদস্য জড়িত ছিলেন। অভিযানের বিস্তারিত, অভিযোগগুলোর পরিণতি বা অভিযুক্তদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে উৎসে আর কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
বরখাস্ত মন্ত্রীর দাবি, দুর্নীতি ইউক্রেনের যুদ্ধ অবসান ও পুনর্গঠনে বাধা
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১০২ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।