যুদ্ধের সময় ইরানকে সহায়তা দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ। ১০ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আলিয়েভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পেজেশকিয়ানের সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক কথার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
আলিয়েভ বলেন, আজারবাইজান ও ইরানের জনগণ সংকট ও কঠিন সময়ে সবসময় একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেও আজারবাইজান আবার প্রমাণ করেছে যে তারা তাদের ভ্রাতৃপ্রতিম ইরানি জনগণের পাশে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে পেজেশকিয়ান ইরানকে সহায়তায় আজারবাইজানের ভূমিকার কথা বলেন। তিনি বিশেষভাবে ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পথসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বাকুর ভূমিকার উল্লেখ করেন। আজারবাইজানের গণমাধ্যমের বরাতে তিনি বলেন, দেশটি ইরানকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছে, রুটসংক্রান্ত বিষয়েও সহায়তা করেছে এবং প্রয়োজনীয় সবকিছুতে ইরানের সঙ্গে ছিল।
যুদ্ধকালীন সহায়তার স্বীকৃতিতে ইরানের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানালেন আলিয়েভ
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইসরাইল গোপনে আজারবাইজানে সেনা ও গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন করেছিল। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিস্তৃত এক গোপন সামরিক নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে এসব বাহিনী পরিচালিত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানের সীমান্তঘেঁষা দক্ষিণ আজারবাইজানের কয়েকটি স্থানে ইসরাইলি বিশেষ বাহিনী ও গোয়েন্দা সদস্যরা অবস্থান নেয়, যেগুলোর কিছু ইরানের তাবরিজ শহর থেকে মাত্র ৬০ মাইল দূরে। তারা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, ড্রোন পরিচালনা এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনায় যুক্ত ছিল।
সূত্র অনুযায়ী, এসব বাহিনীতে ইসরাইলের বিশেষ অভিযান ইউনিট, হেলিবোর্ন কমব্যাট ও রেসকিউ ফোর্স এবং মোসাদের সদস্যরা ছিলেন। প্রথমে উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য পরিকল্পনা করা হলেও পরে এসব অবস্থান গোয়েন্দা ও সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত হয়। সিএনএন জানায়, ইসরাইল ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সোমালিল্যান্ডেও গোপন ঘাঁটি স্থাপন করে, যা ইরানের ভেতরে দূরপাল্লার অভিযান সহজ করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে আজারবাইজান দূতাবাস অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানবিরোধী কৌশলে আজারবাইজান ইসরাইলের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, যেখানে সামরিক, গোয়েন্দা ও জ্বালানি সহযোগিতা বিদ্যমান।
ইরান যুদ্ধের সময় আজারবাইজানে গোপনে সেনা মোতায়েন করেছিল ইসরাইল: সিএনএন
ইরানের চারটি ড্রোন সীমান্ত অতিক্রম করেছে বলে অভিযোগ করে আজারবাইজান তাদের দক্ষিণাঞ্চলের আকাশসীমার একটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে। আজারবাইজান কর্তৃপক্ষের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই আকাশসীমা ১২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকবে। ড্রোন সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।
এর আগে আজারবাইজান অভিযোগ করেছিল যে, ইরান তাদের নাখচিভান অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ওই হামলার জন্য ইসরাইল দায়ী। পারস্পরিক এই অভিযোগ-প্রত্যাখ্যান দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।
দক্ষিণাঞ্চলের আকাশসীমা বন্ধের এই পদক্ষেপ সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে আজারবাইজানের উদ্বেগকে ইঙ্গিত করে, যদিও পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা এখনো পরিষ্কার নয়।
ইরানি ড্রোন অনুপ্রবেশের অভিযোগে আজারবাইজানের দক্ষিণ আকাশসীমা ১২ ঘণ্টা বন্ধ
আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ নাখচিভান স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ড্রোন হামলার পর ইরানের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, এই হামলায় দুইজন আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রপতির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে আলিয়েভ জানান, নাখচিভান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, এর টার্মিনাল ভবন, একটি স্কুলসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় ইরানের রাষ্ট্রীয় ড্রোন দিয়ে “কাপুরুষোচিত হামলা” চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনাটিকে “জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” বলে নিন্দা জানান এবং দায়ীদের দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান।
ঘটনার পর আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাকুতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। তবে তেহরান এ হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এই ঘটনার পর আজারবাইজান দক্ষিণাঞ্চলের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
নাখচিভানে ড্রোন হামলায় আহত দুইজন, ইরানের কাছে ক্ষমা দাবি আজারবাইজানের
আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের চালানো ড্রোন হামলায় দেশটির দুইজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একটি ড্রোন নাখচিভান স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনে সরাসরি আঘাত হানে এবং আরেকটি ড্রোন শাকারাবাদ গ্রামের একটি বিদ্যালয়ের ভবনের কাছে পড়ে। হামলায় বিমানবন্দরের একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দুইজন বেসামরিক নাগরিক আহত হন।
ঘটনার পর আজারবাইজান ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে এবং জানিয়েছে, ইরানি পক্ষকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হবে ও একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র পেশ করা হবে। এই ঘটনাকে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের নতুন উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংবেদনশীল অবস্থায় ছিল।
আজারবাইজানের এই পদক্ষেপ কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে, যদিও ইরানের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের ড্রোন হামলার অভিযোগে ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করল আজারবাইজান
প্রতিবেশী ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে আজারবাইজান। বৃহস্পতিবার আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেহুন বায়রামভ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে ফোনালাপে এ কথা জানান। আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বায়রামভ সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ইরান ও আশপাশের অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে এমন পদক্ষেপ থেকে সব পক্ষকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের নিয়ম ও নীতিমালা অনুসারে সংলাপ ও কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধানই একমাত্র পথ। আজারবাইজান সব সময় এই নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি করার সময় ফুরিয়ে আসছে এবং ইরান আলোচনায় না বসলে পরবর্তী হামলা আরও ভয়াবহ হবে।
ইরানে হামলায় ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা আজারবাইজানের
আগদামে ১৫০ বছর পুরানো জিয়াসলি মসজিদের সংস্কারকৃত সংস্করণ ১৮ জুলাই আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ উদ্বোধন করেছেন। হেইদার আলিয়েভ ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে ২০২২ সালে শুরু হওয়া সংস্কারকাজে মসজিদের মূল স্থাপত্যশৈলী সংরক্ষণ করা হয়েছে। ১৮৬৮-৭০ সালে স্থপতি কারবালাই সাফিখান কারাবাগির ডিজাইনে নির্মিত এই মসজিদ ১৯৯৩ সালে আর্মেনীয় নিয়ন্ত্রণের পর ভয়াবহ অবমাননার শিকার হয়। এখন এটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পুনরায় খুলে ইসলামী ঐতিহ্যের শক্তিশালী প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ২০২ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।