আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) ধীরে ধীরে এমন একটি নীতি গ্রহণের দিকে এগোচ্ছে, যা ট্রান্সজেন্ডার নারী অ্যাথলেটদের নারী বিভাগে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দিতে পারে। বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, নতুন আইওসি প্রেসিডেন্ট কির্সটি কভেন্ট্রির “নারী ক্যাটাগরি সুরক্ষা” প্রতিশ্রুতির ফলে আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যেই এ ধরনের নীতি কার্যকর হতে পারে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বন্দ্বও এড়াতে পারে, যিনি এরই মধ্যে ট্রান্সজেন্ডার নারীদের নারী খেলায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।
তবে আইওসির অভ্যন্তরে ডিএসডি (DSD) অ্যাথলেটদের বিষয় নিয়ে মতভেদ রয়েছে—যারা জন্মের সময় নারী হিসেবে নিবন্ধিত হলেও তাদের পুরুষ ক্রোমোজোম বা টেস্টোস্টেরন মাত্রা রয়েছে। বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স ইতোমধ্যেই তাদের নারী বিভাগ থেকে নিষিদ্ধ করেছে, যদিও ফিফা এখনও তাদের অনুমতি দেয়। সম্প্রতি আইওসি সদস্যদের সামনে উপস্থাপিত একটি বিজ্ঞানভিত্তিক পর্যালোচনায় পুরুষ বয়ঃসন্ধির স্থায়ী শারীরিক প্রভাব তুলে ধরা হয়। জল্পনা বাড়লেও আইওসি বলেছে, এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) বর্তমান প্রেসিডেন্ট কির্সটি কভেন্ট্রি
২০২৫ সালে আউন্সপ্রতি সোনার দাম ৪,২০০ ডলার ছাড়িয়ে ইতিহাস গড়ছে, যা ১৯৭৯ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী বছর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে গহনা খাত এখনও সোনার সবচেয়ে বড় ব্যবহারকারী হলেও বিনিয়োগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ এবং প্রযুক্তি খাতে এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে মোট সোনার চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৪৫৫ টনে— যা গত বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি। অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিনিয়োগকারীদের চাহিদা বেড়ে ২০২৪ সালে ১,১৮০ টনে পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো রিজার্ভ বৈচিত্র্য আনতে ১,০৪৬ টন সোনা কিনেছে— টানা তৃতীয় বছর তারা ১,০০০ টনের বেশি সোনা কিনছে। অন্যদিকে প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে, বিশেষ করে ইলেকট্রনিকস ও এআই প্রসেসরে সোনার ব্যবহার বেড়েছে, এর চমৎকার পরিবাহিতা ও মরিচা প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে।
জুয়েলারি খাতের পর সোনার সবচেয়ে বড় তিনটি ব্যবহারকারী খাত এবং তাদের চাহিদার পরিমাণ (২০২৪ সালের পূর্ণাঙ্গ বছরের তথ্য, টন হিসাবে)
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে ৩০০ কোটিরও বেশি মানুষ স্নায়বিক ও মানসিক রোগে আক্রান্ত এবং প্রতিবছর এসব রোগে ১ কোটি ১০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। সংস্থাটি বলছে, নিম্নআয়ের ও গ্রামীণ এলাকার লাখো মানুষ এখনো চিকিৎসা ও সেবার বাইরে রয়ে গেছে অপ্রতুল অবকাঠামো, দারিদ্র্য ও সামাজিক কলঙ্কের কারণে। ডব্লিউএইচও’র তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৬৩টি দেশে স্নায়বিক রোগের জন্য জাতীয় নীতিমালা আছে, এবং ৩৪টি দেশ এ খাতে বাজেট বরাদ্দ করে। সংস্থার সহকারী মহাপরিচালক জেরেমি ফারার বলেন, ধনী দেশের তুলনায় নিম্নআয়ের দেশগুলোতে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা ৮০ গুণ কম, যা বৈষম্য বাড়িয়ে তুলছে। তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যাতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা যায় এবং জাতীয় স্বাস্থ্যনীতিতে মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
বৈশ্বিক মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের প্রতীক
প্রথমবারের মতো স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে ঝুঁকছেন। বুধবার স্পট গোল্ডের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৪,০১১.১৮ ডলার এবং ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দাম হয় ৪,০৩৩.৪০ ডলার। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম বেড়েছে প্রায় ৫২ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা, দুর্বল ডলার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয় এবং এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডে বিনিয়োগ বৃদ্ধিই এই উত্থানকে ত্বরান্বিত করেছে। স্বাধীন বিশ্লেষক তাই ওয়ং জানান, বাজারে এখন ৫,০০০ ডলার নতুন লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি শাটডাউন, ফ্রান্স ও জাপানের রাজনৈতিক অস্থিরতাও স্বর্ণের চাহিদা বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে রূপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও দুর্বল ডলারের প্রভাবে স্বর্ণের দাম ইতিহাস গড়ে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে।
বিশ্বজুড়ে এশিয়ার পাসপোর্টগুলোর ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু পাকিস্তানের পাসপোর্ট এখনও দুর্বলতমের মধ্যে, হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স ২০২৫ অনুযায়ী ৯৬তম অবস্থানে রয়েছে। পাকিস্তানি পাসপোর্টধারীরা মাত্র ৩২টি দেশে ভিসা ছাড়া যেতে পারে। এর বিপরীতে, বাংলাদেশ ৯৪তম অবস্থানে এবং ৩৯টি দেশে ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়েছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর, এরপর জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত আট ধাপ উন্নতি করেছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রথমবারের মতো শীর্ষ ১০-এ উঠে এসেছে।
ছয় দেশের প্রায় ২,৯০০ কর্মীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, চার দিনের কর্মসপ্তাহ মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য উন্নত করেছে, বার্নআউট কমিয়েছে এবং কর্মসন্তুষ্টি বাড়িয়েছে—যা ছিল পূর্ণ বেতনের আওতায়। পাঁচ দিনের কর্মীদের তুলনায় অংশগ্রহণকারীরা বেশি মনোযোগী ও উৎপাদনশীল ছিলেন। Nature Human Behaviour জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটি নমনীয় ও কর্মীবান্ধব কর্মপদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল সময় কমানো নয়, বরং কাজের প্রক্রিয়াকে সহজ ও কার্যকর করাই আধুনিক কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের চাবিকাঠি।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক পুনর্বহালের আশঙ্কা ও ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলোর সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে। ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৮ সেন্ট কমে দাঁড়ায় ৬৮.৫৩ ডলার, আর ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৫৭ সেন্ট কমে ৬৬.৮৮ ডলারে। আগামী ৯ জুলাই শেষ হচ্ছে মার্কিন শুল্ক বিরতির মেয়াদ, এখনও ইইউ ও জাপানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুদ বাড়ায় চাহিদা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে, যা দাম কমার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য শুল্কযুদ্ধ একসঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বড় ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শুল্ক, বিশেষত চীনের ওপর, বাণিজ্যে গুরুতর ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। একইসঙ্গে ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা জ্বালানির দাম বাড়াতে পারে। বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি আগেই মন্থর হওয়ায় এ যুগল অভিঘাত মন্দার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন ছোট ধাক্কাও বড় বিপর্যয় আনতে পারে—যেমনটা ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় হয়েছিল। আইএমএফ পূর্বাভাস দিয়েছে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি মাত্র ২.৮ শতাংশে নেমে আসবে।
ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধবিরতি ও ইউক্রেন সংকট বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে সতর্কতা বাড়িয়েছে। মার্কিন হুমকি এবং সিপ্রির নতুন পারমাণবিক প্রতিযোগিতার সতর্কবার্তা বিশ্বে অস্ত্রসংগ্রহ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। প্রায় ১২ হাজার অস্ত্রের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আধিক্য এবং স্বচ্ছতার অভাব উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান প্রতিরোধ কৌশল ব্যর্থ হতে পারে। উত্তেজনা বাড়ার কারণে নিরস্ত্রীকরণ হারাতে পারে, ফলে বিশ্ব আরও বিপজ্জনক সময়ের মুখে পড়ছে, যেখানে ভুলের সুযোগ কম থাকবে।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের প্রতি ঘনিষ্ঠতার কারণে ভারতের র’ (RAW) মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুকে অপসারণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচিত হওয়ার পর মুইজ্জু মালদ্বীপকে ভারত থেকে দূরে সরিয়ে চীনের সাথে সামরিক সম্পর্ক গড়ার পরিকল্পনা করেন এবং ভারতীয় সেনাদের প্রত্যাহারের সময়সীমা নির্ধারণ করেন। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিরোধী সংসদ সদস্যদের ঘুষ দেওয়া, কর্মকর্তাদের তহবিল দেওয়া এবং অপরাধী নেটওয়ার্ককে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ভারত শেষ পর্যন্ত সমর্থন প্রত্যাহার করায় পরিকল্পনাটি ব্যর্থ হয়। এই ঘটনা এশিয়ায় ভারত-চীন কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও উন্মোচিত করেছে।
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৬০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।