কানাডায় বসবাসরত প্রায় ১০ লাখ ভারতীয় নাগরিক আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বৈধ বসবাসের মর্যাদা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন, কারণ তাদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। মিসিসাগার ইমিগ্রেশন পরামর্শদাতা কানওয়ার সেরাহ জানান, ইমিগ্রেশন, রিফিউজি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ প্রায় ১০ লাখ ৫৩ হাজার ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হবে এবং ২০২৬ সালে আরও ৯ লাখ ২৭ হাজার পারমিটের মেয়াদ শেষ হবে। একই সঙ্গে নতুন ভিসা ও স্থায়ী বসবাসের সুযোগও কমানো হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
সেরাহ বলেন, অভিবাসীরা যদি নতুন ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের আবেদন না করেন, তবে তারা আইনি মর্যাদা হারাবেন। এতে অস্থায়ী কর্মী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তিনি উল্লেখ করেন, কানাডা আগে কখনও এত বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর আইনি মর্যাদা হারানোর মুখোমুখি হয়নি। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার এবং ২০২৫ সালের শেষ দিকে ২ লাখ ৯১ হাজারেরও বেশি মানুষ অবৈধ হয়ে পড়বেন।
২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ কানাডায় অন্তত ২০ লাখ মানুষ বৈধ মর্যাদা ছাড়াই বসবাস করবেন, যাদের প্রায় অর্ধেকই ভারতীয়। সেরাহ বলেন, ভারতীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠোর হবে এবং আগামী দুই বছরে অনথিভুক্ত অভিবাসীর সংখ্যা বাড়তে থাকবে।
ওয়ার্ক পারমিট শেষ হওয়ায় কানাডায় প্রায় ১০ লাখ ভারতীয়ের বৈধতা হারানোর আশঙ্কা
কানাডা আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদী দেশের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে, যা দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা জানায়, সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠনে কাজ করছে। এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিবর্তনকে নতুনভাবে মূল্যায়নের ইঙ্গিত দেয়।
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ বলেন, সিরিয়া সরকারের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানানো হচ্ছে এবং কানাডা সিরিয়ার জনগণের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গঠনের প্রচেষ্টায় পাশে থাকবে। মন্ত্রণালয় জানায়, সিরিয়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে।
২০১২ সালে বাশার আল-আসাদের শাসনামলে সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সাম্প্রতিক সিরিয়া সফর ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আন্তর্জাতিক মহলে সিরিয়ার সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের তালিকা থেকে বাদ দিল কানাডা, পশ্চিমা নীতিতে নতুন সমন্বয়
গাজা উপত্যকার সংঘাত চলাকালে ইসরাইলে সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কানাডা। তবে অভিযোগ উঠেছে, মার্কিন অস্ত্র কারখানার মাধ্যমে কানাডার তৈরি সামরিক যন্ত্রাংশ গোপনে ইসরাইলে পৌঁছেছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করেছে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা। সংস্থার মুখপাত্র সামান্থা লাফ্লুর জানান, ২০২৪ সালের ৮ জানুয়ারির পর থেকে ইসরাইলের জন্য কোনো নতুন রপ্তানি অনুমতি অনুমোদিত হয়নি এবং প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডার অস্ত্র প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে শত শত চালান মার্কিন কারখানায় পাঠানো হয়েছিল, যা পরে ইসরাইলের যুদ্ধবিমান, বোমা ও কামান তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধী এমপিরা সরকারের অজ্ঞতার দাবি প্রত্যাখ্যান করে স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইসরাইলে কানাডার অস্ত্র পাঠানোর অভিযোগে তদন্ত শুরু
ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা বাড়ায় কানাডা ও মেক্সিকো সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মেক্সিকো সিটিতে বৈঠকের পর তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অবস্থান নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, বিশেষত ২০২৬ সালের ইউএসএমসিএ পর্যালোচনার আগে। কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামে সর্বোচ্চ ৫০% শুল্ক এবং মেক্সিকোর খাতভিত্তিক শুল্ক সরবরাহ চেইনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় অচলাবস্থা উত্তর আমেরিকার প্রতিযোগিতা কমাতে পারে। ইউএসএমসিএ নিয়ম মানা ও বিকল্প উৎস খোঁজা এখন মূল কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গাজায় অস্ত্র ব্যবহার ঠেকাতে ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। শনিবার কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ জানান, গাজায় ব্যবহারের সম্ভাবনা আছে— এমন সামগ্রী রপ্তানির জন্য ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে কোনো নতুন লাইসেন্স অনুমোদন করা হয়নি। সম্প্রতি নিউজ হয়, কানাডা থেকে ইসরায়েলে এখনও অস্ত্র যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে আনন্দ বলেন, “প্রতিবেদনের বেশ কিছু দাবি বিভ্রান্তিকর এবং বিকৃত।” তিনি ব্যাখ্যা করেন, “প্রতিবেদনে যেগুলোকে গুলি বলা হয়েছে, সেগুলো আসলে পেইন্টবল ধাঁচের। এগুলোর সঙ্গে এমন যন্ত্রও ছিল, যা আগ্নেয়াস্ত্রকে সাধারণ গোলাবারুদ ব্যবহারে অকার্যকর করে তোলে। এগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী নয়। যদি কেউ এমন কিছু ব্যবহারের চেষ্টা করে, তা হলেও সেটির জন্য লাইসেন্স লাগবে— আর সেই লাইসেন্স কখনোই দেওয়া হতো না।” আরও নিশ্চিত করেন, “লাইসেন্স স্থগিত হওয়ার আগ থেকেই কোনো কানাডীয় প্রতিষ্ঠান ইসরায়েলে মর্টার সরবরাহ করেনি।" আনন্দ জানান, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি বৈধ লাইসেন্স ছাড়া সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা কখনোই কানাডায় তৈরি অস্ত্রকে এই সংঘাতে ব্যবহৃত হতে দেব না।
জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানে কানাডার দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি শান্তির জন্য সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংস্কার ও গাজায় মানবিক সংকটের কথা বলেন। ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ ও সহিংসতা তিনি নিন্দা জানান। কানাডা সম্মেলনে ৪ কোটি ডলারের সহায়তা ঘোষণা করে, যার ৩ কোটি গাজার সাধারণ মানুষ এবং ১ কোটি ফিলিস্তিনি প্রশাসনের সংস্কারে ব্যয় হবে।
গাজায় মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করায় ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি বলেন, সাহায্য বিতরণের নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক সংস্থার হাতে তুলে দিতে হবে, কারণ কানাডার অর্থায়নে সরবরাহকৃত সহায়তা আটকে আছে এবং ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। তিনি যুদ্ধবিরতির জন্য সৎ আলোচনার আহ্বান জানান এবং কানাডার দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের ‘টু-স্টেট সল্যুশন’ সম্মেলনে অংশ নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার নতুন ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্সকে ‘সরাসরি আক্রমণ’ আখ্যা দিয়ে কানাডার সঙ্গে সব বাণিজ্য আলোচনা বন্ধ করেছেন। তিনি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কানাডার পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করবেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ইতিবাচক পরিবেশ এই সিদ্ধান্তে বিঘ্নিত হলো। কানাডা সোমবার থেকে আমাজন, গুগলসহ মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানির ডিজিটাল আয়ের ওপর ৩% কর আরোপ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তদন্ত শেষে পাল্টা শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটি থেকে গ্রেহাউন্ড বাসে নেমে নেস্তোর ও হোসে প্ল্যাটসবার্গের এক সানোকো পেট্রল স্টেশনে গিয়ে কানাডা যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ট্যাক্সির খোঁজ করছিলেন। তখন আবহাওয়া ছিল ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং তা আরও কমে মাইনাস ১১ থেকে ১৭ ডিগ্রিতে নেমে যাবে। এভাবেই প্ল্যাটসবার্গে পৌঁছানো অভিবাসীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কানাডা পৌঁছানোর চেষ্টা করে। এটি মূলত ট্রাম্পের কড়াকড়ি অভিবাসী নীতির ফলাফল। এর আগে ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পরও যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডামুখী অভিবাসীর ঢল নেমেছিল। এদিকে কানাডা নতুন প্রসেসিং সেন্টার খুলেছে কুইবেকে এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে।
জি-৭ জোট এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইল-ইরান যুদ্ধ প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির নিরাপত্তার প্রতিও আমাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। জোটটি বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ও সন্ত্রাসের উৎস ইরান। ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। আমরা চাই, ইরান ইস্যুর শান্তিপূর্ণ সমাধানের মধ্য দিয়েই পুরো অঞ্চলের অস্থিরতা হ্রাস পাক। জি-৭ জোট শান্তিপূর্ণ গাজা যুদ্ধবিরতি কামনা করে তেলের বাজারে অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি প্রতিরক্ষা ব্যয় চলতি অর্থবছরেই জিডিপির ২%-এ উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—ঘোষিত সময়সূচির পাঁচ বছর আগেই—যুক্তরাষ্ট্রের উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে। রাশিয়া ও চীনের হুমকির প্রসঙ্গ তুলে কারনি দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশেই উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আগামী জি-৭ ও নেটো সম্মেলনের আগে এই ঘোষণা এলো। কারনি মার্কিন প্রতিরক্ষামূলক আধিপত্য ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান প্রকল্পে নির্ভরতা নিয়েও সমালোচনা করেন।
ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস বলেছেন, 'যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সম্পর্কের উৎস হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং এর ভিত্তি হলো অভিন্ন স্বার্থ, যার লক্ষ্য হলো উভয় সার্বভৌম দেশের জন্য রূপান্তরমূলক সুবিধা নিশ্চিত করা।' প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্রিটেনের এক রাজার ‘সিংহাসন থেকে ভাষণ’, যেখানে রাজার অটোয়ার পার্লামেন্টে আসার সিদ্ধান্তকে কানাডার প্রতি সমর্থনের প্রতীকী নিদর্শন হিসেবে দেখা হয়েছে। কানাডার পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে তৃতীয় চার্লস বলেন, কানাডার সরকার বিশ্বজুড়ে তার বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কে শক্তিশালী করতে কাজ করছে। এটিই বলে দেয় বিশ্বের যা প্রয়োজন এবং বিশ্ব যে মূল্যবোধগুলোকে সম্মান করে কানাডার তা আছে।
কানাডার নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির লিবারেল পার্টি জয় লাভ করেছে বলে জানিয়েছে সিবিসি। নির্বাচনের আগে লিবারেলরা বিশাল পরাজয়ের মুখোমুখি হতে চলেছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন কানাডার অর্থনীতির ওপর আক্রমণ শুরু করেন এবং দেশটির সার্বভৌমত্বের হুমকি দেন—এমনকি কানাডাকে আমেরিকার ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর প্রস্তাব দেন—তখন কানাডিয়ানদের মধ্যে ব্যাপক জাতীয়তাবাদী আবেগ ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী দল চেয়েছিল জাস্টিন ট্রুডোর জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়াকে কাজে লাগাতে, তার পদত্যাগের কারণে তা হয়নি।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কিছু নির্দিষ্ট অটোমোবাইলের উপর ২৫% শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দিয়েছেন, যা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি মেনে চলে না। এর আগে, বুধবার ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ থেকে কানাডা অব্যাহতি পেয়েছিল। কেননা, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি মেনে চলা পণ্যগুলোতে ছাড় দিয়েছিলেন। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সত্ত্বেও ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপ নীতির ফলে, মোটরগাড়ি ব্যবস্থা, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং অন্যান্য পণ্যের উপর শুল্ক আরোপের সম্মুখীন হয় কানাডা। যে কারণে এবার এসব পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। কার্নির মতে, ‘ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে ভেঙে ফেলবে।’ ট্রাম্পের এই নীতিকে ‘ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ্য করে কার্নি আরও বলেন, ‘৮০ বছর শেষ হয়েছে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের মুক্ত অর্থনৈতিক নেতৃত্বের আলিঙ্গন গ্রহণ করেছিল।
ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ কানাডিয়ান মুসলিমস কর্তৃক পরিচালিত রিসার্চ জরিপে দেখা গেছে, গাজা উপত্যকার পরিস্থিতির কারণে ইসরাইলে অস্ত্র রপ্তানি নিষিদ্ধ করার পক্ষে মত দিয়েছে ৫৫% কানাডিয়ান। ৪৯% বিশ্বাস করেন ইসরাইলের কাছে অস্ত্রের যন্ত্রাংশ, সামরিক পরিষেবা এবং প্রশিক্ষণ বিক্রি সীমিত করে আরও এগিয়ে যাওয়া উচিত কানাডার। ৫৬% এর বেশি ভোটার মত দিয়েছেন, কানাডার উচিত আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে চলা। অর্থাৎ নেতানিয়াহু কানাডায় প্রবেশ করলে তাকে গ্রেফতার করা। লিবারেল পার্টির ভোটারদের মধ্যে, আইসিসির পরোয়ানা স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে সমর্থন বিশেষভাবে বেশি, যার পক্ষে ৭০% ভোটার। রক্ষণশীল ভোটাররা এই বিষয়ে বিভক্ত, অর্ধেক নেতানিয়াহুর গ্রেফতারকে সমর্থন করলেও বাকি অর্ধেক সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন।
কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি পার্লামেন্ট ভেঙে ২৮ এপ্রিল আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে। কার্নি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প তার বাণিজ্য নীতি ও উচ্চ শুল্কের মাধ্যমে কানাডার সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করছেন। ট্রুডোর পদত্যাগের পর লিবারেলদের জনপ্রিয়তা কিছুটা বাড়লেও ট্রাম্প ইস্যুতে তাদের অবস্থানের পর কনজারভেটিভদের চাইতে জনপ্রিয় দলে পরিনত হয়েছে তারা। ট্রাম্পের “কানাডাকে ৫১তম রাজ্য বানানো” মন্তব্য জাতীয়তাবাদী আবেগ উসকে দিয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় কার্নিকেই সবচেয়ে শক্তিশালী নেতা মনে করা হচ্ছে।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা বিদ্যুতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ কার্যকর হয়েছে উল্লেখ করে কানাডার অন্টারিও রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডগ ফোর্ড বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ বাড়ালে সম্পূর্ণরূপে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেব। মিনেসোটা, নিউইয়র্ক এবং মিশিগান অঙ্গরাজ্যের প্রায় ১৫ লাখ আমেরিকান গ্রাহক প্রভাবিত হবেন। ফোর্ড বলেছেন, ‘বিশ্বাস করুন, আমি এটা করতে চাই না। এই বাণিজ্য যুদ্ধের জন্য ট্রাম্প দায়ী। কানাডার এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে আমেরিকান গ্রাহকদের মাসিক বিদ্যুৎ বিল প্রায় ১০০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
সোমবার সানা জানিয়েছে, কানাডার লিবারেল পার্টির নেতৃত্বে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন মার্ক কার্নি এবং ঘোষণা করেছেন কানাডা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য হবে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে শুল্ক এড়িয়ে সুবিধা পাওয়া যায় এবং সামরিক সুরক্ষা পাওয়া যায়। কিন্তু কার্নি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, কানাডা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হবে না, এবং দেশটির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে তিনি সবকিছু করবেন। তিনি বলেন, আমেরিকানরা আমাদের সম্পদ, আমাদের পানি, আমাদের ভূমি চায়—কিন্তু তারা আমাদের দেশ গ্রহণ করতে পারবে না।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জানিয়েছেন, মার্কিন পণ্যের ওপর মঙ্গলবার ৪ মার্চ থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে কানাডা। তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি কানাডিয়ান পণ্যের উপর প্রস্তাবিত শুল্ক আরোপ করেন, তাহলে মঙ্গলবার থেকে কানাডা ১৫৫ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে। তিনি আরও বলেন, মার্কিন বাণিজ্য পদক্ষেপ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের শুল্ক বহাল থাকবে। এদিকে, কানাডা এবং মেক্সিকোর ওপর ২৫ শতাংশ মার্কিন শুল্ক কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ব্রিটেনের রাজা চার্লসের সঙ্গে সোমবার বৈঠক করবেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তাদের বৈঠকে কানাডার সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে বলে জানিয়েছেন ট্রুডো। এর আগে গত সপ্তাহে রাজা চার্লস ট্রাম্পকে ব্রিটেনে তার দ্বিতীয় ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানান। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ওভাল অফিসে বিশ্ব গণমাধ্যমের সামনে এক বৈঠকের সময় আমন্ত্রণপত্রটি হস্তান্তর করেন। দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মসনদে বসার পর থেকে ট্রাম্প বারবার বলে আসছে, কানাডা যদি যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য হয় তবে তার অবস্থা আরও ভালো হবে।
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৬০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।