ইয়েমেনের দক্ষিণ উপকূলের কাছে রাসায়নিক ট্যাংকার ‘আসানা’ দখল করেছে সশস্ত্র ব্যক্তিরা। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিরা ট্যাংকারে আরোহণ করে এর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। জাহাজটির পতাকা কোন দেশের তা নিশ্চিত নয়, তবে ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী এর পরবর্তী গন্তব্য সোমালিয়ার বোসাসো বন্দর।
ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ইয়েমেনের আল মুকাল্লা বন্দর থেকে প্রায় ৬৫ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে এডেন উপসাগরে পূর্ব দিকে যাওয়ার সময় অননুমোদিত ব্যক্তিরা একটি জাহাজে আরোহণ করে। ঘটনাটি ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
কে বা কারা এই দখলের পেছনে রয়েছে তা এখনো জানা যায়নি এবং জাহাজের ক্রু বা পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইয়েমেন উপকূলে রাসায়নিক ট্যাংকার দখল, গন্তব্য সোমালিয়ার বোসাসো বন্দর
ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সতর্ক করেছে, ইয়েমেনের সংঘাতে সৌদি আরব আরও জড়ালে দেশটির সব তেলক্ষেত্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হবে। বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে হুথি নেতা আব্দুল মালিক আল-হুতি এই হুমকি দেন।
এর আগে সোমবার সৌদি আরব হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়েমেনের একটি বিমানবন্দরে হামলা চালায়। এর জবাবে হুতিরা সৌদির বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, ফলে চার বছর ধরে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়। হুতিরা অতীতেও সৌদির জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছিল—২০১৯ ও ২০২২ সালে বড় ধরনের আঘাতে তেল উৎপাদন ও বিতরণে বিঘ্ন ঘটে।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ইয়েমেনের এই গৃহযুদ্ধে দেশটি বর্তমানে এডেনভিত্তিক সৌদি-সমর্থিত সরকার ও সানাভিত্তিক হুথি প্রশাসনের মধ্যে বিভক্ত, যা বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি ভেঙে সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার হুমকি হুতিদের
সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে, যা চার বছরের যুদ্ধবিরতিকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। সোমবার হুথিরা অভিযোগ করে, সৌদি বাহিনী সানার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোমাবর্ষণ করেছে ইরানের একটি বিমান অবতরণ ঠেকাতে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এ বিষয়ে মন্তব্য না করলেও জানায়, হামলার পর হুথিরা সৌদির দিকে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যা প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রতিহত করেছে। হুথিরা সৌদির আবহা বিমানবন্দরে পাল্টা হামলার দাবি করে এবং বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদির আকাশসীমা এড়িয়ে চলার সতর্কতা দেয়। জাতিসংঘের দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উভয় পক্ষকে সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন।
৩ জুলাই সানায় ইরানের বিমান অবতরণের পর থেকেই উত্তেজনা বাড়ছিল। ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার সোমবারের হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, তারা আরেকটি ইরানি বিমানের অবতরণ ঠেকাতে এ হামলা চালিয়েছে। হুথিরা সরাসরি সৌদিকে দায়ী করে জানায়, এর মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের পর্বের অবসান ঘটেছে। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, সংঘাত বাড়লে ইয়েমেনের মানবিক সংকট আরও গভীর হবে।
হোদেইদাহ প্রদেশে নতুন করে স্থলযুদ্ধ শুরু হওয়ায় যুদ্ধবিরতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সৌদি ও হুথিদের পাল্টা হামলার অভিযোগে ইয়েমেনের যুদ্ধবিরতি হুমকিতে
২০২৬ সালের ১৩ জুলাই সোমবার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে হামলা চালায় বলে আনাদোলু এজেন্সি ও ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে। হামলার কারণে হুতি নিয়ন্ত্রিত সানায় অবতরণ করতে না পেরে একটি ইরানি বিমান গন্তব্য পরিবর্তন করে পশ্চিম উপকূলের হুদায়দাহ বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ঘটনাটি দেশটির চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানায়, রানওয়েতে হামলার পর ফ্লাইট পরিকল্পনা পরিবর্তন করে বিমানটি হুদায়দাহে নামানো হয়। এর আগে ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে, হুতি বিদ্রোহীরা দেশের নিজস্ব বিমানগুলোকে সানায় নামতে বাধা দিলেও ইরানের একটি বিমানকে আকাশসীমা লঙ্ঘন করে অবতরণের অনুমতি দেয়। সরকারের দাবি, এই ঘটনার প্রতিক্রিয়াতেই সানা বিমানবন্দরের রানওয়েতে হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি হামলার নিন্দা জানিয়ে সতর্ক করেন, দায়ীদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে এবং এর প্রতিক্রিয়া ছাড়া বিষয়টি শেষ হবে না।
সানায় হামলায় ইরানি বিমান হুদায়দাহে অবতরণে বাধ্য
ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলের হোদেইদাহ প্রদেশে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে সরকারি বাহিনীর ১৬ জন সেনা নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। আল জাজিরা জানিয়েছে, জাবাল দাব্বাস এলাকায় সংঘর্ষটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ছিল। সরকারপন্থি মন্ত্রী ওয়ালিদ আল-কুদাইমি জানান, নিহতরা নিজেদের ভূমি ও মর্যাদা রক্ষার জন্য লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন।
চিকিৎসা সূত্র জানায়, ১৬ জনের লাশ এবং ২২ জন আহত সেনাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সরকারি বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার রাতে হুথিরা হামলা চালিয়ে কিছু সরকারি অবস্থান দখল করেছিল, তবে শনিবার ভোরে পাল্টা হামলায় সরকারি বাহিনী এলাকাগুলো পুনরায় নিয়ন্ত্রণে নেয়।
২০১৫ সাল থেকে হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। বর্তমানে তারা রাজধানী সানা, উত্তর ইয়েমেনের বড় অংশ এবং গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর হোদেইদাহ নিয়ন্ত্রণ করছে।
হোদেইদাহে হুথিদের সঙ্গে সংঘর্ষে ইয়েমেনের ১৬ সরকারি সেনা নিহত
ইয়েমেনের লোহিতসাগর উপকূলে একটি পণ্যবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)। সংস্থাটি জানায়, হোদাইদাহ বন্দরনগরী থেকে প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থানরত জাহাজটি থেকে তারা একটি বিপৎসংকেত পেয়েছে। ঘটনাটি ৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে ঘটে এবং কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
ইউকেএমটিও ওই অঞ্চলে চলাচলরত জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপের বিষয়ে অবহিত করার পরামর্শ দিয়েছে। ঘটনাটির পর সংস্থাটি নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে যাতে নৌযানগুলো অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে।
এ হামলার দায় এখনো কোনো দেশ বা গোষ্ঠী স্বীকার করেনি এবং ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
ইয়েমেন উপকূলে জাহাজে হামলা, তদন্ত ও সতর্কতা জারি
ইয়েমেনের প্রতিরোধ আন্দোলন হুতি আনসারুল্লাহ সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছে। শুক্রবার, ৩ জুলাই এক বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করে যে সৌদি যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ইরানি বেসামরিক বিমানের অবতরণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সতর্ক করে বলেন, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘন বা আগ্রাসন চালায়, তবে স্থল ও সমুদ্রপথে পাল্টা হামলা চালানো হবে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২০ মিনিটে সৌদি যুদ্ধবিমানের অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়। সারির দাবি অনুযায়ী, ইরানি বিমানটি দুই শতাধিক আটকে পড়া, আহত ও অসুস্থ নাগরিক বহন করছিল এবং পরে নিরাপদে সানায় অবতরণ করে তেহরানে ফিরে যায়। হুতিরা জানায়, তারা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত এবং সৌদি-মার্কিন অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে কাজ করছে।
সম্প্রতি সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকার ও হুতিদের মধ্যে বড় বন্দি বিনিময়ের পর এই নতুন হুমকি এসেছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইয়েমেনের পরিস্থিতি এখনো অস্থির রয়ে গেছে।
ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদিতে হামলার হুমকি হুতিদের
ইয়েমেনের বালহাফ উপকূল থেকে প্রায় ৮৮ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ছয়জন সশস্ত্র ব্যক্তি একটি ছোট নৌযানে করে জাহাজটির দিকে এগিয়ে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। পরে ছোট নৌযানটি ফিরে যায় এবং কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে ইউকেএমটিও জানায়, জাহাজটির সশস্ত্র নিরাপত্তা দল হামলাকারীদের প্রতিহত করে। এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ওই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ইয়েমেন উপকূলীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইয়েমেন উপকূলে পণ্যবাহী জাহাজে হামলা, তদন্ত শুরু
গাজায় এক শীর্ষ হামাস কমান্ডারের মৃত্যুর পর ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে ইয়েমেনের হুতি সামরিক নেতৃত্ব। টেলিগ্রামে পাঠানো এক শোকবার্তায় হুতি বাহিনীর চিফ অব স্টাফ ইউসুফ হাসান আল-মাদানি হামাস কমান্ডার ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদের মৃত্যুকে ফিলিস্তিনি আন্দোলন ও সমগ্র অঞ্চলের জন্য বড় ক্ষতি বলে উল্লেখ করেছেন।
আল-মাদানি বলেন, হামাস ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে হুতিদের যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই সমর্থন বজায় থাকবে। এই বার্তাটি হুতিদের ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতি দীর্ঘদিনের অবস্থানকে পুনরায় নিশ্চিত করে।
আলজাজিরা সূত্রে প্রকাশিত এই বিবৃতি আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হুতিদের ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান ও সংহতির প্রতিশ্রুতি পুনরায় তুলে ধরেছে।
গাজায় হামাস কমান্ডারের মৃত্যুর পর হামাসের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত হুতিদের
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা বাব আল-মানদেব প্রণালি বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে। হুথি সরকারের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হুসেইন আল-এজ্জি সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাধা দিতে থাকেন, তবে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সানা যদি বাব আল-মানদেব বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে কেউই তা পুনরায় খুলতে পারবে না।
আল-এজ্জি আরও বলেন, ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের উচিত হবে অবিলম্বে শান্তির পথে বাধা সৃষ্টিকারী কার্যকলাপ বন্ধ করা এবং ইয়েমেনের জনগণ ও জাতির অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। বাব আল-মানদেব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং এটি সুয়েজ খালের দিকে নৌ চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।
এই প্রণালি বিশ্বব্যাপী তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ফলে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়তে পারে।
শান্তি বাধাগ্রস্ত হলে বাব আল-মানদেব প্রণালি বন্ধের হুমকি হুথিদের
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের সংঘাত দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করেছে। মার্কিন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ইরান পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। ইরানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ইয়েমেনের হুতিরা ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রাখতে বাব আল–মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়েছে বলে আলজাজিরা জানিয়েছে।
সানায় আলজাজিরার প্রতিবেদক ইউসেফ মাওরি জানিয়েছেন, দক্ষিণ ইসরাইলে হুতিদের হামলা আরও তীব্র হয়েছে। হুতি নেতারা বলেছেন, তাদের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হামলা বন্ধ হবে না। তাদের প্রধান দাবি হলো, ইসরাইলকে গাজায় যুদ্ধবিরতি মানতে হবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইসরাইলের অংশগ্রহণ বন্ধ রাখতে হবে।
হুতিদের শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ আল–বুখাইতি জানিয়েছেন, সংঘাত বাড়ানোর জন্য তাদের হাতে আরও কৌশল রয়েছে, যার একটি হতে পারে বাব আল–মান্দেব প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া।
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রাখতে বাব আল–মান্দেব বন্ধের হুমকি হুতিদের
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা সব জাহাজকে ইয়েমেনের জলসীমা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা আবারও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা শুরু করতে পারে বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে। শনিবার হুথিরা ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর নতুন করে হামলার হুমকি দেয়, যা আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে।
ইইউ নৌবাহিনীর ‘অ্যাসপিডিস’ মিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে আপাতত ইয়েমেনের জলসীমা থেকে দূরে থাকতে হবে। প্রতিবেদনে ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট জাহাজের ঝুঁকি ‘উচ্চ’ এবং যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কহীন জাহাজের ঝুঁকি ‘মাঝারি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হুথিরা এখনো বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যাহত করার কৌশল পুরোপুরি ব্যবহার করেনি। এই প্রণালীতে অস্থিরতা দেখা দিলে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
হুথি হামলার আশঙ্কায় ইয়েমেনের জলসীমা এড়িয়ে চলার আহ্বান ইইউর
হুথি সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানি বন্ধের কথা বিবেচনা করছেন। হুথিদের তথ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মুহাম্মদ মানসুর বলেন, এটি তাদের বিকল্পগুলোর একটি। ইয়েমেন ও আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলের মাঝখানে অবস্থিত এই প্রণালিটি সবচেয়ে সরু জায়গায় প্রায় ২৬ কিলোমিটার প্রশস্ত এবং এটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় ১২ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়। অপরদিকে, ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়। দুই প্রণালি বন্ধ হলে ৩২ শতাংশ তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে। সৌদি আরব বর্তমানে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন ব্যবহার করে বিকল্প পথে তেল রপ্তানি করছে, যা তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করছে।
মানসুর বলেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে এই প্রণালি বন্ধের বিষয়টি তাদের বিবেচনায় রয়েছে এবং শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি হুথিদের, বৈশ্বিক তেল সরবরাহে আশঙ্কা
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সতর্ক করেছে যে নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতি তৈরি হলে তারা সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে নামবে। মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, তাদের ‘আঙুল সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের ট্রিগারে রয়েছে’। তিনি পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে আহ্বান জানান ইরান ও লেবাননসহ তথাকথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষভুক্ত’ দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সাড়া দিতে।
সারি বলেন, চলমান আগ্রাসন অন্যায়, দমনমূলক ও অযৌক্তিক, যা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। তিনি ফিলিস্তিন, লেবানন, ইরাক ও ইরানে আগ্রাসন বন্ধ এবং ইয়েমেনের ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও সতর্ক করেন, ইয়েমেনের জনগণের ওপর অবরোধ আরও কঠোর করার যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে হুথিরা সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি হুথিদের
ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইয়েমেনের হুতি (আনসার আল্লাহ) বিদ্রোহীরা বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলা ১৬তম দিনে পড়েছে। হুতি সামরিক কর্মকর্তা আবেদ আল-থাওর শনিবার বলেন, যদি হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করা হতে পারে। প্রেস টিভির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দিকে যাওয়া বাণিজ্যিক জাহাজ, যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরীও আটকানো হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইসরাইলের বন্দরমুখী সব জাহাজের জন্য বাব আল-মান্দেব প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে হুতিরা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে, যাতে তেহরানসহ কয়েকটি বড় শহরে হামলা চালানো হয়। হোয়াইট হাউস জানায়, ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক হুমকির কারণে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পাল্টা হামলা চালায় ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন।
ইরান অভিযানে উত্তেজনা, বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি হুতিদের
ইয়েমেনে এক ভয়াবহ ক্ষুধা সংকট দেখা দিচ্ছে, যেখানে জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি—প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ—২০২৬ সালের শুরুর দিকে আরও তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) জানিয়েছে, প্রায় সব জরিপকৃত পরিবার খাদ্যকে তাদের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং ৮০ শতাংশ পরিবার তীব্র ক্ষুধার কথা জানিয়েছে। সর্বশেষ আইপিসি মূল্যায়নে সতর্ক করা হয়েছে যে আরও ১০ লাখ মানুষ জীবন-হুমকিপূর্ণ ক্ষুধায় পড়তে পারে এবং আগামী দুই মাসে চারটি জেলায় ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত হতে পারে।
বহু বছরের সংঘাত, অর্থনৈতিক পতন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইয়েমেনের খাদ্য উৎপাদন ও আমদানি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। দেশটি প্রায় ৯০ শতাংশ শস্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু যুদ্ধের কারণে কৃষকরা বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে গেছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে কৃষি উৎপাদন আরও কমে গেছে, ফলে অনেক পরিবার দিনে একবেলা খাবারেই সীমাবদ্ধ।
মানবিক সহায়তা তহবিল গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, প্রয়োজনীয় অর্থের মাত্র ২৫ শতাংশ পাওয়া গেছে এবং পুষ্টি সহায়তা মাত্র ১০ শতাংশ অর্থায়ন পেয়েছে। আইআরসি জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা পুনরুদ্ধার ও সম্প্রসারণ, শিশু ও মায়েদের চিকিৎসা অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ক্ষুধা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে।
সহায়তা হ্রাস ও সংঘাতে ইয়েমেনে ক্ষুধা সংকট আরও গভীর হচ্ছে
দক্ষিণ ইয়েমেনের আল-মাহফাদ জেলার লাহমার এলাকায় মঙ্গলবার একটি বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন নারী ও শিশু রয়েছে। সংঘর্ষের পর আগুন ধরে ছোট বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং যাত্রীদের কেউই বেঁচে নেই।
রয়টার্সের বরাতে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাস্তার একটি বিপজ্জনক বাঁকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সংঘর্ষের পর বাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে, ফলে যাত্রীরা বের হতে পারেননি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছর আবিয়ান প্রদেশের একটি পাহাড়ি রাস্তায় অনুরূপ দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত হয়েছিলেন।
সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘর্ষের কারণে ইয়েমেনের সড়ক নেটওয়ার্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা দেশে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
দক্ষিণ ইয়েমেনে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৬ জন নিহত, সড়ক অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনে সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারপন্থি একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বহরে বোমা হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামদি শুকরি আহত হয়েছেন। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, এডেন শহরের উত্তরে জা’আওলা এলাকায় রাস্তার পাশে রাখা একটি গাড়িবোমা বিস্ফোরিত হয়, ঠিক সেই সময় দ্বিতীয় জায়ান্টস ব্রিগেডের কমান্ডার শুকরির বহর ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিল। চিকিৎসা সূত্র জানায়, শুকরির পায়ে শ্রাপনেলের আঘাত লেগেছে এবং তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানায়, হামলায় সশস্ত্র বাহিনীর পাঁচ সদস্য নিহত এবং আরও তিনজন আহত হন। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। দক্ষিণ ইয়েমেনে সরকারপন্থি বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এ হামলা ঘটে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনতে ইয়েমেনি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। ইয়েমেনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও হামলাটিকে “উসকানিমূলক ও অযৌক্তিক” বলে নিন্দা জানিয়েছে।
এডেনে বোমা হামলায় সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর ৫ সদস্য নিহত, কমান্ডার শুকরি আহত
ইয়েমেনের উন্নয়নে ৫০০ মিলিয়ন ডলার অর্থসহায়তার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। ইয়েমেনে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ও ইয়েমেনের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে সৌদি প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আল-জাবের এই ঘোষণা দেন। মূলত ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রিয়াদের সমর্থনের আশ্বাস দেন।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে হাসপাতাল, স্কুল ও রাস্তা নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে জ্বালানি অনুদানও থাকবে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই সহায়তা ইয়েমেনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার এবং জনগণের জন্য উন্নত ভবিষ্যৎ গঠনে সৌদি আরবের সদিচ্ছার প্রতিফলন।
সম্প্রতি ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো পুনরায় নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, যা আগে বিচ্ছিন্নতাবাদী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের দখলে ছিল। এই সংঘাত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্কেও টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে।
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল উন্নয়নে ৫০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিচ্ছে সৌদি আরব
ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী সালেম বিন ব্রেইক পদত্যাগ করেছেন এবং তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে শায়া মোহসেন জিনদানিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জিনদানি এর আগে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ইয়েমেনের সরকারি বার্তা সংস্থা সাবা জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সালেম বিন ব্রেইক সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা দ্রুত গৃহীত হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হয়।
ইয়েমেনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দীর্ঘদিন ধরেই অস্থির। ২০১৪ সালে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করার পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর আল হাদী সৌদিতে আশ্রয় নেন। এরপর সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেনের সেনাবাহিনী মিলে হুথিদের দমন এবং হাদির সরকারকে পুনঃক্ষমতায় ফেরাতে একটি প্রতিরক্ষা জোট গঠন করে।
২০১৫ সাল থেকে এই জোট হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। প্রায় ১১ বছর ধরে চলমান সংঘর্ষে বর্তমানে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল হুথিদের নিয়ন্ত্রণে, আর দক্ষিণাঞ্চল পরিচালনা করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল।
ইয়েমেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন শায়া মোহসেন জিনদানি
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৪৮ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।