আন্তর্জাতিক বাজারে তুরস্কের জলপাই তেল রপ্তানি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন দেশটির রপ্তানিকারকরা। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কর ও বাণিজ্যিক বাধার আশঙ্কায় তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তুরস্কের কৃষকদের কাছে জলপাই মূল্যবান কৃষিপণ্য হিসেবে ‘সবুজ সোনা’ নামে পরিচিত।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অতিরিক্ত শুল্ক বা কর আরোপ হলে তুর্কি জলপাই তেলের দাম বাড়তে পারে। এতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পণ্যটির অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের জলপাই তেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত রপ্তানিকারকদের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
রপ্তানিকারকদের ভাষ্য, এ শিল্পের সঙ্গে বড় কোম্পানির পাশাপাশি হাজার হাজার কৃষক ও ক্ষুদ্র উৎপাদক জড়িত। ফলে রপ্তানি বাজারে বাধা এলে পুরো উৎপাদন ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলপাই ও জলপাই তেল উৎপাদক দেশ তুরস্ক রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রে বাজারপ্রবেশ বজায় রাখতে দ্রুত কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
সম্ভাব্য মার্কিন শুল্কে তুরস্কের জলপাই তেল রপ্তানি ও কৃষকদের ওপর চাপের আশঙ্কা
মিসরীয় ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ ফ্রি ট্রান্সফারে তুর্কি ক্লাব ট্রাবজোনস্পোরে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন। ৫ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্লাবটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে তার আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ভিডিওতে সালাহকে প্রথমবার ট্রাবজোনস্পোরের ঐতিহ্যবাহী মেরুন ও নীল জার্সিতে দেখা যায়।
ভিডিও বার্তায় সমর্থকদের উদ্দেশে সালাহ বলেন, “ট্রাবজোনস্পোরের সমর্থকরা, আপনারা কি তৈরি? খুব শিগগিরই দেখা হচ্ছে।” বক্তব্যের শেষে তিনি তুর্কি ক্লাব স্লোগান “বিজে হের ইয়ার ট্রাবজোন” উচ্চারণ করেন। আলোচনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, তুরস্কে পৌঁছানো, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চুক্তি স্বাক্ষর—সব প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে বেসিকতাস, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, সৌদি প্রো লিগের আল-ইত্তিহাদ ও আল-দিরিয়া এবং কয়েকটি মার্কিন ক্লাবের সঙ্গে সালাহর নাম জড়িয়েছিল। তবে তিনি ইউরোপে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। এই দলবদলে লিভারপুলের সঙ্গে তার নয় বছরের অধ্যায় শেষ হলো; সেখানে তিনি প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়নস লিগ, ক্লাব বিশ্বকাপ ও ইউরোপীয় সুপার কাপসহ শিরোপা জিতেছেন।
ফ্রি ট্রান্সফারে তুর্কি ক্লাব ট্রাবজোনস্পোরে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন মোহাম্মদ সালাহ
তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগলু রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন এবং তার বিরোধী ফিউচার পার্টি রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করছে। ২ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি এই সিদ্ধান্তকে আত্মসমর্পণ নয়, দেশের ‘দূষিত রাজনৈতিক পরিবেশ’ থেকে নিজেকে দূরে রাখার পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একসময় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী দাভুতোগলু পরে তাঁর তৈরি রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচক হন।
শিক্ষাবিদ দাভুতোগলু ‘স্ট্র্যাটেজিক ডেপথ’ তত্ত্বের মাধ্যমে তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনার চেষ্টা করেন। তিনি ২০০৯ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হন। তাঁর সময়ে ‘প্রতিবেশীদের সঙ্গে শূন্য সমস্যা’ নীতির আওতায় আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে তুরস্কের কূটনৈতিক উপস্থিতি বাড়ে। তবে সিরিয়ার যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাঁর পররাষ্ট্রনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
এরদোয়ানের সঙ্গে ক্ষমতা ও নীতিগত মতপার্থক্যের জেরে দাভুতোগলু ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন এবং পরে ফিউচার পার্টি গঠন করেন। বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীন সাংগঠনিক ভিত্তি গড়তে না পারা ও বিরোধী রাজনীতির সীমাবদ্ধতায় দলটি উল্লেখযোগ্য সমর্থন পায়নি। ২০২৩ সালের নির্বাচনে সিএইচপির প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় দলটির নিজস্ব পরিচয় আরও দুর্বল হয়।
দাভুতোগলুর ফিউচার পার্টি কার্যক্রম বন্ধ করছে; এরদোয়ানকে চ্যালেঞ্জে ব্যর্থতার কারণ বিশ্লেষণ
তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) থেকে পদত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির পদচ্যুত নেতা ওজগুর ওজেল। গত মঙ্গলবার ৮০ জনেরও বেশি সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে তিনি এই ঘোষণা দেন। উপস্থিত আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে ওজেল বলেন, এটি এক বেদনাদায়ক কিন্তু অনিবার্য বিদায়, তবে জনগণের সঙ্গে নতুন শুরুর আশা ভাগ করে নিতে চান। জানা গেছে, তিনি শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন দলের নিবন্ধনের আবেদন জমা দেবেন, যার সম্ভাব্য নাম ‘ইয়েনি পার্টি’ (নিউ পার্টি)।
মে মাসে আদালতের আদেশে ওজেলকে সিএইচপির সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে কামাল কিলিচদারোগ্লুকে অন্তর্বর্তী প্রধান হিসেবে পুনর্বহাল করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তীব্র হয়। ওজেলের সমর্থকদের দাবি, আদালতকে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যদিও সরকার বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতার কথা বলেছে।
ওজেলের এই পদক্ষেপ এমন সময়ে এলো, যখন সিএইচপি পরিচালিত পৌরসভাগুলোর বিরুদ্ধে সরকারি তদন্ত চলছে এবং ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলু কারাগারে রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন দল তুরস্কের বিরোধী রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে।
সিএইচপি ছেড়ে নতুন দল গঠনের ঘোষণা দিলেন ওজগুর ওজেল, তুরস্কে বিরোধী বিভাজন তীব্র
যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি দূর করে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার সুযোগ তৈরি করতে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করছে তুরস্ক। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাটো সম্মেলনের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্কের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেওয়ার পর এই আলোচনা নতুন করে শুরু হয়েছে।
২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ কেনার পর যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়, কারণ ওয়াশিংটনের আশঙ্কা ছিল উভয় ব্যবস্থা একসঙ্গে থাকলে মার্কিন প্রযুক্তিগত তথ্য রাশিয়ার হাতে যেতে পারে। তবে এস-৪০০ অন্য দেশে পাঠাতে রাশিয়ার অনুমোদন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সমর্থন প্রয়োজন, যা এই উদ্যোগের বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত সফল হবে কি না, তা রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের আলোচনার ওপর নির্ভর করছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলার পর দেশগুলো নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করছে।
এস-৪০০ ইউএইতে পাঠিয়ে এফ-৩৫ কেনার পথ খুলতে তুরস্কের উদ্যোগ
একজন ইসরাইলি সামরিক বিশ্লেষক জানিয়েছেন, তুরস্ক রুশ তৈরি এস–৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাতার বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে বিক্রি করলেও যুক্তরাষ্ট্রের এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে ইউরেশিয়ান টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। তুর্কি গণমাধ্যম জানিয়েছে, আঙ্কারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে এস–৪০০ বিক্রির চেষ্টা করছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, এ বিষয়ে বহুপাক্ষিক আলোচনা চলছে।
রাশিয়া থেকে এস–৪০০ কেনার পর যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে এফ–৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় এবং সিএএটিএসএ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি ছিল, রুশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সঙ্গে এফ–৩৫ পরিচালনা করলে এর গোপন স্টিলথ প্রযুক্তি ফাঁস হতে পারে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও এফ–৩৫ বিক্রির ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইসরাইল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট শাই গ্যাল বলেছেন, কংগ্রেস ও পেন্টাগনের অনুমোদন ছাড়া তা সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এস–৪০০ সরিয়ে ফেললেও যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি অনাস্থা দূর হবে না। ইসরাইল ও গ্রিস তুরস্ককে এফ–৩৫ বিক্রির বিরোধিতা করেছে, কারণ এতে আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
রুশ এস–৪০০ বিক্রি করলেও তুরস্কের এফ–৩৫ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই
২০১৬ সালের ১৫ জুলাই তুরস্কে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের রাতে রাস্তায় ট্যাংক, যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন ও সংসদ ভবনে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের আহ্বানে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। ওই রাতে ২৫৩ জন নিহত হন। এই ঘটনাই পরবর্তী এক দশকে তুরস্কের রাজনীতি, প্রশাসন ও পররাষ্ট্রনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে।
অভ্যুত্থানের পর জরুরি অবস্থা জারি করে সরকার ব্যাপক শুদ্ধি অভিযান চালায়। ফেতুল্লাহ গুলেনের নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে হাজার হাজার সেনা, বিচারক, পুলিশ, শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীকে গ্রেফতার বা বরখাস্ত করা হয়। সমালোচকদের মতে, এই অভিযান ভিন্নমত দমনে ব্যবহৃত হয়েছে। ২০১৭ সালের গণভোটে সংসদীয় ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে শক্তিশালী রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা চালু হয়, যা প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই ঘটনার পর সামরিক বাহিনীর ওপর বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতি নিরাপত্তাকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে। উত্তর সিরিয়ায় সামরিক অভিযান, রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এই পরিবর্তনের প্রতিফলন।
২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণে তুরস্কের রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি বদলে গেছে
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান স্পষ্ট জানিয়েছেন, তুরস্ক ইসরাইলের সঙ্গে কোনো ধরনের সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়াবে না। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময়ের প্রেক্ষাপটে এই অবস্থান জানানো হয়। ফিদান বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর কোনো যৌক্তিক কারণ বা প্রয়োজন নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ কিছু নেতা নির্বাচনি সুবিধা পেতে উসকানিমূলক পরিস্থিতি তৈরি করছেন। ফিদানের মতে, রাজনৈতিক টিকে থাকার লড়াইয়ে নেতানিয়াহু ও তাঁর সহযোগীরা সবসময় একটি শত্রুর প্রয়োজন অনুভব করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরাইল ইতিমধ্যে হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত, আর এখন কিছু ইসরাইলি রাজনীতিবিদের কাছে তুরস্ক নতুন শত্রু হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
তবে ফিদান বলেন, ইসরাইলের সব রাজনীতিবিদ বা নাগরিক একই মানসিকতার নন, এবং তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন যে দেশটিতে এখনও কিছু বোধসম্পন্ন ও যুক্তিবাদী মানুষ রয়েছেন।
ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে না যাওয়ার ঘোষণা দিল তুরস্ক
তুরস্ক সফরে দেশটির মুসলিম জনগণের সহনশীলতা, আন্তরিক আতিথেয়তা ও ধর্মীয় পরিবেশের প্রশংসা করেছেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্ট্রুন ফ্রোস্তাদোত্তির। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, তুরস্কের মুসলমানদের সহনশীলতা তাঁকে মুগ্ধ করেছে এবং আজানের ধ্বনিতে তিনি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছেন, যা তাঁর কাছে হৃদয়স্পর্শী মনে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তুরস্কে পাওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনা ও ইতিবাচক অভিজ্ঞতা তাঁকে আনন্দিত করেছে এবং তিনি খুব শিগগিরই আবার তুরস্ক সফর করতে চান। তাঁর এই মন্তব্যে তুরস্কের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিকতার প্রকাশ পাওয়া যায়।
এই সফরকে কেন্দ্র করে আইসল্যান্ড ও তুরস্কের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সাংস্কৃতিক বোঝাপড়ার একটি ইতিবাচক বার্তা প্রতিফলিত হয়েছে।
তুরস্কের আতিথেয়তা ও আজানের সুরে মুগ্ধ আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী
ইউরোপের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তুরস্কের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। সামরিক সক্ষমতা, প্রতিরক্ষা শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে দেশটি এখন ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক ন্যাটো সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসেবে তুরস্ক এই পরিবর্তনকে আরও স্পষ্ট করেছে। ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর অধিকারী দেশটি বর্তমানে নিজস্ব সামরিক চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ করছে এবং গত বছর ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অস্ত্র রপ্তানি করেছে। ইউক্রেনে ব্যবহৃত বাইরাকতার টিবি-২ ড্রোন তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
রকেটসান ও আসেলসানের মতো তুর্কি কোম্পানিগুলো এখন ন্যাটোর বড় প্রতিরক্ষা প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে। কূটনৈতিকভাবে তুরস্ক ইউক্রেন, সিরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। সম্মেলনে যুক্তরাজ্য ও তুরস্ক নতুন প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি ঘোষণা করেছে, যার আওতায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও যৌথ সহযোগিতা বাড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার হুমকি ও ন্যাটো সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইউরোপ এখন তুরস্কের ওপর আরও নির্ভরশীল হচ্ছে। তবে এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে নতুন ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
ইউরোপের প্রতিরক্ষা কৌশলে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে তুরস্কের উত্থান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তুরস্কের কাছে অত্যাধুনিক এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন। আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, এই বিক্রির বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সম্ভাব্য বিক্রির বিরোধিতা করেছেন। তিনি ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেন তুরস্কের কাছে এই যুদ্ধবিমান বিক্রি না করতে, কারণ তার মতে এতে ইসরাইলের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন পদক্ষেপ সম্পর্কে ট্রাম্প তাকে অবহিত করেছেন।
এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার জটিল আঞ্চলিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা নীতির ভারসাম্যকে নতুনভাবে আলোচনায় এনেছে।
তুরস্কে এফ–৩৫ বিক্রির বিরোধিতা করে ট্রাম্পকে অনুরোধ নেতানিয়াহুর
আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের পর কয়েকজন বিশ্বনেতা বিস্মিত হন, যখন তারা নিজেদের লাগেজে রিভলভার ও তাজা গুলি খুঁজে পান। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান প্রত্যেক নেতাকে বিদায়ী উপহার হিসেবে একটি গুমুসাই ০.৩৫৭ ম্যাগনাম রিভলভার ও গুলি দেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন, যা বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত ও পররাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার।
লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, কাঠের বাক্সে তুরস্ক ও ন্যাটোর প্রতীকসহ রিভলভারটি রাখা হয়েছে। স্পেন, বেলজিয়াম, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, যুক্তরাজ্য, ইতালি, গ্রিস, কানাডা ও ইউরোপীয় কমিশনের নেতারা উপহারগুলো ভিন্নভাবে সংরক্ষণ করেছেন—কেউ দূতাবাসে, কেউ জাদুঘরে, আবার কেউ আঙ্কারাতেই নিষ্ক্রিয় করার জন্য রেখে গেছেন। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী সেটি বিমানবন্দর পুলিশের কাছে জমা দেন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ একে প্রতীকী বার্তা হিসেবে দেখলেও অধিকাংশ কর্মকর্তা বিষয়টিকে শুল্ক ও কূটনৈতিক প্রটোকলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তুরস্ক বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্রাস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে উঠে এসেছে।
ন্যাটো নেতাদের রিভলভার উপহার নিয়ে কূটনৈতিক ও শুল্ক জটিলতা
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান আংকারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রতিটি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানকে তাজা গুলিসহ একটি ব্যক্তিগত রিভলবার উপহার দিয়েছেন। প্রতিটি অস্ত্রে সংশ্লিষ্ট নেতার নাম খোদাই করা ছিল। তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নাম খোদাই করা রিভলবারটি ব্রিটেনে নেওয়া হয়নি; এটি তুরস্কে অবস্থানরত ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের কাছেই রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অস্ত্রটি যুক্তরাজ্যে পাঠানোর আগে নিষ্ক্রিয় করা হবে যাতে এটি দিয়ে আর গুলি ছোড়া না যায়।
এরদোয়ান এ উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে তুরস্কের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন শিথিল করেছিলেন, যদিও যুক্তরাজ্যে অনুমতি ছাড়া তাজা আগ্নেয়াস্ত্র আমদানি করা অবৈধ। ডাউনিং স্ট্রিট রিভলবারটির কোনো ছবি প্রকাশ করেনি। সম্মেলনের ফাঁকে স্টারমার ও এরদোয়ান একটি প্রতিরক্ষাচুক্তি স্বাক্ষর করেন, যা দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান সহজ করবে।
সম্মেলন শেষে স্টারমার জানান, ন্যাটো এখন আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ। ইউক্রেন ও ইরানের চলমান সংঘাতের সময়ে এই ঐক্য বজায় রাখা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। এটি ছিল তার পদত্যাগ ঘোষণার পর শেষ বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন।
আংকারায় ন্যাটো নেতাদের রিভলবার উপহার দিলেন এরদোয়ান
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের নৈশভোজের আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোয়ানের শুভেচ্ছা বিনিময়ের একটি মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বুধবার টাইমস অব ইন্ডিয়া ভিডিওটি প্রকাশ করে, যেখানে দেখা যায় ম্যাক্রোঁ এমিনে এরদোয়ানের হাতে চুম্বন করতে চাইলে তিনি হাত সরিয়ে নেন। পরে দুজন স্বাভাবিকভাবে শুভেচ্ছা বিনিময় চালিয়ে যান। ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডি ব্রিজিত ম্যাক্রোঁও তখন পাশে ছিলেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েপ এরদোয়ানের আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে। ইউরোপের নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইউক্রেন যুদ্ধসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ন্যাটো নেতাদের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার আগে তারা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে সমবেত হয়েছিলেন।
ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ন্যাটো নেতাদের আনুষ্ঠানিক আলোচনার আগেই ঘটনাটি আলোচনায় আসে।
ন্যাটো নৈশভোজের আগে তুর্কি ফার্স্ট লেডির সঙ্গে ম্যাক্রোঁর শুভেচ্ছা বিনিময় ভাইরাল
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্কের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন এবং দেশটির কাছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। মঙ্গলবার ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে গিয়ে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকের আগে তিনি এ ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প জানান, কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্ট (ক্যাটসা) আইনের আওতায় আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২০ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর ওয়াশিংটন তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকেও বাদ দেয়। আঙ্কারা শুরু থেকেই এ সিদ্ধান্তকে অন্যায্য ও আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী বলে দাবি করে আসছে।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের সফরের সময় এফ-৩৫ বিক্রির বিষয়ে তিনি ইতিবাচক অবস্থান নিতে পারেন, যদিও আইনি প্রক্রিয়া ও কংগ্রেসের অনুমোদনসংক্রান্ত বাধা এখনো রয়ে গেছে। ট্রাম্প আরও জানান, এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হবে।
তুরস্কের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, এফ-৩৫ বিক্রির পরিকল্পনা ট্রাম্পের
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে সোমবার জানান, আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো কয়েক বিলিয়ন ডলারের নতুন অস্ত্রচুক্তি ঘোষণা করবে। এর মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখাতে চায় যে, প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তারা অগ্রগতি অর্জন করেছে। ৩২ সদস্যের জোটের এই সম্মেলনে ট্রাম্পও যোগ দেবেন, যিনি সম্প্রতি ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপের প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ন্যাটো সদস্যরা ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেয়। রুটে জানান, ইউরোপীয় মিত্র ও কানাডা ইতোমধ্যে প্রায় ৪ শতাংশ বিনিয়োগ করছে এবং ২০২৫ ও ২০২৬ সালে অতিরিক্ত ২৫৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। সম্মেলনের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্প ফোরামে বড় অস্ত্রচুক্তিগুলো ঘোষণা করা হবে।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা কমে যাওয়ায় ইউরোপ ও কানাডা ২০২৬ ও ২০২৭ সালে ইউক্রেনকে অন্তত ৭০ বিলিয়ন ইউরো সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্মেলনের একটি অংশে অংশ নেবেন, আর রুটে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ন্যাটোর অব্যাহত সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে প্রতিরক্ষা ব্যয় অগ্রগতির বার্তা দিতে বড় অস্ত্রচুক্তি ঘোষণা
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, ইসরাইলের ‘যুদ্ধবাজ’ সরকারকে আর এই অঞ্চলে রক্তপাতের সুযোগ দেওয়া যাবে না। শনিবার ইস্তাম্বুলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও প্রতিনিধিদল পর্যায়ের বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এরদোয়ান জানান, বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ছাড়াও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, তুরস্ক সবসময় কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধান ও উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগকে সমর্থন করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আঙ্কারা পাকিস্তানসহ ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ দেশগুলোর সঙ্গে সংহতির ভিত্তিতে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি জোরদারে কাজ চালিয়ে যাবে।
এরদোয়ান আরও জানান, তুরস্ক এমন একটি পরিবেশ চায় যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে। তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে জ্বালানি, পরিবহন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহের কথাও জানান।
ইসরাইলের ‘যুদ্ধবাজ’ সরকারকে রক্তপাতের সুযোগ না দিতে আহ্বান এরদোয়ানের
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের আমন্ত্রণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সরকারি সফরে ইস্তাম্বুলে পৌঁছেছেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য পাকিস্তান ও তুরস্কের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা। ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী ওমের বোলাত। এ সময় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ড. ইউসুফ জুনাইদ এবং তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তার সঙ্গে রয়েছেন উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার।
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শাহবাজ শরিফ ও প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান পাকিস্তান-তুরস্ক সম্পর্কের সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। ইস্তাম্বুলে অবস্থানকালে শাহবাজ শরিফ একটি ব্যবসায়িক সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন, যেখানে পাকিস্তানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও বেসরকারিকরণ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হবে।
এই সম্মেলনে তুরস্কের শীর্ষ ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেবেন, যার লক্ষ্য দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানো।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে তুরস্ক সফরে শাহবাজ শরিফ
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, ইসরাইল এখন শুধু তুরস্কের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিএনএন তুর্ককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইসরাইলের বর্তমান নীতির কারণে দেশটি এমন এক বোঝায় পরিণত হয়েছে, যা মানবজাতির জন্য আর সহ্য করা কঠিন। তিনি আরও জানান, ইসরাইলের কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং তুরস্ক তার অবস্থান পরিবর্তন করবে না।
ফিদান বলেন, গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রতিবাদে তুরস্ক প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি যারা ইসরাইলের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করেছে। তার ভাষায়, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এক রাতের মধ্যেই ইসরাইলের সঙ্গে ১০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য স্থগিত করেন, যা দৃঢ় অবস্থান ও বাস্তব পদক্ষেপের উদাহরণ।
এই মন্তব্যের মাধ্যমে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইলের নীতির প্রতি দেশের কঠোর অবস্থান এবং গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা তুলে ধরেন।
ইসরাইলকে বৈশ্বিক সমস্যা বললেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বাণিজ্য স্থগিতের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান
২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে তুরস্কের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ শিল্পের রপ্তানি ৪৭ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১০ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছরের একই সময়ে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। ন্যাটো সদস্য দেশগুলোতে রপ্তানি বেড়ে ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা মোট রপ্তানির ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
এই সময়ে তুরস্ক ১৭৮টি দেশে প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ পণ্য রপ্তানি করেছে। শীর্ষ তিনটি গন্তব্য ছিল ন্যাটোর মিত্র দেশ, যা জোটের মধ্যে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রতিফলন। প্রতিরক্ষা শিল্প সচিবালয়ের সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও প্রতিরক্ষা কূটনীতির মাধ্যমে এই রপ্তানি বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।
তুরস্ক এখন শুধু প্রতিরক্ষা পণ্যের সরবরাহকারী নয়, বরং প্রযুক্তি উন্নয়ন, যৌথ উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার ক্ষেত্রেও তার অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।
এক বছরে তুরস্কের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ রপ্তানি ৪৭ শতাংশ বেড়ে ১০.৯ বিলিয়ন ডলার
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১১৯ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।