ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত কনস্যুলেট বন্ধের বিষয়টি ভাবছে ইসরাইল। এক ইসরাইলি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, দেশটির অন্যতম প্রাচীন এই মিশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে। কনস্যুলেট বন্ধ হলেও আঙ্কারায় ইসরাইলি দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে চালু থাকবে, তবে সেখানে কোনও ইসরাইলি কূটনীতিক দায়িত্বে থাকবেন না।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর তুরস্কে থাকা ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সরিয়ে নেওয়া হয় এবং স্থানীয় কর্মীদের মাধ্যমে দুই মিশনের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভূমিকম্প ঝুঁকি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বিবেচনায় কনস্যুলেট ভবন ভেঙে ফেলার পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে। গত ৭ এপ্রিল কনস্যুলেটের কাছে গুলির ঘটনার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
হামাস-ইসরাইল যুদ্ধের পর থেকে তুরস্ক ও ইসরাইলের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। ২০১৬ সালে দুই দেশ সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করলেও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি আবার উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
ইরান সংঘাত ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ইস্তাম্বুল কনস্যুলেট বন্ধের চিন্তা করছে ইসরাইল
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান আবারও নাগরিকদের বেশি সন্তান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জন্মনিয়ন্ত্রণকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ এবং জন্মহার কমে যাওয়াকে ‘বিপর্যয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এরদোয়ান ঐতিহ্যবাহী পরিবারব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়ে অন্তত তিনটি, বরং চার বা পাঁচটি সন্তান নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছেন। তার মতে, অধিক জন্মহার তুরস্ককে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করবে। কিন্তু ২০২৪ সালে দেশের প্রজনন হার নেমে এসেছে সর্বনিম্ন ১ দশমিক ৪৮-এ, যা জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার প্রয়োজনীয় মাত্রার নিচে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগরায়ণ, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, নারীদের উচ্চশিক্ষা এবং অর্থনৈতিক সংকট এই পতনের মূল কারণ। সরকার মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি, নগদ প্রণোদনা ও সুদমুক্ত ঋণসহ নানা উদ্যোগ নিলেও অভিভাবকেরা মনে করছেন এগুলো ব্যয়বহুল জীবনের তুলনায় অপ্রতুল। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও কম মজুরির কারণে অনেক পরিবার সন্তান লালন-পালনে হিমশিম খাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এরদোয়ানের এই উদ্যোগ অর্থনৈতিক উদ্বেগের পাশাপাশি রক্ষণশীল ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। তরুণ প্রজন্ম এখন শিক্ষা ও ক্যারিয়ারে বেশি মনোযোগী হওয়ায় জন্মহার বাড়ানো কঠিন হবে বলে তারা মনে করেন। সরকার ২০২৫ সালকে ‘পরিবার বর্ষ’ ঘোষণা করেছে এবং ২০৩৫ সাল পর্যন্ত চলবে ‘পরিবার ও জনসংখ্যা দশক’।
জন্মহার কমায় তুর্কিদের বেশি সন্তান নিতে আবারও আহ্বান এরদোয়ানের
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, ইসরাইল মানবতার অভিন্ন মূল্যবোধ ভূলুণ্ঠিত করছে। ১৫ মে ২০২৬ তারিখে তিনি বলেন, আঞ্চলিক সংঘাত ও সংকটগুলো বৈশ্বিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।
এরদোয়ান উল্লেখ করেন, ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, জ্বালানি নিরাপত্তায় বিঘ্ন এবং আর্থিক অস্থিরতা থেকে উদ্ভূত নতুন অপ্রতিসম ঝুঁকির মুখে বৈশ্বিক ব্যবস্থা কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি বলেন, গাজার মানবিক বিপর্যয় বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলোকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে।
তিনি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। টিআরটি ওয়ার্ল্ড সূত্রে এই বক্তব্য প্রকাশিত হয়।
ইসরাইল মানবতাকে ভূলুণ্ঠিত করছে, বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান এরদোয়ানের
গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাত্রা করা ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ৩০টিরও বেশি জাহাজ ও নৌযান ২৪ দিনের দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা শেষে তুরস্কের মারমারিস উপকূলে পৌঁছেছে। শনিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে খোলা সমুদ্রে নোঙর করা জাহাজগুলো দেখা যায়। তুর্কি কর্মকর্তা ও মানবাধিকারকর্মীরা বহরটিকে স্বাগত জানান। অ্যাক্টিভিস্ট অ্যালেক্স কোলস্টন জানান, তুরস্কের কোস্টগার্ড ও স্থানীয় গ্লোবাল সুমুদ ফ্লিট সদস্যরা সমুদ্রে গিয়ে বহরটিকে অভ্যর্থনা জানায়।
অ্যাক্টিভিস্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রাপথে বহরটি ইতালির সিসিলি ও গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে থামে। এ সময় ইসরাইলি বাহিনী ২২টি নৌযান ও দুই শীর্ষ কর্মীকে আটক করে, পরে ওই দুই কর্মীকে ইসরাইল থেকে ফেরত পাঠানো হয়। গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা জানিয়েছে, মারমারিসে অবস্থানকালে জাহাজগুলোর প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা পরীক্ষা ও সরঞ্জাম পুনরায় সংগ্রহের কাজ চলবে।
সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, গাজামুখী মানবিক সহায়তা মিশনের পরবর্তী ধাপের বিস্তারিত ঘোষণা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেওয়া হবে।
২৪ দিনের যাত্রা শেষে গাজামুখী ফ্লোটিলা তুরস্কে পৌঁছেছে
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, ইউরোপীয় কাঠামোতে তুরস্ককে তার ন্যায্য স্থান না দিলে ইউরোপ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে এবং সংকট মোকাবিলায় দুর্বল হয়ে পড়বে। শনিবার ইউরোপ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এরদোয়ান বলেন, শ্যুমান ঘোষণা শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতীক নয়, বরং শান্তি, সহযোগিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে এক অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ার অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
তিনি উল্লেখ করেন, ৭৬ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ইইউর মূল নীতিগুলো বর্তমানে যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে কঠিন পরীক্ষার মুখে রয়েছে। এরদোয়ান বলেন, এসব বৈশ্বিক সংকট ইইউকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ঐক্যবদ্ধ নীতি গ্রহণে বাধ্য করেছে, যেখানে প্রার্থী দেশ হিসেবে তুরস্ক একটি অপরিহার্য অংশ।
তিনি আরও বলেন, তুরস্ক পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি ও পূর্ণ সদস্যপদ অর্জনের লক্ষ্য বজায় রেখে ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং আশা করে ইইউও একই আন্তরিকতা দেখাবে। ইউরোপ দিবস উপলক্ষে তিনি ইউরোপ ও তুরস্কের জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা জানান।
ইইউ কাঠামোতে ন্যায্য স্থান না পেলে ইউরোপ অসম্পূর্ণ থাকবে: এরদোয়ান
তুরস্ক ইস্তানবুলে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক সাহা এক্সপোর প্রথম দিনেই তাদের প্রথম আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ইয়িলদিরিমহান’ উন্মোচন করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রদর্শন করে। ক্ষেপণাস্ত্রটির গায়ে অটোমান সুলতান প্রথম বায়েজিদের মনোগ্রাম এবং মোস্তাফা কামাল আতাতুর্কের প্রতীক খোদাই করা রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়াসির গুলের জানান, এটি তুরস্কের প্রথম তরল জ্বালানিচালিত ও হাইপারসনিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র এবং দেশটির তৈরি সবচেয়ে দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র।
প্রদর্শনীতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইয়িলদিরিমহানের সর্বোচ্চ পাল্লা ছয় হাজার কিলোমিটার, এতে চারটি রকেট ইঞ্জিন রয়েছে এবং এটি শব্দের গতির চেয়ে ২৫ গুণ দ্রুত চলতে পারে। এতে তরল নাইট্রোজেন টেট্রঅক্সাইড জ্বালানি ব্যবহার করা হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুরস্কের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়েছে, যার ধারাবাহিকতায় গত বছর টাইফুন ব্লক ফোর ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করা হয়।
তুরস্ক দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত একাধিক আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক দেশ নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ক্ষেপণাস্ত্রের প্রকৃত পাল্লা কম দেখিয়ে থাকে।
ইস্তানবুলে তুরস্কের প্রথম আন্তর্মহাদেশীয় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ইয়িলদিরিমহান উন্মোচন
২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীতে তুরস্ক প্রথমবারের মতো তাদের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ইলদিরিমহান’ জনসমক্ষে উন্মোচন করেছে। ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনীতে ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রদর্শন করে তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র। ৬ হাজার কিলোমিটার পাল্লা এবং ম্যাক ৯ থেকে ম্যাক ২৫ পর্যন্ত গতিসম্পন্ন এই ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।
ইলদিরিমহান ক্ষেপণাস্ত্রে জ্বালানি হিসেবে তরল নাইট্রোজেন টেট্রোক্সাইড ব্যবহৃত হয়েছে এবং এটি চারটি রকেট ইঞ্জিন দ্বারা চালিত। এটি তুরস্কের তৈরি সবচেয়ে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রদর্শনীতে তুরস্কের শীর্ষ প্রতিরক্ষা সংস্থা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি উপস্থাপন করেছে।
এই উন্মোচন তুরস্কের নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নের প্রচেষ্টা এবং কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যকে সামনে এনেছে।
ইস্তাম্বুলে তুরস্কের প্রথম আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ‘ইলদিরিমহান’ উন্মোচন
তুরস্কের প্রতিরক্ষা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বায়কার তিনটি নতুন কামিকাজে ড্রোন—কে২, সিভ্রিসিনেক ও মিজরাক—উন্নয়ন করেছে, যা ইরানের শাহেদ সিরিজের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম। কে২ ড্রোনটি ২০০ কেজি ওজনের গোলাবারুদ বহন করে ২ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে, সিভ্রিসিনেক ১ হাজার কিলোমিটার পাল্লায় ২০ কেজি ওয়ারহেড বহন করতে পারে এবং মিজরাক ৪০ কেজি পেলোড নিয়ে একই দূরত্বে উড়তে সক্ষম। এই তিনটি ড্রোন স্যাটেলাইট নেভিগেশন ছাড়াই লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে এবং সমন্বিত ঝাঁকবদ্ধ আক্রমণে অংশ নিতে পারে।
তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই উন্নয়ন ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের ড্রোন কর্মসূচিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নির্ভুল আঘাত ও আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যেখানে তুরস্কের ড্রোনগুলো এসব ক্ষেত্রে অগ্রগামী।
বায়কার এখন এই তিনটি ড্রোনকে সমন্বিত আক্রমণ ব্যবস্থায় একত্রিত করার পরিকল্পনা করছে, যা তুরস্কের স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধ প্রযুক্তিতে নতুন অধ্যায় সূচিত করতে পারে।
ইরানের শাহেদ সিরিজের প্রতিদ্বন্দ্বী তিন কামিকাজে ড্রোন তৈরি করেছে তুরস্ক
তুরস্কের ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত ফুবি একাডেমি গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্টে নর্ম হারিয়েছেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মাস্টার মোহাম্মদ ফাহাদ রহমান। শেষ রাউন্ডে হাঙ্গেরির গ্র্যান্ডমাস্টার আসজেল গারগেলির কাছে পরাজিত হয়ে তিনি কাঙ্ক্ষিত নর্ম অর্জন করতে পারেননি। নয় খেলায় ছয় পয়েন্ট নিয়ে রানারআপ হলেও ফাহাদ অর্জন করেছেন ১১ রেটিং পয়েন্ট।
২০২৪ সালে প্রথম নর্ম পাওয়ার পর দ্বিতীয়টির জন্য এই টুর্নামেন্টে চেষ্টা করেছিলেন ফাহাদ। তিন রাউন্ডে টানা জয়ের পর চতুর্থ রাউন্ডে ইরানের গ্র্যান্ডমাস্টার আরিয়ান ঘোলামির সঙ্গে ড্র এবং পঞ্চম রাউন্ডে তুরস্কের ফিদে মাস্টার দেনিস দিরিকোলুর কাছে হেরে যান তিনি। এরপর পরের তিন রাউন্ডে ২.৫ পয়েন্ট নিয়ে নর্মের সম্ভাবনা জাগালেও শেষ রাউন্ডে জয় না পাওয়ায় লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
তবুও পুরো টুর্নামেন্টে তার পারফরম্যান্স প্রশংসনীয় ছিল এবং রেটিং পয়েন্ট বৃদ্ধিতে ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায় আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
ইস্তানবুলে রানারআপ হলেও দ্বিতীয় নর্ম হাতছাড়া ফাহাদ রহমানের
তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ওপর হামলার ঘটনায় তুরস্ক ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। এর জবাবে নেতানিয়াহু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বিরুদ্ধে কুর্দিদের গণহত্যার অভিযোগ তোলেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও তুরস্ককে নতুন ইরান বলে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেন।
গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ, সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক এই বিরোধকে আরও গভীর করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সম্পর্ক আরও অবনতি হলে তুরস্ক আজারবাইজানের তেল সরবরাহ বন্ধ করা বা ইসরাইলি বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে। এতে ইসরাইলের জ্বালানি ও বিমান খাতে স্বল্পমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে, যদিও বিকল্প বাজার ও রুটের কারণে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব সীমিত থাকবে।
২০২৪ সালের পর থেকে বাণিজ্য কমে গেলেও কিছু তুর্কি পণ্য তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ইসরাইলে পৌঁছায়। তুরস্কের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক জোট পুনর্গঠন ইসরাইলের ওপর প্রভাব বিস্তারের কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরাইলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ায় তেল ও আকাশসীমা সীমিত করার ইঙ্গিত তুরস্কের
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি হলে হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণ কার্যক্রমে তুরস্ক অংশ নিতে পারে। লন্ডনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের সমন্বয়ে গঠিত একটি কারিগরি দল এই মাইন অপসারণের কাজ সম্পন্ন করবে।
ফিদান আরও বলেন, তুরস্কের এই কারিগরি দলে যোগ দিতে কোনো সমস্যা নেই, তবে ভবিষ্যতে যদি এই জোট কোনো সংঘাতের পক্ষে অবস্থান নেয়, তাহলে তুরস্ক তার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী দফার আলোচনাতেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হতে পারে।
এই বক্তব্যে তুরস্কের শর্তসাপেক্ষ অংশগ্রহণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাদের সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি হলে হরমুজে মাইন অপসারণে অংশ নিতে পারে তুরস্ক
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বুধবার তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প থেকে শেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশটি একটি প্রতিরক্ষা শিল্প বিপ্লবের মধ্য দিয়ে গেছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর দ্রুত অগ্রগতি অন্যদের জন্য উদাহরণ হতে পারে। আঙ্কারাভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান আসেলসানের সদর দপ্তরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুটে জানান, উদ্ভাবনের পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানো ন্যাটোর অন্যতম অগ্রাধিকার এবং জুলাইয়ে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো সম্মেলনে এই বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
রুটে বলেন, শুধু প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ালেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না; বরং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন, গোলাবারুদ, রাডার ও মহাকাশ প্রযুক্তির উৎপাদন বাড়াতে হবে। তিনি আসেলসানকে আরও দ্রুত উদ্ভাবন ও উৎপাদনের আহ্বান জানান এবং উল্লেখ করেন যে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার প্রায় একশ’ কোটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, ন্যাটো জোটের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ছে এবং তুরস্কের প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাদের কার্যক্রম ও রপ্তানি সম্প্রসারণ করছে। রুটে আলাস্কা থেকে আঙ্কারা পর্যন্ত সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।
ন্যাটো মহাসচিব তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প থেকে শেখা ও উৎপাদন বৃদ্ধির আহ্বান জানালেন
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাব ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়ছে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। ২০২৬ সালের ২৩ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ওয়াল্টার স্টাইনমায়ারের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে এ মন্তব্য করেন।
এরদোয়ান বলেন, এই আঞ্চলিক যুদ্ধ ইউরোপকেও দুর্বল করতে শুরু করেছে এবং যদি শান্তি প্রতিষ্ঠা করা না যায়, তাহলে সংঘাতের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। তিনি আরও জানান, তুরস্ক আলোচনার মাধ্যমে ইরান সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
তুরস্ক ও জার্মানির এই আলোচনাকে আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে আঙ্কারার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে তুরস্ক ইরান সংঘাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে চায়।
এরদোয়ান বললেন, ইরান যুদ্ধ ইউরোপকে দুর্বল করছে, শান্তির আহ্বান জানালেন
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান থেকে তুরস্কের আকাশসীমায় ছোড়া চারটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, তুরস্কসহ সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় ন্যাটো সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তিনি তুরস্কের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা ইলেকট্রনিক্স কোম্পানি অ্যাসেলসান পরিদর্শনের সময় এ কথা বলেন। জুলাই মাসে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনের আগে রুটে বিশেষ সফরে তুরস্কে অবস্থান করছেন।
রুটে বলেন, ইরান সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা ছড়াচ্ছে এবং তুরস্ক থেকে তা স্পষ্টভাবে অনুভব করা যায়। তিনি জানান, ন্যাটো চারটি পৃথক ঘটনায় ইরান থেকে তুরস্কের দিকে ধেয়ে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। এছাড়া দক্ষিণ তুরস্কের ইনসিরলিক বিমান ঘাঁটিতে নতুন একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি মোতায়েন করা হয়েছে।
রুটে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রশংসা করে বলেন, দেশটি এক ‘প্রতিরক্ষা শিল্প বিপ্লব’-এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সফরকালে তাঁর প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের পর তুরস্ককে রক্ষার অঙ্গীকার ন্যাটোর
ইসরাইল, গ্রিস ও সাইপ্রাসের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। রোববার দক্ষিণ তুরস্কে অনুষ্ঠিত আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এই জোটকে ঘিরে অঞ্চলটির মুসলিম দেশগুলো উদ্বিগ্ন। খবরটি জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।
ফিদান উল্লেখ করেন, ন্যাটোর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও গ্রিস এই ত্রিপক্ষীয় জোটে যোগ দিয়েছে। তিনি বলেন, এই জোটের উদ্যোগটি তুরস্কের বিরুদ্ধে নয়—এমন কোনো আশ্বাস আগে বা পরে কেউ দেয়নি। তিনি আরও জানান, গত বছর ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্যও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
গত ডিসেম্বরে নেতানিয়াহু বলেন, যারা মনে করে তারা আবার সাম্রাজ্য বা ইসরায়েলের ভূমির ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারবে, তাদের সেই ধারণা ভুলে যেতে হবে—যা তুরস্ককে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে বলে মনে করা হয়।
ইসরাইল-গ্রিস-সাইপ্রাস জোটে মুসলিম দেশগুলোর উদ্বেগ জানাল তুরস্ক
ইরানের সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ চুক্তি বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে তুরস্ক। বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শেষ হতে যাচ্ছে। তুরস্কের জ্বালানি মন্ত্রী আলপারসলান বায়রাক্তার জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি, তবে আঙ্কারা সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ইরান থেকে গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখতে চায়।
আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের এক ফাঁকে বায়রাক্তার বলেন, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও তুরস্ক এখন পর্যন্ত কোনো সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়েনি। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে তুরস্ক ও ইরানের মধ্যে চুক্তি নবায়ন বা মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তুরস্ক তার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও ইরানের সঙ্গে গ্যাস চুক্তি বাড়াতে চায় তুরস্ক
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। শুক্রবার তুরস্কে আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামের ফাঁকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ প্রশংসা করেন। সৌদি আরব ও কাতার সফর শেষে ত্রিদেশীয় সফরের তৃতীয় ধাপে তুরস্কে পৌঁছানোর এক দিন পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে শেহবাজ শরিফকে আন্তালিয়া ফোরামে অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানান। বৈঠকে দুই নেতা সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তনশীল অবস্থা নিয়ে মতবিনিময় করেন। শেহবাজ শরিফ এরদোয়ানের দৃঢ় সমর্থন ও উৎসাহের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
দুই নেতা টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বর্তমান সুযোগগুলো কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে পাকিস্তানের শান্তি প্রচেষ্টার প্রশংসা করলেন এরদোয়ান
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান অভিযোগ করেছেন, ইসরাইল নিরাপত্তার অজুহাতে আরও ভূমি দখলের চেষ্টা করছে। আন্তালিয়া ডিপ্লোমাসি ফোরামে তিনি বলেন, ইসরাইল প্রকৃত নিরাপত্তা নয়, বরং ভূমি দখলের ধান্দায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সরকার নিরাপত্তাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ভূমি দখল অব্যাহত রেখেছে।
অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইল যে অবস্থানগুলো দখল ও নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, সেগুলো বজায় থাকবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান এখনো শেষ হয়নি এবং যেকোনো উপায়ে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা হবে।
এই বক্তব্যগুলো যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইল-লেবানন উত্তেজনা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেয়, যেখানে তুরস্ক ইসরাইলের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করছে।
নিরাপত্তার অজুহাতে ভূমি দখলের অভিযোগে ইসরাইলকে আক্রমণ তুরস্কের
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান শুক্রবার মিসর, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে তৃতীয় বৈঠকের আয়োজন করেন। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত ৫ম আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামের সাইডলাইনে এই বৈঠক হয়। বৈঠকের আলোচ্য বিষয় বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত চলা এই ফোরামে বিশ্বনেতা ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলাই এবারের ফোরামের মূল লক্ষ্য। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ফোরামটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
‘আগামীর রূপরেখা, অনিশ্চয়তার ব্যবস্থাপনা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এই ফোরামের বৈশ্বিক যোগাযোগ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু।
আন্তালিয়ায় মিসর, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে তৃতীয় বৈঠক আয়োজন করল তুরস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে গঠনমূলক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। দেশটি জানিয়েছে, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনাকে সমর্থন দিয়ে যাবে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাটো সদস্য ও ইরানের প্রতিবেশী তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে।
সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, চলমান যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে, যাতে পরিস্থিতি আরও জটিল না হয়। মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করে যে আলোচনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।
একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, সপ্তাহের শেষে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ আনতালিয়ায় কূটনৈতিক ফোরামের ফাঁকে তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করবেন। কাতার সফর শেষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শরিফ তুরস্কে যাবেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় গঠনমূলক ভূমিকার আহ্বান জানিয়ে শান্তি প্রচেষ্টায় সমর্থন অব্যাহত রাখবে তুরস্ক
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৬৯ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।