তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান বলেছেন, জাতীয় ঐক্য, পার্লামেন্টের সমর্থন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশটি দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসবাদ সমস্যা সমাধানের পথে এগোচ্ছে। শুক্রবার আঙ্কারায় ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বা একে পার্টির ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি ‘সন্ত্রাসমুক্ত তুরস্ক’ গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এরদোয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, চার দশকের বেশি সময় ধরে সন্ত্রাসবাদ তুরস্কের জীবন, সম্পদ, মনোবল ও সম্ভাবনার ব্যাপক ক্ষতি করেছে। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমস্যাটির পূর্ণাঙ্গ সমাধান করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সন্ত্রাসমুক্ত তুরস্ক ও অঞ্চল গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ দমনের পাশাপাশি তুরস্ককে ভেতর থেকে অস্থিতিশীল করার কথিত ‘সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনাও’ নস্যাৎ করা হবে। অনুষ্ঠানে একে পার্টি আগামী ২৫ বছরের জন্য নতুন ভিশন ডকুমেন্ট প্রকাশ করে। এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক কেবল বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাবে না; পরিবর্তনের গতিপথ নির্ধারণেও ভূমিকা রাখবে এবং আরও ন্যায়সংগত বিশ্ব গঠনে অবদান রাখবে।
সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে জাতীয় ঐক্য ও নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার কথা বললেন এরদোয়ান
তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি বা একে পার্টির প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান বলেছেন, দলের কাজ এখনো শেষ হয়নি। শুক্রবার রাজধানী আংকারার ন্যাশনাল গার্ডেনে আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি সমর্থকদের বলেন, ‘আমরা সবে শুরু করেছি’। তিনি দিনটিকে খুবই বিশেষ ও ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন।
এরদোয়ানের নেতৃত্বে ২০০১ সালের ১৪ আগস্ট একে পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর আগে তিনি ইস্তাম্বুলের মেয়র ছিলেন। তাঁর দাবি, গত ২৫ বছরে দলটির সরকার অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবহন খাতে বড় বিনিয়োগ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, যা দেশের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তিনি দলের দীর্ঘ রাজনৈতিক সাফল্যের পেছনে সাধারণ ভোটারদের আস্থার কথা তুলে ধরেন।
এরদোয়ান বলেন, এক চতুর্থাংশ শতাব্দীতে অনেক বড় কাজ হলেও সামনে আরও অনেক কিছু করার আছে এবং কেউ যেন দলের ক্লান্ত হয়ে পড়ার আশা না করেন। তিনি জানান, একে পার্টি তুরস্ককে ২০৫৩ ও ২০৭১ সালের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিতে কাজ করবে। প্রতিষ্ঠাতা বোর্ডের সভায় তিনি সর্বসম্মতভাবে দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
একে পার্টির ২৫ বছর পূর্তিতে এরদোয়ান বললেন, ‘আমরা সবে শুরু করেছি’
তুরস্ক বলেছে, প্রয়োজনীয় ঐকমত্য হলে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির সহযোগিতা কাঠামোয় ভবিষ্যতে অন্য দেশকে যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল জেকি আকতুর্ক বৃহস্পতিবার নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান। চুক্তিটি ৭ আগস্ট তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, এই চুক্তি তিন দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই করবে। এর লক্ষ্য তিন দেশের যৌথ সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখা। মন্ত্রণালয় বলেছে, সহযোগিতাটি দেশগুলোর নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, চুক্তিতে কোনো দেশকে অভিন্ন শত্রু বা প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। এটি ন্যাটোর বিকল্প বা প্রতিদ্বন্দ্বীও নয় বলে তুরস্কের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় অবদান রেখে চুক্তিটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোকে সহায়তা করবে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
তুরস্ক বলেছে, ঐকমত্য হলে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামোয় অন্য দেশও যুক্ত হতে পারে
কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাব্য হুমকির পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্ক থেকে ফেরার পথে গোপনে বিমান বদল করেন। ৮ জুলাই আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের সফর শেষে তিনি ও কয়েকজন সহযোগী বড় এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে খাবার বহনকারী গাড়িতে করে সরে যান এবং একটি ছোট সি-৩২এ সরকারি বিমানে ওঠেন। এয়ার ফোর্স ওয়ান আলাদাভাবে উড়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আঙ্কারায় সফরের শেষ দিনে এয়ার ফোর্স ওয়ানকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকির খবর আসে। যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস হুমকিটিকে বিশ্বাসযোগ্য ও তাৎক্ষণিক মনে করে ট্রাম্পের অবস্থান ও চলাচল গোপন রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান চালায়। নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ট্রাম্পের অবস্থান এবং হোটেলের তলা সম্পর্কে ইরানিরা জেনে যেতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন।
ঘটনাটি প্রকাশের পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরানি দূতাবাসের এক্স অ্যাকাউন্টে ট্রাম্পকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মিম ছড়ানো হয়। তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে বিমান বদল নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি এবং হোয়াইট হাউসের তাৎক্ষণিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। সূত্রে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে মতবিরোধও অব্যাহত রয়েছে।
নিরাপত্তা হুমকির পর তুরস্ক থেকে ফেরার পথে গোপনে বিমান বদল করেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার কথিত ইরানি পরিকল্পনা নিয়ে নতুন কূটনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ১৩ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্কের কর্মকর্তাদের একাংশ সন্দেহ করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য সমঝোতা বা কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে দিতে ইসরাইলি গোয়েন্দারা এ তথ্য সাজিয়ে থাকতে পারে। গত মাসে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় ট্রাম্পের বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছিল ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা।
তথ্যে বলা হয়েছিল, ইরানি অপারেটিভরা কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ট্রাম্পের বিমানকে লক্ষ্য করতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ট্রাম্পের তুরস্ক ত্যাগের সময় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উঠে এসেছে। তবে তুর্কি কর্মকর্তাদের একাংশ হুমকির তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং মনে করছেন, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে তুলে ধরে আলোচনা বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তুরস্কের আশঙ্কা, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধান ইসরাইলের জন্য স্বস্তিকর নাও হতে পারে। তবে অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ দেওয়া হয়নি এবং ইসরাইলও এমন কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য দেয়নি যা এ সন্দেহ নিশ্চিত করে। মার্কিন সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদনে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের হুমকিটিকে গুরুত্ব দেওয়ার এবং ট্রাম্পের যাত্রাপথ ও বিমান ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে।
ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে কথিত ইরানি হুমকির গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে তুরস্কের সন্দেহ
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান বলেছেন, ইসরাইল সরকার মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ও নতুন সংঘাত উসকে দিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচ্যসূচি থেকে ফিলিস্তিন ইস্যু সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ১৩ আগস্ট আংকারায় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই প্রচেষ্টা সফল হবে না। তুরস্ক সব আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে ফিলিস্তিনের পক্ষে জোরালো অবস্থান বজায় রাখবে বলেও জানান তিনি।
এরদোয়ান বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে ইসরাইলের দখলদারত্ব, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং ফিলিস্তিনি ভূমি দখলের নীতি আরও তীব্র হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি জানান, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা, উচ্ছেদ ও স্থাপনা ধ্বসের কারণে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং প্রায় ১০০ জন নিহত হয়েছেন।
তিনি ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন, সার্বভৌম ও ভৌগোলিকভাবে অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তুরস্কের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। আল-আকসা মসজিদসহ পবিত্র স্থাপনাগুলোর বর্তমান মর্যাদা বদলের উদ্যোগেরও বিরোধিতা করেন তিনি। গাজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন শুরুর আহ্বান জানান এরদোয়ান। আব্বাস তুরস্কের সমর্থনের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।
এরদোয়ান বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যু চাপা দেওয়ার ইসরাইলি চেষ্টা সফল হবে না
তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইয়ালোভা প্রদেশে প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালে দেশটির বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। বুধবার প্রকাশিত মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, পাইলট সফলভাবে ইজেক্ট করে প্যারাসুটের সাহায্যে বিমান থেকে বেরিয়ে আসেন এবং তিনি সুস্থ আছেন।
ইয়ালোভা এয়ারফিল্ড কমান্ডে প্রশিক্ষণের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। সামরিক বিমানটি ইয়ালোভা প্রদেশের চিফলিককয় জেলার তাসকোপ্রু শহরের ১৮তম মেইন জেট ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্ত বিমানটি তুরস্কের এসকিসেহির ১ম মেইন জেট ঘাঁটির ‘চেলান স্কোয়াড্রন’-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানানো হয়েছে।
পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসার পর ঘটনাস্থলে মেডিকেল ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ইয়ালোভা ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করার কথাও জানিয়েছে।
ইয়ালোভায় প্রশিক্ষণ ফ্লাইটে এফ-১৬ বিধ্বস্ত, পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করেছেন
ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন চলাকালে তুরস্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সুনির্দিষ্ট হুমকির মুখে পড়েছিলেন বলে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানিয়েছে আমার দেশ। প্রতিবেদনটি ১২ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত হয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হুমকির কারণে ট্রাম্পকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে না ফিরিয়ে বিকল্প কৌশলে তুরস্ক থেকে বের করে আনা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, একাধিক উৎস থেকে সংগৃহীত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত হয়েছিল যে প্রেসিডেন্টবাহী এয়ার ফোর্স ওয়ানের বিরুদ্ধে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা বাস্তবসম্মত ছিল। ন্যাটো সম্মেলন এলাকায় কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ একজনকে দেখা গিয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
কর্মকর্তাদের মতে, ইরানিরা আঙ্কারায় ট্রাম্পের অবস্থান, এমনকি তিনি ভবনের কোন তলায় ছিলেন, তা জানত। ক্যামেরার সামনে ট্রাম্প পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন, কিন্তু পরে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং কনটেইনারে লুকিয়ে বেরিয়ে সামরিক বিমানে দেশ ত্যাগ করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের পেনসিলভেনিয়া ও ফ্লোরিডার হত্যাচেষ্টার সঙ্গে ইরানি হুমকির সম্পর্ক ছিল না।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকিতে তুরস্ক থেকে বিকল্প পথে বের হন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, ইরানের হুমকির কারণে তুরস্ক সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে তিনি বিমান বদল করেছিলেন। ১২ আগস্ট ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ৮ জুলাই তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে আঙ্কারা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় এ ঘটনা ঘটে।
সাংবাদিকদের ধারণ করা ফুটেজে ট্রাম্পকে প্রথমে প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা যায়। কিছু সময় পর তিনি নিরাপত্তারক্ষীদের প্রহরায় বিমান থেকে নেমে একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে টারম্যাকের অন্য প্রান্তে যান। সেখানে অপেক্ষমাণ মার্কিন বিমানবাহিনীর তুলনামূলক ছোট সি-৩২এ উড়োজাহাজে ওঠেন এবং সেটিতেই ওয়াশিংটনে ফেরেন।
ওয়াশিংটন পোস্ট কয়েক দিন আগে এ তথ্য প্রকাশ করেছিল। ট্রাম্প বলেন, বিমান বদল ছিল সিক্রেট সার্ভিসের সিদ্ধান্ত এবং তিনি নিরাপত্তাকর্মী ও সামরিক বাহিনীর পরামর্শ অনুসরণ করেছেন। কী ধরনের হুমকি ছিল, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানতে খুব বেশি প্রশ্ন করেননি বলে জানান। ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রচুর হুমকি পান, তবে নিরাপত্তা নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তা করেন না।
ইরানের হুমকির কারণে তুরস্ক থেকে ফেরার পথে বিমান বদল নিশ্চিত করলেন ট্রাম্প
ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে আমার দেশ জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৮ জুলাই তুরস্কের আংকারা থেকে গোপনে একটি ছোট সি-৩২এ উড়োজাহাজে ব্রিটেনে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, তাকে ক্যাটারিং কনটেইনারের ভেতরে করে ওই বিমানে তোলা হয়েছিল। এর আগে তিনি এয়ারফোর্স ওয়ানে উঠেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে কাতার থেকে পাওয়া নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানে করে ট্রাম্প আংকারায় গিয়েছিলেন। প্রাণনাশের হুমকির কারণে শেষ মুহূর্তে বিমান বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়; হুমকিটি ইরান-সমর্থক গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানে থাকা সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ওয়াশিংটন পোস্টের ভিডিওতে ট্রাম্প ওঠার কয়েক মিনিট পর পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে একটি ক্যাটারিং ট্রাক নামিয়ে দূরে থাকা সি-৩২এ বিমানের দিকে যেতে দেখা যায়। যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর তাকে বড় বিমান থেকে নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানের দিকে যেতে দেখা গেলেও তিনি কীভাবে বড় বিমানে ফিরেছিলেন তা নিশ্চিত নয়। স্টিভেন চুং বলেন, নতুন বিমানটি উচ্চমানের নিরাপত্তাসজ্জিত।
হুমকির কারণে আংকারা থেকে ছোট সি-৩২এ বিমানে গোপনে ব্রিটেনে যান ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক বাজারে তুরস্কের জলপাই তেল রপ্তানি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন দেশটির রপ্তানিকারকরা। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কর ও বাণিজ্যিক বাধার আশঙ্কায় তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তুরস্কের কৃষকদের কাছে জলপাই মূল্যবান কৃষিপণ্য হিসেবে ‘সবুজ সোনা’ নামে পরিচিত।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অতিরিক্ত শুল্ক বা কর আরোপ হলে তুর্কি জলপাই তেলের দাম বাড়তে পারে। এতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পণ্যটির অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের জলপাই তেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত রপ্তানিকারকদের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
রপ্তানিকারকদের ভাষ্য, এ শিল্পের সঙ্গে বড় কোম্পানির পাশাপাশি হাজার হাজার কৃষক ও ক্ষুদ্র উৎপাদক জড়িত। ফলে রপ্তানি বাজারে বাধা এলে পুরো উৎপাদন ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলপাই ও জলপাই তেল উৎপাদক দেশ তুরস্ক রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রে বাজারপ্রবেশ বজায় রাখতে দ্রুত কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
সম্ভাব্য মার্কিন শুল্কে তুরস্কের জলপাই তেল রপ্তানি ও কৃষকদের ওপর চাপের আশঙ্কা
মিসরীয় ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ ফ্রি ট্রান্সফারে তুর্কি ক্লাব ট্রাবজোনস্পোরে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন। ৫ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্লাবটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে তার আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ভিডিওতে সালাহকে প্রথমবার ট্রাবজোনস্পোরের ঐতিহ্যবাহী মেরুন ও নীল জার্সিতে দেখা যায়।
ভিডিও বার্তায় সমর্থকদের উদ্দেশে সালাহ বলেন, “ট্রাবজোনস্পোরের সমর্থকরা, আপনারা কি তৈরি? খুব শিগগিরই দেখা হচ্ছে।” বক্তব্যের শেষে তিনি তুর্কি ক্লাব স্লোগান “বিজে হের ইয়ার ট্রাবজোন” উচ্চারণ করেন। আলোচনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, তুরস্কে পৌঁছানো, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চুক্তি স্বাক্ষর—সব প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে বেসিকতাস, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, সৌদি প্রো লিগের আল-ইত্তিহাদ ও আল-দিরিয়া এবং কয়েকটি মার্কিন ক্লাবের সঙ্গে সালাহর নাম জড়িয়েছিল। তবে তিনি ইউরোপে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। এই দলবদলে লিভারপুলের সঙ্গে তার নয় বছরের অধ্যায় শেষ হলো; সেখানে তিনি প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়নস লিগ, ক্লাব বিশ্বকাপ ও ইউরোপীয় সুপার কাপসহ শিরোপা জিতেছেন।
ফ্রি ট্রান্সফারে তুর্কি ক্লাব ট্রাবজোনস্পোরে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন মোহাম্মদ সালাহ
তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগলু রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন এবং তার বিরোধী ফিউচার পার্টি রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করছে। ২ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি এই সিদ্ধান্তকে আত্মসমর্পণ নয়, দেশের ‘দূষিত রাজনৈতিক পরিবেশ’ থেকে নিজেকে দূরে রাখার পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একসময় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী দাভুতোগলু পরে তাঁর তৈরি রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচক হন।
শিক্ষাবিদ দাভুতোগলু ‘স্ট্র্যাটেজিক ডেপথ’ তত্ত্বের মাধ্যমে তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনার চেষ্টা করেন। তিনি ২০০৯ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হন। তাঁর সময়ে ‘প্রতিবেশীদের সঙ্গে শূন্য সমস্যা’ নীতির আওতায় আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে তুরস্কের কূটনৈতিক উপস্থিতি বাড়ে। তবে সিরিয়ার যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাঁর পররাষ্ট্রনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
এরদোয়ানের সঙ্গে ক্ষমতা ও নীতিগত মতপার্থক্যের জেরে দাভুতোগলু ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন এবং পরে ফিউচার পার্টি গঠন করেন। বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীন সাংগঠনিক ভিত্তি গড়তে না পারা ও বিরোধী রাজনীতির সীমাবদ্ধতায় দলটি উল্লেখযোগ্য সমর্থন পায়নি। ২০২৩ সালের নির্বাচনে সিএইচপির প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় দলটির নিজস্ব পরিচয় আরও দুর্বল হয়।
দাভুতোগলুর ফিউচার পার্টি কার্যক্রম বন্ধ করছে; এরদোয়ানকে চ্যালেঞ্জে ব্যর্থতার কারণ বিশ্লেষণ
তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) থেকে পদত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির পদচ্যুত নেতা ওজগুর ওজেল। গত মঙ্গলবার ৮০ জনেরও বেশি সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে তিনি এই ঘোষণা দেন। উপস্থিত আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে ওজেল বলেন, এটি এক বেদনাদায়ক কিন্তু অনিবার্য বিদায়, তবে জনগণের সঙ্গে নতুন শুরুর আশা ভাগ করে নিতে চান। জানা গেছে, তিনি শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন দলের নিবন্ধনের আবেদন জমা দেবেন, যার সম্ভাব্য নাম ‘ইয়েনি পার্টি’ (নিউ পার্টি)।
মে মাসে আদালতের আদেশে ওজেলকে সিএইচপির সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে কামাল কিলিচদারোগ্লুকে অন্তর্বর্তী প্রধান হিসেবে পুনর্বহাল করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তীব্র হয়। ওজেলের সমর্থকদের দাবি, আদালতকে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যদিও সরকার বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতার কথা বলেছে।
ওজেলের এই পদক্ষেপ এমন সময়ে এলো, যখন সিএইচপি পরিচালিত পৌরসভাগুলোর বিরুদ্ধে সরকারি তদন্ত চলছে এবং ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলু কারাগারে রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন দল তুরস্কের বিরোধী রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে।
সিএইচপি ছেড়ে নতুন দল গঠনের ঘোষণা দিলেন ওজগুর ওজেল, তুরস্কে বিরোধী বিভাজন তীব্র
যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি দূর করে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার সুযোগ তৈরি করতে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করছে তুরস্ক। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাটো সম্মেলনের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্কের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেওয়ার পর এই আলোচনা নতুন করে শুরু হয়েছে।
২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ কেনার পর যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়, কারণ ওয়াশিংটনের আশঙ্কা ছিল উভয় ব্যবস্থা একসঙ্গে থাকলে মার্কিন প্রযুক্তিগত তথ্য রাশিয়ার হাতে যেতে পারে। তবে এস-৪০০ অন্য দেশে পাঠাতে রাশিয়ার অনুমোদন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সমর্থন প্রয়োজন, যা এই উদ্যোগের বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত সফল হবে কি না, তা রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের আলোচনার ওপর নির্ভর করছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলার পর দেশগুলো নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করছে।
এস-৪০০ ইউএইতে পাঠিয়ে এফ-৩৫ কেনার পথ খুলতে তুরস্কের উদ্যোগ
একজন ইসরাইলি সামরিক বিশ্লেষক জানিয়েছেন, তুরস্ক রুশ তৈরি এস–৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাতার বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে বিক্রি করলেও যুক্তরাষ্ট্রের এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে ইউরেশিয়ান টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। তুর্কি গণমাধ্যম জানিয়েছে, আঙ্কারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে এস–৪০০ বিক্রির চেষ্টা করছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, এ বিষয়ে বহুপাক্ষিক আলোচনা চলছে।
রাশিয়া থেকে এস–৪০০ কেনার পর যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে এফ–৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় এবং সিএএটিএসএ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি ছিল, রুশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সঙ্গে এফ–৩৫ পরিচালনা করলে এর গোপন স্টিলথ প্রযুক্তি ফাঁস হতে পারে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও এফ–৩৫ বিক্রির ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইসরাইল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট শাই গ্যাল বলেছেন, কংগ্রেস ও পেন্টাগনের অনুমোদন ছাড়া তা সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এস–৪০০ সরিয়ে ফেললেও যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি অনাস্থা দূর হবে না। ইসরাইল ও গ্রিস তুরস্ককে এফ–৩৫ বিক্রির বিরোধিতা করেছে, কারণ এতে আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
রুশ এস–৪০০ বিক্রি করলেও তুরস্কের এফ–৩৫ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই
২০১৬ সালের ১৫ জুলাই তুরস্কে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের রাতে রাস্তায় ট্যাংক, যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন ও সংসদ ভবনে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের আহ্বানে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। ওই রাতে ২৫৩ জন নিহত হন। এই ঘটনাই পরবর্তী এক দশকে তুরস্কের রাজনীতি, প্রশাসন ও পররাষ্ট্রনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে।
অভ্যুত্থানের পর জরুরি অবস্থা জারি করে সরকার ব্যাপক শুদ্ধি অভিযান চালায়। ফেতুল্লাহ গুলেনের নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে হাজার হাজার সেনা, বিচারক, পুলিশ, শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীকে গ্রেফতার বা বরখাস্ত করা হয়। সমালোচকদের মতে, এই অভিযান ভিন্নমত দমনে ব্যবহৃত হয়েছে। ২০১৭ সালের গণভোটে সংসদীয় ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে শক্তিশালী রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা চালু হয়, যা প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই ঘটনার পর সামরিক বাহিনীর ওপর বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতি নিরাপত্তাকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে। উত্তর সিরিয়ায় সামরিক অভিযান, রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এই পরিবর্তনের প্রতিফলন।
২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণে তুরস্কের রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি বদলে গেছে
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান স্পষ্ট জানিয়েছেন, তুরস্ক ইসরাইলের সঙ্গে কোনো ধরনের সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়াবে না। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময়ের প্রেক্ষাপটে এই অবস্থান জানানো হয়। ফিদান বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর কোনো যৌক্তিক কারণ বা প্রয়োজন নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ কিছু নেতা নির্বাচনি সুবিধা পেতে উসকানিমূলক পরিস্থিতি তৈরি করছেন। ফিদানের মতে, রাজনৈতিক টিকে থাকার লড়াইয়ে নেতানিয়াহু ও তাঁর সহযোগীরা সবসময় একটি শত্রুর প্রয়োজন অনুভব করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরাইল ইতিমধ্যে হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত, আর এখন কিছু ইসরাইলি রাজনীতিবিদের কাছে তুরস্ক নতুন শত্রু হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
তবে ফিদান বলেন, ইসরাইলের সব রাজনীতিবিদ বা নাগরিক একই মানসিকতার নন, এবং তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন যে দেশটিতে এখনও কিছু বোধসম্পন্ন ও যুক্তিবাদী মানুষ রয়েছেন।
ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে না যাওয়ার ঘোষণা দিল তুরস্ক
তুরস্ক সফরে দেশটির মুসলিম জনগণের সহনশীলতা, আন্তরিক আতিথেয়তা ও ধর্মীয় পরিবেশের প্রশংসা করেছেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্ট্রুন ফ্রোস্তাদোত্তির। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, তুরস্কের মুসলমানদের সহনশীলতা তাঁকে মুগ্ধ করেছে এবং আজানের ধ্বনিতে তিনি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছেন, যা তাঁর কাছে হৃদয়স্পর্শী মনে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তুরস্কে পাওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনা ও ইতিবাচক অভিজ্ঞতা তাঁকে আনন্দিত করেছে এবং তিনি খুব শিগগিরই আবার তুরস্ক সফর করতে চান। তাঁর এই মন্তব্যে তুরস্কের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিকতার প্রকাশ পাওয়া যায়।
এই সফরকে কেন্দ্র করে আইসল্যান্ড ও তুরস্কের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সাংস্কৃতিক বোঝাপড়ার একটি ইতিবাচক বার্তা প্রতিফলিত হয়েছে।
তুরস্কের আতিথেয়তা ও আজানের সুরে মুগ্ধ আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী
ইউরোপের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তুরস্কের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। সামরিক সক্ষমতা, প্রতিরক্ষা শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে দেশটি এখন ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক ন্যাটো সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসেবে তুরস্ক এই পরিবর্তনকে আরও স্পষ্ট করেছে। ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর অধিকারী দেশটি বর্তমানে নিজস্ব সামরিক চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ করছে এবং গত বছর ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অস্ত্র রপ্তানি করেছে। ইউক্রেনে ব্যবহৃত বাইরাকতার টিবি-২ ড্রোন তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
রকেটসান ও আসেলসানের মতো তুর্কি কোম্পানিগুলো এখন ন্যাটোর বড় প্রতিরক্ষা প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে। কূটনৈতিকভাবে তুরস্ক ইউক্রেন, সিরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। সম্মেলনে যুক্তরাজ্য ও তুরস্ক নতুন প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি ঘোষণা করেছে, যার আওতায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও যৌথ সহযোগিতা বাড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার হুমকি ও ন্যাটো সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইউরোপ এখন তুরস্কের ওপর আরও নির্ভরশীল হচ্ছে। তবে এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে নতুন ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
ইউরোপের প্রতিরক্ষা কৌশলে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে তুরস্কের উত্থান
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৮৭ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।