ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি দাবি করেছে, দক্ষিণ ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে কথিত মার্কিন হামলার জবাবে তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। প্রেস টিভির উদ্ধৃত বিবৃতিতে বলা হয়, আকাবা উপকূলে মার্কিন মেরিন ঘাঁটি ক্যাম্প তিবতিন এবং প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি, ক্যাম্প তিবতিনে হামলায় বিপুলসংখ্যক মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে। সংস্থাটি এ অভিযানকে ‘আগ্রাসনকারীকে শাস্তি দেওয়ার’ অভিযানের দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ইরানের বিয়ের অনুষ্ঠানে কথিত মার্কিন হামলায় চারজন নিহত হয়েছিলেন।
আরেক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে দূরপাল্লার আরকিউ-৪ ও এমকিউ-৯ ড্রোন রাখা হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস, কয়েকজন পাইলট ও উড্ডয়ন-প্রযুক্তিবিদ নিহত এবং ঘাঁটির কিছু কারিগরি অবকাঠামোতে আগুন লাগার দাবি করেছে তারা।
জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি আইআরজিসির
ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি জানিয়েছে, লারাক দ্বীপে হামলার জবাবে তারা জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর কিং হুসেইন ও আল আজরাক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানের বিভিন্ন বার্তা সংস্থায় প্রকাশিত বিবৃতিতে সংস্থাটি এই হামলাকে আগ্রাসনকারীদের শাস্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে।
আইআরজিসির দাবি, হামলায় ঘাঁটি দুটির প্রযুক্তিগত ও পুনর্গঠনমূলক সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে এবং শত্রুপক্ষের বিমান উড্ডয়ন স্থাপনাও ধ্বংস হয়েছে। তারা বলেছে, তাদের দমন করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা থামবে না এবং প্রতিটি হামলার জবাব আরও ভয়ংকরভাবে দেওয়া হবে।
এর আগে রোববার, ৩০ আগস্ট, ইরানের লারাক দ্বীপে আইআরজিসির দুটি রকেট লঞ্চারে যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা চালায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, লঞ্চার দুটি মাইনবাহী দুটি মার্কিন জাহাজে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তিনি জানান, মার্কিন বাহিনী এলাকাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌযানের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রস্তুত। আইআরজিসি বলেছে, লারাক হামলায় কয়েকজন যোদ্ধা ও বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
লারাক দ্বীপে হামলার জবাবে জর্ডানের দুই মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি আইআরজিসির
জর্ডানে তিনটি মার্কিন ঘাঁটিতে টানা পাঁচ দিন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ১৭ জুলাই একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ভেদ করে একটি মার্কিন ঘাঁটির অস্থায়ী আবাসনে আঘাত হানে। এতে তিন মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক আহত হন। একই সপ্তাহে কয়েকটি বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান একক অস্ত্রের বদলে ড্রোন, ব্যালিস্টিক ও অন্যান্য ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে ব্যবহার করছে। কিছু ক্ষেপণাস্ত্র হঠাৎ দিক পরিবর্তন করতে পারে, যা শনাক্ত ও ভূপাতিত করা কঠিন করে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, প্রায় সব ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হলেও একটি ফাঁক গলে ঢুকে পড়েছিল।
দুইজন মার্কিন অস্ত্র মজুত-সংক্রান্ত তথ্য জানা ব্যক্তির মতে, যুদ্ধকালে পেন্টাগন ১ হাজার ৫০০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে এবং ১ হাজার ৭০০টির কম অবশিষ্ট আছে। সেথ জি. জোন্স বলেন, ইরান রাশিয়ার সমন্বিত হামলার কৌশল কার্যকরভাবে ব্যবহার করছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান ভূগর্ভস্থ ও গোপন স্থাপনা ব্যবহার করে সামরিক সরঞ্জাম ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখছে।
ড্রোন ও বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে ব্যবহার করে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় চাপ দিচ্ছে ইরান
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, জর্ডানে ইরানের একদিনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৪০ লাখ ডলার মূল্যের ৫০টি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। তবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছিল। প্রতিবেদনটি ১২ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ দিনের মধ্যে জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর তিনটি ঘাঁটিতে ব্যাপক হামলা চালায় ইরান। ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। ইরান এমন উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা মাঝ আকাশে হঠাৎ গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে; এসব প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুলসংখ্যক প্যাট্রিয়ট ব্যবহার করতে হয়।
হামলার পঞ্চম দিন, ১৭ জুলাই, একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানে। এতে তিন মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক আহত হন। পরে পেন্টাগন জানায়, ওই সপ্তাহে আরও কয়েক ডজন সেনা আহত ও কয়েকটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, ইরানের কৌশল পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারসেপ্টর মজুত দ্রুত কমছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর চাপ বাড়ছে।
জর্ডানে ইরানি হামলা ঠেকাতে ৫০টি প্যাট্রিয়ট ছুড়েও একটি ঘাঁটিতে আঘাত ঠেকানো যায়নি
আল-আকসা মসজিদ ও ডোম অব দ্য রককে ঘিরে নতুন উত্তেজনার মধ্যে জর্ডান আরব ও মুসলিম বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক ডেকেছে। ৫ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবারের এই বৈঠকে আরব লীগের সদস্যদের সঙ্গে তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেবেন। বৈঠকটির আয়োজন করছেন জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি।
জর্ডানের উদ্বেগের কারণ আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় উগ্রপন্থিদের ধারাবাহিক প্রবেশ ও ধর্মীয় আচার পালন। জর্ডানের হাশেমি রাজপরিবারের তত্ত্বাবধানে থাকা এই প্রাঙ্গণে বর্তমানে শুধু মুসলিমদের নামাজের অনুমতি রয়েছে। ২৩ জুলাই ইতামার বেন গভিরের নেতৃত্বে প্রায় দুই হাজার ইসরাইলি সেখানে প্রবেশ করে প্রার্থনা ও আচার পালন করেন; জর্ডানের কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুতর লঙ্ঘন বলেছেন।
জর্ডান টেম্পল মাউন্ট এলাকায় বিশেষ পুলিশ ইউনিট গঠনের উদ্যোগ এবং সেপ্টেম্বরে ইহুদি ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। সাফাদি সতর্ক করেছেন, স্থিতাবস্থায় হস্তক্ষেপ ধর্মীয় সংঘাত ডেকে আনতে পারে। আম্মান পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক স্থানান্তরের সম্ভাবনাও নিয়ে উদ্বিগ্ন; তাদের জর্ডানে ঠেলে দেওয়ার যে কোনো প্রচেষ্টাকে দেশটি রেড লাইন হিসেবে দেখছে।
আল-আকসার স্থিতাবস্থা নিয়ে উদ্বেগে আরব ও মুসলিম পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক ডাকল জর্ডান
জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান সামরিক সহযোগিতা চুক্তি বাতিল বা সীমিত করার দাবি তুলেছেন দেশটির ১৩০ জনের বেশি বিশিষ্ট নাগরিক। ৩১ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শ্রমিক নেতা ও উপজাতীয় প্রতিনিধিরা যৌথ বিবৃতিতে সরকারের কাছে এই আহ্বান জানান।
স্বাক্ষরকারীদের বক্তব্য, জর্ডান কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধের পক্ষ নয়; ফলে দেশটির ভূখণ্ড বিদেশি সামরিক উপস্থিতি বা আঞ্চলিক সংঘাতের অংশ হিসেবে ব্যবহার জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদেশি সেনা উপস্থিতি জর্ডানকে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।
বিবৃতিতে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি দ্রুত পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়। প্রয়োজনে চুক্তি বাতিল বা সংশোধন করে জর্ডানের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে। জর্ডান সরকার আগে বলেছিল, মার্কিন বাহিনী সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম ও যৌথ নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবে কাজ করছে এবং তাদের উপস্থিতি দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করেই পরিচালিত হচ্ছে।
জর্ডান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও প্রতিরক্ষা চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবি
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ৩০ জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘাঁটিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, কেশম দ্বীপে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় একই পরিবারের বাবা-মা ও এক শিশু নিহত হওয়ার জবাবে হামলাটি চালানো হয়েছে। আইআরজিসি জানায়, হামলায় ঘাঁটির একটি রানওয়ে ও একটি রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করা হয়।
আইআরজিসির দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-৩৫ পুরোপুরি ধ্বংস এবং আরও তিনটি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা আরও দাবি করেছে, কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং ঘাঁটির কারিগরি ও রক্ষণাবেক্ষণ দলের সদস্য নিহত হয়েছেন। সংগঠনটি হামলাকে ইসলামি ভূমি থেকে শেষ মার্কিন দখলদারকে বিতাড়িত করার সংগ্রামের অংশ বলে বর্ণনা করেছে।
আইআরজিসির দাবি, জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে হামলায় তিনটি এফ-৩৫ ধ্বংস
ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে আল মায়াদিন জানিয়েছে, জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেছে জার্মানি ও ফ্রান্সের সামরিক বিমান। প্রতিবেদনটি ৩০ জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত হয়।
খবরে বলা হয়, এভিয়েশন ট্র্যাকিং সিস্টেমের নেভিগেশন তথ্যে জর্ডানের আকাশে অন্তত দুটি জার্মান ও ফরাসি বিমান দেখা গেছে। ফার্স নিউজ এজেন্সির দাবি, বিমানগুলো মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা দিতে সেখানে ছিল এবং এই কার্যক্রমের সত্যতা নেভিগেশন ডেটা নিশ্চিত করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সামরিক বিমানগুলো ইরানের দিক থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে পৌঁছানোর আগেই মাঝপথে ধ্বংস বা প্রতিহত করতে ওয়াশিংটনকে সহায়তা করে। এতে আরও দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর জার্মানি ও ফ্রান্সের বিমানগুলো সহায়তায় নামে।
জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিমুখী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ফ্রান্স-জার্মানির সহায়তার দাবি
জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার জবাবে তেহরানকে ‘খুবই শক্ত’ আঘাত হানার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৩০ জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেছেন, ‘এবার আমাদের পালা।’
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, জর্ডানের সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হলেও ওয়াশিংটন এর জবাব না দিয়ে ছাড়বে না বলে তিনি জানান।
প্রেসিডেন্ট বলেন, হামলাটি ব্যর্থ হলেও ইরান মার্কিন শক্তির উপযুক্ত জবাব পাবে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে বলেও ট্রাম্প জানান।
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার জবাবে ইরানকে কঠোর আঘাতের হুমকি ট্রাম্পের
জর্ডানে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগের পর ইরানকে কঠোরভাবে আঘাত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২৯ জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে আলজাজিরার বরাতে বলা হয়েছে, ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার কথা জানান।
ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ছোড়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন বাহিনী প্রতিহত করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় সেনাদের হাতে প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য মাত্র কয়েক মিনিট ছিল, কিন্তু তারা হামলাগুলো সফলভাবে ঠেকিয়েছে। তিনি বলেন, ইরান ‘বড় ধরনের মূল্য’ দেবে।
ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বিমান হামলার প্রসঙ্গও তোলেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরাক সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের ‘বিশ্বের জন্য ক্যানসার’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তাঁর প্রশাসন ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আরও পদক্ষেপের বিষয় বিবেচনা করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্রদের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে কথিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতির পর জর্ডানে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ২৯ জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জর্ডানে তাদের সেনাদের লক্ষ্য করে ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় এই আকস্মিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে হামলার লক্ষ্য হিসেবে জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের কথা বলা হলেও নির্দিষ্ট ঘাঁটির নাম, হামলার সময় বা ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন উল্লেখ করা হয়নি।
সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের নির্দেশে চালানো ড্রোন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের বাহিনী ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে। এ বিষয়ে তেহরান এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। প্রতিবেদনের সূত্র হিসেবে আল জাজিরার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতির পর জর্ডানে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা সোমবার সকালে দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ২৭ জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ড্রোন দুটি নামিয়ে আনার ঘটনায় কোনো হতাহত বা বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে।
ড্রোন দুটি কারা পাঠিয়েছিল, সে বিষয়ে জর্ডানের সেনাবাহিনী কোনো তথ্য দেয়নি। এখন পর্যন্ত কোনো দেশ বা গোষ্ঠীও ড্রোন পাঠানোর দায় স্বীকার করেনি। ফলে ড্রোনগুলোর উৎস ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রতিবেদনে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে গত দুই সপ্তাহে জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সময়ে কুয়েত ও বাহরাইনেও হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সোমবার ভূপাতিত করা ড্রোন দুটির সঙ্গে আগের এসব হামলার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা প্রতিবেদনে বলা হয়নি।
জর্ডানের সেনাবাহিনীর দাবি, সোমবার সকালে দুটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে
ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা জর্ডানের প্রিন্স হাসান ও কিং ফয়সাল ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-এর বরাতে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, হামলায় এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, ড্রোন প্রস্তুতকরণ অবকাঠামো এবং হেলিকপ্টার সংরক্ষণাগার লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এতে আটটি নতুন এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস এবং আরও দুটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, হেলিকপ্টার সংরক্ষণাগারে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ভারী হেলিকপ্টার গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মার্কিন সেনাদের মধ্যে কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা জর্ডানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি এবং দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত চলমান এবং ইরান পূর্বে মার্কিন হামলায় সহায়তাকারীদের কঠোর জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের, ড্রোন ধ্বংস ও হতাহতের খবর
ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র জর্ডান থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক সর্বোচ্চ ১০ শতাংশে সীমিত রাখবে। জর্ডানের শিল্প, বাণিজ্য ও সরবরাহমন্ত্রী ইয়ারুব কুদাহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এ চুক্তিতে সই করেন।
চুক্তির আওতায় জর্ডানের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রখাত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার পাবে, আর মার্কিন কৃষিপণ্য ও মোটরযান জর্ডানের বাজারে সহজে প্রবেশ করবে। এটি ২০০১ সালের যুক্তরাষ্ট্র-জর্ডান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ভিত্তিতে গঠিত এবং প্রায় এক বছরের আলোচনার পর সম্পন্ন হয়েছে। জর্ডানও মার্কিন পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা বহাল রাখবে এবং পরিবেশ আইন, শ্রম অধিকার ও মেধাস্বত্ব সুরক্ষার মাধ্যমে বাজার প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ করবে।
সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে রয়্যাল জর্ডানিয়ান এয়ারলাইন্সের ১.৪ বিলিয়ন ডলারে ছয়টি বোয়িং ৭৮৭-৯ কেনা, ৫০০ মিলিয়ন ডলারের লিজ চুক্তি, হিকমা ফার্মাসিউটিক্যালসের যুক্তরাষ্ট্রে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি এবং প্রতি বছর ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মার্কিন কাঁচামাল কেনার চুক্তি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-জর্ডান নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে শুল্ক সীমিত ও বাজার প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জর্ডানের আকাবা বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই হামলার লক্ষ্য ছিল মার্কিন সি-১৭ পরিবহন বিমান ও পি-৮ নজরদারি উড়োজাহাজ। আইআরজিসি দাবি করেছে, কয়েকটি উড়োজাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত ২০টি হ্যাঙ্গার ধ্বংস করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতেও মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে একটি আগাম সতর্কীকরণ রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। এই হামলাগুলো এমন সময়ে ঘটেছে যখন টানা দশ রাত ধরে মার্কিন হামলার জবাব দিচ্ছে ইরান।
সংবাদটিতে আইআরজিসির দাবির স্বাধীন যাচাই বা হতাহতের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি, ফলে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ মাত্রা অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
জর্ডান ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি
২০২৬ সালের ১৯ জুলাই জর্ডানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আকাবার দিকে ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত চারটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে তিনটি ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইরান থেকে ছোড়া হয়েছে এবং কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের ভূখণ্ডেও পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে। জর্ডানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চতুর্থ ক্ষেপণাস্ত্রটি দক্ষিণাঞ্চলের একটি দূরবর্তী এলাকায় পড়েছে।
জর্ডানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, সশস্ত্র বাহিনী সফলভাবে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, ফলে কোনো হতাহত বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ঘটেনি। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী সতর্ক করেছে, সাইরেন বাজলে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।
ঘটনাটিতে কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জর্ডানের কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। আলজাজিরা সূত্রে জানা যায়, এটি জর্ডানের আকাশে বিরল ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের একটি ঘটনা।
আকাবার কাছে ইরানের তিন ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত, জর্ডানে কোনো হতাহত নেই
জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের আকাবার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দূতাবাস জানায়, একটি নির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকির কারণে জর্ডানের কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর খালি করে দিয়েছে। দূতাবাস মার্কিন নাগরিকদের এসব স্থানে না যাওয়ার এবং জর্ডানের কর্তৃপক্ষের জারি করা সব নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
আম্মানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস আরও সতর্ক করে বলেছে, জর্ডানের সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও ভ্রমণ এড়িয়ে চলা উচিত। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, তারা টানা অষ্টম রাতের মতো ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, জর্ডানে ইরানের এক হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও জর্ডানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং নিরাপত্তা সতর্কতা অব্যাহত থাকতে পারে।
জর্ডানে আকাবা বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর এড়াতে মার্কিন নাগরিকদের সতর্কতা
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর দুই সেনা নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, শুক্রবার হামলার সময় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার চেষ্টায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এক মার্কিন সেনা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের পরিচয় প্রকাশের আগে তাদের পরিবারের সদস্যদের অবহিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
পেন্টাগন জানিয়েছে, আহত চার সেনাকে চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং সামান্য আহতদের দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৬ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৪৩০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা অব্যাহত রাখে তবে তাদের অবিস্মরণীয় শিক্ষা দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানের সামরিক স্থাপনা ও অস্ত্রভান্ডারে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরান কুয়েত, ইরাক, বাহরাইন, জর্ডান ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়, যার মধ্যে কুয়েতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জর্ডানের আল-আজরাকে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান রাখার স্থান এবং একটি বড় বিমান পার্কিং র্যাম্প। আইআরজিসি দাবি করেছে, এতে অন্তত দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে এবং আরও কয়েকটি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইআরজিসি জর্ডানের সেনাবাহিনীকে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এই আগ্রাসী সামরিক বাহিনীকে বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, জর্ডানের ভূমিকে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্ত করা ধর্মীয় ও মানবিক কর্তব্য।
আলজাজিরা সূত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র বা জর্ডানের পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি।
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, দুটি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে সপ্তম দফায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। আজরাক বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান, সেনাদের থাকার ভবন ও সামরিক সরঞ্জাম রাখার বড় হ্যাঙ্গারকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ইরানের সেনাবাহিনী বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এটি পরিচালিত হয়েছে।
ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালাচ্ছে, যার জবাবে তারা আগের ছয় দফা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। দেশটি সতর্ক করেছে, ভবিষ্যতে তাদের স্থল, সমুদ্র বা আকাশসীমায় হামলা হলে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানে নতুন হামলা চালিয়েছে, যার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ব্যবহৃত ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা।
জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে সপ্তম দফায় ইরানের ড্রোন হামলা
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ২২৩ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।