উত্তর আরব সাগরে অনুষ্ঠিত এক সামরিক মহড়ায় পাকিস্তান নৌবাহিনী ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। শনিবার প্রকাশিত আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ অধিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আধুনিক উল্লম্ব উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা থেকে দীর্ঘপাল্লার এলওয়াই-৮০(ঘ) ক্ষেপণাস্ত্রের লাইভ ফায়ারিং সফলভাবে সম্পন্ন হয়। মহড়াটি প্রত্যক্ষ করেন কমান্ডার পাকিস্তান ফ্লিট। ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে তা ধ্বংস করে, যা নৌবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যাচাই করে।
আইএসপিআর জানায়, মহড়ায় আধুনিক নৌযুদ্ধের পরিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রচলিত ও মানববিহীন সক্ষমতার কার্যকর প্রদর্শন করা হয়েছে। একই মহড়ায় লয়টারিং মিউনিশন ব্যবহার করে ভূপৃষ্ঠের লক্ষ্যবস্তুতেও সফল হামলা চালানো হয়, যা নৌবাহিনীর নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতার প্রমাণ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই পরীক্ষায় উচ্চমাত্রার কৌশলগত চালচলন, নির্ভুল নেভিগেশন এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় কার্যকরভাবে কাজ করার সক্ষমতা প্রদর্শিত হয়েছে।
উত্তর আরব সাগরে পাকিস্তান নৌবাহিনীর সফল ভূমি থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা
উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ড্রোন তাদের আকাশসীমায় প্রায় আট কিলোমিটার প্রবেশ করার পর ভূপাতিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ শনিবার (৪ জানুয়ারি) জানিয়েছে, ড্রোনটি দক্ষিণ কোরিয়ার ইনকিওন শহরের একটি দ্বীপ থেকে উড়ে এসে উত্তর কোরিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করে এবং গুলি করে নামানো হয়। কেসিএনএ জানায়, ড্রোনটিতে নজরদারি ক্যামেরা ছিল, যা উত্তর কোরিয়ার ‘গুরুত্বপূর্ণ’ স্থাপনাগুলোর ছবি ধারণ করছিল বলে দাবি করা হয়। প্রকাশিত ছবিতে ভাঙা ড্রোনের অংশ ও আকাশচিত্র দেখা গেছে।
এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন উত্তর কোরিয়া আগামী পাঁচ বছরের নীতি নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলীয় কংগ্রেস আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি নেতা কিম জং উনের সেই বক্তব্যকে আরও জোরদার করছে যে দক্ষিণ কোরিয়া একটি বিদেশি ও শত্রু রাষ্ট্র। কেসিএনএ জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বরেও দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ড্রোন গুলি করে নামানো হয়েছিল।
রয়টার্সের উদ্ধৃতিতে কেসিএনএ বলেছে, সরকার পরিবর্তনের পরও দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তে ড্রোন ব্যবহার করে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং দেশটিকে ‘সবচেয়ে শত্রুভাবাপন্ন শত্রু’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। গত জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংয়ের সংলাপের প্রস্তাব পিয়ংইয়ং প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার ড্রোন ভূপাতিতের দাবি উত্তর কোরিয়ার
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শনিবার মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে এক পোস্টে ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জনগণের পাশে রয়েছে। এর একদিন আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতাদের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, গুলি শুরু না করাই ভালো, কারণ আমরাও গুলি শুরু করব।
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কারণে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে এবং বর্তমান অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হতে দেওয়া হবে না। এর আগে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছিলেন, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিতে পিছিয়ে থাকবে না। তার এই বক্তব্যের পর নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ও ইরানের অভ্যন্তরীণ সতর্কবার্তা দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
ইরানে বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন, উত্তেজনা বাড়ছে
অধিকৃত পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে ১৫০ ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। প্যালেস্টাইন সেন্টার ফর প্রিজনার স্টাডিজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন নারী, আট শিশু, সাংবাদিক এবং বন্দি বিনিময় চুক্তিতে মুক্তিপ্রাপ্ত কয়েকজন নারী রয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, চলমান দমন নীতির অংশ হিসেবে ইসরায়েলি বাহিনী পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। শত শত বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় এবং ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিবৃতিতে এসব কর্মকাণ্ডকে সম্মিলিত শাস্তি ও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত নির্যাতন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, নতুন বছরের শুরুতেই অভিযোগ ছাড়াই ১৩৬টি প্রশাসনিক আটক আদেশ জারি করেছে ইসরায়েল। এছাড়া বিরজেইত বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দিদের সমর্থনে আয়োজিত সংহতি সমাবেশে হামলা চালিয়ে গণমাধ্যমের সরঞ্জাম জব্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-প্রেসিডেন্টকে আটক করা হয়।
পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে ১৫০ ফিলিস্তিনি আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী
বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ হতে বাংলাদেশের নীতিগত আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন রাজনৈতিকবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যালিসন হুকার এবং সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই প্রস্তাব দেন। জবাবে হুকার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
গত বছরের নভেম্বরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করে, যার একটি ধারা ছিল গাজায় যুদ্ধবিরতি তত্ত্বাবধানের জন্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) গঠন। বৈঠকে খলিলুর রহমান বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে মার্কিন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
এছাড়া তারা বাণিজ্য, রোহিঙ্গা সংকট ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। খলিলুর রহমান বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য মার্কিন ভিসা বন্ড সহজ করা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং সেমিকন্ডাক্টর উন্নয়নে মার্কিন অর্থায়নের সুযোগ চাওয়ার প্রস্তাব দেন।
ওয়াশিংটনে বৈঠকে গাজা স্থিতিশীলতা বাহিনীতে যোগদানে বাংলাদেশের আগ্রহ প্রকাশ
গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করকে নিউইয়র্কে পৌঁছাতে হয় প্রায় ৬৭০ কিলোমিটার সড়কপথে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সে সময় ফেডারেল সরকারের শাটডাউনের কারণে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এই সড়কযাত্রার ব্যবস্থা করেন। মার্কিন ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিস (ডিএসএস) প্রস্তুত করা প্রতিবেদনটি ৮ জানুয়ারি প্রকাশ করা হয়।
কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তের লিউইস্টন-কুইনস্টন ব্রিজ থেকে ম্যানহাটান পর্যন্ত প্রায় সাত ঘণ্টার এই যাত্রায় অংশ নেন ডিএসএসের ২৭ জন এজেন্ট। তারা ডিগনিটারি প্রোটেকশন ডিভিশন এবং নিউইয়র্ক ও বাফেলো ফিল্ড অফিস থেকে এসেছিলেন। স্থানীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে কিছু এজেন্ট আলাদাভাবে গাড়ি চালিয়ে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছান। শীতকালীন প্রতিকূল আবহাওয়া ও সীমিত দৃশ্যমানতার মধ্যেও গাড়িবহর যাত্রা অব্যাহত রাখে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি শাটডাউন সত্ত্বেও এই নিরাপত্তা অভিযান জাতিসংঘে জয়শঙ্করের নির্ধারিত বৈঠক পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন করতে সহায়তা করেছে।
শাটডাউনে বিমানের বদলে ৬৭০ কিমি সড়কপথে নিউইয়র্কে যান জয়শঙ্কর
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়া ও চীন যাতে গ্রিনল্যান্ড দখল করতে না পারে, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওই অঞ্চলের মালিকানা প্রয়োজন। ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দেশগুলোর মালিকানা থাকতে হবে, ইজারা নয়। ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করবে ‘সহজ উপায়ে বা কঠিন উপায়ে’। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রশাসন ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি কেনার কথা বিবেচনা করছে, যদিও জোরপূর্বক যুক্ত করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয় এবং কোনো সামরিক পদক্ষেপ ন্যাটোর সমাপ্তি ঘটাতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান দেশগুলো ও কানাডা ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছে, সম্পর্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে কেবল ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড। তারা জাতিসংঘ সনদের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত অখণ্ডতার নীতিগুলো রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অবহেলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে গ্রিনল্যান্ডবাসীরাই। আগামী সপ্তাহে ডেনমার্কের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
রাশিয়া-চীন ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা চায় যুক্তরাষ্ট্র
পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে তুরস্ক আলোচনা করছে বলে জিও নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে এবং শিগগিরই একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি হতে পারে। পাকিস্তান-সৌদি চুক্তি অনুযায়ী, এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা উভয় দেশের ওপর আগ্রাসন হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তুরস্কের সম্ভাব্য যোগদান একটি নতুন নিরাপত্তা জোটের পথ খুলে দিতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্য ও তার বাইরের ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে। এই আলোচনা এমন সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা একাধিক প্রতিরক্ষা প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করছে। আঙ্কারা পাকিস্তানের নৌবাহিনীকে কর্ভেট যুদ্ধজাহাজ সরবরাহ করছে এবং পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে ড্রোন প্রযুক্তি ও পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছে। গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সৌদি সফরে এসএমডিএ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
পাক-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে তুরস্কের অগ্রসর আলোচনা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩ জানুয়ারির ভেনেজুয়েলায় হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। ওই হামলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে ওয়াশিংটন দেশটির তেলশিল্পের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় এক বছরেরও বেশি সময় থাকতে পারে এবং তিনিই মূলত দেশটির প্রশাসন পরিচালনা করছেন। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের প্রশ্নে তিনি বলেন, তার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই এবং তিনি নিজের নৈতিকতা ও বিবেচনা অনুযায়ী কাজ করেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ডেনমার্কের অধীন গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রচারণার কথাও উল্লেখ করেন, যা ন্যাটো জোটের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে স্বীকার করেন। তাইওয়ান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলা ও তাইওয়ানের পরিস্থিতি ভিন্ন, কারণ ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রকৃত হুমকি। রাশিয়ার সঙ্গে পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি বিষয়ে তিনি জানান, ফেব্রুয়ারিতে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তা উত্তীর্ণ হতে দেবেন এবং পরে আরও ভালো চুক্তি করবেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, দুই ঘণ্টার সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অকপট ও শান্তভাবে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমস সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা, গ্রিনল্যান্ড ও পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা
দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ডেনমার্কের অধীন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের ঘোষণা দিয়েছেন। ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় মাদক সন্ত্রাসের অভিযোগে সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার একদিন পর ৪ জানুয়ারি তিনি এই ঘোষণা দেন। ট্রাম্প বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। তার এই পদক্ষেপ ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ স্টিফেন মিলার জানান, প্রশাসনের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট—গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়া উচিত। আলজাজিরাকে দেওয়া বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ন্যাটোর কার্যক্রমকে কার্যত শেষ করে দিতে পারে এবং রাশিয়াকে ইউক্রেনে আরও আগ্রাসী করে তুলতে পারে। ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডারিকসন সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ন্যাটো দেশ আক্রমণ করে, তাহলে জোট কার্যত ভেঙে পড়বে। আটলান্টিক কাউন্সিল ও শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরাও একমত যে, এতে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি অর্থহীন হয়ে পড়বে।
তবে ইউরোপীয় নেতারা প্যারিসে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে বৈঠক করলেও ভেনেজুয়েলা বা গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।
গ্রিনল্যান্ড দখল পরিকল্পনায় ইউরোপে উদ্বেগ, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ‘বড় বিপদে’ আছে এবং তিনি সামরিক হামলার নির্দেশ দিতে পারেন বলে সতর্ক করেছেন। ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার পর শুক্রবার তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। ট্রাম্প বলেন, ইরানের জনগণ এমন কিছু শহর দখল করছে যা কয়েক সপ্তাহ আগেও কেউ ভাবেনি সম্ভব। তিনি ইরান সরকারকে সতর্ক করে বলেন, গুলি চালানো শুরু না করাই ভালো, কারণ যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে।
ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি আশা করেন ইরানের বিক্ষোভকারীরা নিরাপদ থাকবে, কারণ দেশটি এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এর আগে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ মুখে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিক্ষোভকে বিদেশি শত্রু, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন যে, বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না।
বিক্ষোভের মধ্যে ইরানকে সামরিক হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণ করে এবং দেশটির বিপুল তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে, এখন থেকে ভেনেজুয়েলার সব তেল বিক্রয় কার্যক্রম তারা নিয়ন্ত্রণ করবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি তেল অবকাঠামো দখল করে ‘আমেরিকার তেল চুরি’ করেছে এবং আগ্রাসনের পর মার্কিন কোম্পানিগুলো সেখানে পুনরায় বিনিয়োগ করবে।
ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সর্বাধিক প্রমাণিত অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে, প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল, যা বৈশ্বিক মজুতের ১৭ থেকে ২০ শতাংশ। ১৯৭৬ সালে তেল শিল্প জাতীয়করণের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক ক্রমেই তিক্ত হয়। হুগো শ্যাভেজ ও মাদুরোর সমাজতান্ত্রিক নীতি, দুর্বল সামরিক শক্তি এবং অর্থনৈতিক পতন দেশটিকে আগ্রাসনের মুখে ফেলে।
লেখক মন্তব্য করেছেন, এই আগ্রাসন আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থার পতন ঘটিয়েছে এবং শক্তির আধিপত্যের যুগে বিশ্বকে ফিরিয়ে নিয়েছে। দুর্বল দেশগুলোর জন্য এটি সতর্কবার্তা যে, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সামরিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতা অপরিহার্য।
ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসনের পর তেল নিয়ন্ত্রণ নিল যুক্তরাষ্ট্র
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বাংলাদেশের কাছে তাদের তৈরি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে শিগগিরই চুক্তি হতে পারে। দুই দেশের বিমান বাহিনী প্রধানদের বৈঠকের পর এই তথ্য প্রকাশিত হয়। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান পাকিস্তানের যুদ্ধ-সংক্রান্ত সাফল্যের প্রশংসা করেছেন এবং পুরনো সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা রাডার সিস্টেম উন্নয়নে পাকিস্তানের সহায়তা চেয়েছেন। বৈঠকে সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমানের দ্রুত সরবরাহ ও জেএফ-১৭ থান্ডার কেনার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
জেএফ-১৭ থান্ডার পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স ও চীনের চেংডু এয়ারক্রাফ্ট করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি একটি হালকা, বহুমুখী যুদ্ধবিমান। এটি ইতোমধ্যে মিয়ানমার, নাইজেরিয়া ও আজারবাইজানের বিমানবহরে যুক্ত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তুলনামূলক কম দাম ও কার্যক্ষমতার কারণে সীমিত প্রতিরক্ষা বাজেটের দেশগুলোর কাছে বিমানটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
যদিও পাকিস্তান এখনো বাংলাদেশ, লিবিয়া বা সৌদি আরবের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি নিশ্চিত করেনি, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০২৪ সালের পর ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্কের পরিবর্তন এই সম্ভাব্য চুক্তিকে কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন দিক নির্দেশ করতে পারে।
বাংলাদেশের কাছে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনা জানাল পাকিস্তান
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সমর্থিত ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এই ঘোষণা আসে। দক্ষিণ ইয়েমেনের অস্থিরতা নিরসনে আলোচনার জন্য এসটিসির প্রতিনিধিরা রিয়াদে অবস্থান করছিলেন বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। সংগঠনটি জানায়, তাদের সব প্রধান ও সহায়ক সংস্থা ভেঙে দেওয়া হবে এবং দেশের ভেতরে-বাইরে সব অফিস বন্ধ করা হবে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, এসটিসি নেতা আইদারুস আল-জুবাইদি রিয়াদে নির্ধারিত শান্তি আলোচনায় না গিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পালিয়ে গেছেন। জোটের বিবৃতিতে বলা হয়, বুধবার গভীর রাতে তিনি ইয়েমেনের এডেন বন্দর থেকে নৌকায় সোমালিল্যান্ডের বেরবেরা বন্দরে যান। এসটিসি সৌদি আরবের উদ্যোগের প্রশংসা করে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ ইউএই-এর সঙ্গে বিরোধ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এডেন ও আশপাশের এলাকায় এসটিসি ও সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে সহিংসতা বেড়েছে। দক্ষিণ ইয়েমেনের মুকাল্লা বন্দরে ইউএই-এর অস্ত্র চালানে সৌদি জোটের বিমান হামলার পর উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
সৌদি বৈঠকের পর ইউএই-সমর্থিত ইয়েমেনি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এসটিসি বিলুপ্ত ঘোষণা
সৌদি আরব শুক্রবার সোমালিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল সোমালিল্যান্ডে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’র সাম্প্রতিক সফরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ২১টি দেশের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে সৌদি আরব এই সফরকে “অবৈধ” আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি সোমালিয়ার ফেডারেল প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত রীতি ও জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থি।
বিবৃতিতে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা, সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং কূটনৈতিক রীতিনীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। যৌথ বিবৃতিতে ইসরাইলকে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব সম্মান করা ও সোমালিল্যান্ডকে দেওয়া স্বীকৃতি অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।
গত ২৬ ডিসেম্বর ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে সোমালিল্যান্ডকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া সোমালিল্যান্ডকে এখন পর্যন্ত কেবল ইসরাইলই স্বীকৃতি দিয়েছে, যা সোমালিয়া ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সোমালিল্যান্ডে ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে সৌদি আরবের তীব্র নিন্দা
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৮৩ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।