সিরিয়াকে কেন্দ্র করে তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ানোর অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের সমালোচনা করেছে ইসরাইলি গণমাধ্যম। তাদের আশঙ্কা, এ বিরোধ বাড়তে থাকলে ইসরাইলের সামনে নতুন যুদ্ধফ্রন্ট খুলে যেতে পারে। ১৮ আগস্ট উত্তর সিরিয়ার আবু আল-দুহুর সামরিক ঘাঁটিতে ইসরাইলি হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
হারেৎজ বলেছে, নেতানিয়াহুর নীতি ইসরাইলকে আরেকটি ‘অপ্রয়োজনীয় সংঘাতে’ জড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় সামরিক হামলা হতে পারে না। তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় সম্ভাব্য সংঘাতের বড় মূল্য দিতে হতে পারে বলেও পত্রিকাটি সতর্ক করেছে। ইয়েনেটের মতে, উত্তেজনা চলমান আঞ্চলিক সংঘাতে নতুন বা ‘অষ্টম ফ্রন্ট’ তৈরি করতে পারে। মারিভও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন যুদ্ধফ্রন্টের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।
ইসরাইল বলেছে, সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি বাড়ার আশঙ্কায় তারা হামলা চালিয়েছে; তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র এ দাবির সমালোচনা করেছে। হামলার পর দামেস্ক ইসরাইলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থগিত করেছে এবং তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা বলেছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, সরাসরি সংঘাতের কোনো কারণ নেই।
তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনা নতুন যুদ্ধফ্রন্ট খুলতে পারে বলে সতর্ক ইসরাইলি গণমাধ্যম
ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও জাপানসহ ১৬টি কূটনৈতিক মিশন রোহিঙ্গা ইস্যুকে বৈশ্বিক এজেন্ডায় রাখার অঙ্গীকার করেছে। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক প্রবেশের নবম বার্ষিকীতে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে তারা ন্যায়বিচার, জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়। সংকটটি এখন দশম বছরে পদার্পণ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, নয় বছর পরও বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। মিশনগুলো দীর্ঘ বাস্তুচ্যুতি ও কষ্টের মধ্যেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর স্থিতিশীলতা, সাহস ও মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। প্রায় এক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করা হয়। তারা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
তবে রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি প্রত্যাবাসনের অনুকূলে নয় বলে মিশনগুলো জানিয়েছে। সংঘাত বৃদ্ধি, মানবিক চাহিদা, বেসামরিক অবকাঠামোয় বিমান হামলা এবং ত্রাণ ও বাণিজ্যে অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করছে। তারা বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা অব্যাহত রাখা, স্বনির্ভরতা জোরদার এবং মানবিক পরিকল্পনায় স্থানীয় নেতৃত্ব ও শরণার্থী-পরিচালিত সংস্থার ভূমিকা বাড়ানোর পক্ষে সমর্থন দিয়েছে।
রোহিঙ্গাদের সহায়তা ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশে কাজ চালানোর অঙ্গীকার
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং দেশটি থেকে জ্বালানি তেল কেনার অভিযোগে চার ভারতীয় কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো পোর্টিস পার্টনার এলএলপি, সদাশিব ওভারসিজ লিমিটেড, পিআর সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রাক্রুতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব কোম্পানি ইরানি তেল আমদানি, মজুত, স্থানান্তর ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং ইরানকে তেল রপ্তানিতে সহায়তা করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অর্থনৈতিক অভিযানের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার নাম ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’। এই নীতির আওতায় ইরানের সামরিক বাহিনী ও জ্বালানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পোর্টেজ পার্টনার্স ভারতে বিপুল ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য সরবরাহে ভূমিকা রেখেছে; এর দুই অংশীদার ইদ্রিসমিয়া আশরাফমিয়া শেখ ও হরিশ রামচন্দ্র রাঙ্গিও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন। সদাশিব ওভারসিজ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বা মার্কিন নাগরিকের নিয়ন্ত্রণে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং লেনদেন সাধারণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
ইরানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যের অভিযোগে চার ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের পরিকল্পিত বসতি সম্প্রসারণ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র সোমবার বলেন, পশ্চিম তীরের ই১ এলাকায় নতুন বসতি নির্মাণ অঞ্চলটিকে আরও খণ্ডিত করবে এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। সিঙ্গাপুরের মতে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। মুখপাত্র বলেন, ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সহিংসতা বন্ধে ইসরাইলকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং হামলার দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। প্রাসঙ্গিক জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকেই সংঘাতের ন্যায়সংগত ও স্থায়ী সমাধানের একমাত্র কার্যকর পথ বলেছে সিঙ্গাপুর।
গত ১৮ আগস্ট ইসরাইলি সরকার ই১ এলাকায় ১ হাজার ২০০টির বেশি আবাসিক ইউনিট নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করে। প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পূর্ব জেরুজালেম-সংলগ্ন এলাকাটিতে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি বাস করেন, যাঁদের বেশির ভাগ ১৮টি গ্রামের বেদুইন সম্প্রদায়ের সদস্য। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরের সংযোগ আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও কানাডাও উদ্বেগ জানিয়েছে।
পশ্চিম তীরের ই১ এলাকায় বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বন্ধে ইসরাইলকে সিঙ্গাপুরের আহ্বান
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে সিঙ্গাপুরভিত্তিক পণ্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ওয়েলব্রেড ক্যাপিটালের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল অফিস সোমবার ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানায় বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ওয়াশিংটন অভিযোগ করেছে, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ইরানের প্রয়াত জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি শামখানির ছেলে মোহাম্মদ হোসেইন শামখানির সম্পৃক্ততা রয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়েলব্রেড ক্যাপিটাল মূলত মোহাম্মদ হোসেইন শামখানির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। তিনি ট্যাংকার ও পণ্যবাহী জাহাজের একটি বড় বহর পরিচালনা করেন। এসব জাহাজের মাধ্যমে ইরান ও রাশিয়ার তেল বিশ্বের বিভিন্ন ক্রেতার কাছে পরিবহন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইরানের মূল ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের বাইরে শামখানি প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুললেও এর পরিচালনায় তাঁর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় ওয়েলব্রেড ক্যাপিটালের দুবাই ও জেনেভা শাখার পাশাপাশি ফ্রান্সে থাকা একটি জৈব জ্বালানি শোধনাগারও পড়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে তেল ও অর্থ বিদেশে সরিয়ে নিতে সহায়তার অভিযোগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সূত্রে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলায় আলি শামখানি নিহত হন।
ইরান-সংযোগের অভিযোগে ওয়েলব্রেড ক্যাপিটালের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর বা আইআরজিসির পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তার অবস্থান ও তথ্য চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কার্যকর তথ্য দিলে সর্বোচ্চ এক কোটি ডলার পুরস্কার এবং পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস কর্মসূচির বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
তালিকায় রয়েছেন আইআরজিসির কমান্ডার আহমেদ ওয়াহিদি, খাতামুল আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের প্রধান আলি আব্দুল্লাহি এবং অ্যারোস্পেস ফোর্সের ড্রোন ইউনিটের কমান্ডার সাঈদ আগাজানি। আরও আছেন সাইবার ইলেকট্রনিক কমান্ডের প্রধান হামিদরেজা লশগরিয়ান এবং গোয়েন্দা বিভাগের কমান্ডার মাজিদ খাদেমি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, তথ্য এমন হতে হবে যা ওই পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সহায়ক হতে পারে। যোগ্য তথ্যদাতাদের সর্বোচ্চ এক কোটি ডলার পুরস্কারের পাশাপাশি পুনর্বাসন সুবিধার জন্যও বিবেচনা করা হবে।
আইআরজিসির পাঁচ কর্মকর্তার তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ এক কোটি ডলার পুরস্কার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান ও মার্কিন-ইসরাইলি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ২০ জন নাবিক ও বন্দরকর্মী নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা বা আইএমও জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে সংঘটিত ৬৮টি ঘটনায় এসব প্রাণহানি ঘটেছে।
আইএমওর তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় আরও ৩৫ জন আহত হয়েছেন এবং একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। সংস্থাটি বলেছে, সংঘাত শুরুর পর ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর সিংহভাগকেই সরাসরি ‘আক্রমণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সংস্থাটির হিসাব বলছে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে গড়ে প্রতি ২ দশমিক ৬ দিনে একটি করে ঘটনা ঘটেছে। পৃথক ঘটনাগুলোর বিস্তারিত, নিহত বা আহতদের পরিচয় কিংবা সংশ্লিষ্ট জাহাজ ও বন্দরের তথ্য উৎসে উল্লেখ করা হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে ৬৮ ঘটনায় ২০ নাবিক ও বন্দরকর্মী নিহতের কথা জানিয়েছে আইএমও
ইয়েমেনের হুথিদের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুলওয়াহিদ আবু রাস ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের’ অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সানাভিত্তিক বার্তা সংস্থা সাবা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সামরিক পদক্ষেপ ব্যর্থ হওয়ার পর ওয়াশিংটন ইরানি জনগণের ওপর চাপ তৈরিতে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পথ বেছে নিয়েছে।
আবু রাসের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞা ইরানের জনগণকে লক্ষ্য করে আরোপ করা হয়েছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ। যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়ার পর হুথিদের পক্ষ থেকে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হলো।
সাবা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথি নেতা আঞ্চলিক দেশগুলোকে সতর্কও করেছেন। ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ বাস্তবায়নে কোনো দেশকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বললেন হুথি কর্মকর্তা
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট ব্যাসেন্টের নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হুমকিকে ‘ফাঁকা বুলি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। গালিবাফ বলেন, আমেরিকানরা জানে যে তাদের এ ধরনের হুমকিকে কেউ গুরুত্ব দেয় না এবং অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সংকুচিত করার অর্থনৈতিক সামর্থ্য যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
ইরানি স্পিকার আরও দাবি করেন, তেহরানের বাণিজ্যিক অংশীদারেরা ইতোমধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গণমাধ্যম ও সরাসরি বার্তার মাধ্যমে তারা জানিয়েছে যে মার্কিন অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য বা হুমকিকে তারা আমলে নিচ্ছে না। এসব মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থানের মুখে ইরানের নতি স্বীকার না করার ইঙ্গিত দেয়।
তবে চলমান পরিস্থিতি তেহরানকে কূটনৈতিক ও সামরিক—উভয় ধরনের সংকটের সামনে দাঁড় করিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ক্ষীণ আশা রয়েছে। একই সময়ে ইরানকে অব্যাহত সামরিক হুমকিও মোকাবিলা করতে হচ্ছে। আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ বা নতুন সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকি উড়িয়ে দিলেও কূটনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে ইরান
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরান তাঁর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। সোমবার ইসরাইলের চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই দাবি করেন। ঘটনাটিকে অবিশ্বাস্য বলে উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেন, ইরান তাঁর এক ছেলেকে নিশানা করেছিল।
তবে কখন বা কোথায় কথিত হত্যাচেষ্টাটি ঘটেছে, কিংবা তাঁর কোন ছেলেকে লক্ষ্য করা হয়েছিল, সে বিষয়ে নেতানিয়াহু কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রতিবেদনে আল–জাজিরা ও দ্য জেরুজালেম পোস্টকে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত জুলাইয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ নেতানিয়াহুর স্ত্রী ও তাঁর দুই ছেলেকে বাড়তি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁর বড় ছেলে ৩৫ বছর বয়সি ইয়ার নেতানিয়াহু ২০২৪ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে অবস্থান করছেন। ইয়ার নেতানিয়াহুর নিরাপত্তায় ইসরাইলি করদাতাদের অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
নেতানিয়াহুর দাবি, ইরান তাঁর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল
আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মদির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নিতে ঝিনাইদহে এসেছেন তাঁর ভাই ইমাল মোহাম্মদি। বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের সাড়ে চার মাস পর তিনি প্রয়োজনীয় ডিএনএ নথি, মন্ত্রণালয়ের চিঠি ও পরিচয়পত্র নিয়ে সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬ ঝিনাইদহে পৌঁছান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনাপত্তি দিলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না আসায় কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন ও হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আটকে আছে।
গত ১৩ এপ্রিল মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে পুলিশ ও বিজিবির যৌথ দল একটি অজ্ঞাত ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে। পিবিআই আঙুলের ছাপ বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজে মেলাতে না পারায় মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে ১৪ এপ্রিল ঝিনাইদহ পৌর গোরস্থানে দাফন করে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম। ওই দিন মহেশপুর থানায় অপমৃত্যুর মামলা নম্বর ২০ দায়ের হয়।
নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে স্বজনেরা মরদেহটি হাসমত মোহাম্মদির বলে শনাক্ত করেন। ইমাল বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হৃদরোগে মৃত্যুর কথা রয়েছে এবং পরিবার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী আফগানিস্তানে দাফন করতে চায়। জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক চিঠি পেলেই প্রশাসন মরদেহ উত্তোলন ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না মেলায় ঝিনাইদহে আফগান নাগরিকের মরদেহ হস্তান্তর আটকে
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পূর্বে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক পুনরুজ্জীবিত করতে তেহরানের সঙ্গে নতুন আলোচনা শুরু করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি জানান, তিনি ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন।
এক্সে দেওয়া বার্তায় নকভি বলেন, উচ্চপর্যায়ের ওই বৈঠকে ইরান-আমেরিকা সংঘাত, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং চলমান সংকট থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। একটি পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই সমাধানের উদ্দেশ্যে উভয় পক্ষের পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক পুনরায় কার্যকর করার বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
নকভির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রেসিডেন্ট তার সরকারের অবস্থান, মূল দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্বেগ খোলামেলাভাবে তুলে ধরেন। উত্থাপিত বিষয়গুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে আন্তরিক ও অর্থবহ মতবিনিময় হয়েছে। তিনি বলেন, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তার মধ্য দিয়ে বৈঠক শেষ হয়েছে। এই আলোচনা অব্যাহত থাকলে সংঘাত নিরসন ও অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পথ সুগম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিরসনে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক পুনরুজ্জীবনে পাকিস্তান-ইরান আলোচনা
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সাত বছর পর ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফরে আসছেন। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সফরকে সামনে রেখে ভারত ও চীন প্রস্তুতি শুরু করেছে; চীনা কর্মকর্তারা হোটেল চূড়ান্তকরণ এবং নিরাপত্তা প্রটোকল নিয়ে কাজ করছেন।
ব্রিকস সম্মেলন আয়োজক কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, চীনা কর্মকর্তারা হোটেল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শি সর্বশেষ ২০১৯ সালে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লি সফর করেছিলেন। সে সময় তাঁর সঙ্গে প্রায় ২০০ কর্মকর্তা ছিলেন, আর এবার সফরসঙ্গী হিসেবে প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা থাকবেন।
২০১৯ সালের সফরের পর ২০২০ সালের জুনে লাদাখে দুই দেশের সেনাদের ভয়াবহ সীমান্ত সংঘাতের জেরে ভারত-চীন সম্পর্ক তিক্ত হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্কে কিছুটা উষ্ণতা দেখা যাচ্ছে। গত বছর নরেন্দ্র মোদির বেইজিং সফরের পর কূটনৈতিক যোগাযোগ বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে শির সফরকে সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাত বছর পর ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফরে আসছেন শি জিনপিং
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে দাবি করেছেন, অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ইরান তার সামরিক বাহিনীর বড় একটি অংশের সদস্যদের নিয়মিত বেতন দিতে পারছে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী নজিরবিহীন মাত্রায় নির্যাতন চালাচ্ছে এবং বিক্ষোভে অংশ না নেওয়া ব্যক্তিরাও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি গুরুতর মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। এসব দাবি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে করেছেন। উৎসে ইরানি কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া বা অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য দেওয়া হয়নি।
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর এ যাবৎকালের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এর আগে সোমবার দেওয়া আরেক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান সম্পূর্ণ ধ্বংস বা পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
অর্থনৈতিক সংকটে ইরান বহু সেনাসদস্যকে নিয়মিত বেতন দিতে পারছে না, দাবি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৪৭ বছর পর সিরিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। সোমবার ট্রাম্প প্রশাসন সিদ্ধান্তটি কার্যকর করে। ১৯৭৯ সালে সিরিয়াকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক বিধিনিষেধের পর এ পদক্ষেপ সিরিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, সিরিয়ার নতুন সরকার আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ থেকে দূরে থাকার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপ বিবেচনায় রেখেই তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে গত জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ার ওপর থেকে ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
যুক্তরাষ্ট্র হায়াত তাহরির আল-শামের ওপর থাকা সন্ত্রাসী সংগঠনের তকমাও প্রত্যাহার করেছে। সংগঠনটি একসময় আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে ছিল। আল-শারা সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় এখন ইরান, উত্তর কোরিয়া ও কিউবা রয়েছে।
প্রায় ৪৭ বছর পর সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ২১৯ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।