সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ রুট দিয়ে যাওয়ার সময় বিস্ফোরণের পর দুটি তেলের ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ আগুন ধরে গেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে এবং জানিয়েছে, তাদের উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলো থেকে নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, জাহাজ কোম্পানিগুলোকে নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভুয়া তথ্যে কান না দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিপজ্জনক ঘোষিত নৌপথগুলো এড়িয়ে চলার সতর্কবার্তাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
আইআরজিসি আরও জানায়, যতদিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে, ততদিন হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে এবং এই অঞ্চল থেকে কোনো তেল, গ্যাস বা সার রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না।
হরমুজ প্রণালিতে বিস্ফোরণে দুই তেল ট্যাঙ্কারে আগুন, নিশ্চিত করেছে ইরানের আইআরজিসি
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ‘ওয়ার্ল্ডওয়াইড কশন’ বা বিশ্বব্যাপী সতর্কতা জারি করে এই নির্দেশনা প্রদান করে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে এবং যেকোনো সময় সংঘাত আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থাকা মার্কিন নাগরিকদের ওই অঞ্চল ভ্রমণ বা রুট হিসেবে ব্যবহার পুনর্বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে মার্কিন কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও আমেরিকানদের সঙ্গে সম্পর্কিত স্থানে হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এই সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগকে প্রতিফলিত করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নিতে পারে এবং বিদেশে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্বজুড়ে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের সেনাবাহিনী কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বড় সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছে। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘কামিকাজে’ বা আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল ক্যাম্প আরিফজানের প্রশাসনিক ভবন ও দিকনির্ণয় অ্যান্টেনা, ক্যাম্প আল-আদিরির হেলিকপ্টার পার্কিং এলাকা এবং আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটির সেনা আবাসন।
বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন বাহিনীর তৎপরতায় অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে এবং ইসলামিক রিপাবলিকের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। এর আগে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) আহমেদ আল-জাবের ও আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে মার্কিন স্থাপনায় হামলার দাবি করেছিল।
হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের তিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, আমেরিকান সেনা হত্যার জন্য ইরানকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে। চলমান যুদ্ধে জর্ডানসহ বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর সোমবার তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, যতবারই ইরান আমেরিকান সেনাদের হত্যা করবে, ততবারই তাদের কঠোর মূল্য দিতে হবে। তিনি জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল কেইনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ওয়াশিংটনের তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে জর্ডানে দুজন এবং কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবাতে মার্চে ছয়জন নিহত হন। প্রায় ৪৩০ জন আহত হয়েছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নিহত সেনাদের লাশ গ্রহণের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রাম্প ডেলাওয়্যারের ডোভার এয়ার ফোর্স বেসে যাবেন। রয়টার্স জানিয়েছে, জর্ডানে হামলার আগেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ও ট্যাঙ্কার মোতায়েন করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং হরমুজ প্রণালি সচল রাখার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জো কেন্ট উত্তেজনা কমাতে সৈন্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্কিন সেনা হত্যায় ইরানকে কঠোর মূল্য দিতে হবে বলে সতর্ক করলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র টানা দশম রাতের মতো ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে। সিরিক, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, চাবাহার ও কোনারাক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তিন মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দায়ী করে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর এই অভিযান শুরু হয়। নিহতদের মধ্যে দুজন জর্ডানে এবং একজন ইরাকে প্রাণ হারিয়েছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, দেশটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে লিপ্ত। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বাহরাইন, জর্ডান ও সিরিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ইরানের সক্ষমতা কমাতে তাদের অভিযান পরিচালিত হয়েছে, যেখানে সামরিক কমান্ড কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা হয়েছে।
ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানায়, তাবরিজ ও বন্দর ইমাম খোমেনিসহ কয়েকটি শহর লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইন জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এদিকে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা দিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে নতুন আশঙ্কা তৈরি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইরান সংঘাত তীব্র, হামলা ও পাল্টা হামলায় উত্তেজনা বৃদ্ধি
ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি সোমবার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের ‘অন্যায্য ও নিপীড়নমূলক অবরোধ’-এর জবাবে ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঘোষণাটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই আসে, যা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সৌদি আরব এখনো এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
গত দশ রাত ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাচ্ছে, আর জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এর ফলে গত মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক কার্যত ভেঙে পড়েছে। তবুও উভয় পক্ষ কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালালে বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের জন্য হুতিদের ওপর চাপ দিচ্ছিল তেহরান। এই প্রণালি বন্ধ হলে বিশ্বে তেলের সরবরাহ প্রায় সাত শতাংশ কমে যেতে পারে, আর চলমান উপসাগরীয় যুদ্ধের কারণে ইতিমধ্যে সরবরাহ প্রায় দশ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা হুতিদের
মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ভারত সরকার নাগরিকদের ইরান ভ্রমণ স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত না হওয়া পর্যন্ত ইরান সফরের পরিকল্পনা স্থগিত রাখা উচিত। বর্তমানে ইরানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের বাণিজ্যিকভাবে চালু থাকা ফ্লাইট ব্যবহার করে সাময়িকভাবে দেশটি ত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
এই পরামর্শ এমন সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র টানা নবম দিনের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার বিস্ফোরণের ঘটনায় অচল হয়ে পড়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এক মাস আগে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে এবং জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বৃদ্ধিতে ইরান ভ্রমণ স্থগিতের আহ্বান ভারতের
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করেছে। গত সপ্তাহে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার পর সোমবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই ঘোষণা প্রকাশিত হয়। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ভিত্তিতে অবরোধ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হচ্ছে।
সারি অভিযোগ করেন, ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর সৌদি আরবের অব্যাহত অবরোধ অগ্রহণযোগ্য এবং এটি আর সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, অবরোধের জবাব অবরোধ দিয়েই দেওয়া হবে এবং প্রতিটি উত্তেজনার জবাব আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। হুতিদের দাবি, সানা বিমানবন্দরে হামলার জন্য সৌদি আরব দায়ী, যার প্রতিশোধ হিসেবে তারা আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে।
ইয়াহিয়া সারি আরও জানান, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত এবং সৌদি আরবের যেকোনো বেপরোয়া পদক্ষেপের জবাব দেওয়া হবে। তিনি জনগণকে যুদ্ধক্ষেত্রে যোদ্ধাদের সহায়তায় আহ্বান জানান।
পাল্টা হামলার পর সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করল হুথিরা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জর্ডানে ইরানের হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছে। নিহতরা হলেন লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান (২৫), হাওয়াইয়ের ইওয়া বিচের বাসিন্দা, এবং ইসাবেলা গনজালেস (১৯), টেক্সাসের ক্যারলটনের বাসিন্দা। পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তারা মধ্যপ্রাচ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠী আইএসআইএল (আইএসআইএস)-এর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অভিযানে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় তারা নিহত হন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনা দেখায় যে, মার্কিন সেনারা সরাসরি ইরানে না থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মোতায়েন থাকায় তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় এ অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলো সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
জর্ডানে ইরানের হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের স্থলবাহিনী আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম, ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও উন্নত অপারেশনাল সক্ষমতা নিয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। বাহিনী দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ মোকাবিলায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
তাসনিম বার্তা সংস্থার উদ্ধৃত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর অব্যাহত সতর্কতা ও নিরবচ্ছিন্ন প্রস্তুতিই দেশের টেকসই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। আইআরজিসির স্থলবাহিনীর উপ-কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রুহোল্লাহ নুরি বলেন, ইরানি বাহিনী এমন অবস্থায় রয়েছে যে, শত্রুপক্ষের যেকোনো অনুপ্রবেশের চেষ্টা মুহূর্তের মধ্যেই প্রতিহত ও নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আইআরজিসির এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মার্কিন অনুপ্রবেশ প্রতিহত করতে তাৎক্ষণিক প্রস্তুতির দাবি আইআরজিসির
চলমান আঞ্চলিক সংঘাত ও উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বার্তা পেয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিস্তারিত না জানিয়ে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কিছু মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রস্তাব ও ধারণা ইরানের কাছে পৌঁছেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
বাঘাই সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি কোনো শত্রুতা পোষণ করে না, তবে তারা যেন তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালাতে না দেয়, সে বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত। তিনি আরও সতর্ক করেন, যতদিন এসব হামলা চলবে, ততদিন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও উপযুক্ত জবাব দিতে থাকবে।
এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, সংঘাত চললেও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনো সক্রিয় রয়েছে।
উত্তেজনার মধ্যেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা পেয়েছে ইরান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যেকোনো স্থল অভিযানে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত তেহরান। সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দক্ষিণ ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের যেকোনো প্রচেষ্টার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
বাঘাই আরও জানান, ইরানের নেতৃত্ব এমন ব্যক্তিদের হাতে রয়েছে যারা মার্কিন বাহিনীর যেকোনো স্থল অভিযানে প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত। তিনি বেসামরিক অবকাঠামো, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং বলেন, কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক যুক্তিই এসব হামলাকে ন্যায্যতা দিতে পারে না।
মুখপাত্রের বক্তব্যে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, তারা বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অবস্থান বজায় রাখবে।
খার্গ দ্বীপে মার্কিন অভিযান হলে কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিল ইরান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক অবকাঠামো, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক যুক্তিই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও অবকাঠামো ধ্বংসকে ন্যায্যতা দিতে পারে না।
বাঘাই ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন হামলাকে ইচ্ছাকৃত ও জঘন্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইরান একটি ঐক্যবদ্ধ দেশ, যেখানে এক অঞ্চলের ক্ষতি পুরো জাতির ক্ষতি হিসেবে প্রতিফলিত হয়। হরমোজগান, মাজানদারান বা চাবাহারের উদাহরণ টেনে তিনি বোঝান, দেশের যেকোনো অংশে আঘাত লাগলে তা পুরো ইরানের জন্যই বেদনার।
মেহের বার্তা সংস্থার উদ্ধৃতি অনুযায়ী, ইরান এই হামলাগুলোকে মানবিক নীতির পরিপন্থী হিসেবে দেখছে এবং বেসামরিক স্থাপনায় সামরিক আক্রমণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখছে।
বেসামরিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানাল ইরান
তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুন মাসে দ্বীপটির আশপাশের জলসীমায় চীনা জাহাজের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সংস্থার তথ্যমতে, গত মাসে তাইওয়ান ও আশপাশের দ্বীপগুলোর জলসীমায় ২৬৩টি চীনা জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে কোস্ট গার্ড, উদ্ধারকারী ও গবেষণা জাহাজ রয়েছে। মে মাসে এই সংখ্যা ছিল ২০০টি এবং ২০২৫ সালের জুনে ছিল ১৭১টি। এই হিসাবের মধ্যে যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্ত নয়। কর্মকর্তারা এই বৃদ্ধি ‘গ্রে জোন হয়রানি’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
একজন কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা জানান, সরকারি জাহাজের ধরন ও সংখ্যায় উভয় দিকেই বৃদ্ধি দেখা গেছে। চীন সম্প্রতি তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় জলসীমায় ‘আইন প্রয়োগকারী’ টহল শুরু করেছে, যা তাইপে ‘উসকানিমূলক’ ও ‘সম্প্রসারণবাদের ছদ্মবেশ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই অভিযানে চীনা কোস্ট গার্ড প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নাবিকদের তথ্য ও গন্তব্য জানতে রেডিও বার্তা পাঠায়।
তাইওয়ান সম্ভাব্য অবরোধ বা কোয়ারেন্টিন পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে লাইভ মহড়া পরিচালনার পরিকল্পনা করছে, তবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
তাইওয়ানের জলসীমায় চীনা জাহাজের সংখ্যা বেড়েছে, উত্তেজনা বাড়ছে
ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের তাবরিজ শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের এক হামলায় একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। প্রদেশের সংকট ব্যবস্থাপনা দপ্তরের মহাপরিচালক মজিদ ফারশি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে জানান, সোমবার ভোরে উত্তর-পশ্চিম ইরানের একটি সামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। হামলার পর উদ্ধার, নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণ ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে।
প্রায় ১০ দিন আগে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর এটি তাবরিজে প্রথম হামলা। এর আগে হামলাগুলো মূলত ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে চালানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে, আর জবাবে ইরানও বিভিন্ন আঞ্চলিক দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।
এই ধারাবাহিক হামলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা তৈরি করছে।
ইরানের তাবরিজে মার্কিন হামলায় একজন নিহত, কয়েকজন আহত
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১০৬ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।