কেনিয়ার শিক্ষাব্যবস্থায় ভাষা ব্যবহারের প্রশ্নে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২০২৩ সালে ফ্যাশন ডিজাইন পড়তে টেকনিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়া লোনা চেপকেমোই মাতৃভাষা কালেনজিনে পাঠদান পেয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান। তার অভিজ্ঞতা ইউনেস্কোর গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং রিপোর্টে উল্লিখিত বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রতিফলন, যেখানে বলা হয়েছে বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী এমন ভাষায় পড়াশোনা করে যা তারা পুরোপুরি বোঝে না।
কেনিয়ার নীতিমালা অনুযায়ী তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মাতৃভাষায় পাঠদানের বিধান থাকলেও পরে ইংরেজি প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে। বাস্তবে অঞ্চল ও শিক্ষকের দক্ষতার ওপর নির্ভর করে ভাষার ব্যবহার পরিবর্তিত হয়। আফ্রিকার বহু দেশে এখনো ঔপনিবেশিক আমলের ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ ও পর্তুগিজ ভাষার প্রভাব বিদ্যমান। ইউনেস্কো বলছে, মাতৃভাষা-ভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা সাক্ষরতা ও শিক্ষার মানোন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা স্থানীয় ভাষায় শিক্ষার সুফল স্বীকার করলেও উচ্চশিক্ষা ও বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রে ইংরেজির প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। এই ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন কেনিয়ার শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান চ্যালেঞ্জ।
কেনিয়ার শিক্ষায় মাতৃভাষা ও ইংরেজির ভারসাম্য রক্ষায় টানাপোড়েন
কেনিয়ার জাতীয় পুলিশ পরিষেবা শনিবার জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ভারি বৃষ্টি ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০৮ জনে দাঁড়িয়েছে। ৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া আকস্মিক বন্যায় দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, পানির তোড়ে বহু গাড়ি ভেসে গেছে, বিমান চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে এবং বৈদ্যুতিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার কারণে ২ হাজার ৭০০-এর বেশি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
যদিও কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাতের তীব্রতা কমেছে, পুলিশ সতর্ক করেছে যে নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা ও জলাবদ্ধতার কারণে নতুন করে বন্যার ঝুঁকি রয়ে গেছে। ৬ ও ৭ মার্চ নাইরোবিতে রাতভর প্রবল বৃষ্টিপাতে অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয় এবং পূর্ব আফ্রিকার বৃহত্তম বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়। এরপর থেকে মৃত্যুর সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতি ক্রমেই বেড়েছে।
আবহাওয়া ও পরিবেশবিজ্ঞানীরা বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে পূর্ব আফ্রিকায় বন্যা ও খরা আরও তীব্র হচ্ছে। ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ অঞ্চলে বিধ্বংসী বৃষ্টির ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়েছে।
কেনিয়ায় বন্যায় ১০৮ জনের মৃত্যু, ভারি বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
কেনিয়ায় টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যায় চলতি মার্চ মাসে অন্তত ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। রবিবার প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, রাজধানী নাইরোবিতে সবচেয়ে বেশি ৩৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। দেশজুড়ে হাজারো পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং অবকাঠামো ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কিসুমু কাউন্টিতে প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর কৃষিজমি ডুবে গেছে, ন্যাকাচ এলাকায় ৩ সহস্রাধিক পরিবার ঘরছাড়া হয়েছে এবং আটটি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনেককে নৌকায় করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কিছু এলাকায় পানি ছাদের সমান উচ্চতায় পৌঁছেছে। নাইরোবি বাঁধের নিচের বস্তি এলাকাগুলোতে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যদিও বাঁধটি এখনও অক্ষত রয়েছে। পুলিশ জানায়, মোট ২ হাজার ৬৯০টি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিধসে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু ঘরবাড়ি চাপা পড়েছে। নাইরোবির গভর্নর জনসন সাকাজার পদত্যাগের দাবিও উঠেছে।
আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পূর্ব আফ্রিকায় অতিবৃষ্টি ও খরার প্রকোপ বেড়েছে।
কেনিয়ায় প্রবল বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৮১ জনের প্রাণহানি
কেনিয়ায় টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬২ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এক সপ্তাহ আগে এই সংখ্যা ছিল ৪২। কেনিয়া রেড ক্রস জানিয়েছে, রাজধানী নাইরোবিতে পানির স্তর দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় একটি মিনিবাস থেকে ১১ জনকে এবং একটি প্লাবিত বাড়ি থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।
গত সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিতে নদীর তীর ভেঙে ঘরবাড়ি, সড়ক, বিদ্যুৎ ও পানির অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নাইরোবিতে একটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ করা হয়েছে এবং কিছু স্কুলেও পানি ঢুকে পড়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে যে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে গেছেন।
রাষ্ট্রপতি উইলিয়াম রুটো জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পাঠানো হচ্ছে এবং শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কার করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও অনিয়ন্ত্রিত নগর উন্নয়ন এই দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
কেনিয়ায় বন্যায় মৃত ৬২, নাইরোবিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির জোমো কেনিয়াত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক চীনা নাগরিক ঝাং কেকুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২ হাজারের বেশি রানি পিঁপড়া পাচারের চেষ্টা করছিলেন। এই পিঁপড়াগুলো আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ চুক্তির অধীনে সুরক্ষিত এবং বাণিজ্য কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তার লাগেজে বিশেষ টেস্টটিউব ও টিস্যুপেপার রোলে প্যাক করা পিঁপড়াগুলো খুঁজে পান, যা চীনে পাঠানো হচ্ছিল।
রাষ্ট্রীয় প্রসিকিউটর অ্যালেন মুলামা আদালতে জানান, ১ হাজার ৯৪৮টি পিঁপড়া টেস্টটিউবে এবং আরও ৩০০টি টিস্যুর রোলে লুকানো ছিল। তদন্তকারীরা তার ইলেকট্রনিক ডিভাইস ফরেনসিকভাবে পরীক্ষা করার অনুমতি চেয়েছেন। কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস জানিয়েছে, অন্যান্য শহরেও তদন্ত চলছে এবং আরও গ্রেপ্তার হতে পারে।
কেডাব্লিউএস আগেই ইউরোপ ও এশিয়ায় এই গার্ডেন পিঁপড়ার চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্ক করেছিল। গত বছর একই ধরনের মামলায় চারজনকে কারাদণ্ড বা জরিমানা করা হয়েছিল, যা ছিল কেনিয়ার প্রথম এমন রায়।
কেনিয়ায় ২ হাজারের বেশি রানি পিঁপড়া পাচারের চেষ্টায় চীনা নাগরিক আটক
কেনিয়ার উপকূলে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় ১২ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (কেসিএএ) জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে মাসাইমারা ন্যাশনাল পার্কের কাছের কিচওয়া তেম্বো এয়ারস্ট্রিপে অবতরণের আগে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র দিয়ানি থেকে ছেড়ে আসার পর নিয়ন্ত্রণ হারায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারি উদ্ধারকর্মী ও তদন্ত দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান শুরু করেছে। কেসিএএ বলেছে, উড়োজাহাজে মোট ১২ জন আরোহী ছিলেন, তবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। সম্প্রতি আগস্ট মাসে রাজধানী নাইরোবির কাছে অলাভজনক সংস্থা অ্যামরেফের একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন নিহত ও দুজন আহত হন।
কেনিয়ায় উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ১২ জন নিহতের আশঙ্কা। ছবি: এক্স থেকে সংগৃহীত
গত বছরের করবৃদ্ধি বিরোধী আন্দোলনের বর্ষপূর্তিতে কেনিয়াজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়। নাইরোবিসহ বিভিন্ন শহরে অন্তত ১৬ জন নিহত ও প্রায় ৪০০ জন আহত হন, যাদের বেশিরভাগই পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান। ব্যারিকেড উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীরা পতাকা ও প্ল্যাকার্ড হাতে প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর পদত্যাগ দাবি করেন। পুলিশ টিয়ারগ্যাস, জলকামান ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। প্রতিবাদকারীরা পাল্টা পাথর ও বোতল ছোড়ে, এমনকি কিছু শহরে আদালত ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বহুজন ভর্তি রয়েছেন।
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১১৯ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।