আরটিএল ইনফো, আইপিএসওএস ও লি সয়ের পরিচালিত এক যৌথ জরিপে দেখা গেছে, বেলজিয়ামের ৬৭ শতাংশ নাগরিক ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন, যেখানে জব্দ করা রুশ সম্পদ ইউক্রেনকে ঋণ দেওয়ার জন্য ব্যবহারের প্রস্তাব রয়েছে। সোমবার প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডে ওয়েভারের অবস্থানকে সমর্থন করে অধিকাংশ নাগরিক সরকারকে এই সম্পদ মুক্ত না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধিতার মূল কারণ বেলজিয়ামের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ। বিতর্কিত সম্পদের বড় অংশই ব্রাসেলসভিত্তিক ইউরোক্লিয়ারে সংরক্ষিত, যা ইইউ-এর গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক কেন্দ্র। জরিপে মাত্র ২২ শতাংশ নাগরিক পরিকল্পনার পক্ষে মত দিয়েছেন, আর ১১ শতাংশ বলেছেন তারা নিরপেক্ষ। রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পরিকল্পনাকে অবৈধ বলে উল্লেখ করেছে এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ইইউ সম্প্রতি রুশ সম্পদ অনির্দিষ্টকালের জন্য জব্দ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া ব্রাসেলস শীর্ষ সম্মেলনে এই অর্থ ইউক্রেনকে বরাদ্দ দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
৬৭% বেলজিয়ান ইউক্রেনকে ঋণ দিতে রুশ সম্পদ ব্যবহারের ইইউ পরিকল্পনার বিরোধী
বেলজিয়ামের প্রতিরক্ষামন্ত্রী থিও ফ্রাঙ্কেন সতর্ক করে বলেন, যদি রাশিয়া ব্রাসেলসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় — যা ন্যাটোর কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত — জোট তত্ক্ষণাত প্রতিক্রিয়া জানাবে; তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “যদি মস্কো ব্রাসেলসের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, আমরা মস্কোকে মানচিত্র থেকে মুছে দেব।” ফ্লেমিশ দৈনিক ডি মর্গেনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে (আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রতিবেদন অনুযায়ী) ফ্রাঙ্কেন ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিকে নিয়ে থাকা সংশয় দূর করে বলেন যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে ইউরোপে প্রায় ৬০০টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হবে, যা রুশ বাহিনীর কাছে সনাক্তকরণ কঠিন করবে বলে তিনি দাবি করেন। ফ্রাঙ্কেন রাশিয়ার সামরিক-শিল্প সামর্থ্যকে হালকাভাবে না নেওয়ার সতর্কতাও দিয়েছেন এবং বলেছেন যে রাশিয়া গোলাবারুদের উৎপাদন বাড়িয়েছে। ভবিষ্যতে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য কৌশলগত নৈকট্য পশ্চিমা বিশ্বের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে, তাই ঐক্য ও শক্তিশালী ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য বর্তমান উত্তেজনা, ন্যাটোর লঙ্ঘন প্রতিরোধ নীতি ও ইউরোপে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।
বেলজিয়ামের প্রতিরক্ষামন্ত্রী থিও ফ্রাঙ্কেন। ছবি: সংগৃহীত
বেলজিয়ামের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভোট ঘোষণা করেছেন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে বেলজিয়াম। একইসঙ্গে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ১২টি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে বসতি থেকে আমদানি নিষিদ্ধ ও ইসরাইলি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারি ক্রয়নীতি পর্যালোচনা। গাজায় মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাও স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৪৭টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বেলজিয়াম সম্প্রতি গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দুই ইসরাইলি সেনাকে আইসিসিতে পাঠিয়েছে।
ইউক্রেনের ইস্যুতে রাশিয়ার প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনের তীব্র সমালোচনা করেছেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার। এমনকি ট্রাম্পের আচরণ একপাক্ষিক বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ওয়েভার বলেন, ট্রাম্প যা করছেন তা পুরোপুরি ইউরোপের বিপরীতে। সে আসলেই একটা গুন্ডা। ইউক্রেনের প্রতি বেলজিয়ামের অকুণ্ঠ সমর্থনের কথ জানিয়েছেন ওয়েভার। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কও বজায় রাখবেন । ওয়েভার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর ঐতিহাসিক গুরত্বপূর্ণ মিত্র। একজন প্রেসিডেন্টের জন্য সেটি পরিবর্তন হবে না।
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৮৩ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।