২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্টে ১৪৭ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১২৭তম হয়েছে এবং টানা নবমবার বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে ফিনল্যান্ড। ফিনল্যান্ডের পর রয়েছে আইসল্যান্ড, ডেনমার্ক, কোস্টারিকা, সুইডেন ও নরওয়ে। শীর্ষ দশে নেদারল্যান্ডস, ইসরাইল, লুক্সেমবার্গ ও সুইজারল্যান্ডও রয়েছে।
প্রতিবেদনটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন বা মাথাপিছু আয় বাড়লেই জীবনসন্তুষ্টি বাড়ে কি না, সেই প্রশ্নকে সামনে আনে। নিবন্ধে উল্লেখিত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৫ বছরের গবেষণা বলছে, টাকা, খ্যাতি ও ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে মানুষকে সুখী করে না। বরং সুন্দর ও গভীর সামাজিক সম্পর্ক মানুষকে সবচেয়ে বেশি সুখী ও সুস্থ রাখে।
নিবন্ধ অনুযায়ী, জাতিসংঘের সুখী দেশ নির্ধারণের ছয়টি মানদণ্ডে সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়ায় ফিনল্যান্ড বারবার শীর্ষে আছে। রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা, শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা এবং ‘হাউজিং ফার্স্ট’ নীতি নাগরিকদের অনিশ্চয়তা কমায়। স্বচ্ছ শাসন, কম দুর্নীতি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা দেশটির শক্তি। অতিরিক্ত কাজ নিরুৎসাহিত করা হয়; সাধারণত সপ্তাহে ৩৫ থেকে ৪০ ঘণ্টা কাজ এবং চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের বেতনসহ ছুটি দেওয়া হয়।
নবমবার সুখী দেশের শীর্ষে ফিনল্যান্ড, ১৪৭ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৭তম
ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেটেরি অর্পো গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে বাস্তব পদক্ষেপ নয়, বরং আলোচনার কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শুক্রবার ফিনল্যান্ডের পাবলিক ব্রডকাস্টার ইলে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সতর্ক করে বলেন, গ্রিনল্যান্ডে কোনো ধরনের সামরিক দখল পরিস্থিতিকে বিপর্যয়কর করে তুলবে, বিশেষ করে যদি কোনো ন্যাটো দেশ অন্য ন্যাটো দেশের ভূখণ্ডে হস্তক্ষেপ করে।
অর্পো বলেন, ন্যাটো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি মূল্যবান জোট এবং তিনি বিশ্বাস করেন না যে ওয়াশিংটন গ্রিনল্যান্ড দখলের মতো চরম পদক্ষেপ নেবে। তিনি স্বীকার করেন, ফিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অনেকাংশেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল, তবে ফিনল্যান্ড বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থা, জাতিসংঘের ভূমিকা ও আন্তর্জাতিক আইনকে সমর্থন করে।
তার মতে, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার গ্রিনল্যান্ডবাসী ও ডেনিশ জনগণের হাতে থাকা উচিত। এই মন্তব্য আসে ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করার পর।
গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ বিপর্যয়কর হবে বলে সতর্ক করলেন ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী
ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেত্তেরি অরপো এশিয়ার কয়েকটি দেশের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন, দেশটির পার্লামেন্টের কট্টর ডানপন্থী সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্ণবাদী ছবি পোস্টের ঘটনায়। ফিনিশ গণমাধ্যমে বিষয়টি ‘বাঁকা চোখ’ কেলেঙ্কারি নামে পরিচিতি পেয়েছে। অরপো, যিনি ফিনস পার্টিসহ চারদলীয় জোট সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, বলেছেন—এ ধরনের আচরণ ফিনল্যান্ডের সমতা ও অন্তর্ভুক্তির মূল্যবোধের প্রতিফলন নয়।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় চলতি মাসের শুরুতে, যখন মিস ফিনল্যান্ড খেতাবধারী এক নারীর বন্ধুর পোস্টে তাকে চোখ টেনে ‘বাঁকা চোখ’ ভঙ্গি করতে দেখা যায়। পরে ফিনস পার্টির দুই সংসদ সদস্য ও একজন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য একই ধরনের ছবি পোস্ট করেন। ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ফিনএয়ার জানিয়েছে, ঘটনাটি এশীয় বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
এর আগে ২০২৩ সালেও ফিনস পার্টির কয়েকজন মন্ত্রীর বর্ণবাদী মন্তব্যের কারণে অরপোর সরকার অনাস্থা ভোটের মুখে পড়েছিল। নতুন এই বিতর্ক ফিনল্যান্ডের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও জোট সরকারের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বর্ণবাদী পোস্টের ঘটনায় এশীয় দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চাইলেন ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী
ফিনল্যান্ড ২০২৬ সালের মধ্যে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও মিয়ানমারে তাদের দূতাবাস বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈদেশিক মিশনের নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং সীমিত বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) ফিনল্যান্ড সরকার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, রাষ্ট্রপতির ডিক্রির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। মন্ত্রণালয় বলেছে, কূটনৈতিক সম্পদগুলোকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে কেন্দ্রীভূত করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও মিয়ানমারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এই পদক্ষেপ ফিনল্যান্ডের বৈদেশিক নীতি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কৌশলগত পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের মধ্যে তিন দেশে দূতাবাস বন্ধ করবে ফিনল্যান্ড
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে হোয়াইট হাউসে হওয়া উত্তপ্ত বিতর্ক নিয়ে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্স স্টাব বলেছেন, এই বিবাদে জয়ী রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। স্টাবের মতে, আন্তর্জাতিক নেতারা ইতোমধ্যেই সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর আরো গঠনমূলক পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনকালে ন্যাটোতে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন, ‘আরও লেনদেনমূলক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে ন্যাটো এখনো শক্তিশালী এবং এখনও জীবিত বলে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন তিনি।
ট্রাম্প-জেলেনস্কি বিবাদের ‘জয়ী’ পুতিন: ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৭১ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।