আইরিশ কার্টুনিস্ট হ্যারি বার্টন ২০২৬ সালের ইউরোভিশন গানের প্রতিযোগিতায় ইসরাইলের অংশগ্রহণের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, গাজায় চলমান গণহত্যার প্রেক্ষাপটে ইসরাইলকে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দেওয়া একটি গুরুতর নৈতিক ভুল। দ্য আইরিশ এক্সামিনারে প্রকাশিত তার কার্টুনে দেখা যায়, এক ইসরায়েলি গায়িকা আলোর নিচে গান গাইছেন, কিন্তু চারপাশে রক্তের দাগ ও গাজার ধ্বংসস্তূপ—যা যুদ্ধ ও বিনোদনের বৈপরীত্য তুলে ধরে।
বার্টন যুক্তি দেন, ইউক্রেনে আগ্রাসনের কারণে রাশিয়াকে যেমন ক্রীড়া ইভেন্ট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তেমনি ইসরাইলের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। ইউরোপীয় সম্প্রচার ইউনিয়ন (ইবিইউ) ৪ ডিসেম্বর ইসরাইলকে ইউরোভিশনে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। ইতোমধ্যে স্পেন, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড, স্লোভেনিয়া ও আইসল্যান্ড প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।
গাজায় ইসরাইলি অভিযানে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরও দেশ ইউরোভিশন বয়কট করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজা হামলার প্রতিবাদে ইউরোভিশন থেকে ইসরাইলকে বাদ দেওয়ার দাবি আইরিশ কার্টুনিস্টের
দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আয়ারল্যান্ড সরকার অভিবাসন ও আশ্রয়নীতিতে বড় ধরনের সংস্কার আনছে। বিচারমন্ত্রী জিম ও’কালাহান জানান, গত বছর দেশটির জনসংখ্যা ১.৬ শতাংশ বেড়ে ২০২৪ সালের এপ্রিলে ৫৪ লাখ ৬০ হাজারে পৌঁছেছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় বৃদ্ধির সাত গুণ। ২০২২ সালের পর থেকে নিট অভিবাসন প্রায় দ্বিগুণ হয়ে বছরে গড়ে ৭২ হাজারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালে আশ্রয়ের আবেদন রেকর্ড ১৮ হাজার ৬৫১ জনে পৌঁছেছে। নতুন নিয়মে চাকরিজীবী আশ্রয়প্রার্থীদের সাপ্তাহিক আয়ের ১০ থেকে ৪০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় আবাসন ব্যয়ে দিতে হবে। পরিবার পুনর্মিলনের জন্য বার্ষিক আয়সীমা ৪৪ হাজার ইউরো নির্ধারণ করা হয়েছে। নাগরিকত্ব পেতে এখন তিন বছরের বদলে পাঁচ বছর বসবাস করতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি ভাতা গ্রহণকারীরা অযোগ্য হবেন। নিরাপত্তা হুমকি বা গুরুতর অপরাধে দোষী হলে আশ্রয় মর্যাদা বাতিলের ক্ষমতাও সরকার পাবে। শিক্ষার্থী ভিসায়ও কড়াকড়ি আনার চিন্তা চলছে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও আশ্রয়প্রার্থীর চাপ সামলাতে আয়ারল্যান্ডে কঠোর অভিবাসন নীতি প্রণয়ন
বামপন্থি প্রার্থী ক্যাথেরিন কনোলি আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় অর্জন করেছেন। মোট ভোটের ৬৩ শতাংশ পেয়ে তিনি ডানপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী হেদার হাম্পফ্রিসকে পরাজিত করেছেন, যিনি পেয়েছেন ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। শনিবার সন্ধ্যায় ৪৩টি নির্বাচনী এলাকার ভোট গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে কনোলিকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বিজয়ী ভাষণে তিনি বলেন, তিনি এমন একজন প্রেসিডেন্ট হবেন যিনি “শুনবেন, প্রতিফলিত করবেন এবং প্রয়োজনে কথা বলবেন।” তিনি আহ্বান জানান—“সবার মূল্যায়ন করে এমন একটি নতুন প্রজাতন্ত্র গড়তে।” পরাজয় স্বীকার করে হাম্পফ্রিস বলেন, “ক্যাথেরিন সবার জন্য প্রেসিডেন্ট হবেন, আমারও।” ৬৮ বছর বয়সী কনোলি তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করেছেন তার সামাজিক ন্যায়ের প্রতিশ্রুতি ও গাজা ইস্যুতে ইসরাইলবিরোধী অবস্থানের মাধ্যমে। বামপন্থি দলগুলোর জোটের সমর্থনে এই বিজয় আয়ারল্যান্ডের রাজনীতিতে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ক্যাথেরিন কনোলি। ছবি: সংগৃহীত
একজন দশ বছর বয়সী শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ঘিরে আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে শুরু হওয়া প্রতিবাদ দ্রুতই সহিংসতায় রূপ নেয়। আলজাজিরা-র প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার সকাল থেকে হাজারো বিক্ষোভকারী শহরের কেন্দ্রস্থলে জড়ো হয়ে মিছিল করে। তাদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা ও “Irish Lives Matter” ও “Get Them Out” লেখা পোস্টার। প্রতিবাদের একপর্যায়ে তারা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় এবং বোতল ও পটকা নিক্ষেপ করে। ক্ষুব্ধ জনতা একাধিক পুলিশ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়, ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অচল হয়ে পড়ে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পিপার স্প্রে ব্যবহার করে ও কয়েকজনকে আটক করে। সরকার সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং ঘটনাটির পূর্ণ তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে।
অভিবাসন বিরোধী বিক্ষোভ-সহিংসতায় উত্তাল আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিন
উত্তর আয়ারল্যান্ডের বালিমিনা শহর দুই দিন ধরে কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে সহিংস বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়েছে। মাস্কধারী বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে বাড়ি ও গাড়িতে আগুন দিয়েছে এবং পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করেছে। দুই দিনে ৩০-এর বেশি পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছে। হামলার সাথে জড়িত ঘৃণা-প্রসূত অপরাধের তদন্ত চলছে এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই সহিংসতা আশেপাশের শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে, যা ১৯৯৮ সালের শান্তিচুক্তি সত্ত্বেও অব্যাহত উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়।
আয়ারল্যান্ডের প্রধান বিরোধী দল সিন ফেইন ঘোষণা করেছে, তারা এই বছরের সেন্ট প্যাট্রিকস ডে উপলক্ষে হোয়াইট হাউজের অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না। গাজার ব্যাপারে ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে সিন ফেইন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিন ফেইনের নেতা মেরি লু ম্যাকডোনাল্ড ট্রাম্পের ফিলিস্তিনিদের গণহারে উচ্ছেদ ও ভূমির স্থায়ী দখলের আহ্বানে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সিন ফেইন গাজার সংকট সমাধানে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও ন্যায্য দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে।
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৬০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।