যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (ডিভি) ইস্যু প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক জরুরি ঘোষণায় জানিয়েছে, জাতীয় ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ডিভি লটারির আওতায় কোনো নতুন ভিসা ইস্যু করা হবে না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সম্প্রতি ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে গুলিবর্ষণ এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একজন অধ্যাপক হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তি ডিভি প্রোগ্রামের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। এই ঘটনার পর ডিভি প্রোগ্রামের স্ক্রিনিং ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া পুনরায় পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যারা ইতিমধ্যে আবেদন করেছেন বা ইন্টারভিউয়ের তারিখ পেয়েছেন, তারা নির্ধারিত সময়ে ইন্টারভিউ দিতে পারবেন। তবে সফল হলেও নতুন নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কোনো ভিসা ইস্যু হবে না। বিদ্যমান বৈধ ভিসাগুলো বহাল থাকবে এবং ডিভি-২০২৭ লটারির বিষয়ে কোনো নতুন আপডেট নেই। প্রক্রিয়াটি পুনর্গঠনের পর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হতে পারে।
নিরাপত্তা যাচাই পুনর্বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রে ডিভি ভিসা ইস্যু স্থগিত
গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করকে নিউইয়র্কে পৌঁছাতে হয় প্রায় ৬৭০ কিলোমিটার সড়কপথে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সে সময় ফেডারেল সরকারের শাটডাউনের কারণে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এই সড়কযাত্রার ব্যবস্থা করেন। মার্কিন ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিস (ডিএসএস) প্রস্তুত করা প্রতিবেদনটি ৮ জানুয়ারি প্রকাশ করা হয়।
কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তের লিউইস্টন-কুইনস্টন ব্রিজ থেকে ম্যানহাটান পর্যন্ত প্রায় সাত ঘণ্টার এই যাত্রায় অংশ নেন ডিএসএসের ২৭ জন এজেন্ট। তারা ডিগনিটারি প্রোটেকশন ডিভিশন এবং নিউইয়র্ক ও বাফেলো ফিল্ড অফিস থেকে এসেছিলেন। স্থানীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে কিছু এজেন্ট আলাদাভাবে গাড়ি চালিয়ে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছান। শীতকালীন প্রতিকূল আবহাওয়া ও সীমিত দৃশ্যমানতার মধ্যেও গাড়িবহর যাত্রা অব্যাহত রাখে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি শাটডাউন সত্ত্বেও এই নিরাপত্তা অভিযান জাতিসংঘে জয়শঙ্করের নির্ধারিত বৈঠক পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন করতে সহায়তা করেছে।
শাটডাউনে বিমানের বদলে ৬৭০ কিমি সড়কপথে নিউইয়র্কে যান জয়শঙ্কর
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়া ও চীন যাতে গ্রিনল্যান্ড দখল করতে না পারে, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওই অঞ্চলের মালিকানা প্রয়োজন। ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দেশগুলোর মালিকানা থাকতে হবে, ইজারা নয়। ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করবে ‘সহজ উপায়ে বা কঠিন উপায়ে’। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রশাসন ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি কেনার কথা বিবেচনা করছে, যদিও জোরপূর্বক যুক্ত করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয় এবং কোনো সামরিক পদক্ষেপ ন্যাটোর সমাপ্তি ঘটাতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান দেশগুলো ও কানাডা ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছে, সম্পর্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে কেবল ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড। তারা জাতিসংঘ সনদের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত অখণ্ডতার নীতিগুলো রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অবহেলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে গ্রিনল্যান্ডবাসীরাই। আগামী সপ্তাহে ডেনমার্কের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
রাশিয়া-চীন ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা চায় যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩ জানুয়ারির ভেনেজুয়েলায় হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। ওই হামলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে ওয়াশিংটন দেশটির তেলশিল্পের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় এক বছরেরও বেশি সময় থাকতে পারে এবং তিনিই মূলত দেশটির প্রশাসন পরিচালনা করছেন। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের প্রশ্নে তিনি বলেন, তার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই এবং তিনি নিজের নৈতিকতা ও বিবেচনা অনুযায়ী কাজ করেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ডেনমার্কের অধীন গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রচারণার কথাও উল্লেখ করেন, যা ন্যাটো জোটের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে স্বীকার করেন। তাইওয়ান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলা ও তাইওয়ানের পরিস্থিতি ভিন্ন, কারণ ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রকৃত হুমকি। রাশিয়ার সঙ্গে পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি বিষয়ে তিনি জানান, ফেব্রুয়ারিতে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তা উত্তীর্ণ হতে দেবেন এবং পরে আরও ভালো চুক্তি করবেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, দুই ঘণ্টার সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অকপট ও শান্তভাবে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমস সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা, গ্রিনল্যান্ড ও পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা
দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ডেনমার্কের অধীন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের ঘোষণা দিয়েছেন। ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় মাদক সন্ত্রাসের অভিযোগে সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার একদিন পর ৪ জানুয়ারি তিনি এই ঘোষণা দেন। ট্রাম্প বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। তার এই পদক্ষেপ ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ স্টিফেন মিলার জানান, প্রশাসনের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট—গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়া উচিত। আলজাজিরাকে দেওয়া বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ন্যাটোর কার্যক্রমকে কার্যত শেষ করে দিতে পারে এবং রাশিয়াকে ইউক্রেনে আরও আগ্রাসী করে তুলতে পারে। ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডারিকসন সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ন্যাটো দেশ আক্রমণ করে, তাহলে জোট কার্যত ভেঙে পড়বে। আটলান্টিক কাউন্সিল ও শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরাও একমত যে, এতে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি অর্থহীন হয়ে পড়বে।
তবে ইউরোপীয় নেতারা প্যারিসে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে বৈঠক করলেও ভেনেজুয়েলা বা গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।
গ্রিনল্যান্ড দখল পরিকল্পনায় ইউরোপে উদ্বেগ, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা
ডেনমার্কের অধীন উত্তর মেরু অঞ্চলের ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে এই হুমকি দেওয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আগামী সপ্তাহে ডেনিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানান। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই হুমকি ন্যাটো দেশগুলোর মধ্যে তীব্র সংকট সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রুবিওর সঙ্গে জরুরি বৈঠকের অনুরোধ করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নে ট্রাম্প ন্যাটো জোটে বিভক্তির ঝুঁকি নিয়ে সামরিক পদক্ষেপ নেবেন কি না, সে বিষয়ে রুবিও কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি শুধু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রেসিডেন্ট জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় সামরিক বিকল্প রাখেন। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল ব্যারোট জানান, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড আক্রমণ করলে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা নিয়ে ফ্রান্স মিত্রদের সঙ্গে কাজ করছে।
রুবিও আরও বলেন, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদ থেকেই গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের কথা বলে আসছেন, যদিও তিনিই প্রথম প্রেসিডেন্ট নন যিনি এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন।
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সামরিক হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের, ডেনিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে রুবিও
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার দেশের প্রধান তেল কোম্পানিগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। বৈঠকের উদ্দেশ্য হলো ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোম্পানিগুলোর সমর্থন আদায় করা। ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার তেল খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিভিট জানান, ওয়াশিংটন বর্তমানে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের ওপর সর্বোচ্চ প্রভাব রাখছে। জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির তেলশিল্প অনির্দিষ্টকালের জন্য নিয়ন্ত্রণ করবে। তবে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, তার সরকার এখনো ক্ষমতায় রয়েছে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি কেবল তেল বিক্রির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছে।
এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, বৈঠকে এক্সন মবিল, শেভরন ও কনোকোফিলিপসের প্রধানরা উপস্থিত থাকবেন। বর্তমানে শেভরনই একমাত্র মার্কিন কোম্পানি, যা ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম চালানোর লাইসেন্সপ্রাপ্ত।
ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ন্ত্রণে সমর্থন চেয়ে ট্রাম্পের তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেট প্রস্তাব করেছেন, যা ২০২৬ সালের অনুমোদিত ৯০১ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ৬৬ শতাংশ বেশি। সামা টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭ জানুয়ারি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি একে ‘ড্রিম মিলিটারি’ গঠনের পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেন, যা সংকটময় সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে দাবি করেন।
এই বিপুল বাজেট কার্যকর করতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। যদিও সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, বাজেট বিশ্লেষকদের মতে এত বড় ব্যয় অনুমোদন পাওয়া কঠিন হতে পারে। ট্রাম্প বলেন, অন্যান্য দেশের ওপর আরোপিত শুল্ক থেকে অর্জিত রাজস্ব দিয়েই এই ব্যয় মেটানো সম্ভব। তবে নিরপেক্ষ থিঙ্ক ট্যাংকগুলোর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান শুল্ক আয়ে সর্বোচ্চ অর্ধেক ব্যয়ই মেটানো যাবে, ফলে জাতীয় ঋণ কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে।
একই ঘোষণায় ট্রাম্প বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর সমালোচনা করেন এবং জানান, উৎপাদন না বাড়ানো পর্যন্ত তারা লভ্যাংশ বা শেয়ার বাইব্যাক করতে পারবে না। খবর প্রকাশের পর লকহিড মার্টিন ও জেনারেল ডায়নামিক্সের শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
২০২৭ সালের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেট প্রস্তাব করলেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার কোনো প্রয়োজন তিনি অনুভব করেন না এবং তার বৈদেশিক নীতি পরিচালিত হবে কেবল তার নিজস্ব নৈতিকতার ভিত্তিতে। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, আন্তর্জাতিক আইন মানা না মানা তার নিজের সংজ্ঞার ওপর নির্ভর করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলা চালায়। রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। অভিযানের একপর্যায়ে মার্কিন সেনারা প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আটক করে দেশ থেকে সরিয়ে নেয়। সমালোচকদের মতে, এই পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন, যেখানে অন্য রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধ।
হামলার পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে এবং দেশটির তেলসম্পদ কাজে লাগাবে। হোয়াইট হাউস জানায়, তারা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করবে, তবে দেশটির নীতিনির্ধারণে ওয়াশিংটন প্রভাব রাখবে। ট্রাম্প সতর্ক করেন, মার্কিন নির্দেশনা না মানলে দ্বিতীয় দফা হামলা হতে পারে।
ভেনেজুয়েলায় অভিযান শেষে ট্রাম্পের ঘোষণা, আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি আগামী সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বৃহস্পতিবার রাতে ফক্স নিউজে সম্প্রচারিত শোন হ্যানিটির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মাচাদো আগামী সপ্তাহের কোনো এক সময়ে আসবেন বলে ধারণা করছেন এবং তার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছেন।
সংবাদে বলা হয়েছে, মারিয়া কোরিনা মাচাদো ভেনেজুয়েলার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ। নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুত শাসনামলে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রীর আসন্ন সাক্ষাতের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলো।
তবে প্রতিবেদনে সাক্ষাতের স্থান বা আলোচনার এজেন্ডা সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আগামী সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মাচাদোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ট্রাম্প
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামে যুক্তরাষ্ট্রে একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর হ্যামট্রমিকের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ‘কারপেন্টার স্ট্রিট’-এর জোসেফ ক্যাম্পাও ও কোনাল্ট স্ট্রিটের মধ্যবর্তী অংশটি তার নামে নামকরণের প্রস্তাব সম্প্রতি সিটি কাউন্সিল অনুমোদন দেয়। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিএনপি মিডিয়া সেল বিষয়টি নিশ্চিত করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহর কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বাংলাদেশের ইতিহাস, নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি এক অনন্য স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি কেবল একটি সড়কের নতুন নাম নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংগ্রামের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছিল।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই অর্জনে ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এটি প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সক্ষমতার প্রতিফলন এবং দুই দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে।
মিশিগানের হ্যামট্রমিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে রাস্তার নামকরণ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৭ সালের জন্য দেশের প্রতিরক্ষা বাজেট ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বর্তমান সময়কে “অত্যন্ত সমস্যাপূর্ণ ও বিপজ্জনক” বলে উল্লেখ করেছেন। প্রস্তাবিত বাজেটটি কংগ্রেস কর্তৃক অনুমোদিত চলতি বছরের ৯০১ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পাবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প বলেছেন, এই বাজেট যুক্তরাষ্ট্রকে “স্বপ্নের সামরিক বাহিনী” গড়তে সহায়তা করবে এবং সব শত্রুর বিরুদ্ধে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
পৃথক এক পোস্টে তিনি সতর্ক করেছেন, প্রতিরক্ষা ঠিকাদার ও শেয়ারহোল্ডারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে যদি তারা দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ ও নতুন উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন না করে। ঘোষণার পর লকহিড মার্টিন, নর্থরপ গ্রুম্যান ও রেথিয়নের শেয়ারের দাম পাঁচ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ও আয়ের ব্যবধান অস্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে ট্রাম্প বলেছেন, শুল্ক থেকে আয় বাড়িয়ে ওয়াশিংটন সহজেই প্রস্তাবিত বাজেট অর্জন করতে পারবে।
২০২৭ সালের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাব করলেন ট্রাম্প
ভারতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সতর্ক করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার হলে বা আইন লঙ্ঘন করলে তার ভিসা বাতিল হতে পারে। সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে দূতাবাস জানায়, এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীকে দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে এবং ভবিষ্যতে তিনি মার্কিন ভিসার জন্য অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন। পোস্টে আরও বলা হয়, মার্কিন ভিসা একটি বিশেষাধিকার, অধিকার নয়, তাই আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে গত ডিসেম্বরে মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছিল, যদি কনস্যুলার অফিসার মনে করেন কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে ভিসা চাইছেন, তাহলে তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে। গাল্ফ নিউজ জানায়, নতুন এই সতর্কতা ভারতীয় ভিসাধারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে এবং কিছু আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভারত সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২১ লাখ ভারতীয় প্রবাসী বসবাস করেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত বছর ক্ষমতায় ফেরার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে আইন ভঙ্গ করলে শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হতে পারে বলে সতর্কতা
তীব্র তাপপ্রবাহে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার একাধিক স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় দমকল কর্মীরা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। এএফপি জানিয়েছে, ভিক্টোরিয়া ও নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দাদের, বিশেষ করে সিডনি ও মেলবোর্নের মতো বড় শহরের মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
ভিক্টোরিয়ার কান্ট্রি ফায়ার অথরিটির প্রধান জেসন হেফারনান জানিয়েছেন, কিছু এলাকায় আগুনের ঝুঁকি সূচক ‘ভয়াবহ’ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। জরুরি ব্যবস্থাপনা কমিশনার টিম উইবুশ বলেছেন, গরম ও শুষ্ক বাতাস আগুনকে আরও দ্রুত ছড়িয়ে দিতে পারে। ভারপ্রাপ্ত প্রিমিয়ার বেন ক্যারোল আগেভাগে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি আবহাওয়াবিদ সারা স্কালি জানিয়েছেন, চরম তাপপ্রবাহ ও শুষ্ক বজ্রঝড় নতুন আগুনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, এটি ২০১৯–২০২০ সালের বিধ্বংসী ‘ব্ল্যাক সামার’ দাবানলের পর সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি হতে পারে। গবেষকদের মতে, ১৯১০ সালের পর থেকে অস্ট্রেলিয়ার গড় তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে, যা চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়াচ্ছে।
তীব্র তাপপ্রবাহে অস্ট্রেলিয়ার পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলের আশঙ্কা
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনারা একটি ‘পবিত্র মিশনে’ রয়েছে। বুধবার মস্কোর সেন্ট জর্জ দ্য ভিক্টোরিয়াস গির্জায় সামরিক সদস্য ও তাদের পরিবারের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। পুতিন বলেন, যিশু খ্রিষ্ট যেমন মানবজাতিকে রক্ষা করতে পৃথিবীতে এসেছিলেন, তেমনি রুশ যোদ্ধারাও তাদের মাতৃভূমি ও জনগণকে রক্ষার জন্য কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার ইতিহাসে সেনাদের ঈশ্বরের পক্ষ থেকে পাঠানো ‘পবিত্র মিশন’ সম্পাদনকারী হিসেবে দেখা হতো। সেনাসদস্যদের সন্তানদের উদ্দেশে পুতিন বলেন, তাদের বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজন যারা যুদ্ধে আছেন, তাদের নিয়ে গর্ব করা উচিত, কারণ রাশিয়ার জনগণ সবসময় তাদের যোদ্ধাদের নিয়ে গর্ব করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী, যা এখনো চলছে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি এই সংঘাত থামানোর চেষ্টা করছেন।
পুতিন বললেন, ইউক্রেনে রুশ সেনারা মাতৃভূমি রক্ষার ‘পবিত্র মিশনে’ রয়েছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতসহ কয়েকটি দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক আরোপের একটি বিলে সম্মতি দিয়েছেন। এসব দেশ রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, বিলটি শিগগিরই মার্কিন কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, এই বিলের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেসব দেশকে শাস্তি দিতে পারবেন যারা সস্তায় রাশিয়ার তেল কিনে পুতিনকে যুদ্ধে সহায়তা করছে। গ্রাহাম তার পোস্টে ভারত ছাড়াও ব্রাজিল ও চীনের নাম উল্লেখ করেন।
বর্তমানে রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল আমদানির কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, ফলে ভারতীয় পণ্যে মোট শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির শর্ত হিসেবেও নয়াদিল্লির ওপর রুশ তেল আমদানি বন্ধের চাপ রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার রসনেফ্ট ও লুকঅয়েল কোম্পানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
গ্রাহাম ও ডেমোক্রেটিক সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল প্রণীত এই বিল ট্রাম্প প্রশাসনকে রাশিয়ার তেল, গ্যাস, ইউরেনিয়াম ও অন্যান্য পণ্য আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা দেবে, যার লক্ষ্য রাশিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন বন্ধ করা।
রুশ তেল আমদানিতে ভারতের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিলে ট্রাম্পের সম্মতি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে ভেনেজুয়েলা তাদের তেল বিক্রির আয় দিয়ে কেবল যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্যই কিনবে। ওয়াশিংটনের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন চুক্তি হয়েছে এবং সেই চুক্তির লাভের অর্থ মার্কিন পণ্য কেনায় ব্যয় হবে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন যে তাকে জানানো হয়েছে, নতুন তেল চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা যে অর্থ পাবে, তা দিয়ে তারা শুধুমাত্র আমেরিকায় তৈরি পণ্য কিনবে। তিনি আরও জানান, এসব পণ্যের মধ্যে থাকবে কৃষিপণ্য, যন্ত্রপাতি, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং জ্বালানি খাতের যন্ত্রপাতি।
চুক্তির বিস্তারিত বা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রতিবেদনে অতিরিক্ত তথ্য দেওয়া হয়নি, তবে এটি ভেনেজুয়েলার বাণিজ্যিক দিকনির্দেশনায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
ভেনেজুয়েলা তেল বিক্রির অর্থে শুধু মার্কিন পণ্য কিনবে বলে জানালেন ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়ে একটি স্মারকে সই করেছেন। বুধবার হোয়াইট হাউস জানায়, এসব সংস্থা আর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করছে না—এই যুক্তিতেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই আদেশের আওতায় জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট ৩১টি সংস্থা এবং জাতিসংঘের বাইরে আরও ৩৫টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তবে কোনো সংস্থার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা এখন আর দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একের পর এক বৈশ্বিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিচ্ছেন।
এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে, কারণ প্রশাসন বৈশ্বিক অঙ্গনে নিজেদের সম্পৃক্ততা পুনর্মূল্যায়ন করছে।
জাতীয় স্বার্থে ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের নির্দেশ ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তার গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী রেনি নিকোল গুড নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের পরিচালিত বৃহৎ অভিবাসন দমন অভিযানের সময় এ ঘটনা ঘটে। কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, গুড তার গাড়ি দিয়ে আইসিই এজেন্টদের চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, ফলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, লাল রঙের একটি এসইউভি চলার চেষ্টা করলে তিনটি গুলির শব্দ শোনা যায়। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম বলেন, কর্মকর্তা আত্মরক্ষামূলকভাবে গুলি চালান। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনও এ পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন।
অন্যদিকে, মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে ও মিনেসোটা গভর্নর টিম ওয়ালজসহ ডেমোক্র্যাট নেতারা ফেডারেল ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে ঘটনাটিকে বেপরোয়া ক্ষমতার ব্যবহার বলে আখ্যা দেন। কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ একে ‘প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড’ বলেন এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস প্রশাসনের বক্তব্যকে ‘গ্যাসলাইটিং’ হিসেবে সমালোচনা করেন।
ঘটনার পর মিনিয়াপোলিসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এফবিআই তদন্ত শুরু করেছে, তবে নোয়েম জানিয়েছেন, মৃত্যুটি প্রতিরোধযোগ্য হলেও আইসিইর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযানে মিনিয়াপোলিসে আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে নারী নিহত
সিডনিতে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজ সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্টে ইংল্যান্ডকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। পঞ্চম দিনে ইংল্যান্ড ৩৪২ রানে অলআউট হওয়ার পর অজিদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬০ রান। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড করেছিল ৩৮৪ রান, জবাবে অস্ট্রেলিয়া ৫৪২ রান করে বড় লিড নেয়। ট্রাভিস হেডের সেঞ্চুরি ও ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে সহজেই জয় পায় স্বাগতিকরা।
ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে জ্যাকব বেথেল সর্বোচ্চ ১৫৪ রান করেন, হ্যারি ব্রুক ও বেন ডাকেট করেন সমান ৪২ রান করে। তবে তাদের প্রচেষ্টা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ট্রাভিস হেড ও জেক ওয়েদারাল্ডের দ্রুত সূচনা, পরে অ্যালেক্স ক্যারি ও ক্যামেরন গ্রিনের জুটি দলকে জয়ের পথে নিয়ে যায়।
প্রথম ইনিংসে ১৬৬ বলে ১৬৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন ট্রাভিস হেড। সিরিজজুড়ে ৪৬ উইকেট ও ২০২ রান করে সিরিজসেরা নির্বাচিত হন মিচেল স্টার্ক।
সিডনিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ৪-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ জিতল অস্ট্রেলিয়া
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৬০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।