পাকিস্তান জানিয়েছে যে তারা প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সঙ্গে কোনো শত্রুতাপূর্ণ সম্পর্ক চায় না। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অর্থবহ উন্নতি নির্ভর করছে আফগানিস্তানের সন্ত্রাসবাদবিরোধী অবস্থানের ওপর। ইসলামাবাদ কাবুলকে আহ্বান জানিয়েছে যেন আফগান মাটি পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার জন্য ব্যবহার না হয়—এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট, যাচাইযোগ্য এবং লিখিত আশ্বাস দেয়।
আন্দ্রাবি বলেন, পাকিস্তানের একমাত্র উদ্বেগ নিরাপত্তা, কাবুলের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বা আদর্শিক বিরোধ নেই। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যে দ্বিপক্ষীয় বিরোধ রয়েছে, আফগানিস্তানের সঙ্গে তেমন কোনো বিরোধ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মুখপাত্র জানান, কাবুলের সাম্প্রতিক ইতিবাচক বিবৃতিগুলোকে পাকিস্তান স্বাগত জানিয়েছে, তবে সেগুলোকে লিখিত ও যাচাইযোগ্য হতে হবে।
তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ খোলা রয়েছে এবং দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।
আফগানিস্তানের সঙ্গে শত্রুতা নয়, সন্ত্রাসবিরোধী লিখিত আশ্বাস চায় পাকিস্তান
২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি শুক্রবার পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে ৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। পাকিস্তান আবহাওয়া দপ্তরের অধীন জাতীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল চীন-তাজিকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায়, ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৫৯ কিলোমিটার গভীরে। রাজধানী ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার সোয়াত, শাংলা, বুনেরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে কম্পন অনুভূত হয়। ভবন কেঁপে ওঠায় মানুষ সতর্কতামূলকভাবে ঘর থেকে বের হয়ে আসে, তবে কোনো হতাহতের বা বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঘটনা ঘন ঘন ঘটে, কারণ এটি ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। গত বছরের অক্টোবরে ইসলামাবাদ ও আশপাশের এলাকায় ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে এবং কয়েক দিন আগে ৫.৬ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। এছাড়া, গত সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে ২,২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়।
ঘন ঘন ভূমিকম্প এই অঞ্চলের ভূকম্পন ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।
৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে পাকিস্তান কেঁপে উঠল, হতাহতের খবর নেই
ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি টার্কিশ পেট্রোলিয়াম (টিপিএও) পাকিস্তানের সঙ্গে ভারত মহাসাগরের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য পাঁচটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের এই চুক্তির আওতায় তিনটি অফশোর ব্লক ও দুটি অনশোর ব্লকে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করবে টিপিএও। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি তেমনভাবে আলোচিত না হলেও এটি দুই দেশের জ্বালানি ও কৌশলগত সহযোগিতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই অংশীদারত্ব তুরস্কের জ্বালানি অনুসন্ধান সক্ষমতা বৈচিত্র্যময় করার পাশাপাশি পাকিস্তানের দীর্ঘদিন অবহেলিত গভীর সমুদ্র খনিজ অনুসন্ধান প্রচেষ্টাকে পুনরুজ্জীবিত করছে। টিপিএও পাকিস্তানের জলসীমায় সিসমিক বহর মোতায়েন ও ইসলামাবাদে স্থায়ী অফিস স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। পাকিস্তানের ২০২৫ সালের অফশোর বিডিংয়ের আগে এই উদ্যোগ দেশটির জ্বালানি খাতে নতুন গতি আনতে পারে।
তেল-গ্যাসের বাইরে সহযোগিতা প্রতিরক্ষা, খনিজ ও ড্রোন উৎপাদন খাতেও বিস্তৃত হচ্ছে। এতে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং ভারত মহাসাগরে তুরস্কের ভূরাজনৈতিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পাবে।
ভারত মহাসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে তুরস্ক-পাকিস্তানের বড় চুক্তি স্বাক্ষর
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি যেকোনো হুমকি মোকাবেলায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। লাহোর গ্যারিসন পরিদর্শনের সময় সেনা সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্যে মুনির পেশাদারিত্ব ও দৃঢ়তার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
আইএসপিআর জানায়, সেনাপ্রধান বলেন, সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি শৃঙ্খলা, উৎকর্ষতা ও নিঃস্বার্থভাবে জাতীয় সেবা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র অভিযোগ করেন, আফগানিস্তান সন্ত্রাসী ও রাষ্ট্র-বহির্ভূত শক্তির কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে এবং ২০২১ সালে ক্ষমতায় আসা তালেবান সরকার এসব গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে।
জাতীয় নিরাপত্তায় সব হুমকি মোকাবেলায় জিরো টলারেন্স ঘোষণা পাকিস্তান সেনাপ্রধানের
প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের সৌদি ঋণকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান চুক্তিতে রূপান্তর করতে আলোচনা করছে পাকিস্তান ও সৌদি আরব। সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আলোচনা দুই দেশের মধ্যে গত বছর স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির পর সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সম্ভাব্য চুক্তির মোট মূল্য প্রায় ৪০০ কোটি ডলার হতে পারে, যার অর্ধেক ঋণ রূপান্তরের মাধ্যমে এবং বাকি অংশ অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম কেনায় ব্যয় হবে।
সূত্র জানায়, আলোচনাটি মূলত পাকিস্তান ও চীনের যৌথভাবে তৈরি এবং পাকিস্তানে উৎপাদিত জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান সরবরাহকে কেন্দ্র করে। পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু সম্প্রতি সৌদি আরব সফর করেন, যেখানে দ্বিপক্ষীয় সামরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল আমির মাসুদ জানান, পাকিস্তান ছয়টি দেশের সঙ্গে সামরিক রপ্তানি নিয়ে আলোচনা করছে, যার মধ্যে সৌদি আরবও রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব তার নিরাপত্তা অংশীদারত্ব পুনর্গঠন করতে চাইছে। পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান চুক্তিতে ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ রূপান্তর নিয়ে আলোচনা
চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানে সরকারের দেয়া আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। মঙ্গলবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের কাছে দাহগাল চেকপয়েন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ ঘোষণা দেন পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গহর আলি খান। আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। খবর জিও নিউজের।
গহর আলি খান বলেন, পিটিআই কখনো আলোচনা বাতিল করেনি, তবে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ না থাকলে সংলাপ এগোতে পারে না। তিনি জানান, প্রতি মঙ্গলবার তারা কারাগারে যান, কিন্তু এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না। পিটিআই মহাসচিব ব্যারিস্টার সালমান আকরাম রাজা বলেন, প্রতিষ্ঠাতার অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সংলাপ ফলপ্রসূ হবে না। অন্যদিকে, পিটিআই নেতা ব্যারিস্টার আলি জাফর সরকারকে আলোচনার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান।
২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা প্রস্তাবে ক্ষমতা হারান ইমরান খান এবং ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তিনি দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদসহ একাধিক মামলায় কারাগারে আছেন।
ইমরান খানের কারাবন্দিত্বের মধ্যে সরকারের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল পিটিআই
চীন ও পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতা ও সমন্বয় জোরদারে সম্মত হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের চীন সফর শেষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠকে দার আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন বলে দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর, বাণিজ্য ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উভয় দেশ মনে করে, বৃহত্তর অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য তাদের বন্ধুত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫তম বার্ষিকী যথাযথভাবে উদ্যাপনে সম্মত হয়েছে।
দার চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিং এবং চীনা নির্বাহী ভাইস প্রিমিয়ার ডিং জুয়েক্সিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে উভয় পক্ষ পাকিস্তান-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে চীন-পাকিস্তানের সম্মতি
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে বারবার প্রশংসা করেছেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মার-আ-লাগোতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি মুনিরকে নিজের ‘প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ ও ‘মহান যোদ্ধা’ বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, তার মধ্যস্থতায় ভারত-পাকিস্তানের সম্ভাব্য পারমাণবিক যুদ্ধ ঠেকানো সম্ভব হয়েছে এবং মুনির ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তাকে লক্ষাধিক মানুষের জীবন রক্ষার কৃতিত্ব দিয়েছেন। ২০২৫ সালের মে মাসে চার দিনের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় অস্ত্রবিরতি কার্যকর হয়।
বিশ্লেষকেরা মনে করেন, এই সংঘাত ও পরবর্তী কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে মুনির পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক অবস্থান শক্তিশালী করেছেন। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খুররম দস্তগির খান ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব সালমান বশির বলেছেন, এই ঘটনাই পাকিস্তানের ভূরাজনৈতিক পুনরুত্থানের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে। নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন আলোচনাও শুরু হয়েছে।
ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পর ট্রাম্পের প্রশংসায় আসিম মুনিরের কূটনৈতিক উত্থান
পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তানে জমে থাকা তুষার সরাতে গিয়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন, একজন সৈনিক এবং একজন বেসামরিক মেশিন অপারেটর। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ২ থেকে ৩ জানুয়ারির রাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে তুষার অপসারণের কাজ চলছিল, যার নেতৃত্ব দেন ক্যাপ্টেন আসমাদ।
৩ জানুয়ারি রাত ২টার দিকে ভারী তুষারপাতে ক্যাপ্টেন আসমাদ, দুই সেনা সদস্য এবং বেসামরিক অপারেটর আটকা পড়েন। পরে তাদের উদ্ধার করা হলেও ক্যাপ্টেন আসমাদ, সিপাহি রিজওয়ান এবং অপারেটর এশার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তারা মারা যান। আইএসপিআর জানায়, তারা চরম বৈরি আবহাওয়ার মধ্যেও সামরিক চলাচল সহজ করতে চ্যালেঞ্জিং অভিযান পরিচালনা করেছেন এবং চূড়ান্ত ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তাদের ত্যাগ ও নিষ্ঠা প্রমাণ করে যে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা মাতৃভূমি রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং কর্তব্য পালনে জীবন উৎসর্গ করতেও দ্বিধা করেন না।
গিলগিট-বালতিস্তানে তুষার সরাতে গিয়ে সেনা কর্মকর্তা-সহ তিনজন নিহত
শনিবার পাকিস্তান বিমান বাহিনী নিজ দেশে তৈরি টাইমুর এয়ার-লঞ্চড ক্রুজ মিসাইলের সফল ফ্লাইট পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। এই মিসাইল ৬০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে আঘাত করতে সক্ষম এবং স্থল ও সামুদ্রিক উভয় লক্ষ্যবস্তুতে কার্যকর। আইএসপিআর জানিয়েছে, এই সফল পরীক্ষা দেশের এ্যারোস্পেস ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
টাইমুর মিসাইলটি অত্যাধুনিক ন্যাভিগেশন ও গাইডেন্স সিস্টেমে সজ্জিত এবং খুব কম উচ্চতায় উড়ে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়াতে পারে। পরীক্ষায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সিনিয়র কর্মকর্তারা এবং প্রকল্পে যুক্ত বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন। বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধু বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও বিমান বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এটি দেশের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রতিফলন।
আইএসপিআর জানিয়েছে, এই সফল পরীক্ষা পাকিস্তান বিমান বাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে।
দেশে তৈরি টাইমুর এয়ার-লঞ্চড ক্রুজ মিসাইলের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন পাকিস্তানের
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার শনিবার, ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইসলামাবাদের বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তিনি হাইকমিশনে খালেদা জিয়ার স্মরণে রাখা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
এর আগে বুধবার খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর পেয়ে পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক ঢাকায় আসেন। তিনি খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান।
পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের এই সফরগুলো খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি ইসলামাবাদের সহমর্মিতা প্রকাশের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পাকিস্তানের সন্ত্রাসদমন আদালত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে সমর্থন করে অনলাইনে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানোর অভিযোগে আট সাংবাদিক ও ইউটিউবারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। শুক্রবার ঘোষিত এই রায়ে আদালত জানায়, অভিযুক্তরা অনলাইনে এমন কার্যক্রম চালিয়েছিলেন যা পাকিস্তানি আইনে ‘সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে গণ্য। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তাদের কর্মকাণ্ড সমাজে ভয় ও অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। অধিকাংশ আসামি পাকিস্তানের বাইরে থাকায় তারা বিচারপ্রক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন না।
দোষীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেনাকর্তা ও ইউটিউবার আদিল রাজা ও সৈয়দ আকবর হুসেন, সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খান, সাবির শাকির ও শাহীন সেহবাই, ভাষ্যকার হায়দার রেজা মেহদি এবং বিশ্লেষক মইদ পিরজাদা। আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে, ২০২৩ সালের ৯ মে ইমরান খানের গ্রেপ্তারের পর তার সমর্থকেরা যে সহিংস বিক্ষোভ চালিয়েছিলেন, তা সেনা শিবিরে হামলার মতো ঘটনার জন্ম দেয় এবং আসামিরা সেই সহিংসতায় উস্কানি দিয়েছিলেন।
এর আগে ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর তোষাখানা দুর্নীতি-২ মামলায় ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়; তারা বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি।
ইমরান খানকে অনলাইনে সমর্থন করায় পাকিস্তানে আট সাংবাদিকের যাবজ্জীবন
জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতোয়ার জেলায় চেনাব নদীতে ভারতের প্রস্তাবিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে ভারতকে সতর্ক করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুসেই আন্দ্রাবি বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তি অনুযায়ী ভারত পশ্চিমের নদীগুলোতে একতরফাভাবে কোনো জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের সীমিত অনুমতির অপব্যবহার করতে পারে না। তিনি জানান, পাকিস্তান এখনো ভারতের কাছ থেকে দুলহস্তি স্টেজ ২ নামের এই প্রকল্প সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি।
বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি অনুযায়ী, ভারতের পূর্ণ অধিকার রয়েছে পূর্বদিকের নদীগুলোর (রাবি, সুলতেজ ও বিয়াস) ওপর, আর পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছে পশ্চিম নদীগুলোর (সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাব) ওপর অধিকার। তবে পশ্চিম নদীগুলোতে ভারতকে সীমিত পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আন্দ্রাবি বলেন, ভারত যদি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে, তবে তা হবে চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ মীমাংসা করতে চায়, তবে ভারতের পরিকল্পিত লঙ্ঘন বা পাকিস্তানের জাতীয় স্বার্থে আঘাত ইসলামাবাদ সহ্য করবে না।
চেনাব নদীর জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে ভারতকে সতর্ক করল পাকিস্তান
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ২০২৬ সালের ৩ থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বেইজিং সফর করবেন। তিনি পাকিস্তান-চীন পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সপ্তম দফা কৌশলগত সংলাপের সহসভাপতিত্ব করবেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ির আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। সংলাপটিকে দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পরামর্শমূলক কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়সমূহ পর্যালোচনার একটি সংগঠিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দুই দেশ যখন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনই এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সফর দুই দেশের নিয়মিত উচ্চস্তরের আদান-প্রদানের অংশ এবং এটি তাদের অখণ্ড কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে। পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি পারস্পরিক অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করা হবে।
গত আগস্টে ইসলামাবাদে ষষ্ঠ দফা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে ওয়াং ইয়ি ইসহাক দার, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাবিব শরীফ ও রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির সঙ্গে বৈঠক করেন। তখন চীন পাকিস্তানের সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
চীনের সঙ্গে সপ্তম কৌশলগত সংলাপে অংশ নিতে বেইজিং যাচ্ছেন ইসহাক দার
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আলাপটি ছিল অত্যন্ত উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। দুই নেতা দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
আলোচনায় শেহবাজ শরিফ বর্তমান চ্যালেঞ্জের মধ্যে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা অপরিহার্য। এই আলোচনায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের মনোভাব প্রতিফলিত হয়।
যুবরাজ মোহাম্মদ টেলিফোন কলের জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং পারস্পরিক স্বার্থের সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি ২০২৬ সালে পাকিস্তানে সরকারি সফরে যাওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।
পাকিস্তান ও সৌদি নেতাদের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে বারবার প্রশংসা করেছেন এবং পাকিস্তান-ভারতের সম্ভাব্য পারমাণবিক যুদ্ধ ঠেকাতে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন। ২২ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি আটটি যুদ্ধ বন্ধ করেছেন এবং পাকিস্তান-ভারতের মধ্যে সংঘাত থামিয়ে কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। জুন থেকে এটি ছিল অন্তত দশমবার, যখন ট্রাম্প প্রকাশ্যে মুনিরকে ‘মহান যোদ্ধা’ ও ‘ব্যতিক্রমী মানুষ’ হিসেবে অভিহিত করেন। অক্টোবরে মিশরের শার্ম আল-শেখ শান্তি সম্মেলনে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের অবদানও স্বীকার করেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের চার দিনের যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি দুই দেশের সম্পর্কের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা স্বীকার করে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে, যদিও ভারত তা অস্বীকার করে। সাবেক কূটনীতিকরা মনে করেন, এই সংঘাত মুনিরের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বাড়িয়েছে এবং সম্পর্ক উন্নয়নের নির্দিষ্ট মোড় তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা ও মুনিরের কূটনৈতিক উদ্যোগ পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরিকল্পনায় আঞ্চলিক খেলোয়াড় হিসেবে তুলে ধরছে।
২০২৫ সালের সংঘাতের পর ট্রাম্পের প্রশংসায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি খালেদা জিয়ার আজীবন ত্যাগ এবং দেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন।
শাহবাজ শরিফ বলেন, খালেদা জিয়া পাকিস্তানের একজন নিবেদিতপ্রাণ বন্ধু ছিলেন এবং পাকিস্তান সরকার ও জনগণ শোকের এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জনগণের পাশে আছে। তিনি খালেদা জিয়ার পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও বাংলাদেশের মানুষের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেন।
এদিকে, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও এক্সে দেওয়া বার্তায় খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে তাঁকে পাকিস্তানের নিবেদিতপ্রাণ বন্ধু বললেন শাহবাজ শরিফ
নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইস্যুতে গভীর মতপার্থক্য কাটিয়ে উঠতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সতর্কভাবে এগোচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলী ইঙ্গিত দিচ্ছে, উভয় দেশই জনসমক্ষে বক্তব্য কমিয়ে সংলাপের পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যদিও বড় ধরনের অগ্রগতি এখনো দেখা যায়নি। ইসলামাবাদ দাবি করছে, আফগান মাটি যেন পাকিস্তানে হামলার জন্য ব্যবহার না হয়, এবং পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষকে প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডা কমিয়ে আলোচনায় মনোযোগ দিতে উৎসাহিত করছেন। আফগান ধর্মীয় নেতারা সম্প্রতি সীমান্তের বাইরে আক্রমণ নিষিদ্ধ করে একটি ফতোয়া জারি করেছেন, যেটিকে পাকিস্তান আস্থা তৈরির পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। এরপর আফগান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানি প্রকাশ্যে আশ্বস্ত করেছেন যে আফগান মাটি অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না। পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার তার বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান।
তবে একাধিক দফা আলোচনার পরও অগ্রগতি সীমিত। পাকিস্তান বলছে, সম্পর্ক উন্নয়ন টিটিপির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপের ওপর নির্ভরশীল, আর কাবুল দাবি করছে তারা তাদের ভূখণ্ড হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেয় না। ইসলামাবাদ আগামী দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে চায়।
টিটিপি ও সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুতে সম্পর্ক উন্নয়নে সতর্ক প্রচেষ্টায় পাকিস্তান-আফগানিস্তান
সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় ইসরাইলের নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ এই পদক্ষেপকে “উস্কানিমূলক ও অবৈধ” বলে অভিহিত করেছে। শনিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার ইসরাইল প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পাকিস্তান বলেছে, এই পদক্ষেপ সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ন করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরাইলের এই প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি সোমালিয়া ও সমগ্র অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। ইসলামাবাদ সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা এই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করে এবং ইসরাইলকে বৃহত্তর অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত করা থেকে বিরত রাখে।
সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ায় ইসরাইলের পদক্ষেপকে অবৈধ বলল পাকিস্তান
সম্প্রতি পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন দ্রুত বিশ্বব্যাপী অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে এবং পাকিস্তান বিমান যুদ্ধক্ষেত্রে চীনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চীন ইতিমধ্যে পাকিস্তানকে ২০টি জে-১০সি মাল্টিরোল ফাইটার বিমান সরবরাহ করেছে এবং আরও দুটি অর্ডারের মাধ্যমে এই সংখ্যা ৩৬-এ পৌঁছাবে। পাকিস্তান চীনের সঙ্গে যৌথভাবে জেএফ-১৭ থান্ডার বিমান উৎপাদন করছে, যা আজারবাইজান, মিয়ানমার ও নাইজেরিয়ার বিমান বাহিনীতে ব্যবহৃত হচ্ছে, এবং ইরাকও এতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
বিমান ছাড়াও চীন পাকিস্তানকে কাইহং ও উইং লুং সিরিজের উন্নত হামলাযোগ্য মানববিহীন বিমান সরবরাহ করেছে। নৌসামরিক ক্ষেত্রে পাকিস্তান ২০১৭ ও ২০১৮ সালে চীনের কাছ থেকে চারটি ফ্রিগেট পেয়েছে এবং ভবিষ্যতেও চীনের নৌসামরিক রপ্তানিতে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে থাকবে।
প্রতিবেদনটি জানায়, চীনা অস্ত্রের জনপ্রিয়তার কারণ হলো প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, নমনীয় অর্থায়ন ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক শর্তের অভাব। পাকিস্তান-চীন সম্পর্ককে শুধু ক্রয় নয়, বরং যৌথ উন্নয়ন, উৎপাদন ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সহযোগিতার পূর্ণাঙ্গ অংশীদারিত্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীনের অস্ত্র ও যুদ্ধবিমান বাণিজ্যে পাকিস্তান প্রধান অংশীদার বলে জানায় পেন্টাগন প্রতিবেদন
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৭১ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।