ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননকে তার সামরিক জয়ের শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষক ওরি গোল্ডবার্গ। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল ১৯৮২ সাল থেকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতে জড়িত, যা প্রথমে লেবাননের ভেতরে এবং পরে সীমান্ত এলাকায় দুই দশক ধরে চলমান রয়েছে।
ইসরাইলের দাবি, অতীতে কিছু সাফল্য এলেও হিজবুল্লাহ এখনও উত্তর ইসরাইলের জন্য বড় হুমকি। ইসরাইলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননে অবকাঠামো ধ্বংস করছে এবং লেবানন রাষ্ট্রকে নিরস্ত্র করার জন্য সামরিক চাপ দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুর্বল সেনাবাহিনী ও খ্রিস্টান, সুন্নি ও শিয়া গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যের কারণে লেবানন ইসরাইলের জন্য একটি উপযুক্ত লক্ষ্যবস্তু।
প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দেয় যে ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের এই পর্যায়টি দীর্ঘমেয়াদি বিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে পারে।
নেতানিয়াহু লেবাননকে সামরিক জয়ের শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে না পৌঁছালে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হামলা চালাবে ইসরাইল। ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল তিনি বলেন, ইরান এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে এবং তাদের সামনে ভবিষ্যতের সেতুবন্ধন গড়া অথবা বিচ্ছিন্নতা ও ধ্বংসের পথে যাওয়ার মধ্যে বেছে নেওয়ার সময় এসেছে।
কাটজ আরও বলেন, যদি ইরান দ্বিতীয় পথটি বেছে নেয়, তবে তারা খুব দ্রুত বুঝতে পারবে যে, যেসব লক্ষ্যবস্তুতে ইসরাইল এখনো হামলা চালায়নি, সেগুলোর ওপর হামলা আরও কঠোর হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সিদ্ধান্ত ইরানের হাতে এবং এর পরিণতিও তাদেরই বহন করতে হবে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মন্তব্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আলোচনাকে ঘিরে ইসরাইলের চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি না হলে ইরানে কঠোর হামলার হুমকি ইসরাইলের
ইসরাইল ইরান ও লেবাননে নতুন সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র এফি দেফ্রিন। তিনি জানান, আইডিএফের চিফ অব জেনারেল স্টাফ আইয়াল জামির এই অনুমোদন দিয়েছেন। দেফ্রিন আরও বলেন, সেনাপ্রধান লিতানি নদীর তীর পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের পুরো এলাকাকে হিজবুল্লাহর জন্য ‘মৃত্যুপুরি’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
দেফ্রিনের ভাষ্য অনুযায়ী, আইডিএফ এখন পর্যন্ত লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি হিজবুল্লাহ সদস্যকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, তাদের নির্মূল করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এই ঘোষণা ইসরাইলের হিজবুল্লাহবিরোধী সামরিক মনোযোগ এবং ইরান ও লেবাননে অভিযান সম্প্রসারণের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়, যা আইডিএফ মুখপাত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরান ও লেবাননে অভিযান সম্প্রসারণে নতুন সামরিক পরিকল্পনা অনুমোদন ইসরাইলের
ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে হিজবুল্লাহ ইসরাইলে প্রায় ৪০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে। ইসরাইল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, বেশিরভাগ রকেট প্রতিহত করা হয়েছে এবং বাকিগুলো খোলা জায়গায় পড়েছে। এই হামলার একদিন আগে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইসরাইলি হামলায় ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইল লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে অস্বীকৃতি জানালেও উভয় পক্ষ পরবর্তী আলোচনায় সম্মত হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেনসহ ১৪টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে সকল পক্ষকে অবিলম্বে উত্তেজনা কমাতে এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরাইলে হিজবুল্লাহর ৪০টি রকেট হামলা
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের পরিচালক ডেভিড বার্নিয়া বলেছেন, ইরান মিশন এখনো শেষ হয়নি। হলোকাস্ট স্মরণ দিবসের এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, এই অভিযান তাৎক্ষণিকভাবে শেষ করার জন্য নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। তেহরানে সাম্প্রতিক হামলার পর কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিশ্চিত করতে মিশনটি চালিয়ে যাওয়া হবে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের সময় মোসাদ তেহরানের কেন্দ্রস্থলে কাজ করেছে এবং বিমান বাহিনীকে নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ইসরায়েলের জন্য হুমকিস্বরূপ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে। বার্নিয়া আরও জানান, একটি ‘চরমপন্থি’ সরকারকে সরিয়ে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত মোসাদের দায়িত্ব শেষ হবে না।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি হলে সেটির বিরুদ্ধে নীরব থাকা হবে না।
ইরান মিশন চলমান, এটি ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ বলে জানালেন মোসাদ প্রধান
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ গোলান মালভূমিতে অবস্থিত ইসরাইলি সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি এ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, জাওরা এলাকায় একটি কামানের অবস্থান এবং ওডেম এলাকায় আর্টিলারি ব্যাটালিয়ন কমান্ড সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ হামলা সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি। খবরটি আল জাজিরা সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে।
ঘটনাটি ইসরাইল–লেবানন সীমান্তে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘটলেও এর তাৎক্ষণিক প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়।
গোলান মালভূমিতে ইসরাইলি ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা, হতাহতের খবর নেই
উত্তর ইসরাইলের ১৩টি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে হিজবুল্লাহ। ওয়াশিংটনে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেই এই হামলা চালানো হয়। ইরান সমর্থিত সংগঠনটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আল জাজিরার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। এই হামলার সময়কাল ওয়াশিংটনে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে মিলে গেছে, যা যুদ্ধবিরতি আলোচনার অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
ঘটনাটি ইঙ্গিত দেয় যে, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও অঞ্চলটি এখনো অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
ওয়াশিংটনে যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেই ইসরাইলের ১৩ স্থাপনায় হিজবুল্লাহর হামলা
ইসরায়েলি ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ (INSS)-এর এক জরিপে দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ ইসরায়েলি গত সপ্তাহে ঘোষিত মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করেছেন এবং ৭৩ শতাংশ মনে করেন আগামী এক বছরের মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আবার শুরু হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার সময়সীমার কিছু আগে ঘোষিত এই যুদ্ধবিরতি ইসরায়েলিদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে, যারা ইরানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের প্রত্যাশা করেছিলেন। যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে গত সপ্তাহে ৩০০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক নিন্দা জাগিয়েছে।
বিশ্লেষক ও রাজনীতিকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেটানিয়াহু যুদ্ধের ফলাফল অতিরিক্তভাবে প্রচার করেছিলেন, যেমন ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ও এর পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ধ্বংস। বিরোধী নেতা ইয়ায়ির লাপিদ ও ইয়ায়ির গোলান নেটানিয়াহুকে কৌশলগত ব্যর্থতা ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। সাবেক কূটনীতিক আলন পিনকাসের মতে, এই ক্ষোভের মূল কারণ নেটানিয়াহুর নিজের তৈরি প্রত্যাশা। নেটানিয়াহু অবশ্য দাবি করেছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রয়েছে এবং তিনি হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধকে সমর্থন করেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরান সংঘাত ও ৭ অক্টোবরের হামলার দায় নিয়ে নেটানিয়াহুর নেতৃত্ব আরও চাপে পড়তে পারে।
মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েলিদের বিরোধিতা, নেটানিয়াহুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে
ইসরাইলের বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ ইতালির সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নবায়ন স্থগিতের সিদ্ধান্তের পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি নেতানিয়াহু সরকারের আরেকটি লজ্জাজনক ব্যর্থতা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যক্রম কার্যত অস্তিত্বহীন। আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে লাপিদ উল্লেখ করেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বামপন্থী নন, বরং ডানপন্থী রক্ষণশীল শিবিরের নেত্রী, যিনি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তা বোঝেন। তবুও ইসরাইল সরকার এমন দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে, যারা স্বাভাবিকভাবে মিত্র হওয়ার কথা। ২০০৬ সালে অনুমোদিত এই প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রতি পাঁচ বছর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হয়ে আসছিল এবং এতে প্রতিরক্ষা শিল্প, সামরিক প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ইউরোপে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্যে ইতালি অন্যতম হলেও সাম্প্রতিক সময়ে লেবাননে ইসরাইলের হামলার সমালোচনা করেছে মেলোনি সরকার, যার প্রভাব দুই দেশের সম্পর্কে পড়তে শুরু করেছে।
ইতালির সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত, নেতানিয়াহুকে তীব্র সমালোচনা লাপিদের
জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নতুন জরিপে দেখা গেছে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইসরাইলিরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তবে এই ক্লান্তির মধ্যেও দেশটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করছে। জরিপটি ৯ ও ১০ এপ্রিল ১ হাজার ৩১২ জন ইসরাইলির মধ্যে পরিচালিত হয়, যার মধ্যে ১ হাজার ৮৪ জন ইহুদি ও ২২৮ জন আরব ছিলেন।
জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলায় ইরান বা লেবাননের হিজবুল্লাহ এখনো গুরুতরভাবে দুর্বল হয়নি। প্রায় ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন তেহরানের ওপর হামলা অব্যাহত রাখা উচিত, আর ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ মনে করেন যুদ্ধবিরতি মেনে চলা উচিত। নিজেদের অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে এক-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা ‘হতাশা’ শব্দটি বেছে নেন, এরপর ‘বিভ্রান্তি’ ও ‘রাগ’, আর ‘আশা’ ছিল চতুর্থ স্থানে।
আল জাজিরা সূত্রে প্রকাশিত এই জরিপ ইসরাইলি জনমতের জটিল চিত্র তুলে ধরেছে—যুদ্ধ ক্লান্তি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতির প্রতি অনীহা স্পষ্ট।
জরিপে দেখা গেছে, যুদ্ধ ক্লান্ত ইসরাইলিরা যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতির বিপক্ষে
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ইসরাইল সমর্থন করবে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা থেকে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে অবস্থিত ইরানের বন্দরগামী জাহাজের ওপর অবরোধ কার্যকর হবে।
নেতানিয়াহু আরও জানান, পাকিস্তান সফর শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স তাকে ইরানের সঙ্গে হওয়া আলোচনার বিষয়ে অবহিত করেছেন, তবে সেই আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান সতর্ক করেছে যে, হরমুজ প্রণালির দিকে কোনো সামরিক জাহাজ অগ্রসর হলে সেটিকে তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করবে।
এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং সামুদ্রিক চলাচল ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নৌ অবরোধে ইসরাইলের সমর্থন
জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইসরাইলি যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের জনগণ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে নাকি ইরানের ওপর পুনরায় হামলা শুরু করবে—এই বিষয়ে বিভক্ত। জরিপে ৩৯ শতাংশ বলেছেন, ইসরাইলের হামলা চালিয়ে যাওয়া উচিত, আর ৪১ শতাংশ মনে করেন যুদ্ধবিরতি সম্মান করা উচিত।
লেবাননের পরিস্থিতি নিয়েও কঠোর মনোভাব দেখা গেছে। ৬১ শতাংশ ইসরাইলি মনে করেন, হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো উচিত নয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় তেহরান এই দাবি জোরালোভাবে তুলেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা কমে ৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা সংঘাতের শুরুতে ছিল ৪০ শতাংশ।
এই জরিপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও জটিল হয়ে উঠছে।
জরিপে দেখা গেছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ইসরাইলি
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের নতুন প্রধান হিসেবে মেজর জেনারেল রোমান গফম্যানকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। রোববার ইসরাইলি মন্ত্রিসভা এই নিয়োগ অনুমোদন করে। আগামী ২ জুন বর্তমান পরিচালক ডেভিড বার্নিয়া পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করার পর গফম্যান দায়িত্ব নেবেন। গোয়েন্দা বিভাগে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি থেকে ভিন্ন।
১৯৭৬ সালে বেলারুশে জন্ম নেওয়া গফম্যান ১৪ বছর বয়সে ইসরাইলে অভিবাসী হন এবং ১৯৯৫ সালে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া কোরে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সামরিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় তিনি পদাতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কমান্ডার ছিলেন এবং সেদেরত শহরে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন। গফম্যান নেতানিয়াহুর জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের সমর্থক হিসেবে পরিচিত এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের এলি ইয়েশিভা ধর্মীয় স্কুলে পড়াশোনা করেছেন।
মোসাদ মূলত ইসরাইলের বাইরে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে। নতুন প্রধানের অধীনে সংস্থাটি ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে কী কৌশল নেবে, তা এখন নজর কেড়েছে।
রোমান গফম্যান মোসাদের নতুন প্রধান, ইসরাইলের গোয়েন্দা নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়
ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে সফরকালে বলেছেন, সেখানে পা রেখে তার মনে হয়েছে তিনি যেন ওই স্থানের ‘মালিক’। রোববারের এই সফরে তিনি ইহুদি উপাসকদের জন্য আরও প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে চাপ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তার অফিস থেকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি বলেন, এখনো অনেক কাজ বাকি এবং আরও উন্নতি প্রয়োজন।
এই মন্তব্য আসে এমন সময়ে, যখন ইসরাইল ৪০ দিনের বেশি বন্ধ রাখার পর ফিলিস্তিনিদের জন্য আল-আকসা মসজিদ পুনরায় খুলে দিয়েছে। বন্ধের সময় রমজান, ঈদুল ফিতর ও শুক্রবারের নামাজেও ফিলিস্তিনিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল।
আল-আকসার তত্ত্বাবধায়ক জর্ডান এই সফরকে স্ট্যাটাস কো চুক্তির লঙ্ঘন এবং অগ্রহণযোগ্য উসকানি হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের দপ্তর সতর্ক করেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও অস্থির করে তুলতে পারে।
আল-আকসার ‘মালিক’ মন্তব্যে জর্ডান ও ফিলিস্তিনের নিন্দা
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু জানান, তেহরান ও তাদের সমর্থিত আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসরাইলের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এর আগে সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছালে এরদোয়ান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, যেকোনো ধরনের উসকানি থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে তিনি কাকে উদ্দেশ্য করে এই সতর্কতা দিয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি। এর প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু বলেন, এরদোয়ান ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে প্রশ্রয় দেন এবং নিজ দেশের কুর্দি জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালান।
এই মন্তব্য বিনিময় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির পর আঞ্চলিক উত্তেজনা ও ইসরাইল-তুরস্ক সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি নিয়ে এরদোয়ানকে সমালোচনা করলেন নেতানিয়াহু
শনিবার ইসরাইলের তেল আবিবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছে। আদালতের নির্ধারিত এক হাজার জনের সীমা অতিক্রম করলেও পুলিশ কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। এটি টানা ষষ্ঠ সপ্তাহের মতো অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, বিচারব্যবস্থা সংস্কার এবং অতিরক্ষণশীল ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতির প্রস্তাবের প্রতিবাদ জানায়। আয়োজকদের দাবি, হাবিমা স্কয়ারে প্রায় ১০ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল, যদিও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার বলে জানায়।
ইরান থেকে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আদালত বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সীমিত করে দেয়। অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা শিথিলতা এলেও সতর্কতামূলক সীমা বজায় রাখা হয়। জেরুজালেমের প্যারিস স্কয়ার ও হাইফাতেও শত শত মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়, যেখানে তিনজনকে আটক করে পরে জরিমানা দিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়।
দেশজুড়ে ছোট ছোট বিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা সরকারের নীতির প্রতি জনগণের অসন্তোষের ইঙ্গিত দেয়।
ইরান সংঘাতের মধ্যেও তেল আবিবে নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ
ইরানি সভ্যতাকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হন। ইরানি সংবাদমাধ্যম জানায়, এই যুদ্ধবিরতি ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বৈরিতার অবসান, তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখা, ইরানের মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলি আগ্রাসনের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী নৌযান থেকে ট্রানজিট ফি আদায়।
এই শর্তে স্থায়ী শান্তিচুক্তি হলে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বড় ধাক্কা খেতে পারে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহু এককভাবে ট্রাম্পকে ইরান আগ্রাসনে প্ররোচিত করেছিলেন। এখন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের প্রস্তাব মেনে নেয়, তবে ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, যা নেতানিয়াহুর আগ্রাসন পরিকল্পনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এই পরিস্থিতি ইসরাইলের আঞ্চলিক অবস্থান ও আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ‘ইবরাহিমি চুক্তি’ প্রকল্পকে হুমকির মুখে ফেলেছে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকলে উপসাগরীয় দেশগুলো তেল–গ্যাস রপ্তানিতে তেহরানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে, ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবও কমে যেতে পারে।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি নেতানিয়াহুর অবস্থান দুর্বল করে মধ্যপ্রাচ্যের ভারসাম্য বদলাতে পারে
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরান ও এর মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, তার নেতৃত্বে ইসরাইল ইরানের সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে সমালোচনা করে অভিযোগ করেন যে, এরদোয়ান ইরানকে সহযোগিতা করছেন এবং কুর্দিদের বিরুদ্ধে গণহত্যার জন্য দায়ী।
আল–জাজিরার বরাতে প্রকাশিত এই বক্তব্য ইসরাইল ও ইরানের চলমান উত্তেজনা এবং ইসরাইল–তুরস্ক সম্পর্কের টানাপোড়েনকে প্রতিফলিত করে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শক্তির মধ্যে পারস্পরিক অভিযোগ ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এসেছে।
এই অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, ইসরাইল ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি কঠোর নীতি অব্যাহত রাখবে, যা অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর করতে পারে।
ইরান ও মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিলেন নেতানিয়াহু
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননে চলমান আগ্রাসনের কারণে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। ইসরাইলি গণমাধ্যম হারেৎজ-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বৈরুতের ওপর হামলা বন্ধ করতে এবং লেবাননের সরকারের সঙ্গে সংলাপে যেতে আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, লেবানন সরকার ইরানের মধ্যস্থতা এড়াতে সরাসরি একজন ইসরাইলি প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়েছে, যদিও দেশটি তখনও আক্রমণের মুখে ছিল।
প্রাথমিক বৈঠকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ উভয় পক্ষের অবস্থান এখনো অনেক দূরে। বিশেষ করে চলমান হামলার মধ্যেই আলোচনা চালানো নিয়ে বড় মতপার্থক্য রয়েছে।
এদিকে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নেতানিয়াহুর ওপর চাপ বাড়ছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে তার জনপ্রিয়তা কমছে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট লিকুদ পার্টির চেয়ে বেশি আসন পেতে পারে বলে আলজাজিরা জানিয়েছে।
লেবানন আগ্রাসন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ চাপে নেতানিয়াহু
ইসরাইল আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবাননের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা শুরু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তবে এই আলোচনায় হিজবুল্লাহকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত মাইকেল লেটার জানান, হিজবুল্লাহ ইসরাইলে হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং এটি দুই দেশের মধ্যে শান্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈরুতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবানন ও ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে একটি টেলিফোন আলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় জানিয়েছে, মার্কিন মধ্যস্থতায় মঙ্গলবার ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হবে।
এই আলোচনাগুলো এমন সময়ে হচ্ছে যখন দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি শান্ত রাখতে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে।
ওয়াশিংটনে লেবাননের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় হিজবুল্লাহকে বাদ দিচ্ছে ইসরাইল
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৪২ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।