ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্যালুট জানিয়েছেন। রোববার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি ট্রাম্পকে স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে সাহসী ও ঐতিহাসিক নেতৃত্বের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি ট্রাম্পের দৃঢ় সংকল্প ও মার্কিন সেনাদের পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।
এই বিবৃতি আসে মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মনোযোগের মধ্যে। নেতানিয়াহুর বক্তব্যে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচারের পক্ষে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এতে দুই নেতার মধ্যে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও শাসন বিষয়ে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক অবস্থান প্রতিফলিত হয়েছে।
অন্য প্রতিবেদনগুলোতে ট্রাম্পের পদক্ষেপের আইনগত বৈধতা ও ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যদিও নেতানিয়াহুর বিবৃতি কেবল ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসাতেই সীমাবদ্ধ ছিল।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে সরানোর ঘটনায় ট্রাম্পকে প্রশংসা করলেন নেতানিয়াহু
গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে কার্যরত ৩৭টি ত্রাণ সংস্থার লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরাইল। এর মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ। ইসরাইল জানিয়েছে, নতুন নিবন্ধন নীতিমালার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে অ্যাকশন এইড, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি ও নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলসহ আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কয়েকটি সংস্থার লাইসেন্স স্থগিত হবে এবং ৬০ দিনের মধ্যে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ইসরাইলের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই পদক্ষেপ গাজায় ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত ও দুর্বল করবে। গুতেরেসের মতে, ইসরাইলের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ এবং তা অবিলম্বে বাতিল করা উচিত। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ইউএনআরডব্লিউএ জাতিসংঘের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ইসরাইলকে জাতিসংঘ সনদ ও বিশেষাধিকার সংক্রান্ত কনভেনশনের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতা স্মরণ করিয়ে দেন।
৩৭ ত্রাণ সংস্থার লাইসেন্স বাতিলে ইসরাইলকে জাতিসংঘ মহাসচিবের নিন্দা
ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীরের সা-নূর এলাকায় ১২৬টি অবৈধ আবাসন ইউনিট নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। বেসামরিক প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত উচ্চ পরিকল্পনা কাউন্সিল এই পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে, যার ফলে বসতি স্থাপনকারীরা সা-নূর চৌকিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাবে। ২০০৫ সালে তেলআবিব একতরফাভাবে এই এলাকা ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড থেকে আলাদা করে নেয়।
ইসরাইলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ২০২৪ সালের মার্চে ইসরাইলি পার্লামেন্ট ‘বিচ্ছিন্নতা আইন বাতিল’ বিল পাস করার পর এই অনুমোদন আসে। গত ২৩ ডিসেম্বর কট্টর-ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ ১২৬টি আবাসন ইউনিটের প্রস্তাব বিবেচনা করতে উচ্চ পরিকল্পনা পরিষদের বৈঠক আহ্বান করেন। চ্যানেল-৭ জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি প্রায় দুই মাসের মধ্যে কার্যকর হবে।
ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে, দখলকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি নির্মাণ বন্ধে ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এসব বসতি অবৈধ।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের সা-নূরে ১২৬টি অবৈধ বসতি স্থাপনের অনুমোদন ইসরাইলের
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক ‘হারেৎজ’ পত্রিকাকে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা যুদ্ধে ‘শত্রুদের সমর্থনের’ অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় পত্রিকাটির সঙ্গে বিজ্ঞাপন ও সম্পাদকীয় সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সব মন্ত্রণালয়, সরকারি বিজ্ঞাপনী সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোকে হারেৎজের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না রাখতে বলা হয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে গৃহীত সরকারি সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই বর্জন কার্যকর হয়েছে।
ইসরাইল সরকার জানিয়েছে, গাজা যুদ্ধ চলাকালে হারেৎজ এমন কিছু সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে যা ইসরাইলের বৈধতা ও আত্মরক্ষার অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সরকারের দাবি, কোনো সংবাদপত্র যদি শত্রুদের সমর্থন করে এবং আন্তর্জাতিকভাবে ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানায়, তবে তা মেনে নেওয়া হবে না।
এদিকে, ইসরাইলের অ্যাটর্নি জেনারেল সতর্ক করেছেন যে নতুন বিধিনিষেধ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং এতে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ঝুঁকি বাড়বে।
গাজা যুদ্ধের প্রতিবেদন নিয়ে হারেৎজকে সরকারি বর্জনের নির্দেশ নেতানিয়াহুর
ইসরাইল ফিলিস্তিনে ত্রাণ সহায়তা প্রদানকারী ৩৭টি সংস্থার লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির দাবি, এসব সংস্থা নতুন নিবন্ধন বিধিমালার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের কর্মীদের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য জমা দেয়নি। বিবিসির তথ্যমতে, অ্যাকশনএইড, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি ও নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর লাইসেন্স ১ জানুয়ারি থেকে স্থগিত হবে এবং ৬০ দিনের মধ্যে কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাজ্যসহ ১০টি দেশ। তারা বলেছে, নতুন নিয়মগুলো অতিরিক্ত কঠোর ও অগ্রহণযোগ্য। যৌথ বিবৃতিতে এসব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সতর্ক করেছেন, আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হলে গাজায় স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি সহায়তা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তারা ইসরাইলকে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন এনজিওগুলো টেকসইভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারে।
জাতিসংঘ-সমর্থিত হিউম্যানিটারিয়ান কান্ট্রি টিম আগেই সতর্ক করেছিল যে, ইসরাইলের নতুন নিবন্ধন নীতিমালা গাজা ও পশ্চিম তীরে এনজিও কার্যক্রমকে মৌলিকভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলছে এবং মানবিক নীতির ভিত্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে।
ফিলিস্তিনে ৩৭ ত্রাণ সংস্থার লাইসেন্স বাতিল করল ইসরাইল, আন্তর্জাতিক সমালোচনা
ইসরাইল যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় কর্মরত কয়েকটি দাতা ও মানবিক সংস্থার কার্যক্রম স্থগিতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তেলআবিবের অভিযোগ, এসব সংস্থা নতুন নিয়ম মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এবং এতে ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল, কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি, অক্সফাম ও কারিতাসসহ তিন ডজনেরও বেশি সংস্থা প্রভাবিত হবে। ইসরাইল বলছে, সংস্থাগুলো তাদের কর্মী, তহবিল ও কার্যক্রম সম্পর্কিত তথ্য ভাগ করে নেওয়ার শর্ত পূরণ করেনি।
ইসরাইল আরও অভিযোগ করেছে, ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস তাদের কিছু কর্মীর ভূমিকা স্পষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা হামাসের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। সংস্থাটি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ইসরাইলের সিদ্ধান্ত গাজায় তাদের চিকিৎসা কার্যক্রমে বিপর্যয় ডেকে আনবে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ইসরাইলের নতুন নিয়মকে স্বেচ্ছাচারী বলে অভিহিত করেছে, আর তেলআবিব জানিয়েছে, ৩৭টি সংস্থার পারমিট নবায়ন করা হয়নি।
এই পদক্ষেপ গাজায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
গাজায় নতুন নিয়ম না মানায় ৩০টির বেশি সংস্থার কার্যক্রম স্থগিতের হুঁশিয়ারি
হামাসের সঙ্গে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় গাজা থেকে আটক ১০ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরাইল। রোববার বার্তা সংস্থা আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্তদের আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) ডেইর আল-বালাহ এলাকার আল-আকসা মার্টার্স হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরাইলের কারাগারে ৯,৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও আছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বন্দির বিরুদ্ধে নির্যাতন, অনাহার ও চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, গাজায় চলমান যুদ্ধে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নিপীড়ন আরও বেড়েছে।
অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭০,৯০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১,৭১,২০০ জন আহত হয়েছেন। গাজার বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ে গাজা থেকে ১০ ফিলিস্তিনি মুক্তি দিয়েছে ইসরাইল
ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির দক্ষিণ ফিলিস্তিনের অধিকৃত নেগেভ অঞ্চলের তারাবিন বেদুইন গ্রাম পরিদর্শনে গেলে ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনিদের হামলার মুখে পড়েন। রোববার ইসরাইলি বাহিনী ওই গ্রামে অভিযান চালিয়ে কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করার পর এই ঘটনা ঘটে। পুলিশি অভিযানের তদারকি করতে গিয়ে বেন-গভিরের ওপর গ্রামবাসীরা পাথর নিক্ষেপ করে, ফলে তিনি কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীতে এলাকা ত্যাগ করেন।
চ্যানেল-১৪ জানায়, মন্ত্রীর সফরকালে গ্রামবাসীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে বেন-গভিরের দিকে পাথর ছোড়ে। সামাজিকমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায়, ফিলিস্তিনিরা পাথর ছুঁড়ছে এবং মন্ত্রী পুলিশি সুরক্ষায় এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন। ইসরাইলি পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে গ্রামবাসীদের ছত্রভঙ্গ করে।
মিডল ইস্ট আই সূত্রে জানা যায়, অধিকৃত নেগেভ অঞ্চলে ইসরাইলি অভিযান ও ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধের কারণে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
নেগেভে ফিলিস্তিনিদের পাথর নিক্ষেপে পালালেন ইসরাইলি মন্ত্রী বেন-গভির
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রোববার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করবেন এবং পরদিন ফ্লোরিডায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জেরুজালেমের এক ইসরাইলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। চলতি বছরে এটি হবে তাদের পঞ্চম সাক্ষাৎ, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে অগ্রগতি আনতে চাপ দিচ্ছে।
ইসরাইলি দৈনিক ইদিয়োথ আহরোনোথ জানিয়েছে, বৈঠকে ইরান, ইসরাইল-সিরিয়া নিরাপত্তা চুক্তি, লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এবং গাজা চুক্তির পরবর্তী ধাপসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। অক্টোবরে ওয়াশিংটন ও আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যস্থতায় হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে অগ্রগতি ধীর, উভয় পক্ষই একে অপরকে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ করছে এবং মধ্যস্থতাকারীরা আশঙ্কা করছেন প্রক্রিয়াটি ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠক গাজা চুক্তির পরবর্তী ধাপে অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি না হওয়ায় নেতানিয়াহুর ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
গাজা যুদ্ধবিরতি অগ্রগতি থমকে, ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে নেতানিয়াহু
ইসরাইলের প্রতি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের অনুমতি দিতে আহ্বান জানিয়েছে হামাস। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী এই সংগঠনটি ৪২ পৃষ্ঠার একটি নথি প্রকাশ করে ইসরাইলি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা বা নৃশংসতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। নথিতে ওই দিনের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ড এবং চলমান যুদ্ধ নিয়ে হামাসের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে।
নথিতে হামাস দাবি করেছে, পশ্চিমা গণমাধ্যম ও ইহুদিবাদী লবি গোষ্ঠীগুলো হামলার বিষয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়েছে এবং শিশু হত্যা ও নারী ধর্ষণের মতো মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে। হামাস বলেছে, এসব অভিযোগ গাজায় গণহত্যা চালানোর পথ প্রশস্ত করেছে। সংগঠনটি জানায়, হামলার পর তারা বেসামরিক বন্দিদের মুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল, যা ইসরাইল প্রথমে প্রত্যাখ্যান করে। পরে ২০২৩ সালের নভেম্বরে সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতির সময় প্রায় ১০০ জিম্মিকে বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া হয়।
নথিতে হামাস ৭৭ বছরের দখলদারিত্ব, ১৭ বছরের অবরোধ, অসলো চুক্তি লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক ব্যর্থতাকে হামলার পেছনের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। উপসংহারে বলা হয়, হামাস ফিলিস্তিনি জাতীয় কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ।
৭ অক্টোবরের হামলায় বেসামরিক হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আন্তর্জাতিক তদন্ত চায় হামাস
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে সাক্ষাৎ করবেন। বৈঠকে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়, যা ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহু এতে সন্তুষ্ট নন এবং এবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে লক্ষ্যবস্তু করছেন।
ইসরাইলি কর্মকর্তা ও তাদের মিত্ররা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সমস্যা দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছেন, যদিও বিশ্লেষকরা মনে করেন নতুন সংঘর্ষ ট্রাম্পের ঘোষিত বৈদেশিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনা তুসি বলেন, ট্রাম্প যেখানে ইসরাইল ও আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চান, নেতানিয়াহু সেখানে সামরিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ত্রিতা পারসি আলজাজিরাকে বলেন, ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে রাখতে চায় এবং পারমাণবিক ইস্যু সমাধানের ঘোষণার পর এখন ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে মনোযোগ দিচ্ছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে ট্রাম্পকে আরও পদক্ষেপে চাপ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ ঘোষণা করেছেন, তেলআবিব কখনোই গাজা ছাড়বে না। তিনি গাজা উপত্যকার চারপাশে একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার পাশাপাশি এর উত্তরাঞ্চলে বসতি স্থাপনের অনুমোদনের পরিকল্পনার কথা জানান। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন বলে আনাদোলু বার্তা সংস্থা জানিয়েছে। এর আগে মঙ্গলবারও তিনি উত্তর গাজায় বসতি নির্মাণের বিষয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরাইল ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু করে, যাতে ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হয়, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। ট্রাম্পের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরাইল প্রতিদিন তা লঙ্ঘন করছে, যার ফলে আরও ৪১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
কাৎজ বলেন, সময় এলে উত্তর গাজায় নাহাল আউটপোস্ট স্থাপন করা সম্ভব হবে এবং ইসরাইল গাজায় কার্যত নিজেদের সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ করবে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইল পশ্চিম তীরে সংযুক্তিকরণ, বাড়িঘর ধ্বংস ও বসতি সম্প্রসারণের পদক্ষেপ জোরদার করেছে, যা জাতিসংঘের প্রস্তাবিত দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানকে বিপন্ন করছে।
গাজা ছাড়বে না ইসরাইল, উত্তরাঞ্চলে নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা ও ডেনমার্কসহ ১৪টি দেশ অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১৯টি নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন দেওয়ায় ইসরাইলের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো বলেছে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে এবং গাজায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করছে।
বেলজিয়াম, জার্মানি, ইতালি, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, জাপান, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন ও যুক্তরাজ্যসহ দেশগুলো ইসরাইলকে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। তারা বসতি সম্প্রসারণ ও সংযুক্তির যেকোনো নীতির বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করে এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি সমর্থন জানায়। ইসরাইলের কট্টর-ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ বলেন, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা রোধের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ইসরাইলের পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জটিল করতে পারে এবং গাজা যুদ্ধবিরতি রক্ষার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে পারে। ঘটনাটি দুই-রাষ্ট্র সমাধান ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
পশ্চিম তীরে নতুন বসতি অনুমোদনে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ১৪ দেশের নিন্দা
ইসরাইলি সেনাবাহিনী বুধবার জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় ১৩ ডিসেম্বরের হামলায় নিহত হামাসের এক আর্থিক কর্মকর্তাকে তারা শনাক্ত করেছে। ওই হামলায় হামাসের সামরিক কমান্ডার রায়েদ সাদও নিহত হন। ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের যৌথ অভিযানে তারা একই গাড়িতে অবস্থানকালে নিহত হন। ইসরাইলের দাবি, রায়েদ সাদ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র অ্যাভিখাই আদ্রেয় জানান, নিহত কর্মকর্তা জাকুত হামাসের সশস্ত্র শাখার আর্থিক বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং গত এক বছরে সংগঠনের জন্য কয়েক মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ ও স্থানান্তরে যুক্ত ছিলেন। হামাস নেতা খলিল আল-হাইয়া রায়েদ সাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও জাকুতের নাম উল্লেখ করেননি।
এই ঘোষণা এমন সময়ে এলো, যখন ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরাইল ও হামাস পরস্পরের বিরুদ্ধে লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। ঘটনাটি ইসরাইলের হামাসের আর্থিক ও সামরিক কাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার কৌশলকে আরও স্পষ্ট করেছে।
গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত হামাসের আর্থিক কর্মকর্তা ও কমান্ডার রায়েদ সাদ শনাক্ত
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ ঘোষণা করেছেন যে, গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী কখনোই প্রত্যাহার করা হবে না। তিনি আরও জানান, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের উত্তর অংশে নতুন সামরিক ফাঁড়ি স্থাপন করা হবে। মঙ্গলবার ইসরাইলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের জন্য ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের ওপর জোর দিচ্ছেন।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেইত এল বসতিতে এক অনুষ্ঠানে কাৎজ বলেন, গাজায় অবস্থান ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। তার এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক চিফ অব স্টাফ গাদি আইজেনকোট, যিনি সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যমত্য নষ্ট করার অভিযোগ তুলেছেন।
এই অবস্থান চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার, অন্তর্বর্তীকালীন ফিলিস্তিনি প্রশাসন গঠন এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের কথা রয়েছে।
যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেই গাজা দখল ধরে রাখার ইঙ্গিত ইসরাইলের
ইসরায়েলের কট্টর-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য ‘কুমিরবেষ্টিত আটককেন্দ্র’ স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে কেউ পালাতে না পারে। ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল-১৩ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত স্থানটি উত্তর ইসরায়েলের হামাত গাদের এলাকায়, অধিকৃত সিরিয়ার গোলান মালভূমি ও জর্ডান সীমান্তের কাছে, যেখানে ইতিমধ্যেই একটি কুমির খামার ও চিড়িয়াখানা রয়েছে।
বেন-গভির গত সপ্তাহে কারা পরিষেবার কমিশনার কোবি ইয়াকোবির সঙ্গে বৈঠকে এই প্রস্তাব দেন। ইসরায়েলি পার্লামেন্টে শিগগিরই তার আরেকটি বিলের ওপর ভোট হবে, যেখানে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা বা অংশগ্রহণের অভিযোগে অভিযুক্ত ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তাব রয়েছে।
ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই প্রস্তাবকে অমানবিক ও উসকানিমূলক বলে নিন্দা জানিয়েছে। বর্তমানে ইসরায়েলে ৯৩০০-রও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছে, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও আছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৭০,৯০০-রও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
গোলান মালভূমির কাছে ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য কুমিরবেষ্টিত কারাগারের প্রস্তাব
ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১৯টি নতুন অবৈধ বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। রোববার প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, গত তিন বছরে অনুমোদিত অবৈধ বসতির সংখ্যা দাঁড়াল ৬৯টিতে। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, জুডিয়া ও সামেরিয়ায় এই বসতিগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্মোত্রিচ নিজেও পশ্চিম তীরের একজন বসতিস্থাপনকারী।
এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব এবং জাতিসংঘ। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, পশ্চিম তীরে ইসরাইলের দখলদারিত্ব ও বসতি সম্প্রসারণ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ইসরাইলকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করবে এবং ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনাকে জটিল করে তুলবে। জাতিসংঘের পরবর্তী অধিবেশনে বিষয়টি আলোচনার জন্য উত্থাপিত হতে পারে।
পশ্চিম তীরে ১৯টি নতুন বসতি অনুমোদনে জাতিসংঘ ও সৌদি আরবের নিন্দা
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চলতি মাসের শেষের দিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে এনবিসি নিউজ জানিয়েছে। বৈঠকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সম্প্রসারণ ও সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো এস্টেটে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ইসরাইলি সূত্রগুলো এনবিসিকে জানায়, জুন মাসে মার্কিন বিমান হামলার পর ইরান পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো পুনর্নির্মাণ করছে, যা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ইসরাইলি কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আগাম হামলার বিষয়ে অবহিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বছরের শুরুতে দুই দেশের মধ্যে দুই সপ্তাহব্যাপী সংঘাতের পর এটি নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইসরাইল ও ইরান উভয় পক্ষই এনবিসির প্রতিবেদনে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক ইসরাইলের ভবিষ্যৎ সামরিক পরিকল্পনায় মার্কিন সমর্থন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি ও সম্ভাব্য হামলা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন নেতানিয়াহু
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিভিন্ন দেশকে আহ্বান জানিয়েছে জার্মান মালিকানাধীন একটি পণ্যবাহী জাহাজকে ইসরাইলে পৌঁছাতে বাধা দিতে। সংস্থাটি জানিয়েছে, পর্তুগিজ পতাকাবাহী জাহাজটিতে প্রায় ৪৪০ টন মর্টার বোমার যন্ত্রাংশ, প্রজেক্টাইল এবং সামরিক মানের ইস্পাত রয়েছে, যা গাজায় সম্ভাব্য গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধে ব্যবহৃত হতে পারে।
অ্যামনেস্টির যাচাই অনুযায়ী, ‘হোলগার জি’ নামের জাহাজটি ১৬ নভেম্বর ভারত থেকে যাত্রা করে বর্তমানে ইসরাইলের হাইফা বন্দরের পথে রয়েছে। সংস্থার গবেষণা ও নীতি পরিচালক এরিকা গুয়েভারা রোসাস বলেছেন, এই প্রাণঘাতী সরঞ্জাম ইসরাইলে পৌঁছানো উচিত নয়, কারণ এটি ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অপরাধে ব্যবহারের ঝুঁকি বহন করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে স্বাভাবিক ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া রাষ্ট্রগুলো গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এই আহ্বান গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাণিজ্য ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন বিতর্ক উসকে দিতে পারে।
ইসরাইলে অস্ত্রবাহী জার্মান জাহাজ আটকানোর আহ্বান জানাল অ্যামনেস্টি
ইসরাইলের যুদ্ধ মন্ত্রিসভা গাজায় নতুন সামরিক আগ্রাসন শুরু করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন কান। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে বা মার্কিন নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন এলে গাজায় নতুন অভিযান শুরু করার বিকল্পও বিবেচনায় রয়েছে।
এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় ২৯ ডিসেম্বর ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর নির্ধারিত বৈঠকের আগে। একই সময়ে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ তুরস্ক, কাতার ও মিশরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা করবেন।
ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি দুই বছরের ইসরাইলি হামলার অবসান ঘটায়, যেখানে প্রায় ৭১ হাজার মানুষ নিহত হয়। নতুন আগ্রাসনের সম্ভাবনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মানবিক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টাকে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
মার্কিন নীতির পরিবর্তনের ইঙ্গিতে গাজায় নতুন আগ্রাসন ভাবছে ইসরাইল
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৭১ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।