সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডানাটা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলী আব্দুল্লাহ আলহামৌদি এ আগ্রহের কথা জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং বিমান ও পর্যটন খাতের উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনায় রাষ্ট্রদূত ডানাটার আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করলে প্রতিমন্ত্রী জানান, থার্ড টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি কার্যক্রম চলছে এবং ওআরএটি কার্যক্রম শুরু হলে সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে সরকার সব ধরনের উদ্যোগ নিতে প্রস্তুত এবং বিমানবন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং বিমান ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ জানান।
শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আগ্রহী ডানাটা
গত এক বছরে ভারতীয় রুপি বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে প্রায় ১০ শতাংশ অবমূল্যায়িত হয়েছে বলে ২১ মে ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে পাকিস্তানি রুপির বিপরীতে রুপির দরপতন হয়েছে ১১.৮৬ শতাংশ এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে বিনিময় হার নেমে এসেছে ৯৬.৯৬-এ। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্য এবং বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ কমে যাওয়াই এই পতনের মূল কারণ।
ভারতের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে রুপির ওপর চাপ বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা স্থবিরতা ও আন্তর্জাতিক বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীরা উদীয়মান বাজার থেকে অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন, যা বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ কমিয়ে দিচ্ছে। এতে রুপির মান আরও দুর্বল হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, রুপির অবমূল্যায়নে বিদেশে পড়াশোনা, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও আমদানি পণ্যের খরচ বাড়তে পারে। আমদানি ব্যয় রপ্তানি আয় ও মূলধন প্রবাহের তুলনায় দ্রুত বাড়লে ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতি আরও গভীর হতে পারে।
তেলের দাম ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় টাকার বিপরীতে রুপি ১০ শতাংশ কমেছে
বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি অবকাঠামো উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়নে সহযোগিতা বাড়াতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি এবং জাইকা বাংলাদেশের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন খাতের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকার যোগাযোগ খাতকে আধুনিক, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে কাজ করছে এবং এ ক্ষেত্রে জাইকার দীর্ঘদিনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জাইকা প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতেও বিভিন্ন প্রকল্পে সহযোগিতা জোরদারের আশ্বাস দেয়।
বাংলাদেশ ও জাইকা অবকাঠামো ও যোগাযোগ উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত
বাংলাদেশের কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ নিরাপদ খাদ্য রপ্তানি নিশ্চিত করতে কীটনাশক ব্যবহারে সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকার ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে আম রপ্তানির মৌসুম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে চলতি মৌসুমের আম রপ্তানির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্যের মধ্যে আম অন্যতম সম্ভাবনাময় পণ্য হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটি এখনো প্রত্যাশিত অবস্থানে পৌঁছায়নি। বর্তমানে ৩৮টি দেশে বাংলাদেশের আম রপ্তানি হচ্ছে এবং চীনের সঙ্গে ২০২৪ সালের চুক্তির ধারাবাহিকতায় রপ্তানি শুরু হয়েছে। মালয়েশিয়া ও জাপানসহ নতুন কয়েকটি দেশও আগ্রহ দেখিয়েছে। বক্তারা বলেন, মানসম্মত উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে সহায়তা বাড়ালে কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, চলতি মৌসুমে ইতালি, সুইডেন, কানাডা ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইতোমধ্যে ৪১ দশমিক ৫ মেট্রিক টন আম রপ্তানি হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, বিমান ভাড়া সহনীয় থাকলে এবং পর্যাপ্ত কার্গো স্পেস নিশ্চিত করা গেলে এ বছর রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড হতে পারে।
নিরাপদ আম রপ্তানিতে কীটনাশক ব্যবহারে সর্তক থাকার আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পদ্মা নদী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ করছে। রাতের অন্ধকারে চোরাকারবারিরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সীমান্ত পার হচ্ছে। এতে স্থানীয় খামারি ও ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে রয়েছেন। সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে বলে দাবি করলেও, চোরাচালান অব্যাহত রয়েছে এবং মাঝে মাঝে কিছু চালান আটক করা হচ্ছে।
খামারিরা জানান, ঈদে বিক্রির আশায় ধারদেনা ও ব্যাংকঋণ নিয়ে গরু লালন-পালন করেছেন তারা। কিন্তু গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও ভারতীয় গরুর অবাধ প্রবেশে বাজারে দাম কমে গেছে। এতে অনেকেই লোকসানের মুখে পড়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডেইরি অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, করোনার পর খামারিরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ভারতীয় গরুর কারণে তাদের স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে। তারা সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বিজিবি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, সীমান্ত দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু গরু এলেও সেগুলো জব্দ করা হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় গরু চোরাচালানে আতঙ্কে স্থানীয় খামারিরা
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পাঁচটি পশু হাটের ইজারা এখনো হয়নি। তিনটি হাটে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ এবং দুটি হাটে ইজারাদার সংকটের কারণে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা যায়নি। ঈদুল আজহার আগে এসব হাট বসানোর লক্ষ্যে চসিক কর্মকর্তারা জমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, এবার নগরে মোট ১০টি পশু হাট বসবে—এর মধ্যে তিনটি স্থায়ী ও সাতটি অস্থায়ী। স্থায়ী হাটগুলো সাগরিকা, বিবিরহাট ও পোস্তারপাড়ে ইতোমধ্যে ইজারা সম্পন্ন হয়েছে এবং বেচাকেনা শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসন ১৬টি হাটের অনুমতি চাওয়া হলেও অনুমোদন দিয়েছে সাতটির। এর মধ্যে তিনটির ইজারা সম্পন্ন হয়েছে, বাকিগুলোতে বিরোধ বা অন্যান্য জটিলতা রয়েছে। চলতি বছর চসিকের মোট রাজস্ব আয় দাঁড়াবে ১৩ কোটি ১১ লাখ টাকা, যার মধ্যে স্থায়ী হাট থেকে ৯ কোটি ৯৭ লাখ এবং অস্থায়ী হাট থেকে ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা আসবে।
চসিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিরোধপূর্ণ হাটগুলোর ইজারা আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং প্রয়োজনে আগের বছরের অঙ্কের সঙ্গে ছয় শতাংশ বাড়িয়ে প্রক্রিয়া শেষ করা হবে।
মালিকানা বিরোধে চট্টগ্রামের পাঁচ পশু হাটের ইজারা অনিশ্চিত
প্রায় তিন মাস বন্ধ থাকার পর ইরানের শেয়ারবাজার এই সপ্তাহে সীমিত আকারে পুনরায় চালু হয়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবার তেহরান স্টক এক্সচেঞ্জে নিয়ন্ত্রিত দুই দিনের লেনদেনের মাধ্যমে কিছু তারল্য সৃষ্টি হলেও প্রায় ৩৬ শতাংশ কোম্পানি, বিশেষ করে বড় পেট্রোকেমিক্যাল ও ইস্পাত প্রতিষ্ঠানগুলো, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাব থেকে শেয়ারহোল্ডারদের রক্ষার জন্য অফলাইনে ছিল। প্রতিদিন লেনদেনের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয় এবং বাজারে অস্থিরতা রোধে শেয়ারের দাম ওঠানামা তিন শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়।
কর্তৃপক্ষ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করলেও অর্থনৈতিক সংকট গভীর রয়ে গেছে। অর্থনীতিবিদ মেহদি হাঘবালি জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে কোম্পানিগুলো ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করতে পারছে না, আর ছোট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ও ঋণনির্ভর ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছে। এপ্রিলের শেষ দিকে মুদ্রাস্ফীতি ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায় এবং রিয়ালের অবমূল্যায়নে রপ্তানিমুখী কোম্পানিগুলো তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। তবে বাণিজ্য বিঘ্ন ও মূল্যবৃদ্ধি প্রকৃত মূল্য সৃষ্টিতে বাধা দিচ্ছে।
নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে সরকারের আর্থিক বিকল্প সীমিত। হাঘবালি বলেন, আমদানি সীমিতকরণ বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি ইরানের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে পারে।
যুদ্ধ ও মুদ্রাস্ফীতির চাপে তিন মাস পর ইরানের শেয়ারবাজার পুনরায় চালু
ভারত তার জ্বালানি সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করতে আগ্রহ দেখানোর পর যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে জ্বালানি রপ্তানি বাড়াচ্ছে। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর ব্লুমবার্গ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভারত বৈচিত্র্যকরণে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে, যার অর্থ আরও বেশি মার্কিন জ্বালানি কেনা। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের এই আগ্রহে সন্তুষ্ট।
রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য আসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আসন্ন ভারত সফরের ঠিক আগে। ধারণা করা হচ্ছে, সফরে জ্বালানি সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য সম্পর্কের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
এই প্রেক্ষাপটে রুবিওর সফরে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করতে পারে।
রুবিওর সফরের আগে ভারতে জ্বালানি রপ্তানি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে বুধবার অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আসন্ন মুদ্রানীতিতে সুদহার কমানো হবে কি না, তা নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে ঋণের সুদহার কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন, তবে নীতি সুদহার বৃদ্ধির কারণে ব্যাংক ঋণের হার এখনো উঁচু অবস্থায় রয়েছে।
বৈঠকে কয়েকজন কর্মকর্তা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সুদহার কমানোর পক্ষে মত দেন এবং আশপাশের দেশের তুলনায় উচ্চ সুদে ব্যবসা পরিচালনার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেন। অন্যদিকে কিছু কর্মকর্তা ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, কম সুদহার থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত বিনিয়োগ আসেনি। ডেপুটি গভর্নর জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগের সঙ্গে সুদহারের সম্পর্ক সীমিত। ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
বৈঠকে ভালো ব্যাংকগুলোর উচ্চ মুনাফা ও সুদের ব্যবধান বৃদ্ধির বিষয়ও আলোচিত হয়, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জুনে ঘোষিতব্য নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে।
সুদহার কমানো নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে
মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমে যায়। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে আসে, যা বাজারে বড় ধরনের পতন নির্দেশ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের মন্তব্যে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হলেও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, তবে তেহরান যদি শান্তিচুক্তিতে রাজি না হয়, তাহলে আরও হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এই বক্তব্যে একদিকে সমঝোতার আশা তৈরি হলেও অন্যদিকে নতুন উত্তেজনার সম্ভাবনাও রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে অনিশ্চয়তা এখনো বিদ্যমান, যা ভবিষ্যৎ মূল্য প্রবণতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিতে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমেছে
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ হাজার ৩৭৬ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন বা ৩৪ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (২০ মে ২০২৬) এ তথ্য জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩৪ হাজার ৩৭৬ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন ডলার এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভ দাঁড়ায় ২৯ হাজার ৭১৯ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন ডলারে।
এর আগের দিন ১৯ মে গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৪ হাজার ৩২৪ দশমিক ১২ মিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ২৯ হাজার ৬৬৫ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ মানদণ্ডে, যেখানে মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দেওয়া হয়।
রিজার্ভ বৃদ্ধির এই সামান্য অগ্রগতি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অবস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য থেকে জানা গেছে।
২০ মে পর্যন্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিট টানা প্রায় সাত মাস বন্ধ থাকার পর বুধবার বিকেল ৫টা ৪৬ মিনিটে পুনরায় উৎপাদনে ফিরে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে। কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বর্তমানে ইউনিটটি ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে এবং ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়ানো হবে। ইউনিটটি ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ওভারহলিংয়ের জন্য বন্ধ ছিল।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে, যার সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১ ও ২ নম্বর ইউনিটের ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট করে এবং ৩ নম্বর ইউনিটের ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট। বর্তমানে ১ ও ৩ নম্বর ইউনিট চালু রয়েছে এবং দুটি ইউনিট থেকে মোট ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। প্রধান প্রকৌশলী আশা প্রকাশ করেছেন, আগামীকাল পর্যন্ত উৎপাদন প্রায় ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে।
২০২০ সালের নভেম্বরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ২ নম্বর ইউনিটটি এখনও সচল হয়নি। সংশ্লিষ্টরা কার্যকর পদক্ষেপের অভাবকে এর দীর্ঘ অচলাবস্থার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সাত মাস পর বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩ নম্বর ইউনিটে উৎপাদন পুনরায় শুরু
আসন্ন জাতীয় বাজেট ও ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। বৈঠকে ব্যাংক খাতকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় রাজস্ব, নিয়ন্ত্রণমূলক ও কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়। বিএবি নেতারা ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির দুর্বলতা, শাসন ব্যর্থতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে জনআস্থা হ্রাসের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
বিএবি জানায়, ব্যাংকিং শিল্পের সামগ্রিক মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত প্রায় ৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা শিল্প প্রবৃদ্ধি, এসএমই অর্থায়ন ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বাধা সৃষ্টি করছে। সংগঠনটি দ্রুত আইনি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া, অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়। প্রস্তাবিত ব্যাংকিং রেজোলিউশন কাঠামোর কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা, যা বড় ঋণখেলাপিদের পুনরায় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফেরার সুযোগ দিতে পারে।
বৈঠকে কর্পোরেট কর ৩০ শতাংশে নামানো, ঋণ ক্ষতির পূর্ণ কর কর্তনযোগ্যতা, স্টক লভ্যাংশের অতিরিক্ত কর প্রত্যাহার, রাইটস শেয়ার অনুমোদন দ্রুত করা এবং একটি কেন্দ্রীয় অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিএবি সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরাতে সংস্কার ও কর ছাড়ের আহ্বান জানিয়েছে বিএবি
দেশের কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (সিএমএসএমই) জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংক পিএলসি দুটি গুরুত্বপূর্ণ রিফাইন্যান্স স্কিমে অংশ নিতে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় ‘ক্লাস্টার ফাইন্যান্সিং স্কিম’ এবং ‘এফএসএফডিএমএসএমই’ স্কিমের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহায়তা দেওয়া হবে, যার লক্ষ্য সিএমএসএমই খাতকে শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে গঠিত ১,৫০০ কোটি টাকার ঘূর্ণায়মান ফান্ডের আওতায় পরিচালিত ‘এফএসএফডিএমএসএমই’ স্কিম উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে স্বল্প সুদে ঋণ সহায়তা দেবে। অন্যদিকে, ৩,০০০ কোটি টাকার ‘ক্লাস্টার ফাইন্যান্সিং স্কিম’ ভৌগোলিকভাবে একত্রে অবস্থিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে সহায়তা করবে, যাতে তারা যৌথ সম্পদ ব্যবহার ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ পায়।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংক উভয় প্রতিষ্ঠানই নীতিমালা অনুসরণ করে স্কিমগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সিএমএসএমই খাতে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সিএমএসএমই ও ক্লাস্টারভিত্তিক অর্থায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংকের নতুন চুক্তি
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বাংলাদেশ আগামী তিন বছরের মধ্যে মাংস রপ্তানি শুরু করবে। তিনি জানান, কোনো জেনেটিক পরিবর্তন ছাড়াই প্রাকৃতিক ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ঘাস খাইয়ে উৎপাদিত মাংসই রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হবে। রাজধানীতে অনুষ্ঠিত “অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ রিসার্চ শোকেস” সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) ও অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে এবং অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়নে অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য এখন বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত ১৮ শতাংশ প্রোটিনসমৃদ্ধ নেপিয়ার ঘাস খরা-সহিষ্ণু এবং স্বল্প ব্যয়ী, যা মাংস উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য মাংসের দামও সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে।
সেমিনারে বক্তারা গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা পরিবেশবান্ধব প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস এবং টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
প্রাকৃতিক উচ্চ প্রোটিন ঘাসে গবাদিপশু খাইয়ে তিন বছরে মাংস রপ্তানির লক্ষ্য
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, সরকার জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে গ্যাস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে কাজ করছে। গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলার কামতা গ্যাস ফিল্ডে মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে তিনি জানান, কামতা-২ ও তিতাসের তিনটিসহ মোট চারটি নতুন কূপ খনন শুরু হয়েছে। এসব কূপ থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন গ্যাস উৎপাদন শুরু হলে গ্যাসের অভাবে বন্ধ থাকা কারখানাগুলো পুনরায় চালু হবে, ফলে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও কমবে। তিনি জানান, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকার ধীরে ধীরে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে স্বাবলম্বী হতে চায়। সরকারের মূল লক্ষ্য সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে অতিরিক্ত গ্যাস আমদানি করা কঠিন এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। শিল্প ও বিদ্যুৎ খাত গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার পাবে, এরপর আবাসিক গ্রাহকরা।
জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা কমাতে চারটি নতুন গ্যাস কূপ খনন শুরু
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এক সহযোগীর বরাতে জানা গেছে, রাশিয়া ও চীন ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প নিয়ে একটি সাধারণ সমঝোতায় পৌঁছেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিবছর রাশিয়া থেকে চীনে সর্বোচ্চ ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। পুতিনের প্রেস সচিব দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের জানান, কিছু বিষয় এখনো চূড়ান্ত না হলেও একটি মৌলিক সমঝোতা তৈরি হয়েছে। এই তথ্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম আরআইএ নভস্তি প্রকাশ করেছে।
পেসকভ আরও জানান, চীন ও রাশিয়ার এই সমঝোতার মধ্যে পাইপলাইনের রুট এবং নির্মাণ পদ্ধতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য বা সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর বা পরবর্তী ধাপের সময়সূচি উল্লেখ করা হয়নি।
এই সমঝোতা দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতায় নতুন অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও প্রকল্পের বাস্তবায়ন সময় এখনো অনিশ্চিত।
‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ গ্যাস পাইপলাইন নিয়ে চীন-রাশিয়ার সমঝোতা
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) স্টক এক্সচেঞ্জের এসএমই প্ল্যাটফর্মে ট্রেডিং ও কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফার (কিউআইও) সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। মঙ্গলবার বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর বাজারমূল্য বা ক্রয়মূল্যে (যেটি বেশি) ন্যূনতম ৩০ লাখ টাকার বিনিয়োগ থাকলে তিনি এসএমই প্ল্যাটফর্মে ট্রেডিংয়ের জন্য যোগ্য হবেন। বাংলাদেশে নিবন্ধিত সিকিউরিটিজ কাস্টোডিয়ানের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট থাকা বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও ট্রেডিং করতে পারবেন।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ব্যক্তি বিনিয়োগকারী ব্যতীত অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের কিউআইওতে আবেদনের জন্যও ন্যূনতম ৩০ লাখ টাকার বিনিয়োগ থাকতে হবে। ব্যক্তিগত (নিবাসী বা অনিবাসী) বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে কিউআইওতে আবেদন করতে ন্যূনতম ১০ লাখ টাকার বিনিয়োগ থাকতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিবন্ধিত কাস্টোডিয়ানের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) ও ডিপোজিটরি পার্টিসিপ্যান্টরা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের তথ্য স্টক এক্সচেঞ্জে দেবে। স্টক এক্সচেঞ্জগুলো কিউআইও সাবস্ক্রিপশন ও এসএমই ট্রেডিংয়ের জন্য পৃথক তালিকা সংরক্ষণ করবে। যেসব বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ ৩০ লাখ টাকার নিচে, তারা শুধু বিক্রি করতে পারবেন, নতুন শেয়ার কিনতে পারবেন না।
এসএমই ট্রেডিং ও কিউআইওতে অংশ নিতে ন্যূনতম ৩০ লাখ টাকার বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের আর্থিক খাতে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়। বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি), আইসিএবি ও আইসিএমএবি’র যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘এফএআর সামিট’-এ তিনি এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদনই দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের মূল শর্ত।
মন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অকার্যকারিতার কারণে আর্থিক খাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে এবং দুর্বল কোম্পানিগুলো মিথ্যা রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে প্রবেশ করেছে। তিনি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে হিসাববিদদের পেশাগত সততা বজায় রেখে স্বপ্রণোদিত নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানান।
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতি নতুন বিনিয়োগ আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং সরকার হংকং ও লন্ডনে বাংলাদেশ ডেডিকেটেড ফান্ড চালুর পাশাপাশি দেশীয় বন্ড চালুর পরিকল্পনা করছে। অর্থমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে স্বচ্ছ আর্থিক ইকোসিস্টেম গঠনে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের আর্থিক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পূর্ণ স্বচ্ছতার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সারা দেশে কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে, তবে ক্রেতার উপস্থিতি এখনো কম। ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে চলছে দরকষাকষি। কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় ১২ হাজার ১৬৫টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে চাহিদা ১১ হাজার ২৯০টি। ফলে ৮৭৫টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খামারিরা দেশি জাতের গরুর পাশাপাশি শাহিওয়াল, রেড সিন্ধি ও ফ্রিজিয়ান জাতের গরুও পালন করছেন।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় ২৩ হাজার ১৩৩টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে, যা স্থানীয় চাহিদার তুলনায় প্রায় ৬ হাজার বেশি। ভাউলাগঞ্জ, টেপ্রীগঞ্জসহ বিভিন্ন হাটে পশু উঠতে শুরু করেছে। উপজেলা প্রশাসন জাল টাকা শনাক্তকরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের ব্যবস্থা নিয়েছে। হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় ৫ হাজার ১৩৫টি পশু প্রস্তুত রয়েছে, তবে গো-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি খামারিদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তর পশুর সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়েছে।
পাবনার বেড়া উপজেলায় প্রচুর পশু উঠলেও বিক্রি কম। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ঢাকায় ডিজিটাল কোরবানির বাজারের প্রসার ঘটায় হাটে সরাসরি কেনাবেচা কমে গেছে।
ঈদুল আজহা সামনে রেখে পশুর হাটে সরবতা, তবে ক্রেতার উপস্থিতি কম
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৬০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন।