নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ী ও নওগাঁর পত্নীতলায় কম দামে ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না কৃষকেরা। এতে তারা ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। খালিয়াজুড়ীর হাওরাঞ্চলে আগামী বোরো মৌসুম নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, আর পত্নীতলায় আউশের ফলন ভালো হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় কৃষকেরা হতাশ। ভবিষ্যতে ধান উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সার, কীটনাশক, ডিজেল, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধিতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। খালিয়াজুড়ীতে এক মণ ধান উৎপাদনে এক হাজার টাকার বেশি খরচ হলেও কৃষকদের ৯০০ টাকা বা তারও কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। পত্নীতলায় বিঘাপ্রতি আউশ উৎপাদন ব্যয় ১৩ থেকে ১৬ হাজার টাকা, কিন্তু বাজারে ধানের দাম মণপ্রতি ৭৬০ থেকে ৮৫০ টাকা; গত বছর তা ছিল ১,২০০ থেকে ১,৪০০ টাকা।
কম লাভের প্রভাব খালিয়াজুড়ীর জমি পত্তন বাজারেও পড়েছে। এক জমির মালিক ১২ একর জমি আগামী বোরো মৌসুমের জন্য ৬৩ হাজার টাকায় পত্তন দিয়েছেন, যা আগের বছরের দুই লাখ টাকা থেকে অনেক কম। কৃষকেরা সিন্ডিকেটের অভিযোগ করলেও আড়তদাররা কাঁচা ধানের চাহিদা কমার কথা বলেছেন। কর্মকর্তারা ধান শুকিয়ে সংরক্ষণ করে পরে বিক্রির পরামর্শ দিয়েছেন।
কম দামে ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না কৃষকেরা
একটি মতামতধর্মী লেখায় বলা হয়েছে, সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। লেখাটির মতে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিন দফায় প্রকারভেদে জ্বালানির দাম ৩৫ থেকে ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে আগস্টে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৮ শতাংশ; জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির ফলে পণ্য ও সেবার ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে।
লেখক বাংলাদেশ অর্থনীতিকে মধ্যম মাত্রার স্ট্যাগফ্লেশনে আক্রান্ত বলে বর্ণনা করেছেন, যেখানে দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির সঙ্গে নিম্ন প্রবৃদ্ধি রয়েছে। তাঁর মতে, জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে এবং বিনিয়োগের দুর্বলতার কারণে প্রবৃদ্ধি কম থাকলে পরিস্থিতি তীব্র হতে পারে। সরকার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের বার্ষিক ১০ হাজার কোটি টাকার লোকসান ঠেকানোর যুক্তিতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে।
লেখাটিতে বিপিসির কাঠামোগত দুর্বলতা, অদক্ষতা ও অনিয়মের অভিযোগ মোকাবিলার দাবি জানানো হয়েছে। বিপিসির নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত সংস্থাটি তেল বিক্রি করে ৫৫ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। লেখক জ্বালানি তেলের দাম পুনঃসমন্বয় এবং তুলনামূলক জনবান্ধব বিকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি, প্রবৃদ্ধি ও বিপিসির জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগ
সরকারের পর্যাপ্ত মজুতের দাবির মধ্যেও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় সার বিতরণ নিয়ে সংকট ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে। বোরো মৌসুমের আগে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারের ঘাটতি হবে না বলে সরকার জানিয়েছে। কিন্তু ১৬ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে ভোর থেকে হাজারো কৃষক লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদামতো সার পাননি বলে অভিযোগ করেন। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন ডিলার ৫৬০ বস্তা সার বিতরণ করলেও চাহিদা ছিল প্রায় ৫ হাজার বস্তা। সার না পাওয়ার অভিযোগে ২০ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামে মহাসড়ক অবরোধও হয়।
প্রতিবেদনে বারবার ডিলার নিয়োগ নীতির পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগকে সংকটের কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৫ সালের পরিবর্তিত নীতিতে প্রতি ইউনিয়নে তিনজন ডিলার ও প্রত্যেকের অধীনে দুজন খুচরা বিক্রেতার ব্যবস্থা করা হয়। কৃষিবিদ ড. মনিরুজ্জামান এ নীতিকে ভুল বলে একচেটিয়া ব্যবসার আশঙ্কা করেন। বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, মাঠপর্যায়ের প্রকৃত চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম এবং পুরোনো নীতিতে বণ্টনের কারণেও সংকট হচ্ছে।
নীতিমালা-২০২৬-এর অস্পষ্টতা দূর না হওয়া পর্যন্ত নতুন নিয়োগ স্থগিতের দাবি জানিয়েছে বিএফএ। অনিয়ম দমনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, জরিমানা, মামলা এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল বা ডিলারশিপ স্থগিত করা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত ও অনিয়ম বন্ধ করাই নীতির উদ্দেশ্য। সরকার পরিস্থিতি নিয়মিত তদারকি করছে এবং নতুন ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া শিগগির সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে।
ডিলার নীতি বদলের মধ্যে উত্তরাঞ্চলে সার না পেয়ে কৃষকদের ভোগান্তির অভিযোগ
ভারত থেকে ইলিশ আমদানির অনুমোদনের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের অজান্তে সামনে আসার পর আমদানি তালিকা থেকে ইলিশ বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। বিষয়টি জানার পর মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি স্থগিত করা হয় এবং অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হয়েছিল, তা জানতে মৎস্য অধিদপ্তরের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বের মোট ইলিশ উৎপাদনের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বাংলাদেশে হয়। দেশের চাহিদার কারণে সরকার ২০১২ সাল থেকে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করে। পরে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এক মাসের জন্য বিশেষ রপ্তানি অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এ বছরও ভারতে ইলিশ পাঠানোর অনুমতি চেয়ে দেশটির ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমদানি পণ্যের তালিকায় এখনো ইলিশের নাম আছে, তবে দেশের স্বার্থ ও অভ্যন্তরীণ বাজার সুরক্ষায় ভারত থেকে আমদানি আপাতত বন্ধ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে জটিলতা এড়াতে তালিকা থেকে ইলিশের নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. খালেদ কনক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
ভারত থেকে ইলিশ আমদানি স্থগিত, আমদানি তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ
মৌলভীবাজারে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে আগাম ও রবি মৌসুমের টমেটো চাষ এবং চারা উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক ও উদ্যোক্তারা। বিশেষ করে কমলগঞ্জে উৎপাদিত টমেটো ও গ্রাফটিং চারা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। জেলায় এখন পর্যন্ত ৬৫ লাখের বেশি চারা উৎপাদিত হয়েছে, যা প্রতিটি ১২ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ বছর রবি মৌসুমে ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে টমেটো আবাদ হয়েছে।
খরিফ-১ মৌসুমে আগাম জাতের টমেটো ১৩০ হেক্টর এবং গ্রীষ্মকালীন টমেটো ১৯ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, সার ও কীটনাশকের দাম বেশি, ব্যবহৃত কীটনাশকে রোগবালাইও সারছে না। কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পরিদর্শন, পরামর্শ বা সরকারি প্রণোদনা দেন না বলেও তারা দাবি করেন। আমদানি করা টমেটো ও কাঁচা মরিচের প্রভাবে এ বছর টমেটোর দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
কমলগঞ্জের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, ৬০ হেক্টর জমিতে আগাম টমেটো চাষ হয়েছে এবং গ্রাফটিং চারায় ফলন ভালো হয়। উপজেলা প্রশাসন প্রণোদনা ও নদীর বাঁধ মেরামতের উদ্যোগের কথা বলেছে; এ পর্যন্ত ৩৮০ কৃষকের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হিমাগার স্থাপনে আলোচনা চলার কথা জানিয়েছে।
মৌলভীবাজারে গ্রাফটিং টমেটো চারা বিক্রি বাড়লেও কম দামে ক্ষতির শঙ্কা
বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে একটি স্কিম অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো আভিভা ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। বৃহস্পতিবার গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় সিদ্ধান্তটি হয়। ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রাথমিকভাবে মূল আমানতের সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা ফেরত পাবেন।
স্কিমে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা আমানতের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হবে। ১ কোটি থেকে দেড় কোটি টাকার আমানতে প্রথম ১ কোটি টাকার জন্য ৮০ লাখ টাকা এবং বাকি অংশের ৫০ শতাংশ মিলবে। দেড় কোটি থেকে ২ কোটি টাকার ক্ষেত্রে প্রথম দেড় কোটি টাকার জন্য ১ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং অতিরিক্ত অংশের ৪০ শতাংশ ফেরত দেওয়া হবে।
২ কোটি টাকা বা তার বেশি আমানত থাকলে প্রথম ২ কোটি টাকার বিপরীতে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং অতিরিক্ত অংশের ৩০ শতাংশ ফেরত পাবেন আমানতকারীরা। গত ৯ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক চার প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশ এবং মোট আমানত ১২ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা।
বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা চার এনবিএফআইয়ের আমানতকারীদের জন্য ফেরত স্কিম অনুমোদন
ক্যাশলেস লেনদেনের সুযোগ বাড়াতে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে (রাকাব) ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) ও বাংলা কিউআর সেবা চালু হয়েছে। বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর রাজশাহী নগরীর আমানা বিগ বাজার ও ফ্লিটবাই সুপার শপে কেনাকাটার মাধ্যমে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী আব্দুর রহমান নতুন ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এনপিএসবি সেবা চালুর ফলে রাকাবের গ্রাহকেরা নিজেদের হিসাব থেকে অন্য যেকোনো ব্যাংকের হিসাবে দ্রুত অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন। অন্যদিকে, রাকাবের নিজস্ব ই-ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করে বাংলা কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে দোকান, সুপারশপ ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পণ্য এবং সেবার মূল্য পরিশোধ করা যাবে। এতে নগদ টাকা বহনের প্রয়োজন কমবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসন ও পরিচালন মহাবিভাগের মহাব্যবস্থাপক তাজ উদ্দীন আহম্মদ, আইসিটি সিস্টেম ও আইসিটি অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তা এবং প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, এ সেবায় শাখায় যাওয়ার প্রয়োজন কমবে এবং ছুটির দিনসহ বছরের ৩৬৫ দিন যেকোনো স্থান থেকে নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন করা যাবে।
দ্রুত আন্তঃব্যাংক লেনদেন ও কিউআর পেমেন্টে রাকাবে চালু এনপিএসবি ও বাংলা কিউআর
মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেছেন, দেশটির শ্রমবাজারে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে, বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে। বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি স্থানীয় হোটেলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকীন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন। সভায় ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহসভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।
লিউ চিন টং বলেন, মালয়েশিয়ার আইসিটি খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে তারা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কাজের সুযোগ পেতে পারে। তাসকীন আহমেদ জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে দুই সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর জোর দেন।
তাসকীন আহমেদ জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে এবং মালয়েশীয় রপ্তানিকারকেরা এ বাজারে কার্যক্রম বাড়াতে পারেন। লিউ বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আধুনিক করা প্রয়োজন; ইসলামিক ফাইন্যান্সে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা অনুসরণযোগ্য হতে পারে।
প্রশিক্ষিত বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার আইসিটি খাতে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাথমিকভাবে চারটি ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন দিয়েছে। অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বিকাশ, বুস্ট-রবি, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান-ডিকে এবং নোভা ডিজিটাল ব্যাংক-বাংলালিংক অ্যান্ড স্কয়ার। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় তাদের লেটার অব ইনটেন্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের জন্য এর আগে ১২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছিল। আবেদনকারীদের মধ্যে ছিল ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, আমার ডিজিটাল ব্যাংক-২২ এমএফআই, ৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, আমার ব্যাংক, অ্যাপ ব্যাংক-ফার্মারস, মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক এবং মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক-আকিজ। অনুমোদিত চারটি প্রতিষ্ঠানও ওই আবেদনকারীদের তালিকায় ছিল।
আওয়ামী সরকারের আমলে ২০২৩ সালের অক্টোবরে নগদ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি ও কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসিকে অনুমোদন দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তখন ৫২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নগদের লাইসেন্সের বিষয়টি পর্যালোচনায় রাখা হয় এবং কড়িকে নীতিমালার শর্ত পূরণে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবারের সভায় নতুন চারটির পাশাপাশি কড়িকেও প্রাথমিক লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।
চার প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংককে লেটার অব ইনটেন্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের
বাংলাদেশ ব্যাংক কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা নেওয়ার আবেদনের সময়সীমা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এই সুবিধায় খেলাপি ঋণের স্থিতির ওপর ২ শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে পরবর্তী দুই বছরের জন্য ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এবং সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, কাঁচা পাট রপ্তানি খাতে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে আগের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর শর্ত পূরণ করতে গিয়ে রপ্তানিকারকেরা সমস্যার মুখে পড়েছেন। কাঁচা পাট রপ্তানিজনিত জটিলতার কারণে খাতটির গ্রাহকেরা প্রয়োজনীয় এককালীন অর্থ জমা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পুনঃতফসিল সুবিধার আবেদন এখনো জমা দিতে পারেননি।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় ডাউন পেমেন্ট পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে সব আবেদন আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। এর আগেও কয়েক দফায় কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের ঋণ পুনঃতফসিলের মেয়াদ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের ঋণ পুনঃতফসিল আবেদনের সময় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ল
২০২৭ সালের পবিত্র হজ নিবন্ধনের অর্থ জমা দেওয়ার সুবিধার্থে আগামী শুক্র ও শনিবার সংশ্লিষ্ট সব ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। হজের অর্থ গ্রহণকারী শাখাগুলো ওই দুই দিন স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করে। আদেশটি সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
নির্ধারিত ব্যাংকিং লেনদেনের সময় শেষ হওয়ার পরও হজের অর্থ জমা দিতে ইচ্ছুক গ্রাহক শাখায় উপস্থিত থাকলে তাদের অর্থ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। গ্রাহকরা যতক্ষণ উপস্থিত থাকবেন, ততক্ষণ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অর্থ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
২০২৭ সালের হজ নিবন্ধনের অর্থ জমায় শুক্র ও শনিবার ব্যাংক শাখা খোলা থাকবে
চামড়া ও পাদুকা শিল্পের সমস্যা চিহ্নিত, দেশীয় বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং রপ্তানি বাড়াতে বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করছে সরকার। বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান জানিয়েছেন, রোডম্যাপের খসড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় দশম বাংলাদেশ লেদার অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপো ২০২৬-এর উদ্বোধনে তিনি এ কথা বলেন।
চামড়া শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নে বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তৈরি হওয়া কর্মমুখী রোডম্যাপে ট্যানারি মালিক, প্রস্তুতকারক, ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তিবিদদের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং চাহিদা প্রতিফলিত করার কথা বলেন সচিব। তিনি জানান, দেশে কাঁচামাল রয়েছে ও প্রযুক্তিবিদদের সক্ষমতা বেড়েছে; দেশীয় চামড়াজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগও আছে।
বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা ও মানদণ্ড পূরণে পরিবেশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও বাজার-তথ্য বিষয়ে সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ ও জাতীয় ট্রেসেবিলিটি কাঠামো তৈরি করছে। ২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলা প্রদর্শনীতে ২৫০টির বেশি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।
চামড়া ও পাদুকা শিল্পের রোডম্যাপ খসড়ায় অংশীজনের মতামত নেবে সরকার
নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, সামুদ্রিক খাতের উন্নয়ন এবং চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল সক্ষমতা ও সেবার মান বাড়াতে বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগ ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, চট্টগ্রামে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি প্রাঙ্গণে বিশ্ব নৌ দিবস ও একাডেমির ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতে বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। দেশে মেরিন একাডেমি, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, বন্দর কর্তৃপক্ষ, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে সমন্বিত উদ্যোগ, বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের বিবেচনা এবং দৃঢ় অঙ্গীকারের ঘাটতি আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, খাতটির বাধা চিহ্নিত করে তা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে বন্দর ও কনটেইনার ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো হবে। সরকার মেরিটাইম ক্যাডেটদের এক বছরের সমুদ্র প্রশিক্ষণ নিশ্চিত এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নাবিকদের ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানেও কাজ করছে। নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া বলেন, সামুদ্রিক পেশাজীবী সরবরাহে প্রায় ৫০তম অবস্থান থেকে শীর্ষ ১০-এ যেতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সামুদ্রিক খাত ও চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে বিদেশি সহায়তা নিচ্ছে বাংলাদেশ
নৌপরিবহন, রেলপথ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, নৌবাণিজ্য খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আনতে মেরিন ক্যাডেটদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বাড়াতে হবে। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বিশ্ব সামুদ্রিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকার নৌবাণিজ্য খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কাজ করছে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং, এনসিটি ও বে-টার্মিনালের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে কার্যক্রম নিয়েছে। খাতে বিনিয়োগের জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে এবং কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। মেরিনারদের প্রতিবন্ধকতা দূর ও সম্ভাবনা কাজে লাগানোর কথাও জানান তিনি।
প্রশিক্ষণ শেষে জাহাজে চাকরির আগে এক বছরের প্রশিক্ষণের বাধ্যবাধকতা কমানো বা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি জাহাজে কাজ শুরুর বিষয়ে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। বিদেশি জাহাজে চাকরির ভিসা জটিলতা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার কথাও বলেন। কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন কাজী এবিএম শামীম দক্ষ জনবল, আধুনিক প্রযুক্তি, নিরাপদ নেভিগেশন ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন।
নৌবাণিজ্যে বিদেশি বিনিয়োগে মেরিন ক্যাডেটদের দক্ষতা বাড়ানোর আহ্বান
গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতিতে বাংলাদেশে শিল্পকারখানার উৎপাদন আবার স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তারা। গত কয়েক মাসের গ্যাস সংকটে সৃষ্ট উৎপাদন ঘাটতি পূরণে উদ্যোক্তারা বাড়তি কর্মঘণ্টা এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও উৎপাদন চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন। গ্যাসনির্ভর শিল্পে সরবরাহ পরিস্থিতি ভালো হওয়ায় উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছিল, যার প্রভাব পড়েছিল শিল্প, কৃষি ও জনজীবনে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া এবং সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের বাড়তি জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয় বহন করতে হয়েছে। বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম ফজলুল হক বলেন, বর্তমানে গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ উন্নত হওয়ায় কারখানার উৎপাদন আগের তুলনায় অনেক ভালো হচ্ছে।
রেজা গ্রুপের চেয়ারম্যান শহীদ রেজা শিমুল জানান, ঘাটতি পোষাতে কিছু কারখানায় প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা অতিরিক্ত কাজ এবং শুক্রবারও উৎপাদন চালানো হচ্ছে। সরবরাহ বন্ধের সময়ে জেনারেটর ব্যবহারে ব্যয় ও ব্যবস্থাপনার চাপ বেড়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিজিএমইএর সহসভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান বর্তমান উৎপাদন পরিস্থিতিকে খুব ভালো বলেছেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, গ্যাস সরবরাহের উন্নতি অব্যাহত থাকলে উৎপাদন আরও বাড়বে।
গ্যাস সরবরাহ উন্নত হওয়ায় কারখানায় উৎপাদন বাড়ছে, ঘাটতি পূরণে চলছে অতিরিক্ত কাজ
সরকার জাতীয় বেতনস্কেলের আওতাভুক্ত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সুবেদার মেজর ও তদনিম্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের মাসিক সীমান্ত ভাতা পুনর্নির্ধারণ করেছে। নতুন হার ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। এর আগের সময়, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্টরা বিদ্যমান হারেই ভাতা পাবেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের প্রবিধি-৪ শাখা এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে।
জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী গ্রেড ও চাকরির বয়স বিবেচনায় ভাতার হার নির্ধারণ করা হয়েছে এবং চাকরির বয়স বাড়লে ভাতার পরিমাণও বাড়বে। গ্রেড-২০ কর্মচারীদের জন্য মাসিক ভাতা পাঁচ বছরের কম চাকরিতে ১ হাজার ৪৪০ টাকা থেকে ২০ বছর বা তার বেশি চাকরিতে ৩ হাজার ১২০ টাকা হবে। গ্রেড-৬ কর্মচারীরা একই সেবাকালভেদে ৩ হাজার ২৪০ টাকা থেকে ৬ হাজার ৪৮০ টাকা পাবেন।
ভাতার ক্ষেত্রে চাকরির বয়সের পাঁচটি ধাপ রাখা হয়েছে: পাঁচ বছরের কম, পাঁচ থেকে ১০ বছরের কম, ১০ থেকে ১৫ বছরের কম, ১৫ থেকে ২০ বছরের কম এবং ২০ বছর বা তার বেশি। প্রেষণে নিয়োজিত কোনো কর্মচারী সীমান্ত ভাতা নিলে তিনি নিজ বাহিনীর নির্ধারিত ঝুঁকি ভাতা, বিশেষ ভাতা বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা সার্ভিস ভাতা পাবেন না।
২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বিজিবির সীমান্ত ভাতার নতুন হার কার্যকর হবে
সরকার জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর বা এনএসআইয়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারীদের বিশেষ ভাতা ২০ শতাংশ বাড়িয়েছে। জাতীয় বেতনস্কেলের আওতাভুক্ত সব স্তরের এনএসআই কর্মচারী এই সুবিধা পাবেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের জারি করা গেজেট অনুযায়ী, বর্ধিত হারের ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের প্রবিধি-৪ শাখা এ-সংক্রান্ত গেজেটটি ১৭ সেপ্টেম্বর জারি করে, যা বুধবার প্রকাশ করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গেজেটে স্বাক্ষর করেন অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মো. ফেরদৌস আলম। ২০২৬ সালের ৩০ জুন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা যে পরিমাণ বিশেষ ভাতা পেতেন, তার সঙ্গে ২০ শতাংশ যোগ করে নতুন ভাতার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এনএসআই কর্মচারীরা আগের নিয়মে বিশেষ ভাতা পাবেন; এ সময় ২০১৪ সালের ১ সেপ্টেম্বরের অর্থ বিভাগের স্মারক অনুসরণ করা হবে। জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী মূল বেতনের নির্দিষ্ট শতাংশ হিসেবে এ ভাতা নির্ধারণ হবে না। প্রেষণে থাকা কোনো কর্মচারী এনএসআইয়ের বিশেষ ভাতা নিলে তিনি নিজ বাহিনীর ঝুঁকি ভাতা, বিশেষ ভাতা বা প্রযোজ্য প্রতিরক্ষা সার্ভিস ভাতা পাবেন না।
২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এনএসআই কর্মীদের বিশেষ ভাতা ২০ শতাংশ বাড়ছে
জাতীয় বেতনস্কেলের আওতাভুক্ত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নে (এসআরবি) কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসিক বিশেষ ভাতা পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের প্রবিধি-৪ শাখা এ বিষয়ে গেজেট জারি করেছে। নতুন হারের ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। গেজেটটি ১৭ সেপ্টেম্বর জারি করা হয় এবং বুধবার প্রকাশ করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোতে এসআরবির মহাপরিচালক মাসে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ২৬ হাজার ৪০০ টাকা এবং পরিচালক ১৯ হাজার ২০০ টাকা বিশেষ ভাতা পাবেন। উপপরিচালক, নির্বাহী প্রকৌশলী ও সিস্টেম অ্যানালিস্ট পাবেন ১৫ হাজার ৬০০ টাকা। সিনিয়র সহকারী পরিচালক, নেট প্রশাসক, ল অফিসার ও কম্পিউটার প্রোগ্রামারের ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার টাকা। অন্যান্য পদের ভাতা ৩ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ১০ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে রাখা হয়েছে।
গেজেট অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্মরতরা অর্থ বিভাগের ২০১৫ সালের ১৮ অক্টোবরের সংশ্লিষ্ট স্মারক অনুযায়ী বিশেষ ভাতা পাবেন। প্রেষণে নিয়োজিত কোনো কর্মচারী এসআরবির বিশেষ ভাতা নিলে তিনি নিজ বাহিনীর নির্ধারিত বিশেষ ভাতা, ঝুঁকি ভাতা অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা সার্ভিস ভাতা পাবেন না।
এসআরবির পুনর্নির্ধারিত বিশেষ ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি
নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কড়া মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ে সরবরাহ, মূল্য স্থিতিশীলতা ও সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। ব্যবসায়ী সংগঠন, আমদানিকারক, উৎপাদক এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর তাগিদও দেওয়া হয়েছে।
সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে আদার দাম কিছুটা কমলেও চাল, ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, আলু, পেঁয়াজ ও ডিমসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম বেড়েছে। কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে নিয়মিত মাঠপর্যায়ের নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেট বা অসাধু গোষ্ঠী দাম বাড়ালে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে নজরদারি বাড়ানো হবে। কমিশনের তথ্যে, ১ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর সময়ে মসুর ডাল আমদানি ৪২ হাজার টন থেকে বেড়ে এক লাখ ছয় হাজার টনে এবং ভোজ্যতেলের সিড আমদানি দুই লাখ ৭৩ হাজার টন থেকে তিন লাখ ৮৬ হাজার টনে উঠেছে। কমিশন সামগ্রিক আমদানি ও পাইপলাইন পরিস্থিতিকে ইতিবাচক বলেছে।
নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখতে কড়া নজরদারির নির্দেশ
বাংলাদেশের আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। নিউইয়র্কে বাংলাদেশ বিমান ও মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে, যা বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টা ১৫ মিনিট।
এক বিবৃতিতে ক্রিস্টেনসেন বিশ্বের সেরা বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের আরও ১১টি কেনার চুক্তির জন্য বোয়িং ও বিমানকে অভিনন্দন জানান। তিনি এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য আরেকটি উভয়পক্ষের জয় হিসেবে উল্লেখ করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের সঙ্গে একই সময়ে আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে থাকার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
বিমান কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ১১টি উড়োজাহাজ ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তির আওতায় পরিকল্পিত ১৪টি উড়োজাহাজের অতিরিক্ত। এতে বোয়িং থেকে বিমানের পরিকল্পিত উড়োজাহাজ সংগ্রহ ২৫টিতে দাঁড়াবে। অতিরিক্ত উড়োজাহাজগুলোর মডেল, মূল্য, অর্থায়নের শর্ত ও সরবরাহসূচি প্রকাশ করা হয়নি। বিমান আলাদাভাবে ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাবও বিবেচনা করছে।
বিমানের আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তকে স্বাগত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৪৭ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।