পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী বলেছে, দেশটির বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের দ্রুত ও সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। প্রতিরক্ষা ও শহীদ দিবসের ৬১তম বার্ষিকীতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআরের বিবৃতিতে এ সতর্কতা দেওয়া হয়। এ উপলক্ষে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরসহ সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা দেশের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একই সঙ্গে তারা বলেছে, পাকিস্তান এ অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি চায় এবং দায়িত্বশীল আচরণ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এই প্রতিশ্রুতিকে দুর্বলতা হিসেবে ভুল না বোঝার আহ্বান জানানো হয়েছে। আসিম মুনিরের সঙ্গে নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমদ বাবর সিধু, ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের কমান্ডার জেনারেল সৈয়দ আমের রাজা এবং অন্যান্য সদস্য শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তারা শহীদ পরিবার, যুদ্ধে আহত এবং বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখা সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সামরিক বাহিনী ৬ সেপ্টেম্বরকে জাতীয় ঐক্য, সাহস ও দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বলেছে, রোববার ভোরে তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও একটি নৌযুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। ইরানের দাবি, জাহাজ দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সংঘর্ষের এলাকা ছেড়ে যায়। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনায় প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজ দুটি ইরানি নৌযানকে হয়রানি করছিল এবং সামুদ্রিক অবরোধে অংশ নিচ্ছিল। আইআরজিসি বলেছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দুই নৌযানের ওপর হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে, যা তারা নিজেদের অভিযানের সত্যতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালিয়ে গেলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আরও ভারী জবাব দেবে বলেও সতর্ক করেছে তারা। বিবৃতিতে জাহাজগুলোর নাম বা অবস্থান উল্লেখ করা হয়নি। তবে সেন্টকম জানিয়েছে, আঞ্চলিক জলসীমায় টহলরত দুটি মার্কিন নৌযান লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, কিন্তু জাহাজ দুটি হামলা এড়িয়ে যায় এবং কোনো মার্কিন সেনা আহত হয়নি। এরপর মার্কিন বাহিনী ইরানের তিনটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায় বলে সেন্টকম জানায়। ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ঘিরে সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
একদল বিজ্ঞানী চাঁদের মাটি পরীক্ষা করে ভিনগ্রহের প্রযুক্তির ক্ষুদ্র ধ্বংসাবশেষ খোঁজার প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁদের অনুমান, মিল্কিওয়ে ছায়াপথে কখনো প্রযুক্তিসম্পন্ন সভ্যতা থাকলে তাদের অবকাঠামোর ক্ষুদ্র কণা মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে চাঁদের পৃষ্ঠে জমা হতে পারে। এসইটিআই ইনস্টিটিউটের সহযোগী বিজ্ঞানী ও বির্কবেক কলেজের গবেষক লুইস পিনোর নেতৃত্বে হওয়া গবেষণাপত্রটি ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব অ্যাস্ট্রোবায়োলজি-তে পর্যালোচনাধীন। গবেষকেরা এসব কল্পিত কণার নাম দিয়েছেন ‘আর্কিপভ পার্টিকল’, ইউক্রেনীয় গবেষক আলেক্সি ভি. আরখিপভের নামে। ক্ষুদ্র সক্রিয় ভিনগ্রহের যন্ত্রের সম্ভাব্য নাম রাখা হয়েছে ‘ব্রেসওয়েল পার্টিকল’। গবেষণার সঙ্গে যুক্ত নন এসইটিআই ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী সোফিয়া শেখ; তিনি ধারণাটিকে সৃজনশীল ও অনুসরণযোগ্য পথ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞানীরা প্রায় এক ঘনমিটার বা ৩৫ ঘনফুট চাঁদের মাটি সংগ্রহ ও বিশেষ যন্ত্রে ছেঁকে কৃত্রিম কণা শনাক্তের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে পাওয়া কণা মানুষের মহাকাশ অভিযানের ধ্বংসাবশেষও হতে পারে। তাই সেটি পৃথিবীর তৈরি নাকি ভিনগ্রহের, তা নির্ধারণে রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য বা কেমিক্যাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষা করতে হবে। সহলেখক ইয়ান ক্রফোর্ড সম্ভাবনাকে খুব কম বললেও একটি নিশ্চিত কণার আবিষ্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন।
গাজায় ওষুধ প্রবেশে ইসরাইল বাধা দিচ্ছে বলে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের মন্তব্যের পর তাকে ইহুদিবিদ্বেষী বলে অভিযুক্ত করেছেন ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হাকাবি এই অভিযোগ তোলেন। হাকাবি লিখেছেন, ব্রিটিশ সরকারের ইহুদিবিদ্বেষের কোনো সীমা নেই এবং তারা কোনো তথ্যের তোয়াক্কা করে না। একই পোস্টে তিনি বলেন, ব্রিটিশরা তাদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। হাকাবির এই মন্তব্যের বিষয়ে মিলিব্যান্ড বা ব্রিটিশ সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়ার কথা সূত্রে উল্লেখ নেই। এর আগে ইনস্টাগ্রামে মিলিব্যান্ড বলেন, তিনি গাজায় থাকা কয়েকজন মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সেখানকার ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা জেনেছেন। বিশেষজ্ঞদের বরাতে তিনি বলেন, গাজায় ওষুধ ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং জীবন রক্ষাকারী জরুরি চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা শিশুরা মারা যাচ্ছে। মিলিব্যান্ড নিজেও ইহুদি; ওষুধ প্রবেশে বাধা ও শিশুদের চিকিৎসা না পাওয়ার বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার পরই হাকাবি তাকে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগে অভিযুক্ত করেন।
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের অদূরের একটি বিমানঘাঁটিতে শনিবার বিমান প্রদর্শনীতে কসরত দেখানোর সময় একটি এফ-৪ ফ্যান্টম যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলট নিহত হয়েছেন। গ্রিসের বার্তাসংস্থা এএনএর বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। বিমানটি কী কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে, তা তখনও জানা যায়নি। প্রদর্শনী দেখতে যাওয়া এক ব্যক্তি মুঠোফোনে দুর্ঘটনার মুহূর্ত ধারণ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, উড্ডয়নের পর যুদ্ধবিমানটি দর্শকদের সামনে কসরত করছিল। একপর্যায়ে সেটি হঠাৎ ওপর থেকে নিচে নামতে শুরু করে এবং দর্শকসারি থেকে কিছুটা দূরে মাটিতে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার আগে দুই পাইলট বিমান থেকে বের হতে পারেননি; বিমানের ভেতরেই পুড়ে তাদের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। দুই পাইলটের মৃত্যুর পর বিমান প্রদর্শনীর আয়োজন বাতিল করা হয়। খবর পেয়ে গ্রিসের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিকোস দেনদিয়াস তাঁর বিদেশ সফর বাতিল করেন এবং ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের তেলবাহী ট্যাংকার এম/টি কায়লো ওমান উপসাগরে ডুবে গেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক ইউনিট সেন্টকম। রোববার সকালে প্রকাশিত সেন্টকমের ভিডিওতে হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকারটিকে ধীরে ধীরে পানিতে তলিয়ে যেতে দেখা যায়। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার কায়লোসহ তিনটি ট্যাংকারে হামলা চালায় মার্কিন সেনারা। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড তাদের একটি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালানোর জবাবে ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এক্সে সেন্টকম বলেছে, মার্কিন সেনাদের পেশাদারিত্ব ও নিখুঁততার কারণে কায়লো ডুবে গেছে। সংস্থাটি মন্তব্য করেছে, ট্যাংকারটি এখন সমুদ্রের নিচে থাকা ইরানের নৌবাহিনীর সঙ্গে যোগ দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস এবং অধিকাংশ যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি করে আসছে। পাল্টা হামলায় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড তিনটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা এবং অনুমতিবিহীন রুটে চলাচলের অভিযোগে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কথা জানিয়েছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে হামেদান-সানান্দাজ মহাসড়কে শনিবার সড়ক দুর্ঘটনার পর একটি জ্বালানি ট্যাংকার বিস্ফোরণে অন্তত ১১ জন নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি হতাহতের তথ্য জানিয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স বলেছে, ট্যাংকারটির কারিগরি ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সানান্দাজ শহরের গভর্নর জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর ট্যাংকারটিতে আগুন ধরে যায় এবং পরে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। নিহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। কর্মকর্তারা বলেছেন, হতাহতের যে সংখ্যা জানানো হয়েছে তা প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া; পরিস্থিতি এবং উদ্ধারকাজ এগোলে এ সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। ইরানে জ্বালানি ট্যাংকার ও বাস জড়িত ভয়াবহ দুর্ঘটনা নতুন নয়। দুর্বল সড়কব্যবস্থা, পুরোনো যানবাহন এবং অতিরিক্ত ভারী যান চলাচলকে এ ধরনের ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে সানান্দাজের কাছে একটি ট্যাংকার থেমে থাকা বাসে ধাক্কা দিলে অন্তত ১৩ জন নিহত হন। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে সড়ক দুর্ঘটনার হার বিশ্ব গড়ের প্রায় ২০ গুণ বেশি।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসি বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের অনুমতি দেওয়ার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে গোপনীয় প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। ১১ সদস্যের বিশেষ কমিটির মতামতের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনটি ১৯ জুলাই পাঠানো হয়। সরকার যখন বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপণন নীতিমালা ২০২৬ প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে, তখন এ প্রতিবেদন দেওয়া হলো। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসরকারি অংশগ্রহণে কৃত্রিম সংকট, মজুতদারি, সরবরাহ বিঘ্ন, সিন্ডিকেট, ভেজাল এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিসহ নয় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে বা ডলারের সংকট হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আমদানি কমাতে বা বিলম্বিত করতে পারে বলে কমিটির আশঙ্কা। এতে সরকারি রাজস্ব কমবে এবং পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েলের ওপর চাপ পড়বে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। দেশে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা ৬৮ থেকে ৭০ লাখ টন; এর প্রায় ৬৫ শতাংশই ডিজেল। বিপিসি জানিয়েছে, তাদের দেশব্যাপী মজুত, পরিবহন ও বিপণন অবকাঠামো রয়েছে এবং গত পাঁচ বছরে সরকারকে ৭১ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে। কমিটি সরকারি নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে ২০২৩ সালের নীতিমালার আওতায় বেসরকারি রিফাইনারি ও অপরিশোধিত তেল আমদানিতে উৎসাহ দেওয়ার সুপারিশ করেছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে চিকিৎসা শিক্ষার উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে আধুনিক ও যোগ্যতাভিত্তিক এমবিবিএস পাঠ্যক্রম চালুর জন্য অর্থায়নের ঘোষণা রয়েছে। বিদ্যমান ও অব্যবহৃত অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে কয়েকটি আধুনিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের জন্যও আর্থিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। লেখাটিতে বলা হয়েছে, দক্ষ জনবলের ঘাটতি, সেবাবৈষম্য ও প্রশাসনিক দুর্বলতাসহ স্বাস্থ্য খাতের সমস্যার টেকসই সমাধানে চিকিৎসা শিক্ষার মৌলিক উন্নয়ন জরুরি। লেখাটি বলছে, বরাদ্দ থাকলেই সংস্কার হবে না; স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্যশিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভাগকে সঠিক কর্মপরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। রোগীর ইতিহাস নেওয়া, শারীরিক পরীক্ষা, সম্ভাব্য রোগনির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ধারাবাহিক ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি জোরদারের প্রস্তাব করা হয়েছে। রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসার ধারাবাহিকতা, জবাবদিহিতা ও গবেষণার জন্য মেডিকেল ডকুমেন্টেশনকে শুরু থেকেই অপরিহার্য দক্ষতা হিসেবে শেখানোর কথাও বলা হয়েছে। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষক উন্নয়ন, চিকিৎসা-নৈতিকতা ও বায়োএথিক্স, রোগীকেন্দ্রিক যোগাযোগ, পুনর্বাসন ও উপশমমূলক সেবা, গবেষণা শিক্ষা এবং নিবন্ধন নবায়নের সঙ্গে CME ও CPD বাধ্যতামূলক করা। ডিজিটাল শিক্ষা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মেডিকেল কলেজে পাঠদান ও ক্লিনিক্যাল আলোচনা সম্প্রসারণ করা যেতে পারে, তবে তা শয্যাপাশে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের বিকল্প নয়।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে দ্রুত হিমবাহ গলা, পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা ও ধারাবাহিক দুর্যোগে হিমালয় গভীর সংকটে পড়েছে। গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তে হিমবাহ ও পাথর ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু এবং পাঁচ হাজার মানুষের নিখোঁজ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিপর্যয়ের জন্য নেপাল জলবায়ু পরিবর্তনকে প্রধানত দায়ী করেছে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল ঘটনাটিকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সরাসরি ফল বলে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কাছে এ দাবি জানানো হয়েছে। নিবন্ধ অনুযায়ী, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে নেপালের অংশ ০.১ শতাংশের কম। গত তিন দশকে হিমালয় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বরফ হারিয়েছে এবং ২০০০ সালের পর বরফ গলার গতি দ্বিগুণ হয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়। নিবন্ধটি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানের সমন্বিত অববাহিকাভিত্তিক পরিকল্পনার আহ্বান জানিয়েছে। হিমালয় থেকে উৎসারিত নদীগুলোর ওপর প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। হিমবাহ ধস, আকস্মিক বন্যা ও পানি কমে যাওয়ার ঝুঁকি দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি, জলবিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও জনজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ডিমেনশিয়ার উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই আলঝেইমারের বিকাশ ঠেকানো যায় কি না, তা জানতে ‘প্রিভেনট্রন’ নামে তৃতীয় ধাপের আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হচ্ছে। ভবিষ্যতে আলঝেইমারের ঝুঁকি বেশি এমন ৫৫ থেকে ৮০ বছর বয়সি প্রায় ১ হাজার ৬০০ সুস্থ মধ্যবয়সি মানুষ বিভিন্ন দেশ থেকে এতে অংশ নেবেন। যুক্তরাজ্যের সারে অ্যান্ড বর্ডারস পার্টনারশিপ এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট গবেষণাটি পরিচালনা করছে এবং সোমবার ইউরোপের প্রথম অংশগ্রহণকারীদের পরীক্ষা হবে। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে নেওয়া অংশগ্রহণকারীদের আগে স্মৃতিসংক্রান্ত কোনো সমস্যা আছে কি না পরীক্ষা করা হবে। পরে তাঁদের রক্তে পি-টাউ২১৭ জৈবচিহ্নের মাত্রা মাপা হবে, যা ভবিষ্যৎ চিন্তাশক্তি হ্রাস ও আলঝেইমারের ঝুঁকির ইঙ্গিত দিতে পারে। আগের একটি গবেষণায় সর্বোচ্চ মাত্রার ব্যক্তিদের ১০ বছরের মধ্যে চিন্তাশক্তি কমার আনুমানিক ৭৮ শতাংশ ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। অন্য গবেষণায় এ পরীক্ষার নির্ভুলতা ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে দেখা গেছে। পরীক্ষার শর্ত পূরণকারী এবং পি-টাউ২১৭-এর মাত্রা বেশি এমন ব্যক্তিদের রোশের তৈরি ট্রন্টিনেম্যাব দেওয়া হবে। ওষুধটি মস্তিষ্কের অ্যামাইলয়েড প্ল্যাকের বিরুদ্ধে কাজ করে। প্রাথমিক পরীক্ষায় ২৮ সপ্তাহে ১০ জনের মধ্যে ৯ জনের প্ল্যাক পরিষ্কার হলেও ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে এটি কার্যকর কি না এখনো নিশ্চিত নয়।
২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে লেবাননে ইসরাইলি হামলায় ৮ হাজার ৯২৫ জন নিহত এবং আরও ৩০ হাজার ৫৯৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির জনস্বাস্থ্যবিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত মার্চে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর ৪ হাজার ৩৫৮ জন নিহত ও ১২ হাজার ৩৫৯ জন আহত হয়েছেন। দক্ষিণ লেবানন ও নাবতিয়েহ এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রায় সব প্রদেশেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নিহত ও আহতদের ৯৪ শতাংশ লেবাননের নাগরিক। বাকিদের মধ্যে সিরীয়, ফিলিস্তিনি এবং অন্যান্য দেশের নাগরিক রয়েছেন। হতাহতদের ৮৬ শতাংশ পুরুষ এবং প্রায় এক-চতুর্থাংশের বয়স ১৮ বছরের কম। ইসরাইলের দাবি, তারা লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে; তবে এসব হামলায় ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের কথা বলা হয়েছে। হামলায় লেবাননের স্বাস্থ্যসেবা খাতও বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। অ্যাম্বুলেন্সকর্মীদের ওপর ১৮০টি হামলায় ১৩৫ স্বাস্থ্যকর্মী নিহত এবং ৪১৬ জন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ১৮৪টি অ্যাম্বুলেন্স ও ১৭টি হাসপাতাল; এর মধ্যে তিনটি হাসপাতাল পুরোপুরি কার্যক্রম বন্ধ করেছে। মার্চে ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর লেবাননে ইসরাইলি হামলা জোরদার হয়।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে শনিবার দেশটির দক্ষিণপশ্চিমে সংঘর্ষে ৬০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। চিকিৎসা ও সামরিক সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে বেসামরিক মানুষও রয়েছেন। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর এটি দেশটির অন্যতম তীব্র লড়াই হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর তিনটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক ঘণ্টার লড়াইয়ে সরকারি বাহিনীর ২৬ সেনা নিহত হন। অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর চিকিৎসা ও সামরিক সূত্র জানিয়েছে, একই সংঘর্ষে ৩১ জন বিদ্রোহী যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা তায়িজ শহরের একটি মেডিকেল সূত্র বলেছে, যাত্রীবাহী একটি বাসে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ছয় বেসামরিক নিহত এবং আরও সাতজন আহত হন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার শুক্রবার হুথিদের অবস্থানে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালায়, যার ফলে দুই পক্ষের সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে তীব্র হয়ে ওঠে।
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার নবীর বাজার এলাকায় পুলিশ দেখে দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে মো. সোহাগ চৌধুরী (৩৫) নামে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত সোহাগ চৌধুরী চর উরিয়া গ্রামের নুর নবী চৌধুরীর ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি একাধিক মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে চরজব্বর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। পুলিশ সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চরজব্বর থানা পুলিশের একটি দল সোহাগকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে পড়ে যান। চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল হাসান বলেন, পুলিশ দেখে দৌড়ে পালানোর সময় সোহাগ আহত হন; পরে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় একমাত্র সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মনিরা খাতুন নামে ২৫ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর তিন বছর বয়সী ছেলে ইভান গুরুতর আহত হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার মাছপাড়া রেলগেট এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, বাড়ির পাশের রেললাইনের ওপর ছাতা হাতে বসে ছিল ইভান। ট্রেন আসার শব্দ শুনে তাকে বাঁচাতে দ্রুত এগিয়ে যান মনিরা খাতুন। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত ইভানকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। মনিরা খাতুন মাছপাড়া ইউনিয়নের কানুখালী গ্রামের আজম প্রামাণিকের স্ত্রী। রাজবাড়ী জিআরপি থানা পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।