Web Analytics
দেশ / Country

হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম ইরানের লেবাননের প্রতি অটল সমর্থন এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের জন্য প্রশংসা করেছেন। বৈরুতে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে, কাসেম ইরানের ভূমিকা লেবাননের ঐক্য, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি লেবানন ও ইরানের সম্পর্ককে এই অঞ্চলে প্রতিরোধ ও অধ্যবসায়ের একটি স্তম্ভ হিসেবে বর্ণনা করেন। একদিনের সফরে লারিজানি লেবাননের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদের সভাপতির সঙ্গে বৈঠক করেন।

ইয়েমেনের হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসরায়েলের চারটি প্রধান স্থানে—হাইফা বন্দর, নেগেভ, উম্ম আল-রশরাশ (আইলাত) এবং বিরসেবা—হামলার দাবি করেছে। তারা বলছে, হামলাগুলি গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং নিরীহ নাগরিকদের মৃত্যুর জবাবে করা হয়েছে। ছয়টি ড্রোন সব লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। হুথিরা সতর্ক করেছে, ইসরায়েল আগ্রাসন বন্ধ না করলে এবং অবরোধ তুলে না নিলে হামলা চলবে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, শেষ ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৭৩ জন নিহত এবং অনাহারে মৃত্যু বাড়ছে, যার মধ্যে শিশু রয়েছে। হাইফা বন্দরের হামলা সবচেয়ে বড় দাবিকৃত ঘটনা।

ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের দিকে হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইয়েমেনি হুথিরা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্ত আরব দেশগুলোকে সতর্ক করেছে। সিনিয়র হুথি নেতা হিজাম আল-আসাদ সমস্ত শিপিং কোম্পানিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যারা ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা করে, তাদেরকে লক্ষ্য করে নৌ অভিযান চালানোর কথা ঘোষণা করেছেন। হুথিরা গাজার অবরোধে কিছু আরব ও মুসলিম সরকারের অংশগ্রহণকে নিন্দা জানিয়েছে। মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলছেন, ইসরায়েলি আগ্রাসন থামানো ও অবরোধ উঠে না গেলে তাদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ইসরাইলের তেল আবিব, আশকেলন ও হাইফাসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ইসরাইলি সেনাবাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হলে লোকজনকে আশ্রয়ে যেতে বলা হয়, পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আশ্রয় ত্যাগের অনুমতি দেওয়া হয়। এর আগে হুথিরা ইসরাইলি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছিল।

ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ইয়েমেন হাইপারসনিক ‘ফিলিস্তিন-২’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী। যার ফলে বহু মানুষজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বিমান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। ইয়েমেন গাজার ওপর ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাবে এ হামলা চালিয়েছে বলে জানায় এবং আগ্রাসন ও অবরোধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। ইসরায়েলি গণমাধ্যম বিমানবন্দরের সাময়িক বন্ধ এবং বাসিন্দাদের আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান নিশ্চিত করেছে। এটি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইয়েমেন থেকে দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।

হুথি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও চারটি ড্রোন দিয়ে ইসরাইলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা চালিয়েছে—বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর, নেগেভ মরুভূমির সামরিক ঘাঁটি এবং অধিকৃত ইলাতের লোহিত সাগর বন্দরে। হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রতিবাদে আরও হামলার হুঁশিয়ারি দেন। এই হামলা ইয়েমেনের আরোপিত নৌ অবরোধের ফলে সৃষ্ট ঋণ সংকটজনিত কারণে ইলাত বন্দর বন্ধের ঘোষণার পর আসে।

ইয়েমেনের আল-কায়েদা শাখার নেতা সাদ বিন আতেফ আল-আউলাকি ৩০ মিনিটের এক ভিডিওবার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ধনকুবের ইলন মাস্ককে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। তিনি গাজার পরিস্থিতি ‘সব রেডলাইন অতিক্রম’ করেছে উল্লেখ করে প্রতিশোধ গ্রহণকে ‘বৈধ’ ঘোষণা করেছেন। ভিডিওতে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের ছবি দেখা যায়। ২০০৯ সালে গঠিত এই শাখাটি ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর থেকে সবচেয়ে ভয়ংকর বলে বিবেচিত। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভিডিওটি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ইয়েমেনের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রয়েছে।

ইয়েমেনের হুথি আনসারুল্লাহ সশস্ত্র বাহিনী গাজার অবরুদ্ধ মানুষের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইসরাইল অধিকৃত ভূখণ্ডে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই হামলা ইসরাইলি বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, যদিও কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ইয়েমেনি নেতারা বলেন, এই হামলাগুলো গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাবে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রতিরোধ কৌশলের অংশ। অক্টোবর ২০২৩ থেকে হুথিরা বারবার ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছে।

গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৬০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।