মে ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাত নিয়ে ভারতের নতুন একটি ডকুমেন্টারিকে তথ্যগতভাবে ভুল বলে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। ১৮ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আইএসপিআর অভিযোগ করেছে যে ডকুমেন্টারিটি অপারেশনাল ফলাফল ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে। পাকিস্তান এই যুদ্ধকে ‘মারকা-ই-হক’ নামে অভিহিত করে।
আইএসপিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, বলিউডধর্মী সিনেমাটিক পুনর্নির্মাণ ও বাছাই করা সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ঘটনাগুলোকে অন্যভাবে দেখানো হয়েছে। তারা ১৬ এপ্রিল ২০২৫ সেনাপ্রধানের একটি বক্তব্যের সঙ্গে ২২ এপ্রিলের পাহালগাম হামলার যোগসূত্র স্থাপনের ভারতীয় প্রচেষ্টাও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। পাকিস্তান আরও বলেছে, ৭ মে প্রতিশোধমূলক অপারেশন সিন্দুরের দাবি এবং ২৮ জুলাই কথিত হামলাকারীদের নির্মূলের ঘোষণার মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে।
ভারতের শতভাগ মিশন সফলতার দাবিও নাকচ করেছে আইএসপিআর। তাদের দাবি, পাকিস্তানি বাহিনী সীমান্তপারের অভিযান প্রতিহত করে ভারতের আটটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে এবং পরবর্তী পাল্টা অভিযানে ভারতের ২৬টি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করেছে। আইএসপিআর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ডিজিএমও পর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগে লড়াই বন্ধ হয়। ভবিষ্যৎ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় জবাবের সতর্কতাও দিয়েছে তারা।
অপারেশন সিন্দুর নিয়ে ভারতীয় ডকুমেন্টারির দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ৭ আগস্ট ২০২৬ সালে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হওয়া এ চুক্তি পশ্চিম এশিয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ও ভূকৌশলগত সম্পর্কও বদলে দিতে পারে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, চুক্তিটি পারস্পরিক প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াবে এবং অঞ্চল ও এর বাইরের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করবে। প্রতিবেদনে সৌদি আরবের অর্থসম্পদ ও জ্বালানি প্রভাব, পাকিস্তানের যুদ্ধঅভিজ্ঞ বাহিনী ও পারমাণবিক সক্ষমতা, এবং তুরস্কের ন্যাটো অভিজ্ঞতা ও প্রতিরক্ষা শিল্পকে পরিপূরক শক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। যৌথ মহড়া, গোয়েন্দা সহযোগিতা, বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং অস্ত্র উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিন দেশ বলেছে, এ জোট ইরানের বিরুদ্ধে নয়; ইরানও উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চুক্তির জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক শান্তির ওপর প্রভাব পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সক্ষমতা বাড়লে ভারতের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং বাংলাদেশও তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে পুরোনো সম্পর্কের কারণে এ প্রতিরক্ষা বলয় থেকে লাভবান হতে পারে।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা চুক্তির দক্ষিণ এশীয় প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ
দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত সেকেন্ড থমাস শোল এলাকায় চীন ও ফিলিপাইনের সাম্প্রতিক সংঘাত এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। ফিলিপাইনের পুরোনো যুদ্ধজাহাজ সিয়েরা মাদ্রেকে ঘিরে চীনা কোস্ট গার্ডের সঙ্গে সংঘর্ষে এক ফিলিপিনো সেনা আহত হন। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রায় ফিলিপাইনের দাবির পক্ষে থাকলেও চীন তা মানেনি।
যুক্তরাষ্ট্র ফিলিপাইনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে, কিন্তু ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক শক্তি ও সম্পদের বড় অংশ ব্যস্ত থাকায় চীন মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের সক্ষমতা নিয়ে এশীয় দেশগুলোর উদ্বেগ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ঘাটতিতে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। চীন পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে সামরিক শক্তির বার্তা দিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুর্বল করছে—এমন অভিযোগের মধ্যে জাপান ও ইন্দোনেশিয়ায় কয়েকটি মার্কিন কনস্যুলেট বন্ধের সিদ্ধান্ত সমালোচিত হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যয় ও সামরিক সমন্বয় বাড়াতে বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ফিলিপাইনের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে এবং জাপানও ফিলিপাইনের সঙ্গে মহড়ায় অংশ নিচ্ছে।
ইরান যুদ্ধের ব্যস্ততায় এশিয়ায় চীন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দুর্বলতা ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। ১০ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ক্রমবর্ধমান হুমকি স্পষ্ট করেছে। প্রতিবেদনে সাম্প্রতিক জর্ডান হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
পত্রিকাটির ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সামরিক ও বেসামরিক কর্মীদের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান পশ্চিম এশিয়াজুড়ে দুই হাজারের বেশি বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। আটটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ব্যবহৃত অন্তত ২০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের হিসাবে, সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর ক্ষতি প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার এবং ৪২টির বেশি মার্কিন সামরিক বিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস বলেছে, পাঁচ মাসের যুদ্ধে দেড় হাজারের বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ বহু অস্ত্র ব্যবহারে মজুত কমেছে; তা পুনরায় পূরণে অন্তত দুই বছর লাগতে পারে।
ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি সুরক্ষা ও অস্ত্রভান্ডার নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে
পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং অন্যান্য সংঘর্ষে প্রায় ৭০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ৭ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, আহতদের অধিকাংশের ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরি বা মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যা হয়েছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রতিবেদনে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের একটি প্রতিবেদন উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়। সংঘাতগুলো কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই।
সামরিক কর্মকর্তাদের প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, আহত সেনাদের অধিকাংশ পরে আবার দায়িত্বে ফিরেছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিভিন্ন সংবাদসূত্র এর আগে দাবি করেছিল যে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত সংখ্যা গোপন করছে। মার্কিন সরকারি সূত্রে এ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৮ মার্কিন সেনা নিহত এবং ৫০০-এর বেশি সেনা আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ায় হামলা ও সংঘর্ষে প্রায় ৭০০ মার্কিন সেনা আহত হওয়ার দাবি
এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে জাপানের টোকিও মহানগর এলাকার হিনো শহরের তামা জুলজিক্যাল পার্কে এক সপ্তাহে তিনটি মাদি সিংহ মারা গেছে। ২৮ জুলাই তিন বছর বয়সী মুগি, তিন দিন পর ১১ বছর বয়সী ইচিগো এবং রোববার ১৫ বছর বয়সী লুয়েনা মারা যায়। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গরমজনিত শারীরিক চাপ বা হিট স্ট্রেসকে মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সন্দেহ করছে।
জুলাইয়ের শেষ দিকে কয়েকটি সিংহের ক্ষুধামান্দ্য ও অবসাদ দেখা দেওয়ায় প্রদর্শনী বন্ধ করা হয়। অসুস্থ সিংহগুলোকে পানি ছিটিয়ে, বড় শিল্প ফ্যান চালিয়ে এবং শিরায় তরল ওষুধ দিয়ে ঠান্ডা ও চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়। মোট ১০টি সিংহ চিকিৎসা পেয়েছে; চারটি সুস্থ হয়ে উঠছে, তিনটি এখনো অসুস্থ। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক কারণ জানা যাবে, তবে মৃত তিন সিংহের শরীরে পানিশূন্যতা ও একাধিক অঙ্গ বিকলের লক্ষণ ছিল।
জাপানের কিছু এলাকায় জুলাইয়ের শেষে টানা পাঁচ দিন তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়াংসানে রোববার ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। সেখানে গরমজনিত অসুস্থতায় দুই হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং অন্তত ১৬ জন মারা গেছেন। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলেছে, শক্তিশালী হতে থাকা সুপার এল নিনো আগামী মাসগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
এশিয়াজুড়ে তাপপ্রবাহে জাপানে তিন সিংহের মৃত্যু, দক্ষিণ কোরিয়ায় রেকর্ড তাপমাত্রা
ইরান, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। ৩ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা ফোনালাপ করেন। আলোচনায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও অংশ নেন।
আরাঘচি টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, আলোচনায় বিদ্যমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং তা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগও আলোচনায় উঠে আসে। তিন পক্ষ এই লক্ষ্য পূরণে আঞ্চলিক সহযোগিতার সক্ষমতা ব্যবহারের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে।
কর্মকর্তারা রাজনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তবে ফোনালাপে গৃহীত হতে পারে এমন নির্দিষ্ট পদক্ষেপ, কোনো চুক্তি বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। প্রতিবেদনে আলোচনার সময় বা পরবর্তী বৈঠক কিংবা যোগাযোগের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচিও উল্লেখ করা হয়নি।
পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে ইরান, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের ফোনালাপ
জাতিসংঘের এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে গত বছর আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণায় গ্রাহকদের ক্ষতি হয়েছে সর্বোচ্চ ১১৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। জাতিসংঘের ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম বিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) জানিয়েছে, বিনিয়োগ ও প্রেমের প্রলোভনে পরিচালিত এসব প্রতারণার ক্ষতি ২০২৩ সালের তুলনায় অন্তত তিন গুণ বেড়েছে, যখন ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১৮ থেকে ৩৭ বিলিয়ন ডলার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ক্ষতির পরিমাণ অপরাধী চক্রগুলোর দ্রুত বিস্তারের ইঙ্গিত দেয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, বিশেষ করে কম্বোডিয়া ও মিয়ানমার এখন এসব প্রতারণার প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে, যেখানে সুরক্ষিত কমপ্লেক্স থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ভুয়া প্রেমের ফাঁদ পেতে বিশ্বজুড়ে প্রতারণা চালানো হচ্ছে। কেউ স্বেচ্ছায়, আবার কেউ মানবপাচারের শিকার হয়ে এসব কাজে যুক্ত হচ্ছেন। গত দুই বছরে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনের চাপের মুখে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষগুলো অভিযান জোরদার করেছে। ইউএনওডিসি সতর্ক করেছে যে এই অপরাধী নেটওয়ার্কগুলো এখন বৈশ্বিকভাবে সক্রিয় হয়ে অর্থ পাচার, মানবপাচার, অভিবাসী চোরাচালান ও তথ্য চুরির মতো কার্যক্রমে যুক্ত, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি।
জাতিসংঘ: এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরে অনলাইন প্রতারণায় ক্ষতি ১১৪ বিলিয়ন ডলার
মাসকাওয়াথ আহসানের লেখা এই প্রতিবেদনটি ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়েছে, নাইন-ইলেভেনের পর আফগানিস্তানে তালিবান সরকার পতনের পর যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং আফগানিস্তান পুনর্গঠনে ভারতকে অংশীদার করে। পাকিস্তানের স্বশাসনপন্থী অবস্থানের কারণে ওয়াশিংটন-ইসলামাবাদ সম্পর্ক দুর্বল হয়। লেখকের মতে, এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও ভারতের প্রভাব বৃদ্ধি পায় এবং ‘ওয়ার অন টেরর’-এর নামে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে।
প্রতিবেদনটি দাবি করে, আফগানিস্তানে ভারতীয় শিক্ষকদের পাঠানোর মাধ্যমে দিল্লি সেখানে সাংস্কৃতিক প্রভাব বিস্তার করে এবং শিক্ষার মাধ্যমে ভারতপ্রীতি গড়ে তোলে। পরবর্তীতে ভারত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য জঙ্গিগোষ্ঠী টিটিপি-কে ব্যবহার করতে শুরু করে, বিশেষ করে চীনের বিনিয়োগকেন্দ্রিক বেলুচিস্তান অঞ্চলে। লেখকের মতে, এসব পদক্ষেপ ভারতের দীর্ঘমেয়াদি আধিপত্য কৌশলের অংশ।
প্রতিবেদনটি উপসংহারে বলে, ভারত-পাকিস্তানের এই স্থায়ী শত্রুতা উভয় দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে লাভবান করে এবং তাদের প্রশাসনিক দুর্বলতা আড়াল করতে সহায়তা করে।
নাইন-ইলেভেনের পর দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সাংস্কৃতিক ও প্রক্সিযুদ্ধের রাজনীতি বিশ্লেষণ
ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর যৌথভাবে ঘোষণা করেছে যে মালাক্কা প্রণালি সব দেশের জন্য নিরাপদ, উন্মুক্ত ও অবাধ চলাচলের উপযোগী থাকবে। ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের উদ্যোগ নেওয়ার পর এই ঘোষণা আসে। জাকার্তায় সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো সুবিয়ান্তোর বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রেসিডেন্ট সুবিয়ান্তো বলেন, মালাক্কা প্রণালিকে উন্মুক্ত নৌপথ হিসেবে রাখার বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে এবং তারা মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রাখবে। প্রধানমন্ত্রী ওং জানান, জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশনের আওতায় নৌচলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এর আগে চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানান, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি নেওয়া হবে, তবে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশগুলোর জন্য বিশেষ সুবিধা থাকবে।
ইরানের ফি পরিকল্পনার মধ্যে মালাক্কা প্রণালি উন্মুক্ত রাখবে সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া
সিন্ধু পানি চুক্তি (আইডব্লিউটি) স্থগিত থাকার কারণে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পাকিস্তান যখন বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলতে চেষ্টা করছে, তখন ইসলামাবাদে এক সেমিনারে চীনা রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভিক্টর গাও বলেন, ভারত যদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে তিব্বত থেকে উৎপন্ন নদীগুলোর উজানে অবস্থান করার কারণে চীনও নদীর পানিপ্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি হিমালয় অঞ্চলের আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর ওপর চীনের ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন পাকিস্তান চুক্তি স্থগিতের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে তুলতে সচেষ্ট। অন্যদিকে, ভারত বৃহস্পতিবার পুনর্ব্যক্ত করেছে যে সিন্ধু পানি চুক্তি এখনো স্থগিত রয়েছে এবং তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, পাকিস্তানের ধারাবাহিক আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের জবাব হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারত আরও বলেছে, সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বর্তমান অবস্থান বহাল থাকবে, যা ইঙ্গিত দেয় যে পানি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
ভারতের পানি নীতি নিয়ে চীনা বিশ্লেষকের নদীপ্রবাহে প্রভাবের ইঙ্গিত
বিভিন্ন দেশে পরীক্ষায় এআই-চালিত স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার করে নকলের ঘটনা বাড়ায় শিক্ষা কর্তৃপক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানে সাম্প্রতিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে গিয়ে ধরা পড়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। বিশেষ করে পূর্ব এশিয়ায়, যেখানে পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, সেখানে এটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্ট গ্লাস দিয়ে নকল নতুন নয়, তবে এআই-নির্ভর পরিধানযোগ্য ডিভাইসগুলো এখন আরও ছোট, উন্নত ও সহজলভ্য হওয়ায় প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। চীন জাতীয় ভর্তি পরীক্ষায় সব চশমা পরীক্ষা করেছে, আর যুক্তরাজ্যের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা সতর্ক করেছে এআই স্মার্ট গ্লাস ও ইয়ারপিসের ঝুঁকি নিয়ে। দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান নতুন নীতিমালা পর্যালোচনা করছে।
গবেষকদের মতে, প্রকাশিত ঘটনাগুলো বৃহত্তর সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। এআই-সমৃদ্ধ স্মার্ট গ্লাস আরও পাতলা ও স্বয়ংক্রিয় হওয়ায় শুধু পরীক্ষার স্বচ্ছতাই নয়, ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও ঝুঁকিতে পড়ছে। শিক্ষাবিদরা মনে করেন, মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে চিন্তাশক্তি ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা মূল্যায়নের দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।
এশিয়ায় এআই স্মার্ট গ্লাসে নকলের আশঙ্কা, নীতিমালা পর্যালোচনা শুরু
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার বিষয়ে শান্তিচুক্তির খবর প্রকাশের পর সোমবার সকালে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজারগুলোতে বড় উত্থান দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাইওয়ানের তাইএক্স সূচক ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স২০০ সূচক প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।
নিয়মিত সময়ের বাইরে মার্কিন শেয়ারবাজারের ফিউচারসেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় ১ শতাংশ এবং প্রযুক্তি-নির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচক ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে, শান্তিচুক্তির খবরের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ৪ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮৩ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তিতে এশিয়ার বাজারে উত্থান, তেলের দাম কমেছে
কাশ্মীর ইস্যুতে যেকোনো একতরফা পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে চীন ও পাকিস্তান। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং জম্মু ও কাশ্মীরসহ সব অমীমাংসিত সমস্যা সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে দুই দেশ। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের চার দিনের চীন সফর শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এই অবস্থান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর বিরোধ ইতিহাসের একটি অংশ এবং জাতিসংঘ সনদ, নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুসারে এর শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়া উচিত বলে মনে করে চীন। উভয় দেশই দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সংলাপ ও কূটনীতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে।
ভারতের একতরফাভাবে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের প্রেক্ষাপটে চীন ও পাকিস্তানের এই যৌথ অবস্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কাশ্মীর ইস্যুতে একতরফা পদক্ষেপের বিরোধিতা জানিয়ে সংলাপের আহ্বান চীন-পাকিস্তানের
গবেষক আমীর খসরুর ২১ মে ২০২৬ প্রকাশিত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো ঐক্য গড়তে ব্যর্থ হয়েছে মূলত পারস্পরিক অবিশ্বাস, শক্তির বৈষম্য ও প্রতিবেশী দেশের আধিপত্যবাদী নীতির কারণে। লেখায় ইউরোপের ইতিহাসের সঙ্গে তুলনা করে দেখানো হয়েছে, কীভাবে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপ পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমতার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, অথচ দক্ষিণ এশিয়া এখনো দ্বন্দ্বে জর্জরিত।
নেপালের সাম্প্রতিক স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি, ভারতের প্রভাব প্রত্যাখ্যান এবং সীমান্তে কঠোর অবস্থানের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি মালদ্বীপ, ভুটান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, পানি ও অবকাঠামো প্রকল্প নিয়ে বিরোধের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। চ্যাথাম হাউসের গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোকে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও বাস্তবতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়তে হবে।
লেখক উপসংহারে বলেন, ন্যায়, সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক না গড়ে দক্ষিণ এশিয়া কখনোই ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো ঐক্য অর্জন করতে পারবে না। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সার্ক গঠনের উদ্যোগ ও তার স্থবিরতাকে এর প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার ঐক্যহীনতার কারণ আধিপত্য, অবিশ্বাস ও ইউরোপীয় ধাঁচের সহযোগিতার অভাব
জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব ও ইনস্টিটিউট ফর পলিসি, গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে এবং তারা বিভিন্ন গণআন্দোলন ও সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমে নিজেদের দাবি ও প্রত্যাশা প্রকাশ করছে। বুধবার নেপালের কাঠমান্ডু ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের পলিসি ল্যাব আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
‘দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও গভর্নেন্সের প্রেক্ষিত’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, গবেষক ও শিক্ষকরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সহকারী অধ্যাপক ড. লাল বাহাদুর পুন এবং প্রধান অতিথি ছিলেন ড. রাম নারায়ণ শ্রেষ্ঠ। আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেও এর সুফল সমভাবে বণ্টিত হচ্ছে না; সুশাসনের ঘাটতি, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করছে।
বক্তারা সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।
দক্ষিণ এশিয়ায় তরুণদের অসন্তোষ ও সুশাসনের ঘাটতি নিয়ে আলাউদ্দীন মোহাম্মদের বক্তব্য
নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক স্থায়ী সালিশি আদালত (পিসিএ) রায় দিয়েছে যে সিন্ধু পানি চুক্তি (আইডব্লিউটি) বহাল থাকবে এবং ভারত একতরফাভাবে এটি স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে না। ১৫ মে ২০২৬ তারিখে জারি করা সম্পূরক রায়ে বলা হয়, পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোর ওপর ভারতের পানি নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা চুক্তিভিত্তিক সীমাবদ্ধতার আওতায় থাকবে এবং এসব সীমা প্রকল্পের নকশা পর্যায় থেকেই কার্যকর হবে। পাকিস্তান এই রায়কে তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও কৌশলগত বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেছে।
রাটলে ও কিশেঙ্গঙ্গা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে বিরোধের প্রেক্ষাপটে আদালত জানায়, ভারতকে পাকিস্তানকে পর্যাপ্ত তথ্য দিতে হবে যাতে চুক্তি মেনে চলা হচ্ছে কি না তা যাচাই করা যায়। পাকিস্তান জানায়, তারা চুক্তি ও শান্তিপূর্ণ বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং নিজেদের অধিকার রক্ষায় আইনগত ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই আদালতকে ‘অবৈধভাবে গঠিত’ বলে রায়কে অকার্যকর ঘোষণা করেছে। বিশ্লেষকেরা ভারতের অবস্থানকে আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করার উদাহরণ হিসেবে সমালোচনা করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে পানি নিয়ে বিরোধ দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
সিন্ধু পানি চুক্তি বহাল, ভারতের একতরফা স্থগিতাদেশের দাবি খারিজ
পাকিস্তান ও ভারতে ছড়িয়ে পড়া তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী দাবদাহে লাখ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায়ই ৪৪ থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছে, ফলে বাসিন্দারা দুপুরে ঘরের বাইরে যেতে পারছেন না। এতে দিনমজুর, পরিবহনশ্রমিক ও কৃষকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ভারতের রাজস্থান, গুজরাট, মহারাষ্ট্রসহ উত্তর ও মধ্যাঞ্চলেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। চরম তাপমাত্রার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিদ্যুৎ ঘাটতি ও দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত ঘটায় বিভিন্ন রাজ্যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
করাচিতে তাপমাত্রা একাধিকবার ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে, সর্বশেষ রেকর্ড হয়েছে ৪৪ দশমিক ১ ডিগ্রি। উপকূলীয় এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও পানির সংকটে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে, যাদের বেশিরভাগই পানিশূন্যতা ও সংক্রমণে আক্রান্ত। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন ও দ্রুত নগরায়ণ এই তাপপ্রবাহের মূল কারণ, যা দক্ষিণ এশিয়ায় গ্রীষ্মকে দীর্ঘ ও অনিশ্চিত করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা অবিলম্বে সরকারি কুলিং সেন্টার স্থাপন, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, জরুরি চিকিৎসা প্রস্তুতি এবং নগরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
পাকিস্তান ও ভারতে তীব্র দাবদাহে লাখো মানুষ চরম জলবায়ু সংকটে
২০২৫ সালের মে মাসে সংঘটিত প্রথম বৃহৎ ড্রোন সংঘাতের পর ভারত ও পাকিস্তান তাদের সামরিক কৌশল নতুনভাবে সাজাচ্ছে। পহেলগামে পর্যটক হত্যার পর ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’ অভিযানের মাধ্যমে শুরু হওয়া চার দিনের সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ার যুদ্ধনীতিতে নতুন অধ্যায় খুলে দেয়। উভয় দেশই ‘লয়টারিং মিউনিশন’ ও ‘সোয়ার্ম ড্রোন’-এর মতো উন্নত মানববিহীন উড়োজাহাজ ব্যবহার করে, যা তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে এবং নতুন প্রতিরোধ কৌশলের প্রয়োজনীয়তা সামনে আনে।
ভারতের সামরিক কর্তারা ড্রোন হুমকি স্বীকার করে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিরোধ নীতি প্রণয়নের কাজ শুরু করেছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সীমান্তে ১৮১৬টি ড্রোন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলো পাচারের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ। পাকিস্তানও নজরদারি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ড্রোন ব্যবহারে জোর দিচ্ছে এবং প্রতিরোধে কাইনেটিক ও নন-কাইনেটিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
ভারত দেশীয় ড্রোন উৎপাদন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর সোয়ার্ম প্রযুক্তি উন্নয়নে মনোযোগ দিচ্ছে, অন্যদিকে পাকিস্তান তুরস্ক ও চীন থেকে সশস্ত্র ড্রোন সংগ্রহ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ড্রোন যুদ্ধ কৌশলগত ভারসাম্য পুরোপুরি বদলাবে না, তবে সংঘাতের ধরন পরিবর্তন করছে।
২০২৫ সালের প্রথম ড্রোন সংঘাতের পর ভারত-পাকিস্তানের সামরিক কৌশলে বড় পরিবর্তন
২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য বদলে দিয়েছে। আকাশযুদ্ধে পাকিস্তানের অপ্রত্যাশিত সাফল্য দেশটির বৈশ্বিক মর্যাদা বাড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করেছে। ইসলামাবাদ এই যুদ্ধের প্রথম বার্ষিকী সামরিক বিজয় হিসেবে উদ্যাপন করেছে এবং ভবিষ্যতের আগ্রাসনের জবাবে আরও শক্ত প্রতিক্রিয়ার অঙ্গীকার করেছে। অন্যদিকে ভারত দিনটি পালন করেছে সন্ত্রাসবাদের প্রতি ‘শূন্য সহনশীলতা’ জোরদার করার দিন হিসেবে, পেহেলগামে হামলার পর প্রতিরক্ষা বাহিনীর পদক্ষেপের প্রশংসা জানিয়ে।
কাশ্মীর ইস্যু থেকেই এই সংঘাতের সূত্রপাত, যার বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা ২০১৯ সালে বাতিল করে ভারত। এর পর পাকিস্তান কূটনৈতিক সম্পর্ক কমিয়ে দেয় এবং বাণিজ্য বন্ধ করে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করলে উত্তেজনা আরও বাড়ে। আকাশ ও ড্রোনযুদ্ধের এই সংঘাতে উভয় দেশের সামরিক সীমাবদ্ধতা ও অর্থনৈতিক দুর্বলতা প্রকাশ পায়, যদিও মার্কিন হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে, কাশ্মীর সমস্যা ও পানি ইস্যু সমাধান না হলে ভবিষ্যতে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা রয়ে যাবে। স্থায়ী শান্তির জন্য কাশ্মীরের পূর্বের মর্যাদা ফিরিয়ে আনা এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ পুনরায় শুরু করা জরুরি।
২০২৫ সালের চার দিনের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক ভারসাম্য বদলে দেয়
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৩১০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।