নারী এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান ৫৫ রানে অলআউট হয়ে ৭ উইকেটে হেরেছে। ফাতিমা সানার দল ১৮.১ ওভারে গুটিয়ে যাওয়ার পর ভারত ৫৬ রানের লক্ষ্য ৮.৪ ওভারেই পেরিয়ে যায়। জয়ের সময় ভারতের হাতে ছিল ৬৮ বল, আর পাকিস্তান প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারেনি।
এই ৫৫ রান পাকিস্তানের নারী টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। এর আগে ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫৬ রানে অলআউট হয়েছিল তারা। শাওয়াল জুলফিকার ১৪ ও মুনিবা আলি ১৩ রান করেন; দুই ওপেনার ছাড়া আর কোনো পাকিস্তানি ব্যাটার দুই অঙ্কে যেতে পারেননি। ওপেনিং জুটির দুই ব্যাটার করেন ২৭ রান, বাকি নয়জনের অবদান ২৮।
ভারতের হয়ে শ্রী চরনি ও প্রেমা রাওয়াত তিনটি করে উইকেট নেন। ভারতও শুরুতে ধাক্কা খায়; ১৩ রানে শেফালি ভার্মা, ১৮ রানে প্রতিকা রাওয়াল এবং পরে স্মৃতি মান্ধানা আউট হন। তবে অল্প পুঁজি নিয়ে পাকিস্তান ম্যাচে ফিরতে পারেনি। বল বাকি থাকার হিসাবে এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের অন্যতম বড় জয়।
রেকর্ড সর্বনিম্ন ৫৫ রানে অলআউট পাকিস্তান, ভারতের ৭ উইকেটের জয়
নিবন্ধে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে দ্রুত হিমবাহ গলা, পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা ও ধারাবাহিক দুর্যোগে হিমালয় গভীর সংকটে পড়েছে। গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তে হিমবাহ ও পাথর ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু এবং পাঁচ হাজার মানুষের নিখোঁজ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিপর্যয়ের জন্য নেপাল জলবায়ু পরিবর্তনকে প্রধানত দায়ী করেছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল ঘটনাটিকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সরাসরি ফল বলে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কাছে এ দাবি জানানো হয়েছে। নিবন্ধ অনুযায়ী, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে নেপালের অংশ ০.১ শতাংশের কম। গত তিন দশকে হিমালয় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বরফ হারিয়েছে এবং ২০০০ সালের পর বরফ গলার গতি দ্বিগুণ হয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।
নিবন্ধটি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানের সমন্বিত অববাহিকাভিত্তিক পরিকল্পনার আহ্বান জানিয়েছে। হিমালয় থেকে উৎসারিত নদীগুলোর ওপর প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। হিমবাহ ধস, আকস্মিক বন্যা ও পানি কমে যাওয়ার ঝুঁকি দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি, জলবিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও জনজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
হিমবাহ গলন ও দুর্যোগের ঝুঁকিতে নেপালের জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবি
সিন্ধু নদের পানিবণ্টন নিয়ে বিরোধে হেগের স্থায়ী সালিশি আদালত পাকিস্তানের পক্ষে রায় দিয়েছে। পাঁচ সদস্যের আদালত সর্বসম্মতভাবে বলেছে, ভারত একতরফাভাবে সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত রাখতে পারে না। ১৯৬০ সালের চুক্তি এখনো কার্যকর এবং পাকিস্তানে প্রবাহিত নদীগুলোতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নকশা ও পরিচালনাসহ চুক্তির বাধ্যবাধকতা ভারতকে পালন করতে হবে। রায়টি সোমবার দেওয়া হয়।
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে নয়াদিল্লি চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দেয়। ভারত বলেছিল, পাকিস্তান সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। পাকিস্তান এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ভারত শুরু থেকেই আদালতের এখতিয়ার প্রত্যাখ্যান করে এবং ২০২৬ সালের ২৬ থেকে ২৮ এপ্রিল পিস প্যালেসে অনুষ্ঠিত শুনানিতে অংশ নেয়নি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার রায়কে গুরুত্বপূর্ণ বিজয় বলেছেন এবং ভারতের চুক্তিগত দায়িত্ব পালনের দাবি জানিয়েছেন। ভারত আদালতকে অবৈধভাবে গঠিত আখ্যা দিয়ে রায় প্রত্যাখ্যান করেছে। রায় বাস্তবায়নে সরাসরি কোনো প্রয়োগকারী ব্যবস্থা নেই; ফলে ভারত না মানলে পাকিস্তানের প্রধান পথ হবে আন্তর্জাতিক ফোরামে কূটনৈতিক চাপ।
হেগের আদালত বলেছে, ভারত একতরফাভাবে সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করতে পারে না
আন্তর্জাতিক সালিসি আদালত বা পিসিএ পাকিস্তানের সঙ্গে পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিতের ভারতের সিদ্ধান্ত বাতিল করে চুক্তির বাধ্যবাধকতা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। তবে নয়াদিল্লি তাৎক্ষণিকভাবে রায় প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের দাবি, হেগভিত্তিক আদালতটি অবৈধভাবে গঠিত এবং এর অস্তিত্বই তারা স্বীকার করে না।
আদালত জানিয়েছে, বিশ্বব্যাংক নিযুক্ত একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে কাশ্মীর অঞ্চলের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না নির্ধারণ করবেন। ততদিন রাটলে প্রকল্পের বাঁধের দেয়াল ও পানি প্রবেশ কাঠামো নির্দিষ্ট মাত্রার ওপরে নির্মাণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা সালিসি আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশও মানবে না। তাদের মতে, ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর এই আদালতের কোনো এখতিয়ার নেই এবং এর সিদ্ধান্ত প্রকল্পগুলোতে ভারতের কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করবে না। পাকিস্তান রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, সিন্ধু পানি চুক্তির অধীনে ভারত তার আবশ্যিক দায়িত্ব পালনে বাধ্য। উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও ভারতের পূর্ণাঙ্গভাবে বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত মানার কথা বলেছেন।
পানি চুক্তি মানতে ভারতকে পিসিএর নির্দেশ, আদালতের কর্তৃত্ব প্রত্যাখ্যান নয়াদিল্লির
সাউথ এশিয়া মনিটরে ২৬ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব এখন বাণিজ্য, ঋণ, অবকাঠামো ও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কান ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক এ. জাথিন্দ্রার মতে, চীনের অর্থনৈতিক উত্থান ও দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ছোট গণতান্ত্রিক দেশের কিছু রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক মহলে শক্তিশালী ও ধারাবাহিক সরকারের ধারণাকে আকর্ষণীয় করে তুলছে।
বিশ্লেষণে শ্রীলঙ্কায় ঘনঘন নির্বাচন ও সরকার পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাধা সৃষ্টি করে কি না, সে বিতর্কের কথা বলা হয়েছে। ব্যবসায়ী নেত্রী অরোশি নানায়াক্কারা একই প্রশ্ন তুলেছেন এবং জেভিপির সাধারণ সম্পাদক টিলভিন সিলভা দীর্ঘমেয়াদি সরকার ছাড়া বড় সামাজিক পরিবর্তন কঠিন বলে মত দেন। নিবন্ধটি চীনের পদ্ধতিকে স্নায়ুযুদ্ধের সোভিয়েত মতাদর্শ রপ্তানির চেয়ে সূক্ষ্ম বলে বর্ণনা করেছে।
নেপালে চীনা উদ্বেগের পর তিব্বতি স্টাডিজ সম্মেলন বাতিল এবং শ্রীলঙ্কায় দালাই লামার ধর্মীয় উপাসনার অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের উদাহরণও দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষণটির মতে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বজায় রেখেও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
চীনের উন্নয়ন মডেল দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক চিন্তায় প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষণ
পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা ভারতে প্রশ্ন তুলেছে, পূজার আগে ইসলামাবাদ নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না। তবে ভারতের বিরুদ্ধে শিগগিরই নতুন সামরিক অভিযান চালানোর কোনো নির্ভরযোগ্য নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ২৯ আগস্ট পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইসলামাবাদের কাছে ওয়াহ সেনানিবাসের পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজ পরিদর্শন করেন।
সেনাবাহিনীর জনসংযোগ শাখা আইএসপিআর জানিয়েছে, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা ও অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা পর্যালোচনাই ছিল সফরের উদ্দেশ্য। মুনির অস্ত্রের নকশা, উৎপাদন সক্ষমতা ও গোলাবারুদের পরীক্ষা সম্পর্কে খোঁজ নেন। চলতি বছরের শেষ দিকে আরও দুটি অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রে কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তান চীন ও তুরস্কের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে এবং ২৭ আগস্ট কুয়েতের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা চুক্তি করেছে।
সীমান্ত এলাকায় চীনে তৈরি এসএইচ-১৫ ১৫৫ মিলিমিটার স্বচালিত হাউইটজার মোতায়েনের খবরও আলোচনায় এসেছে। কিন্তু পাকিস্তানের লক্ষ্য ভারত কি না, তা নিশ্চিত নয়; আফগান সীমান্ত, বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিরাপত্তা সংকটও দেশটির উদ্বেগ। তাই এই প্রস্তুতিকে ভারতের বিরুদ্ধে আসন্ন হামলার পরিকল্পনা হিসেবে চূড়ান্তভাবে ব্যাখ্যা করার প্রমাণ নেই।
পাকিস্তানের সামরিক তৎপরতা নিয়ে ভারতে উদ্বেগ, আসন্ন হামলার নিশ্চিত প্রমাণ নেই
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু করা যুদ্ধ ছয় মাস পরও পশ্চিম এশিয়াকে তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বদলাতে পারেনি বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস, প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং ইসরাইলের নেতৃত্বে নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়া। কিন্তু ইরান সরকার ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো টিকে আছে এবং দেশটি সামরিক ও কৌশলগত পাল্টা চাপ তৈরির সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দ্রুত ফলের অভিযান হিসেবে বিবেচিত যুদ্ধটি দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত হয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টিতে ইরানের ভৌগোলিক সক্ষমতা তুলে ধরেছে। তেল, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি অবকাঠামো ও সমুদ্রপথ ঝুঁকিতে পড়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোও নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্বিবেচনা করছে।
ইরান ক্ষতিহীন নয়; বহু মানুষ নিহত হয়েছেন, সামরিক ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে এবং অর্থনীতিতে বড় চাপ পড়েছে। তবু যুদ্ধটি লেবানন, ফিলিস্তিন ও ইয়েমেনসহ বিভিন্ন ফ্রন্টের প্রতিরোধ জোটকে পুরোপুরি ভাঙতে পারেনি। ইরান ভবিষ্যৎ হামলার আগে প্রতিপক্ষকে নতুন হিসাব করতে বাধ্য করতে ব্যয় চাপানোর কৌশলকে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিকল্প জ্বালানি পরিবহনপথ গড়তেও উপসাগরীয় দেশগুলোর বিপুল ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে।
ছয় মাসের যুদ্ধে ইরান টিকে থাকায় পরিকল্পিত আঞ্চলিক পরিবর্তন হয়নি বলে বিশ্লেষণ
মে ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাত নিয়ে ভারতের নতুন একটি ডকুমেন্টারিকে তথ্যগতভাবে ভুল বলে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। ১৮ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আইএসপিআর অভিযোগ করেছে যে ডকুমেন্টারিটি অপারেশনাল ফলাফল ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে। পাকিস্তান এই যুদ্ধকে ‘মারকা-ই-হক’ নামে অভিহিত করে।
আইএসপিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, বলিউডধর্মী সিনেমাটিক পুনর্নির্মাণ ও বাছাই করা সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ঘটনাগুলোকে অন্যভাবে দেখানো হয়েছে। তারা ১৬ এপ্রিল ২০২৫ সেনাপ্রধানের একটি বক্তব্যের সঙ্গে ২২ এপ্রিলের পাহালগাম হামলার যোগসূত্র স্থাপনের ভারতীয় প্রচেষ্টাও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। পাকিস্তান আরও বলেছে, ৭ মে প্রতিশোধমূলক অপারেশন সিন্দুরের দাবি এবং ২৮ জুলাই কথিত হামলাকারীদের নির্মূলের ঘোষণার মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে।
ভারতের শতভাগ মিশন সফলতার দাবিও নাকচ করেছে আইএসপিআর। তাদের দাবি, পাকিস্তানি বাহিনী সীমান্তপারের অভিযান প্রতিহত করে ভারতের আটটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে এবং পরবর্তী পাল্টা অভিযানে ভারতের ২৬টি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করেছে। আইএসপিআর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ডিজিএমও পর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগে লড়াই বন্ধ হয়। ভবিষ্যৎ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় জবাবের সতর্কতাও দিয়েছে তারা।
অপারেশন সিন্দুর নিয়ে ভারতীয় ডকুমেন্টারির দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ৭ আগস্ট ২০২৬ সালে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হওয়া এ চুক্তি পশ্চিম এশিয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ও ভূকৌশলগত সম্পর্কও বদলে দিতে পারে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, চুক্তিটি পারস্পরিক প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াবে এবং অঞ্চল ও এর বাইরের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করবে। প্রতিবেদনে সৌদি আরবের অর্থসম্পদ ও জ্বালানি প্রভাব, পাকিস্তানের যুদ্ধঅভিজ্ঞ বাহিনী ও পারমাণবিক সক্ষমতা, এবং তুরস্কের ন্যাটো অভিজ্ঞতা ও প্রতিরক্ষা শিল্পকে পরিপূরক শক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। যৌথ মহড়া, গোয়েন্দা সহযোগিতা, বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং অস্ত্র উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিন দেশ বলেছে, এ জোট ইরানের বিরুদ্ধে নয়; ইরানও উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চুক্তির জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক শান্তির ওপর প্রভাব পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সক্ষমতা বাড়লে ভারতের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং বাংলাদেশও তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে পুরোনো সম্পর্কের কারণে এ প্রতিরক্ষা বলয় থেকে লাভবান হতে পারে।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা চুক্তির দক্ষিণ এশীয় প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ
দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত সেকেন্ড থমাস শোল এলাকায় চীন ও ফিলিপাইনের সাম্প্রতিক সংঘাত এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। ফিলিপাইনের পুরোনো যুদ্ধজাহাজ সিয়েরা মাদ্রেকে ঘিরে চীনা কোস্ট গার্ডের সঙ্গে সংঘর্ষে এক ফিলিপিনো সেনা আহত হন। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রায় ফিলিপাইনের দাবির পক্ষে থাকলেও চীন তা মানেনি।
যুক্তরাষ্ট্র ফিলিপাইনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে, কিন্তু ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক শক্তি ও সম্পদের বড় অংশ ব্যস্ত থাকায় চীন মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের সক্ষমতা নিয়ে এশীয় দেশগুলোর উদ্বেগ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ঘাটতিতে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। চীন পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে সামরিক শক্তির বার্তা দিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুর্বল করছে—এমন অভিযোগের মধ্যে জাপান ও ইন্দোনেশিয়ায় কয়েকটি মার্কিন কনস্যুলেট বন্ধের সিদ্ধান্ত সমালোচিত হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যয় ও সামরিক সমন্বয় বাড়াতে বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ফিলিপাইনের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে এবং জাপানও ফিলিপাইনের সঙ্গে মহড়ায় অংশ নিচ্ছে।
ইরান যুদ্ধের ব্যস্ততায় এশিয়ায় চীন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দুর্বলতা ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। ১০ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ক্রমবর্ধমান হুমকি স্পষ্ট করেছে। প্রতিবেদনে সাম্প্রতিক জর্ডান হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
পত্রিকাটির ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সামরিক ও বেসামরিক কর্মীদের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান পশ্চিম এশিয়াজুড়ে দুই হাজারের বেশি বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। আটটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ব্যবহৃত অন্তত ২০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের হিসাবে, সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর ক্ষতি প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার এবং ৪২টির বেশি মার্কিন সামরিক বিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস বলেছে, পাঁচ মাসের যুদ্ধে দেড় হাজারের বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ বহু অস্ত্র ব্যবহারে মজুত কমেছে; তা পুনরায় পূরণে অন্তত দুই বছর লাগতে পারে।
ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি সুরক্ষা ও অস্ত্রভান্ডার নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে
পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং অন্যান্য সংঘর্ষে প্রায় ৭০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ৭ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, আহতদের অধিকাংশের ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরি বা মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যা হয়েছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রতিবেদনে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের একটি প্রতিবেদন উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়। সংঘাতগুলো কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই।
সামরিক কর্মকর্তাদের প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, আহত সেনাদের অধিকাংশ পরে আবার দায়িত্বে ফিরেছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিভিন্ন সংবাদসূত্র এর আগে দাবি করেছিল যে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত সংখ্যা গোপন করছে। মার্কিন সরকারি সূত্রে এ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৮ মার্কিন সেনা নিহত এবং ৫০০-এর বেশি সেনা আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ায় হামলা ও সংঘর্ষে প্রায় ৭০০ মার্কিন সেনা আহত হওয়ার দাবি
এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে জাপানের টোকিও মহানগর এলাকার হিনো শহরের তামা জুলজিক্যাল পার্কে এক সপ্তাহে তিনটি মাদি সিংহ মারা গেছে। ২৮ জুলাই তিন বছর বয়সী মুগি, তিন দিন পর ১১ বছর বয়সী ইচিগো এবং রোববার ১৫ বছর বয়সী লুয়েনা মারা যায়। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গরমজনিত শারীরিক চাপ বা হিট স্ট্রেসকে মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সন্দেহ করছে।
জুলাইয়ের শেষ দিকে কয়েকটি সিংহের ক্ষুধামান্দ্য ও অবসাদ দেখা দেওয়ায় প্রদর্শনী বন্ধ করা হয়। অসুস্থ সিংহগুলোকে পানি ছিটিয়ে, বড় শিল্প ফ্যান চালিয়ে এবং শিরায় তরল ওষুধ দিয়ে ঠান্ডা ও চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়। মোট ১০টি সিংহ চিকিৎসা পেয়েছে; চারটি সুস্থ হয়ে উঠছে, তিনটি এখনো অসুস্থ। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক কারণ জানা যাবে, তবে মৃত তিন সিংহের শরীরে পানিশূন্যতা ও একাধিক অঙ্গ বিকলের লক্ষণ ছিল।
জাপানের কিছু এলাকায় জুলাইয়ের শেষে টানা পাঁচ দিন তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়াংসানে রোববার ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। সেখানে গরমজনিত অসুস্থতায় দুই হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং অন্তত ১৬ জন মারা গেছেন। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলেছে, শক্তিশালী হতে থাকা সুপার এল নিনো আগামী মাসগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
এশিয়াজুড়ে তাপপ্রবাহে জাপানে তিন সিংহের মৃত্যু, দক্ষিণ কোরিয়ায় রেকর্ড তাপমাত্রা
ইরান, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। ৩ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা ফোনালাপ করেন। আলোচনায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও অংশ নেন।
আরাঘচি টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, আলোচনায় বিদ্যমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং তা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগও আলোচনায় উঠে আসে। তিন পক্ষ এই লক্ষ্য পূরণে আঞ্চলিক সহযোগিতার সক্ষমতা ব্যবহারের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে।
কর্মকর্তারা রাজনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তবে ফোনালাপে গৃহীত হতে পারে এমন নির্দিষ্ট পদক্ষেপ, কোনো চুক্তি বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। প্রতিবেদনে আলোচনার সময় বা পরবর্তী বৈঠক কিংবা যোগাযোগের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচিও উল্লেখ করা হয়নি।
পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে ইরান, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের ফোনালাপ
জাতিসংঘের এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে গত বছর আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণায় গ্রাহকদের ক্ষতি হয়েছে সর্বোচ্চ ১১৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। জাতিসংঘের ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম বিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) জানিয়েছে, বিনিয়োগ ও প্রেমের প্রলোভনে পরিচালিত এসব প্রতারণার ক্ষতি ২০২৩ সালের তুলনায় অন্তত তিন গুণ বেড়েছে, যখন ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১৮ থেকে ৩৭ বিলিয়ন ডলার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ক্ষতির পরিমাণ অপরাধী চক্রগুলোর দ্রুত বিস্তারের ইঙ্গিত দেয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, বিশেষ করে কম্বোডিয়া ও মিয়ানমার এখন এসব প্রতারণার প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে, যেখানে সুরক্ষিত কমপ্লেক্স থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ভুয়া প্রেমের ফাঁদ পেতে বিশ্বজুড়ে প্রতারণা চালানো হচ্ছে। কেউ স্বেচ্ছায়, আবার কেউ মানবপাচারের শিকার হয়ে এসব কাজে যুক্ত হচ্ছেন। গত দুই বছরে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনের চাপের মুখে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষগুলো অভিযান জোরদার করেছে। ইউএনওডিসি সতর্ক করেছে যে এই অপরাধী নেটওয়ার্কগুলো এখন বৈশ্বিকভাবে সক্রিয় হয়ে অর্থ পাচার, মানবপাচার, অভিবাসী চোরাচালান ও তথ্য চুরির মতো কার্যক্রমে যুক্ত, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি।
জাতিসংঘ: এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরে অনলাইন প্রতারণায় ক্ষতি ১১৪ বিলিয়ন ডলার
মাসকাওয়াথ আহসানের লেখা এই প্রতিবেদনটি ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়েছে, নাইন-ইলেভেনের পর আফগানিস্তানে তালিবান সরকার পতনের পর যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং আফগানিস্তান পুনর্গঠনে ভারতকে অংশীদার করে। পাকিস্তানের স্বশাসনপন্থী অবস্থানের কারণে ওয়াশিংটন-ইসলামাবাদ সম্পর্ক দুর্বল হয়। লেখকের মতে, এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও ভারতের প্রভাব বৃদ্ধি পায় এবং ‘ওয়ার অন টেরর’-এর নামে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে।
প্রতিবেদনটি দাবি করে, আফগানিস্তানে ভারতীয় শিক্ষকদের পাঠানোর মাধ্যমে দিল্লি সেখানে সাংস্কৃতিক প্রভাব বিস্তার করে এবং শিক্ষার মাধ্যমে ভারতপ্রীতি গড়ে তোলে। পরবর্তীতে ভারত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য জঙ্গিগোষ্ঠী টিটিপি-কে ব্যবহার করতে শুরু করে, বিশেষ করে চীনের বিনিয়োগকেন্দ্রিক বেলুচিস্তান অঞ্চলে। লেখকের মতে, এসব পদক্ষেপ ভারতের দীর্ঘমেয়াদি আধিপত্য কৌশলের অংশ।
প্রতিবেদনটি উপসংহারে বলে, ভারত-পাকিস্তানের এই স্থায়ী শত্রুতা উভয় দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে লাভবান করে এবং তাদের প্রশাসনিক দুর্বলতা আড়াল করতে সহায়তা করে।
নাইন-ইলেভেনের পর দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সাংস্কৃতিক ও প্রক্সিযুদ্ধের রাজনীতি বিশ্লেষণ
ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর যৌথভাবে ঘোষণা করেছে যে মালাক্কা প্রণালি সব দেশের জন্য নিরাপদ, উন্মুক্ত ও অবাধ চলাচলের উপযোগী থাকবে। ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের উদ্যোগ নেওয়ার পর এই ঘোষণা আসে। জাকার্তায় সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো সুবিয়ান্তোর বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রেসিডেন্ট সুবিয়ান্তো বলেন, মালাক্কা প্রণালিকে উন্মুক্ত নৌপথ হিসেবে রাখার বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে এবং তারা মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রাখবে। প্রধানমন্ত্রী ওং জানান, জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশনের আওতায় নৌচলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এর আগে চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানান, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি নেওয়া হবে, তবে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশগুলোর জন্য বিশেষ সুবিধা থাকবে।
ইরানের ফি পরিকল্পনার মধ্যে মালাক্কা প্রণালি উন্মুক্ত রাখবে সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া
সিন্ধু পানি চুক্তি (আইডব্লিউটি) স্থগিত থাকার কারণে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পাকিস্তান যখন বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলতে চেষ্টা করছে, তখন ইসলামাবাদে এক সেমিনারে চীনা রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভিক্টর গাও বলেন, ভারত যদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে তিব্বত থেকে উৎপন্ন নদীগুলোর উজানে অবস্থান করার কারণে চীনও নদীর পানিপ্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি হিমালয় অঞ্চলের আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর ওপর চীনের ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন পাকিস্তান চুক্তি স্থগিতের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে তুলতে সচেষ্ট। অন্যদিকে, ভারত বৃহস্পতিবার পুনর্ব্যক্ত করেছে যে সিন্ধু পানি চুক্তি এখনো স্থগিত রয়েছে এবং তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, পাকিস্তানের ধারাবাহিক আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের জবাব হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারত আরও বলেছে, সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বর্তমান অবস্থান বহাল থাকবে, যা ইঙ্গিত দেয় যে পানি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
ভারতের পানি নীতি নিয়ে চীনা বিশ্লেষকের নদীপ্রবাহে প্রভাবের ইঙ্গিত
বিভিন্ন দেশে পরীক্ষায় এআই-চালিত স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার করে নকলের ঘটনা বাড়ায় শিক্ষা কর্তৃপক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানে সাম্প্রতিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে গিয়ে ধরা পড়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। বিশেষ করে পূর্ব এশিয়ায়, যেখানে পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, সেখানে এটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্ট গ্লাস দিয়ে নকল নতুন নয়, তবে এআই-নির্ভর পরিধানযোগ্য ডিভাইসগুলো এখন আরও ছোট, উন্নত ও সহজলভ্য হওয়ায় প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। চীন জাতীয় ভর্তি পরীক্ষায় সব চশমা পরীক্ষা করেছে, আর যুক্তরাজ্যের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা সতর্ক করেছে এআই স্মার্ট গ্লাস ও ইয়ারপিসের ঝুঁকি নিয়ে। দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান নতুন নীতিমালা পর্যালোচনা করছে।
গবেষকদের মতে, প্রকাশিত ঘটনাগুলো বৃহত্তর সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। এআই-সমৃদ্ধ স্মার্ট গ্লাস আরও পাতলা ও স্বয়ংক্রিয় হওয়ায় শুধু পরীক্ষার স্বচ্ছতাই নয়, ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও ঝুঁকিতে পড়ছে। শিক্ষাবিদরা মনে করেন, মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে চিন্তাশক্তি ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা মূল্যায়নের দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।
এশিয়ায় এআই স্মার্ট গ্লাসে নকলের আশঙ্কা, নীতিমালা পর্যালোচনা শুরু
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার বিষয়ে শান্তিচুক্তির খবর প্রকাশের পর সোমবার সকালে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজারগুলোতে বড় উত্থান দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাইওয়ানের তাইএক্স সূচক ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স২০০ সূচক প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।
নিয়মিত সময়ের বাইরে মার্কিন শেয়ারবাজারের ফিউচারসেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় ১ শতাংশ এবং প্রযুক্তি-নির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচক ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে, শান্তিচুক্তির খবরের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ৪ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮৩ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তিতে এশিয়ার বাজারে উত্থান, তেলের দাম কমেছে
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৭২ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।