ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটিতে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং রুশ জ্বালানিনির্ভর মধ্য এশিয়ার দেশগুলোও প্রভাবিত হয়েছে। বিকল্প উৎস হিসেবে তাজিকিস্তান ও কিরগিজস্তান ইরানি তেলের দিকে ঝুঁকছে। আগস্টে তাজিকিস্তান জানায়, তারা ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করছে এবং প্রায় ২৫ লাখ ৫০ হাজার টন তেল ও জ্বালানি পণ্য পাওয়ার আশা করছে।
তাজিকিস্তান ঐতিহাসিকভাবে তার পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ রাশিয়া থেকে আমদানি করে। কিরগিজস্তানও ৯০ শতাংশের বেশি পেট্রোল রাশিয়া থেকে নেয়। একই সময়ে কিরগিজস্তানে যৌথভাবে একটি তেল শোধনাগার নির্মাণের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, ওই শোধনাগারের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেল ইরান সরবরাহ করবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মধ্য এশিয়ায় ইরানের এ সুযোগ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।
ইরান থেকে তেল আনতে তাজিকিস্তান বা কিরগিজস্তানকে তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তান হয়ে রেলপথ ব্যবহার করতে হবে। বিপরীতে রাশিয়ার সঙ্গে দুই দেশের সরাসরি সীমান্ত এবং দীর্ঘদিনের রেল, পাইপলাইন ও সরবরাহ অবকাঠামো রয়েছে। রুশ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে কম দামের জ্বালানি ফিরতে পারে; পাশাপাশি ব্যবসায়ী, ব্যাংক ও পরিবহন প্রতিষ্ঠানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও ইরানি বাণিজ্যে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
রুশ জ্বালানি সংকটে ইরানি তেলের দিকে ঝুঁকছে তাজিকিস্তান ও কিরগিজস্তান
দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন অবলম্বনে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, শান্তি, সংলাপ ও গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর হিসেবে ভারতের ঘোষিত অবস্থানের সঙ্গে প্রতিবেশীদের প্রতি তার আচরণ সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না। নেপালের সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গে এতে অভিযোগ করা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো সেখানে তৎপরতা বাড়িয়েছে এবং সুনসারিতে হিন্দু ধর্মীয় শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে সহিংসতার পর সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ২০১৫ সালের সাংবিধানিক সংকটেও নেপালের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নিবন্ধটি হিন্দুধর্ম ও হিন্দুত্বের রাজনৈতিক ধারণার মধ্যে পার্থক্য করেছে। এতে বলা হয়েছে, হিন্দুত্ব ভারতীয় জাতিসত্তা নির্ধারণে হিন্দু পরিচয়কে অগ্রাধিকার দেয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে মুসলমানবিরোধী বিদ্বেষমূলক প্রচারণা, বৈষম্যমূলক নীতি, মুসলিমদের বাড়িঘর ও সম্পত্তি বেআইনিভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং খ্রিষ্টানসহ অন্য সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার কথা বলা হয়েছে। রাজস্থান ও উত্তর প্রদেশে মসজিদ ভাঙার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।
এতে পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত, ৩১ আগস্টের সালিসি রায় প্রত্যাখ্যান এবং ২০১৬ সালের পর সার্ক অচল থাকার বিষয়েও সমালোচনা করা হয়েছে। নিবন্ধটি আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে কাবুল-ইসলামাবাদ উত্তেজনা কমাতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। উপসংহারে বলা হয়েছে, পানি, বাণিজ্য, নিরাপত্তা, সংখ্যালঘু অধিকার ও সার্বভৌমত্বের বাস্তবতায় ভারতের নীতিবাক্য বিচার করা হবে।
ঘোষিত কূটনৈতিক আদর্শের বিপরীতে ভারতের আঞ্চলিক আচরণ নিয়ে নিবন্ধের প্রশ্ন
পাকিস্তানের আকাশসীমা ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য বন্ধ থাকায় বিকল্প পথ খুঁজছে ভারত। এ লক্ষ্যে চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলের আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করছে নয়াদিল্লি। এনডিটিভিকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে এক বছরের বেশি সময় ধরে আলোচনা চলছে। চীনের হোতান হয়ে বিকল্প বিমানপথ চালুর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ব্রিকস সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অংশগ্রহণের পর দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও সক্রিয় হয়েছে। এর মধ্যে বিকল্প বিমানপথের আলোচনা সামনে এসেছে। শি জিনপিংয়ের দিল্লি সফরের আগে চায়না সাউদার্ন ২১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রায় ছয় বছর পর গুয়াংজু-নয়াদিল্লি সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করে।
কোভিড-১৯ মহামারি ও পরবর্তী সীমান্ত উত্তেজনায় ভারত-চীন বিমান যোগাযোগ দীর্ঘ সময় ব্যাহত ছিল। পাকিস্তান ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য আকাশসীমা বন্ধ রেখেছে, যা ঘুরপথে চলাচলের কারণে সময় ও পরিচালন ব্যয় বাড়িয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে পাকিস্তান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে। জিনজিয়াংয়ের বিকল্প রুট নিয়ে আলোচনা চললেও বাস্তবায়নের কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।
পাকিস্তানের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে জিনজিয়াং হয়ে বিকল্প রুট নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা ভারতের
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, পাকিস্তানের পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করা, পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা বা অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার যেকোনো চেষ্টা যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হবে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি ভারতকে এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, পানিকে কখনো অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
শাহবাজ শরিফ বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার ভারতের সিদ্ধান্তের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের অবস্থানকে সমর্থন করেছে।
২০২৫ সালে ভারত-পাকিস্তানের সামরিক সংঘাতের প্রসঙ্গে তিনি পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় মে মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতিকেও স্বাগত জানান তিনি। কাশ্মীর প্রশ্নে জাতিসংঘের মাধ্যমে অবাধ ও নিরপেক্ষ গণভোটের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে শাহবাজ বলেন, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তান কাশ্মীরিদের কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত বা সরানোর চেষ্টা যুদ্ধ হিসেবে দেখবে পাকিস্তান
এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ম্যাচে নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে আফগানিস্তানকে পাঁচ উইকেটে হারিয়েছে নেপাল। টস জিতে আগে ব্যাট করা আফগানিস্তান ২০ ওভারে সাত উইকেটে ১০২ রান করে। জবাবে নেপাল ১৭.২ ওভারে পাঁচ উইকেটে ১০৩ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে।
ব্যাটিংয়ে নেমে পঞ্চম ওভারেই ১৬ রানে তিন উইকেট হারায় আফগানিস্তান। পাওয়ারপ্লেতে তিন ওভার বল করে তিন উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার ললিত রাজবংশী। টি-টোয়েন্টি অভিষেকে ফয়সাল আহমাদজাই ৩৩ বলে ৩০ রান করেন এবং নাজিবউল্লাহ জাদরানও ৩০ রান যোগ করেন। কুশাল ভুর্তেল চার ওভারে ২১ রানে চার উইকেট নেন; রাজবংশী নেন ১৩ রানে তিন উইকেট।
১০৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম ওভারেই শূন্য রানে কুশাল ভুর্তেলকে হারায় নেপাল। সপ্তম ওভারে ৩১ রানে তিন উইকেট হারানোর পর সন্দীপ জোরা ও রোহিত পৌডেল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। জোরা ৩৪ রান করেন, আর পৌডেল ৩৩ রানে অপরাজিত থেকে গুলসান ঝার সঙ্গে দলকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে এটি নেপালের দ্বিতীয় জয়।
এশিয়ান গেমসে আফগানিস্তানকে পাঁচ উইকেটে হারিয়েছে নেপাল
পাকিস্তান ও চীন গত সপ্তাহে নিজেদের সীমান্ত নিয়ে একটি যৌথ কমিশন গঠনসংক্রান্ত চুক্তিতে সই করেছে, যা বিতর্কিত হিমালয় অঞ্চলের কারণে ভারতের তীব্র আপত্তির মুখে পড়েছে। ভারত দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় পাকিস্তান-চীন সীমান্তকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে এবং ভূখণ্ডটিকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল কমিশনটির কোনো আইনি ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন।
যৌথ কমিশনের আওতায় রয়েছে প্রায় ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটারের শাকসগাম উপত্যকা, যা পাকিস্তান ১৯৬৩ সালে চীনের কাছে হস্তান্তর করে। ভারতের দাবি, এটি লাদাখের অংশ এবং পাকিস্তান অবৈধভাবে দখল করা ভূখণ্ড হস্তান্তরের অধিকার রাখে না। অন্যদিকে পাকিস্তান জম্মু ও কাশ্মীরকে এখনো বিতর্কিত অঞ্চল হিসেবে দেখে এবং ১৯৬৩ সালের চুক্তিকে বৈধ মনে করে।
পাকিস্তান এই কমিশনকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেছে এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও যোগাযোগে সহযোগিতা বাড়ার কথা জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সীমান্ত সমন্বয়, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং সিপিইসি-সংশ্লিষ্ট কৌশলগত অবকাঠামো সুরক্ষায় সহায়ক হতে পারে। তবে তাদের মতে, ভারত-চীন এলএসি এলাকায় এর তাৎক্ষণিক বা দৃশ্যমান প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম।
বিতর্কিত শাকসগাম উপত্যকা নিয়ে পাকিস্তান-চীন যৌথ কমিশন প্রত্যাখ্যান ভারতের
বছরের শেষ দিকে ও ২০২৭ সালে সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ খরা, অতিরিক্ত তাপ, দাবানল, টাইফুন, বন্যা ও খাদ্যসংকটের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু সংকটের পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে অস্বাভাবিক উষ্ণ সমুদ্র পরিস্থিতি এবারের এল নিনোকে খুব শক্তিশালী করে তুলতে পারে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করেছে, এতে প্রায় ৫ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়তে পারেন।
চীন চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় ১০০ দিনের অভিযান শুরু করেছে এবং আগাম সতর্কতা ও পর্যবেক্ষণব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ৯ আগস্ট রেকর্ড তাপমাত্রার পর হংকং কর্মক্ষেত্রের নীতিতে পরিবর্তন এনেছে। তাইওয়ান টানা তিন দিন ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা ধরে মহড়া করেছে। ভারতের কিছু এলাকায় সেপ্টেম্বরে মৌসুমি বৃষ্টির ঘাটতি প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে।
শ্রীলঙ্কায় এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরায় ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ পানীয় জলের সংকটে পড়েছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আঞ্চলিক ধান উৎপাদন ৮ থেকে ১০ শতাংশ কমতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়া তাপপ্রবাহ সতর্কতা ব্যবস্থা বদলেছে। জাপান সম্ভাব্য শক্তিশালী টাইফুনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ মানা ও খাবার-পানি মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
শক্তিশালী এল নিনোর ঝুঁকিতে খাদ্য, পানি ও দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার করছে এশিয়া
একটি মতামতধর্মী প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ‘অখণ্ড ভারত’-এর রাজনৈতিক ধারণা দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান রাষ্ট্র ও জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং সম্মতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ইকারাসের পৌরাণিক কাহিনিকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করে লেখক যুক্তি দিয়েছেন, রাজনৈতিক বাস্তবতা উপেক্ষা করা উচ্চাকাঙ্ক্ষা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতার কারণ হতে পারে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে তিনি ভারতপ্রীতি বা ভারতবিদ্বেষের সরল দ্বন্দ্ব নয়, বরং সার্বভৌমত্ব, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও সমমর্যাদার প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেছেন।
প্রবন্ধে বলিউড, সাহিত্য, উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তি, প্রবাসী সম্প্রদায় এবং ইংরেজিভাষী বুদ্ধিবৃত্তিক সক্রিয়তার মাধ্যমে ভারতের সফট পাওয়ারের কথা স্বীকার করা হয়েছে। তবে প্রভাব যখন নিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয়, তখন সাংস্কৃতিক আকর্ষণ আধিপত্যের হাতিয়ার হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। আন্তোনিও গ্রামসি, অ্যাডওয়ার্ড সাঈদ ও বেনেডিক্ট অ্যান্ডারসনের ধারণার আলোকে শিক্ষা, সংবাদমাধ্যম, ভাষা, মানচিত্র, ইতিহাস ও পরিচয়ের মাধ্যমে ক্ষমতা কাজ করার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।
লেখক বাংলাদেশের জন্য বিচক্ষণ কূটনীতি, জাতীয় স্বার্থ এবং সমমর্যাদাভিত্তিক সম্পর্কের পক্ষে মত দিয়েছেন। বন্ধুত্ব, বাণিজ্য, সীমান্ত ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রেখেও জাতীয় সিদ্ধান্ত ঢাকার হাতেই থাকা উচিত বলে প্রবন্ধে বলা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎকে সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক মর্যাদা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রবন্ধে দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক পুনরেকত্রীকরণের বদলে সার্বভৌম সমমর্যাদার আহ্বান
একটি প্রবন্ধে ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা আন্দোলন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিকাশের আলোচনায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও দ্বিজাতি তত্ত্বকে নতুন করে মূল্যায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে জিন্নাহকে এমন একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যিনি ব্রিটিশ ভারতের হিন্দু ও মুসলমানকে পৃথক জাতি মনে করতেন এবং রাজনৈতিক অধিকার ও আত্মনিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে পৃথক মুসলিম রাষ্ট্রের পক্ষে ছিলেন।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে, জিন্নাহ প্রথমে কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সরোজিনী নাইডু তাঁকে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের দূত বলেছিলেন। লেখাটির দাবি, ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের পর কংগ্রেসের কিছু নীতি এবং মুসলমান ও দলিতদের দাবি উপেক্ষিত হওয়ায় তিনি মুসলিম লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন ও পাকিস্তান আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। লেখক পাকিস্তান সৃষ্টির সঙ্গে পরবর্তীকালে বাংলাদেশের জন্মের ঐতিহাসিক সম্পর্কও তুলে ধরেছেন।
প্রবন্ধটি বাংলাদেশে পাঠ্যক্রম ও ইতিহাসচর্চায় জিন্নাহ এবং দ্বিজাতি তত্ত্ব নিয়ে পর্যাপ্ত বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা নেই বলে সমালোচনা করেছে। এতে জিন্নাহকে বাংলা ভাষাবিরোধী হিসেবে উপস্থাপনের বিরোধিতা করা হয়েছে। লেখাটির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি উর্দুকে পাকিস্তানের সাধারণ যোগাযোগের ভাষা করতে চেয়েছিলেন, তবে পূর্ব পাকিস্তানের দাপ্তরিক ভাষা নির্ধারণের অধিকার স্থানীয় মানুষের বলে উল্লেখ করেছিলেন।
জিন্নাহ ও দ্বিজাতি তত্ত্ব নিয়ে নতুন করে ইতিহাসচর্চার আহ্বান
হেগের কোর্ট অব আরবিট্রেশনের সাম্প্রতিক রায়ের পর ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের আইনি ও কূটনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। আদালত বলেছে, চুক্তিটি এখনো কার্যকর এবং কোনো পক্ষ একতরফাভাবে এটি স্থগিত বা অকার্যকর করতে পারে না। ভারত রায় প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তারা সালিশি কাঠামোর এখতিয়ার স্বীকার করে না এবং চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় স্বাক্ষরিত চুক্তিটি ছয় নদীর ব্যবস্থাপনা নির্ধারণ করে। রাভি, বিয়াস ও শতদ্রুর পানিতে ভারতের প্রধান অধিকার এবং সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাবের পানিতে পাকিস্তানের প্রধান অধিকার নির্ধারিত হয়; পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীতে ভারতের নির্দিষ্ট জলবিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত চুক্তিকে স্থগিত অবস্থায় রাখার ঘোষণা দেয়।
আদালত জম্মু-কাশ্মীরের রাতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসংক্রান্ত কিছু নির্মাণকাজে অন্তর্বর্তী বিধিনিষেধও আরোপ করেছে। পাকিস্তান রায়কে স্বাগত জানিয়ে আলোচনায় ফেরার সম্ভাবনার কথা বলেছে। তবে ভারতের অস্বীকৃতির কারণে তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন অনিশ্চিত। পানি প্রবাহ, জলাধার, বন্যার তথ্য, জলবিদ্যুৎ ও জলবায়ু-সম্পর্কিত ব্যবস্থাপনায় সরাসরি যোগাযোগ ভবিষ্যৎ সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
হেগের রায় সত্ত্বেও ভারত-পাকিস্তানের সিন্ধু পানি চুক্তি বিরোধের সমাধান হয়নি
দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা কমাতে ভারত ও চীন আট দফা সমঝোতার রূপরেখা দিয়েছে। আগস্ট ২০২৬-এ বেইজিংয়ে দুই দেশের সীমান্তবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিদের ২৫তম বৈঠকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই নেতৃত্ব দেন। সমঝোতায় সামরিক হটলাইন, ঊর্ধ্বতন কমান্ডারদের নতুন বৈঠকস্থল, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সীমানা নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ আলোচনা এবং আন্তঃসীমান্ত নদী ও জলবিদ্যুৎ তথ্য বিনিময়ের কথা রয়েছে।
এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘আর্লি অ্যান্ড সাবস্ট্যানশিয়াল হার্ভেস্ট’ পদ্ধতি, যেখানে কম মতপার্থক্য থাকা অঞ্চলগুলোতে আগে মানচিত্র প্রণয়ন ও প্রয়োজন হলে সীমা চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা হবে। এতে ধাপে ধাপে আস্থা গঠন ও দুর্ঘটনাজনিত সংঘাতের ঝুঁকি কমতে পারে। তবে আংশিক সমাধান দীর্ঘায়িত হলে চূড়ান্ত সীমান্ত নিষ্পত্তির বদলে স্থায়ী সীমান্ত ব্যবস্থাপনার কাঠামো তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
দুই দেশ ১৯৮১ সাল থেকে সীমান্ত প্রশ্নে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করছে এবং ২০২০ সালের লাদাখ সংঘর্ষের পর সম্পর্ক খারাপ হয়। সেপ্টেম্বরের জন্য নদীর তথ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ বৈঠকের কথা বলা হয়েছে। ২০২৭ সালে ভারতে পরবর্তী বিশেষ প্রতিনিধি বৈঠক হওয়ার কথা; হটলাইন, বৈঠক ও তথ্য বিনিময়ের বাস্তবায়নই অগ্রগতির স্থায়িত্ব নির্ধারণ করবে।
আট দফা সমঝোতায় সীমান্ত যোগাযোগ বাড়ছে, তবে ভারত-চীনের মূল বিরোধ অমীমাংসিত
শৌনক চৌধুরীর একটি নিবন্ধে সতর্ক করা হয়েছে, ভারত থেকে কথিত অনিবন্ধিত অভিবাসীদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর ‘পুশ-ইন’ ঘটনা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও জটিল করতে পারে এবং কৌশলগতভাবে ঢাকাকে চীনের আরও কাছে নিয়ে যেতে পারে। নিবন্ধে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী; একই সঙ্গে অবকাঠামো, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতায় চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
নিবন্ধটির মতে, ভারত থেকে এসব ব্যক্তিকে জোরপূর্বক পাঠানো দুই দেশের বিদ্যমান আস্থার সংকটকে আরও গভীর করতে পারে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনার নামে একতরফা পদক্ষেপ নেওয়ার বদলে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন। সীমান্ত ইস্যুতে উত্তেজনা না বাড়িয়ে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন এবং নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এতে ভারতকে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের সংলাপ শুরু করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দাবি করা ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই এবং প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে সমন্বিত রোডম্যাপ তৈরির কথা বলা হয়েছে। নিবন্ধে আরও বলা হয়, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করা পদক্ষেপ ঢাকার কৌশলগত হিসাব বদলাতে পারে এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, ভারতের পুশ-ইন বাংলাদেশকে চীনের আরও কাছে নিতে পারে
নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে রেকর্ড অষ্টমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারতের নারী ক্রিকেট দল। তবে শিরোপা জয়ের পর এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি নেয়নি হারমানপ্রীত কৌরের দল। টুর্নামেন্ট-পরবর্তী পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের জন্য ভারতীয় খেলোয়াড়রা মাঠেও নামেননি।
ফাইনাল শেষ হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হয়। রানার্সআপ শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা নাকভির কাছ থেকে পদক ও চেক গ্রহণ করেন, কিন্তু তখন মাঠে ভারতের কোনো খেলোয়াড় ছিলেন না। পরে জানা যায়, নাকভির কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় দল।
ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রধান কোচ অমল মজুমদার বলেন, ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন এবং ট্রফি নেওয়া বা না নেওয়া তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি জানান, নাকভির কাছ থেকে ট্রফি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত বিসিসিআইয়ের এবং এ বিষয়ে দলের কিছু বলার নেই। গত বছর পুরুষদের এশিয়া কাপ জয়ের পরও নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নেয়নি ভারত।
রেকর্ড অষ্টম এশিয়া কাপ জিতেও মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি নেয়নি ভারত
হিমালয়ে হিমবাহ গলার গতি এক দশক আগের তুলনায় ৬৫ শতাংশ বেড়েছে, যা ভারতের অর্থনীতি এবং দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য পরিবেশগত ও দুর্যোগঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে নতুন এক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে। গ্লোবাল কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান সিস্টেমিকের প্রকাশিত গবেষণাটি ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ইনিশিয়েটিভের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি; এতে আইসিআইএমওডি ও জিবি পান্ত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হিমালয়ান এনভায়রনমেন্টের কারিগরি সহায়তা ছিল।
গবেষণায় বলা হয়েছে, হিমালয়-ক্যারাকোরাম অঞ্চলের আনুমানিক ৪০ হাজার হিমবাহের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণে আছে মাত্র ২১টি। ভারতের ২০২৫ সালের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নে ১৮৯টি উচ্চঝুঁকির হিমবাহ হ্রদের মধ্যে ৫৬টিকে অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছে। ২০২৩ সালে সিকিমে হিমবাহ-হ্রদের বাঁধ ভেঙে বন্যায় অন্তত ৭০ জন নিহত হন; ২০২১ সালে উত্তরাখণ্ডে একই ধরনের ঘটনায় দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়।
গবেষণার হিসাবে, হিমালয়ের পানি ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশের ভিত্তি এবং গম, ধান, চা, জলবিদ্যুৎ ও তীর্থভিত্তিক পর্যটন এ পানির ওপর নির্ভরশীল। সুপারিশের মধ্যে রয়েছে ব্ল্যাক কার্বন কমানো, হিমবাহ পর্যবেক্ষণ ও আগাম সতর্কতা জোরদার, পর্যটন পদ্ধতি পরিবর্তন এবং সীমান্তপারের তথ্য বিনিময় ও যৌথ দুর্যোগ বিনিয়োগ।
দ্রুত হিমবাহ গলন ভারতের অর্থনীতি ও দক্ষিণ এশিয়ার জীবিকার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শনিবারের বৈঠকের পর প্রকাশিত পৃথক বিবৃতিতে সীমান্ত সমস্যা এবং বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের যোগসূত্র নিয়ে দুই দেশের ভিন্ন অবস্থান উঠে এসেছে। চীন বলেছে, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া এবং সীমান্ত সমস্যার সমাধানে একই সঙ্গে অগ্রসর হওয়া উচিত।
চীনের বিবৃতিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সীমান্ত সমস্যা সমাধানে ‘সমান্তরাল ও পরস্পরকে শক্তিশালী করে এমন অগ্রগতির’ কথা বলা হয়েছে। পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে বিরক্তির কারণ দূর করার কথাও বলা হয়। অন্যদিকে ভারতের বিবৃতিতে মোদি বলেন, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য ভিত্তি।
ভারতের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই নেতা সীমান্ত সমস্যার ন্যায্য, যুক্তিসংগত ও পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধানে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এ ক্ষেত্রে সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং দুই দেশের জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। মোদি সীমান্ত-সংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতা দুই দেশের মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন। দুই বিবৃতির মূল পার্থক্য অগ্রগতির ক্রম নিয়ে।
বৃহত্তর সম্পর্কের আগে সীমান্ত স্থিতিশীলতা দরকার কি না, তা নিয়ে চীন-ভারতের মতভেদ
একটি মতামতধর্মী নিবন্ধে বলা হয়েছে, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানে দক্ষিণ এশিয়ায় পতাকা বদলালেও শাসনব্যবস্থার মৌলিক রূপ বদলায়নি। দেশভাগের মাধ্যমে পাকিস্তান ও ভারতের জন্ম এবং পরবর্তী সময়ে অঞ্চলের মানচিত্র ও রাজনীতির পরিবর্তন সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ঔপনিবেশিক প্রতিষ্ঠান অক্ষত থেকেছে বলে লেখক দাবি করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, ক্ষমতা দেশীয় অভিজাতদের হাতে যাওয়ার পরও সাধারণ মানুষ নিজেদের শাসন করতে না পারলে স্বাধীনতা কতটা অর্থবহ।
নিবন্ধটির মূল আলোচ্য পুলিশব্যবস্থা। এতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারতের পুলিশ সার্ভিসের আইনি ভিত্তি প্রধানত ১৮৬১ সালের পুলিশ আইন। পাকিস্তান ও ভারতে আইনটির সংস্কার হলেও বাংলাদেশে এটি এখনো কার্যকর। লেখকের মতে, আইনটি জনসেবা বা নিরাপত্তার বদলে নিয়ন্ত্রণ ও শাসনের উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছিল এবং এতে আনুগত্য, শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিবন্ধে আইনটির ৩ ও ১২ নম্বর ধারা উল্লেখ করে পুলিশের ওপর সরকারের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে। লেখক মনে করেন, আমলাতন্ত্র, সামরিক বাহিনী ও বিচারব্যবস্থাতেও একই ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার রয়েছে। তিনি রাষ্ট্রশিল্প, জবাবদিহিতা এবং শাসনচিন্তা ঔপনিবেশিকতার বাইরে কতটা যেতে পেরেছে, তা নিয়ে গভীর পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
মতামত নিবন্ধে দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রে ঔপনিবেশিক শাসনকাঠামোর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন
নারী এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান ৫৫ রানে অলআউট হয়ে ৭ উইকেটে হেরেছে। ফাতিমা সানার দল ১৮.১ ওভারে গুটিয়ে যাওয়ার পর ভারত ৫৬ রানের লক্ষ্য ৮.৪ ওভারেই পেরিয়ে যায়। জয়ের সময় ভারতের হাতে ছিল ৬৮ বল, আর পাকিস্তান প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারেনি।
এই ৫৫ রান পাকিস্তানের নারী টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। এর আগে ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫৬ রানে অলআউট হয়েছিল তারা। শাওয়াল জুলফিকার ১৪ ও মুনিবা আলি ১৩ রান করেন; দুই ওপেনার ছাড়া আর কোনো পাকিস্তানি ব্যাটার দুই অঙ্কে যেতে পারেননি। ওপেনিং জুটির দুই ব্যাটার করেন ২৭ রান, বাকি নয়জনের অবদান ২৮।
ভারতের হয়ে শ্রী চরনি ও প্রেমা রাওয়াত তিনটি করে উইকেট নেন। ভারতও শুরুতে ধাক্কা খায়; ১৩ রানে শেফালি ভার্মা, ১৮ রানে প্রতিকা রাওয়াল এবং পরে স্মৃতি মান্ধানা আউট হন। তবে অল্প পুঁজি নিয়ে পাকিস্তান ম্যাচে ফিরতে পারেনি। বল বাকি থাকার হিসাবে এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের অন্যতম বড় জয়।
রেকর্ড সর্বনিম্ন ৫৫ রানে অলআউট পাকিস্তান, ভারতের ৭ উইকেটের জয়
নিবন্ধে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে দ্রুত হিমবাহ গলা, পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা ও ধারাবাহিক দুর্যোগে হিমালয় গভীর সংকটে পড়েছে। গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তে হিমবাহ ও পাথর ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু এবং পাঁচ হাজার মানুষের নিখোঁজ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিপর্যয়ের জন্য নেপাল জলবায়ু পরিবর্তনকে প্রধানত দায়ী করেছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল ঘটনাটিকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সরাসরি ফল বলে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কাছে এ দাবি জানানো হয়েছে। নিবন্ধ অনুযায়ী, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে নেপালের অংশ ০.১ শতাংশের কম। গত তিন দশকে হিমালয় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বরফ হারিয়েছে এবং ২০০০ সালের পর বরফ গলার গতি দ্বিগুণ হয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।
নিবন্ধটি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানের সমন্বিত অববাহিকাভিত্তিক পরিকল্পনার আহ্বান জানিয়েছে। হিমালয় থেকে উৎসারিত নদীগুলোর ওপর প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। হিমবাহ ধস, আকস্মিক বন্যা ও পানি কমে যাওয়ার ঝুঁকি দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি, জলবিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও জনজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
হিমবাহ গলন ও দুর্যোগের ঝুঁকিতে নেপালের জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবি
সিন্ধু নদের পানিবণ্টন নিয়ে বিরোধে হেগের স্থায়ী সালিশি আদালত পাকিস্তানের পক্ষে রায় দিয়েছে। পাঁচ সদস্যের আদালত সর্বসম্মতভাবে বলেছে, ভারত একতরফাভাবে সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত রাখতে পারে না। ১৯৬০ সালের চুক্তি এখনো কার্যকর এবং পাকিস্তানে প্রবাহিত নদীগুলোতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নকশা ও পরিচালনাসহ চুক্তির বাধ্যবাধকতা ভারতকে পালন করতে হবে। রায়টি সোমবার দেওয়া হয়।
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে নয়াদিল্লি চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দেয়। ভারত বলেছিল, পাকিস্তান সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। পাকিস্তান এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ভারত শুরু থেকেই আদালতের এখতিয়ার প্রত্যাখ্যান করে এবং ২০২৬ সালের ২৬ থেকে ২৮ এপ্রিল পিস প্যালেসে অনুষ্ঠিত শুনানিতে অংশ নেয়নি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার রায়কে গুরুত্বপূর্ণ বিজয় বলেছেন এবং ভারতের চুক্তিগত দায়িত্ব পালনের দাবি জানিয়েছেন। ভারত আদালতকে অবৈধভাবে গঠিত আখ্যা দিয়ে রায় প্রত্যাখ্যান করেছে। রায় বাস্তবায়নে সরাসরি কোনো প্রয়োগকারী ব্যবস্থা নেই; ফলে ভারত না মানলে পাকিস্তানের প্রধান পথ হবে আন্তর্জাতিক ফোরামে কূটনৈতিক চাপ।
হেগের আদালত বলেছে, ভারত একতরফাভাবে সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করতে পারে না
আন্তর্জাতিক সালিসি আদালত বা পিসিএ পাকিস্তানের সঙ্গে পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিতের ভারতের সিদ্ধান্ত বাতিল করে চুক্তির বাধ্যবাধকতা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। তবে নয়াদিল্লি তাৎক্ষণিকভাবে রায় প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের দাবি, হেগভিত্তিক আদালতটি অবৈধভাবে গঠিত এবং এর অস্তিত্বই তারা স্বীকার করে না।
আদালত জানিয়েছে, বিশ্বব্যাংক নিযুক্ত একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে কাশ্মীর অঞ্চলের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না নির্ধারণ করবেন। ততদিন রাটলে প্রকল্পের বাঁধের দেয়াল ও পানি প্রবেশ কাঠামো নির্দিষ্ট মাত্রার ওপরে নির্মাণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা সালিসি আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশও মানবে না। তাদের মতে, ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর এই আদালতের কোনো এখতিয়ার নেই এবং এর সিদ্ধান্ত প্রকল্পগুলোতে ভারতের কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করবে না। পাকিস্তান রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, সিন্ধু পানি চুক্তির অধীনে ভারত তার আবশ্যিক দায়িত্ব পালনে বাধ্য। উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও ভারতের পূর্ণাঙ্গভাবে বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত মানার কথা বলেছেন।
পানি চুক্তি মানতে ভারতকে পিসিএর নির্দেশ, আদালতের কর্তৃত্ব প্রত্যাখ্যান নয়াদিল্লির
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ২১৭ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।