বেইজিং কয়েক দিনের ব্যবধানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে একই ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে স্বাগত জানায়। তবে আনুষ্ঠানিকতার মিলের মধ্যেও ছিল সূক্ষ্ম পার্থক্য। ট্রাম্পকে স্বাগত জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট, যিনি মূলত আনুষ্ঠানিক পদে আছেন, আর পুতিনকে অভ্যর্থনা জানান কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য। এতে বোঝা যায়, চীন মস্কোকে উদীয়মান অ-পশ্চিমা বিশ্বব্যবস্থার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেখে।
ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ দুই সফরকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে না দেখার আহ্বান জানালেও রুশ গণমাধ্যমে পুতিনকে “বিশ্বস্ত মিত্র” ও ট্রাম্পকে “অনিশ্চিত অংশীদার” হিসেবে বর্ণনা করা হয়। ট্রাম্পের সফরে বাণিজ্য ও প্রযুক্তি ইস্যুতে অগ্রগতি না হলেও, পুতিনের সফর কৌশলগতভাবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ইউক্রেন যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার চাপে রাশিয়া চীনের ওপর আরও নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে আতিথ্য দিয়ে শি জিনপিং নিজেকে বৈশ্বিক ভারসাম্যের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি।
একই জাঁকজমকে ট্রাম্প ও পুতিনকে স্বাগত জানিয়ে ভিন্ন বার্তা দিল বেইজিং
চীনের নেতা শি জিনপিং ২০২৬ সালের ২০ মে বুধবার বেইজিংয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের শুরুতেই শি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব আবারও ‘জঙ্গলের শাসনে’ ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যেখানে শক্তিই নিয়ম নির্ধারণ করে। তিনি চীন-রাশিয়া সম্পর্ককে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার একটি বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় মাত্র কয়েক দিন পর, যখন শি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আতিথ্য দিয়েছিলেন।
বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার আগে পুতিনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সামরিক ব্যান্ড রাশিয়া ও চীনের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে, চীনা সেনারা গার্ড অব অনার প্রদান করে এবং শিশুরা দুই দেশের পতাকা নেড়ে চীনা ভাষায় স্বাগত জানায়। এই দৃশ্য ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সফরের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে, যেখানে দুই দেশের নেতারা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ইরান ও তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।
বৈঠকটি চীনের কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে, যেখানে দেশটি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে।
বেইজিংয়ে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে শির সতর্কবার্তা, বিশ্ব ‘জঙ্গলের শাসনে’ ফেরার আশঙ্কা
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, চীন ও রাশিয়ার সম্পর্ক এখন অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং এটি আধুনিক বিশ্বের আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের এক আদর্শ মডেল। বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। পুতিন বলেন, বৈশ্বিক নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা শক্তিশালী গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।
পুতিনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ বছরে চীন-রাশিয়ার বাণিজ্যিক লেনদেন ৩০ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং টানা কয়েক বছর ধরে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রয়েছে। তিনি জ্বালানি খাতকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মধ্যেও রাশিয়া নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করছে, আর চীন দায়িত্বশীল ভোক্তা হিসেবে সেই সম্পদ গ্রহণ করছে।
তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক আস্থা ও দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই সম্পর্ক আধুনিক বিশ্বের রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের এক অনুকরণীয় উদাহরণ, যার মূল লক্ষ্য দুই দেশের জনগণের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি।
বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে চীন-রাশিয়া সম্পর্কের অনন্য উচ্চতার কথা বললেন পুতিন
বেইজিং ২০০টি বোয়িং বিমান কেনার ঘোষণা দিয়েছে, যা বুধবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। এই ঘোষণা এমন সময় এসেছে যখন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন। চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র চীনকে বিমানের ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ ও উপাদান সরবরাহের নিশ্চয়তা দেবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উভয় পক্ষ গত অক্টোবরে হওয়া শুল্ক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য কাজ করবে এবং ৩০ বিলিয়ন ডলার বা তার বেশি মূল্যের পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর উপায় খুঁজবে। বোয়িং জানিয়েছে, তাদের সাম্প্রতিক চীন সফর সফল হয়েছে এবং চীনা বাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। ২০০টি বিমানের এই অর্ডার প্রাথমিক প্রতিশ্রুতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও অর্ডারের আশা করা হচ্ছে।
এর আগে কুয়ালালামপুরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা শুল্ক যুদ্ধবিরতি নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন, যার মধ্যে মার্কিন শুল্ক হ্রাস ও চীনের বিরল মৃত্তিকা রপ্তানি সীমাবদ্ধতা স্থগিত রাখার বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সহযোগিতার অংশ হিসেবে ২০০ বোয়িং বিমান কিনছে চীন
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০ মে ২০২৬ তারিখে বেইজিংয়ে এমন এক আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা পেয়েছেন, যা এক সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানের সঙ্গে অভিন্ন ছিল। প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি জাঁকজমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে পুতিনের জন্য লাল গালিচা বিছানো হয় এবং ২১ বার তোপধ্বনি দিয়ে তাকে স্বাগত জানানো হয়। শিশুরা রাশিয়া ও চীনের পতাকা নেড়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। পার্থক্য ছিল কেবল বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর ব্যক্তিত্বে—ট্রাম্পকে স্বাগত জানান ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং, আর পুতিনকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
এরপর গ্রেট হল অব দ্য পিপলে পুতিন ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক শুরু হয়। শি বলেন, ক্রমবর্ধমান বিশৃঙ্খল ও আধিপত্যবাদী বিশ্বে চীন ও রাশিয়া তাদের রাজনৈতিক আস্থা ও কৌশলগত সহযোগিতা গভীর করেছে। তিনি আরও ন্যায়সংগত ও যৌক্তিক বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গঠনের আহ্বান জানান।
শির বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে বেইজিং ও মস্কোর মধ্যে গভীর আস্থা বিদ্যমান, যা চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনুপস্থিত, এবং চীন একটি বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।
বেইজিংয়ে ট্রাম্পের মতোই অভ্যর্থনা পেলেন পুতিন, চীন-রাশিয়া সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর শেষ হওয়ার মাত্র চার দিন পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিং পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এটি পুতিনের ২৫তম চীন সফর, যা চীনের কূটনৈতিক আত্মবিশ্বাস ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে চীনের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানালেও বেইজিং বরং মস্কোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করছে। ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প-শি বৈঠকে বড় অগ্রগতি না আসার পরপরই পুতিনের সফর চীনের স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থানকে স্পষ্ট করছে।
সফরে চীন ও রাশিয়া যৌথভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়ন ও পরিচালনা কাঠামো তৈরির ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি, ২০০১ সালের ‘সুপ্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি’র ২৫ বছর পূর্তিও এই সফরের সঙ্গে মিলেছে।
ট্রাম্পের পর পুতিনের বেইজিং সফর, চীন-রাশিয়া কৌশলগত ও এআই সহযোগিতা জোরদার
চীনে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন। বিবিসি ফার্সির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ক্রেমলিন এই বার্তাটি প্রকাশ করে। ভিডিওতে পুতিন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে নিজের 'ভালো ও পুরোনো বন্ধু' হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক এখন 'অভূতপূর্ব উচ্চতায়' পৌঁছেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের এই কৌশলগত জোট বিশ্বমঞ্চে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্থিতিশীল ভূমিকা রাখছে।
পুতিন আরও বলেন, রাশিয়া-চীন সহযোগিতা কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি বিশ্বজুড়ে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে কাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের কয়েক দিন পরই পুতিনের এই সফর হচ্ছে। ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, মস্কো এই সফর নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী এবং এটি দুই দেশের 'বিশেষ অংশীদারিত্ব' আরও এগিয়ে নেবে।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটি পুতিনের ২৫তম চীন সফর। পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ সত্ত্বেও এই সফর রাশিয়া-চীন সম্পর্কের গভীরতা ও দৃঢ়তা তুলে ধরে।
চীন সফরের আগে শি জিনপিংকে 'পুরোনো বন্ধু' বলে প্রশংসা করলেন পুতিন
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুয়াংশি অঞ্চলে সোমবার (১৮ মে) ভোরে আঘাত হানা ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। ভূমিকম্পের পর লিউঝৌ শহর থেকে সাত হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি ও সিনহুয়া জানায়, নিহতরা হলেন ৬৩ বছর বয়সি এক ব্যক্তি ও তার ৫৩ বছর বয়সি স্ত্রী। আহত চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তবে তাদের কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।
সিসিটিভির তথ্যমতে, ভূমিকম্পে অন্তত ১৩টি ভবন ধসে পড়েছে। প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, আতঙ্কিত মানুষজন বহুতল ভবন থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসছে এবং বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসস্তূপ জমে আছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালাচ্ছেন এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে উদ্ধারকারী কুকুর ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবকাঠামো ও রেললাইন ক্ষয়ক্ষতি পরীক্ষা করতে গিয়ে কিছু পরিবহন বিঘ্নের আশঙ্কা রয়েছে। তবে বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, পানি, গ্যাস ও সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে।
চীনের গুয়াংশিতে ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ২, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সাত হাজারের বেশি মানুষ
২০২৬ সালের মার্চের মাঝামাঝি বেইজিংয়ে দুই দিনের বৈঠকে মুখোমুখি হন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ২০১৭ সালের পর এটি ছিল তাদের প্রথম সাক্ষাৎ। বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ককে শান্ত ও স্থিতিশীল করা। উভয় নেতা বৈঠককে সফল বলে দাবি করেন। শি বলেন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো ও পারস্পরিক উদ্বেগ সমাধানে ঐকমত্য হয়েছে। ট্রাম্প শিকে ‘বন্ধু’ আখ্যা দিয়ে সফর নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তবে দুই দেশের পৃথক বিবৃতিতে দেখা যায়, বাণিজ্য, তাইওয়ান, ইরান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বৈঠকের আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী হে লিফেং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কাউন্সিল গঠনের বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু বৈঠক শেষে বাণিজ্য যুদ্ধের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো অনির্ধারিত থেকে যায়। চীন কিছু চুক্তি নিশ্চিত করলেও মার্কিন পক্ষের দাবি করা বোয়িং ও কৃষিপণ্য ক্রয়ের বিষয়ে নিশ্চয়তা দেয়নি। শি তাইওয়ান ইস্যুকে যুদ্ধের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সতর্ক করেন, আর ট্রাম্প প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি নিয়ে অস্পষ্ট থাকেন।
বৈঠকটি দেখায়, সৌজন্যমূলক পরিবেশের আড়ালে দুই দেশের কৌশলগত অবিশ্বাস এখনো গভীর, এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্ক অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
বেইজিংয়ে ট্রাম্প-শি বৈঠক, বাণিজ্য ও তাইওয়ান ইস্যুতে অগ্রগতি সীমিত
চীন আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। সম্প্রতি চীন সফররত বাংলাদেশি মিডিয়া প্রতিনিধি দলের সম্মানে আয়োজিত এক ব্যাংকোয়েটে শিনজিয়াং পররাষ্ট্র দপ্তরের উপমহাপরিচালক জিয়াং ইয়েন বলেন, বাংলাদেশ চীনের পরীক্ষিত বন্ধু ও প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। তিনি ব্যবসা, বাণিজ্য, অবকাঠামো, কৃষি, পর্যটন ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন এবং বলেন, স্থিতিশীলতা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
জিয়াং ইয়েন জানান, আটটি দেশের সীমান্তবর্তী শিনজিয়াং এখন একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র, যেখানে বাংলাদেশ চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে। তিনি দাবি করেন, ২০২২ সালের পর থেকে কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা ঘটেনি এবং ২০২৫ সালে তিন কোটিরও বেশি বিদেশি পর্যটক শিনজিয়াং সফর করেছেন। ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুসলিমরা এখানে স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চা করতে পারেন।
বাংলাদেশি প্রতিনিধি দল শিনজিয়াং ইসলামিক ইনস্টিটিউটও পরিদর্শন করে, যেখানে প্রশাসন জানায়, ঐতিহ্যবাহী ইসলামি শিক্ষা ও আধুনিক সমাজব্যবস্থার সমন্বয়ে নতুন শিক্ষামডেল গড়ে উঠেছে। রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি ইমাম ও ধর্মীয় পণ্ডিত তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে শান্তি ও উন্নয়নে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের প্রতিশ্রুতি চীনের
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগামী ১৯ মে চীন সফরে যাচ্ছেন বলে ক্রেমলিন জানিয়েছে। দুই দিনের এই সফরে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আলোচনায় মস্কো ও বেইজিংয়ের মধ্যে “সমগ্র অংশীদারিত্ব ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার” করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। এই সফরটি এমন সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বেইজিং সফর শেষ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠতা আরও গভীর করার একটি উদ্যোগ হিসেবে এই সফরকে দেখা হচ্ছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে।
এই সফর রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করতে পারে।
১৯ মে চীন সফরে যাচ্ছেন পুতিন, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা
হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে চীন। বেইজিং গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দ্রুত স্বাভাবিকভাবে চালুর ওপরও জোর দিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়াকে বলেন, সংকটের সমাধান যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার মধ্যেই নিহিত।
ওয়াং ই জানান, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেছেন, বলপ্রয়োগ কখনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না, সংলাপই একমাত্র সঠিক পথ। তিনি আরও বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়, তবে একবার সংলাপ শুরু হলে সেটি বন্ধ করা উচিত নয়। ওয়াং ই উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং সংঘাত বন্ধ ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বেইজিং তার ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে চীনের কূটনৈতিক আহ্বানকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালির উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপের আহ্বান চীনের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ট্রাম্পের বেইজিং সফরকে ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত সফল বলে উল্লেখ করেছেন। সফরের দ্বিতীয় দিনে শি ট্রাম্পকে জংনানহাই লিডারশিপ কম্পাউন্ড ঘুরিয়ে দেখান, যেখানে চীনের শীর্ষ নেতারা বসবাস ও কাজ করেন। হাঁটার সময় ট্রাম্প বাগানের গোলাপের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন এবং শি জানান, তিনি হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনের জন্য ট্রাম্পকে চীনা গোলাপের বীজ উপহার পাঠাবেন।
দুই নেতা যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ককে গঠনমূলক ও কৌশলগত নতুন পর্যায়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন। শি বলেন, সফরটি মাইলফলক এবং দুই দেশ স্থিতিশীল সহযোগিতার নতুন অবস্থান নির্ধারণ করেছে। ট্রাম্প জানান, তারা বাণিজ্য, ইরানসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং এমন কিছু সমস্যার সমাধান করেছেন যা অন্যরা পারেনি। তিনি শিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে আবার সাক্ষাৎ হবে।
বেইজিং ছাড়ার আগে ট্রাম্প ও শি একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সফরটিকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে।
বেইজিং সফরকে ঐতিহাসিক বললেন ট্রাম্প-জিনপিং, সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার
চীন ইরানে চলমান যুদ্ধ বন্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের যুদ্ধ এই অঞ্চলে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে এবং এর মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যত দ্রুত সম্ভব ইরান যুদ্ধ থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে হবে। যুদ্ধ শেষ করতে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য আলোচনার সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সংলাপ ও আলোচনাই সঠিক পথ এবং হরমুজ প্রণালিতে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় তা নিশ্চিত করা জরুরি।
চীনের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি তাদের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।
ইরান যুদ্ধ বন্ধে সংলাপ ও উপসাগরীয় স্থিতিশীলতার আহ্বান চীনের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে শুক্রবার চীন ত্যাগ করেছেন। তিনি এয়ার ফোর্স ওয়ানে বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হন। তার সম্মানে বিমানবন্দরে একটি বিদায়ী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বুধবার রাতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেইজিং পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সফরকালে ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে টানা দুদিন বৈঠক করেন। আলোচনায় বাণিজ্য, ইরান ও তাইওয়ান ইস্যু উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনে চীনের সহযোগিতা চায়। সরকারি বৈঠকের পাশাপাশি ট্রাম্প চীনের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনাও পরিদর্শন করেন।
সফরের শেষ দিনে ট্রাম্প ও শি জিনপিং আবারও সাক্ষাৎ করেন এবং বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ঝংনানহাই নেতৃত্ব কমপ্লেক্স ঘুরে দেখেন, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদের চীন সফরের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনদিনের চীন সফর শেষ করলেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন সফর শেষ করেছেন, যেখানে ইরান সংঘাত বন্ধে বেইজিংকে সহায়তার আহ্বান জানাবেন বলে প্রত্যাশা ছিল। ইরানের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক অংশীদার এবং তেলের প্রধান ক্রেতা চীন আলোচনার পরও তার অবস্থান অপরিবর্তিত রেখেছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
হোয়াইট হাউসের বিবরণ অনুযায়ী, উভয় দেশ একমত হয়েছে যে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে হবে এবং ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। বিবরণীতে আরও বলা হয়, শি জিনপিং প্রণালির সামরিকীকরণ ও শুল্ক আরোপের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কেনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান নিয়ে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।
ট্রাম্প-শি আলোচনার ফলে ইরান সংঘাতের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। আপাতত, বেইজিং তার পূর্ববর্তী অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান ইস্যুতে চীনের অবস্থান অপরিবর্তিত রেখেই ট্রাম্পের সফর শেষ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, শি জিনপিং ও ট্রাম্পের বৈঠকে দুই দেশ একগুচ্ছ নতুন সাধারণ বোঝাপড়ায় পৌঁছেছে, যা ভবিষ্যতে সহযোগিতা জোরদারে সহায়ক হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতা কৌশলগত স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে গঠনমূলক চীন-মার্কিন সম্পর্ক গড়ার নতুন রূপরেখায় সম্মত হয়েছেন। এই লক্ষ্য আগামী তিন বছর ও তার পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক পরিচালিত করবে। মন্ত্রণালয় জানায়, আলোচনায় পারস্পরিক বিশ্বাস ও বোঝাপড়া গভীর হয়েছে এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা এগিয়েছে, যা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও নিশ্চয়তা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, উভয় দেশ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদার করতে এবং একে অপরের উদ্বেগ যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে সম্মত হয়েছে।
চীন বলছে, জিনপিং-ট্রাম্প বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মাইলফলক
ইরান সংকট নিরসন ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে পাঁচ দফা শান্তি উদ্যোগ ঘোষণা করেছে চীন। ২০২৬ সালের ১৫ মে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, ইরান ও প্রতিবেশী অঞ্চলে চলমান সংঘাত কখনোই ঘটার কথা ছিল না এবং এটি মানবিক ও অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক ক্ষতি ডেকে এনেছে। বিবৃতিতে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
চীনের মতে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই একমাত্র সঠিক পথ, আর সামরিক শক্তির ব্যবহার একটি ‘মৃত গলি’। বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে পারস্য উপসাগরের নৌপথ দ্রুত খুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রস্তাবের আলোকে চীন টেকসই শান্তি অর্জনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে বলে জানানো হয়েছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে চীনের কূটনৈতিক সক্রিয়তা ও আলোচনাভিত্তিক সমাধানের ওপর জোর আরও স্পষ্ট হয়েছে।
ইরান সংকট সমাধানে চীন-পাকিস্তানের যৌথ পাঁচ দফা শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঘোষণা করেছেন যে ওয়াশিংটন ও বেইজিং তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জিনপিংয়ের বৈঠকের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, উভয় দেশ আগামী তিন বছর এবং তার পরেও একটি গঠনমূলক, কৌশলগত ও স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও এই সম্পর্কের মূল বৈশিষ্ট্য হবে সহযোগিতা, সুনিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা এবং দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা। বৈঠকে দুই নেতা বেশ কিছু জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। জিনপিং ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাইওয়ান। তাইওয়ান ইস্যু সঠিকভাবে মোকাবিলা করা গেলে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব হবে, অন্যথায় বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিবৃতিটি ইঙ্গিত দেয় যে উভয় দেশ সম্পর্কের নতুন কাঠামো নির্ধারণে স্থিতিশীলতা ও কৌশলগত সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের নতুন যুগের ঘোষণা জিনপিংয়ের
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সম্মত হয়েছেন। বেইজিংয়ে দুই নেতার বৈঠকের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তারা চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি গঠনমূলক, কৌশলগত ও স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই নতুন অবস্থান আগামী তিন বছর এবং তার পরবর্তী সময়ের জন্য দুই দেশের সম্পর্কের কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করবে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমিয়ে একটি টেকসই কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে এই সমঝোতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে শি জিনপিং জানান, দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক দলগুলো একটি সামগ্রিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ ও ইতিবাচক ফলাফল অর্জন করেছে এবং এই ধারা বজায় রাখতে উভয় পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, চীনের উন্মুক্তকরণের দুয়ার আরও প্রশস্ত হবে এবং স্মরণ করিয়ে দেন যে মার্কিন কোম্পানিগুলো চীনের সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। বিবৃতিতে চীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক কল্যাণকর সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহও প্রকাশ করা হয়।
বেইজিং বৈঠকে স্থিতিশীল ও কৌশলগত চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক গড়তে একমত জিনপিং ও ট্রাম্প
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৬১ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।