ভেনেজুয়েলার তেল খাতে ‘একচেটিয়া অংশীদারিত্ব’ গঠনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ও সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে চীন। বেইজিংয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ভেনেজুয়েলা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং তাদের তেল সম্পদ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর পূর্ণ সার্বভৌমত্ব রয়েছে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ এনে বলেন, ভেনেজুয়েলাকে নিজস্ব তেল সম্পদ পরিচালনায় আমেরিকার পক্ষ নিতে বাধ্য করার চেষ্টা আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন। মাও নিং আরও জানান, ভেনেজুয়েলায় চীনসহ অন্যান্য দেশের বৈধ অধিকার রয়েছে, যা সম্মান ও সুরক্ষিত করা উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বেইজিং ও কারাকাসের মধ্যে সহযোগিতা চুক্তিগুলো দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত এবং আইনগতভাবে সুরক্ষিত।
ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা নতুন করে সামনে এসেছে। ট্রাম্পের মন্তব্যের পর চীনের এমন কড়া প্রতিক্রিয়া ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়াতে পারে।
ভেনেজুয়েলা তেল ইস্যুতে ট্রাম্পের মন্তব্যে চীনের কঠোর প্রতিক্রিয়া
তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে জাপানে সামরিক কাজে দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্যের রপ্তানি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে চীন। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বেসামরিক ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহারযোগ্য পণ্যের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে ড্রোন ও সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে ব্যবহৃত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ উপাদানও রয়েছে। জাপানের সামরিক ব্যবহারকারী বা সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পারে এমন উদ্দেশ্যে এসব পণ্য রপ্তানি করা যাবে না। মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, কেউ এই বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর জবাবে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে এই পদক্ষেপকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও গভীরভাবে দুঃখজনক” বলে উল্লেখ করেছে। টোকিওর অভিযোগ, চীনের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক রীতিনীতির পরিপন্থি এবং বিশেষভাবে জাপানকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে। জাপান চীনকে অবিলম্বে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।
এই পদক্ষেপে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
তাইওয়ান ইস্যুতে উত্তেজনার মধ্যে জাপানে দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্যের রপ্তানি বন্ধ করল চীন
চীনের জন্মহার বাড়াতে নেওয়া সরকারি উদ্যোগগুলো ক্রমেই ব্যর্থতার মুখে পড়ছে। সরকারি প্রণোদনা ও সামাজিক চাপ থাকা সত্ত্বেও অনেক তরুণ দম্পতি সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ২৫ বছর বয়সি কনটেন্ট ক্রিয়েটর গ্রেস ও তার স্বামী আর্থিক চাপ, পেশাগত অগ্রাধিকার এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার কারণে সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। এই প্রবণতা চীনের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পরিবার ও বিয়ে সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করছে।
এক সন্তান নীতি বাতিল করে ২০১৬ সালে দুই সন্তান নীতি চালুর প্রায় এক দশক পরও চীন এখন গভীর জনসংখ্যাগত সংকটে পড়েছে। টানা তিন বছর ধরে জনসংখ্যা কমছে এবং জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী শতাব্দীর শেষে তা ১৪০ কোটি থেকে ৬৩ কোটিতে নেমে আসতে পারে। ২০২৪ সালে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা ছিল মাত্র ৯৫ লাখ ৪০ হাজার, যা ২০১৬ সালের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। “ডিঙ্ক” বা সন্তানহীন দম্পতিদের জীবনধারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
চীনা কর্তৃপক্ষ তিন বছরের কম বয়সি প্রতিটি শিশুর জন্য বছরে প্রায় ৫০০ ডলার ভর্তুকি ও গর্ভনিরোধক পণ্যে কর আরোপসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগের প্রভাব সীমিত এবং জন্মহার নিম্নমুখী থাকলে দ্রুত জনসংখ্যা বার্ধক্য ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে।
সরকারি প্রণোদনা ব্যর্থ, সন্তানহীন জীবনে আগ্রহী তরুণ চীনা দম্পতির সংখ্যা বাড়ছে
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইংরেজি নববর্ষের প্রাক্কালে ভাষণে ঘোষণা দেন যে, চীন তাইওয়ানকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে পুনরায় একত্রিত করতে অপ্রতিরোধ্যভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বেইজিং থেকে দেওয়া এই ভাষণে তিনি বলেন, মাতৃভূমির পুনরেকত্রীকরণ বর্তমান সময়ের দাবিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি অবশ্যম্ভাবী। এই বক্তব্য আসে এমন সময়ে, যখন চীন তাইওয়ানের চারপাশে নজিরবিহীন সামরিক মহড়া শেষ করেছে।
‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামে এই মহড়ায় অন্তত ৮৯টি যুদ্ধবিমান অংশ নেয় এবং তাইওয়ানের প্রধান বন্দরগুলো অবরোধের অনুশীলন করা হয়, যা গত এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে, যা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শি তার ভাষণে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন সামিটের কথাও উল্লেখ করেন এবং চীনের ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির দিক তুলে ধরেন।
তবে, তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে চীনের এই দাবির বিরোধিতা করে বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৯৩০-এর দশকের নাৎসি জার্মানির হুমকির সঙ্গে তুলনা করেছেন।
বৃহৎ সামরিক মহড়ার পর তাইওয়ান পুনরেকত্রীকরণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন শি জিনপিং
‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তাইওয়ানকে ঘিরে লাইভ-ফায়ার সামরিক মহড়া চালিয়েছে চীন। বেইজিং জানিয়েছে, এই দুই দিনের মহড়ায় কিলুং ও কাওশিয়ুংসহ তাইওয়ানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর অবরোধের অনুশীলন এবং সামুদ্রিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সিমুলেশন করা হয়েছে। পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) জানায়, এতে ডেস্ট্রয়ার, ফ্রিগেট, যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমান মোতায়েন করা হয়েছে এবং উত্তর ও দক্ষিণ জলসীমায় সমুদ্র-আকাশ সমন্বয় ও অবরোধ সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। তাইওয়ান এই পদক্ষেপকে সামরিক ভীতি প্রদর্শন হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
এই মহড়া এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে বড় পরিসরে অস্ত্র বিক্রি করেছে এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলপ্রয়োগ হলে সামরিক প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে যে, বহিরাগত শক্তি তাইপেকে অস্ত্র সহায়তা দিলে তাইওয়ান প্রণালী দ্রুত সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরিণত হতে পারে। পিএলএ মুখপাত্র শি ই বলেন, এই মহড়া ‘তাইওয়ান স্বাধীনতা’পন্থী শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দ্বীপটির আশপাশে ১৩০টি চীনা সামরিক বিমান ও ১৪টি নৌযান শনাক্ত করা হয়েছে, যা চীনের আগ্রাসী মনোভাবকে আরও স্পষ্ট করেছে।
তাইওয়ান ঘিরে চীনের দ্বিতীয় দিনের লাইভ-ফায়ার মহড়া, উত্তেজনা বৃদ্ধি
চীন ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বেশ কয়েকটি পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানো হবে। দেশটির রাজ্য কাউন্সিলের কাস্টমস ট্যারিফ কমিশনের এক বিবৃতির বরাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, ‘২০২৬ শুল্ক সমন্বয় পরিকল্পনা’ নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে কার্যকর হবে। শি জিনপিংয়ের সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারার নির্দেশনায় প্রণীত এই পরিকল্পনা শুল্ক শ্রেণিবিন্যাসের উন্নয়ন, অগ্রাধিকারমূলক হার বাস্তবায়ন এবং উচ্চমানের উন্নয়নকে উৎসাহিত করার লক্ষ্য নিয়েছে।
এই পরিকল্পনায় তিনটি ক্যাটাগরির ৯৩৫ পণ্যের জন্য মোস্ট ফেভারড ন্যাশন (এমএফএন) হারের চেয়ে কম অস্থায়ী আমদানি শুল্কহার প্রয়োগ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে সিএনসি হাইড্রোলিক কুশন ও কম্পোজিট কন্টাক্ট স্ট্রিপের মতো যন্ত্রাংশ, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির জন্য পুনর্ব্যবহৃত কালো পাউডার, এবং কৃত্রিম রক্তনালী ও সংক্রামক রোগের ডায়াগনস্টিক কিটের মতো চিকিৎসা পণ্য। তবে মাইক্রো মোটর, প্রিন্টিং মেশিন ও সালফিউরিক অ্যাসিডের মতো পণ্যে এমএফএন হার বহাল থাকবে।
চীন ৩৪টি বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে করা ২৪টি মুক্তবাণিজ্য চুক্তির আওতায় শুল্ক কমানোর প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে এবং বৈজ্ঞানিক উন্নয়ন ও বৃত্তাকার অর্থনীতিকে সমর্থন করতে ইন্টেলিজেন্ট বায়োনিক রোবট ও টেকসই বিমান জ্বালানির মতো পণ্য যুক্ত করবে।
চীন ২০২৬ সালের পরিকল্পনায় ৯৩৫ পণ্যের আমদানি শুল্ক কমাবে
সোমালিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা বিভক্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছে চীন। সোমবার এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি বেইজিংয়ের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, কোনো দেশেরই নিজেদের স্বার্থে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে উৎসাহ দেওয়া বা সমর্থন করা উচিত নয়। তিনি সোমালিল্যান্ড কর্তৃপক্ষকে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা ও বিদেশি শক্তির সঙ্গে আঁতাত বন্ধ করার আহ্বান জানান।
চীনের এই অবস্থান আসে এমন সময়ে, যখন ইসরাইল গত শুক্রবার স্বঘোষিত রিপাবলিক অব সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশ হয়। একই সঙ্গে তেল আবিব সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে কৃষি, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক খাতে তাৎক্ষণিক সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বেইজিংয়ের এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, চীন সোমালিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বা বিচ্ছিন্নতাবাদকে সমর্থন করে না এবং আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে সোমালিয়ার পূর্ণ সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার পক্ষেই রয়েছে।
ইসরাইলের পদক্ষেপের পর সোমালিল্যান্ড স্বীকৃতির বিরোধিতা করে সোমালিয়ার পক্ষে চীন
চীনে তৈরি একটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স রোবট ব্যাডমিন্টন খেলায় নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। ঝেজিয়াং প্রদেশের শাওক্সিং শহরে কয়েকজন মানব খেলোয়াড়ের সঙ্গে ম্যাচে রোবটটি টানা ১ হাজার ৪৫২ বার সফলভাবে শাটলকক ফেরত পাঠাতে সক্ষম হয়। এটি কোনো মোবাইল রোবটের বিরতিহীনভাবে টানা এতবার ‘কাউন্টার হিট’ করার নতুন রেকর্ড হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
রোবটটি তৈরি করেছে ঝেজিয়াং শেনচেন কাইডং টেকনোলজি কোম্পানি। আয়োজকদের মতে, অ্যাথলেটিক রোবটটি ভিশন সিস্টেম ও গতিনিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। এই সাফল্য চীনের রোবোটিক্স খাতে ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরে।
আয়োজকদের মতে, এই রেকর্ড চীনা প্রকৌশলীদের জটিল ক্রীড়া কার্য সম্পাদনে সক্ষম রোবট তৈরির অগ্রগতির প্রতিফলন।
চীনা রোবটের টানা ১,৪৫২ ব্যাডমিন্টন হিটে বিশ্বরেকর্ড
চীন ঘোষণা করেছে যে তারা তাইওয়ানের চারপাশে বড় ধরনের সামরিক মহড়া পরিচালনা করবে, যার মধ্যে মঙ্গলবার দ্বীপটির কাছাকাছি জলসীমা ও আকাশসীমার পাঁচটি অঞ্চলে সরাসরি গুলি চালানোর মহড়া অন্তর্ভুক্ত থাকবে। চীনের সামরিক মুখপাত্র সিনিয়র কর্নেল শি ই এক বিবৃতিতে জানান, ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ কোডনামে এই যৌথ মহড়ায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও রকেট ফোর্স অংশ নেবে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, মহড়াটি ২৯ ডিসেম্বর শুরু হবে।
চীনের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় তাইওয়ান দ্বীপের চারপাশে ‘উপযুক্ত বাহিনী’ মোতায়েন করেছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্র কারেন কুও চীনের এই পদক্ষেপকে ‘সামরিক ভীতি প্রদর্শন’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন। গত মাসে জাপান তাইওয়ানের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা ঘোষণা করার পর চীন সতর্ক করেছিল যে, তাইওয়ানের বিষয়ে যেকোনো বিদেশী হস্তক্ষেপ ব্যর্থ করে দেওয়া হবে। চীন পুনরায় জানিয়েছে, তারা জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
এই মহড়া আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে, যা তাইওয়ান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে চলমান নিরাপত্তা উদ্বেগকে প্রতিফলিত করছে।
তাইওয়ানের চারপাশে বড় সামরিক মহড়া চালাবে চীন
চীন তাদের নিজস্ব তৈরি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ সি৯১৯–এ প্রথমবারের মতো একজন নারী পাইলটকে ক্যাপ্টেন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, এই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পেয়েছেন ইউ ইউ, যিনি এর আগে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজের পাইলট ছিলেন। ২০১৫ সালে চায়না সাউদার্নে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি ‘ভুল-শূন্য’ রেকর্ড ধরে রেখেছেন। চলতি বছরের শুরুতে তিনি সি৯১৯ প্রকল্পে যুক্ত হয়ে দীর্ঘ ও কঠোর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। সাংহাইয়ে কমাকের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে শ্রেণিকক্ষ ও ফ্লাইট সিমুলেটরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুশীলনও করেন তিনি।
সি৯১৯ হলো রাষ্ট্রায়ত্ত কমার্শিয়াল এয়ারক্রাফট করপোরেশন অব চায়না (কমাক) নির্মিত ন্যারো-বডি যাত্রীবাহী বিমান, যা স্বল্প ও মধ্যম পাল্লার রুটে ব্যবহারের জন্য তৈরি। এটি বোয়িং ৭৩৭ ও এয়ারবাস এ৩২০–এর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত। ২০২৩ সালের মে মাসে বিমানটি অভ্যন্তরীণ রুটে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে চায়না সাউদার্ন, এয়ার চায়না ও চায়না ইস্টার্ন তাদের বহরে সি৯১৯ যুক্ত করছে এবং পাইলটদের পুনঃপ্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
ইউ ইউ নারী পাইলটদের পেশাগত ও পারিবারিক ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেন। ২০২৪ সালে চীনে নারী পাইলটের সংখ্যা ছিল ৯৪১ জন, যা মোট পাইলটের দুই শতাংশেরও কম হলেও অংশগ্রহণ বাড়ছে।
চীনের নিজস্ব সি৯১৯ উড়োজাহাজে প্রথম নারী ক্যাপ্টেন হিসেবে নিয়োগ পেলেন ইউ ইউ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের কাছে রেকর্ড পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়ার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার ২০টি মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ১০ জন নির্বাহীর ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় চীনে তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দ করা হবে এবং দেশটির সংস্থা ও ব্যক্তিদের তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এই মাসের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য আটটি নতুন অস্ত্র প্যাকেজ ঘোষণা করে, যার মোট মূল্য ১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। বেইজিং এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, তাইওয়ান প্রশ্নটি চীনের মূল স্বার্থের কেন্দ্রবিন্দু এবং চীন-মার্কিন সম্পর্কের প্রথম সীমারেখা, যা অতিক্রম করা উচিত নয়। চীন সতর্ক করেছে, তাইওয়ান নিয়ে সীমা অতিক্রমকারী যেকোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের জবাবে তারা শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানাবে।
বেইজিং ওয়াশিংটনকে এক-চীন নীতি ও তিনটি চীন-মার্কিন যৌথ ইশতেহার মেনে চলা, তাইওয়ানে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা এবং তাইওয়ান প্রণালীতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনে ২০ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের কাছে রেকর্ড পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়ার পর চীন পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ২০টি মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ১০ জন নির্বাহীর ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘোষণা দেয়। নিষেধাজ্ঞার আওতায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের চীনে থাকা সম্পদ জব্দ করা হবে এবং দেশীয় সংস্থা ও ব্যক্তিদের তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন নিষিদ্ধ করা হবে।
বেইজিং ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, তাইওয়ান প্রশ্নটি চীনের মূল স্বার্থের কেন্দ্রবিন্দু এবং চীন-মার্কিন সম্পর্কের প্রথম সীমারেখা। এই ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করা উচিত নয় বলে সতর্ক করেছে চীন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাইওয়ান নিয়ে যেকোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের জবাবে তারা শক্ত প্রতিক্রিয়া জানাবে।
চীন যুক্তরাষ্ট্রকে এক-চীন নীতি ও তিনটি চীন-মার্কিন যৌথ ইশতেহার মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং তাইওয়ানে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে তাইওয়ান প্রণালীর শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অনুরোধ করেছে।
তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনে ২০ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ২০৩৫ সালের মধ্যে ছয়টি নতুন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে চীনের হাতে মোট নয়টি বিমানবাহী জাহাজ থাকবে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সবচেয়ে বড় নৌবাহিনী সম্প্রসারণ হবে। বর্তমানে চীনের হাতে তিনটি বিমানবাহী জাহাজ রয়েছে, যা সংখ্যার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই অবস্থান করছে। যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বর্তমানে ১১টি বিমানবাহী জাহাজ রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, টাইপ ০০৩ শ্রেণির ফুজান বিমানবাহী জাহাজ চীনের নৌবাহিনীর জন্য বড় অগ্রগতি। ৮০ হাজার টনের এই জাহাজে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপুলেট প্রযুক্তি রয়েছে এবং এটি জে-৩৫ যুদ্ধবিমান ও কেজে-৬০০ পরিবহন বিমান বহন করতে সক্ষম। আগের লিয়াওনিং ও শানদুং জাহাজের তুলনায় ফুজান দীর্ঘ সময়ের মিশনে বেশি জ্বালানি ও অস্ত্র বহন করতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছর চীন চতুর্থ বিমানবাহী জাহাজ নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
এছাড়া, টাইপ ০৭৬ শ্রেণির উভচর যুদ্ধজাহাজেও ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপুলেট যুক্ত করা হচ্ছে, যদিও কতগুলো নির্মাণ করা হবে তা স্পষ্ট নয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তাইওয়ানকে ঘিরে জয়েন্ট সোর্ড মহড়ায় চীন তার বিমানবাহী জাহাজ মোতায়েন করেছিল, যা সম্ভাব্য তৃতীয় পক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
পেন্টাগন জানায়, ২০৩৫ সালের মধ্যে ছয়টি নতুন বিমানবাহী জাহাজ নির্মাণ করবে চীন
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) একটি খসড়া প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চীন মঙ্গোলিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্মিত তিনটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো ফিল্ডে ১০০টিরও বেশি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) মোতায়েন করেছে। রয়টার্সের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, বেইজিং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না, যদিও ওয়াশিংটন নিরস্ত্রীকরণ উদ্যোগে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে আসছে।
প্রতিবেদনটি বলছে, চীন বর্তমানে বিশ্বের অন্য যেকোনো পারমাণবিক শক্তিধর দেশের তুলনায় দ্রুতগতিতে তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকায়ন করছে। বেইজিং এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, এমন প্রতিবেদন চীনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে তৈরি। ২০২৪ সালে চীনের পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০০, যা ২০৩০ সালের মধ্যে এক হাজার ছাড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, চীন ২০২৭ সালের মধ্যে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাতে জয়ী হওয়ার মতো সামরিক সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে। তবে চীন দাবি করছে, তাদের পারমাণবিক নীতি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং তারা ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ নীতিতে অটল।
মঙ্গোলিয়া সীমান্তে চীনের ১০০টিরও বেশি আইসিবিএম মোতায়েনের দাবি পেন্টাগনের
চীনের শানডং প্রদেশের ইয়ানতাইয়ের লাইঝৌ উপকূলে সমুদ্রের তলদেশে বিশাল স্বর্ণের মজুত আবিষ্কৃত হয়েছে, যা এশিয়ার সবচেয়ে বড় সমুদ্রতল স্বর্ণখনি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, নতুন এই খনিতে ৩ হাজার ৯০০ টনেরও বেশি স্বর্ণ রয়েছে, যা দেশের মোট মজুতের প্রায় ২৬ শতাংশ। যদিও চীনা সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি, ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’ জানিয়েছে যে প্রকৃত মজুত ধারণার চেয়ে বেশি হতে পারে।
এর আগে লিয়াওনিং ও জিনজিয়াং প্রদেশেও বড় স্বর্ণখনি আবিষ্কারের ঘোষণা দেয় বেইজিং। চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, চীন বিশ্বের সর্বাধিক স্বর্ণ আকরিক উৎপাদক হলেও, মোট মজুতে দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও রাশিয়ার পেছনে রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রাডার ও উপগ্রহ প্রযুক্তি ব্যবহার করে খনিজ অনুসন্ধান জোরদার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই আবিষ্কার চীনের বৈশ্বিক স্বর্ণবাজারে অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে এবং আমদানি নির্ভরতা কমাবে। ২০২১ সাল থেকে খনিজ অনুসন্ধানে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি ইউয়ান ব্যয় করে চীন প্রায় দেড়শ নতুন খনি শনাক্ত করেছে।
শানডং উপকূলে সমুদ্রের তলায় এশিয়ার বৃহত্তম স্বর্ণখনি আবিষ্কার করেছে চীন
চীন তিন দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো কনডম ও অন্যান্য জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপ করেছে। ১৯৯৩ সাল থেকে করমুক্ত থাকা এসব পণ্যকে ২০২৪ সালের নতুন ভ্যাট আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সরকার বলছে, এর লক্ষ্য কর ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং জন্মহার বৃদ্ধির প্রচেষ্টা জোরদার করা। একই সঙ্গে ৯০ বিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ১২.৭ বিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ দিয়ে জাতীয় শিশু যত্ন ভর্তুকি কর্মসূচি চালু করা হয়েছে এবং প্রসব সংক্রান্ত সব খরচ জাতীয় স্বাস্থ্য বিমার আওতায় আনা হয়েছে।
২০২৪ সালে প্রতি ১,০০০ জনে জন্মহার ছিল মাত্র ৬.৭৭, যা ঐতিহাসিকভাবে খুবই নিচু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনডমে কর আরোপ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও হাস্যরস ছড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপ প্রতীকী এবং জন্মহার বৃদ্ধিতে তেমন প্রভাব ফেলবে না, তবে এটি সরকারের কাঙ্ক্ষিত পারিবারিক আচরণের ইঙ্গিত দেয়।
সমাজবিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, জন্মনিয়ন্ত্রণের সুযোগ সীমিত হলে এর নেতিবাচক প্রভাব নারীদের ওপর পড়বে, বিশেষ করে পিছিয়ে থাকা শ্রেণির নারীদের ওপর।
জন্মহার বাড়াতে কনডমে কর ও শিশু যত্নে ভর্তুকি দিচ্ছে চীন
তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো নদীতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে এগোচ্ছে চীন। ১৬৮ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প থেকে বছরে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা থ্রি গর্জেস ড্যামের উৎপাদনের তিনগুণ। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একে চীনের নবায়নযোগ্য শক্তি কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি হিমালয়ের ভেতর দিয়ে ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেল ও জলাধারের নেটওয়ার্কে গঠিত হবে। তবে ভারত ও বাংলাদেশে নদীর ভাটিতে বসবাসকারী লাখো মানুষের জীবিকা ও পরিবেশের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ভারতের বিশ্লেষকরা একে সম্ভাব্য “পানি বোমা” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, কারণ এটি বিতর্কিত সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।
চীন দাবি করছে, প্রকল্পটি দীর্ঘ গবেষণার ফল। কিন্তু স্বচ্ছতার অভাবে পরিবেশগত ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই বাঁধ আঞ্চলিক জলসম্পদ রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার কোটি মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।
হিমালয়ে চীনের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে দক্ষিণ এশিয়ায় পরিবেশ ও ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ
গাজা পুনর্গঠন ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ১০ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চীন। বেইজিংয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস চীনের এই সহায়তার জন্য শি জিনপিংকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন এবং গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলি দখলদারিত্ব কমাতে চীনের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। চীনা সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানায়, ফিলিস্তিনি ইস্যুর ন্যায্য ও টেকসই সমাধানে ফ্রান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শি। এই পদক্ষেপ চীনের মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং বৈশ্বিক কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের প্রচেষ্টাকে আরও সুদৃঢ় করছে।
গাজা পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তায় ফিলিস্তিনকে ১০ কোটি ডলার দেবে চীন
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং অঞ্চলে বৃহস্পতিবার ৬ দশমিক শূন্য মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে বলে নিশ্চিত করেছে চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি)। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৪৪ মিনিটে কিরগিজস্তান-জিনজিয়াং সীমান্তের কাছাকাছি আকচি কাউন্টিতে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে, বিকেল ৪টা ৩৪ মিনিট পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ভবন ধসের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আকচি কাউন্টির সড়ক, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে সচল রয়েছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ৪১.১৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৭৮.৪০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে।
চীনের জিনজিয়াংয়ে ৬.০ মাত্রার ভূমিকম্পে কোনো হতাহতের খবর নেই
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিকে রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা দেন। এটি ম্যাক্রোঁর প্রেসিডেন্ট হিসেবে চতুর্থ চীন সফর। সফরকালে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রীসহ আরও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনায় বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়ন প্রধান ইস্যু হিসেবে থাকবে। পাশাপাশি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে বেইজিংকে মস্কোর ওপর প্রভাব খাটানোর আহ্বান জানাতে পারেন ম্যাক্রোঁ। এই সফর ফ্রান্সের জন্য চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও বৈশ্বিক কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাণিজ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ম্যাক্রোঁ
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৭১ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।