মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ব শক্তিগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির আহ্বান জানিয়েছেন। ফিলিপাইন সফরে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান বলে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে।
রুবিও বলেন, আঞ্চলিক সংঘাতে ইরান হরমুজ প্রণালিকে দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি অন্যান্য দেশকে আহ্বান জানান, তারা যেন সরঞ্জাম বা অর্থায়নের মাধ্যমে নৌচলাচল সুরক্ষায় আরও দায়িত্ব নেয়। যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব উদ্যোগে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখার পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এই বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান স্পষ্ট হয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় বিশ্ব শক্তিগুলোর যৌথ দায়িত্বের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহের ব্যবধানে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই-এর অভিযান পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। প্রথম ঘটনায় টেক্সাসের হিউস্টনে ৫২ বছর বয়সী লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো গুলিতে নিহত হন। ছয় দিন পর মেইনের বিডেফোর্ডে ২৬ বছর বয়সী জোয়ান সেবাস্তিয়ান দুরান গেরেরো একইভাবে নিহত হন।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গণগ্রেপ্তার ও গণনির্বাসন নীতির অংশ হিসেবে আইসিই কর্মকর্তারা সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে সহিংস অভিযান চালাচ্ছেন। দ্য ট্রেস-এর তথ্যমতে, ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আইসিই কর্মকর্তারা ৩০টি গুলির ঘটনা ঘটিয়েছেন, যাতে ৮ জন নিহত হয়েছেন। তদন্তে জানা গেছে, সর্বশেষ দুই নিহত কেউই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিলেন না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফ্লোরিডায় আইসিই কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পালানোর সময় একজন নিহত হন এবং চলতি বছরে আইসিই হেফাজতে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনার পর সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
আইসিই অভিযানে দুইজন নিহত, ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা বিলে ইরানকেও অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে তিনি বলেন, রিপাবলিকানদের উচিত রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলে ইরানকে যুক্ত করা। এই বিলটি সাবেক সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের উদ্যোগে উত্থাপিত হয়েছিল এবং বর্তমানে সিনেটে উভয় দলের ৬০ জনের বেশি সদস্য এর সমর্থন জানিয়েছেন।
প্রস্তাবিত আইনে রাশিয়ার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিধান রয়েছে। এছাড়া রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানিতে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন ট্যাংকার বহরকেও লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ট্রাম্পের মন্তব্যে বোঝা যায়, তিনি রাশিয়ার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধেও একই ধরনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
টাইমস অব ইসরাইলের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পরিধি রাশিয়া থেকে ইরান পর্যন্ত সম্প্রসারণের প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা বিলে ইরানকে যুক্ত করার আহ্বান ট্রাম্পের
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ও ভ্রমণরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য বৈশ্বিক ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ২০২৬ সালের ১৮ জুলাই শনিবার এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে, তাই বিদেশে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরতদের সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয় নিরাপত্তা তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে জারি করা নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। ফ্লাইট বাতিল বা আকাশসীমা বন্ধের কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এছাড়া, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলার ঝুঁকিতে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলো রয়েছে বলে উল্লেখ করে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিকটস্থ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় মার্কিন নাগরিকদের জন্য বৈশ্বিক ভ্রমণ সতর্কতা
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে জনঅসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতদিন সংঘাতটি মার্কিন ভূখণ্ড থেকে দূরে থাকলেও সাম্প্রতিক প্রাণহানি যুদ্ধটিকে সরাসরি আমেরিকানদের দোরগোড়ায় নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ সমস্যায় ব্যস্ত সাধারণ মার্কিনিরা এই যুদ্ধকে কখনোই সমর্থন করেনি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে “অনন্তকাল ধরে চলা যুদ্ধ” থেকে মুক্ত করবেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তার সেই প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে। ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি দেশজুড়ে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এখন নিজস্ব সমর্থকদের একাংশসহ সারাদেশের কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহগুলোতে এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশাসনকে ব্যাপক চাপের সম্মুখীন হতে হবে।
ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা নিহত, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে
ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভিসা ও অবস্থান সংক্রান্ত নিয়ম কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে, যা বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে নতুন নীতিমালা কার্যকর হবে। এতে ভিসার মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে চার বছর করা হয়েছে, মেয়াদ বাড়াতে এখন ফেডারেল সংস্থা ইউএসসিআইএস-এর অনুমতি লাগবে, প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে এবং কোর্স শেষে দেশে ফেরার সময়সীমা ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে। পুরোনো পাঁচ বছরের ভিসাধারীরাও নতুন নিয়মের আওতায় আসবেন।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন আইনজীবী রাজু মহাজন বলেন, নিয়ম মেনে চলা শিক্ষার্থীদের সমস্যা হবে না, তবে যারা ভিসার অপব্যবহার করছেন তাদের জন্য ঝুঁকি বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার নোবেল ও বর্ণনা ভৌমিক জানান, বৈধ শিক্ষার্থীদের জন্য বড় কোনো সমস্যা হবে না। পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ (ওপিটি) আগের মতোই থাকবে।
রাজু মহাজনের মতে, ২০২৬ সালের নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান পার্টি ভোটারদের সন্তুষ্ট করতে এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসানীতিতে বিপাকে পড়তে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডমিনিক টিয়ারনি বলেছেন, চলমান ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট ও সফলভাবে যুদ্ধ পরিচালনায় অক্ষমতার আরেকটি উদাহরণ। এনপিআরের ‘উইকএন্ড এডিশন স্যাটারডে’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ইরাক, আফগানিস্তানসহ বেশিরভাগ যুদ্ধে অচলাবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়েছে।
টিয়ারনির মতে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস ও সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও এর সামরিক নেতৃত্ব নিজেদের সক্ষমতাকে অতিমূল্যায়ন করেছে। এসব প্রচেষ্টা উল্টো ইরানের বর্তমান সরকারকে আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালে দ্য আটলান্টিকে প্রকাশিত তার লেখার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির মিল রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির ফলে ইরানের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।
সংঘাতের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে টিয়ারনি বলেন, আলোচনার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে। ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতার মতোই যুক্তরাষ্ট্রকে এবারও দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
টিয়ারনি বললেন, ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার এক মাস না যেতেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন বাহিনী পুনরায় বিমান হামলা শুরু করেছে। ১৭ জুন ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে স্থায়ী শান্তি ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি কার্যকারিতাহীন দাবি করে ট্রাম্প প্রশাসন হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান পারস্য উপসাগরে মার্কিন মিত্রদের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
সমালোচকদের মতে, এই চুক্তি ছিল ট্রাম্পের একটি সাময়িক কৌশল, যার উদ্দেশ্য ছিল তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এই যুদ্ধ পুনরায় শুরু করায় রিপাবলিকান পার্টি রাজনৈতিকভাবে বিপদে পড়তে পারে। জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। মার্কিন সাময়িকী ‘আমেরিকান কনজারভেটিভ’-এর নির্বাহী সম্পাদক কার্ট মিলস একে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সাবেক সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, বিমান হামলা স্থল অভিযানে রূপ নিতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে। তারা ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানে মার্কিন বিমান হামলা পুনরায় শুরু, দীর্ঘ যুদ্ধ ও রাজনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ শনিবার জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। এ ছাড়া ৪৩০ জনেরও বেশি সেনা আহত এবং একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
যুদ্ধ শুরুর প্রথম প্রাণহানির ঘটনা ঘটে ১ মার্চ, যখন কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন। একই দিনে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আহত এক সেনা পরে মারা যান। এরপর ১২ মার্চ ইরাকে মার্কিন সামরিক অভিযানে সহায়তাকারী একটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হলে আরও ছয়জন সেনা নিহত হন।
এ ছাড়া ১ জুলাই আরব সাগরে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হলে মার্কিন নৌবাহিনীর এক পাইলট নিহত হন। নৌবাহিনী জানায়, দুর্ঘটনাটি শত্রুপক্ষের হামলার কারণে ঘটেছে—এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ১৬ মার্কিন সেনা নিহত, সর্বশেষ হামলা জর্ডানে
মার্কিন সরকার এয়ারেন্ডিল-১ নামের একটি আয়না স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের অনুমোদন দিয়েছে, যা সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে পৃথিবীর নির্দিষ্ট স্থানে রাতের আকাশ আলোকিত করবে। পেটাপিক্সেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেডসাইড টেবিলের সমান আকারের এই স্যাটেলাইটটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০০ মাইল উপরে কক্ষপথে ঘুরবে এবং ৬০ ফুট চওড়া একটি বর্গাকার আয়না উন্মোচন করবে। এটি সূর্যালোক প্রতিফলিত করে প্রায় তিন মাইল চওড়া একটি বৃত্তাকার এলাকা আলোকিত করতে পারবে।
প্রতিফলিত কক্ষপথের সহপ্রতিষ্ঠাতা বেন নোয়াক জানিয়েছেন, বছরে অন্তত এক হাজার ঘণ্টা ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিলে প্রতি ঘণ্টায় ৫ হাজার ডলার ফি দিতে হবে। বছরে ৫ মিলিয়ন ডলারের এই খরচ বেশিরভাগ ফটোগ্রাফারের নাগালের বাইরে হলেও জরুরি পরিস্থিতিতে এর ব্যবহার সম্ভব বলে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও এক হাজার বড় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা ১০০টি পূর্ণ চাঁদের সমান আলো প্রতিফলিত করতে পারবে।
তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও জীববিজ্ঞানীরা প্রকল্পটির বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, এই প্রযুক্তি প্রাকৃতিক আলো-অন্ধকার চক্রকে ব্যাহত করে প্রাণী ও মানুষের ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
রাতের আকাশ আলোকিত করতে সূর্যালোক প্রতিফলিত করবে মার্কিন আয়না স্যাটেলাইট
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যদি সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসেন, তবে তাকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা উচিত। শনিবার প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, নেতানিয়াহু হেগে থাকা উচিত, কারণ তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) অভিযুক্ত একজন যুদ্ধাপরাধী। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এ উদ্দেশ্যে বিদ্যমান আইন পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগ নেবেন না।
মামদানি বলেন, একজন নগরপ্রধান হিসেবে তিনি আইনের শাসন মেনে চলবেন এবং নিউইয়র্কের বর্তমান আইন অনুযায়ীই পদক্ষেপ নেবেন। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে নির্দেশ দেবেন, যেখানে নেতানিয়াহু ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নাম ছিল।
তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে আইসিসির এখতিয়ার নেই এবং ফেডারেল আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সঙ্গে সহযোগিতা করতে পারে না বা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের আটক করতে পারে না।
নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি বললেন, জাতিসংঘ অধিবেশনে এলে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা উচিত
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলে আরও কয়েক ডজন রিফুয়েলিং বিমান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মার্কিন ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে নতুন সামরিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে, যার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং পিকঅ্যাক্স মাউন্টেইনের ভূগর্ভস্থ একটি স্থাপনা। তবে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে নিতে চাপ বাড়াতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে টানা পঞ্চম দিনের মতো হরমুজ প্রণালি ও ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন হামলা চলছে, যেখানে বন্দর আব্বাসের আশপাশের অন্তত সাতটি সেতুতে আঘাত হানা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে যে তারা জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রেমন বিমানঘাঁটিতে প্রায় ৬০টি মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান রয়েছে এবং শিগগিরই আরও বিমান আসতে পারে। বিপুল সামরিক বিমান মোতায়েনের কারণে বেসামরিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে ইসরাইলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ইরানে হামলা জোরদারে ইসরাইলে আরও রিফুয়েলিং বিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে একই সময়ে দাবানল, বন্যা ও ধোঁয়া দূষণ একযোগে আঘাত হেনেছে। ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৫টি অঙ্গরাজ্যে ৬৮টি বড় দাবানল জ্বলছে এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বজ্রপাতের পর নতুন করে ১৭টি দাবানলের সূত্রপাত হয়েছে। গ্রেট লেকস অঞ্চল থেকে ওয়াশিংটন ডিসি পর্যন্ত আকাশ ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে, আর টেক্সাসের হিল কান্ট্রিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্যা চলছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৭ হাজার ৪০০-এর বেশি দমকলকর্মী, ১৪০টি হেলিকপ্টার ও চারটি সামরিক সি-১৩০ এয়ার ট্যাঙ্কার মোতায়েন করা হয়েছে।
চলতি বছরে প্রায় ৩৭ লাখ ২০ হাজার একর বনভূমি পুড়ে গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এক মিলিয়নেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, একাধিক দুর্যোগ একসঙ্গে ঘটলে ক্ষয়ক্ষতি বহুগুণ বেড়ে যায়। তারা এই চরম আবহাওয়াকে জেট স্ট্রিমের অস্বাভাবিক তরঙ্গধারা ও মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলে উল্লেখ করেছেন।
গবেষকরা আরও জানান, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন একই সঙ্গে খরা ও অতিবৃষ্টির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, ফলে দাবানল ও বন্যা একসঙ্গে ঘটার প্রবণতা বাড়ছে।
দাবানল, বন্যা ও ধোঁয়া দূষণে যুক্তরাষ্ট্রে ত্রিমুখী আবহাওয়া বিপর্যয়
চীনের জাতীয় নিরাপত্তা আইন ঘিরে হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে ঘোষিত জাতীয় জরুরি অবস্থার মেয়াদ আর বাড়াচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে ২০২০ সালে ঘোষিত এই জরুরি অবস্থার মেয়াদ শেষ হতে দেওয়া হবে। তবে হংকংয়ের জন্য পূর্বের বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা পুনর্বহাল করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সমঝোতা বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে বেইজিংয়ের কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকরের পর যুক্তরাষ্ট্র হংকংয়ের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে এবং জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল। এরপর থেকে প্রতিবছর এর মেয়াদ নবায়ন করা হলেও এবার তা আর করা হয়নি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জরুরি অবস্থার মেয়াদ শেষ হলেও ২০২০ সালের নির্বাহী আদেশের অন্যান্য বিধান কার্যকর থাকবে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ৪৮ জনের মধ্যে ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অন্য আইনের অধীনে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। হংকং সরকারও যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতিগত পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।
হংকংয়ের জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার, তবে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণ বা ওই অঞ্চল হয়ে যাতায়াতের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে। ২০২৬ সালের ১৮ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই সতর্কবার্তা জানানো হয়। পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে এবং যেকোনো সময় তা অপ্রত্যাশিতভাবে আরও অবনতি ঘটতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যারা ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছেন, তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং নিয়মিত সংবাদ পর্যবেক্ষণ করে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে হবে। এছাড়া যারা মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ভ্রমণ করবেন, তাদের নিজ নিজ বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইট সময়সূচি নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগকে প্রতিফলিত করে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় ভ্রমণ পুনর্বিবেচনার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের
প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলমান ইরান যুদ্ধেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বাস রাখছেন যে শক্তিশালী সামরিক হামলাই ইরানকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করবে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি হুমকি দেন, ইরান আলোচনায় না এলে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করা হবে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া অভিযানে ইসরাইলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হন। এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হয়ে চলতি মাসে সংঘাত পুনরায় শুরু হয়েছে।
এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহারের সীমা ও অতীত যুদ্ধের শিক্ষা নিয়ে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের মধ্যে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান ইতোমধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা পুনর্গঠন করেছে। ট্রাম্পের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকি যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা তৈরি করেছে। অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলদের মধ্যে কেউ কেউ ইরানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় হামলার পক্ষে, আবার কেউ অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের বিপক্ষে মত দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন এক অনমনীয় ইরানি নেতৃত্বের মুখোমুখি, যারা কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়, ফলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান অনিশ্চিত।
ইরান যুদ্ধ কৌশলে ট্রাম্পের অটলতা, পেন্টাগনে ক্ষমতা ও আইনি বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার দাবানলের ধোঁয়া উত্তর আমেরিকার শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার জন্য দেশটির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। শুক্রবার তিনি সামাজিক মাধ্যমে বায়ুর মান নিয়ে অভিযোগ করে বলেন, কানাডা তাদের বন ও ঝোপঝাড়ের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করছে না। ট্রাম্প লিখেছেন, কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নোংরা, দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর বাতাস প্রবেশ করছে, যা বিপজ্জনক ও অগ্রহণযোগ্য।
তিনি জানান, এ বিষয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে কথা বলবেন এবং এই ক্ষতির অর্থ বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে যোগ করা হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে কানাডায় ৮৯৬টি দাবানল সক্রিয় রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২০০টি অন্টারিও প্রদেশে এবং ৮১টি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ট্রাম্প কানাডার ওপর সীমান্ত নিরাপত্তা ও বাণিজ্যনীতি নিয়ে শুল্কের চাপ বাড়িয়ে আসছেন এবং এমনকি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার মন্তব্যও করেছেন।
এই মন্তব্য দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দাবানলের ধোঁয়া নিয়ে কানাডার ওপর নতুন শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের
এক বছরেরও বেশি সময় পর আবারও বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানির অবস্থান ফিরে পেয়েছে অ্যাপল। সর্বশেষ হিসাবে, অ্যাপলের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৮৮ ট্রিলিয়ন ডলার, যেখানে এনভিডিয়ার বাজারমূল্য কমে ৪ দশমিক ৮৬ ট্রিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এনভিডিয়ার শেয়ারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যাওয়ায় এই পরিবর্তন ঘটে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের ধরণ বদলে যাওয়ায় বাজারে নতুন গতি এসেছে।
সম্প্রতি অ্যাপল তাদের এআই-সমৃদ্ধ ডিজিটাল সহকারী ‘সিরি’র নতুন সংস্করণ উন্মোচন করেছে, যা ব্যবহারকারীর প্রেক্ষাপট আরও ভালোভাবে বুঝতে পারে, ইন্টারনেট থেকে তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ করতে পারে এবং জটিল কাজ সম্পাদনে সক্ষম। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘ফাউন্ডার ইটিএফস’-এর প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল মোনাঘান বলেন, এখন বিনিয়োগকারীরা এমন কোম্পানিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন যারা এআই প্রযুক্তিকে বাস্তব সেবা ও বাণিজ্যিক সুবিধায় রূপ দিতে পারছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল আইফোন ব্যবহারকারীর তথ্য ভবিষ্যতে অ্যাপলের জন্য বড় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হতে পারে। কোম্পানিটি ৩০ জুলাই তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল প্রকাশ করবে এবং সেপ্টেম্বরে সিইও টিম কুক দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন জন টার্নাসের কাছে।
এনভিডিয়াকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানির শীর্ষে ফিরল অ্যাপল
আগামীকাল যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল, তবে ম্যাচের আগেই অঞ্চলজুড়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বায়ুদূষণ। কানাডার দাবানলের ধোঁয়া বাতাসের গতিপথ ধরে নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে ছড়িয়ে পড়ায় বাতাসের মান নেমে গেছে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিউ ইয়র্ক প্রশাসন জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে এবং নাগরিকদের বাইরে অপ্রয়োজনে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
আইকিউএয়ারের তথ্যে দেখা গেছে, শিকাগো, ডেট্রয়েট ও নিউ ইয়র্ক এখন বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে। নিউ ইয়র্ক সিটির জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের পর এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ ধোঁয়াচ্ছন্ন পরিস্থিতি। পরিবেশবিদ মাইকেল পেট্রোনি বলেছেন, বর্তমানে নিউ ইয়র্কের বাতাসে শ্বাস নেওয়া মানে দিনে ১০টি সিগারেট খাওয়ার সমান। মেয়র জোহরান মামদানি নাগরিকদের বাইরে দৌড়ানো বা জগিং না করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং প্রশাসন মাস্ক বিতরণ শুরু করেছে।
এমন প্রতিকূল পরিবেশেও দুই দল তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। স্পেন অনুশীলন করেছে ইস্ট হ্যানোভারে, আর আর্জেন্টিনা আটলান্টা থেকে এসে নিউ জার্সিতে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে ফাইনাল ম্যাচ।
কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় নিউ জার্সিতে আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালের আগে বায়ুদূষণ সংকট
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সামরিক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব অভিযানে নির্ভুল নির্দেশিত অস্ত্র ব্যবহার করে উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, সামরিক রসদ অবকাঠামো এবং নৌ সক্ষমতাসহ ইরানের কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত পৃথক এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান নৌ অবরোধের অংশ হিসেবে মার্কিন বাহিনী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে, একটি জাহাজ অচল করেছে এবং আরেকটি জাহাজে উঠে তল্লাশি চালিয়েছে।
মিডল ইস্ট আই সূত্রে প্রকাশিত এই তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা, ইরানে টানা হামলা অব্যাহত
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৮৫ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।