নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ঘোষণা করেছেন, আসন্ন সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শহরে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে মামদানি বলেন, তার প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা পরোয়ানাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেবে। তিনি অভিযোগ করেন, গাজায় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মূল দায়ী নেতানিয়াহু।
মামদানির এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আইসিসি একটি বেআইনি আদালত এবং আমেরিকান বা ইসরাইলিদের ওপর এর কোনো কর্তৃত্ব নেই। তারা নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দেওয়া পরোয়ানাকে সম্পূর্ণ ভুয়া বলে অভিহিত করে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে নেতানিয়াহুকে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না, যদিও তিনি মামদানির নাম উল্লেখ করেননি।
এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ভূমিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
জাতিসংঘ অধিবেশনে এলে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা নিউ ইয়র্ক মেয়রের
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ‘ওয়ার্ল্ডওয়াইড কশন’ বা বিশ্বব্যাপী সতর্কতা জারি করে এই নির্দেশনা প্রদান করে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে এবং যেকোনো সময় সংঘাত আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থাকা মার্কিন নাগরিকদের ওই অঞ্চল ভ্রমণ বা রুট হিসেবে ব্যবহার পুনর্বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে মার্কিন কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও আমেরিকানদের সঙ্গে সম্পর্কিত স্থানে হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এই সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগকে প্রতিফলিত করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নিতে পারে এবং বিদেশে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্বজুড়ে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি করা ওয়াইন, হকি স্টিক, সিমেন্টসহ নানা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। তবে জ্বালানি, পটাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও মাছের মতো কিছু প্রধান রপ্তানি পণ্য এই শুল্কের বাইরে থাকবে। ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও অ্যালকোহলের প্রতি কানাডার ‘অসম আচরণ’ এই সিদ্ধান্তের কারণ।
এই শুল্ক ইউএসএমসিএ চুক্তির আওতায় থাকা বা না থাকা সব পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, তার দেশ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা আরও জোরদার করতে প্রস্তুত। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা পদক্ষেপ ইউএসএমসিএ চুক্তি লঙ্ঘন করছে এবং কানাডার সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি তৈরি করছে।
ইতিমধ্যে দুই দেশের মধ্যে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও সফটউড পণ্য নিয়ে শুল্ক বিরোধ চলছিল। নতুন শুল্ক আরোপে এই উত্তেজনা আরও তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কানাডার পণ্যে ৫০% শুল্ক বসিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়াল ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, আমেরিকান সেনা হত্যার জন্য ইরানকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে। চলমান যুদ্ধে জর্ডানসহ বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর সোমবার তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, যতবারই ইরান আমেরিকান সেনাদের হত্যা করবে, ততবারই তাদের কঠোর মূল্য দিতে হবে। তিনি জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল কেইনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ওয়াশিংটনের তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে জর্ডানে দুজন এবং কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবাতে মার্চে ছয়জন নিহত হন। প্রায় ৪৩০ জন আহত হয়েছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নিহত সেনাদের লাশ গ্রহণের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রাম্প ডেলাওয়্যারের ডোভার এয়ার ফোর্স বেসে যাবেন। রয়টার্স জানিয়েছে, জর্ডানে হামলার আগেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ও ট্যাঙ্কার মোতায়েন করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং হরমুজ প্রণালি সচল রাখার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জো কেন্ট উত্তেজনা কমাতে সৈন্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্কিন সেনা হত্যায় ইরানকে কঠোর মূল্য দিতে হবে বলে সতর্ক করলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জর্ডানে ইরানের হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছে। নিহতরা হলেন লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান (২৫), হাওয়াইয়ের ইওয়া বিচের বাসিন্দা, এবং ইসাবেলা গনজালেস (১৯), টেক্সাসের ক্যারলটনের বাসিন্দা। পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তারা মধ্যপ্রাচ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠী আইএসআইএল (আইএসআইএস)-এর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অভিযানে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় তারা নিহত হন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনা দেখায় যে, মার্কিন সেনারা সরাসরি ইরানে না থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মোতায়েন থাকায় তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় এ অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলো সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
জর্ডানে ইরানের হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ
ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের ভাবমূর্তি উন্নত ও জনমত প্রভাবিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে একটি ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। শনিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এই উদ্যোগে ৪৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় হয়েছে এবং ‘এমা’, ‘সারা’ ও ‘জন’-এর মতো সাধারণ নাম ব্যবহার করে লাখ লাখ এআই-নির্ভর বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এসব বার্তা ‘ফ্রেন্ডস ফর পিস’ নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রচারণার নেতৃত্বে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক নির্বাচনি প্রচার ব্যবস্থাপক ব্র্যাড পারস্কেল। এআই বার্তা প্রচারের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান স্পার্কফায়ার মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে। পারস্কেলের দল ইসরাইলপন্থী ওয়েবসাইট ও অনলাইন কনটেন্টও তৈরি করেছে, যাতে চ্যাটজিপিটি ও ক্লদের মতো এআই প্ল্যাটফর্মে ইসরাইল সম্পর্কে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অন্তত ছয়টি প্রতিষ্ঠান এই কার্যক্রমে যুক্ত এবং প্রায় তিন ডজন ব্যক্তি ইসরাইলের পক্ষে বিদেশি এজেন্ট হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রে জনমত প্রভাবিত করতে এআই-নির্ভর ৪৫ মিলিয়ন ডলারের প্রচারণা চালিয়েছে ইসরাইল
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করা হলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো কূটনৈতিক আলোচনার জন্য প্রস্তুত। রোববার ফিলিপাইনে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কূটনীতি বাস্তবসম্মত হতে হবে এবং এমন একটি চুক্তি হতে হবে যা ইরান মেনে চলতে রাজি।
রুবিও অভিযোগ করেন, ইরান হরমুজ প্রণালিকে দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী নৌপরিবহন সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র যা যা প্রয়োজন তা করবে এবং করে যাবে।
আল জাজিরা সূত্রে প্রকাশিত এই বক্তব্যে দেখা যায়, ওয়াশিংটন সামরিক চাপ বজায় রাখার পাশাপাশি কূটনৈতিক পথও খোলা রাখছে, যা চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
সামরিক চাপের মধ্যেও ইরানের সঙ্গে কূটনীতির দরজা খোলা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র
রোববার রাতে স্পেন ও আর্জেন্টিনার ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা নামে। তবে এই টুর্নামেন্টের উন্মাদনা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এইচআর সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ইউকেজির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা কমে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১ হাজার ১৭০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে, আর বিশ্বব্যাপী এই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে। অনেক কর্মী খেলা দেখার জন্য আগেভাগে অফিস ছেড়েছেন, দেরিতে এসেছেন বা কাজ বাদ দিয়েছেন।
ওয়ার্কপ্লেস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যাটফর্ম এনভয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের দল বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পরদিন অফিসে উপস্থিতি ২৬ শতাংশ কমে যায়, যা সুপার বোলের পরের দিনের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি। ক্লায়েন্ট মিটিং ও ভেন্ডর অ্যাপয়েন্টমেন্টও ৩২ শতাংশ কমে যায়। এনভয় এই দিনটিকে ‘নকআউট মঙ্গলবার’ নামে অভিহিত করেছে।
এসঅ্যান্ডপি, জেপিমরগান চেজ অ্যান্ড কোম্পানি ও গোল্ডম্যান স্যাকসের মতো কিছু প্রতিষ্ঠান ম্যাচের দিনগুলোতে যানজট এড়াতে কর্মীদের দূর থেকে কাজের পরামর্শ দিয়েছিল।
বিশ্বকাপ উন্মাদনায় বিশ্বজুড়ে উৎপাদনশীলতা ক্ষতি, যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও তার স্ত্রী উষা ভ্যান্স চতুর্থ সন্তানের বাবা-মা হয়েছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার মেরিল্যান্ডের বেথেসদায় ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে তাদের ছেলে অ্যালেক নীল ভ্যান্সের জন্ম হয়। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানান, মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ আছেন এবং পরিবারের অন্য শিশুরাও নতুন ভাইকে পেয়ে আনন্দিত।
হোয়াইট হাউস হিস্টোরিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, অ্যালেক নীল ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দেড় শতাধিক বছরের মধ্যে দায়িত্বে থাকা কোনো ভাইস প্রেসিডেন্টের ঘরে জন্ম নেওয়া প্রথম সন্তান। সর্বশেষ ১৮৭০ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট স্কাইলার কোলফ্যাক্স ও তার স্ত্রী এলেন ওয়েডের ঘরে সন্তান জন্মেছিল। ওহাইওর সাবেক মেরিন সেনা জেডি ভ্যান্স ও ভারতীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান উষা ভ্যান্স ইয়েল ল স্কুলে পড়ার সময় পরিচিত হন।
এই দম্পতির প্রথম সন্তান জন্ম নেয় ২০১৭ সালে, দ্বিতীয় ২০২০ সালে এবং তৃতীয় ২০২১ সালে। জেডি ভ্যান্স দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মহার বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়ে আসছেন এবং ২০২৫ সালের ‘মার্চ ফর লাইফ’ সমাবেশেও এ বিষয়ে বক্তব্য দেন।
১৫০ বছর পর দায়িত্বে থাকা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের ঘরে সন্তানের জন্ম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নিহত মার্কিন সেনাদের সম্মান জানাতে ইরানের ওপর কঠোর হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে ওয়াশিংটনে ফিরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, তিনজন মহান দেশপ্রেমিকের সম্মানে এই হামলা চালানো হয়েছে। সেনাসদস্যদের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, তারা এমন একটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছিলেন যাতে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, নৌ সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্ক লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
আলজাজিরা সূত্রে জানা যায়, নিহত মার্কিন সেনাদের ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নিহত সেনাদের সম্মানে ইরানে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ব শক্তিগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির আহ্বান জানিয়েছেন। ফিলিপাইন সফরে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান বলে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে।
রুবিও বলেন, আঞ্চলিক সংঘাতে ইরান হরমুজ প্রণালিকে দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি অন্যান্য দেশকে আহ্বান জানান, তারা যেন সরঞ্জাম বা অর্থায়নের মাধ্যমে নৌচলাচল সুরক্ষায় আরও দায়িত্ব নেয়। যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব উদ্যোগে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখার পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এই বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান স্পষ্ট হয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় বিশ্ব শক্তিগুলোর যৌথ দায়িত্বের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহের ব্যবধানে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই-এর অভিযান পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। প্রথম ঘটনায় টেক্সাসের হিউস্টনে ৫২ বছর বয়সী লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো গুলিতে নিহত হন। ছয় দিন পর মেইনের বিডেফোর্ডে ২৬ বছর বয়সী জোয়ান সেবাস্তিয়ান দুরান গেরেরো একইভাবে নিহত হন।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গণগ্রেপ্তার ও গণনির্বাসন নীতির অংশ হিসেবে আইসিই কর্মকর্তারা সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে সহিংস অভিযান চালাচ্ছেন। দ্য ট্রেস-এর তথ্যমতে, ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আইসিই কর্মকর্তারা ৩০টি গুলির ঘটনা ঘটিয়েছেন, যাতে ৮ জন নিহত হয়েছেন। তদন্তে জানা গেছে, সর্বশেষ দুই নিহত কেউই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিলেন না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফ্লোরিডায় আইসিই কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পালানোর সময় একজন নিহত হন এবং চলতি বছরে আইসিই হেফাজতে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনার পর সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
আইসিই অভিযানে দুইজন নিহত, ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা বিলে ইরানকেও অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে তিনি বলেন, রিপাবলিকানদের উচিত রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলে ইরানকে যুক্ত করা। এই বিলটি সাবেক সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের উদ্যোগে উত্থাপিত হয়েছিল এবং বর্তমানে সিনেটে উভয় দলের ৬০ জনের বেশি সদস্য এর সমর্থন জানিয়েছেন।
প্রস্তাবিত আইনে রাশিয়ার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিধান রয়েছে। এছাড়া রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানিতে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন ট্যাংকার বহরকেও লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ট্রাম্পের মন্তব্যে বোঝা যায়, তিনি রাশিয়ার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধেও একই ধরনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
টাইমস অব ইসরাইলের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পরিধি রাশিয়া থেকে ইরান পর্যন্ত সম্প্রসারণের প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা বিলে ইরানকে যুক্ত করার আহ্বান ট্রাম্পের
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ও ভ্রমণরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য বৈশ্বিক ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ২০২৬ সালের ১৮ জুলাই শনিবার এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে, তাই বিদেশে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরতদের সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয় নিরাপত্তা তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে জারি করা নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। ফ্লাইট বাতিল বা আকাশসীমা বন্ধের কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এছাড়া, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলার ঝুঁকিতে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলো রয়েছে বলে উল্লেখ করে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিকটস্থ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় মার্কিন নাগরিকদের জন্য বৈশ্বিক ভ্রমণ সতর্কতা
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে জনঅসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতদিন সংঘাতটি মার্কিন ভূখণ্ড থেকে দূরে থাকলেও সাম্প্রতিক প্রাণহানি যুদ্ধটিকে সরাসরি আমেরিকানদের দোরগোড়ায় নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ সমস্যায় ব্যস্ত সাধারণ মার্কিনিরা এই যুদ্ধকে কখনোই সমর্থন করেনি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে “অনন্তকাল ধরে চলা যুদ্ধ” থেকে মুক্ত করবেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তার সেই প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে। ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি দেশজুড়ে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এখন নিজস্ব সমর্থকদের একাংশসহ সারাদেশের কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহগুলোতে এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশাসনকে ব্যাপক চাপের সম্মুখীন হতে হবে।
ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা নিহত, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে
ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভিসা ও অবস্থান সংক্রান্ত নিয়ম কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে, যা বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে নতুন নীতিমালা কার্যকর হবে। এতে ভিসার মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে চার বছর করা হয়েছে, মেয়াদ বাড়াতে এখন ফেডারেল সংস্থা ইউএসসিআইএস-এর অনুমতি লাগবে, প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে এবং কোর্স শেষে দেশে ফেরার সময়সীমা ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে। পুরোনো পাঁচ বছরের ভিসাধারীরাও নতুন নিয়মের আওতায় আসবেন।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন আইনজীবী রাজু মহাজন বলেন, নিয়ম মেনে চলা শিক্ষার্থীদের সমস্যা হবে না, তবে যারা ভিসার অপব্যবহার করছেন তাদের জন্য ঝুঁকি বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার নোবেল ও বর্ণনা ভৌমিক জানান, বৈধ শিক্ষার্থীদের জন্য বড় কোনো সমস্যা হবে না। পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ (ওপিটি) আগের মতোই থাকবে।
রাজু মহাজনের মতে, ২০২৬ সালের নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান পার্টি ভোটারদের সন্তুষ্ট করতে এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসানীতিতে বিপাকে পড়তে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডমিনিক টিয়ারনি বলেছেন, চলমান ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট ও সফলভাবে যুদ্ধ পরিচালনায় অক্ষমতার আরেকটি উদাহরণ। এনপিআরের ‘উইকএন্ড এডিশন স্যাটারডে’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ইরাক, আফগানিস্তানসহ বেশিরভাগ যুদ্ধে অচলাবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়েছে।
টিয়ারনির মতে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস ও সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও এর সামরিক নেতৃত্ব নিজেদের সক্ষমতাকে অতিমূল্যায়ন করেছে। এসব প্রচেষ্টা উল্টো ইরানের বর্তমান সরকারকে আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালে দ্য আটলান্টিকে প্রকাশিত তার লেখার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির মিল রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির ফলে ইরানের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।
সংঘাতের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে টিয়ারনি বলেন, আলোচনার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে। ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতার মতোই যুক্তরাষ্ট্রকে এবারও দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
টিয়ারনি বললেন, ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার এক মাস না যেতেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন বাহিনী পুনরায় বিমান হামলা শুরু করেছে। ১৭ জুন ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে স্থায়ী শান্তি ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি কার্যকারিতাহীন দাবি করে ট্রাম্প প্রশাসন হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান পারস্য উপসাগরে মার্কিন মিত্রদের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
সমালোচকদের মতে, এই চুক্তি ছিল ট্রাম্পের একটি সাময়িক কৌশল, যার উদ্দেশ্য ছিল তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এই যুদ্ধ পুনরায় শুরু করায় রিপাবলিকান পার্টি রাজনৈতিকভাবে বিপদে পড়তে পারে। জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। মার্কিন সাময়িকী ‘আমেরিকান কনজারভেটিভ’-এর নির্বাহী সম্পাদক কার্ট মিলস একে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সাবেক সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, বিমান হামলা স্থল অভিযানে রূপ নিতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে। তারা ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানে মার্কিন বিমান হামলা পুনরায় শুরু, দীর্ঘ যুদ্ধ ও রাজনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ শনিবার জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। এ ছাড়া ৪৩০ জনেরও বেশি সেনা আহত এবং একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
যুদ্ধ শুরুর প্রথম প্রাণহানির ঘটনা ঘটে ১ মার্চ, যখন কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন। একই দিনে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আহত এক সেনা পরে মারা যান। এরপর ১২ মার্চ ইরাকে মার্কিন সামরিক অভিযানে সহায়তাকারী একটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হলে আরও ছয়জন সেনা নিহত হন।
এ ছাড়া ১ জুলাই আরব সাগরে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হলে মার্কিন নৌবাহিনীর এক পাইলট নিহত হন। নৌবাহিনী জানায়, দুর্ঘটনাটি শত্রুপক্ষের হামলার কারণে ঘটেছে—এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ১৬ মার্কিন সেনা নিহত, সর্বশেষ হামলা জর্ডানে
মার্কিন সরকার এয়ারেন্ডিল-১ নামের একটি আয়না স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের অনুমোদন দিয়েছে, যা সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে পৃথিবীর নির্দিষ্ট স্থানে রাতের আকাশ আলোকিত করবে। পেটাপিক্সেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেডসাইড টেবিলের সমান আকারের এই স্যাটেলাইটটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০০ মাইল উপরে কক্ষপথে ঘুরবে এবং ৬০ ফুট চওড়া একটি বর্গাকার আয়না উন্মোচন করবে। এটি সূর্যালোক প্রতিফলিত করে প্রায় তিন মাইল চওড়া একটি বৃত্তাকার এলাকা আলোকিত করতে পারবে।
প্রতিফলিত কক্ষপথের সহপ্রতিষ্ঠাতা বেন নোয়াক জানিয়েছেন, বছরে অন্তত এক হাজার ঘণ্টা ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিলে প্রতি ঘণ্টায় ৫ হাজার ডলার ফি দিতে হবে। বছরে ৫ মিলিয়ন ডলারের এই খরচ বেশিরভাগ ফটোগ্রাফারের নাগালের বাইরে হলেও জরুরি পরিস্থিতিতে এর ব্যবহার সম্ভব বলে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও এক হাজার বড় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা ১০০টি পূর্ণ চাঁদের সমান আলো প্রতিফলিত করতে পারবে।
তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও জীববিজ্ঞানীরা প্রকল্পটির বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, এই প্রযুক্তি প্রাকৃতিক আলো-অন্ধকার চক্রকে ব্যাহত করে প্রাণী ও মানুষের ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
রাতের আকাশ আলোকিত করতে সূর্যালোক প্রতিফলিত করবে মার্কিন আয়না স্যাটেলাইট
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১০৯ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।