মেক্সিকোর ওক্সাকা রাজ্যের সান মাতেও পিনাস শহরে চার ব্যক্তি মেয়র লিলিয়া গার্সিয়ার অফিসে ঢুকে তাকে এবং অন্য এক কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। রাজ্যের প্রসিকিউটরের অফিস বলছে, তারা এই হামলার ঘটনা তদন্ত করছে। ওই এলাকায় সেনা এবং ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে। জানা গেছে, শক্তিশালী মাদক গ্যাঙগুলো মেক্সিকোর উচ্চপদস্থদের টার্গেট করে আসছে।
মেক্সিকোর ওয়াক্সাকা রাজ্যে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে কমপক্ষে ১১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১২ জন। ওয়াক্সাকার গভর্নর সালোমন জারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, আমি নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা তাদের এই কঠিন সময়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা করব। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেসুস রোমেরো বলেন, ৪০ জনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে বাসটি মেক্সিকোর দক্ষিণে তেহুয়ান্টেপেকের ইস্থমাসের দিকে যাচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে বাসের যাত্রীরা রোববার মেক্সিকো সিটিতে প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউমের আয়োজিত একটি সমাবেশে যোগদান শেষে বাড়ি ফিরছিলেন।
মেক্সিকোর সবচেয়ে সহিংস গুয়ানাজুয়াতা রাজ্যে বন্দুকধারীদের হামলার ঘটনায় ৮ জন নিহত হয়েছেন। খবর এএফপির। প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, এদের মধ্যে পাঁচজন নারী এবং তিনজন পুরুষ। তবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। গুয়ানাজুয়াতো একটি সমৃদ্ধ শিল্পকেন্দ্র এবং বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যের আবাসস্থল। এ ঘটনায় বন্দুকধারীদের কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এর আগে ২০২৩ সালেও সেখানে বন্দুকধারীরা হামলা চালিয়েছে। সে ঘটনায় এক শিশুসহ সাতজন নিহত হয়। সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০০৬ সালে সরকার পাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করার পর থেকে মেক্সিকোতে মাদক-সম্পর্কিত সহিংসতায় ৪ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মেক্সিকোর বিরুদ্ধে ব্যাপক বহিষ্কার নীতি, বর্ধিত বাণিজ্য শুল্ক এবং মাদক চক্রের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর মতো হুমকি দিয়েছেন! মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম ট্রাম্পের হুমকিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলেই জানিয়েছেন। তিনি জানান, তার সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে চলমান সংলাপ এসব উদ্বেগ কমিয়ে আনছে বলেও উল্লেখ করেন শেইনবাউম। ট্রাম্প সম্প্রতি মেক্সিকোর মাদক চক্রকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচরবৃত্তিকেও সহযোগিতা বলে উল্লেখ করেছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) মেক্সিকোর আকাশে গোপন ড্রোন অভিযান পরিচালনা করেছে। সিএনএন বলছে, এমকিউ ৯ রিপার ড্রোনের মাধ্যমে মাদক চক্র এবং তাদের আস্তানাগুলোর উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। এটা মূলত পরবর্তী হামলার প্রস্তুতি। কেননা এই ড্রোনগুলো দিয়ে সোমালিয়া, ইরাক ও সিরিয়ায় লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, এগুলো মেক্সিকোর আকাশসীমায় প্রবেশ করেনি, আন্তর্জাতিক মার্কিন আকাশসীমায় ছিল। প্রতিরক্ষামন্ত্রী অবশ্য গুপ্তচরবৃত্তি হতে পারে বলছেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কয়েকটা মেক্সিকান মাদক চক্রকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকির পর সীমান্তে মেক্সিকোর ন্যাশনাল গার্ড ও সেনাবাহিনীর ১০ হাজার সদস্যকে জড়ো করা হয়েছে। তিজুয়ানার কাছে সীমান্তের অন্যান্য অংশ ও জুয়ারেজের উপকণ্ঠে টহল দিতে দেখা গেছে। ট্রাম্প মেক্সিকোর উপর অন্তত এক মাসের জন্য শুল্ক আরোপ বিলম্ব করার পর এমন ঘটনা ঘটেছে সীমান্তে। গত বছর মাদক পাচার ও অভিবাসী কমে আসলেও ট্রাম্প সীমান্তে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। আমেরিকান বন্দুক পাচার বন্ধ ও সহিংসতা রুখতে আরো বেশি কিছু করবে ট্রাম্প সরকার। কেননা অপরাধীগুষ্ঠীগুলো লাভজনক অভিবাসী চোরাচালান শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য লড়াইয়ে জড়াচ্ছে!
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৬০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।