বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে সরকার এখনো জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। শুক্রবার বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে সরকার নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রির বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত মূল্য আদায় আইনগত অপরাধ। এছাড়া, প্রতি মাসের শুরুতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করে থাকে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, কিছু ভোক্তা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে অননুমোদিতভাবে মজুত করার চেষ্টা করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। জনগণের ভয় ও আতঙ্ক কমাতে বিপিসি জানিয়েছে, বিদেশ থেকে তেল আমদানি ও দেশের বিভিন্ন ডিপোতে সরবরাহ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। রেল ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে নিয়মিত তেল পাঠানো হচ্ছে।
বিপিসি আশা প্রকাশ করেছে, অল্প সময়ের মধ্যেই দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের বাফার স্টক গড়ে উঠবে।
সংকটের মধ্যেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানাল বিপিসি
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে—এমন গুজবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত সিলেট নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে হুলুস্থুল পরিস্থিতি তৈরি হয়। অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল নিতে দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। আতঙ্কে অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনতে চাওয়ায় কিছু পাম্পে রেশনিং চালু হয়, মোটরসাইকেলপ্রতি ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হয়নি। ব্যবসায়ীরা জানান, অতিরিক্ত চাহিদার কারণে সাময়িক কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে, তবে রোববার থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
জ্বালানি ব্যবসায়ীরা বলেন, সরকার মার্চ মাসে তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে—ডিজেল ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা ও অকটেন ১২০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। মাসের মাঝামাঝি কোনো মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নেই। তারা জনগণকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
সিলেট বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি ও কেন্দ্রীয় ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনও জানিয়েছে, পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত তেল মজুত আছে এবং প্রকৃত কোনো সংকট হয়নি।
সিলেটে তেলের গুজবে ভিড়, ব্যবসায়ীরা বলছেন প্রকৃত সংকট নেই
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু হঠাৎ বেড়ে যাওয়া জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রেক্ষিতে শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) রাজধানীর আসাদ গেট এলাকার পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন করেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ও দাম নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ায় বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। এ সময় মন্ত্রী সবাইকে অতিরিক্ত তেল ক্রয় ও মজুদ না করার আহ্বান জানান এবং আশ্বস্ত করেন যে দেশে পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে ও সরবরাহ স্বাভাবিক আছে।
তিনি বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই এবং সরকার সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। চালকসহ সাধারণ জনগণকে অহেতুক আতঙ্ক না ছড়ানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী। তার এই পরিদর্শনের উদ্দেশ্য ছিল গুজব প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
সরকার জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হয় তা নিশ্চিত করতে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
জ্বালানি মন্ত্রী বললেন, গুজবে কান না দিয়ে তেল মজুদ না করতে নাগরিকদের আহ্বান
দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে নরসিংদীর পলাশে অবস্থিত ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম পরিবেশবান্ধব এই কারখানাটি ২০২৬ সালের ৪ মার্চ বিকেল ৩টা থেকে উৎপাদন বন্ধ রাখে। বোরো ধানের ভরা মৌসুমে সার সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কারখানাটি ২০২৪ সাল থেকে দৈনিক দুই হাজার ৮০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করে আসছিল।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, উদ্বোধনের পর থেকে এটি শতভাগ উৎপাদনে ছিল এবং বন্ধের আগের ২৪ ঘণ্টায় ২,৮৪৬ মেট্রিক টন সার উৎপাদন হয়। নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৭১–৭২ এমসিএ গ্যাস প্রয়োজন হলেও ৫২–৫৩ এমসিএ গ্যাস পেলেও উৎপাদন চালানো সম্ভব। বর্তমানে গুদামে প্রায় পাঁচ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে। গ্যাস সরবরাহ কবে পুনরায় শুরু হবে তা নিশ্চিত নয়।
কারখানা কর্তৃপক্ষ আশা করছে, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হলে উৎপাদন চালু করা যাবে এবং সার বিক্রির অর্থ থেকে ঋণের কিস্তি পরিশোধ অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
গ্যাস সংকটে নরসিংদীর ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির সংকট এড়াতে আগামী রোববার থেকে দেশে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হবে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে পেট্রোল পাম্পগুলোকে লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হবে। শুক্রবার পরীবাগের একটি পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, সরকারের কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
তিনি বলেন, যুদ্ধাবস্থার কারণে জনগণের মধ্যে কিছু সংশয় তৈরি হয়েছে, তবে সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সচেষ্ট। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কয়েক গুণ বেশি তেল সরবরাহ করা হয়েছে এবং ক্রেতারাও বেশি তেল নিচ্ছেন। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, যা অভ্যন্তরীণ বাজারে চাপ তৈরি করছে। সরকার দাম না বাড়ানোর চেষ্টা করবে, তবে একান্তই প্রয়োজন হলে জনগণের সঙ্গে তা শেয়ার করা হবে এবং তাদের সমর্থন কামনা করা হচ্ছে।
রোববার থেকে জ্বালানি তেল রেশনিং শুরু করবে বাংলাদেশ সরকার
ক্রেমলিন শুক্রবার জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের ফলে রুশ তেল ও গ্যাসের বৈশ্বিক চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই ঘোষণা আসে একদিন পর, যখন মার্কিন ট্রেজারি ভারতকে সমুদ্রে আটকে থাকা রুশ তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের ছাড় দেয়। যুদ্ধের সপ্তম দিনে এসে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, যা বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রাশিয়া নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে সব চুক্তিবদ্ধ সরবরাহ বজায় রাখতে সক্ষম, তবে ভারতের জন্য সম্ভাব্য রপ্তানি পরিমাণ প্রকাশ করেননি।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল সতর্ক করেছেন যে রুশ গ্যাসের ওপর পুনরায় নির্ভরতা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ভুল হবে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন উচ্চ জ্বালানি মূল্যের মোকাবিলায় আসন্ন ইইউ সম্মেলনে বিকল্প প্রস্তাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এদিকে, কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি ফাইনান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে উপসাগরীয় দেশগুলো রপ্তানি বন্ধ করতে পারে, ফলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার এবং গ্যাসের দাম প্রতি মিলিয়ন বিটিইউ ৪০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
শুক্রবার মার্কিন ক্রুড তেলের দাম ৪.১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪.৩৬ ডলারে পৌঁছায়, আর ব্রেন্ট ক্রুড ১.৭ শতাংশ বেড়ে ৮৭ ডলারে পৌঁছায়, যা এপ্রিল ২০২৪-এর পর সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত, রুশ তেলের চাহিদা বেড়েছে
যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে সাময়িকভাবে রাশিয়ান তেল আমদানির অনুমতি দিয়েছে, যা নিউ দিল্লির ওপর কয়েক মাসের চাপের পর নীতিগত পরিবর্তন নির্দেশ করে। বৃহস্পতিবার রাতে জারি করা লাইসেন্স অনুযায়ী, ৫ মার্চের আগে জাহাজে তোলা রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য ভারতীয় কোম্পানিগুলো কিনতে পারবে, যদি তা ভারতে সরবরাহ করা হয়। এই ছাড় ৪ এপ্রিল ওয়াশিংটন সময় রাত ১২টা ১ মিনিটে শেষ হবে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, ৩০ দিনের এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক বাজারে তেলের প্রবাহ বজায় রাখতে নেওয়া হয়েছে, যা রাশিয়ার জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা দেবে না।
পারস্য উপসাগরে সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি নিয়ে এসেছে। এটি ভারতের পরিশোধন খাতকে আটকে থাকা রাশিয়ান তেল সংগ্রহ ও কার্যক্রম স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে বড় পরিবর্তন, যারা এর আগে ভারতের রাশিয়ান তেল কেনা সীমিত করতে শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদি হলেও এই ছাড় রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের মূল্য ও বাণিজ্য প্রবাহে আসন্ন সপ্তাহগুলোতে পরিবর্তন আনতে পারে।
পারস্য উপসাগরীয় সংঘাতের মধ্যে রাশিয়ান তেল আমদানিতে ভারতের জন্য ৩০ দিনের মার্কিন ছাড়
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দেশজুড়ে যানবাহনের জন্য দৈনিক তেল কেনার সীমা নির্ধারণ করেছে। ৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বিপিসি জানায়, আতঙ্কজনক চাহিদা ও অতিরিক্ত মজুদ রোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী মোটরসাইকেল প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ লিটার, ব্যক্তিগত গাড়ি ১০ লিটার, এসইউভি ও মাইক্রোবাস ২০–২৫ লিটার, পিকআপ ও লোকাল বাস ৭০–৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস ও ট্রাক ২০০–২২০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে।
বিপিসি জানায়, দেশের ব্যবহৃত জ্বালানির প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানি করতে হয় এবং বৈশ্বিক অস্থিরতায় কিছু চালান বিলম্বিত হচ্ছে। ডিলার ও ভোক্তাদের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা দেখা দেওয়ায় এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলোকে বিক্রির সময় পরিমাণ ও মূল্যসহ রসিদ দিতে হবে এবং পুনরায় তেল নিতে আগের বিলের কপি জমা দিতে হবে।
সংস্থাটি জানায়, নিয়মিত আমদানি ও সরবরাহ কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং শিগগিরই পর্যাপ্ত মজুদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে তেল বিক্রি করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে তেল সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে দৈনিক সীমা নির্ধারণ করল বিপিসি
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। শুক্রবার জ্বালানি বিভাগ থেকে প্রকাশিত এই নির্দেশনার লক্ষ্য হলো ঢাকায় দেখা দেওয়া আতঙ্কজনিত ভিড় ও তেল মজুতের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা। রাজধানীতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন, তর্কবিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিবার তেল কেনার সময় ভোক্তাকে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে রশিদ দিতে হবে এবং পরবর্তীবার তেল নেওয়ার সময় পূর্ববর্তী রশিদ দেখাতে হবে। ডিলারদের নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে হবে এবং বিপণন কোম্পানিগুলোকে মজুত ও বিক্রয়ের তথ্য যাচাই করে তেল সরবরাহ দিতে হবে। এছাড়া ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশন কতটুকু তেল তুলতে পারবে, সেটিও নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে এবং অতিরিক্ত মজুত রোধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে আতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে তেল কেনায় সীমা নির্ধারণ করল সরকার
ইরানে চলমান যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের জানান যে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, রাশিয়া পাইপলাইন ও তরলীকৃত উভয় ধরনের জ্বালানি সরবরাহে একটি নির্ভরযোগ্য দেশ হিসেবে রয়েছে।
যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ, প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী দেশগুলো বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর একদিন আগে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ৩০ দিনের একটি ছাড় দেয়, যাতে ভারত সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেল কিনতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়তে থাকলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে রাশিয়ার ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে রাশিয়ার জ্বালানি চাহিদা বাড়ছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নতুন জ্বালানি সাশ্রয় নির্দেশনা জারি করেছে। ৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই নির্দেশনায় বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা ও সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।
নির্দেশনায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক স্থাপনা ও নাগরিকদের গ্যাস ও জ্বালানি তেল সাশ্রয়ে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্যাসচালিত যন্ত্রপাতির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার পরিহার, পাইপলাইন ও বার্নার পরীক্ষা, অবৈধ গ্যাস ব্যবহার বন্ধ, গণপরিবহন ও কার-পুলিং ব্যবহারে উৎসাহ, এবং অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত সীমিত রাখা। অফিস চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে, যাতে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
বৈশ্বিক জ্বালানি ঝুঁকিতে বাংলাদেশে সাশ্রয় নির্দেশনা জারি
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার চরের পতিত জমিতে কালোজিরা চাষে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। স্বল্প খরচে ও অল্প সময়ে বেশি লাভ হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের কাছে কালোজিরা এখন ‘কালো হীরা’ নামে পরিচিত। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, গত বছর মাত্র এক হেক্টর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ হলেও এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হেক্টরে।
ধান কাটার পর চরাঞ্চলের বেলে-দোঁআশ মাটিতে কৃষকেরা এই লাভজনক ফসল আবাদ করছেন। ‘বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প’ ও ‘কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় কৃষকদের উপকরণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এ অঞ্চলের মাটির pH মান ৬.৫ থেকে ৭.০, যা কালোজিরা চাষের জন্য উপযোগী। চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশা প্রকাশ করেছেন, সঠিক বিপণনব্যবস্থা নিশ্চিত হলে হাইমচর ভবিষ্যতে কালোজিরা উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
হাইমচরে কালোজিরা আবাদ ১৮ গুণ বৃদ্ধি, কৃষকের আয় বাড়ার সম্ভাবনা
রাশিয়া থেকে সমুদ্রে আটকে থাকা তেল কেনার জন্য ভারতকে সাময়িক ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ৩০ দিনের জন্য এই বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে এ তথ্য জানান।
বেসেন্ট বলেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সচল রাখা এবং ইরানের মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টা ঠেকানো। তিনি আরও জানান, এই ছাড় স্বল্পমেয়াদি এবং এতে রাশিয়া সরকার তেমন কোনো আর্থিক সুবিধা পাবে না, কারণ এটি শুধু সমুদ্রে আটকে থাকা জ্বালানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ান তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন, যার ফলে ক্রেতারা বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য হয়। রাশিয়ার জ্বালানির অন্যতম বড় ক্রেতা ভারত এই ছাড়ের মাধ্যমে সীমিতভাবে তেল কেনার সুযোগ পাচ্ছে।
রাশিয়ার আটকে থাকা তেল কেনায় ভারতকে ৩০ দিনের ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর ইরানে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ও পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সমুদ্র ও আকাশপথের কয়েকটি রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এবং শিপিং কোম্পানিগুলো বিকল্প রুটে ঘুরে চলাচল করছে। সী-লেড শিপিং চীন-বাংলাদেশ রুটে ৪০ ফুট কনটেইনারে ২০০ থেকে ৩০০ মার্কিন ডলার ভাড়া বাড়িয়েছে, অন্য কোম্পানিগুলোও একই পথে হাঁটছে। শিগগিরই যুদ্ধ মাশুল কার্যকর করার ঘোষণা আসবে, যা বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ আমদানি-রপ্তানি খাতে বড় প্রভাব ফেলবে।
ইরান নিয়ন্ত্রিত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ১৪০টি মাদার ভ্যাসেল সাড়ে তিন লাখ কনটেইনার নিয়ে আটকে আছে। শিপিং কোম্পানিগুলো এখন আফ্রিকার কেপ অফ গুড হোপ প্রণালি ব্যবহার করছে, এতে সময় ১২–১৫ দিন বাড়ছে এবং ব্যয় অন্তত ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এয়ার ফ্রেইটেও প্রতি কেজিতে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ডলার পর্যন্ত ভাড়া বেড়েছে, নিরাপত্তার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে কার্গো পরিবহন বন্ধ রয়েছে।
ফলে রপ্তানি ব্যয় দ্রুত বাড়ছে এবং তৈরি পোশাক শিল্প নতুন সংকটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরান সংঘাতে রুট বন্ধ, ভাড়া বেড়ে বাংলাদেশ রপ্তানি খাতে সংকট
লন্ডনের বিমা বাজারের সংগঠন লোয়েড’স মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন (এলএমএ) জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকা জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এলএমএর মেরিন ও অ্যাভিয়েশন বিভাগের প্রধান নিল রবার্টস জানিয়েছেন, উপসাগর ও আশপাশের জলসীমায় বর্তমানে প্রায় ১,০০০ জাহাজ অবস্থান করছে, যার অর্ধেকই তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার।
রবার্টসের মতে, জাহাজের মালিক ও ক্যাপ্টেনদের স্বাভাবিক নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে অধিকাংশ জাহাজ নোঙর করে আছে, যদিও এসব জাহাজের বিমা সুবিধা এখনো চালু রয়েছে। রোববার থেকে প্রায় ৪০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। জাহাজ চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপ্লারের তথ্য অনুযায়ী, আগের সপ্তাহের তুলনায় এই নৌপথে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে।
এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
হরমুজ প্রণালির কাছে প্রায় ১,০০০ জাহাজ আটকা, চলাচল ৯০ শতাংশ কমেছে
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৯৩ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।