ভারতের আলোচিত ‘ককরোচ’ যুব আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুক দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা সংস্কার এবং সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ৬০ বছর বয়সী প্রকৌশলী, পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ ওয়াংচুক বলেন, নির্বাচন, পরীক্ষা ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর মানুষের আস্থা কমে গেছে। তিনি ২৮ জুন আন্দোলনের সমর্থনে অনশন শুরু করেন এবং ২৬ দিন পর ২৪ জুলাই তা শেষ করেন। এ সময়ে তাঁর প্রায় ১১ কেজি ওজন কমে যায় ও শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়।
মে মাসে ভারতের মেডিকেল কলেজে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলনটির শুরু। পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে তরুণরা প্রতিবাদে নামে। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
কয়েক সপ্তাহের আন্দোলন, পুলিশি দমন ও ওয়াংচুকের অনশনের পর ২৫ জুলাই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন, যাকে আন্দোলনকারীরা বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখেন। ওয়াংচুক রাজনৈতিক দল গঠনের বদলে আন্দোলনটিকে চাপ সৃষ্টিকারী নাগরিক উদ্যোগ হিসেবে রাখতে চান। তিনি যোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তিদের নাম সংগ্রহ করে তাঁদের সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন।
ককরোচ আন্দোলনের পর রাজনৈতিক সংস্কার ও সৎ নেতৃত্বের আহ্বান ওয়াংচুকের
ভারতের গুজরাটের সুরাটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামে একটি পাইকারি মাছের বাজারের নামকরণের প্রস্তাব নিয়ে মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সোমবার সুরাট ফিশ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বাজারটির উদ্বোধন করে এবং ‘শ্রী নরেন্দ্র মোদি হোলসেল ফিশ মার্কেট’ লেখা ও মোদির ছবিসংবলিত ব্যানার টানায়। সংগঠনের একাংশের আপত্তির পর মঙ্গলবার ব্যানারটি সাদা কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়।
এটি সুরাটের প্রথম পৌর করপোরেশন পরিচালিত পাইকারি মাছের বাজার, যেখানে ৮০টি মাছ বিক্রির দোকান বা আউটলেটের ব্যবস্থা রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনার সহায়তায় বাজারটি নির্মিত হয়েছে। এতে কেন্দ্র ও গুজরাট সরকার ৩ কোটি রুপি করে এবং সুরাট মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন দেড় কোটি রুপি দিয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নামকরণ নিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীর মধ্যে কথাকাটাকাটিও হয়।
মাছ ব্যবসায়ী সুরেন্দ্র লাশকারি মোদি নিরামিষভোজী হওয়ায় তার নামে মাছের বাজারের নাম না রাখার দাবি করেন। অন্যদিকে, অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কালপেশ নাভসারিওয়ালা অর্থায়ন ও মৎস্য খাতে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বের কথা তুলে ধরে নামের পক্ষে অবস্থান নেন। পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রস্তাবটি সাংস্কৃতিক কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে; এরপর স্থায়ী কমিটি ও সাধারণ বোর্ডের প্রক্রিয়া রয়েছে।
নামকরণ বিতর্কে সুরাটের মাছের বাজারে মোদির ছবিসহ ব্যানার ঢাকা
বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার কয়েক মাস পর সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ফিরেছেন আমডাঙার বিধায়ক কাসেম সিদ্দিকী। সোমবার বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে পাশে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিদ্রোহীদের সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি ভুল পথে পরিচালিত হয়েছিলেন। তিনি মমতার সঙ্গে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন বলেও জানান।
বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীতে যাওয়ার সময় কাসেম ভেবেছিলেন, মমতাই তাদের নেত্রী। পরে সেখানে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে মমতার কোনো যোগাযোগ নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আমডাঙায় তিনি মমতার পোস্টার নিয়ে প্রচার করেছিলেন এবং মানুষ মমতার জন্য ভোট দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, একটি বৈঠকে মমতা নেত্রী থাকবেন বলা হওয়ায় বিভ্রান্তির মধ্যে তাদের দিয়ে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করানো হয়েছিল।
কুণাল ঘোষও অভিযোগ করেন, বিভ্রান্তি ও ভুল তথ্যের মাধ্যমে বিধায়কদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল এবং স্বাক্ষরের জন্য দেখানো কারণের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল ছিল না। একই দিনে সাবেক আমডাঙা বিধায়ক রফিকুর রহমান বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কাসেমের প্রত্যাবর্তন ও রফিকুরের বৈঠককে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে।
বিভ্রান্তির অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ফিরলেন কাসেম সিদ্দিকী
রাজস্থানের জয়পুরের রামপুরা কানওয়ারপুরা গ্রামে গোয়ালঘরে পরিচালিত বলে অভিযোগ থাকা একটি সরকারি স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার দাবি করেছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির প্রতিনিধিদল। দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি ২১ আগস্ট সেখানে যায়। সরকারি স্কুলের অবস্থা, সমস্যা ও ঘাটতি যাচাইয়ের ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সফর ছিল বলে জানিয়েছে দলটি।
সিজেপির অভিযোগ, গ্রামে ঢোকার আগেই তাদের গাড়ি আটকে দেওয়া হয় এবং হেঁটে স্কুলে যাওয়ার সময় একাংশ গ্রামবাসী বাধা দেয়। পরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। দলের দাবি, ইট-পাথর ছোড়া ও লাঠি দিয়ে হামলায় প্রতিনিধি সঞ্জু বর্মার হাত ভেঙেছে, সলমন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং রেখা শর্মার চোখে ধুলো ছোড়া হয়েছে।
গ্রামবাসী ভগবান সহায় ধানকার অভিযোগে পুলিশ সিজেপি প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাঙ্কা ৫০ থেকে ৬০ জনকে নিয়ে এসে গ্রামবাসী ও নারীদের কটূক্তি করেন, মারধর শুরু করেন এবং জাতিবিদ্বেষী মন্তব্য করেন। সিজেপিও পাল্টা অভিযোগ করেছে; সেই অভিযোগের ভিত্তিতেও পুলিশ একটি এফআইআর করেছে।
জয়পুরে স্কুল পরিদর্শনকে ঘিরে সংঘর্ষের পর সিজেপি ও গ্রামবাসীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সোমবার ভোর থেকে টানা ভারী বৃষ্টিতে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় আবহাওয়া দফতর রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করতে না পারায় ১৫টি বিমানকে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে।
রানওয়েতে পানি জমে থাকায় ২৫০টির বেশি বিমান নির্ধারিত সময়ে দিল্লিতে অবতরণ করতে পারেনি এবং কয়েকটি বিমানের উড্ডয়নেও বিলম্ব হয়েছে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে; সঙ্গম বিহারের কাছে এমবি রোডে পানি জমে যান চলাচল প্রায় থমকে গেছে।
রোববার ভ্যাপসা আবহাওয়ার পর সোমবার ভোরে বৃষ্টি শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ১৮ থেকে ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে ছতরপুরে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। পূর্বাভাসে সোমবার দিনভর মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী গুরুগ্রাম ও ফরিদাবাদে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ভারী বৃষ্টিতে দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট, ১৫ বিমান ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ২০ জুলাই নয়াদিল্লির জেন জেড বিক্ষোভে ভারতীয় পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী পেলেট ছোড়া শটগান, টিয়ার গ্যাস গ্রেনেড, লাঠি ও বৈদ্যুতিক শক যন্ত্র ব্যবহার করেছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে হাজারো বিক্ষোভকারী পার্লামেন্ট স্ট্রিট অবরোধ করেন। প্রতিবেদনে ভিডিও, ছবি, সাক্ষ্য ও হাসপাতালের নথির ভিত্তিতে ১০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অ্যামনেস্টির এভিডেন্স ল্যাব কনট প্লেস ও পার্লামেন্ট স্ট্রিটের কাছে ভিড়ের দিকে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের এক সদস্যকে শটগান ছুড়তে দেখা গেছে এমন ভিডিও যাচাই করেছে বলে জানায়। সংস্থাটি বলেছে, বার্ডশট স্বভাবগতভাবে অনির্ভুল ও বিপজ্জনক এবং পেলেট গান ব্যবহারের আগে পুলিশ কোনো প্রকাশ্য সতর্কতা দেয়নি। টিয়ার গ্যাস গ্রেনেড সরাসরি বিক্ষোভকারীদের দিকে ছোড়া এবং লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগও তারা যাচাই করেছে।
দিল্লি পুলিশ পেলেটজনিত আঘাতের খবরকে মিথ্যা বলেছে এবং মোদি সরকার বাহিনীর সংযত আচরণের দাবি করেছে। অ্যামনেস্টি বলেছে, তাদের প্রমাণ এসব অস্বীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক; আধাসামরিক বাহিনীর একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তে অন্তত সাত রাউন্ড ধাতব পেলেটযুক্ত গোলাবারুদ ছোড়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জবাব দাবি করেন।
অ্যামনেস্টির দাবি, দিল্লির ছাত্র বিক্ষোভে পেলেট, গ্রেনেড ও লাঠি ব্যবহার করেছে বাহিনী
গঙ্গার পানি বাড়তে থাকা এবং বিহারের বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে ফারাক্কা ব্যারেজের সব গেট খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। রোববার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে তিনি এ অনুরোধ জানান বলে সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন।
সম্রাট চৌধুরীর মতে, ফারাক্কা ব্যারাজের গেট খুলে দিলে গঙ্গার পানির প্রবাহ স্বাভাবিক হতে এবং বিহারের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিহারের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, জেডিইউ সাংসদ সঞ্জয় ঝা ১৯৯৬ সালের ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের আগে বিহারের স্বার্থ বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, ডিসেম্বরে চুক্তিটির ৩০ বছর পূর্ণ হবে। চুক্তিটি ফারাক্কা ব্যারাজে শুষ্ক মৌসুমের পানি বণ্টন নির্ধারণ করে। ভারত ও বাংলাদেশের ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে, তবে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা হলেও এখনো সমাধান হয়নি।
গঙ্গার পানি বাড়ায় ফারাক্কার সব গেট খোলার আহ্বান বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর
ভারতের ককোরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলে ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে। মিছিলটি ইন্ডিয়া গেট থেকে শুরু হয়ে দিল্লি পুলিশ সদর দপ্তরে গিয়ে শেষ হবে। এক বিবৃতিতে দলটি বলেছে, সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে হতাশ হয়ে তারা আবার রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, ২৫ জুলাই দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় সরকার আদৌ আগ্রহী কি না, মিছিল থেকে সেই প্রশ্ন তোলা হবে। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্য এবং ২০ জুলাইয়ের আন্দোলনে পুলিশের কথিত নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা মিছিলে নেতৃত্ব দেবেন।
সিজেপি বলেছে, ২৫ জুলাই ২০২৬ সালে ভারত সরকার ও বিজেপি/এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলো তরুণদের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করেছে দলের জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটি। দলটির দাবি, ওই আশ্বাসের ভিত্তিতেই দেশব্যাপী যুব আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছিল। সিজেপির অভিযোগ, সরকার এক মাস ধরে সময়ক্ষেপণ করছে এবং লিখিত আশ্বাস দেয়নি। দলটি আরও দাবি করেছে, সুপ্রিম কোর্ট দেশজুড়ে দায়ের হওয়া এফআইআরের তালিকা চাইলেও সরকার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে মিছিলের ডাক সিজেপির
কলকাতার প্রাণকেন্দ্র নিউ মার্কেটসংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ১৯ আগস্ট গভীর রাতে আগুনে নয়জন নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শিশুসহ ছয় বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। তারা উন্নত চিকিৎসার আশায় কলকাতায় গিয়েছিলেন। ঘটনাটি হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা, বের হওয়ার ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশি অতিথিদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুনের ধোঁয়া দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। সরু পথ, পর্যাপ্ত জরুরি বহির্গমনপথের অভাব, দুর্বল বায়ু চলাচল এবং অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি উদ্ধারকাজ কঠিন করে তোলে। প্রাথমিক তদন্তে এসি বিস্ফোরণ ও শর্টসার্কিট সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হলেও আগুনের প্রকৃত কারণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পাঁচতলা ভবনটির বিভিন্ন তলায় একাধিক হোটেল বা গেস্টহাউস চলার তথ্যও এসেছে।
প্রতিবেদনটি নিরপেক্ষ তদন্ত, হোটেলের লাইসেন্স ও অগ্নিনিরাপত্তার নথি যাচাই, সিসিটিভি সংরক্ষণ এবং ফরেনসিক ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, বীমা, চিকিৎসাব্যয় ও মরদেহ পরিবহনে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সরকারের আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা সেল গঠনের কথাও বলা হয়েছে। বাংলাদেশি চিকিৎসাপ্রার্থীদের ব্যবহৃত হোটেলগুলোর পৃথক নিরাপত্তা অডিটেরও দাবি উঠেছে।
কলকাতার হোটেল আগুনে ছয় বাংলাদেশিসহ নয়জন নিহত, তদন্ত ও নিরাপত্তা অডিটের দাবি
কলকাতার নিউমার্কেটসংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ নয়জন নিহত হওয়ার পর আতঙ্কে অনেক বাংলাদেশি পর্যটক হোটেল ছেড়ে দেশে ফিরছেন। ২৩ আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনায় কলকাতার পরিচিত হোটেলপাড়ার বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের মধ্যে গভীর ভীতি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সদর স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট, লিন্ডসে স্ট্রিট, মির্জা গালিব স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের এই এলাকা তুলনামূলক কম খরচের থাকার ব্যবস্থা থাকায় বাংলাদেশি চিকিৎসাপ্রত্যাশীদের কাছে জনপ্রিয়। পর্যটক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন হোটেল-গেস্টহাউস, সরু প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, ফায়ার এক্সিটের অভাব, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ এবং অগ্নিনিরাপত্তা অডিট না হওয়ার মতো সমস্যা রয়েছে।
পর্যটকেরা ভিসা জটিলতা, দালালের দৌরাত্ম্য ও বেনাপোল সীমান্তে দীর্ঘ অপেক্ষার কথাও তুলে ধরেছেন। অনিরাপত্তা ও ভোগান্তির কারণে কেউ কেউ চিকিৎসার জন্য কলকাতার বদলে চেন্নাই, ভেলোর, চিন বা নেপালের কথা ভাবছেন। প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে এলাকার হোটেল ও গেস্টহাউসের বৈধতা যাচাই শুরু করেছে; পৌরসভা, দমকল ও বিদ্যুৎ বিভাগ কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
শিখা ইন অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতার হোটেল ছাড়ছেন বাংলাদেশি পর্যটকেরা
ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক এয়ার মার্শাল ও ভাইস চিফ নাকেশ কাপুর প্রশ্ন তুলেছেন, ২০৩০ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিপুল সংখ্যায় বাহিনীতে যুক্ত হওয়ার কথা থাকা তেজস এমকে-২ সম্মুখসারির যুদ্ধবিমান হিসেবে কতটা কার্যকর থাকবে। অবসরের দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তখন যুদ্ধক্ষেত্রে বিমানটির প্রাসঙ্গিকতা অনেকটাই কমে যেতে পারে।
কাপুর বলেন, চীন ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের দিকে এগোচ্ছে এবং পাকিস্তান পঞ্চম প্রজন্মের বিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে। ২০৩৫ সালে চীনের ষষ্ঠ প্রজন্মের বিমানের বিপরীতে চতুর্থ প্রজন্মের বিমান ব্যবহার কতটা যুক্তিযুক্ত, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়, এফ-২২ ও জে-২০-এর মতো পঞ্চম প্রজন্মের বিমানে স্টেলথ, সেন্সর ফিউশন এবং অভ্যন্তরীণ অস্ত্র বহনের ব্যবস্থা রয়েছে; ভারতের এমন কোনো পঞ্চম বা ষষ্ঠ প্রজন্মের প্ল্যাটফর্ম নেই।
তবে কাপুরের মতে, দেশের আয়তনের কারণে সীমিতসংখ্যক উন্নত যুদ্ধবিমান সব জায়গায় মোতায়েন সম্ভব নয়, তাই তেজস এমকে-২ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করতে হবে। তিনি তেজস এমকে-১এ সরবরাহে বিলম্ব নিয়ে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের সমালোচনা করেন। এমকে-২-এর প্রথম উড্ডয়ন এখন ২০২৭ সালের মার্চ থেকে জুলাইয়ের মধ্যে হওয়ার কথা; তিনি এফসিএএস বা জিসিএপি-এর মতো ষষ্ঠ প্রজন্মের প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান।
আঞ্চলিক প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মধ্যে তেজস এমকে-২-এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
কলকাতার মধ্যাঞ্চলের মির্জা গালিব স্ট্রিটে শিখা ইন হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নয়জন নিহত হওয়ার চার দিন পর শনিবার হোটেলটির মালিক বীরেশ্বর মিত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বেহালার ডায়মন্ড হারবার রোডের বাড়ি থেকে ৪৬ বছর বয়সি বীরেশ্বরকে আটক করা হয়। বুধবার ভোরের ওই আগুনে নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন।
পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, আগুনের পর বীরেশ্বর গাড়িতে কলকাতা ছেড়ে ঝাড়খন্ডের ধানবাদে যান এবং সেখানে আত্মগোপনে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি কেন বাড়িতে ফিরলেন এবং আত্মগোপনে কেউ সহায়তা করেছে কি না, তা তদন্ত করছে পুলিশ। তার দুটি ব্যাংক হিসাব জব্দ করায় আর্থিক লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়; অর্থসংকটেই তিনি ফিরতে পারেন বলে পুলিশের ধারণা।
রোববার তাকে আদালতে হাজির করা হবে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজত চাইবে। হোটেলের ইজারাদার আবু জাফরকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর মধ্য কলকাতার ২৫টি হোটেল, ইন ও রেস্তোরাঁকে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে; পরিদর্শনের পর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করা হয়েছে।
কলকাতার শিখা ইন অগ্নিকাণ্ডে নয়জন নিহতের পর হোটেল মালিক গ্রেপ্তার
ভারতের ওড়িশা উপকূল থেকে প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে পানামার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ এমভি ওশান-উইনার ডুবে গেছে। জাহাজটিতে থাকা ২৪ ক্রু সদস্যই নিখোঁজ রয়েছেন; তাঁদের মধ্যে ২০ জন চীনা, তিনজন মিয়ানমারের এবং একজন বাংলাদেশের নাগরিক। জাহাজটি ১ হাজার ৭০০ টন লৌহ আকরিক নিয়ে ২০ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টায় পারাদ্বীপ বন্দর থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল।
২২ আগস্ট সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটে শ্রী বিজয়া পুরমের মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টার জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার তথ্য পায়। জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ভিক্টরি স্টার গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড বিষয়টি জানিয়ে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে সহায়তা চায়।
জাহাজটির সন্ধান এবং ক্রু সদস্যদের উদ্ধারে ভারতীয় কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী যৌথ অভিযান শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত কতজন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। এক জ্যেষ্ঠ আইপিএস কর্মকর্তা পিটিআইকে জানান, কতজনকে উদ্ধার করা হয়েছে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা অন্য জাহাজগুলোকে সতর্ক করে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
ওড়িশা উপকূলে জাহাজডুবিতে বাংলাদেশিসহ ২৪ ক্রু সদস্য নিখোঁজ
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, রাজ্যে থাকতে হলে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে এবং জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের প্রশ্নে তার সরকার কোনো আপস করবে না। ২৩ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার নিজের ভবানীপুর নির্বাচনি এলাকার এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি, রাজ্য শিক্ষা দপ্তরকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতেও বাধা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া এবং প্রজাতন্ত্র দিবস ও স্বাধীনতা দিবস পালনের বিরোধিতার জন্য তিনি ‘টুকড়ে-টুকড়ে গ্যাং’ ও ‘জিহাদি’ শক্তিকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, দেশবিরোধীদের সমর্থনে গণমাধ্যমের একটি অংশ যা-ই লিখুক, তার সরকার যাদবপুরের ভেতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করবে। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদ, ভারতীয় সংস্কৃতি ও ‘সনাতন’ সংস্কৃতির প্রতিফলনের কথা বলেন। বাম দলগুলোর সমালোচনা করে তাদের প্রার্থীরা চলতি বছরের শুরুর বিধানসভা নির্বাচনে জামানত হারিয়েছেন বলেও দাবি করেন।
পশ্চিমবঙ্গে থাকতে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে বলে দাবি শুভেন্দু অধিকারীর
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া যোগ্য হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীদের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএর আওতায় ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া আগামী ছয় মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির কাওয়াখালিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন।
শাহ বলেন, বাংলাদেশে নির্যাতনের কারণে ভারতে আসা যোগ্য শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং তাদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এ কাজে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পশ্চিমবঙ্গের আট জেলার জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ২০১৯ সালে ভারতের সংসদে সিএএ পাস হয় এবং ২০২৪ সালে এর বিধিমালা কার্যকর হয়। নির্দিষ্ট শর্তে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টানরা নাগরিকত্বের সুযোগ পাবেন, যদি তারা ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-এর মধ্যে ভারতে প্রবেশ করে থাকেন। শাহ পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন।
যোগ্য বাংলাদেশি শরণার্থীদের ছয় মাসে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্য অমিত শাহের
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তরুণদের, বিশেষ করে জেন-জি ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে ইনস্টাগ্রামে সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারের ধরন বদলাচ্ছেন। দীর্ঘদিনের লিখিত ভাষণ ও নিয়ন্ত্রিত প্রচারের বদলে তার টাইমলাইনে এখন তুলনামূলক স্বতঃস্ফূর্ত কনটেন্ট দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে আছে ‘গেট রেডি উইথ মি’ রিল, সেলফি ভিডিও এবং তরুণদের বন্ধু বলে সম্বোধন। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে ২২ আগস্ট ২০২৬।
ব্যঙ্গাত্মক ককরোচ জনতা পার্টিকে ঘিরে সাম্প্রতিক আন্দোলনের পর বিজেপি এ ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় হয়েছে। মিম, লাইভস্ট্রিম ও ইনস্টাগ্রাম রিলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই আন্দোলন রাজপথে প্রভাব ফেলে এবং এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগের কারণ হয়। ভারতের ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ ৩৫ বছরের নিচে এবং ২০২৯ সালের নির্বাচনে জেন-জি বড় ভোটারগোষ্ঠী হতে পারে। বিজেপির পেজগুলোও মিম, স্ল্যাং ও পপ-কালচারের রেফারেন্স ব্যবহার করছে।
তবে অনেক তরুণ মোদির নতুন ভিডিওকে রাজনৈতিক বার্তার বদলে হাস্যরস বা ‘ক্রিঞ্জ’ কনটেন্ট হিসেবে দেখছেন। তার প্রথম সেলফি ভিডিও নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপও হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইনস্টাগ্রামে প্রতিক্রিয়া, শেয়ার, মন্তব্য ও দেখার সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বার্তা নিয়ন্ত্রণ কঠিন। তারা বলেন, অনলাইন জনপ্রিয়তা ও নির্বাচনী জয় এক নয়; বিজেপির সংগঠন ও ভোটব্যাংকই এখনও প্রধান ভিত্তি।
জেন-জি ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে ইনস্টাগ্রাম কৌশল বদলাচ্ছেন মোদি ও বিজেপি
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার শিলিগুড়ি করিডর, বা চিকেনস নেক, সুরক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সেতু এই করিডরের নিরাপত্তা জোরদারে একটি বিশেষ ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড গঠন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
শিলিগুড়ির রানিডাঙ্গায় সশস্ত্র সীমা বলের উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শাহ প্রায় ১৮০ কোটি রুপির কয়েকটি নতুন প্রশাসনিক ও আবাসিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তিনি বলেন, চোপড়া, কিষাণগঞ্জ ও ধুবড়ি—এই তিন ঘাঁটি থেকে পুরো করিডরে নজরদারি, সামরিক উপস্থিতি এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্ব বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে।
শাহের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘তিস্তা প্রহার’-এর মতো নিয়মিত সামরিক মহড়ার মাধ্যমে অঞ্চলটির নিরাপত্তা বজায় রাখা হচ্ছে। তিনি ভাইব্রেন্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম ২.০-এর অধীনে ৬,৮৩৯ কোটি রুপির প্রকল্পের কথাও বলেন, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভুটান সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোকে সড়কপথে এবং মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিলিগুড়ি করিডর সুরক্ষায় বিশেষ ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিডের ঘোষণা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেওয়া একটি বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করেছে ভারতের রাষ্ট্রপতি কার্যালয়। শুক্রবার, ২১ আগস্ট প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, সম্মানিত রাষ্ট্রীয় অতিথির আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার মহড়ার কারণে শনিবার, ২২ আগস্ট রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে নিয়মিত চেঞ্জ অব গার্ড অনুষ্ঠান হবে না।
ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে বিবৃতিটি প্রকাশ করে, তবে বিকেল শেষ হওয়ার আগেই তা প্রত্যাহার করা হয়। বেলা তিনটার দিকে রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের নতুন বার্তায় বলা হয়, ২০২৬ সালের ২১ আগস্ট চলতি শনিবার চেঞ্জ অব গার্ড অনুষ্ঠান হবে না শিরোনামে দেওয়া প্রেস রিলিজটি প্রত্যাহার করা হলো। এটি সফরের সময়সূচি পরিবর্তনের ইঙ্গিত নাকি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রক্রিয়াগত সমস্যা, তা নিশ্চিত নয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এটি তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর হওয়ার কথা ছিল। তবে সফর নিয়ে ঢাকা বা নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ভারতে রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের সফরে রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা হয়; এতে গার্ড অব অনার, দুই দেশের জাতীয় সংগীত এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি থাকে। সাধারণত আগের দিন পূর্ণাঙ্গ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরের ইঙ্গিতবাহী বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করল ভারত
রাজস্থানের জয়পুরের বাগরু বিধানসভা এলাকার রামপুরা কানওয়ারপুরা গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যাওয়ার পথে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবারের এ ঘটনায় সিজেপি স্থানীয় ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতাকর্মীদের দায়ী করেছে। তবে বিজেপি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, স্থানীয় বাসিন্দারাই দলটির গ্রামে প্রবেশে আপত্তি জানিয়েছিলেন।
সিজেপির সহপ্রতিষ্ঠাতা আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে দলটি গ্রামের প্রবেশমুখে বাধার মুখে পড়ে। তর্কের পর হামলা হয় বলে অভিযোগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে উত্তেজিত জনতাকে সিজেপি কর্মীদের ধাওয়া ও কয়েকজনকে মারধর করতে দেখা গেছে। সিজেপির দাবি, হামলাকারীরা তাদের ‘আরবান নকশাল’, ‘দেশবিরোধী’ ও ‘পাকিস্তানি’ বলে স্লোগান দেয়। পরিস্থিতির কারণে দলটি গ্রাম ছেড়ে যায় এবং বিদ্যালয় পরিদর্শন করতে পারেনি।
রাঙ্কার দাবি, বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে গোয়ালঘরে চলছে এবং স্থানীয়দের আমন্ত্রণে তারা গিয়েছিলেন। তিনি গাড়ি ও ফোন ভাঙচুর, নারী সদস্যকে মারধর এবং একজনের হাত ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ করেন। বিজেপি বিধায়ক স্বামী বালমুকুন্দাচার্য বলেন, গ্রামবাসীরা সিজেপির কার্যক্রমে আপত্তি জানিয়েছেন। কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসারা ঘটনার জন্য বিজেপিকে দায়ী করেছেন।
জয়পুরে সিজেপির ওপর হামলার অভিযোগ; বিজেপির দাবি, গ্রামবাসীরাই প্রবেশে আপত্তি জানান
বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর বলেছেন, ভারতের সব ধর্মের মানুষের কথা বিবেচনায় ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুই স্তবকই যথেষ্ট। বৃহস্পতিবার সংবাদ সংস্থা আইএএনএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এক স্রষ্টায় বিশ্বাসীদের জন্য গানটির কিছু অংশ পাঠ করা কঠিন ও অস্বস্তিকর হতে পারে এবং সব স্তবক সবার ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।
শর্মিলা ঠাকুর বলেন, ভারতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বাস করেন এবং তাঁদের মধ্যে অনেকে এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গানটির পরবর্তী কিছু স্তবকে একাধিক হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ আছে। এক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টায় বিশ্বাসীদের জন্য ‘বন্দে কালী’ বা ‘বন্দে দুর্গা’র মতো বাক্য বলা অসুবিধাজনক হতে পারে। তাই সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলতে প্রথম দুই স্তবকই ভালো ও গ্রহণযোগ্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্য নতুন মাত্রা পেয়েছে। কংগ্রেস দলীয় অনুষ্ঠানে গানটির প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতারা এ বিষয়ে কংগ্রেসের সমালোচনা করছেন। ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পর জাতীয় গানটির পরিবেশন ও এর ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
শর্মিলা ঠাকুরের মতে, প্রথম দুই স্তবকই সব ধর্মের জন্য বেশি গ্রহণযোগ্য
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৩০১ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।