নয়াদিল্লিভিত্তিক ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপোলো হাসপাতালের এক চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। অভিযোগ, তিনি অস্ত্রোপচারের নামে অন্তত ১৫ থেকে ১৬ জন ব্যক্তির কিডনি অপসারণ করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ৯ জুলাইয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৫০ বছর বয়সী ওই নারী চিকিৎসকের নাম ডা. বিজয়া কুমার। তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সক্রিয় কিডনি পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ডা. বিজয়া কুমার নয়ডার ‘যথার্থ’ হাসপাতালে ভিজিটিং কনসালটেন্ট ও সার্জন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তিনি অস্ত্রোপচারের নামে এসব কিডনি অপসারণ করেন। ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই বাংলাদেশের নাগরিক, যাদের দালালরা অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে নিয়ে গিয়েছিল। দিল্লি পুলিশ জানায়, এই চক্রটি নয়াদিল্লির আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে সক্রিয় ছিল।
গত মাসে একই ধরনের কিডনি পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত তিন বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয়। ভারতে অর্থের বিনিময়ে অঙ্গ বিক্রি আইনত নিষিদ্ধ, তবে স্বেচ্ছায় দান বৈধ।
বাংলাদেশিদের কিডনি অপসারণের অভিযোগে দিল্লিতে চিকিৎসক গ্রেফতার
২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি প্রকাশিত ‘আমার দেশ’-এর এক মন্তব্যে ভারতের আইপিএল থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অন্যায্য, রাজনৈতিক ও উগ্রবাদী চাপে নেওয়া বলে সমালোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটীয় নয় বরং ধর্মীয় ও জাতীয় পরিচয়ের কারণে নেওয়া হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশসহ ভারতের কিছু রাজনীতিবিদ ও খেলোয়াড়ও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে, আইপিএলের নিলামে মোস্তাফিজ ছিলেন অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন খেলোয়াড় এবং কলকাতা নাইট রাইডার্স তাকে দলে নেয়। কিন্তু কোনো বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা ছাড়াই টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তাকে বাদ দেওয়া হয়। লেখক দাবি করেছেন, ভারতের ক্রিকেট বোর্ড উগ্র জাতীয়তাবাদীদের দাবির কাছে নতজানু হয়েছে এবং শাহরুখ খানের মুসলিম পরিচয়কেও আক্রমণের লক্ষ্য করা হয়েছে, যদিও অন্য মালিকদের নাম উচ্চারণ করা হয়নি।
প্রবন্ধটি উপসংহারে বলেছে, এই ঘটনায় ভারতের ক্রিকেট প্রশাসনের দ্বিচারিতা প্রকাশ পেয়েছে এবং এটি বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।
মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ায় ভারতের ভণ্ডামির অভিযোগ
দিল্লির তুর্কমান গেটের শতবর্ষী ফাইজ-ই-ইলাহি মসজিদের পাশে হজযাত্রীদের থাকার কক্ষ, একটি বাড়ি, একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সড়কের অংশ, ফুটপাত ও পার্কিং এলাকা ভেঙে ফেলে কর্তৃপক্ষ। বুধবার ভোরে চালানো এই উচ্ছেদ অভিযানে মঙ্গলবার রাত থেকে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ ও অন্তত পাঁচজনকে আটক করা হয়। এর আগে দিল্লি হাইকোর্ট মসজিদ পরিচালনা কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনকে নোটিস দিয়েছিল।
মসজিদ কমিটি জানায়, জায়গাটি তাদের ব্যবহারে ছিল এবং নিয়মিতভাবে দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ডকে ভাড়া দেওয়া হতো। এই উচ্ছেদ ঘটনাকে ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর চলমান নিপীড়নের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৫ সালে দক্ষিণ দিল্লির জঙ্গপুরা ও গোবিন্দপুরীতে পুরোনো মুসলিম শ্রমিক বসতি ভেঙে শত শত মানুষকে গৃহহীন করা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশজুড়ে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা, দলিত বস্তি ও আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে এমন উচ্ছেদ অভিযান বেড়েছে, যা রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত বৈষম্যের ইঙ্গিত বহন করছে।
দিল্লিতে মসজিদের পাশে উচ্ছেদে সংঘর্ষ, ভারতে মুসলিম উচ্ছেদের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট
ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেট দ্বন্দ্ব নিয়ে মন্তব্য করে বিপাকে পড়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডার। জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘গেম উইথ গ্রেস’-এ তিনি বলেন, ভারত এশিয়া কাপ জয়ের পর ট্রফি গ্রহণ না করে অতিরিক্ত আচরণ করেছে। হোল্ডার জানান, ভারত-পাকিস্তান প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রিকেটের সীমা ছাড়িয়ে গেছে, যা দুঃখজনক। তিনি দুই দেশের খেলোয়াড়দের ঐক্য ও পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান, যা বিশ্বশান্তির বার্তা বহন করতে পারে।
তার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় সমর্থকদের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই হোল্ডারকে বয়কটের আহ্বান জানাচ্ছেন এবং আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তুলছেন। সম্প্রতি ভারতীয় সমর্থকদের দাবিতে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করেছে যে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্ক রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন হয়ে উঠেছে, যেখানে খেলোয়াড়দের মন্তব্যও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
ভারতকে নিয়ে মন্তব্যে জেসন হোল্ডার সমালোচনার মুখে পড়েছেন
ভারতের বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে বলে জানা গেছে। ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি ওড়িশার সম্বলপুরে মুর্শিদাবাদের শ্রমিক এজাজ আলীকে ‘বাংলাদেশি’ বলে অভিযুক্ত করে মারধর করা হয়, এতে তার হাত ভেঙে যায়। চিকিৎসা না পেয়ে তিনি নিজ জেলায় ফিরে আসেন। একই ধরনের হামলার শিকার হয়েছেন ছত্তিশগড়ের নারায়ণপুরে মুর্শিদাবাদের আরও তিন শ্রমিক, যাদের ওপর লাঠি ও রড দিয়ে হামলা চালানো হয় এবং আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হামলায় মুসলিম শ্রমিকদের আধার ও ভোটার কার্ড দেখে ‘বাংলাদেশি’ বলে নির্যাতন করা হচ্ছে। হামলাকারীরা তাদের নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। ভয় ও অনিশ্চয়তার কারণে অনেক শ্রমিক কাজ ছেড়ে নিজ রাজ্যে ফিরে যাচ্ছেন।
এই ধারাবাহিক সহিংসতায় বহু পরিযায়ী শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে মুসলিম শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
বিজেপি শাসিত রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম শ্রমিকদের ওপর হামলা বৃদ্ধি
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল থেকে বাদ দিয়েছে, যদিও বিষয়টি নিয়ে বোর্ড সভায় কোনো আলোচনা হয়নি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তথ্যমতে, বিসিসিআইয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেন এবং গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যরাও গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের আগে বিষয়টি জানতেন না। বিসিসিআই সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
পরে সাইকিয়া জানান, কেকেআরকে মোস্তাফিজকে ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নেওয়া এই পেসারকে বাদ দেওয়ার পর বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘোষণা দেয়, তারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারত সফরে যাবে না। একই সঙ্গে তথ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিষয়টি দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যদিও বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বোর্ডে আলোচনা ছাড়াই মোস্তাফিজ বাদ, বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাদ পড়ার পর মোস্তাফিজুর রহমান আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কেনা হলেও হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর আন্দোলনের মুখে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কেকেআর তাকে দল থেকে বাদ দেয়। সূত্রগুলো জানায়, আইপিএলের বীমা কাঠামো এমন পরিস্থিতি কভার করে না, ফলে মোস্তাফিজের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ প্রায় নেই।
এক আইপিএল-সংশ্লিষ্ট সূত্র পিটিআইকে জানায়, খেলোয়াড়দের বেতন কেবল ইনজুরি বা মাঠের পারফরম্যান্সজনিত কারণে বাতিল হলে বীমার আওতায় আসে। যেহেতু মোস্তাফিজের চুক্তি এসব কারণে বাতিল হয়নি, তাই কেকেআরের অর্থ পরিশোধের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। সূত্রটি আরও জানায়, একমাত্র উপায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া, তবে বিদেশি খেলোয়াড়রা সাধারণত ভারতীয় আইনে বা কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে যেতে চান না।
ভারত-বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও আইনি পদক্ষেপের পথে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ অনিশ্চিত সম্পর্কের কারণে কেউই এমন ঝুঁকি নিতে আগ্রহী নন।
কেকেআর থেকে বাদ পড়ার পর মোস্তাফিজ ক্ষতিপূরণ পাবেন না, জানাল আইপিএল সূত্র
বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন কংগ্রেস নেতা শশী থারুর। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই বিব্রতকর পরিস্থিতি ভারত নিজেরাই তৈরি করেছে। তিনি সিদ্ধান্তটিকে ‘অপ্রয়োজনীয় ও অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেন।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে থারুর বলেন, বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করা যায় না, কারণ বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসী পাঠায় না এবং দুই দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের প্রকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভারতীয় বোর্ডের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পর তার এই মন্তব্য আসে।
২০২৬ সালের আইপিএল নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক। পরে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ভারতের কিছু রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন তার অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ায় ভারতকে দোষারোপ করলেন শশী থারুর
উত্তর ভারতের আসাম রাজ্যে সোমবার ভোরে ৫.৪ মাত্রার একটি মাঝারি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস)। ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি সংঘটিত এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ভুটান সীমান্তের কাছে ধিং গ্রামের প্রায় তিন কিলোমিটার বাইরে। স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে (রোববার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১০টা ৪৭ মিনিটে) কম্পনটি অনুভূত হয়।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, এলাকায় শক্ত কম্পন অনুভূত হলেও তুলনামূলকভাবে কম জনসংখ্যা থাকার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সীমিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
হিমালয় অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হিসেবে পরিচিত এবং প্রায় প্রতি বছরই এখানে বড় ধরনের ভূমিকম্প ঘটে। ১৯৫০ সালে আসাম ও তিব্বতে সংঘটিত ভূমিকম্পে প্রায় ৪,৮০০ জন নিহত হয়েছিল, আর ১৮৯৭ সালের ‘গ্রেট আসাম ভূমিকম্প’ ভারতের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী হিসেবে বিবেচিত।
আসামে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, ভুটান সীমান্তের কাছে কেঁপে উঠল এলাকা
দীর্ঘ ৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার ধনেখালী বিধানসভার অন্তর্গত পুইনান গ্রামে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমা। ২ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মীয় সমাবেশ ৫ জানুয়ারি দুপুরে শেষ হবে। প্রায় ৬০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অনুষ্ঠিত ইজতেমায় ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও বিদেশ থেকে লাখ লাখ মুসল্লি অংশ নিচ্ছেন। শুক্রবারের জুমার নামাজে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।
ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের জন্য প্রশাসন ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইজতেমা ময়দানের পাশে ১৭০ শয্যাবিশিষ্ট অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সেবা দিচ্ছেন। ধনেখালীর বিধায়ক অসীমা পাত্র জানান, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এই ধর্মীয় সমাবেশের সঙ্গে কোনো রাজনীতির সম্পর্ক নেই।
নেপালের বিরাটনগর থেকে আগত কামাল উদ্দিন জানান, তিনি এর আগে একাধিক ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন এবং ধর্মীয় বাণী শুনতে বারবার আসেন।
৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব ইজতেমায় লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণ ও প্রশাসনের প্রস্তুতি
বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আসন্ন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাদ দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তারা বিসিসিআইয়ের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের সরকার উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর চাপে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয়, যারা তার দলে অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করছিল।
এই ঘটনায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং একে রাজনৈতিক প্রভাবিত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নির্দেশটি এসেছে সরকারের পক্ষ থেকে। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, কারণ তারা বিসিসিআই থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পায়নি। অন্যদিকে ভারতের কট্টর হিন্দু নেতারা এই সিদ্ধান্তকে ‘হিন্দুদের বিজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ঘটনাটি ক্রিকেটে রাজনীতির প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে এবং আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারি নির্দেশে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক
ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ক্রিকেটার ফুরকানুল হককে পুলিশি নজরদারিতে আনা হয়েছে, কারণ তার হেলমেটে ফিলিস্তিনের পতাকা লাগানো অবস্থায় খেলার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। শুক্রবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয় এবং ১৪ দিনের প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনুসন্ধানে ঘটনার সত্যতা, হকের উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য কোনো সম্পর্ক যাচাই করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টির সংবেদনশীলতা ও জনশান্তির ওপর প্রভাব বিবেচনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় আইনে তিন থেকে সাত বছরের জেলদণ্ডযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্টের অনুমতি নিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালানো যায়।
ঘটনাটি ঘটে জম্মুর মুথিতে অনুষ্ঠিত জম্মু ও কাশ্মীর চ্যাম্পিয়ন্স লীগের এক ম্যাচে, যেখানে হক জে কে ইলেভেন কিংসের হয়ে ব্যাট করছিলেন জম্মু ট্রেইল ব্লেজার্সের বিপক্ষে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিপক্ষ দলের কিছু খেলোয়াড় হেলমেটের স্টিকার নিয়ে আপত্তি জানালে হককে মাঠ ছাড়তে হয়। জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, এটি স্থানীয় খেলোয়াড়দের বিষয় এবং সংস্থার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
ঘটনার পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি নেতা মেহবুবা মুফতি সামাজিক মাধ্যমে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন।
কাশ্মীরি ক্রিকেটার হেলমেটে ফিলিস্তিনের পতাকা লাগানোয় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, গত তিন মাসে প্রায় দুই হাজার ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ করা হয়েছে। ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের রায়ে কাউকে অবৈধ বিদেশি ঘোষণা করা হলে সাত দিনের মধ্যে সীমান্ত পার করে দেওয়ার নতুন নীতির আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ১৯৫০ সালের একটি আইন ব্যবহার করে এই বহিষ্কার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আদালতে আপিলের মাধ্যমে প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়া ঠেকাতেই দ্রুত পুশ ইন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু ৩১ ডিসেম্বর একদিনেই ১৮ জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
বর্তমানে আসামে বিদেশি শনাক্তে ১০০টি ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল কার্যকর রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ট্রাইব্যুনাল অনেক ক্ষেত্রে একতরফাভাবে সন্দেহভাজনদের অবৈধ বিদেশি ঘোষণা করছে। যারা হাইকোর্টে আপিল করতে পারছেন, তাদের অনেকেই রেহাই পাচ্ছেন, তবে অধিকাংশের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না এবং তারা ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকছেন। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যক্তিকে বাংলাদেশ ফেরত পাঠালেও অনেকে বাংলাদেশের কারাগারে আটক হচ্ছেন।
আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, পাকিস্তান আমলে প্রণীত ১৯৫০ সালের এই আইন বর্তমান বাস্তবতায় অসাংবিধানিক এবং এর মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়াকে পাশ কাটানো হচ্ছে।
আসাম থেকে ১৯৫০ সালের আইনে দুই হাজার ভারতীয়কে বাংলাদেশে পুশ ইন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ভারতের শীর্ষ ধনকুবের মুকেশ আম্বানি ও গৌতম আদানি কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে সম্পর্ক জোরদারের আশা করলেও বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশে উন্নীত করেছে। রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানিতে ট্রাম্পের অসন্তোষের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা সরাসরি ভারতীয় ব্যবসায় প্রভাব ফেলেছে এবং নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্ককে বহু বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে।
রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের তেল শোধন ব্যবসা নতুন শুল্কে বড় আঘাত পেয়েছে। অন্যদিকে আদানি যুক্তরাষ্ট্রে ঘুষ কেলেঙ্কারির মামলায় জড়িয়ে পড়েছেন, যা ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন নিউ ইয়র্কে দায়ের করেছে। লবিং ও বিনিয়োগের মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টা সত্ত্বেও তারা ট্রাম্প প্রশাসনের মনোযোগ আকর্ষণে ব্যর্থ হচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প-মোদি ঘনিষ্ঠতার প্রাথমিক আশাবাদ এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে।
মুম্বাইয়ের ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, নতুন বাণিজ্য চুক্তি হলে উত্তেজনা কমতে পারে এবং শুল্ক হ্রাস পেতে পারে, যদিও তারা স্বীকার করছেন যে ট্রাম্পের পূর্ণ সমর্থনের ধারণা ছিল অবাস্তব।
ট্রাম্পের নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিপাকে আম্বানি ও আদানি
উত্তর প্রদেশের সম্ভল জেলার ঐতিহাসিক শাহী জামে মসজিদের কাছে কবরস্থানের জমিতে অবৈধ স্থাপনার অভিযোগে জেলা প্রশাসন ২২টি বাড়ি ও দোকান ভাঙার নোটিশ জারি করেছে। প্রশাসন জমিটিকে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে দাবি করে ৪৮ জন বাসিন্দাকে ১৫ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলেছে, অন্যথায় বুলডোজার দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক জরিপে কবরস্থানের জমিতে অবৈধ নির্মাণ শনাক্ত হয়েছে।
এই পদক্ষেপে স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে ভয় ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা বলছেন, তাদের পরিবার বহু বছর ধরে সেখানে বসবাস করছে এবং প্রশাসন তাড়াহুড়ো করে কাজ করছে। বাসিন্দারা জানান, বুলডোজারের হুমকিতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা ভীত। স্থানীয় নেতারা স্বচ্ছতা ও সংযমের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা আইনকে সম্মান করেন কিন্তু ন্যায়বিচারের সুযোগ চান।
এর আগে, ইলাহাবাদ হাইকোর্ট জমির জরিপ স্থগিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আবেদনকারীদের রাজস্ব দপ্তরে আপত্তি জানানোর সুযোগ দিয়েছিল। পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ, বাসিন্দারা আইনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সম্ভলে মসজিদের কাছে উচ্ছেদ নোটিশে মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা
বাংলাদেশের তারকা ফাস্ট বোলার মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) দল থেকে বাদ দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের অস্থিরতা এবং ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ভারতের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার মদন লাল খেলাধুলায় রাজনীতির প্রভাব বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্ত কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারে না, এমনকি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকরাও নয়। সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ কাইফ বিষয়টিকে সংবেদনশীল বলে উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর বলেন, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনের সঙ্গে ক্রিকেটকে জড়ানো ঠিক নয় এবং মোস্তাফিজকে এভাবে বাদ দেওয়া ভারতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
এই বিতর্কে খেলাধুলা ও রাজনীতির সীমারেখা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে সহনশীলতা ও ক্রীড়ার স্বাধীনতার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তে মোস্তাফিজ বাদ, ভারতের ক্রিকেট ও রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভ
কলকাতা নাইট রাইডার্স আইপিএল দল থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তে ভারত সরকার ও বিসিসিআইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিজেপি নেতা সংগীত সোম। মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে উল্লাস দেখা গেছে, যেখানে বাংলাদেশি খেলোয়াড় ও শিল্পীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে।
এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সংগীত সোম শাহরুখ খানের সমালোচনা করে বলেন, মোস্তাফিজকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল এবং এটি কোটি হিন্দুর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তিনি বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগ তোলেন এবং শাহরুখ খানকে ‘গাদ্দার’ বলে অভিহিত করেন। সংগীত সোম উত্তর প্রদেশের সারধানা আসনের সাবেক বিধায়ক, যিনি ২০১৩ সালের মুজফফরনগর দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত।
কয়েক দিন ধরেই মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার গুঞ্জন চলছিল। ভারতের কয়েকজন উগ্র নেতা-কর্মী হুমকি দিয়েছিলেন যে, মোস্তাফিজ খেললে পিচ নষ্ট করা হবে। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো।
হিন্দুত্ববাদীদের উল্লাসের মধ্যে আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দিল কেকেআর
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ভারতের কারাবন্দি মানবাধিকারকর্মী ও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র উমর খালিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি চিঠি লিখেছেন। মামদানির হাতে লেখা সেই চিঠি উমর খালিদের বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং বৃহস্পতিবার তা প্রকাশ্যে আসে। চিঠিতে মামদানি উমরের কঠিন অভিজ্ঞতা ও তার দৃঢ়তার প্রশংসা করেন এবং তার বাবা-মায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করেন।
২০২০ সালের দিল্লির সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় কথিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগে প্রায় ছয় বছর ধরে তিহার জেলে বন্দি আছেন উমর খালিদ। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দিল্লি হাইকোর্ট একটি মামলায় তাকে মুক্তি দিলেও অন্য মামলায় তিনি এখনো আটক রয়েছেন এবং একাধিকবার তার জামিন আবেদন খারিজ হয়েছে।
এদিকে, মার্কিন কংগ্রেসের আটজন সদস্য ভারতের মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিনয় কোয়াত্রাকে চিঠি পাঠিয়ে উমর খালিদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তারা উমরের বাবা-মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
ভারতে বন্দি উমর খালিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে চিঠি দিলেন নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি
ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে ছেড়ে দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এক বিবৃতিতে জানায়, আইপিএলের পরবর্তী পর্বের আগে বিসিসিআইয়ের নির্দেশ ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী কেকেআর চাইলে একজন বদলি খেলোয়াড় নিতে পারবে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) গুয়াহাটিতে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানান, মোস্তাফিজের আইপিএলে খেলা নিয়ে বিতর্ক ও রাজনৈতিক চাপের কারণে কেকেআরকে তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, শুরুতে ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ নীতি নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন উত্তর প্রদেশের এক বিজেপি নেতা কেকেআরের কর্ণধার ও বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খানকে মোস্তাফিজকে দলে নেওয়ার কারণে ‘দেশদ্রোহী’ বলেন। ভারতের কিছু কথিত আধ্যাত্মিক গুরুও এ বিষয়ে শাহরুখকে সমালোচনা করেন।
বিসিসিআইয়ের নির্দেশে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে মোস্তাফিজকে ছেড়ে দিল কেকেআর
ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিসিআই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে তাদের আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে। ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি গুয়াহাটিতে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মোস্তাফিজের আইপিএলে খেলা নিয়ে রাজনৈতিক চাপ ও বিতর্কের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দেবজিৎ সাইকিয়া বলেন, বিসিসিআই শুরুতে ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ নীতি অনুসরণ করলেও শেষ পর্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। কেকেআর চাইলে তারা বিকল্প খেলোয়াড় নিতে পারবে এবং বিসিসিআই সেই অনুমতি দেবে। এর আগে মোস্তাফিজকে দলে নেওয়ায় কেকেআরের কর্ণধার শাহরুখ খানকে ভারতের উত্তরপ্রদেশের এক বিজেপি নেতা ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দেন এবং কয়েকজন আধ্যাত্মিক গুরুও তাকে সমালোচনা করেন।
এই সিদ্ধান্ত আইপিএলের ইতিহাসে বিরল, যেখানে রাজনৈতিক উত্তাপ সরাসরি দল নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে।
ভারত-বাংলাদেশ রাজনৈতিক উত্তাপে মোস্তাফিজকে বাদ দিতে কেকেআরকে নির্দেশ বিসিসিআইয়ের
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১০০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।