ভারতের ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) ইনস্টাগ্রামে অনুসারীর সংখ্যায় ছাড়িয়ে যাওয়ার পর আলোচনায় আসে। জনপ্রিয়তা বাড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মোদি সরকার সিজেপির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয় এবং তাদের ‘CPJ_2029’ নামের এক্স অ্যাকাউন্ট ভারতে নিষিদ্ধ করে। প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক ব্লক হওয়া অ্যাকাউন্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করে জানান, তারা শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছিলেন একজন ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনার পর। তিনি তার এক কোটিরও বেশি অনুসারীকে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আহ্বান জানান।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সর্বভারতীয় প্রি-মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর থেকেই সিজেপি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আসছে। জুনে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও এই ঘটনায় দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই ঘটনার জেরে অন্তত দুজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।
ভারতের আইনি কাঠামো অনুযায়ী, সরকার জাতীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট অপসারণ বা অ্যাকাউন্ট ব্লক করার নির্দেশ দিতে পারে, যদিও এসব নির্দেশ সাধারণত প্রকাশ করা হয় না।
ইনস্টাগ্রামে বিজেপিকে ছাড়িয়ে সিজেপি, পরে মোদি সরকার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে
গত এক বছরে ভারতীয় রুপি বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে প্রায় ১০ শতাংশ অবমূল্যায়িত হয়েছে বলে ২১ মে ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে পাকিস্তানি রুপির বিপরীতে রুপির দরপতন হয়েছে ১১.৮৬ শতাংশ এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে বিনিময় হার নেমে এসেছে ৯৬.৯৬-এ। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্য এবং বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ কমে যাওয়াই এই পতনের মূল কারণ।
ভারতের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে রুপির ওপর চাপ বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা স্থবিরতা ও আন্তর্জাতিক বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীরা উদীয়মান বাজার থেকে অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন, যা বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ কমিয়ে দিচ্ছে। এতে রুপির মান আরও দুর্বল হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, রুপির অবমূল্যায়নে বিদেশে পড়াশোনা, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও আমদানি পণ্যের খরচ বাড়তে পারে। আমদানি ব্যয় রপ্তানি আয় ও মূলধন প্রবাহের তুলনায় দ্রুত বাড়লে ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতি আরও গভীর হতে পারে।
তেলের দাম ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় টাকার বিপরীতে রুপি ১০ শতাংশ কমেছে
পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের সব মাদরাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে। রাজ্য মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদরাসা শিক্ষা দপ্তরের অধীনস্থ সব স্বীকৃত, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ও অনুদানবিহীন মাদরাসায় সকালের সমাবেশে এই গান গাওয়া বাধ্যতামূলক। এর আগে গত সপ্তাহে একই নির্দেশনা দিয়ে রাজ্যের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরুর আগে গানটি গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অনলাইনে জানান, রাজ্য সরকার স্কুল শিক্ষা দপ্তরের অধীন সব স্কুলে ভারতের জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে। এই সিদ্ধান্ত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ফেব্রুয়ারি মাসের ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে ‘বন্দে মাতরম’কে জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’-এর সমমর্যাদা দেওয়া হয়েছিল।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাধীনতা আন্দোলনে ‘বন্দে মাতরম’ ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ স্লোগান, যা সাম্প্রতিক রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। তামিলনাড়ু ও কেরালার অনুষ্ঠানগুলোতেও গানটি নিয়ে বিতর্ক দেখা গেছে।
পশ্চিমবঙ্গে সব মাদরাসায় সকালের সমাবেশে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক
ভারত তার জ্বালানি সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করতে আগ্রহ দেখানোর পর যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে জ্বালানি রপ্তানি বাড়াচ্ছে। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর ব্লুমবার্গ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভারত বৈচিত্র্যকরণে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে, যার অর্থ আরও বেশি মার্কিন জ্বালানি কেনা। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের এই আগ্রহে সন্তুষ্ট।
রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য আসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আসন্ন ভারত সফরের ঠিক আগে। ধারণা করা হচ্ছে, সফরে জ্বালানি সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য সম্পর্কের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
এই প্রেক্ষাপটে রুবিওর সফরে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করতে পারে।
রুবিওর সফরের আগে ভারতে জ্বালানি রপ্তানি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে ভারতের ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার নবান্নে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এই ঘোষণা দেন। ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর যারা ভারতে প্রবেশ করবে, তাদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করা হবে। এদের প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ আটক করে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে এবং পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে পাঠানো হবে।
অধিকারী জানান, এই ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী সরকার বাস্তবায়ন করেনি। তিনি বলেন, সিএএ নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর নাগরিকত্বের সুযোগ দেয়, তবে নির্ধারিত সময়সীমার পর প্রবেশকারীরা এই সুবিধা পাবেন না।
তিনি আরও জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে এবং সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারে ২৭ কিলোমিটার এলাকায় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সিএএ কার্যকর করবে পশ্চিমবঙ্গ, ২০২৪ সালের পর প্রবেশকারীরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী গণ্য হবে
পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিতে প্রাথমিকভাবে ২৭ কিলোমিটার এলাকার জমি বিএসএফকে দেওয়া হবে। তিনি জানান, সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে দ্রুত এই কাজ সম্পন্ন করা হবে এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে জমি হস্তান্তর শুরু হবে।
অধিকারী বলেন, রাজ্যের মোট ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার রয়েছে, তবে ৬০০ কিলোমিটার এলাকায় কাজ অসম্পূর্ণ। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক কারণে আগের সরকার ৫৫৫ কিলোমিটার জমি দিতে চায়নি। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সিএএ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা আইনের আওতায় পড়েন না, তাদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করা হবে এবং রাজ্য পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে। তার এই মন্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণে বিএসএফকে ২৭ কিমি জমি দিচ্ছেন শুভেন্দু
কলকাতার ঐতিহাসিক নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ শফিক কাসেমি পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের গরু কোরবানি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বার্তাসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, মুসলমানদের কোরবানির জন্য বিকল্প হিসেবে ছাগল রয়েছে এবং সবাই যেন ছাগল দিয়েই কোরবানি করেন। পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যতে গরুর মাংস না খাওয়ার পরামর্শ দেন।
মাওলানা কাসেমি বলেন, গরুর মাংস খাওয়া বন্ধ করলে মুসলমানদের নয়, বরং হিন্দু পরিবারের ক্ষতি হবে, কারণ অনেক হিন্দু পরিবার দুধ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং কোরবানির ঈদে গরু বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মুসলমানরা গরু না কিনলে তাদের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।
গত সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার অনুমতি ছাড়া গরু ও মহিষ জবাই নিষিদ্ধ করে একটি নির্দেশনা জারি করেছে। এর ফলে রাজ্যে গরুর মাংস নিয়ে ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
নাখোদা মসজিদের ইমাম গরু কোরবানি ও মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানালেন
ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ নামে নতুন এক অনলাইন রাজনৈতিক আন্দোলন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মূলত জেন জি প্রজন্মের তরুণদের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনের প্রতীক একটি তেলাপোকা। ১৫ মে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ মঙ্গলবার রাতেই ইনস্টাগ্রামে ১০ লাখ অনুসারী পায় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা ৩০ লাখ অতিক্রম করে। দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়ায় এটি এখন ভারতের অনলাইন অঙ্গনে অন্যতম আলোচিত বিষয়।
আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ভারতের প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে, যেখানে তিনি কিছু বেকার তরুণকে “পরজীবী” ও “তেলাপোকা”-র সঙ্গে তুলনা করেন। এর পরদিন প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন, “সব তেলাপোকা একজোট হলে কেমন হয়?” এরপর থেকেই তরুণরা নিজেদের ‘তেলাপোকা’ পরিচয়ে মিম, পোস্ট ও ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট শেয়ার করতে শুরু করেন। কয়েকজন বিরোধী রাজনীতিক ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তাও এতে আগ্রহ দেখিয়েছেন।
অভিজিৎ দীপক জানিয়েছেন, এই আন্দোলনের কোনো সরকারবিরোধী উদ্দেশ্য নেই। তিনি বলেন, ভারতের তরুণ সমাজ সচেতন, পরিণত ও রাজনৈতিকভাবে অবগত এবং তারা শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশ করবে। ইতোমধ্যে দলটি তেলাপোকাকে নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং প্রথম ভার্চুয়াল সম্মেলনের পরিকল্পনা করছে।
ভারতের জেন জি তরুণদের ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ অনলাইন আন্দোলন ভাইরাল
২০২৬ সালের ২০ মে প্রকাশিত ‘আমার দেশ’ পত্রিকার এক মন্তব্যে জায়নবাদ ও হিন্দুত্ববাদের মধ্যে সাদৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। লেখায় বলা হয়, উভয় আন্দোলনই ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদ থেকে উদ্ভূত এবং নিজেদের টিকিয়ে রাখতে শক্তি ও প্রচারণার ওপর নির্ভরশীল। থিওডোর হার্জলের নেতৃত্বে জায়নবাদের সূচনা ও ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস বর্ণনা করে লেখাটি দাবি করে, ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের ওপর দখল, হত্যা ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে এবং পশ্চিম তীর ও গাজা কার্যত তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এরপর লেখাটি ভারতের বিজেপি ও তার আদর্শিক সংগঠন আরএসএসের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির সঙ্গে ইসরাইলের নীতির তুলনা টানে। এতে বলা হয়, ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতে মুসলিমবিদ্বেষ তীব্র হয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী মুসলমানদের বহিরাগত আখ্যা দিয়ে ইসরাইলের গাজা অভিযানের দৃষ্টান্ত টেনেছেন।
বিজেপির পশ্চিমবঙ্গে জয়ের পর মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, বুলডোজার অভিযান ও মুসলমানদের বাড়ি চিহ্নিত করার আহ্বানের ঘটনাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে। লেখাটি সতর্ক করে বলেছে, এসব প্রবণতা অতীতে গণহত্যার আগে দেখা প্রচারণার সঙ্গে মিলে যায় এবং ভারতের মুসলমানদের জন্য তা গভীর উদ্বেগের বিষয়।
আমার দেশ প্রতিবেদনে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ জয়ের পর হিন্দুত্ববাদ ও জায়নবাদের মিল নিয়ে সতর্কতা
ভারতে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর ঐতিহাসিক মসজিদগুলোকে মন্দিরে রূপান্তরের দাবিতে নতুন করে তৎপরতা বেড়েছে। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙার পর ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্ট রামমন্দির নির্মাণের অনুমতি দিলেও অন্যান্য উপাসনালয়ের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট কামাল মাওলা মসজিদকে সরস্বতী মন্দির ঘোষণা করে মুসলমানদের নামাজ পড়া নিষিদ্ধ করেছে, যা আইন ও আদালতের পূর্ববর্তী রায়ের পরিপন্থী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ১১টি মসজিদকে মন্দির ঘোষণা করার দাবিতে মামলা চলছে। এর মধ্যে বারাণসীর জ্ঞানবাপি মসজিদ ও মথুরার শাহী ঈদগাহ মসজিদ উল্লেখযোগ্য। একই সঙ্গে কয়েকটি হিন্দু সংগঠন তাজমহলের মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করেছে। লেখকের মতে, তাজমহল ভারতের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও পর্যটনের জন্য অপরিহার্য হওয়ায় সেটি ভাঙা সম্ভব নয়, তবে এসব দাবি ভারতের সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে আরও গভীর করছে।
প্রতিবেদনটি উপসংহারে বলেছে, ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি ইতোমধ্যে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে এবং দেশটির ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক প্রবণতা আন্তর্জাতিকভাবে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ভারতে মসজিদ দখল বিতর্কে তাজমহলের ভবিষ্যৎ ও ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
গত ১২ মাসে পাকিস্তানি রুপির বিপরীতে ভারতীয় রুপির নজিরবিহীন দরপতন ঘটেছে, যার পরিমাণ প্রায় ১১.৮৬ শতাংশ। ২০২৫ সালের মে মাসে প্রতি ভারতীয় রুপির বিপরীতে পাকিস্তানি রুপির দর ছিল ৩.২৯১৩, যা ২০২৬ সালের মে মাসে নেমে দাঁড়ায় ২.৯০১০। ২০১৫ সালের ‘অপারেশন সিন্দুর’ শেষে যুদ্ধবিরতির পর থেকেই এই পতনের ধারা শুরু হয় এবং তা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দরপতন ভারতের অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা ও নীতিগত সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এই পতনের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ ও পশ্চিম এশিয়ার সংকটকে দায়ী করলেও, বিশ্লেষকদের মতে সমস্যাটি মূলত অভ্যন্তরীণ। একই সময়ে বাংলাদেশি টাকার বিপরীতেও ভারতীয় রুপি প্রায় ১০ শতাংশ দুর্বল হয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে রুপির এই পতনকে মোদি সরকারের প্রতি আস্থাহ্রাসের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাপানি ব্যাংক এমইউএফজি জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি যেভাবেই পরিবর্তিত হোক না কেন, চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত রুপির দরপতন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা প্রবল।
অর্থনৈতিক দুর্বলতায় পাকিস্তানি রুপির বিপরীতে ভারতীয় রুপির ১১.৮৬% দরপতন
নরওয়ের ওসলোতে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তীব্র অস্বস্তিতে পড়েন, যখন নরওয়ের এক সাংবাদিক ভারতের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করেন। দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে মোদি প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই স্থান ত্যাগ করেন। ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।
ঘটনার পর সাংবাদিক সামাজিকমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নরওয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বে এক নম্বরে, অথচ ভারতের অবস্থান ১৫৭। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর সরকারকে প্রশ্ন করার অধিকার সাংবাদিকদের থাকা উচিত। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মোদি কখনো পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন সংবাদ সম্মেলন করেননি এবং সাধারণত বাছাই করা সাক্ষাৎকার বা নিয়ন্ত্রিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। বিরোধীদের অভিযোগ, মোদি সরকার গণমাধ্যমের জবাবদিহি দুর্বল করেছে।
সেই রাতে নরওয়েতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব সিবি জর্জ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে করা হচ্ছে। তার দাবি, ভারতের সংবিধান সব নাগরিককে সমান অধিকার ও আইনি সুরক্ষা দিয়েছে।
ওসলোতে সাংবাদিকের প্রশ্নে মোদি অনুষ্ঠান ত্যাগ, গণমাধ্যম স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ অঞ্চলের কয়েকটি মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যের মুখ্য সচিবের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাতটি সড়ক ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়া ও ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেডের হাতে তুলে দিয়েছে। এতদিন এই সড়কগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করত রাজ্য সরকারের পূর্ত দপ্তর, যার মধ্যে পাঁচটি সরাসরি শিলিগুড়ি করিডোরের মধ্য দিয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হস্তান্তরের ফলে রাস্তা সম্প্রসারণ ও মেরামতের কাজ দ্রুত শুরু হবে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, উন্নত সড়ক অবকাঠামো ওই অঞ্চলে সেনা চলাচলকে আরও সহজ ও দ্রুত করবে। মাত্র ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডোরটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রেখেছে এবং এটি নেপাল, বাংলাদেশ ও ভূটান সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।
২০১৭ সালের ডোকলাম সংকটের পর থেকেই কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এই অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা চলছিল, যা জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শিলিগুড়ি করিডোরের মহাসড়ক কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে, দ্রুত সম্প্রসারণ ও নিরাপত্তা জোরদার
পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, তার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় বাংলাদেশে জামাতিদের অস্বস্তি তৃণমূল, সিপিএম বা কংগ্রেসের চেয়ে বেশি বেড়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় কলকাতার ভবানীপুর ও ক্যামাক স্ট্রিটে আয়োজিত ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি সীমান্ত সুরক্ষা ও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, সীমান্ত সুরক্ষিত করা, অ-ভারতীয়দের দেশ থেকে বের করে দেওয়া এবং অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। নিজেকে সাধারণ মানুষের ভাই হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভয় বা চাপের কাছে তিনি নত হবেন না এবং বিজেপির দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন। তিনি জানান, ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে এবং এখন তাদের প্রত্যর্পণের সময় এসেছে। এছাড়া ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য জমি দেওয়ার সিদ্ধান্তও পুনর্ব্যক্ত করেন।
কলকাতার পার্ক সার্কাসে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি সতর্ক করে বলেন, ভাঙচুর, তোলাবাজি বা সিন্ডিকেটরাজ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। আসানসোলের পুলিশ ফাঁড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়েরও ঘোষণা দেন তিনি।
সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও অশান্তিতে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেদারল্যান্ডস সফরের আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন ভারতের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ডাচ সংবাদপত্র ‘ডি ফোকসক্র্যান্ট’-এর তথ্যমতে, জেটেন বলেন ইউরোপজুড়ে ভারতের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, বিশেষ করে মুসলিম ও অন্যান্য ছোট সম্প্রদায়ের ওপর চাপ নিয়ে। তিনি জানান, এই উদ্বেগগুলো নিয়মিতভাবে ভারত সরকারের কাছে তোলা হয় এবং ইইউ-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি মানবাধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মন্তব্যকে তথ্যের অভাবজনিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম সচিব সিবি জর্জ বলেন, ভারত একটি প্রাণবন্ত গণতন্ত্র, যেখানে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিদ্যমান। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার সময় সংখ্যালঘু জনসংখ্যা ছিল ১১ শতাংশ, যা এখন ২০ শতাংশেরও বেশি, যা ভারতের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রের প্রমাণ।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো ভারতের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের ২০২৬ সালের সূচকে ভারত ১৮০ দেশের মধ্যে ১৫৭তম স্থানে রয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় আরও নিচে।
মোদির সফরের আগে ভারতের সংবাদমাধ্যম ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে ডাচ প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগ
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতের জনসংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১৪২ কোটি। এমন পরিস্থিতিতেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো বড় পরিবার গঠনের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। তাদের দাবি, জন্মহার কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে জনসংখ্যাগত ভারসাম্যহীনতা ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী চার দশক ভারতীয় জনসংখ্যা বাড়তে থেকে প্রায় ১৭০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯–২১ সময়ে ভারতের মোট প্রজনন হার ২-এ নেমে এসেছে, যা ১৯৯২–৯৩ সালে ছিল ৩ দশমিক ৪। নারীদের শিক্ষা বৃদ্ধি ও জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহারের কারণে এই হার কমেছে। জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে ২ দশমিক ১ হার প্রয়োজন বলে সরকার মনে করে। এ প্রেক্ষাপটে অন্ধ্র প্রদেশ সরকার তৃতীয় সন্তানের জন্য ৩০ হাজার ও চতুর্থ সন্তানের জন্য ৪০ হাজার রুপি প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। সিকিম রাজ্যও মাতৃত্বকালীন ছুটি ও আইভিএফ সহায়তা দিচ্ছে।
বিজেপির আদর্শিক সংগঠন আরএসএস জন্মহার হ্রাস নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। অন্যদিকে সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে যুব বেকারত্বের হার ছিল ৯ দশমিক ৯ শতাংশ, যা অর্থনৈতিক বাস্তবতার ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।
ভারতে জন্মহার কমলেও বড় পরিবারে উৎসাহ দিচ্ছে মোদির মিত্ররা
পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ধর্মভিত্তিক সব ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার নবান্নে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের অধীনে ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক সব ভাতা ও সহায়তা প্রকল্প বন্ধ করা হচ্ছে। চলতি মাস পর্যন্ত সুবিধাভোগীরা ভাতা পেলেও আগামী মাস থেকে তা কার্যকর থাকবে না।
সরকার জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের জন্য চালু থাকা কোনো স্কলারশিপ বা শিক্ষামূলক অনুদান বন্ধ করা হচ্ছে না। শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে দেওয়া আর্থিক সহায়তাই বাতিল করা হচ্ছে। অগ্নিমিত্রা পাল জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি নির্দেশিকা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
এদিনের বৈঠকে আরও কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনার জন্য সপ্তম পে কমিশন গঠন, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু এবং আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যের সব সরকারি বাসে নারীদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াতের অনুমোদন।
পশ্চিমবঙ্গে ধর্মভিত্তিক ভাতা বন্ধ, শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ বহাল
পশ্চিমবঙ্গে নতুন সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদরাসা শিক্ষা মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু সতর্ক করে বলেছেন, রাজ্যে বেআইনিভাবে চলা কোনো মাদরাসা সরকারি নির্দেশ অমান্য করলে প্রয়োজনে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হবে। সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই উচ্ছেদ ও ভাঙচুর অভিযানের অভিযোগের মধ্যে তার এই মন্তব্যে রাজ্যজুড়ে আতঙ্ক ছড়ায়। পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে এবং তিনি কেবল বেআইনি মাদরাসার তদন্তের কথা বলেছেন।
মুসলিম আলেম, ধর্মীয় নেতা ও বিশিষ্টজনরা তার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ভারতের সংবিধান সংখ্যালঘুদের নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার অধিকার দিয়েছে। তারা জানান, বহু খারেজি মাদরাসা কোনো সরকারি সহায়তা ছাড়াই আইনসম্মতভাবে চলছে। এদিকে মন্ত্রী মাদরাসা উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান।
রোববার কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকায় প্রায় ৫০০ নারী-পুরুষ বুলডোজার হুমকি ও ধর্মীয় আঘাতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন। পুলিশ ও সিআরপিএফ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে, এতে বহু নারী আহত হন এবং বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন।
মাদরাসা ভাঙার হুঁশিয়ারিতে কলকাতায় বিক্ষোভ ও পুলিশের লাঠিচার্জ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন রাজ্য সরকার গবাদি পশু জবাইয়ের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কোরবানির ঈদের আগে কার্যকর হওয়া এই নির্দেশনা অনুযায়ী ১৯৫০ সালের আইন ও ২০১৮ সালের হাইকোর্টের নির্দেশ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ১৪ বছরের বেশি বয়সী বা অক্ষম পশু ছাড়া জবাই নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং প্রকাশ্যে জবাইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। ফলে গরুর হাটগুলো ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে, ব্যবসায়ীরা আইনি জটিলতার ভয়ে বাজারে আসছেন না।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হিন্দু গো-খামারিরা, যারা ঋণ নিয়ে সারা বছর গরু লালন করেন কোরবানির মৌসুমে বিক্রির আশায়। বিক্রি বন্ধ থাকায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন, কেউ কেউ প্রকাশ্যে আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে গরুগুলো কিনে নেওয়ার দাবি তুলেছেন। বিরোধী নেতারা গরুর বয়স নির্ধারণের নিয়মকে অবাস্তব বলে সমালোচনা করেছেন।
সমালোচকরা আরও প্রশ্ন তুলেছেন, যখন ভারত করপোরেট কসাইখানার মাধ্যমে বছরে কোটি কোটি টাকার গো-মাংস রপ্তানি করছে, তখন প্রান্তিক খামারিরা কেন নিজেদের পশু বিক্রি করতে গিয়ে দেউলিয়া হচ্ছেন।
পশ্চিমবঙ্গে নতুন জবাই নিয়মে গরুর বাজার স্থবির, খামারিদের ঋণ ও আত্মহত্যার হুমকি
রবিবার ভোর পৌনে ছয়টার দিকে রাজস্থানের কোটা জেলার বিক্রমগড় আলোত স্টেশনের কাছে দিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগিতে আগুন লাগে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, ট্রেনটির বি-১ বগিতে আগুন ধরার ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বগিটিতে থাকা ৬৮ জন যাত্রীকে দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে অন্য বগিতে স্থানান্তর করা হয়। পরে ক্ষতিগ্রস্ত বগিটি ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন করে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আগুন লাগা বগি থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে এবং আগুনের তাপে পাশের কয়েকটি গাছেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের অন্য বগিতে করে কোটা পর্যন্ত নেওয়া হবে এবং সেখানে নতুন একটি বগি যুক্ত করে ট্রেনটির যাত্রা পুনরায় শুরু করা হবে।
১২৪৩১ নম্বরের রাজধানী এক্সপ্রেসটি শুক্রবার তিরুবনন্তপুরম থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং দিল্লির হযরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে দুপুর সাড়ে ১২টায় পৌঁছানোর কথা ছিল। অগ্নিকাণ্ডের সময় ট্রেনটি প্রায় ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছিল এবং তখনও দিল্লি থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার দূরে ছিল।
রাজস্থানে রাজধানী এক্সপ্রেসে আগুন, ৬৮ যাত্রী নিরাপদে উদ্ধার
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৬৪ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।