তুরস্কের আকাশে বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে জরুরি অবতরণের অনুরোধ করার পর লিবিয়ার সেনাপ্রধান মোহাম্মদ আলি আল-হাদ্দাদকে বহনকারী একটি ব্যক্তিগত জেট বিমান বিধ্বস্ত হয়। তুরস্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানটি আকাশে থাকা অবস্থায় পাইলটরা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে সমস্যার কথা জানালেও কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আল-হাদ্দাদসহ আটজন নিহত হন।
তুরস্ক প্রেসিডেন্সির যোগাযোগ অধিদপ্তরের প্রধান বুরহানেত্তিন দুরান জানিয়েছেন, পাইলটরা বৈদ্যুতিক ত্রুটির বিষয়টি জানিয়ে জরুরি অবতরণের অনুমতি চেয়েছিলেন। লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দবেইবা সামাজিক মাধ্যমে আল-হাদ্দাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে একে দেশ ও সেনাবাহিনীর জন্য বড় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেছেন। নিহতদের মধ্যে আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন।
লিবিয়ার প্রতিনিধি দলটি দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে আঙ্কারায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক ত্রুটিকেই সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তুরস্কে বৈদ্যুতিক ত্রুটির পর বিমানে লিবিয়ার সেনাপ্রধানসহ আটজন নিহত
লিবিয়ার আল-খুমস উপকূলে দুটি অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে অন্তত চারজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় লিবিয়ান রেড ক্রিসেন্ট এ তথ্য নিশ্চিত করে। প্রথম নৌকাটিতে ২৬ জন বাংলাদেশি ছিলেন, যাদের মধ্যে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দ্বিতীয় নৌকাটিতে ৬৯ জন অভিবাসী ছিলেন, তাদের মধ্যে মিশরীয়, সুদানী ও আটজন শিশু ছিল, তবে তাদের ভাগ্য অজানা। উদ্ধার অভিযানে লিবিয়ার কোস্টগার্ড ও আল-খুমস বন্দর নিরাপত্তা সংস্থা অংশ নেয়। মরদেহগুলো স্থানীয় প্রসিকিউশনের নির্দেশে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লিবিয়া উপকূলে একাধিক নৌকাডুবিতে শতাধিক অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে, যা ইউরোপগামী অভিবাসন সংকটের ভয়াবহতা আবারও সামনে এনেছে।
লিবিয়ার আল-খুমস উপকূলে নৌকাডুবিতে চার বাংলাদেশি অভিবাসীর মৃত্যু
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে মধ্য ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে এক হাজারেরও বেশি অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। সর্বশেষ ঘটনায় লিবিয়ার উপকূলে একটি রাবারের নৌকা ডুবে ৪২ জন নিখোঁজ ও মৃত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নৌকাটি ৪৯ জন যাত্রী নিয়ে জুয়ারা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, যার মধ্যে মাত্র সাতজন পুরুষ জীবিত উদ্ধার হন। নিহতদের বেশিরভাগই সুদান, সোমালিয়া, ক্যামেরুন ও নাইজেরিয়ার নাগরিক। আইওএম বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও খাদ্য সহায়তা দিয়েছে এবং নিরাপদ অভিবাসন পথ, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কার্যকর উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, প্রতিটি নতুন দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ছে।
জাতিসংঘ জানায় ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে এক হাজারেরও বেশি অভিবাসী নিহত
লিবিয়ার আজদাবিয়া শহরে মানবপাচারকারীদের হাতে জিম্মি থাকা শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, পাচারকারীরা পাঁচ নারীসহ শতাধিক মানুষকে আটক রেখে মুক্তিপণ দাবি করছিল এবং তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। এ ঘটনায় লিবিয়া, সুদান ও মিসরের নাগরিক পাঁচ পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিম্মিদের জাতীয়তা বা কতদিন ধরে আটক রাখা হয়েছিল, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ইউরোপে পাড়ি জমানোর চেষ্টায় লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরেই একটি ঝুঁকিপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত লিবিয়ায় অবস্থানরত অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা ৮ লাখ ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে।
লিবিয়ার ত্রিপলিতে সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী সংঘর্ষ এবং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে হওয়া বিক্ষোভের পর একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়ন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ত্রিপলিভিত্তিক সরকারের সঙ্গে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠীর লড়াইয়ে অন্তত আটজন নিহত হয়েছে। এর আগে এই সংঘর্ষ গত সপ্তাহেই থেমে যায়। লিবিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, একটি শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে কাজ চলছে। সম্প্রতি সংঘাতের সূত্রপাত হলো, প্রধানমন্ত্রী দবেইবা কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী বিলুপ্ত করার নির্দেশ দেন, তবে এই তালিকা থেকে ৪৪৪ ব্রিগেডকে বাদ রাখা হয়, যা বিরোধ ও সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটায়।
৬৫ অভিবাসী নিয়ে একটি জাহাজ লিবিয়া উপকূলে ডুবে গেছে, এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন পাকিস্তানের নাগরিকের পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও বাকিদের পরিচয় শনাক্ত করা যায় নি। ৬৫ যাত্রী নিয়ে নৌকাটি ডুবে যায় লিবিয়ার জাওইয়া শহরের মারশা দেলা বন্দরের কাছে। মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করতে পাকিস্তানি দূতাবাস একটি দল প্রেরণ করেছে। এর আগে স্পেন যাওয়ার পথে ৮৬ জন যাত্রী বহনকারী একটি জাহাজ ডুবে গিয়েছিল জানুয়ারিতে, সেইখানেও ৬৬ জন ছিলেন পাকিস্তানের নাগরিক। উন্নত জীবনের আশায় অভিবাসনের যাত্রা পথে এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৬০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।