লিবিয়ার টোবরুক শহরের কাছে বারদা দ্বীপের আশপাশে প্রায় ৬০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে একটি নৌকা মঙ্গলবার ডুবে যায়। লিবিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং ১০ জন সাঁতরে দ্বীপে পৌঁছেছেন। পূর্ব লিবিয়ার কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। নৌকাটিতে নারী ও শিশুও ছিল।
লিবিয়ার উপকূলে এ ধরনের দুর্ঘটনা নতুন নয়। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বহু মানুষ উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপে যেতে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন। গত মাসেও পূর্ব লিবিয়ার কাছে আরেকটি নৌকাডুবিতে ৫১ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা যান বা নিখোঁজ হন। লিবিয়ার উপকূল অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচারের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ মে পর্যন্ত লিবিয়ার উপকূলে অন্তত ৮০০ জনের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছেন। তারা মূলত দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোর নাগরিক ছিলেন।
লিবিয়ায় ৬০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর নৌকাডুবি, ৫০ জন নিখোঁজ
রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, লিবিয়ার পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির মধ্যে নীরবে মধ্যস্থতা শুরু করেছে পাকিস্তান। গত বছরের শেষের দিকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র অবগত এবং এতে জড়িত রয়েছে বলে একটি পাকিস্তানি সূত্র জানিয়েছে। সৌদি আরবও এই প্রচেষ্টায় সমর্থন দিচ্ছে। ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে বিভক্ত লিবিয়াকে পুনরেকত্রীকরণের লক্ষ্যে এই প্রচেষ্টা চলছে। উভয় পক্ষই পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা চেয়েছিল।
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ভূমিকার পর এবার লিবিয়া ইস্যুতেও দেশটি সক্রিয় হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, লিবিয়ার ঐক্য প্রতিষ্ঠার যেকোনো পরিকল্পনায় বিদেশি স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা এবং সরকারি পদ, নির্বাচনী নিয়ম ও তেল রাজস্ব নিয়ে বিরোধ মেটানো জরুরি। প্রস্তাবিত ৩৬ মাসের অন্তর্বর্তী ক্ষমতা ভাগাভাগির পরিকল্পনায় আবদুলহামিদ দ্বীবাহ প্রধানমন্ত্রী এবং সাদ্দাম হাফতার প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে থাকতে পারেন।
সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির রাওয়ালপিন্ডিতে সাদ্দাম হাফতারের সঙ্গে বৈঠক করেন। পর্যবেক্ষকেরা পাকিস্তানকে লিবিয়ায় গৌণ পক্ষ হিসেবে দেখলেও দেশটির উভয় পক্ষ ও আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে।
২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত গণঅভ্যুত্থানে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর লিবিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। সংগৃহীত ছবি: রয়টার্স
গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে স্থলপথের বহরে অংশ নেওয়ার সময় লিবিয়ায় আটক হওয়া তিন ইতালীয় মানবাধিকারকর্মী মুক্তি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি। মুক্তিপ্রাপ্তদের নাম দোমেনিকো চেন্ত্রোনে, লিওনার্দা আলবেরিজিয়া ও মাতিয়াস আলভারেজ রদ্রিগেজ। রদ্রিগেজ উরুগুয়ের নাগরিক হলেও তার ইতালীয় নাগরিকত্ব রয়েছে। তাজানি জানান, প্রায় এক মাস আটক থাকার পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তারা বেনগাজিতে ইতালির কনসালের জিম্মায় আছেন। আজই তারা ইতালিতে ফিরে যাবেন।
মুক্তিপ্রাপ্তরা ‘গ্লোবাল সুমুদ ল্যান্ড কনভয়’-এর সদস্য ছিলেন, যা মৌরিতানিয়া থেকে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। একই সময়ে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামে একটি নৌবহরও গাজামুখী যাত্রা শুরু করে, যা পরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরাইলি বাহিনীর বাধার মুখে পড়ে। সংগঠনের তথ্যমতে, লিবিয়ার সিরতে শহরের কাছে আটটি দেশের ১০ সদস্যকে আটক করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও ছয়জন নারী ছিলেন।
তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
গাজা সহায়তা বহরে অংশ নেওয়া তিন ইতালীয় কর্মী লিবিয়ায় মুক্তি পেয়েছেন
লিবিয়ার পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে গত এক সপ্তাহে নারীসহ অন্তত ১৫ অভিবাসীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার নিরাপত্তা, নৌবাহিনী ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, নৌকাডুবির ঘটনায় সাগরে পড়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নৌবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, অন্তত ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, নৌকাটিতে প্রায় ৬১ জন আরোহী ছিলেন। মিশরের সীমান্তবর্তী তোব্রুক উপকূল থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়, যেগুলোর কয়েকটিতে পচন ধরেছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, এলাকায় আরও লাশ থাকতে পারে।
তোব্রুক রেড ক্রিসেন্টের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, সাদা সুরক্ষা পোশাক পরা স্বেচ্ছাসেবীরা পাথুরে উপকূল থেকে লাশ সংগ্রহ করছেন। ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়ার উপকূল ইউরোপগামী অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান রুটে পরিণত হয়েছে। সংঘাত ও দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে অনেকেই বিপজ্জনক সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেন, আবার কেউ কেউ লিবিয়ার তেলনির্ভর অর্থনীতিতে কাজের সুযোগের আশায় আসেন।
অন্যদিকে, পৃথক এক ঘটনায় ত্রিপোলির ইমার্জেন্সি মেডিসিন অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টার জানিয়েছে, নৌকাডুবির পর ১৩ জন অভিবাসীকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
লিবিয়ার উপকূলে নৌকাডুবিতে অন্তত ১৫ অভিবাসীর লাশ উদ্ধার
লিবিয়ার উপকূলে সাগরে ভাসমান একটি নৌযান থেকে ১৭ জনের লাশ ও ৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছে লিবিয়ান রেড ক্রিসেন্ট। উত্তর আফ্রিকার এই দেশটির উপকূলের কাছে বিপদগ্রস্ত নৌযানটিকে সহায়তা করতে গিয়ে একটি টহল নৌকা এ উদ্ধার অভিযান চালায়। ত্রিপোলি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, এটি ছিল তাদের অন্যতম কঠিন মাঠপর্যায়ের অভিযান। সংস্থার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা একটি নৌকা থেকে কালো বডিব্যাগ নামাচ্ছেন। মৃত ও জীবিতদের জাতীয়তা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে জীবিতদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে তারা ইউরোপগামী অভিবাসী ছিলেন।
রেড ক্রিসেন্ট, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও উপকূলীয় নিরাপত্তা ইউনিটের সদস্যরা এ অভিযানে অংশ নেন। আট দিনের বিপদের পর এবং আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কঠিন পরিস্থিতিতে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
লিবিয়ার উপকূলে ভাসমান নৌযান থেকে ১৭ জনের লাশ ও ৭ জনকে জীবিত উদ্ধার
লিবিয়ার উপকূলের কাছে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ৭০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। নৌকাটি ৩ এপ্রিল রাতে লিবিয়ার তাজৌরা বন্দর থেকে ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ৪ এপ্রিল সকালে দুর্ঘটনায় পড়ে। একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ৩২ জনকে উদ্ধার করে ইতালির ল্যাম্পেদুসা দ্বীপে নিয়ে যায়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মিসরের নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধার অভিযানে ইতালীয় ও লিবীয় কর্তৃপক্ষ অংশ নেয় এবং দুটি মরদেহও উদ্ধার করা হয়।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, নৌকাটিতে ১০০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও ছিল। উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তিরা জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নৌকায় পানি ঢুকে সেটি উল্টে যায়। জার্মান সংস্থা সি-ওয়াচ জানায়, তারা আকাশপথে উল্টে থাকা নৌকাটি দেখতে পায় এবং কয়েকটি মরদেহ শনাক্ত করে।
ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ফিলিপ্পো উঙ্গারো বলেন, নৌকাটি এমন যাত্রার জন্য উপযুক্ত ছিল না। আইওএমের ধারণা, নৌকাটিতে প্রায় ১২০ জন থাকতে পারে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ নৌ-দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবিতে ৭০ নিখোঁজ, বাংলাদেশিসহ ৩২ জন উদ্ধার
শনিবার লিবিয়া উপকূলে একটি কাঠের নৌকা ডুবে অন্তত ৭০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছেন বলে ইতালীয় কোস্টগার্ডের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। ৩২ জনকে জীবিত এবং দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মিশরের নাগরিক রয়েছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, নৌকাটিতে ১০০–১২০ জন আরোহী ছিলেন এবং এটি শুক্রবার গভীর রাতে লিবিয়ার তাজৌরা বন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল।
জীবিতরা জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে নৌকায় পানি ঢুকে পড়ে এবং লিবিয়ার জলসীমায় নৌকাটি উল্টে যায়। সি-ওয়াচ জানিয়েছে, তাদের পর্যবেক্ষণকারী বিমান উল্টানো নৌকার ওপর অন্তত ১৫ জনকে আটকে থাকতে দেখেছে। লিবিয়ার তত্ত্বাবধানে একটি ইতালীয় মালবাহী জাহাজ ও একটি লাইবেরীয় বাণিজ্যিক জাহাজ উদ্ধারকাজে অংশ নেয় এবং জীবিতদের ল্যাম্পেদুসায় নেওয়া হয়।
মানবাধিকার সংস্থা মেডিটেরানিয়া সেভিং হিউম্যানস এই ঘটনাকে ইউরোপীয় নীতির ফল বলে সমালোচনা করেছে। আইওএমের তথ্যমতে, ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে ৩৩,৪৫০ জনেরও বেশি প্রাণ হারিয়েছেন এবং চলতি বছরই অন্তত ৭২৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন।
লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ ৭০ জন, বাংলাদেশিসহ দুই লাশ উদ্ধার
ভূমধ্যসাগরে লিবিয়ার সার্চ অ্যান্ড রেস্কিউ জোনে শনিবার বিকেলে একটি কাঠের নৌযান ডুবে অন্তত ৭০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছেন। ইতালীয় এনজিও মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, নৌযানটি লিবিয়ার উপকূলীয় শহর তাজাউর থেকে রওনা দিয়েছিল এবং এতে ১০৫ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু ছিল। নৌযানটি লিবিয়ার বৌরি অয়েল ফিল্ড থেকে ১৪ নটিক্যাল মাইল উত্তরপূর্বে ডুবে যায়। উদ্ধারকর্মীরা ৩৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন এবং দুজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। উদ্ধারকৃতদের ও মরদেহগুলো ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ল্যাম্পেদুসায় নেওয়া হয়েছে।
মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান নিখোঁজদের জন্য শোক প্রকাশ করে ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে নিরাপদ অভিবাসননীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, আনসা নিউজ জীবিত যাত্রীদের বরাতে জানিয়েছে, নৌযানটিতে ১৮০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন এবং কোস্টগার্ড পৌঁছানোর আগে প্রায় ৮০ জন সাগরে ডুবে যান।
ঘটনাটিতে যাত্রীসংখ্যা ও নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, উদ্ধার ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ভূমধ্যসাগরে লিবিয়া উপকূলে নৌযান ডুবে অন্তত ৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ
আতশবাজি ও পারিবারিক আয়োজনে মুখর লিবিয়ায় রমজানের উৎসব হলেও লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে অনেকের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের ১৫ বছর পরও দেশটি পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে বিভক্ত। বিপুল তেল ও গ্যাস সম্পদ থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত। রাজধানী ত্রিপোলিতে সুপারমার্কেটগুলো পণ্য রেশনিং করছে এবং এটিএমে নগদ অর্থের সংকট দেখা দিয়েছে।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অর্থনীতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে এবং মুদ্রা ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে দিনারের দরপতন ঘটেছে। রান্নার তেলের দাম দ্বিগুণ হয়েছে, মাংস ও পোলট্রির দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। সরকার নির্ধারিত ১.৫ দিনার মূল্যের গ্যাস সিলিন্ডার কালোবাজারে ৭৫ দিনার পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি এক বছরের কম সময়ে দ্বিতীয়বারের মতো দিনারের মান ১৫ শতাংশ কমিয়েছে, যা নাগরিকদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে।
জাতিসংঘ সহায়তা মিশনের প্রধান হান্না টেটেহ সতর্ক করেছেন, দারিদ্র্য ও সামাজিক চাপ বাড়ছে এবং নাজুক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকট মিললে নতুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, অভিন্ন বাজেটের অভাব ও তেল আয়ের হ্রাস অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলছে।
মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক বিভাজনে লিবিয়ায় রমজানের উৎসবের আমেজ ম্লান
লিবিয়ার উপকূলে অভিবাসীদের বহনকারী একটি রাবারের নৌকা ডুবে অন্তত ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। নৌকাটিতে থাকা ৫৫ জন যাত্রীর মধ্যে মাত্র দুজন নারী বেঁচে গেছেন, যারা নাইজেরিয়ার নাগরিক। শুক্রবার লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ তাদের উদ্ধার করে। আল-জাওইয়া শহর থেকে যাত্রা শুরুর প্রায় ছয় ঘণ্টা পর নৌকাটিতে পানি ঢুকে সেটি ডুবে যায়।
আইওএম জানায়, নৌকাটিতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও শরণার্থীরা ছিলেন। জীবিত দুই নারীর একজন তার স্বামীকে হারিয়েছেন, অন্যজন জানিয়েছেন তার দুই শিশুই মারা গেছে। উদ্ধারকারী দল তাদের জরুরি চিকিৎসাসহায়তা দিয়েছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় ৫০০ অভিবাসী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।
২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় সাব-সাহারান আফ্রিকার অভিবাসীদের জন্য লিবিয়া একটি প্রধান প্রস্থানকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আইওএম জানায়, গত জানুয়ারিতেই মধ্য ভূমধ্যসাগরে অন্তত ৩৭৫ অভিবাসী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।
লিবিয়ার উপকূলে নৌকাডুবিতে অন্তত ৫৩ অভিবাসীর মৃত্যু, জানিয়েছে আইওএম
লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আলজাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আলজাজিরা আরবির সংবাদদাতা আহমেদ খলিফা জানান, লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ৫৩ বছর বয়সী সাইফ গত এক দশক ধরে ওই শহরেই অবস্থান করছিলেন। তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওথমান হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে হামলাকারী বা ঘটনার বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি কখনো সরকারি পদে ছিলেন না, তবে ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তাকে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পর দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হলে তার শাসনের অবসান ঘটে। একই বছর সাইফকে জিনতানে কারাবন্দি করা হয় এবং ২০১৭ সালে মুক্তি দেওয়া হয়।
ঘটনাটি নিয়ে সরকারি প্রতিক্রিয়া না থাকায় হত্যার কারণ ও হামলাকারীদের পরিচয় এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
লিবিয়ার জিনতানে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি গুলিতে নিহত
তুরস্কের আকাশে বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে জরুরি অবতরণের অনুরোধ করার পর লিবিয়ার সেনাপ্রধান মোহাম্মদ আলি আল-হাদ্দাদকে বহনকারী একটি ব্যক্তিগত জেট বিমান বিধ্বস্ত হয়। তুরস্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানটি আকাশে থাকা অবস্থায় পাইলটরা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে সমস্যার কথা জানালেও কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আল-হাদ্দাদসহ আটজন নিহত হন।
তুরস্ক প্রেসিডেন্সির যোগাযোগ অধিদপ্তরের প্রধান বুরহানেত্তিন দুরান জানিয়েছেন, পাইলটরা বৈদ্যুতিক ত্রুটির বিষয়টি জানিয়ে জরুরি অবতরণের অনুমতি চেয়েছিলেন। লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দবেইবা সামাজিক মাধ্যমে আল-হাদ্দাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে একে দেশ ও সেনাবাহিনীর জন্য বড় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেছেন। নিহতদের মধ্যে আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন।
লিবিয়ার প্রতিনিধি দলটি দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে আঙ্কারায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক ত্রুটিকেই সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তুরস্কে বৈদ্যুতিক ত্রুটির পর বিমানে লিবিয়ার সেনাপ্রধানসহ আটজন নিহত
লিবিয়ার আল-খুমস উপকূলে দুটি অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে অন্তত চারজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় লিবিয়ান রেড ক্রিসেন্ট এ তথ্য নিশ্চিত করে। প্রথম নৌকাটিতে ২৬ জন বাংলাদেশি ছিলেন, যাদের মধ্যে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দ্বিতীয় নৌকাটিতে ৬৯ জন অভিবাসী ছিলেন, তাদের মধ্যে মিশরীয়, সুদানী ও আটজন শিশু ছিল, তবে তাদের ভাগ্য অজানা। উদ্ধার অভিযানে লিবিয়ার কোস্টগার্ড ও আল-খুমস বন্দর নিরাপত্তা সংস্থা অংশ নেয়। মরদেহগুলো স্থানীয় প্রসিকিউশনের নির্দেশে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লিবিয়া উপকূলে একাধিক নৌকাডুবিতে শতাধিক অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে, যা ইউরোপগামী অভিবাসন সংকটের ভয়াবহতা আবারও সামনে এনেছে।
লিবিয়ার আল-খুমস উপকূলে নৌকাডুবিতে চার বাংলাদেশি অভিবাসীর মৃত্যু
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে মধ্য ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে এক হাজারেরও বেশি অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। সর্বশেষ ঘটনায় লিবিয়ার উপকূলে একটি রাবারের নৌকা ডুবে ৪২ জন নিখোঁজ ও মৃত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নৌকাটি ৪৯ জন যাত্রী নিয়ে জুয়ারা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, যার মধ্যে মাত্র সাতজন পুরুষ জীবিত উদ্ধার হন। নিহতদের বেশিরভাগই সুদান, সোমালিয়া, ক্যামেরুন ও নাইজেরিয়ার নাগরিক। আইওএম বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও খাদ্য সহায়তা দিয়েছে এবং নিরাপদ অভিবাসন পথ, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কার্যকর উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, প্রতিটি নতুন দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ছে।
জাতিসংঘ জানায় ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে এক হাজারেরও বেশি অভিবাসী নিহত
লিবিয়ার আজদাবিয়া শহরে মানবপাচারকারীদের হাতে জিম্মি থাকা শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, পাচারকারীরা পাঁচ নারীসহ শতাধিক মানুষকে আটক রেখে মুক্তিপণ দাবি করছিল এবং তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। এ ঘটনায় লিবিয়া, সুদান ও মিসরের নাগরিক পাঁচ পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিম্মিদের জাতীয়তা বা কতদিন ধরে আটক রাখা হয়েছিল, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ইউরোপে পাড়ি জমানোর চেষ্টায় লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরেই একটি ঝুঁকিপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত লিবিয়ায় অবস্থানরত অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা ৮ লাখ ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে।
লিবিয়ার আজদাবিয়া শহরে মানবপাচারকারীদের হাতে জিম্মি থাকা শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
লিবিয়ার ত্রিপলিতে সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী সংঘর্ষ এবং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে হওয়া বিক্ষোভের পর একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়ন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ত্রিপলিভিত্তিক সরকারের সঙ্গে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠীর লড়াইয়ে অন্তত আটজন নিহত হয়েছে। এর আগে এই সংঘর্ষ গত সপ্তাহেই থেমে যায়। লিবিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, একটি শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে কাজ চলছে। সম্প্রতি সংঘাতের সূত্রপাত হলো, প্রধানমন্ত্রী দবেইবা কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী বিলুপ্ত করার নির্দেশ দেন, তবে এই তালিকা থেকে ৪৪৪ ব্রিগেডকে বাদ রাখা হয়, যা বিরোধ ও সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটায়।
সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী সংঘর্ষ এবং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে হওয়া বিক্ষোভের পর লিবিয়ায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান আফ্রিকান ইউনিয়নের
৬৫ অভিবাসী নিয়ে একটি জাহাজ লিবিয়া উপকূলে ডুবে গেছে, এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন পাকিস্তানের নাগরিকের পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও বাকিদের পরিচয় শনাক্ত করা যায় নি। ৬৫ যাত্রী নিয়ে নৌকাটি ডুবে যায় লিবিয়ার জাওইয়া শহরের মারশা দেলা বন্দরের কাছে। মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করতে পাকিস্তানি দূতাবাস একটি দল প্রেরণ করেছে। এর আগে স্পেন যাওয়ার পথে ৮৬ জন যাত্রী বহনকারী একটি জাহাজ ডুবে গিয়েছিল জানুয়ারিতে, সেইখানেও ৬৬ জন ছিলেন পাকিস্তানের নাগরিক। উন্নত জীবনের আশায় অভিবাসনের যাত্রা পথে এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।
লিবিয়া উপকূলে ৬৫ অভিবাসীবোঝাই নৌকাডুবি
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৪৬ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।