Web Analytics
দেশ / Country

মাদাগাস্কার রাজনৈতিক সংকটে রয়েছে, প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, দেশজুড়ে বিরোধী দল জেন-জি’র নেতৃত্বে বিক্ষোভ বাড়তে থাকায়। সেপ্টেম্বর ২৫ তারিখে পানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত সরকারের দুর্নীতি, ব্যর্থতা এবং মৌলিক সেবার অভাবের মতো বড় ইস্যুতে পরিণত হয়। বিরোধী নেতা ও সেনা সূত্র জানিয়েছেন, কিছু সেনা ইউনিট বিদ্রোহ করে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে, যার ফলে প্রেসিডেন্টকে ফরাসি সামরিক বিমানে প্যারিসের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করতে হয়েছে। প্রেসিডেন্টের বর্তমান অবস্থান অজানা রয়েছে, এবং পূর্বনির্ধারিত জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়া হয়নি। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩ কোটি জনসংখ্যার মাদাগাস্কারে তিন-চতুর্থাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে।

14 Oct 25 1NOJOR

মাদাগাস্কার রাজনৈতিক সংকটে রয়েছে, প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন

মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট অন্দ্রি রাজোয়েলিনা দেশজুড়ে বিক্ষোভের মুখে সরকার ভেঙে দিয়ে সেনাবাহিনীর জেনারেল রুফিন ফর্চুনাত জাফিসাম্বোকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। বিদ্যুৎ ও পানির তীব্র সংকটে ক্ষুব্ধ জনগণের বিক্ষোভ টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলেছে এবং তা ক্রমে সহিংস রূপ নিচ্ছে। ‘জেন জি মাদাগাস্কার’ নামের তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনে হাজারো মানুষ প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি করছেন। রাজধানী আন্তানানারিভোতে কারফিউ জারি করা হয়েছে, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। রাজোয়েলিনা বলেছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব পাবেন। ২০০৯ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা রাজোয়েলিনা ২০১৮ ও ২০২৩ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন, তবে তাঁর শাসনে দুর্বল সেবা ব্যবস্থা ও বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ বেড়েই চলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিক্ষোভ আফ্রিকার তরুণ প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের প্রতিফলন।

08 Oct 25 1NOJOR

সোমবার এক ঘোষণায় প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা বলেন, দেশ এখন এমন একজন প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজন, যিনি ‘আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম।’

মাদাগাস্কারে প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনার পদত্যাগের দাবিতে টানা তৃতীয় সপ্তাহ ধরে চলছে জেন জি তরুণদের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ। পানি ও বিদ্যুতের সংকটের প্রতিবাদ দিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দুর্নীতি, বৈষম্য ও সরকারের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছে। রাজধানী আন্তানানারিভোতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে, এছাড়াও টোলিয়ারা ও দিয়েগো সুয়ারেজে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২২ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে, যদিও সরকার এই তথ্য অস্বীকার করেছে। গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়েও রাজোয়েলিনা বিক্ষোভ থামাতে পারেননি। তিনি জানিয়েছেন, পদত্যাগের কোনো পরিকল্পনা নেই তবে সংলাপের জন্য তিনি প্রস্তুত। বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা ও আটক ব্যক্তিদের মুক্তি নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে।

06 Oct 25 1NOJOR

প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনার পদত্যাগের দাবিতে আন্তানানারিভোতে স্লোগান দিচ্ছে জেন জি বিক্ষোভকারীরা, পুলিশ টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করছে

কেনিয়া ও নেপালের তরুণ আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে মাদাগাস্কারের জেন-জি বিক্ষোভকারীরা সরকার পতনের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তারা প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনা ও সদ্য বরখাস্ত প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্যে ক্ষমাপ্রার্থনা দাবি করছে, পাশাপাশি রাজধানীর প্রশাসককে অপসারণের আহ্বান জানিয়েছে। আন্দোলন আন্তানানারিভো ছাড়িয়ে ফেনোয়ারিভো, মাহাজাঙ্গা ও দিয়েগো সুয়ারেজ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। পানির সংকট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভকারীরা রাজোয়েলিনার পদত্যাগ দাবি করছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সংকট মোকাবিলা ও ব্যবসায়ীদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও তরুণরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এক সপ্তাহে অন্তত ২২ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে, যদিও সরকার এই সংখ্যা অস্বীকার করছে। ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরের সবচেয়ে বড় আন্দোলন এটি, যা ২০২৩ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর রাজোয়েলিনার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

01 Oct 25 1NOJOR

জেন-জি আন্দোলনে সরকার পতন হলেও এখনো রাস্তা ছাড়েনি মাদাগাস্কারের তরুণরা। প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। একই সঙ্গে, রাজধানীর প্রশাসককেও অপসারণের দাবি জানিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।

বিদ্যুৎ ও পানি সংকটের বিরুদ্ধে জেন-জিদের বিক্ষোভের মুখে সরকার ভেঙে দিয়েছেন মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রে রাজোয়েলিনা। রাজোয়েলিনা বলেন, ‘সরকারের ব্যর্থতার জন্য ক্ষমা চাইছি। সরকারের সদস্যরা যদি তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে থাকেন, তবে আমরা স্বীকার করছি এবং দুঃখ প্রকাশ করছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি রাগ, দুঃখ এবং বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ সমস্যার কারণে যে কষ্ট হয়েছে তা বুঝি। আমি আহ্বান শুনেছি, কষ্ট অনুভব করেছি, দৈনন্দিন জীবনের ওপর প্রভাব বুঝেছি।’ এর আগে বিদ্যুৎ–জ্বালানি মন্ত্রীকে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে বরখাস্ত করেছিলেন প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট ও তার পুরো সরকারকে পদত্যাগের দাবি তোলেন। সোমবার আবারও হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসলে প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে পদচ্যুত করেছেন ও সরকার ভেঙে দিয়েছেন এবং আগামী তিন দিনের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য আবেদন গ্রহণ করা হবে। এর পর নতুন সরকার গঠন করা হবে। এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক নিরাপত্তা বাহিনীর ‘অপ্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগের’ নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, অন্তত ২২ জন নিহত এবং ১০০ জন আহত হয়েছেন।

Card image

গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৮১ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।