নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে দেশের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর দিয়োরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২২ জন হামলাকারী, ১১ জন সেনা ও দুইজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে নামাজের কিছুক্ষণ পর হামলাটি ঘটে। পাঁচ মাসেরও কম সময়ে এটি দ্বিতীয় হামলা। আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চারজন হামলাকারী আহত হয়েছে এবং ২০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী আরপিজি-৭ রকেট লঞ্চার, একে-৪৭ রাইফেল, বিস্ফোরক, গ্রেনেড, যোগাযোগ সরঞ্জাম ও হাজার হাজার গুলি জব্দ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরের নামাজের পরপরই বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। সকাল গড়ানোর আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং নিরাপত্তা বাহিনী পালিয়ে যাওয়া হামলাকারীদের ধরতে অভিযান শুরু করে।
আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারম্যান মাহমুদ আলি ইউসুফ হামলার নিন্দা জানিয়ে নাইজারের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেছেন। দেশটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসলামপন্থি বিদ্রোহ দমনে লড়াই করছে।
নিয়ামেতে নাইজারের প্রধান বিমানবন্দরে বন্দুকধারীদের হামলায় ৩৫ জন নিহত
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যের মারাদুন জেলার গোরোন নামায়ে গ্রামে বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ জন কৃষক নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৩ জুন ২০২৬ তারিখে মোটরসাইকেলে করে আসা দস্যুরা পর্যটকের ছদ্মবেশে কৃষকদের ওপর গুলি চালায়, যখন তারা জমিতে কাজ করছিলেন।
মারাদুন জেলার প্রশাসক সানুসি দোসারা জানান, তিনি ১৭ জন নিহতের খবর পেয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলাকারীরা আগন্তুকের ছদ্মবেশে এসে অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছিল। আরেক বাসিন্দা নুরা মুসা বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে গ্রামরক্ষীদের হাতে ১৩ জন দস্যু নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উত্তর ও মধ্য নাইজেরিয়ায় মুক্তিপণের জন্য অপহরণ ও গবাদি পশু চুরির উদ্দেশ্যে দস্যুদের হামলা প্রায়ই ঘটে, যা এলাকাটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিকে নির্দেশ করে।
নাইজেরিয়ার জামফারায় বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ কৃষক নিহত
নাইজারের সাহারা মরুভূমিতে একটি ট্রাক বিকল হয়ে পড়ার পর পিপাসায় ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আগাদেজ গভর্নরেট ফেসবুকে জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, মুসলমানদের একটি উৎসবে যোগ দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তারা মরুভূমির প্রত্যন্ত অঞ্চলে আটকা পড়েন। ঘটনাস্থলটি আসামাকা থেকে ৮০ কিলোমিটারেরও বেশি পশ্চিমে, যা নাইজার ও আলজেরিয়ার সংযোগস্থল এবং মালি সীমান্তের কাছাকাছি।
গভর্নরেট জানায়, ট্রাকের চালক, সহকারী ও যাত্রীরা যানটি মেরামতের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। চরম তাপদাহ ও পানির অভাবে তারা বেঁচে থাকতে পারেননি। তবে দুজন ব্যক্তি পায়ে হেঁটে ৫০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করে একটি পানির উৎসে পৌঁছে কর্তৃপক্ষকে খবর দেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের গণকবরে দাফন করা হয়েছে। এই দুর্ঘটনা সাহারা মরুভূমির কঠিন পরিবেশে যাত্রীদের ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।
নাইজারের সাহারায় ট্রাক বিকল হয়ে পিপাসায় ৪৯ জনের মৃত্যু
নাইজেরিয়ার আদামাওয়া রাজ্যের গুইয়াকু গ্রামে রোববার রাতে ঘুমন্ত গ্রামবাসীর ওপর ভয়াবহ হামলা চালায় জঙ্গিরা, এতে অন্তত ২৯ জন নিহত হন। টেলিগ্রামে পাঠানো এক বার্তায় আইএসআইএস এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। সরকারি সূত্র জানায়, সশস্ত্র জঙ্গিরা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায় এবং কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আতঙ্কে গ্রামবাসীরা প্রাণ বাঁচাতে পালানোর চেষ্টা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে। সোমবার আদামাওয়া রাজ্যের গভর্নর আহমাদু উমারু ফিনত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হামলাটিকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে নিন্দা জানান। একই দিনে কোগি রাজ্যের লোকোজায় একটি এতিমখানায় সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে ২৩ জন কিশোরকে অপহরণ করে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে উদ্ধার করেছে, বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
দুই রাজ্যে সংঘটিত এসব ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নাইজেরিয়ায় জঙ্গি হামলায় ২৯ নিহত, কোগিতে ২৩ কিশোর অপহৃত
নাইজেরিয়ার বিমানবাহিনী বোর্নো রাজ্যের সীমান্তবর্তী ইয়োবো এলাকার জিল্লি গ্রামের একটি বাজারে বিমান হামলা চালিয়েছে। শনিবার রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও এক কাউন্সিলর জানিয়েছেন। হামলাটি সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘটিত হয়, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা চলছে।
বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য ছিল জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের যোদ্ধারা, তবে বাজারে হামলার বিষয়টি তারা উল্লেখ করেনি। ওই এলাকায় মিলিশিয়াদের উপস্থিতি বেশি থাকায় প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং এতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আহতদের ইয়োবো ও বোর্নো রাজ্যের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
তিনজন স্থানীয় বাসিন্দা ও একটি এনজিওর তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ২০০ জনেরও বেশি হতে পারে বলে রয়টার্স ও বিবিসি জানিয়েছে।
ইয়োবোর বাজারে বিমান হামলায় ২০০ জনের বেশি নিহতের আশঙ্কা
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের জামফারা অঙ্গরাজ্যে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ২১ জন গ্রামবাসী নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে। শুক্রবার বুখ্কুয়ুম জেলার বুনকাসাউ গ্রামে প্রায় ৮০টি মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েক ডজন সশস্ত্র ব্যক্তি হামলা চালায়। গ্রামবাসীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয় পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়।
জামফারা রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র ইয়াজিদ আবুবকর ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত চলছে। স্থানীয় কমিউনিটি নেতা লাওয়ালি উমর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দিতে দিতে অতিষ্ঠ হয়ে গ্রামবাসীরা তা বন্ধ করে আত্মরক্ষার প্রস্তুতি নেয়। স্থানীয় তিনজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন।
নাইজেরিয়ায় এই ধরনের সহিংসতা প্রথমে পশুপালক ও কৃষকদের মধ্যে জমি ও পানির বিরোধ থেকে শুরু হলেও পরে তা সংগঠিত গবাদিপশু চুরি ও অপহরণ চক্রে পরিণত হয়। ২০১৫ সাল থেকে সেনা মোতায়েন ও শান্তিচুক্তির প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।
নাইজেরিয়ার জামফারায় বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের কানো রাজ্যের সাবন গারি বাজারে ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়া থেকে আমদানি করা ব্যবহৃত ইলেকট্রনিকস পণ্য ভরে গেছে। নিম্নআয়ের ক্রেতারা সাশ্রয়ী মূল্যের আশায় এসব পণ্য কিনলেও অনেক যন্ত্রপাতি অল্প সময়েই নষ্ট হয়ে যায়, যা দেশের ই-বর্জ্য সংকটকে আরও গভীর করছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ৬০ হাজার টন ব্যবহৃত ইলেকট্রনিকস নাইজেরিয়ায় প্রবেশ করে, যার মধ্যে অন্তত ১৫,৭০০ টন আগেই ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় আসে।
জার্মানি, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও আয়ারল্যান্ড থেকে আসা এসব পণ্য প্রায়ই বাসেল কনভেনশনের নিয়ম লঙ্ঘন করে, যা উন্নয়নশীল দেশে বিপজ্জনক বর্জ্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করে। কানোর অনানুষ্ঠানিক পুনর্ব্যবহারকারীরা সুরক্ষা ছাড়াই এসব যন্ত্রপাতি খুলে ফেলে, ফলে তারা পারদ ও ক্ষতিকর গ্যাসের সংস্পর্শে আসে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শ্বাসযন্ত্র, স্নায়ু ও প্রজননজনিত ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
যদিও নাইজেরিয়ায় ইলেকট্রনিকস আমদানির নিয়ম রয়েছে, দুর্বল প্রয়োগ ও ফাঁকফোকরের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পণ্য ঢুকে পড়ছে। পরিবেশকর্মীরা কঠোর সীমান্ত তদারকি, সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার আহ্বান জানিয়েছেন।
ত্রুটিপূর্ণ আমদানি ও পুনর্ব্যবহারকারীদের ঝুঁকিতে নাইজেরিয়ায় ই-বর্জ্যের সংকট
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাইদুগুরিতে একাধিক সন্দেহভাজন আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত এবং ১০৮ জন আহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় এই বিস্ফোরণগুলো ঘটে এবং মঙ্গলবার দেশটির পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করে। পুলিশের মুখপাত্র নাহুম কেনেথ দাসো জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে ঘটনাগুলো আত্মঘাতী হামলাকারীদের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে।
এর আগে রোববার রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে একটি সামরিক চৌকিতে হামলা চালানো হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ এই হামলার জন্য সন্দেহভাজন জিহাদি গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং তদন্ত চলছে।
এই হামলাগুলো নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চলমান নিরাপত্তা সংকটের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। হামলাকারীদের পরিচয় বা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
মাইদুগুরিতে আত্মঘাতী হামলায় ২৩ নিহত, শতাধিক আহত, সন্দেহভাজন জিহাদিদের দায়ী করা হয়েছে
নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলের প্লাটো অঙ্গরাজ্যে শুক্রবার এক গ্রামে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে বলে শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে কানাম ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (কাডা)। সংস্থাটি জানায়, নিয়মিত টহলে থাকা সেনাদের ওপর অতর্কিত হামলার পর গোলাগুলিতে ১২ জন নিরাপত্তা সদস্য এবং তাদের সঙ্গে নিজেদের সম্প্রদায় রক্ষায় যোগ দেওয়া আরও আটজন নিহত হন।
কাডা জানায়, সেনাদের ওপর হামলার পর বন্দুকধারীরা পাশের একটি গ্রামে ঢুকে গবাদি পশুসহ বিভিন্ন সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়। এতে আগে থেকেই ঝুঁকিতে থাকা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের ভাষায় ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী নিয়মিত মুক্তিপণের জন্য অপহরণ ও গ্রাম লুটের ঘটনা ঘটায়।
আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়া বর্তমানে নানা নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। উগ্র ইসলামপন্থি বিদ্রোহ দমনে সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টা চললেও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যের একটি গ্রামে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মোটরসাইকেলে করে বুককুয়ুম এলাকার গ্রামটিতে প্রবেশ করে সশস্ত্র হামলাকারীরা। তারা শুক্রবার সকাল পর্যন্ত গ্রামজুড়ে তাণ্ডব চালায়, বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকজন নারী ও শিশুকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
বুককুয়ুম দক্ষিণের প্রতিনিধি হামিসু এ ফারু জানান, অপহৃতদের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি, কারণ স্থানীয় কর্মকর্তারা নিখোঁজদের তালিকা প্রস্তুত করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল্লাহি সানি বলেন, গ্রামবাসী এক দিন আগে ১৫০টিরও বেশি মোটরসাইকেলে আসা বন্দুকধারীদের দেখে নিরাপত্তা বাহিনীকে জানিয়েছিল, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এর এক সপ্তাহ আগে নাইজার রাজ্যের বোরগু এলাকায় আরেক হামলায় অন্তত ৪৬ জন নিহত হয়েছিল, যার মধ্যে কনকোসো গ্রামে ৩৮ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
জামফারায় বন্দুকধারীদের হামলায় ৫০ জন নিহত, নারী-শিশু অপহৃত
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের নাইজার রাজ্যের তিনটি গ্রামে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজনকে অপহরণ করা হয়েছে। শনিবার মোটরসাইকেলে করে আসা সশস্ত্র হামলাকারীরা গ্রামগুলোতে তাণ্ডব চালায় বলে স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং গ্রামবাসীদের জিম্মি করে নিয়ে যায়।
নাইজার রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন জানান, সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীরা টুঙ্গা-মাকেরি গ্রামে হামলা চালিয়ে ছয়জনকে হত্যা করেছে, কয়েকটি বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে এবং কয়েকজনকে অপহরণ করেছে। কনকোসো গ্রামের বাসিন্দা জেরেমিয়া টিমোথি রয়টার্সকে বলেন, তাদের গ্রামে বিক্ষিপ্ত গুলিবর্ষণের পর পুলিশ স্টেশনে আগুন দেওয়া হয় এবং অন্তত ২৬ জন নিহত হন। হামলায় আইএসআইএল (আইএসআইএস)-এর সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠী ও মুক্তিপণের জন্য অপহরণকারী দলগুলোও জড়িত ছিল।
নাইজার ও কোয়ারা রাজ্যের সীমান্তে অবস্থিত কাইঞ্জি বনকে বোকো হারামসহ দস্যুদের পরিচিত আশ্রয়স্থল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাইজেরিয়ার তিন গ্রামে বন্দুকধারীদের হামলায় ৩২ জন নিহত ও বহু অপহৃত
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় ২০০ সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার মার্কিন আফ্রিকা কমান্ডের এক কর্মকর্তা জানান, বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নাইজেরিয়ার সেনাদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবেন মার্কিন সেনারা। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, নতুন এই দলটি দেশটিতে আগে থেকেই অবস্থান করা একটি ছোট দলের পরিপূরক হবে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন আফ্রিকা কমান্ডের মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, তারা বিমান হামলা ও স্থল অভিযানের সমন্বয়ে নাইজেরীয় সেনাদের সহায়তা করবে।
নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরের মুখপাত্র সামাইলা উবা জানান, মার্কিন সেনারা সরাসরি কোনো যুদ্ধ বা অভিযানে অংশ নেবে না। নিরাপত্তাহীনতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে নাইজেরিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, দেশটিতে খ্রিষ্টানদের ওপর নিপীড়ন চলছে। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খ্রিষ্টানদের পাশাপাশি মুসলিমরাও হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। ট্রাম্পের উপদেষ্টা মাসাদ বোলোস গত বছর বলেন, বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেট খ্রিষ্টানদের চেয়ে বেশি মুসলিমকে হত্যা করছে। নাইজেরিয়া সরকার খ্রিষ্টান নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বোকো হারাম ও আইএসের বিরুদ্ধে নাইজেরিয়ায় ২০০ সেনা পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্র
নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় বেনু রাজ্যে কয়েক দিনের ব্যবধানে সংঘটিত দুটি পৃথক সশস্ত্র হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে এএফপি জানিয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তা ইবি অ্যান্ড্রু জানান, শুক্রবার বিকেলে কোয়ান্দে এলাকার আনওয়াসে গ্রামের একটি বাজারে সশস্ত্র ডাকাতদের হামলায় অন্তত ১৩ জন ব্যবসায়ী নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা নির্বিচারে গুলি চালালে বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে বহু দোকান ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নিহতদের পরিবার নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে পড়ে।
এর কয়েক দিন আগে, মঙ্গলবার পার্শ্ববর্তী মবাইকিয়র শহরের বাজারে একই ধরনের হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত ১৭ জন নিহত হন বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেনু রাজ্যে সহিংসতা বেড়েছে, যা মূলত মুসলিম ফুলানি পশুপালক ও খ্রিস্টান কৃষকদের মধ্যে জমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে বিরোধ থেকে উদ্ভূত।
বিশ্লেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জমির সংকট, অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা এবং সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
নাইজেরিয়ার বেনু রাজ্যে দুটি সশস্ত্র হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত
নাইজেরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় কুয়ারা রাজ্যের ওরু ও নুকু গ্রামে মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় অন্তত ১৬২ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ওমর বায়ো নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে জানান, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্দেহভাজন ‘লাকুরাওয়া’ নামের একটি গোষ্ঠী এই হামলার সঙ্গে জড়িত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা গ্রামবাসীদের হাত বেঁধে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি চালায় এবং বহু ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেনাবাহিনীর সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে, তবে কয়েকজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই হত্যাযজ্ঞের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, নিহতের সংখ্যা ১৭০ জনেরও বেশি হতে পারে। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, গত পাঁচ মাস ধরে বন্দুকধারীরা হুমকি দিলেও নিরাপত্তা বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। গ্রামবাসীরা জানান, হামলাকারীরা জিহাদি মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং শরিয়া আইন অনুসরণের দাবি জানিয়ে আসছিল, যা প্রত্যাখ্যান করায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
কুয়ারা রাজ্যের গভর্নর আবদুল রহমান আবদুল রাজাক ঘটনাটিকে সন্ত্রাসীদের কাপুরুষোচিত কাজ বলে আখ্যা দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি নাইজেরিয়ার ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটের গভীরতা আরও স্পষ্ট করেছে।
নাইজেরিয়ার কুয়ারা রাজ্যে দুটি গ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ১৬২ জন নিহত
নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বোর্নো রাজ্যের সাম্বিসা বনাঞ্চলে পরিচালিত অভিযানে বোকো হারাম কমান্ডারসহ গোষ্ঠীর ১১ সদস্য নিহত হয়েছে। রবিবার পরিচালিত এই অভিযানের বিষয়ে সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, নিহত কমান্ডার আবু খালিদ ছিলেন সাম্বিসা অঞ্চলে বোকো হারামের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড এবং তিনি রসদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন। সেনাবাহিনী জানায়, অভিযানে তাদের কোনো সদস্য হতাহত হয়নি।
বোকো হারাম ২০০০ সালের গোড়ার দিক থেকে নাইজেরিয়ায় সক্রিয় এবং ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবেশী ক্যামেরুন, চাদ ও নাইজারেও হামলা চালিয়ে আসছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, গোষ্ঠীটি লেক চাদ অববাহিকাজুড়ে অন্তত দুইজনকে হত্যা করেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বনাঞ্চলে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই অভিযান নাইজেরিয়ার চলমান সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টার অংশ, যার লক্ষ্য বোকো হারামের কার্যক্রম দুর্বল করা এবং তাদের রসদ সরবরাহ নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া।
নাইজেরিয়ায় সাম্বিসা বনে অভিযানে বোকো হারাম কমান্ডারসহ ১১ জন নিহত
নাইজেরিয়ার নাইজার রাজ্যের একটি গ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। শনিবার কাসুওয়ান-দাজি গ্রামের কাছে একটি জঙ্গল থেকে সশস্ত্র হামলাকারীরা বেরিয়ে এসে স্থানীয় বাজারে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং দোকানপাট লুট করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলে আসা বন্দুকধারীরা গ্রামবাসীদের জড়ো করে নির্বিচারে গুলি চালায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামলার সময় অনেক মানুষকে অপহরণও করা হয়েছে।
নাইজার স্টেট ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির কর্মকর্তা আবদুল্লাহি রোফিয়া ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রামবাসীদের ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানান, এলাকাবাসী আতঙ্কে লুকিয়ে আছে এবং কথা বলতে ভয় পাচ্ছে। নাইজার প্রদেশের পুলিশ মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন জানান, আহতদের সহায়তায় জরুরি দল পাঠানো হয়েছে এবং অপহৃতদের উদ্ধারে নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে।
পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটি এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণা করেছে এবং মুক্তিপণ প্রদান আইনত নিষিদ্ধ। তবে অভিযোগ রয়েছে, অনেক সময় এই নিয়ম উপেক্ষা করা হয়।
নাইজেরিয়ার নাইজার রাজ্যে সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কৃষক ও জেলেদের বহনকারী একটি যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার গভীর রাতে জিগাওয়া রাজ্য থেকে ইয়োবি রাজ্যে যাওয়ার পথে নৌকাটি উল্টে যায় বলে দেশটির জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইয়োবি রাজ্যের স্টেট ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ গোজে জানান, উদ্ধারকারী দল ও স্বেচ্ছাসেবকরা এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং ১৩ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নাইজেরিয়ার ব্যস্ত নদীপথে নৌদুর্ঘটনা নতুন নয়। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নৌযানের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং নিরাপত্তা বিধি না মানার কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। দেশটির পানিপথে প্রতি বছর নৌকাডুবির ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি হয়।
সর্বশেষ দুর্ঘটনার কারণ বা নৌকাটিতে মোট কতজন যাত্রী ছিলেন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও বিস্তারিত জানায়নি।
নাইজেরিয়ায় যাত্রীবাহী নৌকাডুবিতে ২৬ জন নিহত, ১৪ জন নিখোঁজ
বড়দিনের দিনে নাইজেরিয়ার সোকোটো রাজ্যে ইসলামিক স্টেট (আইএস) লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দেশটির ভেতরে ও আন্তর্জাতিকভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি জাবো গ্রামের একমাত্র স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কয়েক মিটার দূরে আঘাত হানে, ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে পড়েন। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক ও মার্কিন ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো হামলাকে ‘বড়দিনের উপহার’ হিসেবে উদযাপন করলেও নাইজেরিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে এটি নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও বেসামরিক সুরক্ষার প্রশ্ন নতুন করে তুলেছে।
অতি-ডানপন্থী কর্মী লরা লুমার সামাজিক মাধ্যমে হামলাকে ইসলামিক সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ন্যায্য প্রতিশোধ হিসেবে অভিহিত করেন। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র্যান্ডি ফাইন একে ‘অসাধারণ বড়দিনের উপহার’ বলেন, আর উত্তর ক্যারোলিনার সিনেটর টেড বাড ট্রাম্পের পদক্ষেপের প্রশংসা করেন, উল্লেখ করে যে আইএস নাইজেরিয়ায় হাজারো খ্রিস্টান ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুর মৃত্যুর জন্য দায়ী।
নাইজেরিয়ার সরকার জানিয়েছে, তারা সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা স্বাগত জানালেও তা দেশের সার্বভৌমত্ব ও আইনি কাঠামোর প্রতি সম্মান রেখে হতে হবে।
নাইজেরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আইএসআইএল যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিমান হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি জানান, কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে তাঁর নির্দেশে এই শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী হামলা পরিচালিত হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, আইএসআইএল যোদ্ধারা নিরীহ খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছিল এবং তিনি আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, এই সহিংসতা বন্ধ না হলে কঠোর পরিণতি হবে।
আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা ইউএস আফ্রিকা কমান্ড জানায়, নাইজেরীয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে এই হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে একাধিক আইএসআইএল সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নাইজেরিয়া সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আরও পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। আফ্রিকা কমান্ড জানায়, হামলাটি “সোবোতো রাজ্যে” হয়েছে, যা সম্ভবত সোকোতো রাজ্যকে নির্দেশ করে।
কয়েক সপ্তাহ আগে ট্রাম্প নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টান নিপীড়নের অভিযোগ তুলে সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে নাইজেরিয়া সরকার জানায়, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয় সম্প্রদায়কেই লক্ষ্য করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে গঠিত নিরাপত্তা সহযোগিতার ফলেই এই নির্ভুল বিমান হামলা সম্ভব হয়েছে।
নাইজেরিয়ার অনুরোধে আইএসআইএল যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বর্নো রাজ্যের রাজধানী মাইদুগুরিতে একটি মসজিদের ভেতরে বোমা বিস্ফোরণে অন্তত সাতজন মুসল্লি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজ চলাকালে এ বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও নিরাপত্তা সূত্র জানায়, এখনো কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। জিহাদবিরোধী মিলিশিয়া নেতা বাবাকুরা কোলোর মতে, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা হতে পারে। পুলিশের মুখপাত্র নাহুম দাসো বিস্ফোরণের ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
ঘটনাস্থল গামবোরু বাজার এলাকা পূর্বে বিদ্রোহী হামলার জন্য পরিচিত। বিস্ফোরণের পর মাইদুগুরিতে কর্মরত একটি আন্তর্জাতিক এনজিও তাদের কর্মীদের ওই এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে। বর্নো রাজ্য দীর্ঘদিন ধরে বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (আইএসডব্লিউএপি)-এর সহিংসতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, যেখানে ২০০৯ সাল থেকে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ নিহত ও প্রায় ২০ লাখ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় হামলা কমলেও বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর হামলা চালানোর সক্ষমতা এখনো বিদ্যমান, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলছে।
মাইদুগুরির মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে অন্তত সাতজন মুসল্লি নিহত
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৪৬ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।