গাজায় নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গণদাফনে ইসরাইলি হামলায় নিহত ১১২ জনকে দাফন করা হয়েছে। মঙ্গলবার এই গণদাফন অনুষ্ঠিত হয়। নিহতদের মরদেহ সম্প্রতি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
গাজা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে প্রায় ৪০ জন শিশু ছিল। ২০২৩ সালের একটি হামলায় নিহত সবাই দুই বৃহৎ পরিবারের সদস্য ছিলেন। ওই হামলায় দুই পরিবারের বহু সদস্য নিহত হওয়ার পর তাঁদের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিল।
দীর্ঘ তিন বছর পর মরদেহগুলো উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর মঙ্গলবার তাঁদের একসঙ্গে দাফন করা হয়। এই গণদাফনে নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। প্রতিবেদনে হামলার অন্য কোনো বিস্তারিত তথ্য বা নিহতদের পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।
গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার ১১২ জনকে তিন বছর পর একসঙ্গে দাফন
গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মতবিরোধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত বোর্ড অব পিস বলেছে, হামাস সম্পূর্ণ নিরস্ত্র হওয়ার পরই সেনা প্রত্যাহার শুরু হবে। ৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের আপত্তির পর বোর্ডটি এই অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
গত সপ্তাহে বোর্ড অব পিস হামাসের সঙ্গে একটি নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির ঘোষণা দেয়। ট্রাম্প তখন বলেন, চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে সাজানো কয়েকটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে এবং নিরস্ত্রীকরণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে। চুক্তির নথিতে গাজায় ইসরাইলি হামলার অবসান এবং নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে সেনা সরানোর কথা ছিল।
চুক্তিতে শারম আল-শেখে গত বছর স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন, মানবিক সহায়তার বাধাহীন প্রবেশ এবং চিকিৎসার জন্য মানুষ সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থার কথাও রয়েছে। হামাস বলেছে, ইসরাইল প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে কি না তার ওপর চুক্তি বাস্তবায়ন নির্ভর করবে। বোর্ডের পরিচালক নিকোলাই ম্লাদেনভ বলেন, হালকা ও ভারী অস্ত্র এবং সুড়ঙ্গসহ নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইল ইয়েলো লাইনের বাইরে যাবে না।
হামাসের পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে সেনা সরাবে না ইসরাইল
গাজা উপত্যকায় বেসামরিক মানুষ হত্যার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ এবং অবরুদ্ধ অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। ৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উপমুখপাত্র ফারহান হক বলেন, সংস্থাটি বেসামরিক মানুষের সব হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানায়।
ফারহান হক জানান, গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুসারে জুলাই মাসে ইসরাইলি হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে এক মাসে এটি সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা। তিনি শুক্রবার আল-আকসা হাসপাতালের কাছে চিকিৎসাসামগ্রীর একটি গুদামে ইসরাইলি হামলা নিয়ে উদ্বেগ জানান; হামলায় গুদামটি ধ্বংস হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জাতিসংঘ কর্মকর্তা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনায় হামলা চালানো বা সেগুলোকে সামরিক কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি ইনসুলিন, হৃদ্রোগের ওষুধ এবং অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রীর মজুত কমে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। হাত পরিষ্কার ও সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় অ্যালকোহলভিত্তিক জীবাণুনাশকও প্রায় পাওয়া যাচ্ছে না। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের আরও অনেক চিকিৎসাসামগ্রী গাজায় প্রবেশের জন্য ইসরাইলের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
গাজায় বেসামরিক হত্যা ও স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনায় হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার কিছু বিষয়ে তাঁর মতপার্থক্য রয়েছে। ৪ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, হামাসের সঙ্গে সাম্প্রতিক চুক্তি নিয়েও ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ভিন্নমত আছে। ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রধান দূত নিকোলাই ম্লাদেনভের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
নেতানিয়াহুর মতে, গাজা পুনর্গঠন শুরু হওয়ার আগে হামাসকে নিরস্ত্র করতে হবে এবং গাজা উপত্যকাকে সামরিকীকরণমুক্ত করতে হবে। এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, গাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে তাঁর উদ্যোগে গঠিত বোর্ড হামাসের সঙ্গে একটি ‘ঐতিহাসিক’ সমঝোতায় পৌঁছেছে। ওই সমঝোতায় হামাসের অস্ত্র ত্যাগ এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের কথা ছিল।
আল জাজিরার প্রদর্শিত চুক্তির নথিতে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে ধাপে ধাপে হামাসের নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি যুক্ত ছিল। তবে ইসরাইলের আপত্তির পর বোর্ড অব পিস জানায়, সেনা প্রত্যাহারের আগে হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্র হতে হবে। ফলে অস্ত্র সমর্পণ ও সেনা প্রত্যাহারের শর্তে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পার্থক্য সামনে এসেছে।
গাজা চুক্তির শর্তে ট্রাম্পের সঙ্গে মতপার্থক্যের কথা জানালেন নেতানিয়াহু
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গাজায় স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনায় ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং স্বাস্থ্য অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। ৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস বলেন, ১ আগস্ট আল-আকসা হাসপাতালের কাছে চিকিৎসাসামগ্রীর একটি গুদামে হামলায় জরুরি সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সামগ্রীর মধ্যে ডব্লিউএইচও সরবরাহ করা কিছু উপকরণও ছিল এবং হাসপাতালটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে টেড্রোস বলেন, স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনায় কখনো হামলা চালানো উচিত নয় এবং এগুলোকে কোনোভাবেই সামরিকীকরণ করা যাবে না। গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসাকেন্দ্র ও চিকিৎসাসামগ্রীর গুদামে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।
ডব্লিউএইচওর হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজার স্বাস্থ্য খাতে প্রায় এক হাজার হামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও অন্তত ১ লাখ ৭৪ হাজার আহত হয়েছেন বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে। স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে এসব স্থাপনার সুরক্ষার আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য স্থাপনায় হামলা বন্ধ ও অবকাঠামো সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউএইচও
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধের একটি পরিকল্পনা নিয়ে হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছে, যেখানে হামাস অস্ত্র সমর্পণ করলে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনটি ৪ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে প্রধান বিরোধ হলো, নিরস্ত্রীকরণ ও সেনা প্রত্যাহারের মধ্যে কোন পদক্ষেপটি আগে হবে।
হামাস বলেছে, তারা নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে প্রস্তুত, কিন্তু আগে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনাদের সরে যেতে হবে। তাদের মতে, সেনা প্রত্যাহারের পর অস্ত্র সমর্পণের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিপরীতে ইসরাইলি সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, হামাসকে আগে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র হতে হবে। ইসরাইলের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরস্ত্রীকরণ বলতে অস্ত্র ছেড়ে দেওয়াই বোঝায় এবং এর কম কিছু গ্রহণযোগ্য নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় ইসরাইলি বাহিনী সরে যাওয়ার পর গাজার নিরাপত্তার দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর নেওয়ার কথা রয়েছে। পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে গাজার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু হামাসের অস্ত্র সমর্পণ এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার কীভাবে সমন্বিত হবে, সেটিই চূড়ান্ত সমঝোতার মূল প্রশ্ন হয়ে আছে।
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের ক্রম নিয়ে অচলাবস্থা
হামাস অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি বানচাল করার উদ্দেশ্যে ইসরাইল গাজা উপত্যকায় হামলা চালিয়েছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আক্রমণ বাড়াচ্ছে। রোববার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি বলেছে, এসব হামলার লক্ষ্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন সম্পন্ন করতে মার্কিন প্রশাসন ও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে হওয়া সমঝোতাকে বাধাগ্রস্ত করা।
হামাসের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজায় ইসরাইলের ‘অপরাধমূলক ও উন্মত্ত বোমাবর্ষণে’ বহু পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। হামলা বন্ধে ইসরাইলের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। এই অভিযোগগুলো হামাসের বিবৃতিতে উত্থাপিত হয়েছে; ইসরাইলের কোনো প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
শান্তি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নের জন্য ট্রাম্পের রোডম্যাপ ঘোষণার পরও ইসরাইলি বাহিনী গাজায় বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে অন্তত ১৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, রোডম্যাপে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
হামাসের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির সমঝোতা বাধাগ্রস্ত করতে গাজায় হামলা বাড়িয়েছে ইসরাইল
গাজায় ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক। ৩ আগস্ট ২০২৬ তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলা ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের আগ্রহ না থাকার প্রমাণ। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, রোববারের হামলায় নিহতদের মধ্যে তিনটি শিশুও রয়েছে এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, নেতানিয়াহুর লক্ষ্য ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা এবং অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা ব্যাহত করা। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, নেতানিয়াহু এমন পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছেন যা মধ্যপ্রাচ্যের নাজুক আঞ্চলিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তুরস্ক আরও দৃঢ়, ধারাবাহিক ও কার্যকর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের কথাও বলা হয়েছে। বোর্ড অব পিসের প্রধান দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ জানিয়েছেন, গত দুই দিনে গাজাজুড়ে ইসরাইলি হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গাজায় ১৯ ফিলিস্তিনি নিহতের ঘটনায় ইসরাইলের নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান তুরস্কের
২০২৬ সালের ৩ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরাইলি বিমান ও কামান হামলায় অন্তত ১২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও এক অনাগত শিশু রয়েছে; আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। রোববারের হামলা খান ইউনিস, দেইর আল-বালাহ, গাজা সিটি ও উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ঘটে।
খান ইউনিসের আল-কারারা এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টে হামলায় একই পরিবারের মাহমুদ জাকি আল-হামস, তার স্ত্রী ফাতিমা আল-হামস ও তাদের ছোট মেয়ে নিহত হন। দেইর আল-বালাহে একটি বাড়িতে হেলিকপ্টার হামলায় কামাল আবু মুয়াইলিক ও তার স্ত্রী হুদা নিহত হন; একটি মোটরসাইকেলে পৃথক হামলায় নিহত হন আরও দুইজন।
গাজা সিটির আল-সুসি টাওয়ারে হামলায় আব্দুল্লাহ আবু তাইফ, তার স্ত্রী আবীর আনান, তাদের পাঁচ বছরের ছেলে আজ্জাম ও অনাগত শিশু নিহত হন। জাবালিয়ায় একজন নিহত ও আরেকজন আশঙ্কাজনক আহত হন। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দাবি, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি চলাকালে হামলায় ১,২২২ জন নিহত ও ৪,০৫৩ জন আহত হয়েছেন।
গাজাজুড়ে ইসরাইলি হামলায় অনাগত শিশুসহ অন্তত ১২ ফিলিস্তিনি নিহত
ইসরাইলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, গাজা উপত্যকার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা বর্তমানে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পুরো উপত্যকার ওপর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করা উচিত। রোববার দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন।
কোহেন দাবি করেন, গাজায় হামলা বন্ধের জন্য বর্তমানে কোনো ধরনের চুক্তি হয়নি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হামাসের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি সমঝোতা চুক্তিরও বিরোধিতা করেন। আলোচিত প্রস্তাবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এর আগে ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির খসড়া চুক্তিটিকে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেন। ইসরাইলি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের এমন ধারাবাহিক অবস্থান গাজাকে ঘিরে চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
গাজায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি ইসরাইলি মন্ত্রী এলি কোহেনের
মার্কিন মধ্যস্থতায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও সংগঠন বিলুপ্তির প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে ইসরাইলের মধ্যে সন্তুষ্টি নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক রাষ্ট্রদূত অলোন পিনকাস। ২ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সমঝোতা ঘোষণার পরের ৪৮ ঘণ্টায় গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। পিনকাসের মতে, চুক্তির কথা বলা হলেও এখনো বাস্তবে কার্যকর কোনো সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত শান্তি প্রক্রিয়ায় ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পিনকাস এটিকে ইসরাইলের অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতিটি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় ধাক্কা, আর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রত্যাশিত ফল না আসাও সরকারের জন্য নেতিবাচক দিক।
চুক্তি অনুযায়ী হামাস কিছু শর্ত মানার পর ইসরাইলেরও বাফার জোনে সেনা পুনর্বিন্যাস, গাজায় বাধাহীন মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ এবং সামরিক হামলা বন্ধের দায়বদ্ধতা ছিল। তবে গত শুক্রবারের ঘোষণার পর এসব শর্ত কার্যকর হতে দেখা যায়নি বলে পিনকাস দাবি করেন। আগামী অক্টোবরে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের আগে গাজার পরিস্থিতি ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা নেতানিয়াহুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রস্তাবিত নিরস্ত্রীকরণ সমঝোতার পরও গাজায় ইসরাইলি অভিযান জোরদারের দাবি
গাজা সিটির বাস্তুচ্যুত আবদেল আল পরিবারের দুই ছেলে ওসমান ও সামি ২৯ জুন ২০২৫ সকালে বেরিয়ে আর ফেরেনি। বর্তমানে ১৭ বছর বয়সী ওসমান ও ১৩ বছরের সামি মধ্য গাজার তথাকথিত নেতজারিম করিডরের কাছে একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে যাওয়ার কথা বলেছিল। তাদের মা ৩৬ বছর বয়সী আশজান আবদেল আল এবং বাবা ৪১ বছর বয়সী রাফাত এক বছরের বেশি সময় ধরে ছেলেদের ভাগ্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্যের অপেক্ষায় আছেন।
রাফাত হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র ও আত্মীয়দের কাছে খোঁজ করেও কোনো সন্ধান পাননি। শুজাইয়ায় চারটি মরদেহের খবর এবং আল-আহলি আরব হাসপাতালে একটি অজ্ঞাত মরদেহের ছবি পরিবারকে সম্ভাব্য সূত্র দিলেও, কোনোটিই ছেলেদের পরিচয় নিশ্চিত করেনি। মে মাসে এক কথিত আইনজীবীর মাধ্যমে তারা শুনেছিলেন দুই ছেলে ইসরায়েলি কারাগারে জীবিত আছে, কিন্তু তথ্যটি কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি এবং ওই আইনজীবীর সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করা যায়নি।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের হিসাবে, ভূখণ্ডজুড়ে প্রায় ১১,২০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ। ফিলিস্তিনি সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড ফোর্সিবলি ডিসঅ্যাপিয়ার্ড পারসনস বলেছে, একাধিক ও অনির্ভরযোগ্য উৎসের কারণে এসব ঘটনা নথিভুক্ত করা কঠিন। আইসিআরসি জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি আটককেন্দ্রে তাদের প্রবেশাধিকার নেই; ফলে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে পরিবারকে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
গাজায় নিখোঁজ দুই ছেলের খোঁজে অনিশ্চয়তা ও তথ্যের অপেক্ষায় একটি পরিবার
হামাসের সাবেক রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়ার পরিবার জানিয়েছে, ইসরাইলের সঙ্গে চলমান গাজা যুদ্ধে তাদের ৭৫ জনের বেশি ঘনিষ্ঠ সদস্য নিহত হয়েছেন। হানিয়ার ছেলে আবদুল সালাম হানিয়া তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, পরিবারের বিস্তৃত আল-হাজ্জ গোত্রের প্রায় ২৫০ জন সদস্যও যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন। ইসমাইল হানিয়া হত্যাকাণ্ডের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে এই সাক্ষাৎকার দেওয়া হয়।
আবদুল সালাম বলেন, ঘরের দেয়ালে টাঙানো পারিবারিক ছবিতে থাকা স্বজনদের বড় অংশ ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন। ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল ঈদুল ফিতরের দিনে ইসরাইলি বিমান হামলায় হানিয়ার তিন ছেলে হাজেম, আমির ও মোহাম্মাদ এবং তাদের সন্তানরা নিহত হন। তিনি বাবাকে শিক্ষক, পরামর্শদাতা, রাজনৈতিক নেতা ও স্নেহশীল বন্ধু হিসেবে বর্ণনা করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই তেহরানে ইসমাইল হানিয়া নিহত হন; পরে ওই বছরের ডিসেম্বরে তৎকালীন ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ইসরাইলের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। আবদুল সালাম তুরস্কের সমর্থনের প্রশংসা করে মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির আশা জানান। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে নিহত ৭৩ হাজার ৩৪৯ এবং আহত ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৬২ জন।
হানিয়া পরিবারের দাবি, গাজা যুদ্ধে তাদের ৭৫ জনের বেশি ঘনিষ্ঠ স্বজন নিহত
চলমান যুদ্ধের মধ্যে মা-বাবা বা অভিভাবক হারানো শিশুদের বাস্তবতার প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় একটি বিশেষ দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ২ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতীকী এই ম্যারাথনে শত শত ফিলিস্তিনি শিশু অংশ নেয়। মানবাধিকার ও ত্রাণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্কিং ফর হিউম্যানিটেরিয়ান এই আয়োজনের উদ্যোগ নেয়।
সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে প্রতিদিন বহু শিশু বাবা-মা কিংবা অভিভাবক হারিয়ে এতিম হয়ে পড়ছে। চরম অনিশ্চয়তা ও মানবিক সংকটের মধ্যে থাকা এসব শিশুর দুঃখ-কষ্ট এবং সামগ্রিক দুর্দশার কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরাই ছিল দৌড়ের মূল উদ্দেশ্য। আয়োজকরা এই কর্মসূচিকে গাজার শিশুদের পরিস্থিতি সামনে আনার একটি প্রতীকী উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
ম্যারাথন চলাকালে শিশু ও আয়োজকদের পক্ষ থেকে অবরুদ্ধ গাজার এতিম শিশুদের সুরক্ষায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে তাদের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা এগিয়ে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। প্রতিবেদনে দৌড়ের নির্দিষ্ট স্থান, সময়কাল বা সহায়তার ধরন সম্পর্কে অতিরিক্ত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
গাজায় এতিম শিশুদের দুর্দশা তুলে ধরতে শত শত শিশুর প্রতীকী ম্যারাথন
গাজা উপত্যকার দুটি পৃথক স্থানে বিমান হামলা চালিয়ে হামাসের দুই কমান্ডারকে হত্যা করার দাবি করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ গাজায় শনিবার পরিচালিত একটি হামলায় সালাম জামাল আবদ আল-রহমান আবু লাবাদ নিহত হন বলে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে।
ইসরাইলি বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, আবু লাবাদ হামাসের বিশেষ বাহিনী ‘নুখবা’র একটি সেলের দায়িত্বে ছিলেন। সেনাবাহিনীর দাবি, তিনি ২০২৩ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ ইসরাইলের কিবুটজ নির ওজে চালানো হামলায় সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন।
এর আগে শুক্রবার মধ্য গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর আরেকটি পৃথক বিমান হামলা হয়। সেনাবাহিনী বলেছে, ওই হামলায় হামাসের মাগাজি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার মুহাম্মদ আবদ আল-নাসের মুহাম্মদ খতিব নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে হামাসের পক্ষ থেকে এ দাবিগুলোর প্রতিক্রিয়া বা হামলাগুলো সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
গাজার পৃথক দুই বিমান হামলায় হামাসের দুই কমান্ডার নিহতের দাবি ইসরাইলি সেনাবাহিনীর
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পৃথক বিমান হামলায় রোববার অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আল-জাজিরা অ্যারাবিকের প্রতিবেদকদের বরাতে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, গাজার বিভিন্ন আবাসিক ভবনে হামলাগুলো চালানো হয়। নিহতের এই সংখ্যা রোববার সকাল থেকে ইসরাইলি হামলায় মোট প্রাণহানির হিসাব।
মধ্য গাজার ডেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি বাড়িতে হামলায় ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হন। গাজা সিটির উত্তরাঞ্চলের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে পৃথক বিমান হামলায় তিনজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের উত্তরে আল-কারারা শহরে আরেক বিমান হামলায় একই পরিবারের তিন ফিলিস্তিনি নিহত হন।
খান ইউনিসের নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স নিহত তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে শনিবারও গাজাজুড়ে ইসরাইলি বাহিনীর বিভিন্ন হামলায় অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। হামলার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা ফাতাহর সাবেক জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ দাহলান জানান, জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে তার কথা হয়েছে; কুশনার গাজায় হামলা বন্ধে ইসরাইল সরকারের সঙ্গে কাজ করছেন বলে তাকে আশ্বস্ত করেছেন।
গাজার তিন এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় রোববার অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ২৪ জুলাই প্রকাশিত তাওজিহি ফলাফলে মুসা পরিবারের তিন ভাইবোন সামা, আবদুল্লাহ ও নাদা উজ্জ্বল ফল করেছে। ফিলিস্তিনি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষায় সামা পেয়েছে ৯৭.৫ শতাংশ, আবদুল্লাহ ৯৪.৬ শতাংশ এবং নাদা ৯৪.৪ শতাংশ। চলমান যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও তারা পড়াশোনা চালিয়ে যায়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে আবদুল্লাহ ও নাদা ব্যক্তিগত কোচিংয়ে যেতে না পারায় পরিবার শিক্ষককে বাড়িতে আনার ব্যবস্থা করে।
ফিলিস্তিনি শিক্ষামন্ত্রী আমজাদ বারহাম জানান, এ বছর পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা থেকে প্রায় ৮৯ হাজার শিক্ষার্থী তাওজিহি পরীক্ষায় অংশ নেয়; আরও ৪৬ দেশে অংশ নেয় ২ হাজার শিক্ষার্থী। তাঁর মতে, গত তিন বছরে গাজা থেকে ১ লাখ ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এ পরীক্ষা দিয়েছে, যার মধ্যে ২০২৬ সালে ছিল ৩৬,৯০০ জন। এ বছর পরীক্ষায় বসার কথা ছিল এমন ১,১০০-এর বেশি শিক্ষার্থী ইসরায়েলের হাতে নিহত হয়েছে বলে তিনি জানান।
জাতিসংঘ নভেম্বরে বলেছিল, দুই বছরের যুদ্ধে গাজার ৯৭ শতাংশের বেশি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় ৯২ শতাংশ শিক্ষা স্থাপনার পূর্ণ পুনর্নির্মাণ বা বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। দেইর এল-বালাহর শিক্ষক হানাআ আল-সাইয়েদ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত একটি শিক্ষাকেন্দ্রে মাদুরে বসা শিক্ষার্থীদের পড়িয়েছেন। বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের তালা আবু সুক্কার, যিনি যুদ্ধে পরিবারের বহু সদস্য হারিয়েছেন, ৮৬ শতাংশ পেয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।
গাজায় যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও শোকের মধ্যেও তাওজিহি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের সাফল্য
হামাস ও তাদের মিত্র ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো একটি নিরস্ত্রীকরণ রোডম্যাপে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ১ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জানানো হয়, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলের পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার, পুনর্গঠন শুরু এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে কার্যকর অগ্রগতি প্রয়োজন। হামাস সরাসরি ইসরাইলের কাছে অস্ত্র সমর্পণে রাজি নয়; স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে রাষ্ট্রটির নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে অস্ত্র হস্তান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ইসরাইল গাজা থেকে পুরোপুরি সেনা সরিয়ে নিলে এবং পুনর্গঠনে বাধা না দিলে প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো ধাপে ধাপে ভারী অস্ত্র সংরক্ষণ ও নিষ্ক্রিয় করা শুরু করবে। ব্যক্তিগত অস্ত্র নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ক্রমে গাজার প্রশাসনিক কাঠামোর কাছে দেওয়া হবে। তবে ইসরাইলের পক্ষ থেকে পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার বা পুনর্গঠন নিয়ে কার্যকর ইতিবাচক সংকেত মেলেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পরও সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। হামাস বলেছে, তারা ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন হামলা চালায়নি এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব জাতীয় প্রশাসনিক কমিটির কাছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ইসরাইল যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন, মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা এবং সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ইসরাইলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রশ্নে অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।
শর্তসাপেক্ষ নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হামাস, ইসরাইলি প্রত্যাহার ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অগ্রগতি চায়
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বিভিন্ন অঞ্চলে গত ৪৮ ঘণ্টায় টানা ইসরাইলি হামলায় অন্তত সাত ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৭৬ জন আহত হয়েছেন। ১ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পূর্বের একটি হামলায় আহত আরও একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৫৩ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮ হাজার ৪টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া সামগ্রিক সংঘাতে মোট নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৩৪৯ জনে পৌঁছেছে। আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৬২ জনে। ভবন ধসের ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যুর পর ধসে পড়া ভবনের কারণে মোট প্রাণহানি বেড়ে ৩৩ জন হয়েছে।
গাজায় ৪৮ ঘণ্টার ইসরাইলি হামলায় নিহত ৭, আহত ৭৬; আহত আরও একজনের মৃত্যু
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র দলকে নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘গাজা বোর্ড অব পিস’ এই সমঝোতায় পৌঁছায়। ১ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংযুক্ত আরব আমিরাত এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং গাজা সংঘাত অবসানের পথে এটিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়ামের উদ্ধৃতিতে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, চুক্তিটি সংঘাত নিরসন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বাড়ানো এবং টেকসই শান্তির জন্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরুর প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মন্ত্রণালয় আশা করছে, সমঝোতাটি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করবে।
প্রস্তাবিত চুক্তিতে ধাপে ধাপে অস্ত্র সংবরণ এবং একই সময়ে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের রূপরেখা রয়েছে। এতে নতুন একটি ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী গঠন ও ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনী’ বা আইএসএফ মোতায়েনের কথাও বলা হয়েছে। আমিরাতের মতে, এটি বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা কমাতে এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত গাজা উপত্যকার পুনর্নির্মাণের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
গাজা নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিকে সংঘাত অবসানের বড় পদক্ষেপ বলল আমিরাত
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৯৬ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।