গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ জানিয়েছেন, গাজায় সম্প্রতি ধসে পড়া একটি ছয়তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকা থাকতে পারেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, গাজাজুড়ে প্রায় ২ হাজার ভবন একই ধরনের ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। ভবনটি আগে ইসরাইলি বোমাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং আশপাশে গোলাবর্ষণের পর এটি ধসে পড়ে।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আল-বুরশ বলেন, ভবনের ভেতরে থাকা বাস্তুচ্যুত মানুষ এবং পাশের তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া লোকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। ওই ঘটনায় প্রায় ১০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। স্বজনদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ৭৫ জনের বেশি নিখোঁজ ব্যক্তির নাম নিবন্ধন করা হয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় ৫০ জন শিশু।
আল-বুরশ জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনো সাহায্যের জন্য মানুষের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত সীমিত সরঞ্জাম নিয়ে কাজ করছেন এবং ভারী কংক্রিটের খণ্ড সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির ঘাটতিতে রয়েছেন। এই সংকট আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত উদ্ধারে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তিনি পরিস্থিতিকে সময়ের সঙ্গে নির্মম প্রতিযোগিতা হিসেবে বর্ণনা করেন।
গাজায় প্রায় ২ হাজার ভবন ধসের ঝুঁকিতে, সরঞ্জাম সংকটে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত
গাজা সিটিতে একটি ছয়তলা ভবন ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে, যাদের মধ্যে পাঁচ শিশু রয়েছে। ভবনটি ধসে পড়ার সময় সেখানে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা অবস্থান করছিলেন। ভবনের পাশের তাঁবুতেও কয়েকজন আশ্রয় নিয়েছিলেন। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ আল জাজিরাকে বলেন, ভবনটি এর আগে ইসরাইলি বোমাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে আশপাশে গোলাবর্ষণের পর এটি ধসে পড়ে। এতে ভবনের ভেতরে থাকা মানুষদের পাশাপাশি পাশের তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুতরাও চাপা পড়েন।
আল-বুরশের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবন ধসের ঘটনায় প্রায় ১০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। স্বজনদের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ৭৫ জনের বেশি নিখোঁজ ব্যক্তির নাম নিবন্ধন করা হয়েছে। নিবন্ধিত নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৫০ জন শিশু রয়েছে। উদ্ধারকাজের অগ্রগতি বা ধ্বংসস্তূপ সরানোর সময়সূচি সম্পর্কে সূত্রে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
গাজা সিটিতে ভবন ধসে ২০ নিহত, প্রায় ১০০ জন এখনো নিখোঁজ
গাজা সিটির পশ্চিমে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় দেওয়া একটি ভবন মঙ্গলবার মধ্যরাতে ধসে ১১ জন নিহত হয়েছেন বলে উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচ শিশু রয়েছে। ভবনটি ধসের সময় বাসিন্দারা ঘুমিয়ে ছিলেন।
উদ্ধারকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অন্তত ১০০ ফিলিস্তিনি আটকা পড়ে আছেন। আটকে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ৫০ জন শিশু। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১ জনের লাশ বের করেছেন এবং ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।
বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত ভবনটি এর আগে ইসরাইলি গোলাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আটকে পড়া অন্যদের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
গাজা সিটিতে ভবন ধসে ১১ নিহত, ধ্বংসস্তূপে আটকা শতাধিক মানুষের উদ্ধার চলছে
অর্থসংকটের কারণে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে গাজার ২০টির বেশি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডিজেল সরবরাহ বন্ধ করবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, এমন তথ্য জানিয়েছেন গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, বর্তমানে পাওয়া অল্প জ্বালানি দিয়ে স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রগুলো কোনোমতে সচল রাখা হচ্ছে।
আল-বুরশের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিজেল সরবরাহ বন্ধ হলে হাসপাতালের জেনারেটর, অস্ত্রোপচারকক্ষ ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের কার্যক্রম থেমে যেতে পারে। ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন সরবরাহব্যবস্থাও অচল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ইনকিউবেটরে থাকা নবজাতক, ডায়ালাইসিস রোগী, আহত ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং ওষুধ ও টিকা সংরক্ষণের ব্যবস্থাও অচল হয়ে যাবে। এটিকে সাময়িক জ্বালানি সংকট নয়, হাসপাতালগুলোকে পুরোপুরি বন্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। ব্যবস্থা নিতে ডব্লিউএইচও, দাতা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আল-বুরশ। তবে সরবরাহ বন্ধের বিষয়ে ডব্লিউএইচও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
ডিজেল বন্ধ হলে গাজার হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা অচল হওয়ার আশঙ্কা
গাজার শিক্ষাব্যবস্থা ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ থেকে ইউনেস্কোর কাছে হস্তান্তরের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ বিষয়ে সাবেক ইউএনআরডব্লিউএ কর্মকর্তা খলিল আল-হালাবির প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সরাসরি বিষয়টি নাকচ করেন। তাঁর সংক্ষিপ্ত জবাব ছিল, ‘অবশ্যই নয়।’
৭২ বছর বয়সি আল-হালাবি ইউএনআরডব্লিউএর শিক্ষা কর্মসূচির উপপ্রধান, স্কুল শিক্ষা বিভাগের পরিচালক এবং উত্তর গাজার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। অবসরের পরও তিনি গাজার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছেন।
আল-হালাবির মতে, ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ইউএনআরডব্লিউএর সাত দশকের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই অভিজ্ঞতার কারণে সংস্থাটির বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া সহজ হবে না বলে তিনি মনে করেন। ইউনেস্কোর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের গুঞ্জনের মধ্যেই জাতিসংঘের অবস্থান সামনে এসেছে। গুতেরেসের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউএনআরডব্লিউএর শিক্ষা কার্যক্রম ইউনেস্কোর কাছে সরিয়ে নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা বর্তমানে নেই।
গাজার শিক্ষা দায়িত্ব ইউএনআরডব্লিউএ থেকে ইউনেস্কোতে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই: জাতিসংঘ
গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ ফিলিস্তিনি পুরুষদের জীবনে ঘরবাড়ি, জীবিকা ও স্বজন হারানোর বাইরেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। চারজন পুরুষের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, যুদ্ধ তাদের আত্মপরিচয়, পারিবারিক সম্পর্ক, মানসিক অবস্থা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে বদলে দিয়েছে। বাস্তুচ্যুতি, শোক, বেকারত্ব ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পরিবার ও পুনর্গঠনের আকাঙ্ক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
৩৯ বছর বয়সী আহমেদ পিএইচডি, রেডিও উপস্থাপনা, সম্পাদনা ও গবেষণার কাজ করতেন। ২০২৪ সালের মে মাসে পরিবারসহ ঘর ছাড়ার পর তাঁবুতে থেকে পানি ও শৌচাগারের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে; এতে তার আত্মমর্যাদাবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৪০ বছর বয়সী নিদাল ব্যবসা, বাড়ি, অর্থ, এক আত্মীয় এবং স্কুলে বিমান হামলায় নিহত মেয়ে মালেককে হারিয়েছেন। আগের মতো উপার্জন করতে না পারায় তিনি নিজেকে অসহায় মনে করেন এবং মানুষের সঙ্গে কথা বলার আগ্রহও কমেছে।
২৪ বছর বয়সী হুসেইন বাড়ি হারানোর পর ফোনসংক্রান্ত কাজ করে জীবিকা চালানোর চেষ্টা করছেন এবং ভবিষ্যতে বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার আশা রাখছেন। ২২ বছর বয়সী হামজা উত্তর গাজায় জরুরি চিকিৎসাসেবায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করে দেখেছেন, যৌথ দুর্ভোগ পরিবারের বন্ধন দৃঢ় করতে পারে। এসব অভিজ্ঞতা প্রচলিত উপার্জনকারী ও আশ্রয়দাতার ভূমিকা দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি পারিবারিক নির্ভরতা বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে।
গাজার যুদ্ধে ফিলিস্তিনি পুরুষদের জীবিকা, সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ ভাবনা বদলেছে
মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব গাজা উপত্যকায় চলমান নৃশংসতায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, গাজায় এখনো গণহত্যা চলছে এবং মার্কিন বোমার আঘাতে শিশুরা নিহত হচ্ছে।
তালিব বলেন, মার্কিন প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্রের আঘাতে গাজায় শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, হামলা থেকে যারা বেঁচে থাকছেন, তারা চিরস্থায়ী মানসিক আঘাতের শিকার হচ্ছেন।
কংগ্রেস সদস্য এই ঘটনাকে জাতিগত নির্মূলের নৃশংস কর্মকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের যে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। অস্ত্র, ঘটনার নির্দিষ্ট বিবরণ বা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সূত্রে অতিরিক্ত তথ্য দেওয়া হয়নি।
রাশিদা তালিব গাজায় সহিংসতা ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডে এক সংবাদ সম্মেলনে গাজা ইস্যুতে তাঁর প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। ইসরাইলের কথিত ‘গণহত্যামূলক যুদ্ধে’ যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি মার্কিন প্রচেষ্টাকে ‘অসাধারণ’ বলেন। ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রই আগুন নিভিয়েছিল এবং সব জিম্মিকে ফিরিয়ে এনেছিল। তিনি বলেন, বর্তমানে গাজায় খুব একটা কিছু ঘটছে না।
ট্রাম্প বলেন, নিহত জিম্মিদের বাবা-মায়েরাও জানতেন যে তাঁদের সন্তানরা মারা গেছেন, তবে তাঁরা ছেলে বা মেয়ের মরদেহ ফেরত পেতে চেয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত প্রত্যেককে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গাজাকে ঘিরে এখন অনেক ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন এবং প্রশাসনের কাজকে দারুণ বলে বর্ণনা করেন।
তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবরের তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি হামলা থামেনি। ওই ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে গাজায় নতুন করে অন্তত ১ হাজার ৩৩৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৪ হাজার ৪২৯ জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে লাশের সারি দীর্ঘ হওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
ট্রাম্প গাজায় মার্কিন ভূমিকার প্রশংসা করলেও যুদ্ধবিরতির পরও হামলা চলার কথা প্রতিবেদনে
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, গাজা উপত্যকায় রাতভর চালানো হামলায় হামাসের আল-কাসাম ব্রিগেডের খান ইউনিস ব্রিগেডের কমান্ডার মুহাম্মদ ইয়াজুরি নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, খান ইউনিস এলাকায় রাতে এই হামলা চালানো হয়।
ইসরাইলি বাহিনী আরও জানিয়েছে, একই হামলায় হামাসের আরও দুই যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। তবে নিহত ওই দুই হামাস যোদ্ধার পরিচয় প্রকাশ করেনি তারা।
আল-কাসাম ব্রিগেড হামাসের সামরিক শাখা। ইয়াজুরির নিহত হওয়া এবং হামলার অন্যান্য বিবরণ ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবির ভিত্তিতে জানানো হয়েছে; এ বিষয়ে হামাসের কোনো প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে নেই।
খান ইউনিসে হামলায় হামাস কমান্ডার মুহাম্মদ ইয়াজুরি নিহতের দাবি ইসরাইলের
নতুন শিক্ষাবর্ষে স্কুলে ফেরার প্রস্তুতির দিনে পশ্চিম গাজা সিটিতে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় আট বছর বয়সি ফিলিস্তিনি শিশু ওয়াফা ইউসুফ নাবিল আকিলা ও তার বাবা ইউসুফ নাবিল রাবাহ আকিলা নিহত হয়েছেন। আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় আরও ছয় ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। হামিদের মোড়ের কাছে বাবা-মেয়েকে বহনকারী গাড়িটিতে হামলা চালানো হয়।
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে নীল রঙের স্কুল ইউনিফর্ম পরে হাসিমুখে থাম্বস-আপ দিয়ে ছবি তুলেছিল ওয়াফা। নতুন বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী কিনতে বাবার সঙ্গে বের হয়েছিল সে। হামলার পর বিধ্বস্ত গাড়ির পাশে তার স্কুলের বই ও শিক্ষাসামগ্রী ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী প্রথমে বলেছে, হামলাটি হামাসের এক সদস্যকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল এবং ফলাফল পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পরে তারা ওয়াফার বাবাকে হামাসের নুখবা বাহিনীর একটি কোম্পানির কমান্ডার বলে দাবি করে, তবে প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ দেয়নি। দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে গাজার শিক্ষা অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; আনুষ্ঠানিক শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে কিছু স্কুল ও বিকল্প শিক্ষা কেন্দ্র চালু হয়েছে।
গাজা সিটিতে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় আট বছরের ওয়াফা ও তার বাবা নিহত
গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১০০টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার হওয়া লাশের বেশির ভাগই শিশুদের। জেইতুনে এখন নিহতদের গণদাফনের প্রস্তুতি চলছে এবং লাশ নিয়ে শোকযাত্রার আয়োজনেরও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় তিন বছর ধরে ওই এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর বারবার হামলার পর নিহতদের লাশ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিল। ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর জেইতুনের কয়েকটি আবাসিক ভবনে বোমা হামলা চালানো হয়। সেই হামলা থেকে বেঁচে পরে ভবনগুলোতে আশ্রয় নেওয়া লোকজনও পরের কয়েক মাসে হামলার শিকার হন।
দীর্ঘ সময় পর সম্প্রতি ওই ধ্বংসস্তূপ থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যে এলাকায় এখন দাফনের প্রস্তুতি চলছে সেখানে প্রায় তিন বছর ধরে হামলা অব্যাহত ছিল। প্রতিবেদনে নিহতদের পরিচয় বা গণদাফনের নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
গাজা সিটির জেইতুনে ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০০ লাশ উদ্ধার, গণদাফনের প্রস্তুতি
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের ‘স্বেচ্ছা অভিবাসন’-এর আহ্বান নতুন করে তুলেছেন। ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে আয়োজিত রাজনৈতিক সম্মেলনে তিনি বলেন, গাজার সংকটের বাস্তব সমাধান এ ছাড়া নেই। কাটজের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারণে একসময় স্থগিত থাকা গাজাবাসী সরানোর পরিকল্পনা বাতিল হয়নি; এতে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কাটজ বলেন, অন্য দেশে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে ইসরাইল সমুদ্র, আকাশ বা অন্য যেকোনো পথে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নিতে প্রস্তুত। তার মতে, সবচেয়ে বড় বাধা অন্য দেশগুলোর গাজাবাসী গ্রহণে অনাগ্রহ। এর আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইসরাইল একটি বিশেষ দপ্তর গঠন করেছিল, যার ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল তৃতীয় দেশে গাজাবাসীদের নিরাপদ ও তত্ত্বাবধানে চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করা।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি পরিকল্পনায় উচ্ছেদের বদলে ফিলিস্তিনিদের গাজায় থেকে পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল এবং কয়েকটি আরব দেশ তা স্বাগত জানিয়েছিল। তবে সেনা প্রত্যাহার ও হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে ইসরাইল-হামাস বিরোধে পরিকল্পনাটি আটকে আছে। ডানপন্থি ইসরাইলি রাজনীতিকেরাও গাজায় ইহুদি বসতি স্থাপনের দাবি তুলেছেন। কাটজের বক্তব্যে ওয়াশিংটন তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের ‘স্বেচ্ছা অভিবাসন’ নিয়ে ফের বক্তব্য কাটজের
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, গাজায় যা ঘটছে তা ভয়াবহ। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি জানান, গাজায় ছিলেন বা এখনো সেখানে অবস্থান করছেন—এমন কয়েকজনের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেছেন। তাদের কাছ থেকে তিনি পরিস্থিতির তীব্রতা ও ভয়াবহতার কথা শুনেছেন।
মিলিব্যান্ড বলেন, বৈঠকে তাকে জানানো হয়েছে যে গাজায় জরুরি ওষুধ পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, জীবন রক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা শিশুরা মারা যাচ্ছে—এমন তথ্যও তিনি পেয়েছেন।
গাজার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন মিলিব্যান্ড। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সবাইকে আগের চেয়ে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং এখন পর্যন্ত যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে বেশি দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
গাজার পরিস্থিতিকে ভয়াবহ বলে আরও দৃঢ় যুক্তরাজ্য পদক্ষেপ চাইলেন এড মিলিব্যান্ড
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৭৩ হাজার ৪৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৪০ জন আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও গাজা সরকারি তথ্য কার্যালয়ের বরাতে আল-জাজিরা হালনাগাদ এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজার হাজার মানুষ চাপা পড়ে আছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা গাজার মোট জনসংখ্যার প্রতি ৩৩ জনে একজনের সমান। আহত হয়েছেন প্রতি ১৪ জন বাসিন্দার মধ্যে অন্তত একজন। আহতদের অনেকের শরীরে স্থায়ী অথবা জীবনের গতিপথ বদলে দেওয়ার মতো গুরুতর আঘাত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর ঘোষিত তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি হামলা বন্ধ হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘোষণার পর থেকে অন্তত ১ হাজার ৩৩৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৪ হাজার ৪২৯ জন আহত হয়েছেন। উত্তর গাজা, গাজা সিটি, দেইর আল-বালাহ, খান ইউনিস ও রাফাহজুড়ে বেসামরিকরা বিমান ও স্থল হামলার শিকার হচ্ছেন; মানবিক সংকটকে চরম বলা হয়েছে।
হালনাগাদ তথ্যে গাজায় নিহত ৭৩ হাজার ৪৭০, আহত ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৪০
গাজায় ইসরাইলের অবরোধ চ্যালেঞ্জ করতে নতুন আন্তর্জাতিক মিশন শুরু করেছে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন। বহরের জাহাজগুলো ইউরোপের বিভিন্ন বন্দরে থামছে এবং অক্টোবর মাসে গাজার উপকূলে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে। দুটি জাহাজ ইতোমধ্যে যাত্রা শুরু করেছে। হানজালা-২ জুন ও জুলাইয়ে নরওয়ে, সুইডেন এবং ডেনমার্কের বিভিন্ন বন্দরে যায়। কেট জাহাজটি চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল থেকে রওনা হয়ে আয়ারল্যান্ড, জার্মানি ও ফ্রান্সে পৌঁছেছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, অতীতে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে ফ্লোটিলার কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মারধর, টেজার ব্যবহার ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগের পরও উদ্যোগটি চলবে। তাদের মতে, গাজায় চলমান মানবিক সংকটের কারণে এখনই আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। এ মিশনে মানবাধিকারকর্মী, শান্তিকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও ফিলিস্তিনপন্থি অধিকারকর্মীরা অংশ নিয়েছেন।
এফএফসি সরকারগুলোর কাছে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করা, গাজায় খাদ্য, পানি ও ওষুধ প্রবেশে বাধা বন্ধে ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং জাহাজে হামলা বা জব্দ হলে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ইউনিসেফ বলেছে, গাজার ৮২ শতাংশের বেশি পরিবার এখনো নিরাপদ পানির সংকটে রয়েছে এবং পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে।
অক্টোবরে গাজায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে ইউরোপজুড়ে যাত্রা শুরু ফ্রিডম ফ্লোটিলার
ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে বিমান হামলায় হামাসের অভিজাত নুখবা ইউনিটের কমান্ডার মুহাম্মদ মাহমুদ মারশাদ আল-কাদি নিহত হয়েছেন। আইডিএফের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার তাকে লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হয়।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর অভিযোগ, আল-কাদি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামলায় অংশ নিয়েছিলেন। তারা আরও দাবি করেছে, রাফাহ এলাকায় হামাসের হাতে জিম্মিদের আটকে রাখার সঙ্গে তিনি আংশিকভাবে জড়িত ছিলেন এবং হামাসের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় যুক্ত ছিলেন।
আইডিএফ আল-কাদিকে নুখবা ইউনিটের একটি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তার নিহত হওয়ার দাবির বিষয়ে হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
খান ইউনিসে বিমান হামলায় হামাস নুখবা কমান্ডার নিহতের দাবি ইসরাইলের
উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া এলাকায় বৃহস্পতিবার দুই ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। স্থানীয় সূত্রের বরাতে এর আগে জানানো হয়েছিল, ইসরাইলি সেনারা একদল লোকের ওপর গুলি চালালে দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন। আলজাজিরাও আগে এ তথ্য জানিয়েছিল।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুজন ব্যক্তি ‘হুমকি’ দেওয়ার পর তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ অতিক্রম করায় নিহত হন। এই রেখাকে ইসরাইল-অধিকৃত সামরিক সীমারেখা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের অতিক্রমের অনুমতি নেই।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী হলুদ কংক্রিটের ব্লক দিয়ে চিহ্নিত রেখাটি গাজা উপত্যকার আরও গভীরে সরিয়ে নিচ্ছে। এতে ভূখণ্ডটির প্রায় ৬০ শতাংশে ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ঘোষিত যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ইসরাইলি হামলা ও গুলিবর্ষণ অব্যাহত থাকার অভিযোগের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল।
উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় দুই ফিলিস্তিনি নিহতের কথা নিশ্চিত করল ইসরাইল
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ বলেছেন, গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল হয়নি; মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটি আপাতত স্থগিত রেখেছেন। ওয়াইনেটের এক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, সংকটের স্থায়ী সমাধানে গাজাকে জনশূন্য করাই একমাত্র পথ। তিনি আরও বলেন, ইসরাইল সমুদ্রপথে, আকাশপথে ও অন্য যেকোনো উপায়ে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রস্তুতি রেখেছে।
কাৎজের ভাষ্য অনুযায়ী, মিসরসহ প্রতিবেশী দেশগুলো ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় দিতে অনাগ্রহী। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনাটি পরিত্যাগ করেনি এবং বিষয়টি নিয়মিত আলোচনায় আছে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের সুযোগ আসতে পারে বলেও তিনি দাবি করেন। কিছু ইসরাইলি কর্মকর্তা এ পরিকল্পনাকে ফিলিস্তিনিদের স্বেচ্ছা ‘অভিবাসন’ বা ‘স্থানান্তর’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করছেন, ইসরাইলের সামরিক অভিযান ও অবরোধের লক্ষ্য ফিলিস্তিনিদের জাতিগতভাবে নির্মূল এবং স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করা। সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন বলেন, তিনি ও সিনেটর জেফ মার্কলি আগে এ ধরনের উচ্ছেদ পরিকল্পনা নিয়ে সতর্ক করেছিলেন এবং কাৎজের বক্তব্য সেই আশঙ্কা নিশ্চিত করেছে। ট্রাম্প-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে অবশ্য বলা হয়েছিল, কাউকে জোর করে গাজা ছাড়তে বাধ্য করা হবে না এবং চলে যাওয়া ব্যক্তিরা চাইলে ফিরতে পারবেন।
কাৎজের দাবি, গাজা জনশূন্য করার পরিকল্পনা স্থগিত হলেও বাতিল হয়নি
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত গাজায় ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৭৩ হাজার ৪৫৬ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৯৬ জন আহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে আল-জাজিরার এজল্যাবস এই হিসাব প্রকাশ করেছে। নিহতদের মধ্যে ২১ হাজার ৫০০ শিশু রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী, গাজার প্রতি ৩৩ জন বাসিন্দার মধ্যে অন্তত একজন নিহত এবং প্রতি ১৪ জনের মধ্যে অন্তত একজন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে হাজারো মানুষ আটকে থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপ ও বিভিন্ন সড়কে এখনো অনেকের লাশ রয়েছে; উদ্ধারকারী ও অ্যাম্বুলেন্স দল সব এলাকায় পৌঁছাতে পারছে না।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও হামলা ও হতাহতের ঘটনা চলেছে। এরপর ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৩২০ ফিলিস্তিনি নিহত, ৪ হাজার ৩৮৫ জন আহত এবং ৮১৫টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। এজল্যাবসের বিশ্লেষণে যুদ্ধবিরতির ৩২৬ দিনের ২৯০ দিনেই হামলা, নিহত বা আহতের ঘটনা ঘটেছে। নিহত ও আহত মিলিয়ে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সর্বশেষ সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৫২।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় নিহত ৭৩ হাজার ৪৫৬ ও আহত ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৯৬
গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে সোমবার ইসরাইলি হামলায় পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে আনাদোলুকে চিকিৎসা ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। গাজা শহরের তাল আল-হাওয়ায় বেসামরিক একটি গাড়িতে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত হন। গাজা মিউনিসিপ্যালিটি পার্কের কাছে একটি আবাসিক ভবনের প্রবেশপথে ড্রোন হামলায় আরও দুজন নিহত হন। নিহতদের মরদেহ আল-শিফা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানায়, গাজা শহরের উপকূলে ইসরাইলি যুদ্ধজাহাজের গুলিতে আহত পাঁচ জেলেকে আল-শিফা হাসপাতাল ও আল-সারায়া ফিল্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বেইত লাহিয়ায় ড্রোন থেকে বোমা ফেলার ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর আহত হয়। খান ইউনিসের হামাদ ও পশ্চিম সাতর এলাকায় ড্রোনের গুলি ও বোমায় তিনজন আহত হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।
স্থানীয় ও চিকিৎসা সূত্র পূর্ব দেইর আল-বালায় গোলাবর্ষণ, আহত হওয়া এবং ভবন-স্থাপনা ধ্বংসের খবর দিয়েছে। হামাদ এলাকায় ইসরাইলি গুলির পর বাস্তুচ্যুতদের দুটি তাঁবুতে আগুন লাগলে তা নেভায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রতিরক্ষা। সূত্র অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর ২০২৫ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর কথিত চুক্তি লঙ্ঘনে ১,৩১৮ ফিলিস্তিনি নিহত ও ৪,৩৭৫ জন আহত হয়েছেন।
গাজাজুড়ে ইসরাইলি হামলায় পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত, আহত আরও কয়েকজন
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৪৭ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।