গাজা উপত্যকায় রোববার ভোর থেকে ইসরাইলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় অন্তত নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। দক্ষিণ ও উত্তর গাজার বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলার খবর পাওয়া গেছে।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় পাঁচজন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে আলজাজিরা জানিয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী কয়েক বছর আগে এলাকাটিকে ‘মানবিক নিরাপদ অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
উত্তর গাজায় গাজা সিটির রিমাল এলাকায় ড্রোন হামলায় এক শিশুসহ তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই এলাকার তাজ মলও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। প্রতিবেদনে নিহত বাকি একজনের পরিচয় বা হামলার বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
গাজাজুড়ে ইসরাইলি হামলায় শিশুসহ অন্তত নয় ফিলিস্তিনি নিহত
গাজা উপত্যকাজুড়ে সোমবার ইসরাইলি হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় ও চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে। আনাদোলুর বরাতে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের শেখ রাদওয়ান এলাকায় বেসামরিক মানুষের একটি জমায়েত লক্ষ্য করে ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও দুজন আহত হন।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে নাহর আল-বারেদ শিবির এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবু লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে আরও একজন মাঝারি মাত্রায় আহত হন। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, খান ইউনিসের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় নেওয়া তাঁবু লক্ষ্য করে ইসরাইলি সামরিক যান থেকে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় প্রতিদিন গুলি ও কামানের গোলাবর্ষণে ফিলিস্তিনিরা হতাহত হচ্ছেন।
গাজা সিটি ও খান ইউনিসের উপকূলে ফিলিস্তিনি জেলেদের নৌকা লক্ষ্য করেও ইসরাইলি নৌবাহিনী গুলি ও গোলাবর্ষণ করেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর ইসরাইলি হামলায় ১,৫২২ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫,৪২১ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে হামলায় ৭৪ হাজারের বেশি নিহত, ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত এবং উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গাজায় ইসরাইলি হামলায় একজন নিহত, যুদ্ধবিরতির পর নিহত ১,৫২২
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, ডব্লিউএফপি, জানিয়েছে গাজায় এখনো ১৪ লাখ ফিলিস্তিনি তীব্র খাদ্য সংকটে রয়েছেন। সংস্থাটি খাদ্য সহায়তার রেশন অর্ধেকে নামিয়েছে এবং অর্থসংকটের কারণে সহায়তা কার্যক্রম এক-তৃতীয়াংশ কমাতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে গাজার প্রায় ৫ লাখ ফিলিস্তিনি খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবেন।
এএফপিকে ডব্লিউএফপির কান্ট্রি ডিরেক্টর শন হিউজ বলেন, গাজার মানুষ এখনো নিরাপদ নন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বিমান হামলা চলছে এবং মানুষকে এখনো বাস্তুচ্যুত হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রায় সবারই বসবাসের জন্য কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই এবং মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
ইসরাইল গাজা উপত্যকায় বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে খাদ্য সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্তটি এসেছে। ডব্লিউএফপির এই পদক্ষেপে আগে থেকেই তীব্র খাদ্য সংকট ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যে থাকা মানুষের জন্য সহায়তার পরিমাণ আরও কমবে।
ডব্লিউএফপি বলছে, গাজায় ১৪ লাখ ফিলিস্তিনি তীব্র খাদ্য সংকটে রয়েছেন
গাজা সিটিতে চালানো বিমান হামলায় হামাসের সামরিক শাখার এক কমান্ডারের সহযোগী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নিহত ব্যক্তির নাম মোমেন আহমেদ সালামেহ আই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার তারিখ প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি হামাসের গাজা ব্রিগেডের কমান্ডারদের সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ দাবির বিষয়ে হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরাইলি হামলায় সেখানে অন্তত ১ হাজার ৪৯৮ জন নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে তথ্যসূত্র হিসেবে আল-জাজিরার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
গাজা সিটিতে হামলায় হামাস কমান্ডারের সহযোগী নিহতের দাবি ইসরাইলের
শীতের আগমনে গাজায় যুদ্ধের কারণে ঘরহারা ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বহু বাস্তুচ্যুত মানুষ ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে থাকছেন, আর তাঁবুতে থাকা পরিবারগুলো বৃষ্টি, বন্যা ও তীব্র ঠান্ডার মুখোমুখি হচ্ছেন। ছাদ ও দেয়ালের ফাটল দিয়ে বৃষ্টির পানি অস্থায়ী বাসস্থানে ঢুকছে; বাসিন্দারা প্লাস্টিক ও কাপড় দিয়ে ফাঁক বন্ধ করে ঠান্ডা বাতাস ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
ইসলামিক ইউনিভার্সিটির ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে পরিবার নিয়ে থাকা মাহের আওয়াদ খাদের বলেন, সেখানে প্রায়ই পাথর ও কংক্রিটের টুকরো পড়ে। চার-পাঁচ মাস ধরে সেখানে থাকা মাহেরের কোনো কাজ বা আয়ের উৎস নেই এবং তিনি বলেন, কোনো মানবিক সংস্থা তাদের সহায়তা করেনি। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক ভবনের নিচে থাকা তাহের হাজ্জো সন্তানদের সুরক্ষায় আশপাশ শক্ত করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু ছাদ ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।
গত মাসে গাজা সিটির সাবরা এলাকায় আল-সাআদা আবাসিক ভবন ধসে ২১ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশ নারী ও শিশু। মাঠপর্যায়ের মূল্যায়নে গাজাজুড়ে প্রায় ৩ হাজার ভবনকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছে। গাজা সিটির কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক ও জাতিসংঘের সহায়তা চেয়েছেন, আর সিভিল ডিফেন্স ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধার সরঞ্জাম প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছে।
শীতের বৃষ্টিতে গাজায় ধসঝুঁকির ভবন ও ডুবে যাওয়া তাঁবুতে বিপদে বাস্তুচ্যুতরা
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) প্রেসিডেন্ট মিরজানা স্পোলজারিচ বলেছেন, গাজায় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যা ঘটেছে এবং এখনো ঘটছে, তা আইনি, নৈতিক ও মানবিক সব মানদণ্ড ছাড়িয়ে গেছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি গাজায় আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতিমালার ধারাবাহিক লঙ্ঘন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
গাজায় যুদ্ধের নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্পোলজারিচ বলেন, সেখানে যা ঘটেছে এবং এখনো ঘটছে, তাতে অনেক মানুষ জড়িত। উদ্ধৃত মন্তব্যে তিনি কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা নির্দিষ্ট ঘটনার নাম উল্লেখ করেননি।
আইসিআরসি প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো মানুষকে মানবিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে গাজার ফিলিস্তিনিদের পরিস্থিতি এবং সংঘাতের মধ্যে আইন ও মানবিক মানদণ্ড মেনে চলা নিয়ে উদ্বেগ উঠে এসেছে।
আইসিআরসি প্রধানের মতে, গাজার পরিস্থিতি সব আইনি ও মানবিক মানদণ্ড ছাড়িয়েছে
গাজায় যুদ্ধ বন্ধ, ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ কমানো এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ‘শান্তি বোর্ড’ গঠনের প্রস্তাব দেন। এক বছর পরও সংস্থাটি তার প্রধান লক্ষ্যগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর ইসরাইল ও হামাসের যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং নভেম্বরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বোর্ডকে গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাঁদের অধিকাংশ নারী ও শিশু। ইসরাইল গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। প্রতিদিন গড়ে ২২৭টি ত্রাণবাহী ট্রাক ঢুকছে, যেখানে পরিকল্পনায় ছিল ৬০০টি। আইপিসির হিসাবে, অন্তত ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৪ লাখ ফিলিস্তিনি ক্ষুধার ঝুঁকিতে থাকবেন।
জাতীয় গাজা প্রশাসন কমিটিকে গাজায় ঢোকার অনুমতি না দেওয়ায় তারা কায়রো থেকে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীও এখনো মোতায়েন হয়নি। বোর্ড অর্থায়ন ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রকাশ করলেও বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইল এবং তুলনামূলক কম মাত্রায় হামাসকে প্রতিশ্রুতি মানাতে না পারা বোর্ডটির অকার্যকারিতা দেখিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি, ত্রাণ ও প্রশাসনিক পরিকল্পনায় অগ্রগতি ছাড়াই এক বছর পার শান্তি বোর্ডের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর ঘোষিত গাজা যুদ্ধবিরতির এক বছর পরও চুক্তির অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। হামলার মাত্রা কমালেও ইসরাইল প্রায় প্রতিদিন গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরাইলি হামলায় প্রায় ১ হাজার ৪৫০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
চুক্তি ঘোষণার তিন দিন পর হামাস ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় আটক ২০ জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দেয়, যা ইসরাইলের প্রধান অগ্রাধিকার ছিল। গত এক বছরে হামাস ইসরাইলে কোনো রকেট হামলা চালায়নি। ইসরাইলের প্রায় অবিরাম বোমাবর্ষণে হামাসের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত শেষ হয়েছে এবং গাজার অধিকাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র গাজা সীমান্তের কাছে মিত্রদের নিয়ে একটি কমান্ড পোস্ট স্থাপন করেছে।
ইসরাইল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেনি এবং হামাসও নিরস্ত্রীকরণের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। হামাস প্রশাসনিক দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত এনসিএজির কাছে হস্তান্তরের ঘোষণা দিলেও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতে। পুনর্গঠন আলোচনায় থাকলেও অগ্রগতি নেই; প্রতিশ্রুত অর্থ গাজায় পৌঁছানোর খবরও জানা যায়নি।
গাজা যুদ্ধবিরতির এক বছর পরও প্রধান প্রতিশ্রুতি অপূর্ণ, হামলা অব্যাহত
তিন বছরের যুদ্ধে ইসরাইলের হামলায় গাজার পরিচিত বহু এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বলে উৎসে বর্ণিত আল-জাজিরার আলোকচিত্র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একসময় মানুষের চলাচল, কেনাকাটা ও আড্ডার সড়কগুলো এখন ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সারিতে ভরা। উপকূলের জনপ্রিয় এলাকাগুলোতে বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবুর আশ্রয় গড়ে উঠেছে। মসজিদ, ঐতিহাসিক স্থাপনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়াঙ্গনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফিলিস্তিনের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর উপত্যকার ৮০ শতাংশের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বড় অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ থাকা সড়ক, বাজার, স্কুল, হাসপাতাল ও জনসমাগমের স্থানগুলো যুদ্ধের আঘাতে বদলে গেছে।
ইউনেসকো ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজার ১৬৪টি সাংস্কৃতিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করেছে। এর মধ্যে ১২৮টি ঐতিহাসিক বা শৈল্পিক ভবন, ১৪টি ধর্মীয় স্থাপনা, ৯টি স্মৃতিস্তম্ভ, ৮টি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান, ২টি জাদুঘর এবং চলমান সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের ৩টি ভান্ডার রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে গ্রেট ওমারি মসজিদ, কাসর আল-বাশা, প্রাচীন সামারিটান গোসলখানা, আল-কিসারিয়া বাজার ও সেন্ট পোরফিরিয়াস গির্জা কমপ্লেক্স রয়েছে।
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতিতে গাজার সড়ক, অবকাঠামো ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা বদলে গেছে
ইসলামিক রিলিফ জানিয়েছে, গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় গাজায় গড়ে প্রতি ৯০ মিনিটে একজন ফিলিস্তিনি নিহত বা আহত হয়েছেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থাটির হিসাবে, গত এক বছরে অন্তত ১ হাজার ৪৫৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩২০ জন শিশু।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে যুদ্ধবিরতির পর হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি। তাদের তথ্যে ১ হাজার ৪৭১ জন নিহত এবং ৫ হাজার ১৮৯ জন আহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট অন্তত ৭৪ হাজার ২৫৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজায় কর্মরত ইসলামিক রিলিফের এক ত্রাণকর্মী বলেছেন, বাস্তবে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই।
ইসলামিক রিলিফের মতে, তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ ব্যবহার করে ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের গাজার ৬৫ শতাংশ এলাকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। ফলে প্রায় ২১ লাখ মানুষ অবশিষ্ট ৩৫ শতাংশ এলাকায় গাদাগাদি করে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। সংস্থাটি বলেছে, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির সামগ্রী, জ্বালানি ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর বিধিনিষেধে অর্ধেকের বেশি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ এবং ২০ হাজারের বেশি গুরুতর অসুস্থ রোগী চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে পারছেন না।
ইসলামিক রিলিফের দাবি, যুদ্ধবিরতির পর গাজায় প্রতি ৯০ মিনিটে একজন ফিলিস্তিনি হতাহত
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজা উপত্যকায় হামলা শুরু করে ইসরাইল। পরবর্তী তিন বছরে ইসরাইলি বিমান ও স্থল হামলায় গাজা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এ সময়ে ৭৪ হাজার ২৪৫ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি; যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ১ হাজার ৪৬২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
ঘরবাড়ি, সড়ক, বিদ্যুৎ, পানি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, ৯৪ শতাংশ মানুষের জরুরি আশ্রয় ও মৌলিক গৃহস্থালি সহায়তা প্রয়োজন এবং প্রায় ৬৫ শতাংশ পরিবার তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়ে বাস করছে। ইউএনসিটিএডের তথ্য অনুযায়ী, গাজার ৯২ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে এবং বেকারত্ব বেড়ে ৭৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
ইউনিসেফ বলছে, প্রায় ৯৮ শতাংশ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে; ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৪ থেকে ১৭ বছর বয়সি প্রায় ৭ লাখ শিশু নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনার সুযোগ পায়নি। ডব্লিউএইচওর হিসাবে, ৩৬টি হাসপাতালই ক্ষতিগ্রস্ত এবং মাত্র ১৯টি চালু আছে, কোনোটিই পূর্ণ সক্ষমতায় নয়। ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর জানায়, সেপ্টেম্বর নাগাদ গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণ বা প্রবেশাধিকার নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল।
তিন বছরের যুদ্ধে গাজার ঘরবাড়ি, সেবা, অর্থনীতি ও স্বাভাবিক জীবন বিপর্যস্ত
হলিউড অভিনেত্রী ও জাতিসংঘের সাবেক বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি গাজায় ইসরাইলি হামলায় সৃষ্ট ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র তুলে ধরেছেন। শনিবার ইনস্টাগ্রামে তিনি গুগল আর্থের যুদ্ধপূর্ব এবং চলতি বছরের গ্রীষ্মে তোলা স্যাটেলাইট ছবি পাশাপাশি প্রকাশ করেন। ছবিতে দক্ষিণ গাজার রাফাহর আল-কাদিসিয়াহ স্কুলের আশপাশ, খান ইউনিস এবং গাজা সিটির ওমর আল-মুখতার সড়কের ক্ষয়ক্ষতি দেখা যায়।
জোলি বলেন, মহল্লার পর মহল্লা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং ঘরবাড়ি, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, সড়ক, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। জাতিসংঘের স্যাটেলাইট বিশ্লেষণের তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, জুন পর্যন্ত গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জোলির ভাষ্য অনুযায়ী, গাজার ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯৪ শতাংশ, আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। শীত ঘনিয়ে আসায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে এবং ত্রাণ ও আশ্রয়সামগ্রী পৌঁছাতে বিধিনিষেধ ও বিলম্ব রয়েছে। তিনি দ্রুত আশ্রয়, মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছানোর আহ্বান জানান এবং ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল ও বসতি পুনর্গঠনের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
স্যাটেলাইট ছবিতে গাজার ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক সহায়তার প্রয়োজন তুলে ধরলেন জোলি
যুক্তরাজ্যভিত্তিক ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর হারমান সিং কাপুর গাজায় একটি ভবন কেন এখনো দাঁড়িয়ে আছে—এমন প্রশ্ন তুলে এক্সে ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও শেয়ার করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ভিডিওতে তিনি লাল বৃত্তে চিহ্নিত একটি কাঠামোর আকাশ থেকে তোলা ছবি ফোনে দেখান এবং ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন।
ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি মন্তব্য করেন, সেটিই সম্ভবত একমাত্র টিকে থাকা ভবন। জবাবে কাপুর আবারও প্রশ্ন করেন, কেন সেটি দাঁড়িয়ে আছে। সূত্রে বলা হয়েছে, গাজাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে তার মন্তব্যের যৌক্তিকতা নিয়ে ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন তোলেন। অনেকে আরও বলেন, তার বক্তব্য বৃহত্তর শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করে না।
উল্লেখিত সামাজিকমাধ্যম পোস্টে ভবনটিকে আল-কাদিসিয়্যাহ গার্লস স্কুল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা নাকি ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ৩০ সেপ্টেম্বরের আরেক পোস্টেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ছবি দিয়ে কাপুর বিতর্কিত ভাষা ব্যবহার করেন। গুগল ম্যাপসের হালনাগাদ স্যাটেলাইট চিত্রে রাফাহ, খান ইউনিস ও গাজা সিটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে।
গাজার ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে পোস্ট করে তীব্র সমালোচনায় হারমান সিং কাপুর
সাবেক ইসরাইলি কূটনীতিক অ্যালন পিঙ্কাস বলেছেন, গাজায় যুদ্ধোত্তর শাসনব্যবস্থা তদারকির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ কার্যত অকার্যকর। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বোর্ডটি কাগজে-কলমে থাকতে পারে, কিন্তু বাস্তবে এর অস্তিত্ব নেই। তিনি আরও বলেন, ইসরাইল এখনো গাজা থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করেনি।
গাজার মানুষকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগকে পিঙ্কাস ‘নৈতিক অধঃপতন’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এটিকে বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গাজায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ গৃহহীন এবং তারা মৌলিক প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও খাদ্যসংকটে রয়েছে। তিনি বলেন, সবকিছু ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় সেখানে মানুষকে টিকিয়ে রাখার মতো কৃষিব্যবস্থা নেই।
পিঙ্কাসের মতে, গাজায় ইসরাইলের ‘পূর্ণ বিজয়’ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ইসরাইল বিজয় অর্জন করতে চাইলে তাকে পুরো গাজা উপত্যকা দখলে নিতে হবে। তবে গাজা দখল করার অর্থ হলো সেখানে যা কিছু ঘটবে, তার সম্পূর্ণ দায় ইসরাইলের ওপর বর্তাবে।
অ্যালন পিঙ্কাসের দাবি, ট্রাম্পের গাজা শান্তি বোর্ড কাগজে আছে, বাস্তবে নেই
গাজায় বুধবার ইসরাইলি হামলায় সাংবাদিক মুহাম্মদ আবদেল আজিজ আল-নাজ্জারসহ অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসাসূত্র জানিয়েছে। গাজা সিটির দক্ষিণ-পশ্চিমের তাল আল-হাওয়া এলাকায় যাত্রীবাহী একটি ভ্যানে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় ছয়জন নিহত হন। গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় বলেছে, আল-নাজ্জারের মৃত্যুর পর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা ২৬৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা ১৩ আহতকে আল-কুদস হাসপাতালে নিয়েছেন এবং চিকিৎসাসূত্র তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে। ওয়াফা জানায়, আল-শিফা হাসপাতালের কাছে একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে হামলায় এক নারী নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ গাজার বাস্তুচ্যুতদের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ড্রোন হামলায় দুই শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন হাসপাতালে নয়টি মরদেহ এসেছে; এর মধ্যে আটজন বুধবারের হামলায় নিহত এবং একজন আগের আঘাতে পরে মারা যান। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর গাজায় ১ হাজার ৪৩১ জন নিহত ও ৫ হাজার ২৬ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ৩২ এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৪২ বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গাজায় ইসরাইলি হামলায় সাংবাদিকসহ অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত
গুগল ম্যাপে নতুন হালনাগাদ স্যাটেলাইট ছবিতে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরাইলি হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় তিন বছর ধরে চলা ইসরাইলি যুদ্ধের ফলে উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ছবিগুলোতে অবকাঠামো, আবাসিক এলাকা ও কৃষিজমিতে ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্যমান প্রমাণ দেখা যাচ্ছে।
স্যাটেলাইট ছবিতে একের পর এক আবাসিক এলাকা মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ার চিত্র দেখা যায়। কোনো কোনো স্থানে শুধু প্রধান সড়কগুলোর ক্ষীণ রেখা অবশিষ্ট আছে। ধ্বংসস্তূপ এতটাই ব্যাপক যে গাজার এক এলাকা থেকে অন্য এলাকাকে আলাদা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে যেখানে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও নানা স্থাপনা ছিল, সেসব জায়গার বড় অংশ এখন ধূসর ধ্বংসস্তূপ।
ছবিতে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি আগুন ও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে। গাজার শতাব্দীপ্রাচীন বিভিন্ন উপাসনালয়ের ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও দৃশ্যমান। কিছু ধর্মীয় স্থাপনা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আবার কিছু পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। নতুন ছবিগুলো দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ক্ষতির ব্যাপ্তি তুলে ধরছে।
হালনাগাদ গুগল ম্যাপ ছবিতে গাজাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখা গেছে
গাজা উপত্যকার আল-সাওয়ারহা কবরস্থানে শুক্রবার ড্রোন হামলায় ৩৬ বছর বয়সি হামাস যোদ্ধা মোহাম্মদ কামেল সুলাইমান মোহসেন নিহত হয়েছেন। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। তিনি তার ভাই খলিলের কবর দেখতে সেখানে গিয়েছিলেন। খলিল ২০২৪ সালের ১১ মে দেইর আল-বালাহ এলাকায় নিহত হন।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার গাজায় পৃথক দুটি হামলায় তারা দুই হামাস যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। নিহত অন্য ব্যক্তি ইব্রাহিম ফাওজি ইসমাইল মোহসেন। তবে পৃথক হামলাগুলোর স্থান বা পরিস্থিতি সম্পর্কে উৎসে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইসরাইলের সামরিক অভিযানে অন্তত ৭৩ হাজার ৯২৮ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩০ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ থাকায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ১ হাজার ৪০৮ জন নিহত, ৪ হাজার ৯১৬ জন আহত এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮৩৪টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।
ভাইয়ের কবর দেখতে গিয়ে গাজায় ড্রোন হামলায় নিহত হামাস যোদ্ধা
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইসরাইলের সামরিক অভিযানে অন্তত ৭৩ হাজার ৯২৮ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩০ জন আহত হয়েছেন। আল–জাজিরা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে। হিসাবটিতে গাজার বিভিন্ন এলাকায় চলমান ধ্বংসযজ্ঞ ও হতাহতের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, নিহত ও আহতদের অনেকেই এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছেন, ফলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। আল–জাজিরার তথ্যচিত্রে বলা হয়েছে, নিহতের সংখ্যা গাজার প্রতি ৩১ জন বাসিন্দার মধ্যে অন্তত একজনের সমান এবং আহতের সংখ্যা প্রতি ১৩ জনে অন্তত একজন। তথ্যচিত্রের মানচিত্রে উত্তর গাজা, গাজা সিটি, দেইর আল-বালাহ, খান ইউনিস ও রাফাহর ক্ষয়ক্ষতি দেখানো হয়েছে।
২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও হতাহতের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ১ হাজার ৪০৮ ফিলিস্তিনি নিহত ও ৪ হাজার ৯১৬ জন আহত হয়েছেন। এ সময়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮৩৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত আগের ২৪ ঘণ্টার হিসাবে হাসপাতালে পাঁচজন নিহত ও ৩৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে নিহত ৭৩ হাজার ৯২৮ ফিলিস্তিনি
গাজা উপত্যকায় অভিযান পরিচালনার সময় বিস্ফোরকবাহী একটি ছোট ড্রোন বিধ্বস্ত হয়ে পরে বিস্ফোরিত হলে ইসরাইলের দুই রিজার্ভ সেনা নিহত হন। সেনাবাহিনীর প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ঘটনাটি বৃহস্পতিবার বিকেলে উত্তর গাজার সামরিক বাফার জোনে অবস্থিত একটি সেনাঘাঁটিতে ঘটে।
নিহতরা হলেন হার হালুতজ এলাকার বাসিন্দা মাস্টার সার্জেন্ট নাদাভ কালি, ২৪, এবং জেরুজালেমের বাসিন্দা মাস্টার সার্জেন্ট ওফেক মোয়ালেম, ২৩। তারা দুজনই জেরুজালেম ব্রিগেডের ৭০০৭ নম্বর ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, প্রথম ড্রোনটি নির্ধারিত মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করে। তবে দ্বিতীয় ড্রোনটি উড্ডয়নের সময় অজানা কারণে সেনাঘাঁটির ভেতরেই বিধ্বস্ত হয়। কয়েক মিনিট পর দুই সেনা ড্রোনটির কাছে গিয়ে সেটি তুললে সেটি বিস্ফোরিত হয় এবং তারা গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
উত্তর গাজায় বিধ্বস্ত বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ফেটে নিহত দুই ইসরাইলি রিজার্ভ সেনা
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেছেন, গাজার খান ইউনিসে ইসরাইলি অভিযানে হামাসের অর্থ বিভাগের প্রধান মুহাম্মদ আবু আলওয়ান নিহত হয়েছেন। সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে তারা অভিযানটিকে ‘নির্ভুল অভিযান’ বলে বর্ণনা করেন এবং ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ও অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার প্রশংসা করেন।
এর আগে নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের বরাত দিয়ে জানানো হয়, খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসিতে একটি গাড়িতে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। তবে ওই হামলাই নেতানিয়াহু ও কাৎজের বিবৃতিতে উল্লেখ করা ঘটনা কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
গাজার অন্য এলাকাতেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। খান ইউনিসের উত্তরে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে একজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। গাজা সিটির উত্তর-পূর্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি শিবিরে ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। আল-আকসা শহীদ হাসপাতাল জানিয়েছে, বুরেইজ শরণার্থীশিবিরে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে এক নারী নিহত হয়েছেন। যৌথ বিবৃতিতে এসব হামলা ও হতাহতের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
খান ইউনিসে অভিযানে হামাসের অর্থ বিভাগের প্রধান নিহতের দাবি ইসরাইলের
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১১৬ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।