নেপালে আকস্মিক বন্যায় আটকে পড়া নয় বাংলাদেশি ট্রেকারকে উদ্ধার করে নিরাপদে কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ট্রেকারদের মঙ্গলবার বিকেলে নিরাপদে কাঠমান্ডুতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
গোরখা জেলার চুমনুব্রি এলাকার জগৎ থেকে মানাসলু বেস ক্যাম্পের দিকে যাওয়ার সময় বুধি গণ্ডকী নদীর আকস্মিক বন্যায় তারা আটকা পড়েন। পরে নেপাল সরকারের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য নেপাল সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। দ্রুত সাড়া, মানবিক সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রশংসা করে দূতাবাস জানায়, এই কার্যক্রমে অংশ হতে পেরে তারা আনন্দিত। বিপদের সময় সহযোগিতা ও সংহতির এই দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ ও নেপালের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতিফলন বলেও উল্লেখ করা হয়।
নেপালের গোরখায় বন্যায় আটকে পড়া নয় বাংলাদেশি ট্রেকার উদ্ধার
নেপালের গোর্খা জেলার চুমনুব্রি গ্রামে ভূমিধসে বুধি গণ্ডকী নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর পাঁচ জেলার নদীতীরবর্তী জনবসতিতে সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমের এ ঘটনায় নদীর পানির স্তর বেড়ে ভাটিতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। রোববার পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
বন্যার পানিতে কয়েকটি বাড়ি ও দুটি ঝুলন্ত সেতু ভেসে গেছে এবং একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গোর্খার জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র জানান, ভাটির দিকে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। গোর্খা, তানাহুন, চিতওয়ান, পূর্ব নওয়ালপরাসি ও পশ্চিম নওয়ালপরাসির নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া এবং উদ্ধারকাজে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। উদ্ধার তৎপরতায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কর্মকর্তারা সরেজমিনে ও হেলিকপ্টার থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি, তবে নদীর প্রবাহে আকস্মিক পরিবর্তন ভাটির জনবসতিতে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
ভূমিধসে নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে বন্যার পর নেপালের পাঁচ জেলায় সতর্কতা
নেপালের মধ্যাঞ্চলে হিমলুং পর্বতের বেস ক্যাম্পে ভয়াবহ তুষারধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল থেকে নতুন করে আটটি লাশ উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা। ৭ হাজার ১২৬ মিটার উঁচু হিমলুং পর্বতের বেস ক্যাম্পে রবিবার ভোরে তুষারধসটি আঘাত হানে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিকে নেপালের অন্যতম প্রাণঘাতী পর্বতারোহণ দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় একজন অভিযাত্রীকর্মী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। পরিস্থিতি বিবেচনায় উদ্ধার তৎপরতা শিগগিরই শেষ করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় বিদেশি পর্বতারোহীরা বেস ক্যাম্পে পৌঁছাননি।
অভিজ্ঞ গাইডসহ ১১ জন উদ্ধারকর্মী বর্তমানে অভিযান পরিচালনা করছেন। তাঁবুগুলো তুষারের নিচে চাপা পড়ায় তারা চার মিটারের বেশি পুরু বরফের স্তর সরিয়ে লাশ খুঁজছেন। রবিবার দুই পর্বতারোহণ গাইডের লাশ, পরদিন রান্নাঘরের দুই কর্মীর লাশ এবং মঙ্গলবার আরও তিনজনের লাশ উদ্ধার হয়। বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ শৃঙ্গের আটটি নেপালে অবস্থিত হওয়ায় দেশটির পর্যটন ও অর্থনীতিতে পর্বতারোহণ এবং ট্রেকিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নেপালের হিমলুং বেস ক্যাম্পে তুষারধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫
নেপালে ভারি বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধসের মধ্যে বাংলাদেশি পর্যটক ও ট্রেকারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কাঠমান্ডুর বাংলাদেশ দূতাবাস। স্থানীয় সময় রোববার দিবাগত রাতে দেওয়া সতর্কবার্তায় দূতাবাস আবহাওয়া ও সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
পিসাং, চামে, মানাং ও আশপাশের পর্যটন এলাকায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টি, ভূমিধস ও তুষারপাতের কারণে বহু এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রমও কঠিন হয়ে পড়েছে। ভূমিধসে সড়ক ও নিকটবর্তী ট্রেকিং গন্তব্যে যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় পোখারা ও আশপাশের এলাকা ভ্রমণেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
অন্নপূর্ণা, মানাং, মুস্তাং, মানাসলুসহ পার্বত্য ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় যাওয়ার আগে তথ্য যাচাই এবং নেপাল সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস। তারা নেপালি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হালনাগাদ তথ্য দেবে। এদিকে মানাং জেলার নার ফু এলাকায় হিমলুং হিমালে তুষারধসে অন্তত ১৪ নেপালি নিখোঁজ রয়েছেন; খারাপ আবহাওয়ায় হেলিকপ্টার পৌঁছাতে না পারায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত পার্বত্য এলাকায় ভ্রমণ স্থগিত ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দূতাবাসের
নেপালের মানাং জেলার নার-ফু এলাকায় ৭ হাজার ১২৬ মিটার উচ্চতার হিমলুং হিমালের বেসক্যাম্পে ভয়াবহ তুষারধসে অন্তত ১০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, রোববার সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজদের মধ্যে পর্বতারোহী এবং বিভিন্ন অভিযানের সহায়ক কর্মী রয়েছেন। তুষারধসে বেসক্যাম্পের তাঁবু চাপা পড়ার পর তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এক্সপেডিশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন নেপালের সাধারণ সম্পাদক ঋষি ভান্ডারি বলেন, নিখোঁজদের মধ্যে দুজন ইমাজিন নেপাল প্রাইভেট লিমিটেডের এবং আটজন হিমালয়ান হলিডেজ নেপালের সঙ্গে যুক্ত। অভিযান সংগঠক মিংমা গ্যালজে শেরপা জানান, তাঁর দলের রান্নাঘরের দুই কর্মীও নিখোঁজ। কয়েক দিন ধরে এলাকায় ব্যাপক তুষারপাত হচ্ছিল এবং আবহাওয়া সতর্কতার কারণে অধিকাংশ পর্বতারোহী ও দড়ি স্থাপনকারী দল নিচে নেমে এসেছিল।
পর্যটন বিভাগের মহাপরিচালক রামকৃষ্ণ লামিছানে বলেন, নিখোঁজদের তথ্য সংগ্রহ এবং সন্ধান ও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে, তবে প্রতিকূল আবহাওয়া কাজকে কঠিন করেছে। তিব্বত সীমান্তের কাছে অবস্থিত হিমলুং হিমালে হেলিকপ্টারে পৌঁছাতেও অতিরিক্ত অনুমতি লাগে। দেশজুড়ে তুষার ও বৃষ্টিতে সড়ক বন্ধ হয়েছে এবং কয়েকটি পর্বতারোহণ অভিযান স্থগিত বা বাতিল হয়েছে।
নেপালের হিমলুং হিমাল বেসক্যাম্পে তুষারধসে অন্তত ১০ জন নিখোঁজ
নেপালে প্রলয়ংকরী বন্যার এক মাস পর নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫৩ জনে দাঁড়িয়েছে এবং অন্তত ৫ হাজার ৬৪৪ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে। হাজার হাজার পরিবার এখনো বাস্তুচ্যুত, আর উদ্ধারকারীরা নিখোঁজদের খোঁজে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। নিখোঁজদের অনেকেই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ছয়টি সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে মাত্র ১১২টি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় ১ হাজার ৩৩৩টি মরদেহ সাময়িকভাবে দাফন বা সৎকার করা হয়েছে। চীন সীমান্তের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। স্বজন, ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারানো পরিবারগুলো মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।
নেপাল সরকারের প্রাথমিক হিসাবে, সামগ্রিক পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে প্রায় ৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে। বন্যায় প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং সাড়ে সাত হাজারের বেশি ঘরবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। পরিস্থিতি সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল পুনর্বাসন সংকটের মুখে ফেলেছে।
নেপালে বন্যায় নিহত ১,৪৫৩, এখনো নিখোঁজ অন্তত ৫,৬৪৪ জন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথম ভাষণে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের অস্ত্র দ্রুত সীমান্ত পেরোলেও কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার ও জ্বালানি সংগ্রহে নানা বাধা তৈরি হয়। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধের সরবরাহব্যবস্থা নিখুঁত হলেও খাদ্যের ক্ষেত্রে তা ভেঙে পড়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার জলবায়ু ঝুঁকির প্রসঙ্গ তুলে শাহ বলেন, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা এমন জলবায়ু ক্ষতির শিকার, যার জন্য তারা দায়ী নয়। একই সঙ্গে তাদের এমন যুদ্ধের প্রভাবও মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যা তারা শুরু করেনি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সামলাতে নেপাল, ভারত ও চীনের নেতৃত্বে হিমালয়ান ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় স্যাটেলাইট তথ্য, প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ভাগাভাগির কথা বলেন শাহ। তাঁর মতে, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চল প্রায় ২০০ কোটি মানুষের পানি, কৃষি, জীবিকা ও পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার পর সহায়তার জন্য ভারত ও চীনকে ধন্যবাদ জানান তিনি। সরকারি মূল্যায়নে বন্যার ক্ষতি ২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার এবং পুনর্গঠন ব্যয় ৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছে।
জাতিসংঘে হিমালয় জলবায়ু সহনশীলতা ব্যবস্থা গঠনের প্রস্তাব নেপালি প্রধানমন্ত্রীর
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বলেছেন, গত মাসের ভয়াবহ বন্যা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ঝুঁকির সতর্কবার্তা। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নেপালকে সহায়তা দেওয়ার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। তাঁর মতে, উষ্ণ জলবায়ু ভঙ্গুর হিমালয় পরিবেশব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
শাহ বলেন, পারমাফ্রস্ট গলা, হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়া এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। গত মাসের শেষ দিকে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে উচ্চ পার্বত্য এলাকায় হিমবাহসংক্রান্ত ধসের পর সুনামির মতো প্রবল ঢল নামে। এতে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ৬ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের বিজ্ঞানীরা এটিকে স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক অস্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণায়নের সম্মিলিত সংকট বলেছেন।
বিশ্বের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান শূন্য দশমিক ১ শতাংশের কম বলে উল্লেখ করে শাহ আন্তর্জাতিক অর্থায়নের দাবি জানান। নেপাল জাতিসংঘের লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে ২ কোটি ডলার চেয়েছে, যদিও প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতি প্রায় ৫০০ কোটি ডলার। তিনি নেপাল, ভারত ও চীনকে নিয়ে হিমালয়া ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজমের প্রস্তাব দেন। যুক্তরাষ্ট্র ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার সহায়তা ঘোষণা করেছে; জি-৭ দেশ ও যুক্তরাজ্যও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
হিমালয় বিপর্যয়ের পর জলবায়ু সহায়তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নেপালের আহ্বান
রহস্য স্পিনার রুবেল মিয়া প্রথমবারের মতো বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার ডাক পেয়েছেন। আসন্ন নেপাল প্রিমিয়ার লিগের তৃতীয় আসরে তিনি সাকিব আল হাসানের দল পোখারা এভেঞ্জার্সের হয়ে খেলবেন। এবারের এনপিএলে এখন পর্যন্ত দল পাওয়া পঞ্চম বাংলাদেশি ক্রিকেটার রুবেল।
রুবেলের আগে এনপিএলে সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা হলেন আরিফুল ইসলাম, আকবর আলী, জিসান আলম ও সাকিব আল হাসান। রুবেল ও সাকিব পোখারা এভেঞ্জার্সের হয়ে খেলবেন। আকবর আলী ও আরিফুল ইসলাম খেলবেন কর্নালী ইয়াকসের হয়ে, আর জিসান আলম খেলবেন বিরাটনগর কিংসের হয়ে।
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে রহস্য স্পিনের জন্য পরিচিত রুবেলের জন্য এই লিগ বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি গত জাতীয় ক্রিকেট লিগ টি-টোয়েন্টি থেকে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করছেন। বিপিএল ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পর অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ এ দলের হয়ে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেট নিয়েছেন এই স্পিনার।
প্রথম বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে পোখারা এভেঞ্জার্সের হয়ে খেলবেন রুবেল মিয়া
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের উদীয়মান ব্যাটার আরিফুল ইসলাম নেপাল প্রিমিয়ার লিগে খেলার ডাক পেয়েছেন। আকবর আলীর কর্নালি ইয়াকস তাকে সরাসরি চুক্তিতে দলে নিয়েছে। একই দলে বাংলাদেশের উইকেটকিপার-ব্যাটার আকবর আলীও আছেন, যাকেও সরাসরি চুক্তিতে নিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। প্রতিবেদনে টুর্নামেন্টের তারিখ বা ম্যাচের স্থান উল্লেখ করা হয়নি।
এইচপি দলের হয়ে সর্বশেষ টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে ভালো পারফরম্যান্স করেন ডানহাতি ব্যাটার আরিফুল। সাত ম্যাচে ৩৬.৫০ গড়ে এবং ১৩৮.৬০ স্ট্রাইক রেটে তিনি ২১৯ রান করেন। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দুটি অর্ধশতকও করেন তিনি। টুর্নামেন্টে আরিফুল ছিলেন তৃতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক।
অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকেই ধারাবাহিক পারফর্মার হিসেবে পরিচিত আরিফুল ঘরোয়া ক্রিকেটেও পরিচিত নাম হয়ে উঠেছেন। বিপিএল ছাড়া এর আগে তিনি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলেননি। ফলে কর্নালি ইয়াকসের হয়ে নেপাল প্রিমিয়ার লিগে অংশ নেওয়াই হবে দেশের বাইরে তার প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের অভিজ্ঞতা।
প্রথম বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে কর্নালি ইয়াকসে খেলবেন আরিফুল ইসলাম
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলি প্রথমবারের মতো বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে সুযোগ পেয়েছেন। আসন্ন নেপাল প্রিমিয়ার লিগের তৃতীয় আসরে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার আকবর কর্ণালি ইয়াকসের হয়ে খেলবেন। আট দলের টুর্নামেন্টটি ১৭ নভেম্বর শুরু হয়ে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।
কর্ণালি ইয়াকস সরাসরি ঘোষণা না দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নভাবে আকবরের সঙ্গে চুক্তির খবর জানায়। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি যুব বিশ্বকাপের ট্রফির সঙ্গে ব্যাটিং ও উইকেটকিপিং সরঞ্জামের ছবি পোস্ট করে তার দলে অন্তর্ভুক্তির ইঙ্গিত দেয়।
টি-টোয়েন্টিতে ৮৬ ম্যাচে আকবর ১৩০.৬৭ স্ট্রাইক রেটে ১ হাজার ১৮০ রান করেছেন। উইকেটরক্ষক হিসেবেও তাকে কার্যকরী বলা হয়েছে। এবারের এনপিএলে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও খেলবেন, যাকে নিয়েছে পোখারা অ্যাভেঞ্জার্স। কাঠমাণ্ডুর কীর্তিপুরে ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ হবে।
প্রথম বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে কর্ণালি ইয়াকসের হয়ে খেলবেন আকবর আলি
২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ধস ও পাহাড়ধসের পর সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যাকে ঘিরে ছড়ানো অনলাইন গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় দুই দেশ ভিন্ন পদ্ধতি নেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় ১,৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ৫,৬৫০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়। উভয় দেশই বানোয়াট পোস্ট, ছবি ও ভিডিওর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলেও তথ্য প্রকাশ ও নিয়ন্ত্রণের ধরনে পার্থক্য দেখা গেছে।
চীনা কর্তৃপক্ষ অনলাইনে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ১০ জনকে শাস্তি দেওয়ার কথা জানায় এবং বন্যাসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশকে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী বলে দাবি করে। তবে প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শীদের কিছু ভিডিও সরানো এবং সরকারি মৃত্যুর হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। নেপালে শতাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টকে কনটেন্ট সরাতে অনুরোধ করা হয় এবং ভুয়া ত্রাণ তহবিল প্রচারের অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার হন।
এএফপি ফ্যাক্ট-চেকাররা একাধিক ভাষায় ছড়ানো কয়েক ডজন দাবি যাচাই করেন। বন্যার হিমবাহ ধসের ভিডিও হিসেবে প্রচারিত একটি দৃশ্য আসলে আলাস্কার কলাম্বিয়া গ্লেসিয়ারের ছিল। গুগলের এআই টুলে তৈরি বন্যার ভিডিওও ছড়ায়। বিজ্ঞানীদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বন্যার মূল কারণ হিমবাহ ও পাহাড়ধস বলা হয়েছে।
সীমান্ত বন্যার পর গুজব মোকাবিলায় চীন ও নেপালের ভিন্ন পদক্ষেপ
নেপালে গত ২৬ আগস্ট ভোটেকোশি নদীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে ৭২৩ দশমিক ৩১ বিলিয়ন রুপি প্রয়োজন হবে বলে প্রাথমিক হিসাব করেছে সরকার। ন্যাশনাল প্ল্যানিং কমিশন ও ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির নেতৃত্বে যৌথ কারিগরি দল র্যাপিড ড্যামেজ অ্যান্ড নিডস অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে এ হিসাব করেছে। মোট ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ, অর্থাৎ ৪৭৩ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন রুপি, অবকাঠামো খাতে লাগবে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জ্বালানি ও পরিবহন খাতে। ৭৫৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৩টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার পাঁচটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গ্রিড পুনরুদ্ধারে প্রয়োজন ৩৯০ দশমিক ৬২ বিলিয়ন রুপি। ৬৯ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত, ৩৩টি যান চলাচলযোগ্য সেতু ভেসে গেছে এবং ৬৪টি পদচারী সেতুর ৫৩টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাঁচ জেলায় বাড়িঘর, সরকারি ভবন, জরুরি সেবা, কৃষি, ব্যাংক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও ক্ষতি হয়েছে।
আগামী ছয় মাসে জরুরি ত্রাণ ও স্বল্পমেয়াদি পুনর্গঠনে ৮ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে সরকার; দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনে লাগবে ৭১৪ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন রুপি। এক মাসের মধ্যে বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করে বিস্তারিত পোস্ট-ডিজাস্টার নিডস অ্যাসেসমেন্ট করা হবে। বন্যায় প্রায় ১৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, ১ হাজার ৩৭০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং ৫ হাজার ১৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
ভোটেকোশি বন্যার পর পুনর্গঠনে ৭২৩ দশমিক ৩১ বিলিয়ন রুপি প্রয়োজন নেপালের
চীন-নেপাল সীমান্ত থেকে নেমে আসা হিমবাহ ধসজনিত ভয়াবহ বন্যার দুই সপ্তাহ পরও নেপালে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছিল বুধবার। ২৬ আগস্ট পানির ঢল, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের সুনামির মতো প্রবল স্রোত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে; উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গে আটকে থাকা ব্যক্তিদের জীবিত পাওয়ার আশা করছেন।
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট এএফপিকে জানান, ত্রিশূলী ৩এ, ৩বি ও চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চলছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৫৮টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে এবং ৫ হাজার ৩২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪০১ জনের বেশি নিহত এবং ৫ হাজার ৮৪৫ জন নিখোঁজ। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ৪৩ জনের মৃত্যু ও ৫১৯ জন নিখোঁজের তথ্য দিয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে শত শত বিদেশি নাগরিক ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কয়েকশ কর্মী রয়েছেন। সুড়ঙ্গের গভীর থেকে তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে—শুক্রবার দুই নেপালি ও শনিবার একজন চীনা নাগরিককে।
হিমবাহ ধসের বন্যার দুই সপ্তাহ পরও নেপালে সুড়ঙ্গে নিখোঁজদের খোঁজ চলছে
ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই মঙ্গলবার রাত ৯টা ৩৮ মিনিটে নেপালে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি এ তথ্য জানিয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে তিব্বতে ৫ দশমিক ৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়। গত বৃহস্পতিবারও তিব্বতে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল।
২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বরফ ও শিলার ধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার বিপর্যয় এখনো অব্যাহত রয়েছে। ভোটেকোশি নদীর প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও যানবাহন ভেসে গেছে। একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো ৫ হাজার ৩২৬ জন নিখোঁজ এবং ১৩ হাজার ৫৮৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। চীনা গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের চীনা অংশে অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন।
প্রাণঘাতী সীমান্ত বন্যার মধ্যেই নেপালে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে রাষ্ট্রদূতের আমন্ত্রণে এই সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয় বলে দলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হওয়া আলোচনায় নেপালে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের কল্যাণ ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় স্থান পায়। বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হয়।
সাক্ষাৎকালে খেলাফত মজলিস যুক্তরাজ্যের সহসভাপতি মাওলানা শেখ ছালেহ আহমদ হামিদী এবং জাতীয় উলামা কাউন্সিল বাংলাদেশের সহসভাপতি মুফতি মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষ পারস্পরিক সৌহার্দ্য, শুভেচ্ছা ও সদিচ্ছা বিনিময় করে ভবিষ্যতে যোগাযোগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সমৃদ্ধ হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে।
কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মামুনুল হকের সাক্ষাৎ
ভয়াবহ বন্যা ও হিমবাহ ধসের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্গঠনে নেপালের সর্বোচ্চ ৫০০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে। দেশটি বলছে, প্রকৃত পুনর্গঠন ব্যয় এ অঙ্কের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। আগস্টের শেষ দিকে সংঘটিত এই বিপর্যয়ের পর নেপাল জাতিসংঘের ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ তহবিল থেকে ২ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক তহবিলটিতেও অর্থের ঘাটতি রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর কাছে ক্ষয়ক্ষতির দায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নেপালের দাবি, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে তাদের অবদান ০ দশমিক ১ শতাংশেরও কম। তাঁর মতে, এটি দয়া বা দানের আবেদন নয়, জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। প্রবল স্রোত ও ধ্বংসাবশেষে শহর, সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
২৬ আগস্টের বিপর্যয়ের পর নেপাল ও তিব্বতে নিহত ও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়েছে। নিখোঁজদের খুঁজতে নিরাপত্তা বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল কাজ করছে; বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শত শত কর্মীর খোঁজ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং দুর্গত এলাকায় জরুরি সহায়তা পৌঁছানো এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
বন্যা ও হিমবাহ ধসের পর জলবায়ু ক্ষতিপূরণ ও পুনর্গঠন সহায়তা চেয়েছে নেপাল
নেপালে আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ১০ হাজার মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে নেপাল দূতাবাসে নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারীর হাতে সহায়তার চেক তুলে দেন সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম।
ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম বলেন, নেপালের এই দুর্যোগের সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, বিপদগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে এই সামান্য সহায়তা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও মানবিক সংহতির নিদর্শন।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তহবিল সংগ্রহ বিভাগের উদ্যোগে আর্থিক সহায়তাটি দেওয়া হয়েছে। চেক হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মো. রফিকুল কবির, ট্রেজারার ডা. আবু মো. মোফাখখারুল ইসলাম এবং তহবিল সংগ্রহ বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. এস. এম. হুমায়ুন কবির। সোসাইটি আশা করছে, এই অর্থ নেপালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি প্রয়োজন পূরণে অবদান রাখবে।
নেপালের বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ১০ হাজার ডলার সহায়তা দিল বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর উদ্ধার অভিযান নজিরবিহীন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলীয় উদ্ধার বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড ডিক্স। হিমালয় অঞ্চলের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসংক্রান্ত একাধিক টানেলে একই সময়ে উদ্ধারকাজ চলছে। চীন-নেপাল সীমান্তে ২৬ আগস্ট হিমবাহ ও পাহাড় ধসে দুই দেশে অন্তত ১ হাজার ৩৮৫ জন নিহত এবং ৫ হাজার ৫০০ জনের বেশি নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে শত শত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী রয়েছেন।
সোমবার উদ্ধার অভিযান ১৩তম দিনে গড়িয়েছে এবং ঐতিহ্যবাহী হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী নেপালে জাতীয় শোক দিবস পালিত হচ্ছে। শোক দিবসেও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত এএফপিকে বলেন, প্রথম দিনের মতো একই গতিতে কাজ চলছে। স্থলপথে, আকাশপথে ও টানেলের ভেতরে তিন স্তরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার চালানো হচ্ছে।
টানেলের গভীর থেকে তিন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের পর অন্যদের জীবিত পাওয়ার আশা বেড়েছে। শুক্রবার দুই নেপালি শ্রমিক এবং শনিবার এক চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। নেপালের দলগুলোকে চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞরা সহায়তা করছেন; তাদের মধ্যে ডিক্সও আছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি স্থানে আলাদা ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা রয়েছে এবং কেউ আটকে আছে কি না তা নিশ্চিত করাই উদ্ধারকর্মীদের লক্ষ্য।
৫ হাজার ৫০০ জনের বেশি নিখোঁজের মধ্যে নেপালে টানেল উদ্ধারকাজ অব্যাহত
চীন-নেপাল সীমান্তে গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ও পাহাড়ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় নিহতদের স্মরণে নেপালে সোমবার জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। এই দুর্যোগে অন্তত ১ হাজার ৩৯৮ জন নিহত হয়েছেন এবং ৫ হাজার ৫০০ জনের বেশি এখনো নিখোঁজ। নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক। শোক দিবসে দেশজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং দিনের শেষভাগে বিভিন্ন স্থানে মোমবাতি প্রজ্বালনের কর্মসূচি ছিল।
হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মৃত্যুর ১৩তম দিনে শোক পালনের অংশ হিসেবে এসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে শত শত জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিক রয়েছেন। গভীর সুড়ঙ্গ থেকে তিন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের পর অন্য নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনদের মধ্যেও আশা বেড়েছে। শুক্রবার দুই নেপালি শ্রমিক এবং শনিবার একজন চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়।
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট বলেন, স্থলপথে, আকাশপথে ও সুড়ঙ্গের ভেতরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে। কাঠমান্ডুতে জড়ো হওয়া কয়েকটি পরিবারের সদস্য উদ্ধার তৎপরতা দ্রুত করার দাবি করেছেন। অস্ট্রেলীয় সুড়ঙ্গ উদ্ধার বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড ডিক্স অভিযানটিকে তাঁর দেখা সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছেন। বন্যা ও পাহাড়ধসে বহু জনপদ, সড়ক ও বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে।
বন্যার নিহতদের স্মরণে নেপালে শোক, ৫ হাজার ৫০০ জনের বেশি এখনো নিখোঁজ
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৫১ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।