নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে আগামী ৯ থেকে ১২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে ‘তৃতীয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা সাংবাদিকতা সম্মেলন-২০২৬’। নেপাল আদিবাসী উপজাতি সাংবাদিক ফেডারেশন (ফোনিজ)-এর আয়োজনে এবং নয়া ন্যাশনাল ফোরাম অব জার্নালিস্টস ও সার্ক জার্নালিস্ট ফোরামের সমন্বয়ে চার দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে। সম্প্রতি কাঠমান্ডুর নয়াবাজারে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় ফোনিজের সাধারণ সম্পাদক সমীর বলামী সম্মেলনের বিস্তারিত কার্যপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০টি দেশের মাতৃভাষাভিত্তিক সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও গবেষকরা এতে অংশ নেবেন। চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে প্যানেল আলোচনা, গবেষণাপত্র ও কার্যপত্র উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হবে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মাতৃভাষা সাংবাদিকতার বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক শোভাযাত্রারও আয়োজন করা হবে।
সম্মেলনের অংশ হিসেবে নেপালের ঐতিহাসিক ও পর্যটনস্থল পরিদর্শন এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের সঙ্গে অতিথিদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের মতে, এর মাধ্যমে মাতৃভাষা সাংবাদিকতার বিকাশ, নীতিগত গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা এবং নেপালের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আগস্টে কাঠমান্ডুতে তৃতীয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা সাংবাদিকতা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে
অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব ও তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে নেপালে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত তিন দিনে তিন তরুণ আত্মাহুতির চেষ্টা করেছেন, যার মধ্যে দুজন মারা গেছেন এবং একজন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, সরকার তরুণদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ও তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
তরুণ সংগঠন ‘জেন-জি নেপাল’ অভিযোগ করেছে, সরকার জনস্বার্থ উপেক্ষা করে কর্তৃত্ববাদী মনোভাবে দেশ পরিচালনা করছে। সংগঠনটির মতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয় বৃদ্ধি ও তরুণদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের বাজেট ও নীতিতে বাস্তবসম্মত কোনো পদক্ষেপ নেই। ২০২৩ সালে প্রেম আচার্যের আত্মাহুতির ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে, যা সে সময় শাহ রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার প্রতীক বলেছিলেন। বর্তমান সংকটে তার নীরবতা নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য, বেকারত্ব ও সরকারি নীতির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
তরুণদের বিক্ষোভে উত্তাল নেপাল, প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের পদত্যাগের দাবি জোরালো
আমদানি করা চালানে অতিরিক্ত মাত্রার রাসায়নিক কীটনাশক শনাক্ত হওয়ায় ভারতীয় আম আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নেপাল। কাঠমান্ডুর কৃষি ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এর আগে গত মে মাসে জাপানও একই কারণে ভারতের কেশর, আলফনসো, ল্যাংড়া ও বঙ্গনপল্লি জাতের আমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
নেপালের মধেসি প্রদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মনীশ কুমার পাল জানান, এই নিষেধাজ্ঞা দেশীয় ফলের বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা করবে এবং নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যকর ফলের সুযোগ বাড়াবে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয়ভাবে ফল উৎপাদনে উৎসাহ জোগাবে।
তবে, নেপালের আম ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন যে এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বাজারে ঘাটতি, মূল্যবৃদ্ধি এবং আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। দেশটি আম উৎপাদন ও রপ্তানি করলেও স্থানীয় চাহিদা মেটাতে উৎপাদন যথেষ্ট নয় এবং আমের মৌসুম মাত্র দুই মাস স্থায়ী হয়।
অতিরিক্ত কীটনাশক শনাক্তে ভারতীয় আম আমদানি বন্ধ করল নেপাল
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ রবিবার পার্লামেন্টে বলেন, নেপাল ও ভারত উভয়েই একে অপরের জমি দখল করে রেখেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি জানতে পেরেছেন যে, শুধু ভারতই নয়, নেপালও ভারতের কিছু জমি দখল করেছে। শাহ বলেন, উভয় পক্ষেরই আলোচনায় বসে বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং কূটনৈতিকভাবে সমাধান করা প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, সীমান্ত বিরোধ নিয়ে নেপাল চীন ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে। শাহের মতে, যুক্তরাজ্যেরও এই বিষয়ে আগ্রহ দেখানো উচিত, কারণ এই সমস্যা ব্রিটিশ শাসন শেষে সৃষ্ট। দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপাল ইতোমধ্যে ভারতকে একটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছে।
বালেন্দ্র শাহ বলেন, ভারতের জবাবে জানানো হয়েছে যে উভয় সরকার ঐতিহাসিক, জরিপকারী ও অঞ্চল বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করবে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজবে।
নেপাল ও ভারত পরস্পরের সীমান্ত জমি দখল করেছে বলে জানালেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী
বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্টে একদিনে ২৭৪ জন পর্বতারোহীর সফল শীর্ষ জয় নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে। নেপালের কর্তৃপক্ষ ২১ মে ২০২৬ বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পর্বতারোহীরা একযোগে আরোহণের সুযোগ পান। নেপালের দক্ষিণ দিকের জনপ্রিয় রুট দিয়ে এত সংখ্যক আরোহীর একদিনে শীর্ষে ওঠা এর আগে কখনও দেখা যায়নি বলে ‘এক্সপেডিশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন’-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এভারেস্টে সাধারণত দুটি প্রধান রুট ব্যবহৃত হয়—নেপালের দক্ষিণ দিক এবং চীনের তিব্বতের উত্তর দিক। ২০১৯ সালে নেপাল রুট দিয়ে ২২৩ জন এবং চীন রুট দিয়ে ১১৩ জন পর্বতারোহী একদিনে শীর্ষে উঠেছিলেন। তবে এ বছর চীন তাদের দিকের রুট বন্ধ রাখায় অধিকাংশ আরোহী নেপাল অংশে ভিড় জমিয়েছেন। মৌসুমের শুরুতে ঝুঁকিপূর্ণ বরফখণ্ডের কারণে অভিযান ধীরগতির ছিল, পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আরোহণ গতি পায়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মে মাসের শেষ পর্যন্ত চলবে এবারের আরোহণ মৌসুম, যেখানে প্রায় ৪৯৪ জন বিদেশি পর্বতারোহী ও সমসংখ্যক শেরপা গাইড শীর্ষে ওঠার পরিকল্পনা নিয়েছেন।
অনুকূল আবহাওয়ায় একদিনে ২৭৪ জনের এভারেস্ট জয়, নতুন বিশ্ব রেকর্ড
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ একাধিক বিদেশি কূটনীতিকের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেছেন, যার মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রী ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধিও রয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ১১ ও ১২ মে কাঠমান্ডু সফরে এসে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা নিয়ে আলোচনা করার কথা ছিল মিস্রীর, কিন্তু শেষ মুহূর্তে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বৈঠক বাতিল করে।
ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শাহ মনে করেন সমমর্যাদার ব্যক্তিদের মধ্যেই বৈঠক হওয়া উচিত এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে আগ্রহী। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সীমান্ত বিরোধ ও জাতীয়তাবাদী অবস্থানকে সামনে এনে ভারতের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল। লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ২০২০ সালে নেপালের নতুন মানচিত্র প্রকাশের পর আরও তীব্র হয়।
কাঠমান্ডুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শাহ বর্তমানে প্রশাসনিক সংস্কারে ব্যস্ত এবং এখন থেকে কেবল রাষ্ট্রপ্রধান বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গেই বৈঠক করবেন। একই সঙ্গে নেপাল ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সীমান্ত ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক বাতিল নেপালের প্রধানমন্ত্রীর
২০২৬ সালের ১১ মে নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজে আগুন লাগে। নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানের ডান পাশের ল্যান্ডিং গিয়ারে স্পার্ক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিমানে থাকা ২৭৭ জন যাত্রী ও ১১ জন ক্রু সদস্য সবাই নিরাপদ আছেন। উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
ঘটনার পর বিমানবন্দরের একমাত্র রানওয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল, পরে তা পুনরায় চালু করা হয়। হিমালয় পর্বতমালার জটিল ভূপ্রকৃতির কারণে কাঠমান্ডুর বিমানবন্দরগুলোকে বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং রানওয়ে হিসেবে ধরা হয়, যা পাইলটদের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করে।
২০১৫ সালেও একই বিমানবন্দরে তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়েছিল, তবে কেউ আহত হননি। নেপালের বিমান নিরাপত্তা নিয়ে অতীতের একাধিক দুর্ঘটনা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার পর দেশটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
কাঠমান্ডুতে অবতরণের সময় তুর্কিশ বিমানে আগুন, ২৮৮ জনই নিরাপদ
হিমালয়ের বিতর্কিত লিপুলেখ গিরিপথ দিয়ে তীর্থযাত্রা পুনরায় চালুর ভারতের ঘোষণায় নেপাল আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার জানানো হয়, চীন, ভারত ও নেপাল সীমান্তবর্তী এই গিরিপথ দিয়ে চলতি বছর তিব্বতের কৈলাশ মানসরোবর তীর্থযাত্রা আবার শুরু হবে। ২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে এ পথ বন্ধ ছিল।
রবিবার নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ১৮১৬ সালের সুগলি চুক্তি অনুযায়ী লিপুলেখ, লিমপিয়াধুরা ও কালাপানি অঞ্চল নেপালের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। কাঠমান্ডু ভারতের ঘোষণাকে নেপালের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ১৯৫৪ সাল থেকে হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও বন ধর্মাবলম্বীরা এই পথ ব্যবহার করে তীর্থযাত্রা করে আসছেন এবং নেপালের দাবি ভিত্তিহীন ও ঐতিহাসিকভাবে অযৌক্তিক। ভারতের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছর উত্তরাখণ্ড হয়ে ৫০০ হিন্দু তীর্থযাত্রী তিব্বতে যাবেন, অন্যরা সিকিম হয়ে যাবেন।
বিতর্কিত লিপুলেখ গিরিপথ দিয়ে তীর্থযাত্রা চালুর ঘোষণায় ভারতের বিরুদ্ধে নেপালের প্রতিবাদ
মাউন্ট এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের উপরের পথে বিশাল বরফখণ্ডের কারণে শতাধিক পর্বতারোহী ও স্থানীয় গাইডদের অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছে। নেপালের পর্বতারোহণ বিভাগের কর্মকর্তা হিমেল গৌতম জানান, বেস ক্যাম্প ও ক্যাম্প ওয়ানের মধ্যবর্তী বরফের বাঁধটি (সেরাক) অস্থিতিশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আরোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অগ্রসর হওয়া সম্ভব নয়। বর্তমানে অভিযাত্রীরা বেস ক্যাম্পে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
সরকারি তথ্যমতে, চলতি বসন্ত মৌসুমে ৪১০ জন বিদেশি পর্বতারোহীকে এভারেস্ট জয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণত মে মাসের শেষ নাগাদ শেষ হয়। প্রতি বছর অভিজ্ঞ শেরপারা “আইসফল ডাক্তার” নামে পরিচিত হয়ে খুম্বু আইসফলে দড়ি ও সিঁড়ি বসিয়ে পথ তৈরি করেন, তবে এ বছর সেরাকের ঝুঁকির কারণে কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। সাগরমাথা পলিউশন কন্ট্রোল কমিটি আকাশপথে জরিপ চালিয়ে পরিস্থিতি মূল্যায়নের পরিকল্পনা করেছে।
খুম্বু আইসফল অঞ্চলটি এভারেস্ট অভিযানের সবচেয়ে বিপজ্জনক অংশগুলোর একটি, যেখানে ২০১৪ সালে বরফধসে ১৬ জন শেরপা গাইড নিহত হয়েছিলেন।
এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে বরফের বাধায় শতাধিক পর্বতারোহীর অভিযান স্থগিত
তরুণদের নেতৃত্বে নেপালে ঘটেছে এক বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন। গত সেপ্টেম্বরে ২৮ বছর বয়সী বাবলু গুপ্তার নেতৃত্বে সংঘটিত অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর মার্চের নির্বাচনে যুব-চালিত রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) বিপুল বিজয় অর্জন করে। নতুন সংসদে ৩০ বছর বা তার কম বয়সী সদস্যের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ শতাংশে, যা আগের সংসদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। ৩৫ বছর বয়সী র্যাপার ও সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ ২৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, যা প্রজন্ম পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, বেকারত্ব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিষেধাজ্ঞায় ক্ষুব্ধ তরুণরা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়। নেপালের এই পরিবর্তন এমন সময়ে ঘটেছে যখন বিশ্বের অন্যান্য দেশে তরুণ আন্দোলনগুলো স্তিমিত হয়ে পড়েছে। নতুন সরকার ১২ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সর্বজনীন স্বাস্থ্যবীমা ও ডিজিটাল প্রশাসন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এই সংস্কার কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
নেপালের এই রূপান্তর তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে, যদিও জবাবদিহিতা, অন্তর্ভুক্তি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
জেন জি বিপ্লবে নেপালে তরুণ নেতৃত্বের উত্থান ও নতুন আশার সূচনা
নেপালের নতুন সরকার রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। বৃহস্পতিবার এক কর্মকর্তা জানান, সুপ্রিম কোর্টের সাবেক এক বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের এই কমিটি ২০০৬ সাল থেকে সরকারি পদে থাকা শীর্ষ ব্যক্তিদের সম্পদের বিবরণ পর্যালোচনা করবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস ও তদন্ত উপদেষ্টা দীপা দাহাল জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং কমিটির সময়সীমা ও অন্যান্য বিবরণ চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ক্ষমতায় আসার পর সরকারের ঘোষিত ১০০ দফা সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই কমিটি গঠনের পরিকল্পনা ছিল। চলতি মাসের শুরুতে নেপাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে, যা দেউবা বিদেশ থেকে অস্বীকার করেছেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি ধারণা সূচকে নেপাল ১৮০ দেশের মধ্যে ১০৯তম স্থানে রয়েছে।
এই কমিটির তদন্ত ফলাফল সরকারের দুর্নীতি দমন ও প্রশাসনিক সংস্কার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
২০০৬ সালের পর রাজনীতিক ও কর্মকর্তাদের সম্পদ তদন্তে নেপালে কমিটি গঠন
নেপাল সরকার সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে দুই দিন ছুটি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এ উদ্যোগ সুফল বয়ে আনতে পারে, তবে ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি থাকলে জনদুর্ভোগ বাড়তে পারে।
দেশটির প্রশাসনিক আদালতের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক সংস্কার পরামর্শ কমিটির সমন্বয়ক কাশি রাজ দাহাল বলেন, যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে দুই দিনের ছুটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হবে। এতে জ্বালানি সাশ্রয় হবে, কর্মীরা কৃষিকাজে সময় দিতে পারবেন এবং পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে পারবেন। তবে তিনি সতর্ক করেন, জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রাখতে হবে এবং যেসব অফিসে সেবাগ্রহীতার চাপ বেশি, সেখানে এই নিয়ম কার্যকর নাও হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, নতুন নিয়ম চালুর পর কর্মঘণ্টা কঠোরভাবে মেনে চলা জরুরি। কর্মচারীরা যদি সময়মতো অফিসে না আসেন বা আগে চলে যান, তাহলে এই সিদ্ধান্ত সুফল না এনে জটিলতা বাড়াতে পারে।
নেপালে সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে দুই দিন ছুটি চালুর সিদ্ধান্ত
নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির নেতা বালেন্দ্র (বালেন) শাহ প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন। সরকার ১০০ দফার একটি সংস্কার কর্মসূচি নিয়েছে, যার বড় অংশ শিক্ষা খাতকে কেন্দ্র করে। এর অংশ হিসেবে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক দল অনুমোদিত সব ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব সংগঠন ক্যাম্পাস থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে অরাজনৈতিক ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল’ গঠন করা হবে, যা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দাবি তুলে ধরবে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, প্রশাসনকে অরাজনৈতিক করতে সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের রাজনৈতিক দল থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দলীয় ট্রেড ইউনিয়ন বিলুপ্ত করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষার চাপ কমাতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে, যা বিকল্প ও মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়নে প্রতিস্থাপিত হবে। বিদেশি নামধারী স্কুলগুলোকে বছরের শেষ নাগাদ নেপালি নাম নিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হতে নাগরিকত্ব সনদের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষকদের পেনশন ও রেকর্ড ব্যবস্থাপনা প্রাদেশিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নেপালে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ, ১০০ দফা শিক্ষা সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা
গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেন-জি বিক্ষোভকারীদের দমন অভিযানে জড়িত থাকার অভিযোগে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে শনিবার গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ও তার মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার এক দিন পরই এই গ্রেপ্তার হয়। কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী জানান, তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার পর অর্থনৈতিক দুর্ভোগে ক্ষুব্ধ তরুণদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বরের সহিংসতায় অন্তত ৭৬ জন নিহত হন, প্রথম দিনেই প্রাণ হারান ২০ তরুণ। এই সহিংসতার পর ওলি পদত্যাগে বাধ্য হন এবং তার সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তী ৫ মার্চের নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।
সহিংসতা তদন্তে গঠিত কমিশন বলেছে, গুলি চালানোর নির্দেশ প্রমাণিত না হলেও তা থামাতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যার ফলে কয়েকজন শিশুও নিহত হয়।
জেন-জি বিক্ষোভ দমনে অভিযুক্ত হয়ে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রেপ্তার
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে গত বছরের রক্তাক্ত বিক্ষোভ দমনে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে শনিবার ভোরে কাঠমান্ডুর নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৭৪ বছর বয়সী এই নেতাকে গ্রেপ্তারের পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও আটক করা হয়েছে।
একটি তদন্ত প্যানেল ওলি ও লেখকের বিরুদ্ধে ‘ফৌজদারি অবহেলা’র অভিযোগে বিচারের সুপারিশ করার পর এই গ্রেপ্তারি অভিযান পরিচালিত হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের ক্ষোভে তীব্র আকার ধারণ করেছিল। পুলিশের গুলিতে অন্তত ৭০ জন নিহত হন, যাদের বেশির ভাগই ছিলেন সাধারণ আন্দোলনকারী।
এই নাটকীয় গ্রেপ্তারের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন মাত্র একদিন আগে ৩৫ বছর বয়সী র্যাপার থেকে রাজনীতিক হওয়া বালেন্দ্র শাহ নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
বিক্ষোভ দমনে ভূমিকার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলি গ্রেপ্তার, দেশজুড়ে বিক্ষোভ
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জেন-জির নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভে বহু মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় তার দায় আছে কি না, তা তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী যুব আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের পেছনে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অসন্তোষ কাজ করেছিল। বিক্ষোভের প্রথম দিনেই দমন-পীড়নে অন্তত ১৯ জন তরুণ প্রাণ হারান। দুর্নীতির অভিযোগে ওলির সরকারের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভ দমনে ব্যর্থ হয়ে ওলি পদত্যাগ করেন, তার আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিরেন রমেশ লেখক পদত্যাগ করেছিলেন। পরে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় এবং সাবেক বিশেষ জজ গৌরী বাহাদুর কার্কির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়।
২০২৫ সালের জেন-জি বিক্ষোভে মৃত্যুর তদন্তে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলি গ্রেপ্তার
রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) নেতা বালেন্দ্র শাহ নেপালের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শুক্রবার শপথ গ্রহণ করেছেন। রাজধানী কাঠমান্ডুর রাষ্ট্রপতি ভবন ‘শীতল নিবাস’-এ আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল তাকে পদ ও গোপনীয়তার শপথ বাক্য পাঠ করান। এর মাধ্যমে তিনি দেশটির ৪৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
৩৫ বছর বয়সী স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ও সাবেক র্যাপার শাহ গত ৫ মার্চের সাধারণ নির্বাচনে ঝাপা-৫ আসনে সিপিএন-ইউএমএল চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী ‘জেন জি’ বিক্ষোভে ৭৬ জন নিহত হওয়ার পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে শাহের দল ২৭৫ আসনের সংসদে ১৮২টি আসন পায়, যা তাকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ দেয়।
কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র শাহ নেপালের ইতিহাসে প্রথম মধেসি প্রধানমন্ত্রী, যা দেশটির রাজনীতিতে প্রজন্ম ও সামাজিক পরিবর্তনের নতুন অধ্যায় সূচিত করেছে।
বালেন্দ্র শাহ নেপালের সর্বকনিষ্ঠ ও প্রথম মধেসি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন
নেপালে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জেন-জি নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে অন্তত ৭৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনার সুপারিশ করেছে সরকার সমর্থিত তদন্ত কমিশন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত অর্থনৈতিক দুর্দশা ও দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। প্রথম দিনেই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১৯ তরুণ নিহত হন, যার পর অলি পদত্যাগ করেন। কমিশনের প্রতিবেদনটি স্থানীয় গণমাধ্যমে ফাঁস হয় এবং এটি প্রকাশিত হয় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণের সময়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অলি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক প্রাণহানি রোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। ৬৩টি ময়নাতদন্তের মধ্যে ৪৮টিতে দেখা গেছে, ভুক্তভোগীরা গুলিতে নিহত হয়েছেন এবং বেশিরভাগের গুলি লেগেছে বুকে বা মাথায়। সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি অলির পদচ্যুতির পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে এই তদন্ত কমিশন গঠন করেন। কমিশনটি ২০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়।
কার্কির কার্যালয় জানিয়েছে, প্রতিবেদনটি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে, যদিও এর আনুষ্ঠানিক বিবরণ এখনো প্রকাশিত হয়নি।
নেপালে ২০২৫ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের ঘটনায় অলির বিচারের দাবি
জেন-জির নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানের পর নেপালে ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বড় ধরনের প্রজন্মগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রকাশিত ১৫৯টি আসনের ফলাফলে দেখা যায়, ৪০ বছরের কম বয়সি ৫৯ জন প্রার্থী ফেডারেল আইনসভায় নির্বাচিত হয়েছেন, যা মোট আসনের ৩৮ শতাংশ। ২০২২ সালের সংসদে যেখানে তরুণ সদস্যের হার ছিল মাত্র ১১ শতাংশ, এবার তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) তরুণ নেতৃত্বের এই উত্থানে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে। নির্বাচিত ৫৯ তরুণের মধ্যে ৫১ জনই আরএসপি থেকে, বাকিদের মধ্যে নেপালি কংগ্রেসের চারজন, সিপিএন-ইউএমএলের দুজন এবং রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির একজন রয়েছেন। নতুন মুখদের মধ্যে আছেন ঝাপা-৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সি বালেন্দ্র শাহ, চিতওয়ান-৩ থেকে ৩০ বছর বয়সি সোবিতা গৌতম, রূপানদেহি-২ থেকে ২৮ বছর বয়সি সুলভ খারেল ও মোরাং-৬ থেকে ৩১ বছর বয়সি রুবিনা আচার্য।
বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ নেতৃত্বের উত্থান শিক্ষা, শাসনব্যবস্থা, জলবায়ু নীতি ও কর্মসংস্থানে নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যদিও পুরোনো প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ে চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে।
জেন-জির আন্দোলনের পর নেপালের নতুন সংসদে ৩৮ শতাংশ তরুণ সদস্য
নেপালের জাতীয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল আগামীকাল ঘোষণা করা হবে, যার মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পথ খুলবে। তবে নবনির্বাচিত ২৬৫ জন সংসদ সদস্যের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—তারা কোথায় বসবেন? গত বছর দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীরা সংসদ ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয়, ফলে ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এরপর অন্তর্বর্তী সরকার নতুন সংসদ ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। স্থানীয় গণমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে আরবান ডেভেলপমেন্ট মন্ত্রণালয়ের বরাতে বলা হয়েছে, চলতি মার্চের মাঝামাঝি সময়ে নতুন ভবনটি প্রস্তুত হবে। যদিও এর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত অক্টোবরেই, এখনো তা সম্পূর্ণ হয়নি।
নতুন ভবন প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত নবগঠিত সংসদের কার্যক্রম পরিচালনায় বাস্তবিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত সংসদ ভবন অসম্পূর্ণ, নতুন নেপালি সংসদ কোথায় বসবে অনিশ্চিত
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৪৬ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।