নেপালের নতুন সরকার রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। বৃহস্পতিবার এক কর্মকর্তা জানান, সুপ্রিম কোর্টের সাবেক এক বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের এই কমিটি ২০০৬ সাল থেকে সরকারি পদে থাকা শীর্ষ ব্যক্তিদের সম্পদের বিবরণ পর্যালোচনা করবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস ও তদন্ত উপদেষ্টা দীপা দাহাল জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং কমিটির সময়সীমা ও অন্যান্য বিবরণ চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ক্ষমতায় আসার পর সরকারের ঘোষিত ১০০ দফা সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই কমিটি গঠনের পরিকল্পনা ছিল। চলতি মাসের শুরুতে নেপাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে, যা দেউবা বিদেশ থেকে অস্বীকার করেছেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি ধারণা সূচকে নেপাল ১৮০ দেশের মধ্যে ১০৯তম স্থানে রয়েছে।
এই কমিটির তদন্ত ফলাফল সরকারের দুর্নীতি দমন ও প্রশাসনিক সংস্কার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
২০০৬ সালের পর রাজনীতিক ও কর্মকর্তাদের সম্পদ তদন্তে নেপালে কমিটি গঠন
নেপাল সরকার সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে দুই দিন ছুটি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এ উদ্যোগ সুফল বয়ে আনতে পারে, তবে ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি থাকলে জনদুর্ভোগ বাড়তে পারে।
দেশটির প্রশাসনিক আদালতের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক সংস্কার পরামর্শ কমিটির সমন্বয়ক কাশি রাজ দাহাল বলেন, যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে দুই দিনের ছুটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হবে। এতে জ্বালানি সাশ্রয় হবে, কর্মীরা কৃষিকাজে সময় দিতে পারবেন এবং পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে পারবেন। তবে তিনি সতর্ক করেন, জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রাখতে হবে এবং যেসব অফিসে সেবাগ্রহীতার চাপ বেশি, সেখানে এই নিয়ম কার্যকর নাও হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, নতুন নিয়ম চালুর পর কর্মঘণ্টা কঠোরভাবে মেনে চলা জরুরি। কর্মচারীরা যদি সময়মতো অফিসে না আসেন বা আগে চলে যান, তাহলে এই সিদ্ধান্ত সুফল না এনে জটিলতা বাড়াতে পারে।
নেপালে সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে দুই দিন ছুটি চালুর সিদ্ধান্ত
নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির নেতা বালেন্দ্র (বালেন) শাহ প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন। সরকার ১০০ দফার একটি সংস্কার কর্মসূচি নিয়েছে, যার বড় অংশ শিক্ষা খাতকে কেন্দ্র করে। এর অংশ হিসেবে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক দল অনুমোদিত সব ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব সংগঠন ক্যাম্পাস থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে অরাজনৈতিক ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল’ গঠন করা হবে, যা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দাবি তুলে ধরবে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, প্রশাসনকে অরাজনৈতিক করতে সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের রাজনৈতিক দল থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দলীয় ট্রেড ইউনিয়ন বিলুপ্ত করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষার চাপ কমাতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে, যা বিকল্প ও মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়নে প্রতিস্থাপিত হবে। বিদেশি নামধারী স্কুলগুলোকে বছরের শেষ নাগাদ নেপালি নাম নিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হতে নাগরিকত্ব সনদের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষকদের পেনশন ও রেকর্ড ব্যবস্থাপনা প্রাদেশিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নেপালে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ, ১০০ দফা শিক্ষা সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা
গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেন-জি বিক্ষোভকারীদের দমন অভিযানে জড়িত থাকার অভিযোগে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে শনিবার গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ও তার মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার এক দিন পরই এই গ্রেপ্তার হয়। কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী জানান, তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার পর অর্থনৈতিক দুর্ভোগে ক্ষুব্ধ তরুণদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বরের সহিংসতায় অন্তত ৭৬ জন নিহত হন, প্রথম দিনেই প্রাণ হারান ২০ তরুণ। এই সহিংসতার পর ওলি পদত্যাগে বাধ্য হন এবং তার সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তী ৫ মার্চের নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।
সহিংসতা তদন্তে গঠিত কমিশন বলেছে, গুলি চালানোর নির্দেশ প্রমাণিত না হলেও তা থামাতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যার ফলে কয়েকজন শিশুও নিহত হয়।
জেন-জি বিক্ষোভ দমনে অভিযুক্ত হয়ে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রেপ্তার
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে গত বছরের রক্তাক্ত বিক্ষোভ দমনে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে শনিবার ভোরে কাঠমান্ডুর নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৭৪ বছর বয়সী এই নেতাকে গ্রেপ্তারের পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও আটক করা হয়েছে।
একটি তদন্ত প্যানেল ওলি ও লেখকের বিরুদ্ধে ‘ফৌজদারি অবহেলা’র অভিযোগে বিচারের সুপারিশ করার পর এই গ্রেপ্তারি অভিযান পরিচালিত হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের ক্ষোভে তীব্র আকার ধারণ করেছিল। পুলিশের গুলিতে অন্তত ৭০ জন নিহত হন, যাদের বেশির ভাগই ছিলেন সাধারণ আন্দোলনকারী।
এই নাটকীয় গ্রেপ্তারের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন মাত্র একদিন আগে ৩৫ বছর বয়সী র্যাপার থেকে রাজনীতিক হওয়া বালেন্দ্র শাহ নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
বিক্ষোভ দমনে ভূমিকার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলি গ্রেপ্তার, দেশজুড়ে বিক্ষোভ
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জেন-জির নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভে বহু মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় তার দায় আছে কি না, তা তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী যুব আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের পেছনে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অসন্তোষ কাজ করেছিল। বিক্ষোভের প্রথম দিনেই দমন-পীড়নে অন্তত ১৯ জন তরুণ প্রাণ হারান। দুর্নীতির অভিযোগে ওলির সরকারের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভ দমনে ব্যর্থ হয়ে ওলি পদত্যাগ করেন, তার আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিরেন রমেশ লেখক পদত্যাগ করেছিলেন। পরে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় এবং সাবেক বিশেষ জজ গৌরী বাহাদুর কার্কির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়।
২০২৫ সালের জেন-জি বিক্ষোভে মৃত্যুর তদন্তে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলি গ্রেপ্তার
রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) নেতা বালেন্দ্র শাহ নেপালের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শুক্রবার শপথ গ্রহণ করেছেন। রাজধানী কাঠমান্ডুর রাষ্ট্রপতি ভবন ‘শীতল নিবাস’-এ আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল তাকে পদ ও গোপনীয়তার শপথ বাক্য পাঠ করান। এর মাধ্যমে তিনি দেশটির ৪৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
৩৫ বছর বয়সী স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ও সাবেক র্যাপার শাহ গত ৫ মার্চের সাধারণ নির্বাচনে ঝাপা-৫ আসনে সিপিএন-ইউএমএল চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী ‘জেন জি’ বিক্ষোভে ৭৬ জন নিহত হওয়ার পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে শাহের দল ২৭৫ আসনের সংসদে ১৮২টি আসন পায়, যা তাকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ দেয়।
কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র শাহ নেপালের ইতিহাসে প্রথম মধেসি প্রধানমন্ত্রী, যা দেশটির রাজনীতিতে প্রজন্ম ও সামাজিক পরিবর্তনের নতুন অধ্যায় সূচিত করেছে।
বালেন্দ্র শাহ নেপালের সর্বকনিষ্ঠ ও প্রথম মধেসি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন
নেপালে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জেন-জি নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে অন্তত ৭৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনার সুপারিশ করেছে সরকার সমর্থিত তদন্ত কমিশন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত অর্থনৈতিক দুর্দশা ও দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। প্রথম দিনেই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১৯ তরুণ নিহত হন, যার পর অলি পদত্যাগ করেন। কমিশনের প্রতিবেদনটি স্থানীয় গণমাধ্যমে ফাঁস হয় এবং এটি প্রকাশিত হয় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণের সময়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অলি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক প্রাণহানি রোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। ৬৩টি ময়নাতদন্তের মধ্যে ৪৮টিতে দেখা গেছে, ভুক্তভোগীরা গুলিতে নিহত হয়েছেন এবং বেশিরভাগের গুলি লেগেছে বুকে বা মাথায়। সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি অলির পদচ্যুতির পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে এই তদন্ত কমিশন গঠন করেন। কমিশনটি ২০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়।
কার্কির কার্যালয় জানিয়েছে, প্রতিবেদনটি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে, যদিও এর আনুষ্ঠানিক বিবরণ এখনো প্রকাশিত হয়নি।
নেপালে ২০২৫ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের ঘটনায় অলির বিচারের দাবি
জেন-জির নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানের পর নেপালে ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বড় ধরনের প্রজন্মগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রকাশিত ১৫৯টি আসনের ফলাফলে দেখা যায়, ৪০ বছরের কম বয়সি ৫৯ জন প্রার্থী ফেডারেল আইনসভায় নির্বাচিত হয়েছেন, যা মোট আসনের ৩৮ শতাংশ। ২০২২ সালের সংসদে যেখানে তরুণ সদস্যের হার ছিল মাত্র ১১ শতাংশ, এবার তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) তরুণ নেতৃত্বের এই উত্থানে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে। নির্বাচিত ৫৯ তরুণের মধ্যে ৫১ জনই আরএসপি থেকে, বাকিদের মধ্যে নেপালি কংগ্রেসের চারজন, সিপিএন-ইউএমএলের দুজন এবং রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির একজন রয়েছেন। নতুন মুখদের মধ্যে আছেন ঝাপা-৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সি বালেন্দ্র শাহ, চিতওয়ান-৩ থেকে ৩০ বছর বয়সি সোবিতা গৌতম, রূপানদেহি-২ থেকে ২৮ বছর বয়সি সুলভ খারেল ও মোরাং-৬ থেকে ৩১ বছর বয়সি রুবিনা আচার্য।
বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ নেতৃত্বের উত্থান শিক্ষা, শাসনব্যবস্থা, জলবায়ু নীতি ও কর্মসংস্থানে নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যদিও পুরোনো প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ে চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে।
জেন-জির আন্দোলনের পর নেপালের নতুন সংসদে ৩৮ শতাংশ তরুণ সদস্য
নেপালের জাতীয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল আগামীকাল ঘোষণা করা হবে, যার মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পথ খুলবে। তবে নবনির্বাচিত ২৬৫ জন সংসদ সদস্যের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—তারা কোথায় বসবেন? গত বছর দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীরা সংসদ ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয়, ফলে ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এরপর অন্তর্বর্তী সরকার নতুন সংসদ ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। স্থানীয় গণমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে আরবান ডেভেলপমেন্ট মন্ত্রণালয়ের বরাতে বলা হয়েছে, চলতি মার্চের মাঝামাঝি সময়ে নতুন ভবনটি প্রস্তুত হবে। যদিও এর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত অক্টোবরেই, এখনো তা সম্পূর্ণ হয়নি।
নতুন ভবন প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত নবগঠিত সংসদের কার্যক্রম পরিচালনায় বাস্তবিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত সংসদ ভবন অসম্পূর্ণ, নতুন নেপালি সংসদ কোথায় বসবে অনিশ্চিত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার বলেছেন, নেপালের সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া নেতারাই সরকার গঠন করেছেন, কারণ সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা ভাই-ব্রাদার সংস্কৃতি নেই। শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
পোস্টে আম্মার উল্লেখ করেন, তিনি তখন ক্যাম্পাসে বিভিন্ন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যখন পোষ্য কোটা আন্দোলন চলছিল। তার অভিযোগ, জাতীয় পর্যায়ের অনেক নেতা নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোটা বাতিলের দাবিতে জোরালো আওয়াজ তোলার সময় পাননি। তিনি আরও বলেন, ঢাবিতে কোটি টাকার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলেও রাজশাহীতে এমন আয়োজনের প্রস্তাব উপেক্ষিত হয়েছে।
নেপালের ‘জেন-জি সরকারকে’ শুভকামনা জানিয়ে আম্মার বলেন, অভ্যুত্থানের নেতারা যে দলই গঠন করবেন সেটিই তার প্রাণের সংগঠন। তিনি ভাই-ব্রাদার রাজনীতি ও ফ্যান-ফলোয়ার নির্ভর মূল্যায়ন সংস্কৃতির সমালোচনা করে বলেন, এই কারণেই অনেক কর্মী সংগঠন থেকে দূরে সরে গেছেন।
ঢাবি সংস্কৃতি না থাকায় নেপালে অভ্যুত্থান নেতারা সরকার গঠন করেছেন বলে মন্তব্য রাকসু জিএসের
নেপালের সাধারণ নির্বাচনের ভোট গণনা এখনো চলছে, তবে সাবেক র্যাপার থেকে রাজনীতিতে আসা বালেন্দ্র শাহ শুরুতেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। জানুয়ারি পর্যন্ত কাঠমান্ডুর মেয়র থাকা শাহ এবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছেন। বিবিসি নেপালির তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থি রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ১৬৫টি সরাসরি নির্বাচিত আসনের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি স্থানে এগিয়ে আছে। নেপালি কংগ্রেস দ্বিতীয় এবং ইউএমএল তৃতীয় স্থানে রয়েছে। পাহাড়ি দেশ নেপালে ভোট গণনা ধীরগতির হওয়ায় চূড়ান্ত ফলাফল পেতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
৩৫ বছর বয়সী শাহ পেশায় অবকাঠামো প্রকৌশলী এবং রাজনীতিতে আসার আগে নেপালের হিপ হপ অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন। গত বছরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা-বিরোধী বিক্ষোভে তরুণদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়, যা পরে দুর্নীতি ও বেকারত্ববিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। মেয়র হিসেবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। বর্তমানে তিনি কেপি শর্মা ওলির ঐতিহ্যবাহী আসন ঝাপা–৫ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং সেখানে এগিয়ে আছেন।
এই নির্বাচনকে নেপালের তরুণ প্রজন্ম পুরনো নেতৃত্বের বিকল্প হিসেবে দেখছে, যা দেশটির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নেপালে এগিয়ে বালেন্দ্র শাহ, নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের সম্ভাবনা জোরালো
বৃহস্পতিবার নেপালে সংসদীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা দেশটির রাজনৈতিক ভারসাম্য ভারত ও চীনের প্রভাবের মধ্যে কোন দিকে ঝুঁকবে তা নির্ধারণ করতে পারে। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি (কমিউনিস্ট পার্টি–ইউএমএল), সাবেক কাঠমান্ডু মেয়র বালেন্দ্র শাহ (রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি–আরএসপি), নেপালি কংগ্রেস নেতা গগন থাপা এবং সাবেক মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দাহাল। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ১৬৫টি আসনের ব্যালট সংগ্রহের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না, কারণ ১৯৯০ সালে রাজতন্ত্র পতনের পর থেকে নেপালে স্থিতিশীল সরকার গঠিত হয়নি। ২০২৫ সালের জেন জি আন্দোলনের প্রভাবে ওলির পদত্যাগের পর বালেন শাহ ভারতবিরোধী অবস্থান ও তরুণদের সমর্থনে আলোচনায় উঠে এসেছেন। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ওলির দল চীনঘনিষ্ঠ, তবে ভারত সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, নেপালের উন্নয়নের স্বার্থে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অপরিহার্য হবে।
ভারত-চীন প্রভাবের মাঝে নেপালের ভোটে জেন জি প্রভাব ও নতুন নেতৃত্বের উত্থান
নেপালে বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে নতুন সংসদ গঠনের লক্ষ্যে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রাণঘাতী দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে সরকার পতনের ছয় মাস পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এই ভোটে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবর্তে নতুন সরকার নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ থেকে শুরু হওয়া জেন জি তরুণদের আন্দোলন পরে দুর্নীতি ও দুর্বল অর্থনীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক অসন্তোষে রূপ নেয়। এতে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির সরকার পতন ঘটে। অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দিতে আহ্বান জানিয়েছেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাজারো সেনা-পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
২৭৫ আসনের সংসদের ১৬৫টি আসনে সরাসরি ভোট হচ্ছে, যেখানে তিন হাজার চারশোর বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, কোনো একক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে, এবং প্রাথমিক ফল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ হতে পারে।
দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পর নেপালে প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে
কাঠমান্ডুর ৩৫ বছর বয়সী মেয়র ও র্যাপার থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া বলেন্দ্র শাহ নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছেন। আগামী ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের আগে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তরুণদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি ওলি সরকারের পতনের পর শাহের উত্থান ঘটে। সেই অভ্যুত্থানে ৭৭ জন নিহত হয়েছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে শাহ তরুণ প্রজন্মকে দেশের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত হতে আহ্বান জানান।
সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ বিপীন অধিকারী বলেন, শাহ এতটাই জনপ্রিয় যে কাঠমান্ডুতে প্রবেশ করা অনেক বাসে ‘বালেনের শহরে যাচ্ছি’ লেখা স্টিকার দেখা যায়। শাহের নেতৃত্বাধীন জাতীয় স্বাধীন পার্টি (আরএসপি) একটি নতুন মধ্যপন্থি দল, যার ইশতেহারে প্রতিবেশী দুই দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২২ সালে মেয়র হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করা শাহ এখন প্রধানমন্ত্রী পদে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রার্থী।
মেয়র হিসেবে অবকাঠামো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসেবায় উন্নতির জন্য প্রশংসিত হলেও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ কয়েকটি সংস্থা তাকে হকার ও ভূমিহীনদের উচ্ছেদের অভিযোগে সমালোচনা করেছে। নির্বাচনে অংশ নিতে শাহ জানুয়ারিতে মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
র্যাপার থেকে রাজনীতিক বালেন শাহ নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে
নেপালের ধাদিং জেলায় তিশুলি নদীতে একটি যাত্রীবাহী বাস পড়ে অন্তত ১৭ জন নিহত ও ২৪ জন আহত হয়েছেন। রোববার পোখরা থেকে রাজধানী কাঠমান্ডু যাওয়ার পথে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায় বলে টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নেপাল পুলিশ জানায়, বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্বল অবকাঠামো, পুরাতন যানবাহন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে নেপালে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ এখনো দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে এবং কর্মকর্তারা নিহতদের মরদেহ উদ্ধার ও আহতদের সহায়তায় কাজ করছেন, যা নেপালের পাহাড়ি সড়কগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
নেপালে বাস নদীতে পড়ে ১৭ জন নিহত, আহত ২৪ জন
নেপালের ধাদিং জেলায় একটি যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন। রোববার পোখরা থেকে কাঠমান্ডু যাওয়ার পথে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিশুলি নদীতে পড়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নেপাল একটি পাহাড়ি দেশ, যেখানে দুর্বল অবকাঠামো, পুরোনো যানবাহন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভূখণ্ডের কারণে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনা দেশটির আন্তঃনগর সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে চলমান উদ্বেগকে আবারও সামনে এনেছে।
দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি এবং তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নেপালের ধাদিংয়ে বাস নদীতে পড়ে ১৭ জন নিহত, ২৪ জন আহত
২০২৫ সালে দুর্নীতিবিরোধী সহিংস আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করা নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরছেন। ৭৩ বছর বয়সী এই কমিউনিস্ট নেতা, যিনি চারবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, আগামী ৫ মার্চের সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রচারণা শুরু করেছেন। তার নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল–ইউনিফায়েড মার্কসিস্ট লেনিনিস্ট (সিপিএন-ইউএমএল) জয়ের আশায় জোর প্রচার চালাচ্ছে। সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে, যেখানে ওলি নির্বাচনের লড়াইকে “দেশ ধ্বংসের শক্তি ও দেশ গড়ার শক্তির প্রতিযোগিতা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
নিজ নির্বাচনী এলাকায় তিনি ৩৫ বছর বয়সী র্যাপার থেকে মেয়র হওয়া বালেন্দ্র শাহ-এর সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন, যিনি তরুণদের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সহিংসতায় অন্তত ৭৭ জন নিহত হওয়ার পর ওলি পদত্যাগ করেন। পরে তিনি পুলিশের গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে সহিংসতার জন্য ‘নৈরাজ্যবাদী শক্তি’কে দায়ী করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ওলির নেতৃত্বে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা ছিল এবং তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে তিনি তরুণ নেতৃত্বের উত্থান ঠেকিয়ে আবারও ক্ষমতায় ফিরতে পারেন কি না।
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলির নির্বাচনের আগে রাজনীতিতে ফেরার প্রচেষ্টা
নেপালের সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেসে বড় ধরনের বিভাজন দেখা দিয়েছে, মার্চে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের আগে বিদ্রোহী অংশ সর্বসম্মতিক্রমে গগন থাপাকে নতুন সভাপতি নির্বাচিত করেছে। এই ভাঙন দেশটির অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। গত সেপ্টেম্বরে দুর্নীতি, শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের পর আগের সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়।
৪৯ বছর বয়সি গগন থাপা, যিনি দলের তরুণ প্রজন্মের পরিচিত মুখ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক, নির্বাচনের পর সমর্থকদের হতাশ না করার অঙ্গীকার করেন। নির্বাচন কমিশন এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি কোন অংশ বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং ৫ মার্চের নির্বাচনে ঐতিহ্যবাহী গাছ প্রতীক ও পতাকা ব্যবহার করতে পারবে। পাঁচবারের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা ২০১৬ সাল থেকে দলের সভাপতি ছিলেন, তবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবিতে সমঝোতা ব্যর্থ হওয়ায় বিদ্রোহী নেতাদের বহিষ্কার করা হয়।
এই বিভাজন নেপালের রাজনীতিতে প্রজন্মগত পরিবর্তন ও জবাবদিহির দাবিকে প্রতিফলিত করছে। অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি আসন্ন নির্বাচনে ন্যায্য ও ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মার্চের নির্বাচনের আগে নেপালি কংগ্রেসে ভাঙন, গগন থাপা সভাপতি নির্বাচিত
মাউন্ট এভারেস্টকে দূষণমুক্ত রাখতে চালু করা ‘ডিপোজিট স্কিম’ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার। ১১ বছর চালু থাকার পরও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই স্কিমের আওতায় পর্বতারোহীদের অভিযানের আগে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা দিতে হতো, যা ফেরত দেওয়া হতো যদি তারা অন্তত আট কেজি বর্জ্য নিচে নামিয়ে আনতেন। তবে নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, অধিকাংশ আরোহী জামানতের অর্থ ফেরত পেলেও এভারেস্টের সামগ্রিক দূষণ পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি।
নেপাল পর্যটন বিভাগের পরিচালক হিমালা গৌতম জানান, প্রকল্পটি পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এবং প্রশাসনিক জটিলতা বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, আরোহীরা সাধারণত নিচের ক্যাম্পগুলো থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করলেও উচ্চ ক্যাম্পগুলোতে জমে থাকা বর্জ্য অবহেলিত থেকে যায়। সাগরমাথা দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির প্রধান নির্বাহী শেরিং শেরপা জানান, ওপরের ক্যাম্পগুলোতেই দূষণের সমস্যা সবচেয়ে গুরুতর, যেখানে তাঁবু, প্লাস্টিকের ক্যান, খাবারের প্যাকেট ও ব্যবহৃত অক্সিজেন সিলিন্ডার ফেলে যাওয়া অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন পর্বতারোহী গড়ে ১২ কেজি বর্জ্য তৈরি করেন, কিন্তু মাত্র আট কেজি ফেরত আনার শর্তে নিয়মটির ফাঁকফোকর রয়ে গেছে। তারা এভারেস্টের পরিবেশ রক্ষায় আরও বাস্তবসম্মত নীতিমালা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এভারেস্টে দূষণ রোধে ব্যর্থ হওয়ায় নেপালের ডিপোজিট স্কিম বাতিল
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৪০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।