ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল সংস্থা মেটা প্ল্যাটফর্মস বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার কর্মীকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দিতে শুরু করেছে, যা প্রযুক্তি খাতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৮ হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। ছাঁটাই কার্যক্রম শুরু হয় মেটার সিঙ্গাপুর অফিস থেকে, পরে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অফিসেও একই ধরনের ইমেইল পাঠানো হয়। এই দফায় মূলত ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রোডাক্ট টিম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বছরের শেষের দিকে আরও ছাঁটাই হতে পারে।
একই সময়ে মেটা প্রায় ৭ হাজার কর্মীকে নতুন এআই-চালিত টিমে পুনর্বণ্টন করেছে। এসব টিম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও এআইভিত্তিক পণ্য উন্নয়নের কাজে যুক্ত থাকবে। এটি মেটার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ, যেখানে ছোট ও দ্রুতগতির টিম গঠনের মাধ্যমে কাজের গতি ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে এআই অবকাঠামো, ডেটা সেন্টার ও নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে, যা মেটার ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে এআইকে কেন্দ্রে স্থাপন করছে।
মেটা ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করে ৭ হাজারকে নতুন এআই টিমে পুনর্বণ্টন করেছে
বাংলাদেশের শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন লন্ডনে গুগলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং সরকারের ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুগলের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার কুইন এলিজাবেথ-২ সেন্টারে চলমান ‘এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ফোরাম ২০২৬’-এর সাইডলাইনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গুগল ফর এডুকেশন’-এর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কলিন মারসন এবং সলিউশনস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অলি ট্রাসেল বৈঠকে অংশ নেন। গুগলের কর্মকর্তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে তাদের বৈশ্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রীকে অবহিত করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির বিস্তৃত ব্যবহারে সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনা ও রোডম্যাপ তুলে ধরেন, যা ভবিষ্যতে গুগলের সঙ্গে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
লন্ডনে গুগল কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠকে শিক্ষায় প্রযুক্তি সহযোগিতা আলোচনা
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কৌশলগত সমন্বয় জোরদার এবং সুপ্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা গভীরতর করার লক্ষ্যে একটি যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন। ২০ মে ২০২৬ তারিখে ঘোষিত এই চুক্তির আওতায় বাণিজ্য, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও অন্যান্য বিষয়ে প্রায় ২০টি নথিতে স্বাক্ষর করার পরিকল্পনা রয়েছে। দুই দেশের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, মেধাস্বত্ব ও বৈজ্ঞানিক গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক চুক্তি সম্পন্ন করেছেন।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর শি জিনপিং বলেন, চীন-রাশিয়া সম্পর্ক এখন সর্বোচ্চ স্তরের সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্বে পৌঁছেছে। তিনি জানান, দুই দেশ সমান মর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং এই সম্পর্ক এখন একটি নতুন সূচনাবিন্দুতে পৌঁছেছে।
শি আরও জানান, চীন ও রাশিয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াবে এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার রক্ষায় একতরফা দাদাগিরির বিরোধিতা করবে।
চীন-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সহযোগিতা বাড়াবে
ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকৌশলী যুক্তরাজ্যের একটি কর্মসংস্থান ট্রাইব্যুনালে গুগলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইসরাইল সরকারের সঙ্গে গুগলের কাজের প্রতিবাদ করায় তাকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। লন্ডনের গুগল ডিপমাইন্ড কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় তিনি সহকর্মীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করে গুগলের সামরিক এআই প্রকল্পের সমালোচনা করেন এবং ইউনিয়ন গঠনের আহ্বান জানান। তিনি গুগলের ২০২৫ সালের নীতিমালা পরিবর্তনেরও বিরোধিতা করেন, যা আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘনকারী প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়।
গুগল অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, কর্মীর বিবরণ বাস্তবতার প্রতিফলন নয় এবং মতামত প্রকাশ বা ইউনিয়ন কার্যক্রমের কারণে কাউকে বরখাস্ত করা হয় না। কোম্পানির অভ্যন্তরে এআই প্রযুক্তির সামরিক ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে ইসরাইল ও আমাজনের সঙ্গে ১.২ বিলিয়ন ডলারের ‘প্রোজেক্ট নিম্বাস’ চুক্তি নিয়ে। কয়েকজন কর্মী জানিয়েছেন, নৈতিক উদ্বেগে অনেকেই চাকরি ছেড়েছেন।
প্রযুক্তি ন্যায়বিচার সংগঠন ‘ফক্সগ্লোভ’ এই মামলায় প্রকৌশলীকে সহায়তা করছে। সংগঠনটির মতে, তিনি গুগলের পরিত্যক্ত নৈতিক নীতিগুলো পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেছিলেন।
ইসরাইল-সম্পর্কিত এআই কাজের বিরোধিতায় গুগল ইঞ্জিনিয়ারের যুক্তরাজ্যে মামলা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর শেষ হওয়ার মাত্র চার দিন পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিং পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এটি পুতিনের ২৫তম চীন সফর, যা চীনের কূটনৈতিক আত্মবিশ্বাস ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে চীনের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানালেও বেইজিং বরং মস্কোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করছে। ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প-শি বৈঠকে বড় অগ্রগতি না আসার পরপরই পুতিনের সফর চীনের স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থানকে স্পষ্ট করছে।
সফরে চীন ও রাশিয়া যৌথভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়ন ও পরিচালনা কাঠামো তৈরির ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি, ২০০১ সালের ‘সুপ্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি’র ২৫ বছর পূর্তিও এই সফরের সঙ্গে মিলেছে।
ট্রাম্পের পর পুতিনের বেইজিং সফর, চীন-রাশিয়া কৌশলগত ও এআই সহযোগিতা জোরদার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি সাদিক কায়েম জানিয়েছেন, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশি তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে। মঙ্গলবার ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক সংলাপে তিনি “ঢাকা–বেইজিং ইয়ুথ ফেলোশিপ” চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। এই সংলাপে ডাকসু, সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও ছাত্র সংসদ এবং চীন সরকারের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনায় যুব অংশগ্রহণ ও ক্যাম্পাস গভর্ন্যান্স, যুব উন্নয়ন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এবং যুব মিশন ও সুযোগের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, প্রযুক্তিগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক আদান-প্রদান, পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি এবং যুব নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্ব দেয়। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, বৈষম্য ও সামাজিক অস্থিতিশীলতার মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করার ওপরও জোর দেওয়া হয়।
সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘গ্লোবাল ইয়ুথ ডায়লগ’-এ অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান, আর ডাকসু তাদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানায়। উভয় বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ঐকমত্যে পৌঁছায়।
ঢাকা ও সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যুব সহযোগিতা ও নতুন ফেলোশিপ প্রস্তাব
বাংলাদেশ সরকার স্যাটেলাইট, মহাকাশ ও ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়নে বহুমাত্রিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনে “স্যাটেলাইট, ড্রোনস অ্যান্ড ফিউচার স্পেস টেকনোলজি ইন বাংলাদেশ” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জানান, সরকার ভবিষ্যতে লো আর্থ অরবিট ভিত্তিক নতুন স্যাটেলাইট স্থাপনের পরিকল্পনা করছে।
মন্ত্রী বলেন, স্যাটেলাইট ও ড্রোন প্রযুক্তি এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং জাতীয় উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, মৎস্য, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা খাতে অপরিহার্য অবকাঠামো। স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে দুর্যোগ পূর্বাভাস, নদীভাঙন পর্যবেক্ষণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় ও গভীর সমুদ্রের জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সরকার ইতোমধ্যে সাইক্লোন ও বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস দ্রুত জেলেদের কাছে পৌঁছে দিতে কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
ড্রোন প্রযুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি এখন সীমান্ত নিরাপত্তা, কৃষি ব্যবস্থাপনা, জরিপ কার্যক্রম ও দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি খাতের সমন্বয়ে স্পেস ডাটা ও অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
জাতীয় উন্নয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্যাটেলাইট ও ড্রোন প্রযুক্তিতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর এক নতুন যুগের সূচনা। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬ শহরে আয়োজিত ৪৮ দলের এই টুর্নামেন্ট শুরু হবে ১১ জুন। প্রতিটি দল পাবে নিজেদের আলাদা এআই মডেল, যা ভিডিও ক্লিপ, থ্রিডি অ্যাভাটার ও রিয়েল টাইম ডেটা বিশ্লেষণ করে প্রতিপক্ষের কৌশল নির্ধারণে সহায়তা করবে। কোচরা আগেভাগে কৌশল পরিবর্তনের সম্ভাব্য ফলাফল দেখতে পারবেন, খেলোয়াড়রাও পাবেন পারফরম্যান্সের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ।
লেনোভো তৈরি করেছে ‘ফুটবল এআই প্রো’ নামের এই প্রযুক্তি, যা শত শত মিলিয়ন ফিফা ডেটা বিশ্লেষণ করে দুই হাজারের বেশি সূচকে কাজ করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে ধনী ও ছোট দলের মধ্যে প্রযুক্তিগত বৈষম্য কমবে। অফসাইড সিদ্ধান্তে এআই ব্যবহার হবে সবচেয়ে বেশি, যেখানে খেলোয়াড়দের শরীর এক সেকেন্ডে স্ক্যান করে তৈরি হবে নিখুঁত থ্রিডি প্রতিরূপ।
প্রতিটি স্টেডিয়ামে থাকবে ‘ডিজিটাল টুইন’, যা দর্শক, নিরাপত্তা ও খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি রিয়েল টাইমে পর্যবেক্ষণ করবে। টুর্নামেন্টে তৈরি হবে ৯০ পেটাবাইটের বেশি ডেটা, আর পরিবহনে ব্যবহৃত হবে রোবোট্যাক্সি ও মানবসদৃশ রোবট।
এআই ও রোবট প্রযুক্তিতে বদলে যাচ্ছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের চেহারা
বিশ্বজুড়ে যখন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্ট সেন্সর ও রাডার প্রযুক্তি, তখন বাংলাদেশ এখনো অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর নির্ভর করছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতার ঘাটতি, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব এবং দুর্বল সাইবার নিরাপত্তা দেশের বোমা শনাক্তকরণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আধুনিক হতে বাধা দিচ্ছে। উন্নত দেশগুলো ইতিমধ্যে এআইভিত্তিক স্ক্যানার, বিস্ফোরক শনাক্তকারী সেন্সর, ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় রাডার ব্যবহার করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে বোমা আতঙ্কের ঘটনা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি অপরিহার্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর বিস্ফোরক ব্যবহারের আশঙ্কা এবং সাইবার দুর্বলতা দেশের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
তথ্যপ্রযুক্তিবিদরা বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও সরকারি স্থাপনাগুলোয় এআইভিত্তিক স্ক্যানার, স্মার্ট ক্যামেরা ও ড্রোন নজরদারি চালুর পরামর্শ দিয়েছেন। তারা মনে করেন, দক্ষ মানবসম্পদ ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ছাড়া নিরাপত্তা আধুনিকায়ন সম্ভব নয় এবং প্রযুক্তিগত দুর্বলতা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশের পুরোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এআইভিত্তিক বোমা শনাক্তকরণ যুক্ত করার আহ্বান
‘সংযোগে স্থিতি, সহনশীলতায় শক্তি’ প্রতিপাদ্যে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উদযাপিত হয়। অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, সরকার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে দেশের প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। তিনি জানান, এআই, হার্ডওয়্যার, সেমিকন্ডাক্টর, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা সেন্টার, স্টার্ট-আপ ও ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রযুক্তি উৎপাদন ও রপ্তানিতে শক্তিশালী অবস্থানে নিতে কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বমানের ৫জি ও সারাদেশে ফাইবার অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেন এবং জাতীয় ডেটা ব্যাংক ও একক ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। অন্যান্য বক্তারা নারী ও শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা, মিথ্যা তথ্য প্রতিরোধ এবং সরকারি সেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আইওটি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।
দুই দিনব্যাপী আয়োজনে টেলিকম ও প্রযুক্তি মেলা এবং অনলাইন রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আইটিইউ মহাসচিব ভিডিও বার্তায় শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবসে প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে আইসিটি খাতকে গুরুত্ব দিল সরকার
বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (বিএইউএসটি) সৈয়দপুর ক্যাম্পাসে শনিবার দিনব্যাপী সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের উদ্যোগে, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি) ও ঢাকার ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউটের যৌথ আয়োজনে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিএসই বিভাগের ৬০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা বিষয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান প্রদান এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষতা উন্নয়ন। প্রধান বক্তা ছিলেন ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউটের নেটওয়ার্কিং অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি বিভাগের সিইও রাফসান আনোয়ার এবং প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিনিয়র ফ্যাকাল্টি শিহাব হোসেন রাফাত।
চারটি পৃথক সেশনে কম্পিউটার ও নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন সিকিউরিটি, এথিক্যাল হ্যাকিং, সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইনসিডেন্ট রেসপন্স ও সাইবার নিরাপত্তা খাতে ক্যারিয়ার গঠনের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদ প্রদান করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও ইতিবাচক সাড়া দেখা যায়।
বিএইউএসটিতে ৬০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে দিনব্যাপী সাইবার নিরাপত্তা কর্মশালা
ওপেনএআই ও মাল্টা সরকার এক যৌথ উদ্যোগে ঘোষণা করেছে যে দেশের প্রতিটি নাগরিক ও বাসিন্দা এক বছরের জন্য বিনামূল্যে চ্যাটজিপিটি প্লাস ব্যবহার করতে পারবেন। শনিবার ঘোষিত এই চুক্তিটি ওপেনএআই-এর প্রথম জাতীয় সরকার-স্তরের অংশীদারিত্ব। নাগরিকরা সরকারের পরিচালিত এআই সাক্ষরতা কর্মসূচির মাধ্যমে এই সুবিধা পাবেন, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের মাল্টা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক তৈরি বিনামূল্যের অনলাইন কোর্স “এআই ফর অল” সম্পন্ন করতে হবে। ঘোষণায় বলা হয়েছে, কর্মসূচির প্রথম ধাপ মে মাসে শুরু হবে এবং মাল্টা ডিজিটাল ইনোভেশন অথরিটি এই সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থাপনা করবে।
সংস্থাটির মতে, এই কোর্সের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে সচেতন করা—এটি কী, কী করতে পারে এবং কী করতে পারে না, এবং কীভাবে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা যায় তা শেখানো। মাল্টার অর্থনীতি, উদ্যোগ ও কৌশলগত প্রকল্প মন্ত্রী সিলভিও শেমব্রি বলেছেন, শিক্ষা ও উন্নত ডিজিটাল সরঞ্জামের সমন্বয়ে এই উদ্যোগ পরিবার, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য এআই-কে বাস্তব সহায়তায় রূপান্তর করবে। ওপেনএআই ফর কান্ট্রিজের প্রধান জর্জ অসবর্ন এই অংশীদারিত্বকে নাগরিকদের এআই-এর রূপান্তরমূলক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর একটি উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এই উদ্যোগ মাল্টাকে এমন দেশগুলোর সারিতে যুক্ত করেছে যারা আইসল্যান্ড, গ্রিস ও যুক্তরাজ্যের মতো সরকারি পর্যায়ে এআই ব্যবহারের বাস্তব উপায় খুঁজছে।
ওপেনএআই-এর সঙ্গে মাল্টার চুক্তি, নাগরিকদের এক বছর বিনামূল্যে চ্যাটজিপিটি প্লাস
বাংলাদেশের প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বিটস্পিয়ারহেড ১৭ মে ২০২৬ তারিখে কানাডার এআইআর মিডিয়া-টেকের সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্বে যুক্ত হয়েছে। এই সহযোগিতার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার কনটেন্ট নির্মাতারা আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সহায়তা ও বৈশ্বিক আয় বৃদ্ধির সুযোগ পাবেন। প্রতিষ্ঠান দুটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভাষা ও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে যারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারছিলেন না, তাদের জন্য এই উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
অংশীদারিত্বের আওতায় তিনটি প্রধান সেবা চালু করা হবে—মাইক্রোসফটের বিভিন্ন মাধ্যমে বিদ্যমান ভিডিও প্রচার, সার্বক্ষণিক সরাসরি সম্প্রচার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহায়তায় বহুভাষিক অনুবাদ ও কণ্ঠ সংযোজন। প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, এই সেবাগুলোর মাধ্যমে নির্মাতারা অতিরিক্ত কনটেন্ট তৈরি ছাড়াই নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারবেন এবং দর্শকের সম্পৃক্ততা বাড়বে।
এআইআর মিডিয়া-টেকের পরিচালক ভিরা স্লিভিনস্কা বলেন, ভাষাগত সীমাবদ্ধতার কারণে যারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেননি, তাদের জন্য এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিটস্পিয়ারহেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাদি আহমেদ চৌধুরী জানান, এটি বাংলাদেশের নির্মাতাদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে।
বিটস্পিয়ারহেড ও এআইআর মিডিয়া-টেকের অংশীদারিত্বে নির্মাতাদের বৈশ্বিক সুযোগ বৃদ্ধি
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ঘোষণা দিয়েছেন যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘টেলিযোগাযোগ খাতের ভবিষ্যৎ: কী ভাবছে সরকার’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে এবং তরুণদের এআই ও ফ্রিল্যান্সিং শেখাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আসন্ন বাজেটে এর একটি রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
মন্ত্রী জানান, সরকার টেলিকম খাতকে আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব করতে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে কাজ করছে। ৫জি, এআই, আইওটি ও ক্লাউডভিত্তিক সেবার প্রসারে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদার করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে আইসিটি খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, আসন্ন বাজেটে আইসিটি খাতের জন্য সুখবর থাকবে এবং জিডিপিতে খাতটির অবদান ১০ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশের সব উপজেলায় এআই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করবে সরকার
মিরসরাইয়ের নিহান আলম জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ও সাইবার নিরাপত্তা অলিম্পিয়াড-২০২৬ এ সাইবার নিরাপত্তা সিনিয়র গ্রুপে চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় এই সাফল্য অর্জন করে সে। বিজয়ী হিসেবে নিহানকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
মারুফ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিহান ছোটবেলা থেকেই মেধাবী হিসেবে পরিচিত। সে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে সরকারি বৃত্তি অর্জন করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। নিহান মিরসরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাংবাদিক নুরুল আলম এবং জিন্নাত আরা বেগমের সন্তান।
এই প্রতিযোগিতা চট্টগ্রাম অঞ্চলের তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে আগ্রহী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক সাইবার নিরাপত্তা অলিম্পিয়াডে প্রথম স্থান অর্জন মিরসরাইয়ের নিহান
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গ্যাস স্টেশনের স্বয়ংক্রিয় ট্যাঙ্ক গেজ (এটিজি) সিস্টেমে সাইবার অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, ইরান-সমর্থিত হ্যাকাররা এই হামলার সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, হ্যাকাররা ইন্টারনেটে উন্মুক্ত ও পাসওয়ার্ডবিহীন এটিজি সিস্টেমে প্রবেশ করে কিছু ক্ষেত্রে প্রদর্শিত জ্বালানির তথ্য পরিবর্তন করেছে, যদিও প্রকৃত জ্বালানির পরিমাণে কোনো ক্ষতি হয়নি। তদন্তকারীরা বলছেন, ইরান অতীতেও একই ধরনের অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করেছিল, তবে ফরেনসিক প্রমাণের অভাবে নিশ্চিতভাবে দায়ী পক্ষ নির্ধারণ করা যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তেহরান সরাসরি সামরিক হামলার পরিবর্তে সাইবার আক্রমণকে বিকল্প কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে। এই ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর হতে পারে, কারণ যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা জানিয়েছেন। সাইবার বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন যে ইন্টারনেট-সংযুক্ত এটিজি সিস্টেমগুলো বড় ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন যে ইরানের সাইবার কার্যক্রম দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতের মার্কিন নির্বাচনে সাইবার ও তথ্যযুদ্ধের আশঙ্কা রয়েছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় আরও কার্যকর হতে পারে।
মার্কিন গ্যাস স্টেশনের ট্যাঙ্ক সিস্টেমে ইরান-সমর্থিত হ্যাকারদের সাইবার হামলার অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের শেয়ার লেনদেনকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন ডেমোক্র্যাটরা। সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তিনি জানান, ট্রাম্প এনভিডিয়াকে চীনে উন্নত এআই চিপ বিক্রির অনুমতি দেন এবং পরে নিজেই কোম্পানিটির কোটি কোটি ডলারের শেয়ার কেনেন। ওয়ারেন দাবি করেন, ট্রাম্প এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংকে নিয়ে চীন সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে চিপ কেনার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করেন।
ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসা পরিচালনাকারী এরিক ট্রাম্প অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পরিবারের সব সম্পদ বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্লাইন্ড ট্রাস্টে বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং কেউ ব্যক্তিগতভাবে শেয়ার কেনাবেচা করেননি। ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিটজকার এক্সে ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রেসিডেন্ট বলে মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, ট্রাম্পের নামে ২০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ফোর্বসের হিসাবে, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত তার ব্যক্তিগত সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫০ কোটি ডলারে।
এনভিডিয়া শেয়ার লেনদেন ও চীন সফর নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
ওপেনএআই চ্যাটজিপিটি মোবাইল অ্যাপে কোডেক্স যুক্ত করেছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এখন ফোন থেকেই কোডিং কাজ ও প্রকল্প পরিচালনা করতে পারবেন। এই সংযোজন ব্যবহারকারীদের ল্যাপটপ, ডেভবক্স বা রিমোট পরিবেশে চলমান কোডেক্সের সাথে সংযুক্ত হতে দেয়, যাতে তারা রিয়েল-টাইমে প্রকল্পের অবস্থা, অনুমোদন ও আউটপুট দেখতে পারেন। ফাইল ও ক্রেডেনশিয়াল নিরাপদভাবে স্থানীয় মেশিনে সংরক্ষিত থাকে, আর আপডেটগুলো ফোনে তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছে যায়।
এই নতুন মোবাইল অভিজ্ঞতা ব্যবহারকারীদের যেকোনো স্থান থেকে কোডেক্সের কাজের সাথে যুক্ত থাকতে সহায়তা করে। নিরাপদ রিলে স্তর ডিভাইসগুলোর মধ্যে সেশন অবস্থা সিঙ্ক রাখে, মেশিনগুলোকে সরাসরি ইন্টারনেটে উন্মুক্ত না করেই। ওপেনএআই রিমোট SSH সমর্থনও চালু করেছে, যা কোডেক্সকে ম্যানেজড রিমোট পরিবেশে সরাসরি সংযুক্ত হতে দেয়, এবং হুকস ফিচার যুক্ত করেছে প্রম্পট স্ক্যান, যাচাই ও কাস্টমাইজেশনের জন্য।
চ্যাটজিপিটি মোবাইল অ্যাপে কোডেক্স এখন iOS ও অ্যান্ড্রয়েডে প্রিভিউ আকারে সব প্ল্যানে উপলব্ধ, উইন্ডোজ সংযোগ শিগগিরই আসছে। রিমোট SSH ও হুকস সব ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত, আর এন্টারপ্রাইজ ফিচারগুলো নির্দিষ্ট প্ল্যানের জন্য সীমিত।
ওপেনএআই চ্যাটজিপিটি মোবাইল অ্যাপে কোডেক্স যুক্ত করে রিয়েল-টাইম কোডিং সহযোগিতা চালু করেছে
ওপেনএআই তাদের কোডেক্স কোডিং এজেন্টের জন্য উইন্ডোজে একটি নতুন স্যান্ডবক্স পরিবেশ তৈরি করেছে, যা নিরাপত্তা ও ব্যবহারযোগ্যতা উভয়ই উন্নত করবে। পূর্বে উইন্ডোজে স্যান্ডবক্স না থাকায় ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত অনুমোদন বা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত অ্যাক্সেসের মধ্যে বেছে নিতে হতো। নতুন স্যান্ডবক্স ফাইল লেখার ও নেটওয়ার্ক অ্যাক্সেসের সীমা নির্ধারণ করে, যাতে কোডেক্স ব্যবহারকারীর ওয়ার্কস্পেসের মধ্যে নিরাপদভাবে কাজ করতে পারে এবং উৎপাদনশীলতা বজায় থাকে।
ওপেনএআই প্রথমে অ্যাপকন্টেইনার, উইন্ডোজ স্যান্ডবক্স ও ম্যান্ডেটরি ইন্টিগ্রিটি কন্ট্রোলের মতো বিদ্যমান টুল পরীক্ষা করে, কিন্তু এগুলো কোডেক্সের উন্মুক্ত কাজের ধরণের জন্য উপযুক্ত ছিল না। এরপর তারা উইন্ডোজের সিকিউরিটি আইডেন্টিফায়ার (SID) ও রাইট-রেস্ট্রিকটেড টোকেন ব্যবহার করে একটি প্রাথমিক স্যান্ডবক্স তৈরি করে, যা ফাইল অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হলেও নেটওয়ার্ক নিরাপত্তায় দুর্বল ছিল। এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে ওপেনএআই প্রশাসনিক অনুমতি প্রয়োজন এমন একটি উন্নত স্যান্ডবক্স তৈরি করে, যেখানে আলাদা ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট ও ফায়ারওয়াল নিয়ম ব্যবহৃত হয়েছে।
নতুন স্যান্ডবক্সটি উইন্ডোজে কোডেক্সকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করে তুলবে, যেমনটি এটি ম্যাকওএস ও লিনাক্সে ইতিমধ্যেই রয়েছে।
কোডেক্সের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে ওপেনএআই উইন্ডোজে উন্নত স্যান্ডবক্স তৈরি করেছে
টিকটক তাদের নতুন মডেল কনটেক্সট প্রোটোকল (এমসিপি) সার্ভার ও ডেভেলপার টুলকিট চালু করেছে, যা বিপণনকারীদের নিজেদের এআই এজেন্ট সরাসরি টিকটক বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংযুক্ত করতে দেবে। টিকটক ওয়ার্ল্ডে, কোম্পানির ষষ্ঠ বার্ষিক বিজ্ঞাপন পণ্য সম্মেলনে, গ্লোবাল হেড অব প্রোডাক্ট মার্কেটিং হোসে ভিলালোবস জানান, এই সিস্টেমের মাধ্যমে এআই এজেন্টরা মানব হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রচারণা পরিকল্পনা, চালু ও অপ্টিমাইজ করতে পারবে। এমসিপি সার্ভার বিজ্ঞাপন তৈরির কাজ, বিড সমন্বয় ও বাজেট ব্যবস্থাপনার মতো প্রক্রিয়াগুলো স্বয়ংক্রিয় করবে, যাতে কর্মদক্ষতা বাড়ে।
এই উদ্যোগটি টিকটকের ২০২৪ সালের বিজ্ঞাপন স্বয়ংক্রিয়করণ পরিকল্পনার অংশ। একই ধরনের পদক্ষেপ গুগল, মেটা ও অ্যামাজনও নিয়েছে, যারা নিজেদের এমসিপি সার্ভার তৈরি করেছে যাতে এআই মডেল সরাসরি তাদের বিজ্ঞাপন সিস্টেমে কাজ করতে পারে। অ্যাডটেক বিশেষজ্ঞ শার্লি মার্শাল বলেন, এসব উদ্যোগের মূল কারণ ডেটা সার্বভৌমত্ব, কারণ প্ল্যাটফর্মগুলো চায় তাদের ডেটা ব্যবহারের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে।
টিকটক ওয়ার্ল্ডে এই ঘোষণার পাশাপাশি আরও নতুন পণ্য ও ফরম্যাট উন্মোচিত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র-চীন চুক্তি নিষ্পত্তির পর কোম্পানির নেতৃত্বে পরিবর্তনের সময় এসেছে।
টিকটক এমসিপি সার্ভার চালু করেছে, এআই এজেন্টরা বিজ্ঞাপন প্রচারণা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনা করবে
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৬০ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন।