যারা নিজস্ব নিউজ পোর্টাল শুরু করতে চান, তাদের জন্য নিউজ সাইট ডেভেলপমেন্ট, কনটেন্ট সাপোর্ট ও মার্কেটিংসহ পূর্ণাঙ্গ সমাধান নিয়ে আসছে একনজর। একইসাথে দেশের ৬৪ জেলায় চালু হচ্ছে ৬৪টি স্থানীয় একনজর মিডিয়া। প্রতিটি জেলার জন্য সীমিতসংখ্যক বিনিয়োগকারী (ইনভেস্টর) নেয়া হবে।
বিস্তারিত জানতে ইনবক্সে যোগাযোগ করুন।
দেশের নদী-নির্ভর মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও নৌপথে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নৌ পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে বড় সাফল্য এসেছে। গত সাত দিনে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৪ কোটি ৩২ লাখ ৭১ হাজার ২৮০ মিটার অবৈধ জাল, ৪ হাজার ১৫৮ কেজি মাছ, ৬ লাখ ৫৭ হাজার চিংড়ির রেণু, ১৫ হাজার বাগদা রেণু পোনা এবং ১ হাজার ৩২৮ কেজি জেলীযুক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২৭৯ জনকে আটক ও নদীতে স্থাপিত ১৩৩টি অবৈধ ঝোপঝাড় ধ্বংস করা হয়েছে।
১৬ এপ্রিল নৌ পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ৮৩টি বাল্কহেডের বিরুদ্ধে নৌ আদালতে মামলা হয়েছে। মোট ৬৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪৬টি মৎস্য আইন, ৯টি বেপরোয়া গতি, এবং অন্যান্য অপরাধ অন্তর্ভুক্ত। অভিযানে ১২টি মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।
জব্দ করা অবৈধ জাল ও জেলীযুক্ত চিংড়ি ধ্বংস করা হয়েছে, চিংড়ির রেণু পানিতে অবমুক্ত করা হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত মাছ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। নৌ পুলিশ জানিয়েছে, নদীপথে নিরাপত্তা ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
দেশজুড়ে নৌ পুলিশের অভিযানে ৪ কোটি মিটার জাল জব্দ ও ২৭৯ জন আটক
বৃহস্পতিবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহের মহেশপুরে বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন স্কুলছাত্র ও একজন গৃহবধূ রয়েছেন। মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলায় কালবৈশাখীর সময় বজ্রাঘাতে দুই যুবক রিজন ঢালী ও আরাফাত খান মারা যান। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে টঙ্গীবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুটি স্থানে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়। জীবননগরের ঘোষনগর গ্রামের রাসেল এবং দামুড়হুদার মেমনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র তাজিমুদ্দিন বজ্রাঘাতে মারা যায়। তাজিমুদ্দিন মাঠে বাবার সঙ্গে কাজ করার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাথানগাছি গ্রামে গৃহবধূ রোজিনা খাতুন বজ্রপাতে মারা যান। তিনি রান্নাঘরের পাশে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে আহত হন এবং পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশের তিন জেলায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু
খুলনায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে দিনে ও রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় নগরবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমাতে পারছেন না অনেকেই, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের কষ্ট বেড়েছে। পূর্বঘোষণা ছাড়াই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দৈনন্দিন কাজকর্ম ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তবে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম থাকায় সাময়িকভাবে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। ১৬ এপ্রিল খুলনায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৬৫৩ মেগাওয়াট, সরবরাহ ৫৫০ মেগাওয়াট, ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ১০৩ মেগাওয়াট। এর আগের দিন বিভিন্ন সময়ে ঘাটতি আরও বেশি ছিল।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং গরমের সময় লোডশেডিং কমাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
খুলনায় তীব্র গরমে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত
মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল ও গ্যাসের ভাণ্ডার ধারণ করে, যা লক্ষ লক্ষ বছরের ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার ফল। এই অঞ্চলে ৩০টিরও বেশি ‘সুপারজায়ান্ট’ তেলক্ষেত্র রয়েছে, প্রতিটিতে অন্তত ৫০০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত। এখানকার তেল উৎপাদন উত্তর সাগর বা রাশিয়ার সেরা তেলক্ষেত্রগুলোর তুলনায় দুই থেকে পাঁচ গুণ বেশি। এই বিপুল সম্পদ যেমন আশীর্বাদ, তেমনি আঞ্চলিক সংঘাতের সময় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
ভূতাত্ত্বিকভাবে এই অঞ্চলটি অ্যারাবিয়ান ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষস্থলে অবস্থিত, যা ভাঁজ ও ফাটলযুক্ত শিলাস্তর তৈরি করেছে। এসব কাঠামো হাইড্রোকার্বন উৎপাদন ও সংরক্ষণের জন্য আদর্শ। জুরাসিক ও ক্রিটেসিয়াস যুগে গঠিত চুনাপাথরসমৃদ্ধ শিলাস্তরগুলো তেল ও গ্যাসের উৎকৃষ্ট উৎস। সৌদি আরবের ঘাওয়ার তেলক্ষেত্র এবং সাউথ পার্স–নর্থ ডোম গ্যাসক্ষেত্র এর বড় উদাহরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে উৎপাদন চললেও এই অঞ্চলে প্রায় ৮৬ বিলিয়ন ব্যারেল তেল ও ৯.৫ ট্রিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস এখনো আবিষ্কারের অপেক্ষায় রয়েছে, যা ভবিষ্যতে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে উত্তোলন সম্ভব হতে পারে।
ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় পারস্য উপসাগর বিশ্বের সবচেয়ে তেল ও গ্যাসসমৃদ্ধ অঞ্চল
চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের পাশে একটি মায়া চিত্রা হরিণকে প্রকাশ্যে জবাই করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ১১ এপ্রিল ইছাখালী ইউনিয়নের মুহুরী প্রকল্প এলাকায় ধারণ করা সাত সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি হরিণটিকে ধরে জবাই করার চেষ্টা করছেন এবং আরেকজন পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। ১৪ এপ্রিল ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি ওঠে।
বন বিভাগ জানায়, একসময় মিরসরাই উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত ছিল ম্যানগ্রোভ বন, যেখানে হাজারো হরিণসহ নানা বন্যপ্রাণীর আবাস ছিল। কিন্তু জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পর বন উজাড় হওয়ায় বন্যপ্রাণীর সংখ্যা কমে গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, বন ধ্বংসের কারণে দলছুট হয়ে হরিণটি লোকালয়ে চলে আসে।
বন বিভাগের মিরসরাই রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, তিনজন ব্যক্তি এ ঘটনায় জড়িত এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা আশপাশের খামারে কাজ করেন।
মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের পাশে হরিণ জবাইয়ে ক্ষোভ, বন বিভাগের অভিযান
বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ৪৭৫ প্রজাতির মাছের অবাধ প্রজনন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার ৫৮ দিনের জন্য মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা ১৫ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়ে ১১ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এটি সব ধরনের ট্রলার ও ইঞ্জিনচালিত নৌকার জন্য প্রযোজ্য হবে।
২০১৫ সাল থেকে সরকার প্রতিবছর ৬৫ দিনের জন্য মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে আসছিল। তবে জেলেদের অভিযোগে এবং প্রতিবেশী ভারতের নিষেধাজ্ঞার সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে গত বছর থেকে সময়সীমা কমিয়ে ৫৮ দিন নির্ধারণ করা হয়। চলতি বছরও একই সময়সীমা বহাল রাখা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞাকালে উপকূলীয় ১৪টি জেলার ৬৭টি উপজেলা ও চট্টগ্রাম মহানগরের ৩ লাখ ১১ হাজার ৬২ জন জেলেকে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হবে। ২০২৫ সালের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৩,৫৮৫টি অভিযান পরিচালনা করে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে মামলা, জরিমানা ও কারাদণ্ডের ব্যবস্থা নেয়।
বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বাংলাদেশ সরকার
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, বর্তমানে দেশের ৮০ শতাংশ বর্জ্য নদী-নালায় মিশে পরিবেশের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল বুধবার ফরিদপুর পৌরসভার বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বর্জ্যকে সমস্যা না ভেবে আধুনিক রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে জৈব সার ও জ্বালানিতে রূপান্তর করতে হবে।
তিনি জানান, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের আওতায় বিএনপি আটটি অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করেছিল, যার মধ্যে পরিবেশ অন্যতম। পরিবেশ রক্ষায় সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত বর্জ্যের ছড়াছড়ি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, বর্জ্য থেকে সার বা বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জনগণকে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।
পরিদর্শনকালে তিনি কর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে বিশেষ নির্দেশ দেন। এ সময় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত শবনম এবং স্থানীয় বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের ৮০% বর্জ্য নদীতে, আধুনিক রিসাইক্লিংয়ের তাগিদ ড. জিয়াউদ্দিনের
সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই আহরণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার বঙ্গোপসাগরের জলসীমায় সব ধরনের মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বুধবার ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা ১১ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ভোলা জেলা সহ উপকূলীয় এলাকায় মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
ভোলা জেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন নিবন্ধিত সমুদ্রগামী জেলে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন। তাদের মধ্যে চরফ্যাশনে সর্বাধিক জেলে রয়েছে। কর্মহীন জেলেদের সহায়তায় সরকার প্রত্যেক নিবন্ধিত জেলেকে ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল দেবে। ইতোমধ্যে জেলেরা জাল ও ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরতে শুরু করেছেন।
জেলেরা প্রশাসনের টহল ও অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে নিষেধাজ্ঞার সময় বিদেশি জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করতে না পারে। জেলা প্রশাসন সচেতনতামূলক প্রচারণা ও খাদ্য সহায়তা বিতরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বাংলাদেশ সরকার
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব গজালিয়া সাতঘরিয়া পাড়া এলাকায় বন্য হাতির আক্রমণে ছাবের আহমেদ (৭০) নামের এক কৃষক নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত ৩টার দিকে তিনি ধানক্ষেত পাহারা দিতে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি প্রতিদিনের মতো রাতে চেয়ারে বসে আগুন জ্বালিয়ে ফসল পাহারা দিচ্ছিলেন, এ সময় পাশের বন থেকে আসা বন্য হাতির আক্রমণে প্রাণ হারান।
তার মেয়ে মনজু আরা জানান, বাবা ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী, তার আয়েই সংসার চলত। স্থানীয় ইউপি সদস্য জুবায়েদ উল্লাহ জুয়েল ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনাটি বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় কৃষকদের জন্য বন্য প্রাণীর আক্রমণের ঝুঁকি আবারও সামনে এনেছে।
কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে ধানক্ষেত পাহারা দিতে গিয়ে বন্য হাতির আক্রমণে কৃষক নিহত
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং পূর্বপাড়ার স্বর্ণ পাহাড় এলাকায় এই নির্মাণকাজ চলছে। মৃত ইলিয়াস ওরফে রোহিঙ্গা ইলিয়াসের ছেলে মোহাম্মদ হারুন ও মোহাম্মদ মামুন বনবিভাগের জমি দখল করে পাঁচতলা ভবনের ফাউন্ডেশন নির্মাণ করেছেন, যার তিনতলা পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি চক্র বনভূমি দখল করে অবকাঠামো গড়ে তুলছে, এতে বনাঞ্চল ধ্বংস ও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। পরিবেশবিদ ও সাংবাদিক জসিম আজাদ বলেন, উখিয়ার বিভিন্ন স্থানে বনভূমি দখল, পাহাড় কাটা ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বেড়েই চলেছে, যা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। বন আইন ১৯২৭ ও পরিবেশ আইন ১৯৯৫ অনুযায়ী এসব কর্মকাণ্ড দণ্ডনীয় অপরাধ।
বনবিভাগ জানিয়েছে, সম্প্রতি প্রায় পাঁচ একর বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান চলছে। উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা প্রস্তুত হচ্ছে এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উখিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ
সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের নলজুর নদীর ওপর সড়ক ও জনপথ বিভাগের স্টিল বেইলি সেতুটি মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) সকালে আবারও দেবে যায়। একটি মালবাহী ট্রাক পার হওয়ার সময় সেতুর মাঝখানের দুটি স্টিলের পাটাতন ভেঙে পড়ে, ফলে রাজধানীমুখী সব যাত্রীবাহী ও ভারী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে কেবল সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মতো হালকা যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে, আর সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, এই সেতুটি গত কয়েক বছরে বহুবার ধসে পড়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে একটি সিমেন্টবাহী ট্রাকসহ সেতুটি নদীতে পড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছিল। ১০ টনের বেশি পণ্যবোঝাই যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না, ফলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে একনেক সভায় এখানে একটি স্থায়ী আরসিসি সেতু নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি। সুনামগঞ্জ সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, পাটাতন মেরামতের কাজ চলছে এবং বিকেলের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে, তবে স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
সুনামগঞ্জে বেইলি সেতু ধসে যান চলাচল বন্ধ, স্থায়ী সেতু নির্মাণ বিলম্বিত
মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার পদ্মা নদীর বুকে জেগে ওঠা বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের মানুষ প্রতিদিন নদীভাঙন, দারিদ্র্য ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন। চরজানাজাত, কাঁঠালবাড়ি ও মাদবরের চরসহ নতুন চরগুলোতে রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির অভাব চরম। পদ্মার ভাঙনে অনেক পরিবার ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এবং নতুন চর জেগে ওঠার অপেক্ষায় বছরের পর বছর কাটাচ্ছে।
এলাকার প্রধান জীবিকা কৃষি ও মৎস্য হলেও প্রকৃতিনির্ভর এই আয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। বর্ষাকালে নৌকাই একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম, যা প্রায়ই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এতে রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াত ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ ব্যাহত হয়। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অভাবে সাধারণ রোগও মারাত্মক আকার ধারণ করে, অনেক শিশু বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, টেকসই বাঁধ, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি, নইলে চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে।
শিবচরের পদ্মা চরের মানুষ প্রতিদিন নদীভাঙন ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়ছেন
উন্নয়ন কাজের চাহিদা বাড়ায় পঞ্চগড়ে কৃষিজমি ধ্বংস করে চলছে পাথর উত্তোলন। বিশেষ করে তেঁতুলিয়া উপজেলায় সমতল ভূমি খুঁড়ে ৩০–৪০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি করে পাথর তোলা হচ্ছে। এতে কৃষিজমি ও উৎপাদন কমে যাচ্ছে। পরিবেশবিদরা সতর্ক করেছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে তেঁতুলিয়ার কৃষিজমি অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।
তেঁতুলিয়া উপজেলার মোট আয়তন ১৮,৯১২ হেক্টর, যার মধ্যে আবাদি জমি ১৪,৮৩৯ হেক্টর। এসব জমির বড় অংশ চা চাষে ব্যবহৃত হচ্ছে বা পাথর উত্তোলনের পর ফেলে রাখা হচ্ছে। বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্যমতে, পঞ্চগড়ে বর্তমানে ৪,৭০০ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে, যার বেশিরভাগই তেঁতুলিয়ায়। শিল্প কারখানার জন্য জমি ক্রয় ও অব্যবহৃত জমিও আবাদি জমি হ্রাসে ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয় পরিবেশবিদ ও শিক্ষাবিদরা জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন জানিয়েছেন, আবাদি জমি রক্ষায় প্রশাসনের কড়া নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
অপরিকল্পিত পাথর উত্তোলনে পঞ্চগড়ের কৃষিজমি ও কৃষি উৎপাদন হুমকিতে
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ আরও বিস্তার লাভ করতে পারে। রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, বর্তমানে ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে এই তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং আগামী কয়েক দিনে তা আরও বিস্তৃত হতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রোববার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সোমবার ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যান্য স্থানে আকাশ আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, আগামী দুই দিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে ১৪ এপ্রিল থেকে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
বাংলাদেশে তাপপ্রবাহ বাড়তে পারে, পূর্বাঞ্চলে সীমিত বৃষ্টির পূর্বাভাস
বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে পানি ও বিদ্যুৎ অপচয় রোধে সচেতনতা বাড়াতে ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের একদল নেতাকর্মী সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি আয়োজন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন হয় এবং ‘বৈশ্বিক সংকটকালীন মুহূর্তে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি কিনা’ প্রতিপাদ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।
ক্যাম্পেইনের আয়োজক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের পাঠাগার সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অপচয় পানি ও বিদ্যুতের সংকটকে তীব্র করে তুলছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যুৎ ও পানি সাশ্রয় শুধু খরচ কমানোর বিষয় নয়, এটি পরিবেশ সুরক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত। অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহারে অতিরিক্ত জ্বালানি পোড়ানো হয়, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
তিনি আরও বলেন, আবাসিক হলে সামান্য অসচেতনতা থেকেও বড় অপচয় হতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া লাইট-ফ্যান বন্ধ রাখা এবং পানির অপচয় রোধে সচেতন হওয়া জরুরি। শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আজকের ছোট উদ্যোগ ভবিষ্যতের বড় সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।
বৈশ্বিক সংকটে পানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ঢাবিতে ছাত্রদলের সচেতনতা কর্মসূচি
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৩৯ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।