উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর রোববার সকালে এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে ২৩ আগস্ট ২০২৬।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দরগুলো, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সতর্কবার্তায় চারটি নির্দিষ্ট সমুদ্রবন্দরকে স্থানীয় ৩ নম্বর সংকেত বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপে চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত
জাপানের পূর্বাঞ্চলে রোববার ভোরে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে টোকিওসহ আশপাশের এলাকায় অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। জাপান আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইবারাকি প্রিফেকচারের দক্ষিণাঞ্চলে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি এবং এর গভীরতা ছিল প্রায় ৭০ কিলোমিটার। কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা এর মাত্রা ৫ দশমিক ৮ জানিয়েছে।
আহতদের মধ্যে সাইতামায় ৯ জন, কানাগাওয়ায় ৯ জন, চিবায় ৪ জন এবং ইবারাকিতে একজন রয়েছেন। অধিকাংশ মানুষ ঘুমের মধ্যে কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে গিয়ে বা আসবাবপত্র ও দরজায় আঘাত পেয়ে আহত হন। ইয়োকোহামায় ৮০-এর কোঠার এক নারী বিছানা থেকে পড়ে গুরুতরভাবে নিতম্বে আঘাত পেয়েছেন।
টোকিও ও নারিতা বিমানবন্দরগামী দ্রুতগতির ট্রেনসহ কয়েকটি রেলসেবা বিঘ্নিত হলেও শিনকানসেন বুলেট ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। টোকিওর কোতো এলাকায় একটি ভূগর্ভস্থ পানির পাইপ ফেটে সড়কে পানি ছড়িয়ে পড়ে, পরে তা মেরামত করা হয়। প্রায় ৪৬০টি বাড়িতে সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, পরে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। পারমাণবিক স্থাপনায় অস্বাভাবিকতার খবর নেই এবং সরকার ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনায় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে।
জাপানের পূর্বাঞ্চলে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ২৩ জন আহত, কিছু রেলসেবা বিঘ্নিত
সামাজিক বনায়ন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কের দুই পাশে লাগানো প্রায় সাড়ে চার হাজার গাছ নিলামে বিক্রি করে কাটছে বন বিভাগ। ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কাটার কাজ শুরু হয়েছে। নিয়ামতপুর থেকে ইচ্ছেরচর পর্যন্ত গত এক সপ্তাহে শিলকড়ই, বেলজিয়াম, রেইনন্ট্রি ও আকাশিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটা হয়েছে। এর প্রতিবাদে হাওড় ও নদীরক্ষা আন্দোলন মানববন্ধন করেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
প্রায় ২৬ বছর আগে স্থানীয় উপকারভোগীদের সহায়তায় সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় এসব গাছ লাগানো হয়। বন বিভাগের ভাষ্য, নিলামের অর্থের চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত অংশ উপকারভোগীদের দেওয়া হবে। উপকারভোগী মানিক মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন গাছগুলোর যত্ন নেওয়া মানুষদের সঙ্গে কাটার আগে আলোচনা করা দরকার ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, একসঙ্গে এত গাছ কাটলে সড়কের সৌন্দর্য ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে; তাই নতুন গাছ লাগানোর উদ্যোগ প্রয়োজন। জেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন জানান, ২০০১ সালে যৌথ মালিকানায় গাছ লাগানো হয়েছিল, অনেক গাছ মারা গেছে এবং আরও তিন বছর পর অন্যগুলোও নষ্ট হতে পারে।
চুক্তি শেষ হওয়ায় সুনামগঞ্জে সড়কের পাশের প্রায় সাড়ে চার হাজার গাছ কাটছে বন বিভাগ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শনিবার সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিসিকের উদ্যোগে একটি ডিসপ্লে ও সেলস সেন্টার উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, শিল্প খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। দেশে প্রতিদিন সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা সৌরশক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্টোরেজ সুবিধা যুক্ত হলে দিনের উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ সন্ধ্যার পিক আওয়ারেও ব্যবহার করা যাবে। লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়িত হলে শিল্প খাতে লোডশেডিং অনেকাংশে কমবে এবং কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পথ সুগম হবে বলে তিনি জানান।
সরকার শিল্প প্লটে গ্যাসের পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ধানের তুষ ও কয়লা ব্যবহারের রূপরেখা তৈরি করছে। মন্ত্রী বলেন, এতে শিল্প খাতের বিদ্যুতের চাপ ও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, জাতীয় অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩৪ শতাংশ; সরকারের লক্ষ্য তা ৫০ শতাংশে উন্নীত করা। বিমানবন্দরের নতুন বিক্রয়কেন্দ্র সিলেটের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা করবে বলে তিনি বলেন।
শিল্পের জ্বালানি সংকট কমাতে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্য সরকারের
জলবায়ু পরিবর্তন এখন পরিবেশগত সংকটের পাশাপাশি অর্থনীতির জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে। তাপপ্রবাহ, বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, দাবানল ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি কৃষি, শিল্প, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুলনামূলক কম কার্বন নিঃসরণকারী দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোই অনেক ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিতে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালে দুর্যোগ বা চরম আবহাওয়ায় আক্রান্ত নিম্নআয়ের দেশের ৬৯ শতাংশ মানুষ আয় হারানোর এবং ৭২ শতাংশ সম্পদ হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
কৃষিনির্ভর অর্থনীতি, ছোট দ্বীপরাষ্ট্র, বাইরে কাজ করা শ্রমিক এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছে। কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ১৩ কোটি পর্যন্ত মানুষ চরম দারিদ্র্যে পড়তে পারে বলে বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস। আইপিসিসির মতে, ছোট দ্বীপরাষ্ট্রে জিডিপির তুলনায় চরম আবহাওয়াজনিত ক্ষতি বেশি হতে পারে, যা সরকারি বাজেট ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে চাপ সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ে বছরে গড়ে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। ২০৫০ সালের মধ্যে কৃষি জিডিপির এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত ক্ষতির ঝুঁকি এবং ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষের অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো, আগাম সতর্কীকরণ, কৃষি অভিযোজন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সামাজিক সুরক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কম নিঃসরণকারী দেশগুলো কম অভিযোজন সক্ষমতা নিয়ে বেশি জলবায়ু ক্ষতির মুখে
নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার লুনেশ্বর ইউনিয়নের মল্লিকনগর গ্রামে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আল মামুন নামে ১৮ বছর বয়সী এক কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। ২২ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্র জানায়, নিহত মামুন মল্লিকনগর গ্রামের আল আমিনের ছেলে। তিনি সদ্য অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ায় বাড়িতে অবস্থানকালে অবসর সময়ে বাবা-মায়ের গরু দেখাশোনায় সহায়তা করতেন তিনি।
শুক্রবার সকাল থেকে এলাকায় হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। এর মধ্যে মামুন বাড়ির সামনে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান। সকাল আনুমানিক পৌনে নয়টার দিকে হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। আটপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জোবায়দুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, দাফন-কাফনের জন্য পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হবে।
নেত্রকোনায় গরুর ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা, টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ৫৮টি গ্রামীণ সড়ক এবং ৬০টি সেতু-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা ও বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার পর উপজেলার গ্রামীণ ও প্রধান যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী ইফরাদ বিন মুনির জানান, সড়কের সারফেসসহ মোট ১০৯ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরল, কাথরিয়া, শেখেরখীল, চাম্বল, শীলকুপ, জলদী পৌরসভা, পুইছড়ি, নাপোড়া, বৈলছড়ি, কালীপুর, সাধনপুর ও পুকুরিয়ার অভ্যন্তরীণ সড়কে কার্পেটিং ও ইট উঠে গেছে। মাটির সড়কে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাঁশখালীর একমাত্র প্রধান সড়কের কয়েকটি অংশ ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে; চালক ও যাত্রীরা দুর্ঘটনা এবং গাড়ির ক্ষতির কথা জানিয়েছেন।
ইউনিয়ন প্রতিনিধিরা বলেন, অধিকাংশ রাস্তা, সেতু ও কালভার্ট নষ্ট হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। ছনুয়ার মধুখালী, ছোট ছনুয়া ও খুদুকখালীর অধিকাংশ রাস্তা মাটির সঙ্গে মিশে গেছে এবং খানখানাবাদ নদীভাঙনের মুখে রয়েছে। সওজের উপসহকারী প্রকৌশলী দিদারুল ইসলাম জানান, ছয় কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন দ্রুত সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রকৌশলী ও সওজকে নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান।
বাঁশখালীতে বন্যা ও ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত ৫৮ সড়ক ও ৬০ সেতু-কালভার্ট
চীনের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আরও ১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। জুলাইয়ে টাইফুন মায়সাকের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টি ও বন্যার পর এই ক্ষয়ক্ষতি হয়। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি হালনাগাদ এই তথ্য প্রকাশ করে।
দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর মধ্যে ছিল গুয়াংসি। এর আগে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সেখানে ৩৯ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল। বন্যার ছয় সপ্তাহ পর নতুন করে মোট মৃতের সংখ্যা প্রকাশের কারণ সম্পর্কে সিসিটিভি কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
সিসিটিভি জানায়, টাইফুন-পরবর্তী পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন নিয়ে নাননিং ও গুইগাং শহরে পৃথক বৈঠকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গুয়াংসির এই দুই শহরে ১৬ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দুই এলাকাই এখন দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের পর্যায়ে পুরোপুরি প্রবেশ করেছে বলে জানানো হয়েছে।
টাইফুন মায়সাক-পরবর্তী বন্যায় চীনে ১৫৯ নিহত, ১০ জন নিখোঁজ
এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট খরা ও পানির স্তর কমে যাওয়ায় আগামী মাস থেকে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পানামা খালে দৈনিক জাহাজ চলাচল কমাবে পানামা খাল কর্তৃপক্ষ। ৩ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩৬টির বদলে ৩৪টি জাহাজ চলাচল করতে পারবে। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে দৈনিক সীমা আরও কমিয়ে ৩২টি করা হবে। আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করা এ নৌপথে পানি সরবরাহকারী দুটি কৃত্রিম হ্রদের স্তর কমে যাওয়ায় সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।
মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত পানামা খাল এলাকায় বৃষ্টিপাত ঐতিহাসিক গড়ের চেয়ে ৩৪ শতাংশ কম ছিল। মধ্য আমেরিকাজুড়ে এল নিনোর কারণে তীব্র খরা চলছে এবং কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, বৃষ্টিপাত আরও কমতে পারে। খালের পানি সংগ্রহ এলাকায় প্রত্যাশার চেয়ে কম বৃষ্টি হওয়ায় নৌপথটির দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে পানি সংরক্ষণ জরুরি বলে জানিয়েছে তারা। এরই মধ্যে বড় জাহাজের অনুমোদিত সর্বোচ্চ ড্রাফটও কমানো হয়েছে।
বিশ্বের সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ৫ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪০ শতাংশ এ খাল ব্যবহার করে। নতুন বিধিনিষেধে আগে থেকে বুকিং না করা জাহাজের অপেক্ষার সময় বাড়বে। খাল ব্যবহারকারী প্রতি ১০টি জাহাজের মধ্যে ৯টি আগেই বুকিং করে। আগামী কয়েক সপ্তাহের বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করে আরও বিধিনিষেধ আসতে পারে। খাল-সংলগ্ন হ্রদগুলো পানামার ৪২ লাখ মানুষের প্রায় অর্ধেকের পানির চাহিদাও মেটায়।
এল নিনোর খরায় পানির স্তর কমায় পানামা খালে জাহাজ চলাচল সীমিত হচ্ছে
পেরুতে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যার ফলে দেশটির একাধিক অঞ্চলে সতর্কতামূলক অ্যালার্ম বেজে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা কম্পনের মাত্রা ৬ দশমিক ৭ জানালেও পেরুর জিওফিজিক্যাল ইনস্টিটিউটের হিসাবে তা ৭ দশমিক ২। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৮ কিলোমিটার গভীরে।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পেরুর কর্তৃপক্ষ ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোও বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কথা জানায়নি। দক্ষিণ ও মধ্য পেরুর বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। ভূকম্পবিদদের মতে, গভীর উৎপত্তিস্থলের কারণে ভূপৃষ্ঠে পৌঁছানোর আগেই ভূমিকম্পের উল্লেখযোগ্য শক্তি শোষিত হয়েছে।
উপকেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় মেরকেলি স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৩ থেকে ৪, অর্থাৎ হালকা থেকে মাঝারি ঝাঁকুনি। পেরুর উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে সম্প্রতি ধারাবাহিক ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটছে। প্যাসিফিক রিং অব ফায়ারে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। ২০০৭ সালে ইকা অঞ্চলে ৭ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় ৬০০ মানুষ নিহত হন।
পেরুতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অ্যালার্ম, তাৎক্ষণিক হতাহত বা বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই
নয় শ্রমিকের প্রাণহানির পর সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর ফেরদৌস শিপইয়ার্ডে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজের বাকি দুই ব্যালাস্ট ট্যাংকেও বিষাক্ত গ্যাস বা ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ট্যাংক দুটির পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকার ল্যাবে পাঠিয়েছে। পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত জাহাজটিতে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাহাজের ভারসাম্য রক্ষায় চারটি পার্টিশনের ব্যালাস্ট ট্যাংকে পানি ছিল এবং ধাপে ধাপে পার্টিশন কেটে জাহাজ ভাঙা হচ্ছিল। চার নম্বর পার্টিশন কাটার পর তিন নম্বরটিতে কাজের সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নয় শ্রমিক মারা যান। এক ও দুই নম্বর পার্টিশন অক্ষত আছে। নমুনা সংগ্রহের সময় তিনটি ট্যাংকের তলদেশে ঘন কালো স্লাজও পাওয়া গেছে, যাতে রাসায়নিক উপাদান বা বিষাক্ত গ্যাসের উৎস থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত ১৪ আগস্টের দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ঘটনাটি গ্যাস পরীক্ষা, গ্যাসমুক্ত সনদ, ট্যাংকে প্রবেশের আগে নিরাপত্তা যাচাই এবং শ্রমিক সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। শ্রমিকরা ল্যাব পরীক্ষার ফল ও বিশেষজ্ঞদের নিরাপত্তা মূল্যায়ন ছাড়া বাকি ট্যাংকে কাউকে প্রবেশ না করানোর দাবি জানিয়েছেন।
নয় শ্রমিকের মৃত্যুর পর বাকি দুই ট্যাংকের নমুনা পরীক্ষায়, জাহাজে কাজ বন্ধ
বরিশালের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ হাজার গাছের চারা বিতরণ করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল অডিটোরিয়ামে এই চারা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের ঘোষিত পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ বিতরণ করা হয়।
মোট ১৪৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার চারা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম এবং বিসিসির সচিব রুম্পা শিকদার। বিসিসির বনায়ন শাখার কর্মকর্তা এবং নগরীর বিভিন্ন কলেজ, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজ নগরী গড়তে তিনি প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং নগরবাসীকে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।
বরিশালের ১৪৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিসিসির ২০ হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ
মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক বা পেস্টিসাইড ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেবে সরকার। কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের গভর্নিং বডির ষষ্ঠ সভায় এ কথা বলেন। তিনি জানান, অতিরিক্ত পেস্টিসাইড ব্যবহারে কৃষকদের মধ্যে ক্যানসারসহ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শারীরিক জটিলতা বাড়ছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক বা জৈব সার সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে মাটি, পরিবেশ, পানি ও মাছ নিরাপদ রাখা সম্ভব। মাটিতে ভারী ধাতুর উপস্থিতি বাড়ছে কি না, তা ভূগর্ভস্থ পানি, সার ও পেস্টিসাইড ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না—গবেষণার মাধ্যমে নির্ণয়ের আহ্বান জানান তিনি। অনেক এলাকায় মাটির পিএইচ ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫-এর মধ্যে থাকাকে তিনি উদ্বেগজনক বলেন; ভালো ফসলের জন্য পিএইচ ৬ দশমিক ৫-এর ওপরে থাকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।
কৃষি মন্ত্রণালয় মাটির পিএইচ উন্নয়নে কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী। সভার সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নিয়মিত অনুসরণ ও নিশ্চিত করার ওপরও তিনি জোর দেন। কৃষক ও অন্য উপকারভোগীদের কাছে ফসলবিষয়ক সেবা ও পরামর্শ পৌঁছাতে ‘খামারি’ মোবাইল অ্যাপের ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। কো-চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অবদানের প্রশংসা করে বেসরকারি উদ্ভাবন জাতীয় স্বার্থে ব্যবহারের কথা বলেন।
অতিরিক্ত পেস্টিসাইড ব্যবহার কমাতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়াবে সরকার
বাংলাদেশের বন বিভাগ বলছে, নিবিড় টহল, স্মার্ট প্যাট্রোলিং ও ড্রোন নজরদারিতে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের সুরক্ষায় অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের জুন, জুলাই ও আগস্ট—বনে প্রবেশ নিষিদ্ধ এই তিন মাসে—হরিণের মাংস, চামড়া বা মৃত হরিণ উদ্ধারের কোনো ঘটনা ঘটেনি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় হরিণ শিকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে বিভাগীয় পরিসংখ্যান ও মাঠপর্যায়ের তথ্যে দাবি করা হয়েছে।
এ সময়ে বন বিভাগ ১৪ হাজার ৩৮১ ফুট নাইলন ফাঁদ, ১১০টি ছিটকা ফাঁদ, ৮৬ ফুট হাটা ফাঁদ ও ৬৯টি ভোঁয়া ফাঁদ জব্দ করেছে। অবৈধভাবে ব্যবহৃত দুটি নৌকা ও তিনটি ট্রলারও আটক করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ ২০টি মামলায় ১২ জন শিকারিকে গ্রেপ্তার করে এবং ১৫৬ দশমিক ৫ কেজি হরিণের মাংস, পাঁচটি মাথা, আটটি পা, দুটি চামড়া ও দুটি মৃত হরিণ উদ্ধার করে।
বিষ দিয়ে মাছ ধরার প্রবণতাও কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন; এই পদ্ধতি জলজ প্রাণী ও খাদ্যশৃঙ্খলের ক্ষতি করে। বন বিভাগ ফুট, বোট ও স্মার্ট প্যাট্রোলিংয়ের পাশাপাশি দিন-রাত অভিযান এবং ড্রোন ব্যবহার করছে। সংশ্লিষ্টরা শূন্য পদ পূরণ, দ্রুতগতির নৌযান ও ড্রোন বাড়ানো এবং জেলে ও বনজীবীদের নৌযানকে জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
টহল ও ড্রোন নজরদারিতে সুন্দরবনে হরিণ শিকার কমেছে বলে বন বিভাগের দাবি
ভরা মৌসুমেও পায়রা নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় বরগুনার তালতলীর উপকূলের প্রায় ৮ হাজার জেলে পরিবার চরম দুর্দশায় পড়েছে বলে জানিয়েছেন জেলেরা। ২০ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তালতলীতে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৭ হাজার ৯০০। আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিনে ইলিশ ধরা পড়ে এবং এ সময়ের আয় দিয়েই জেলেরা সারা বছরের খরচ মেটান। কিন্তু মৌসুমের দুই মাস পার হলেও মাছ ধরা পড়ছে খুব কম।
জেলেদের দাবি, সাগর মোহনায় ডুবোচর এবং আইসোটেক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের গরম পানি ও রাসায়নিক বর্জ্য ইলিশের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। পায়রা-বিষখালী মোহনায় বড়াইয়্যার ডুবোচর প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত। নলবুনিয়া, পদ্মা ও কুমিরমারা চরও নদীর প্রবেশমুখে রয়েছে। ভাটায় এসব চর হাঁটার উপযোগী হয়, আর জোয়ারে তীব্র স্রোত ও উত্তাল ঢেউ সৃষ্টি হয়।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, নাব্যতা সংকট, অগভীর পানি, উষ্ণ পানি ও বর্জ্য ইলিশের চলাচল ও প্রজননে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইনও ডুবোচরের কারণে নাব্যতা ও জোয়ারের স্রোত কমার কথা বলেন। জেলেরা দ্রুত চর খনন এবং বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন।
পায়রা নদীতে ইলিশ সংকটে তালতলীর জেলে পরিবারগুলোর দুর্দশা বেড়েছে
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৩৬ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।