মঙ্গলবার রাতে মেট্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ২-০ গোলে হারিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে ১৮ বছর বয়সী লেনার্ট কার্ল ও কনরাড লাইমার গোল করেন। এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোয় সরাসরি জায়গা পাওয়ার দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল জার্মান চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখলে এগিয়ে ছিল বায়ার্ন, কিন্তু দিয়েগো সিমিওনের দলের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। প্রথমার্ধে হ্যারি কেইন ও কার্ল সুযোগ পেলেও গোল করতে পারেননি। পাল্টা আক্রমণে অ্যাটলেটিকো বিপজ্জনক হয়ে উঠলেও বিরতির আগে স্বাগতিকেরা লক্ষ্যে কোনো শট রাখতে পারেনি।
৫৪ মিনিটে রবিন লে নরমঁর কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাককে পরাস্ত করেন কার্ল। গোল হজমের পর অ্যাটলেটিকো সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও বায়ার্নের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। ৭৪ মিনিটে কেইনের দারুণ পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লাইমার। চার ম্যাচে আট পয়েন্ট নিয়ে বায়ার্ন অপরাজিত আছে, আর অ্যাটলেটিকোর সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকলেও পরের ম্যাচগুলোতে পয়েন্ট হারানোর সুযোগ কম।
অ্যাটলেটিকোকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর দৌড়ে এগিয়েছে বায়ার্ন
চ্যাম্পিয়নস লিগে মঙ্গলবার রাতে এস্তাদিও দে লা সেরামিকায় ভিয়ারিয়ালকে ৬-০ গোলে হারিয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই। ম্যাচের প্রথম ১৭ মিনিটের মধ্যেই চার গোল করে প্রতিযোগিতাটিতে নতুন রেকর্ড গড়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। নবম মিনিটে কর্নার থেকে জোয়াও নেভেস গোল করেন। এরপর ১২ মিনিটে দেজিরে দুয়ে, ১৩ মিনিটে সেনি মায়ুলু এবং ১৭ মিনিটে ফাবিয়ান রুইজ গোল করেন।
পিএসজি চারটি গোল করেছে ১৬ মিনিট ২ সেকেন্ডের মধ্যে, যা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোনো ম্যাচে চার গোলের দ্রুততম ঘটনা। বিরতির পরও সফরকারীদের আক্রমণ থামেনি। ৫০ মিনিটে ভিতিনহার সহায়তায় নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রুইজ। ৭৮ মিনিটে নেভেসের পাস থেকে গোল করে ব্যবধান ৬-০ করেন বদলি খেলোয়াড় ডেভিড বোলি।
চোটের কারণে খভিচা কাভারৎসখেলিয়া ও উসমান দেম্বেলেকে ছাড়া মাঠে নেমেছিল লুইস এনরিকের দল। তবু পুরো ম্যাচে বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে আধিপত্য দেখিয়েছে পিএসজি। এই জয়ে টানা চার ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে তারা। বড় হারে ঘরের মাঠে হতাশ হয়েছে ভিয়ারিয়াল।
১৬ মিনিট ২ সেকেন্ডে চার গোলের রেকর্ড গড়ে ভিয়ারিয়ালকে ৬-০ হারাল পিএসজি
মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোর লন্ডনের ওভিও অ্যারেনা ওয়েম্বলিতে পূর্ণ দর্শকসমাগমের কনসার্টের মাধ্যমে তাঁর তিন শহরের ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ সফর শেষ করেছেন। ২৬ অক্টোবর ডাবলিনে শুরু হওয়া এবং ২৯ অক্টোবর প্যারিসে অনুষ্ঠিত এই সফরে সংগীতশিল্পী, অধিকারকর্মী ও ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আয়োজনের লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ এবং তাদের পক্ষে জনমত গড়ে তোলা।
লন্ডনের অনুষ্ঠানে পালোমা ফেইথ, নেমাহসিস, জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ ও ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী আরব বারঘুতি অংশ নেন। ম্যাকলমোর বলেন, গাজা যুদ্ধ নিয়ে কথা বলার চেয়ে নীরব থাকা তাঁর কাছে বেশি অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছিল, যদিও তিনি এটিকে সাহসিকতা মনে করেন না। থুনবার্গ সংহতির পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু দাতব্য কাজ ও স্লোগান দিয়ে দখলদারত্বের অবসান হবে না।
ম্যাকলমোরের ভাষ্য অনুযায়ী, টিকিট বিক্রি শুরুর পরই তিনটি কনসার্টের সব টিকিট শেষ হয়ে যায়। এসব অনুষ্ঠান ছিল অর্থ সংগ্রহের আয়োজন এবং প্রাপ্ত সব অর্থ ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় কাজ করা ১২টি সংগঠনকে দেওয়া হবে। তালিকায় রয়েছে মেডিক্যাল এইড ফর প্যালেস্টাইনস, জিউইশ ভয়েস ফর পিস, প্যালেস্টিনিয়ান ইয়ুথ মুভমেন্ট, ইনস্টিটিউট ফর মিডল ইস্ট আন্ডারস্ট্যান্ডিং ও গ্লিয়া। ম্যাকলমোর বলেন, গাজার শিশুরাও সবার সন্তান এবং তাদের সঙ্গে কোনো বিভাজন নেই।
লন্ডনে ম্যাকলমোরের ফ্রি প্যালেস্টাইন সফর শেষ, অর্থ যাবে ১২টি সহায়তা সংস্থায়
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে পারে, তবে এতে মহাদেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ঝুঁকিও দেখা দিতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নির্বাচনী জরিপে ডেমোক্র্যাটরা গড়ে প্রায় ৮ পয়েন্টে এগিয়ে আছে। দলটি এক বা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে ইউরোপের নীতিনির্ধারকেরা স্বস্তি পেলেও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সতর্ক থাকবেন।
কার্নেগি ইউরোপের গবেষক ক্যাথরিন ফিয়েশি বলেছেন, ডেমোক্র্যাটদের জয় ইউরোপে উগ্র ডানপন্থীদের উত্থান নিয়ে অতিরিক্ত আত্মতুষ্টি সৃষ্টি করতে পারে। ফ্রান্সে ১৮ এপ্রিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে মেরিন লো পেনের সমর্থন প্রায় ৩৪ শতাংশ। তাঁর প্রস্তাবের মধ্যে ইইউ বাজেটে ফ্রান্সের অবদান কমানো, ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা হ্রাস এবং ইউরোর বদলে অবমূল্যায়িত ফ্রাঁ চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদনে ইউক্রেনকে রাশিয়ার সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত শান্তিচুক্তিতে রাজি করাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে। ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমেছে; সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে দেশটিকে দেখেন ৩১ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে ছিল ৫১ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, শুধু মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল এই মনোভাব বা ইউক্রেনের নিরাপত্তা উদ্বেগ সহজে বদলাবে না।
ডেমোক্র্যাটদের জয় সম্পর্ক উন্নত করলেও ইউরোপের নিরাপত্তা উদ্বেগ কাটবে না
বাড়িভাড়া, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও সরকারি সেবায় কাটছাঁটের প্রতিবাদে তরুণদের বিক্ষোভ সেপ্টেম্বরে ফ্রান্স থেকে শুরু হয়ে ইউরোপের ১১টির বেশি দেশে ছড়িয়েছে। অনেক বিক্ষোভকারী বলছেন, তাঁরা আর আশা করেন না যে তাঁদের জীবনযাত্রার মান মা-বাবার চেয়ে ভালো হবে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২০২৩ সালের জরিপে দেখা গেছে, ৩৫ বছরের কম বয়সি ব্যক্তির নেতৃত্বাধীন পরিবারের মধ্যম নিট সম্পদ প্রায় ২৫ হাজার ইউরো, আর ৫৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সিদের পরিবারের প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার ইউরো।
২২ দেশের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩৫ বছরের কম বয়সিদের হাতে পরিবারের মোট সম্পদের মাত্র ২ দশমিক ৮ শতাংশ, যেখানে ৫৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সিদের হাতে ২৪ শতাংশ। ফিনল্যান্ডে তরুণদের অংশ সবচেয়ে কম, শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ; সেখানে ৫৫ বছরের বেশি বয়সিদের হাতে ৭১ শতাংশের বেশি সম্পদ। আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, গ্রিস ও জার্মানিতেও তরুণদের সম্পদের অংশ কম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাড়ির দাম ও ভাড়া বৃদ্ধিতে অনেক তরুণের জন্য বাড়ি কেনা এবং আর্থিক সচ্ছলতা গড়া কঠিন হয়েছে। ২০০০ সালের পর ইউরোজোন, হাঙ্গেরি ও চেক প্রজাতন্ত্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম ৬৭ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২ শতাংশে উঠেছিল, মূলত জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে। পরে মূল্যস্ফীতি কমলেও দাম আগের পর্যায়ে ফেরেনি।
ইসিবির তথ্য অনুযায়ী ইউরোপে বয়স্ক পরিবারের মধ্যম সম্পদ তরুণদের চেয়ে আট গুণের বেশি
ইউক্রেন, ইরান ও ইয়েমেনের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বাড়ায় শীতের আগে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার লুক্সেমবার্গে বৈঠকে বসছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানিমন্ত্রীরা। বৈঠকে স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের চাপ মোকাবিলার উপায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে আলোচনা হবে।
ইইউর পরিবহন, টেলিযোগাযোগ ও জ্বালানি কাউন্সিল জানিয়েছে, সরবরাহ ও দামের তাৎক্ষণিক চাপ বৈঠকের অগ্রাধিকার পাবে। শীতকালে ঘরবাড়ি গরম রাখতে চাহিদা বাড়ার আগে ইউরোপের জ্বালানি মজুত সক্ষমতার ৭৫ শতাংশ পূর্ণ রয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের ৮৩ শতাংশের চেয়ে কম। উৎপাদন বাড়ানোর উপায় নিয়ে বুধবার ইউরোপের তেল শোধনাগারগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ইইউর পরিবহন কমিশন।
এসব আলোচনায় জ্বালানির মান নির্ধারণে থাকা কিছু কারিগরি শর্ত শিথিলের বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। জ্বালানি কমিশনার ড্যান ইয়র্গেনসেন পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুতর বলেছেন এবং সরবরাহের পাশাপাশি পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাগালের মধ্যে দাম রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। বুধবার পাইকারি বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম সাময়িকভাবে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় ১০০ ইউরোতে ওঠে, যা ডিসেম্বর ২০২২-এর পর প্রথম।
শীতের আগে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যচাপ নিয়ে লুক্সেমবার্গে বৈঠকে ইইউ মন্ত্রীরা
উৎস নিবন্ধে বলা হয়েছে, ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ সহিংস হওয়ার পর কট্টর ডানপন্থিরা মুসলিম তরুণদের দায়ী করতে শুরু করে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও মুসলিম অভিবাসীদের দায়ী করেন বলে নিবন্ধটির দাবি। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো নাম উল্লেখ না করে মুসলমানদের ওপর দোষ চাপানোর সমালোচনা করেন। নিবন্ধটি স্পেনের সিউটা ছিটমহলে অভিবাসী প্রবেশচেষ্টাকে ঘিরে মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের কথাও তুলে ধরে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ‘ইসলামপন্থি অনুপ্রবেশ’ ও মুসলিম ব্রাদারহুড নেটওয়ার্কের প্রভাব মোকাবিলায় ইইউ কৌশল তৈরির একটি প্রস্তাব পাস করেছে। কেন্দ্র-ডানপন্থি ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টির উত্থাপিত প্রস্তাবটির পক্ষে ৩৮১ এবং বিপক্ষে ১৬৭ ভোট পড়ে; ১৫ জন বিরত ছিলেন। প্যাট্রিয়টস ফর ইউরোপ, ইউরোপ অব সভরেন নেশনস, রিনিউ ইউরোপ ও ইউরোপিয়ান কনজারভেটিভস অ্যান্ড রিফর্মিস্টস এটি সমর্থন করে।
নিবন্ধ অনুযায়ী, প্রস্তাবটি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক নয়, তবে স্বাধীন মুসলিম প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সংগঠনকে সন্দেহের চোখে দেখার আদর্শিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে পারে। এতে ব্রাসেলসভিত্তিক ইউরোপীয় নেটওয়ার্ক অ্যাগেইনস্ট রেসিজমসহ কয়েকটি সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তাদের ইইউ তহবিল বন্ধ ও সহযোগিতা সীমিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিবন্ধটি বলছে, এমন পদক্ষেপ ইসলামোফোবিয়াবিরোধী উদ্যোগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রস্তাব মুসলিম নাগরিক সংগঠন নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে
জীবনযাত্রার ব্যয়, জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মসংস্থানের সংকট, দুর্নীতি, আবাসন সমস্যা এবং নিজেদের কথা না শোনার অভিযোগে ইউরোপজুড়ে জেন-জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। প্যারিসের শহরতলি, মিলান, বেলগ্রেড, বেলজিয়াম ও আলবেনিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ফ্রান্সে হাজার হাজার দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ স্টান গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করেছে।
সার্বিয়ায় প্রায় দুই বছর ধরে দুর্নীতি ও ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদের অভিযোগে আন্দোলনের পর নির্বাচনে দীর্ঘদিনের নেতা আলেকসান্দার ভুচিচের পতন হয়েছে। শিক্ষার্থী বিক্ষোভকারীরা এটিকে স্বস্তি ও বিজয় হিসেবে দেখছেন। ইতালি, ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষকসংকট, অনিরাপদ বা জরাজীর্ণ স্কুল ভবন, কম বেতনের কাজ এবং ব্যয়বহুল আবাসনের কথা তুলে ধরেছেন।
২০২৫ সালের ইউরোপীয় ইউনিয়নের জরিপে ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের ৪০ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যবৃদ্ধিকে প্রধান উদ্বেগ বলেছেন। চলতি সপ্তাহান্তে জার্মানিতে বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে। আলবেনিয়ায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তিরানার বাইরে ছড়িয়েছে। সার্বিয়ার বিক্ষোভকারীরা বলছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সীমিত শাসন-অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশ পরিচালনাই পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ।
জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইউরোপজুড়ে জেন-জিদের বিক্ষোভ
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ইউরোপীয় নেতাদের ‘রাজনৈতিক আত্মনিপীড়ক’ বলে অভিহিত করেছেন। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে পরাজিত করার লক্ষ্য পূরণে তারা নিজেদের নাগরিকদের কল্যাণ বিসর্জন দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। মঙ্গলবার মস্কোয় আফ্রিকার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রধান সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
লাভরভ বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে সংঘাতে ইউক্রেনের বিজয় নিশ্চিত করতে পশ্চিমা সরকারগুলো তাদের জনগণকে জীবনযাত্রার মান কমে যাওয়া মেনে নিতে চাপ দিচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জনমতকে এমন অবস্থানে রাখা হচ্ছে যেখানে ইউক্রেনের জন্য মানুষকে বেতন, চাকরি, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামগ্রিক সামাজিক সুযোগ-সুবিধাসহ সবকিছু বিসর্জন দিতে হবে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও দাবি করেন, ইউরোপের দেশগুলোতে মানুষের জীবনযাত্রার পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এবং জনগণ নিজেরাই তা অনুভব করছে। প্রতিবেদনের সূত্র হিসেবে আরটির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ইউরোপীয় সরকার বা অন্য কোনো পক্ষের প্রতিক্রিয়া এতে দেওয়া হয়নি।
লাভরভের দাবি, ইউক্রেনে রাশিয়াকে হারাতে ইউরোপ নাগরিক কল্যাণ বিসর্জন দিচ্ছে
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে উত্তর ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে বোলো ও অস্টেন নামের দুটি ঝড় আঘাত হেনে অন্তত একজনের মৃত্যু ঘটিয়েছে এবং দেড় লাখের বেশি বাড়ি বিদ্যুৎহীন করেছে। রোববার যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের তথ্য জানায়। ঝড়ের কারণে শত শত ফ্লাইট বাতিল বা অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং কোথাও কোথাও মোবাইলফোন নেটওয়ার্ক ব্যাহত হয়।
স্কটল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমে গাছ ভেঙে পড়ে ৬০ বছর বয়সি এক ব্যক্তি নিহত হন। মধ্য স্কটল্যান্ডে গাছ পড়ে আরও দুই নারী আহত হয়েছেন। পশ্চিম স্কটল্যান্ডের আর্গিল অ্যান্ড বুট এলাকায় বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটার। গাছ ও বিদ্যুতের তার উপড়ে পড়ায় স্কটল্যান্ড ও উত্তর ইংল্যান্ডের বিভিন্ন সড়ক এবং রেলপথ বন্ধ হয়। মেট অফিস মানুষকে যথাসম্ভব ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
ফ্রান্সে অস্টেনের তীব্রতার সময় শনিবার প্রায় ২ লাখ ৮৮ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়; রোববার দুপুরেও প্রায় ৫৯ হাজার বাড়িতে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। জার্মানির ফ্রাইবুর্গ-ব্রাইসগাউ ও আশপাশে প্রায় ১০ হাজার বাড়ির বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় প্রধান হাসপাতালটি শুধু জরুরি রোগীদের চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেয়। বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসেও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
উত্তর ইউরোপে দুই ঝড়ে একজন নিহত, দেড় লাখের বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই
ইউরোপের বিভিন্ন জাদুঘর ইসলামি শিল্পকলাকে ক্রমে ইউরোপের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করছে, কিন্তু একই সময়ে মুসলিম অভিবাসন, ধর্মীয় পরিচয় ও ইসলাম নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। এই বৈপরীত্য লন্ডনের ভিঅ্যান্ডএ ইস্ট স্টোরহাউসে স্থপতি ও শিল্পী শাহেদ সালিমের ‘আই ওয়াজ বর্ন হিয়ার’ প্রদর্শনীতে উঠে এসেছে। সেখানে আলহামরা-প্রভাবিত নকশার সঙ্গে অভিবাসন, বর্ণবাদ এবং ব্রিটেনের ২০১৩ সালের ‘হোস্টাইল এনভায়রনমেন্ট’ নীতির প্রসঙ্গ যুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামি শিল্প, জ্ঞান ও স্থাপত্য দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত। উদাহরণ হিসেবে গ্রানাডার আলহামরা, ল্যুভরে সংরক্ষিত ত্রয়োদশ শতাব্দীর মামলুক ধাতব পাত্র, ইউরোপীয় গির্জায় রক্ষিত ইসলামি বস্ত্র এবং উদ ও রাবাবের প্রভাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইতিহাসবিদেরা স্পেনে সাংস্কৃতিক যোগাযোগের পাশাপাশি ইনকুইজিশনের সময় মুসলিম ও ইহুদিদের ওপর নিপীড়নের কথাও স্মরণ করিয়েছেন।
গবেষণা ও জাদুঘর প্রকল্পগুলো প্রশ্ন তুলছে, ইসলামি ঐতিহ্য প্রদর্শনে সমসাময়িক মুসলিমদের জীবন কতটা প্রতিফলিত হয়। বার্লিনের কয়েকটি জাদুঘর মুসলিম সম্প্রদায়কে যুক্ত করে তাদের দৈনন্দিন জীবন, অভিবাসন, বৈচিত্র্য ও পরিচয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে। দ্য হেগ ও বার্লিনের নতুন প্রদর্শনীগুলোও ঐতিহাসিক শিল্পকে সমসাময়িক শিল্পী ও মানুষের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করছে।
ইসলামি শিল্পের স্বীকৃতির পাশাপাশি ইউরোপে মুসলিম অন্তর্ভুক্তির প্রশ্ন জোরালো
শিক্ষা খাতে অর্থসংকট, আবাসনের উচ্চ ব্যয়, অনিশ্চিত কর্মসংস্থান এবং প্রজন্মগত সুযোগের বৈষম্য নিয়ে ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তরুণেরা। স্পেন, ফ্রান্স, আলবেনিয়া, ইতালি, গ্রিস ও পর্তুগালসহ বিভিন্ন দেশে আন্দোলনের সূচনা ভিন্ন কারণে হলেও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অভিন্ন উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। অনেকের আশঙ্কা, তারা তাদের মা-বাবার মতো সমান সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। ফ্রান্সে ধর্মঘটরত শিক্ষকদের সমর্থনে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছেন, আর আলবেনিয়ায় বিলাসবহুল স্থাপনা নির্মাণ পরিকল্পনা ঘিরে প্রথম আন্দোলন শুরু হয়।
ফ্রান্সের প্রধান শিক্ষার্থী ইউনিয়ন ইউএনইএফের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালিস দে ব্রিতো বলেন, ইউরোপের শিক্ষার্থী ইউনিয়নগুলো নিজেদের অভিজ্ঞতা ও আন্দোলনের কৌশল বিনিময় করছে। তাঁর মতে, শিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়, তরুণদের জন্য বিনিয়োগ, জীবনযাত্রার ব্যয় ও আবাসন—এসব প্রশ্নে দেশগুলোর মধ্যে মিল বেশি। ফরাসি শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো, শিক্ষকদের পেছনে ব্যয় বৃদ্ধি, জলবায়ু উপযোগী অবকাঠামো এবং তরুণদের ওপর পুলিশের সহিংসতা বন্ধের দাবি তুলেছেন।
পর্তুগালে ভাড়াবৃদ্ধিতে সীমা আরোপ ও উচ্ছেদ সহজ করার আইন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ চলছে; মঙ্গলবার লিসবনে পুলিশ ৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করে, এরপর নতুন বিক্ষোভ শুরু হয়। ফ্রান্স ও স্পেনের প্রধান শ্রমিক ইউনিয়ন যথাক্রমে ৫ ও ১১ নভেম্বর সাধারণ ধর্মঘট ডেকেছে। জার্মানির জেন-জি রেগেল্ট ৩১ অক্টোবর দেশজুড়ে বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছে।
শিক্ষা, আবাসন ও ভবিষ্যতের সুযোগ নিয়ে ইউরোপজুড়ে জেন-জির বিক্ষোভ
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির সংকট ও সরকারি ব্যয় কমানোর পরিকল্পনাবিরোধী বিক্ষোভে ভাঙচুরের ঘটনায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের অভিভাবকদের আর্থিক দায় বাড়াতে পদক্ষেপ নিচ্ছে ফ্রান্স ও ইতালি। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার মঙ্গলবার একগুচ্ছ ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে। ফ্রান্সে একই ধরনের একটি খসড়া আইন নিয়ে ২৭ অক্টোবর সরকারি আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ফ্রান্সে বিদ্যালয় ভবনের বেহাল অবস্থা, শিক্ষকসংকট ও প্রস্তাবিত বাজেটের বিরুদ্ধে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। পরে বেতন স্থগিতের প্রতিবাদে সরকারি খাতের কর্মী এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির দাম নিয়ে ক্ষুব্ধ মানুষ এতে যোগ দেন। কিছু কর্মসূচি দাঙ্গা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে রূপ নেয়। ইতালির মিলান, বোলোনিয়া ও তুরিনেও দাঙ্গার খবর পাওয়া গেছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির সরকারি হিসাব প্রকাশ হয়নি।
ইতালির নতুন ব্যবস্থায় বছরের শেষ পর্যন্ত মিলানে ৫০০ সেনা মোতায়েনের কথা রয়েছে এবং ভাঙচুরে জড়িত সন্তানের জন্য অভিভাবকদের দায় কঠোর করা হয়েছে। ফ্রান্সে আগে থেকেই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের ক্ষতির জন্য অভিভাবকদের দেওয়ানি দায় আছে। প্রস্তাবিত আইনে ভাঙচুরকারীদের সর্বোচ্চ ১০ হাজার ইউরো ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে এবং দলগত দেওয়ানি দায়ও বিবেচনায় রয়েছে।
বিক্ষোভে ভাঙচুরের ঘটনায় অভিভাবকদের আর্থিক দায় কঠোর করছে ফ্রান্স ও ইতালি
রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাদের কথা ও প্রয়োজন উপেক্ষা করছে—এ অভিযোগে ইউরোপজুড়ে তরুণেরা বিক্ষোভ করছেন। ইতালির রোমে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখল করছেন, স্পেনের মাদ্রিদে তাঁবু গেড়ে অবস্থান করছেন এবং ফ্রান্সের রাজপথে প্রতিবাদ চলছে। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে ফ্রান্স, ইতালি, স্পেনসহ বিভিন্ন দেশে কয়েক লাখ স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থী বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন; কিছু কর্মসূচি সহিংসতায়ও গড়িয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরক্ষা খাতের বদলে শিক্ষায় বেশি অর্থ বরাদ্দ এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি। তাদের অভিযোগ, ফ্রান্সের কিছু এলাকায় আংশিক কারফিউ ও ইতালিতে সেনা মোতায়েনের মতো আইনশৃঙ্খলাকেন্দ্রিক পদক্ষেপ মূল সমস্যাগুলো আড়াল করছে এবং উত্তেজনা বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এ আন্দোলনকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তরুণদের কার্যকর ভূমিকার অভাবের সঙ্গে যুক্ত প্রজন্মগত বিদ্রোহ হিসেবে দেখছেন।
ফ্রান্স ও ইতালিতে শনিবার নতুন বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন দেশের আন্দোলনকারীরা কর্মপদ্ধতি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য যোগাযোগ করছেন এবং বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের তরুণ নেতৃত্বাধীন আন্দোলন থেকেও শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। মাদ্রিদের পুয়ের্তা দেল সল চত্বরে আবাসন ব্যয় ও উচ্ছেদের প্রতিবাদে গত সেপ্টেম্বর থেকে শত শত মানুষ তাঁবু গেড়ে অবস্থান করছেন।
আবাসন, শিক্ষা, চাকরি ও রাজনৈতিক উপেক্ষার বিরুদ্ধে ইউরোপজুড়ে তরুণদের বিক্ষোভ
গবেষকদের হিসাবে, ২০২৬ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইউরোপের ৩০ দেশের ৮৫৪টি শহরে তাপজনিত কারণে আনুমানিক ৫০ হাজার ৩৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নেচার হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় ৩২ হাজার ৬০০-এর বেশি মৃত্যুর সঙ্গে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডন ও লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গবেষকেরা এই বিশ্লেষণ করেছেন।
এগুলো সরাসরি নথিভুক্ত মৃত্যুর সংখ্যা নয়; তাপমাত্রা, জনসংখ্যা ও উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে মৃত্যুহারের সম্পর্কের ভিত্তিতে করা অনুমান। গবেষণাভুক্ত শহরগুলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রায় ৪০ শতাংশ জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে, তাই গ্রামীণ এলাকার প্রভাব এতে নেই। সবচেয়ে বেশি আনুমানিক মৃত্যু ইতালিতে, ১৩ হাজার ৩০৩ জন। ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মৃত্যু প্রায় ২২ হাজার ৫০২, যা মোটের প্রায় ৪৫ শতাংশ।
পশ্চিম ও দক্ষিণ ইউরোপ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও উত্তর ইউরোপের বিভিন্ন এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য তাপজনিত মৃত্যু হয়েছে। গবেষকেরা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, আগাম সতর্কতা, স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা, শহরে শীতল পরিবেশ এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ দিয়েছেন।
২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ইউরোপে তাপজনিত ৫০ হাজারের বেশি মৃত্যুর অনুমান
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেন সংকটের সমাধানে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ বা আলোচনা পুনরায় শুরু করতে মস্কো পুরোপুরি প্রস্তুত। এক সাংবাদিককে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন এবং রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক সিজোফ্রেনিয়া’ বলে আখ্যা দেন। পুতিনের জ্যেষ্ঠ সহকারী ইউরি উশাকভ আগে জানান, ১০ নভেম্বরের পর আলোচনা হতে পারে।
পুতিন ইউক্রেনকে ‘ভ্রাতৃপ্রতীম জাতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সাম্প্রতিক জেনেটিক গবেষণার কথা তুলে ধরে দাবি করেন যে রুশ ও ইউক্রেনীয়রা ‘একই জাতি’। তিনি প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরকারের সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, কিয়েভ নিজ নাগরিকদের ‘কামানের খাদ্য’ হিসেবে ব্যবহার করছে এবং সাধারণ মানুষকে জোর করে সম্মুখসমরে পাঠানো হচ্ছে। এসব ছিল পুতিনের সাক্ষাৎকারে করা দাবি।
পুতিন বলেন, ইউরোপের জনগণ রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চায় না এবং রাশিয়াও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না। তিনি দাবি করেন, ইউরোপ কখনো রাশিয়াকে সামরিকভাবে পরাজিত করতে পারবে না। আলোচনার প্রস্তুতিতে সেন্ট পিটার্সবার্গে পুতিনের সঙ্গে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। তার আগের দিন উইটকফ নরওয়েতে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন।
পুতিন বললেন, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত রাশিয়া
আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ মানবাধিকার সম্মাননা সাখারভ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ট্রাম্প প্রশাসন নতুন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আদালতটির কার্যক্রম অকার্যকর করার হুমকি দেওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ পর এ স্বীকৃতি এল। ইইউ আদালতটির স্বাধীনভাবে কাজ করার গুরুত্বও তুলে ধরেছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবার্টা মেটসোলা বলেন, বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে ইইউ প্রতিষ্ঠিত। আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইসিসির গুরুত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিতেই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। আইসিসি ইউরোপীয় পার্লামেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছে, প্রতিষ্ঠানটি ও এর কর্মকর্তারা নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা সময়ে এই সম্মাননা এসেছে।
আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে বলেন, পুরস্কারটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় কাজ করা ব্যক্তিদের ভূমিকা সামনে এনেছে। দ্য হেগভিত্তিক আদালতটি যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে ব্যক্তির বিচার করে। সূত্র অনুযায়ী, ওয়াশিংটন আইসিসির বিচারক ও কৌঁসুলিসহ ফিলিস্তিনি অধিকার নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক এবং আদালতে প্রমাণ দেওয়া ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
ওয়াশিংটনের চাপের মধ্যে ইইউর সাখারভ পুরস্কার পেল আইসিসি
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্কে প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ানের সমালোচক এবং গুলেন আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর তুর্কি গোয়েন্দা ও সন্ত্রাসবিরোধী কর্তৃপক্ষ নজরদারি চালিয়েছে। আন্তালিয়া প্রাদেশিক পুলিশের ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখের একটি গোপন নথিতে ২৪ জুনের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করে তথ্য তুরস্কের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পাঠানোর বিবরণ রয়েছে।
বিক্ষোভগুলো ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সদর দপ্তরের বাইরে হওয়া প্রতিবাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা তুরস্ককে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান। নথি অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও পোস্ট পর্যালোচনা করে নামের তালিকা তৈরি এবং অংশগ্রহণের প্রমাণ হিসেবে স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করা হয়। পরে সেসব তথ্য জাতীয় পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগে পাঠানো হয়।
জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগ ১১ আগস্ট প্রাদেশিক ইউনিটগুলোকে নির্দেশনা দেয়, যার পর আন্তালিয়া পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে। একটি প্রতিবেদন আন্তালিয়ার দ্বিতীয় উচ্চ ফৌজদারি আদালতে পাঠানো হয়; এতে অন্তত একজনের পরিচয় ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণের তথ্য ছিল, যাঁকে নর্ডিক মনিটর ব্রিটিশ নাগরিক বলেছে। নর্ডিক দেশগুলোতে সরাসরি গোয়েন্দা তৎপরতা হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়; তুরস্ক বা সংশ্লিষ্ট তিন দেশের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও প্রতিবেদনে নেই।
নর্ডিক বিক্ষোভকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক নজরদারির অভিযোগ তুরস্কের বিরুদ্ধে
ব্যর্থ ইউরোপিয়ান সুপার লিগ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয়ের অংশ হিসেবে ইংল্যান্ডের ছয় প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবের কাছে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ২০২১ সালের এপ্রিলে ইউরোপের ১২টি প্রভাবশালী ক্লাব এই প্রতিযোগিতার ঘোষণা দিয়েছিল, কিন্তু তীব্র বিরোধিতার মুখে মাঠে গড়ানোর আগেই পরিকল্পনাটি ভেঙে যায়। আইনি, প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক প্রস্তুতিতে হওয়া খরচকে কেন্দ্র করেই নতুন এই দাবি উঠেছে।
সমর্থকদের ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আর্সেনাল, চেলসি, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও টটেনহ্যাম হটস্পার প্রকল্প থেকে সরে যায়। পরে এসি মিলান, ইন্টার মিলান ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদও সরে দাঁড়ায়। দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনে প্রাথমিক ব্যয় প্রায় আট কোটি ইউরো হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতদিন এই ব্যয়ের বড় অংশ রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও জুভেন্টাস বহন করছিল। রিয়ালের বক্তব্য, প্রতিষ্ঠাতা ক্লাবগুলো ইউরোপিয়ান সুপার লিগ কোম্পানির অংশীদারত্ব চুক্তিতে সই করেছিল, তাই তাদের ব্যয়ের অংশ নেওয়া উচিত। ইংলিশ ক্লাবগুলো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি এবং টটেনহ্যাম রয়টার্সকে মন্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। জুভেন্টাস ও বার্সেলোনা সরে যাওয়ার পর প্রকল্পে একমাত্র রিয়ালই অবশিষ্ট আছে।
সুপার লিগের ব্যয় নিয়ে ছয় ইংলিশ ক্লাবের কাছে ক্ষতিপূরণ চায় রিয়াল
ইউরোপের প্রধান দেশগুলোতে মধ্যপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো জনসমর্থন হারাচ্ছে; মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সরকারি ঋণ এবং কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা ভোটারদের উগ্র ডান ও বামপন্থি দলের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শিক্ষা খাতে অর্থায়নের ঘাটতি নিয়ে ফ্রান্সে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশজুড়ে সহিংস দাঙ্গায় রূপ নেওয়াকে এ সংকটের বড় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তরুণ ও বেতনভোগী শ্রমজীবীদের মধ্যে উদার গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার ধারণা জোরালো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটাররা মধ্য-বাম ও মধ্য-ডান দলকে ক্রমেই একই ধরনের রাজনীতির ধারক মনে করছেন। শিক্ষিত অভিজাত নেতৃত্ব শ্রমজীবী মানুষের সমস্যা থেকে বিচ্ছিন্ন—এমন ধারণাও বাড়ছে। বাজেট ঘাটতি, ঋণের ব্যয় ও সুদের হার বৃদ্ধিতে সরকারগুলোর বড় পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়েছে। ফ্রান্সে মেরিন লো পেনের ন্যাশনাল র্যালি ও জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁর ফ্রান্স আনবোড জনপ্রিয়তা পাচ্ছে; জার্মানিতে বাড়ছে এএফডি ও ডি লিংকের সমর্থন।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপে ফ্রান্সে ৬৯, স্পেনে ৬৮, ইতালিতে ৬২ এবং পোল্যান্ডে ৪৭ শতাংশ মানুষ গণতন্ত্রের কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট। জার্মানিতে এএফডির সমর্থন প্রায় ২৮ শতাংশ, যেখানে সিডিইউ-সিএসইউর ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ। বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, সামনে নির্বাচনগুলো বিভক্ত পার্লামেন্ট, উগ্র ছোট দলের প্রভাব এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্যক্রমে জটিলতা বাড়াতে পারে।
অর্থনৈতিক চাপে ইউরোপে মধ্যপন্থিদের সমর্থন কমছে, বাড়ছে উগ্র দলের প্রভাব
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৫৮ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।