ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বাহরাইনে অ্যামাজনের একটি ক্লাউড কম্পিউটিং সেন্টারে হামলার দাবি করেছে। ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, আইআরজিসি এই হামলাকে “প্রথম বাস্তব সতর্কবার্তা” হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংস্থাটি জানায়, ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় বেসরকারি অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইআরজিসি সতর্ক করেছে, যদি হামলা বা হত্যাকাণ্ড অব্যাহত থাকে, তবে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যেসব কোম্পানির নাম ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং এ অঞ্চলে এসব প্রতিষ্ঠানের ধ্বংসের দায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ওপর বর্তাবে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলার দাবি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাহরাইনে অ্যামাজন ক্লাউড সেন্টারে হামলার দাবি, প্রথম সতর্কবার্তা বলছে আইআরজিসি
গত এক মাসে ইরানের ছোড়া অন্তত ৫৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে বাহরাইনের সামরিক বাহিনী। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বাহরাইন জানায়, তারা দেশটির দিকে লক্ষ্য করে ছোড়া ১৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৮৫টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এই হামলাগুলো ইরানের পাল্টা আক্রমণের অংশ, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার জবাবে চালানো হচ্ছে।
বাহরাইন বলেছে, বেসামরিক অবকাঠামো ও ব্যক্তিগত সম্পত্তিকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। শুক্রবার দেশটিতে দুবার সাইরেন বাজানো হয় সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা হিসেবে, এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনগণকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে আহ্বান জানায়।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ইরানের আগের এক হামলায় একটি অজ্ঞাত স্থাপনায় আগুন লাগলেও তা এখন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
এক মাসে ইরানের ৫৫০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহতের দাবি বাহরাইনের
হরমুজ প্রণালী ও বাণিজ্যিক নৌপরিবহন রক্ষায় দেশগুলোকে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমোদন দিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব জমা দিয়েছে বাহরাইন। ২৩ মার্চ উপস্থাপিত এই প্রস্তাবে স্বেচ্ছামূলক বহুজাতিক বা একক নৌবাহিনী গঠনের মাধ্যমে নৌপরিবহন সুরক্ষা এবং যেকোনো বাধা প্রতিরোধের আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে প্রয়োজনে নিষেধাজ্ঞাসহ অন্যান্য পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
কূটনীতিকদের মতে, প্রস্তাবটি অন্যান্য গালফ আরব দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পেয়েছে, তবে রাশিয়া ও চীনের ভেটো ক্ষমতার কারণে এটি সহজে অনুমোদিত নাও হতে পারে। বাহরাইনের খসড়ায় ইরানের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে ইরানকে বৈধ নৌচলাচলে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই দিনে ফ্রান্স সংলাপভিত্তিক একটি বিকল্প খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে, যা নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নির্দেশ করে।
হরমুজ প্রণালী রক্ষায় জাতিসংঘের অনুমোদন চায় বাহরাইন
রয়টার্সের যাচাই করা গবেষকদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের দশম দিনে বাহরাইনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণটি ইরানি ড্রোন নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে ঘটেছিল। ৯ মার্চ সিতরা দ্বীপের মাহাজ্জা এলাকায় ওই বিস্ফোরণে শিশুসহ ৩২ জন আহত হয় এবং বহু বাড়িঘর ধসে পড়ে। শুরুতে বাহরাইন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই ইরানের ড্রোনকে দায়ী করেছিল, এবং ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল যে ইরানি ড্রোন আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে।
রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে বাহরাইন সরকার শনিবার প্রথমবারের মতো স্বীকার করে যে বিস্ফোরণটি প্যাট্রিয়ট ব্যাটারির ছোড়া ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে ঘটেছিল। তবে সরকারি মুখপাত্র দাবি করেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি মাঝ আকাশে একটি ইরানি ড্রোন ধ্বংস করে বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করেছে। মুখপাত্রের মতে, আহত হওয়া ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ ছিল আকাশে সংঘর্ষের ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়া।
তবে মাহাজ্জার বিস্ফোরণে ইরানি ড্রোনের সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ বাহরাইন বা ওয়াশিংটন কেউই দিতে পারেনি।
বাহরাইন স্বীকার করেছে সিত্রা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র
৯ মার্চ বাহরাইনে একটি বড় বিস্ফোরণে বহু বেসামরিক নাগরিক আহত হন এবং ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। শুরুতে বাহরাইন ও ওয়াশিংটন বিস্ফোরণের জন্য ইরানি ড্রোনকে দায়ী করেছিল। তবে একদল একাডেমিক গবেষকের বিশ্লেষণ, যা রয়টার্স পর্যালোচনা করেছে, ইঙ্গিত দেয় যে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হতে পারে।
বাহরাইন পরে প্রথমবারের মতো স্বীকার করে যে রাজধানী মানামার উপকণ্ঠে সিত্রা দ্বীপের মাহাজ্জা এলাকায় ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণের সঙ্গে একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র জড়িত ছিল। সরকারি মুখপাত্র দাবি করেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশে একটি ইরানি ড্রোন প্রতিহত করেছিল, ফলে বড় প্রাণহানি এড়ানো গেছে। তার মতে, ক্ষয়ক্ষতি সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের ভূমিতে আঘাতের কারণে হয়নি।
তবে এখন পর্যন্ত বাহরাইন বা যুক্তরাষ্ট্র কেউই ইরানি ড্রোনের সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে পারেনি। বিস্ফোরণের পর ভিডিওতে ধ্বংসস্তূপ ও আতঙ্কিত বাসিন্দাদের দেখা গেছে।
বাহরাইনে বিস্ফোরণে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত
ইরান দাবি করেছে যে তারা বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল মার্কিন সামরিক স্থাপনা। তবে এ বিষয়ে বাহরাইনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-মিনহাদ ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর জানায়, যেখানে মার্কিন ও ব্রিটিশ বাহিনী অবস্থান করছে। এসব হামলা চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘটছে।
এর আগেও ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে। বাহরাইনের রাজধানী মানামায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর অতীতে হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের
বাহরাইন সরকার জানিয়েছে, ৯ মার্চ একটি ইরানি ড্রোন দেশটির একটি আবাসিক এলাকায় হামলা চালানোর চেষ্টা করলে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা প্রতিহত করে। রয়টার্সকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলায় কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত হন, তবে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর হামলাটি ঠেকিয়ে প্রাণহানি রোধ করেছে। সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন হামলা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীও জানিয়েছিল যে, একই দিনে একটি ইরানি ড্রোন বাহরাইনের আবাসিক এলাকায় হামলা চালিয়েছিল এবং এতে বেসামরিক লোকজন আহত হন। বাহরাইনের এই ঘোষণা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ড্রোন হামলার ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রেক্ষাপটে এসেছে।
ঘটনাটি উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা উভয়ই লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
বাহরাইনে আবাসিক এলাকায় ইরানি ড্রোন ঠেকাতে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি
বাহরাইনের মুহাররাক গভর্নরেটের একটি স্থাপনায় জ্বালানি ট্যাংকে হামলার পর দেশটির কর্তৃপক্ষ কিছু এলাকার বাসিন্দাদের ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার এ হামলার ঘটনা ঘটে, যখন উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বিঘ্ন ঘটাতে অভিযান চালাচ্ছে বলে মানামা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, ইরানের পক্ষ থেকে মুহাররাকের জ্বালানি ট্যাংকগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মুহাররাক এলাকার তিনটি অঞ্চলের বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পাশাপাশি জানালা ও বায়ু চলাচলের পথ বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ চলছে এবং ধোঁয়ার সম্ভাব্য প্রভাব থেকে বাসিন্দাদের সুরক্ষার জন্যই এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মুহাররাকে জ্বালানি ট্যাংকে হামলার পর বাহরাইনে ঘরে থাকার নির্দেশ
২০২৬ সালের ১২ মার্চ বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে চারজন বাহরাইনি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বয়স ২২ থেকে ৩৬ বছরের মধ্যে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম অভিযুক্ত ব্যক্তি সাংগঠনিক নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যদের সহায়তায় বাহরাইনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ছবি তুলছিলেন এবং সেই তথ্য সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে আইআরজিসির কাছে পাঠানো হয়েছিল।
একই দিনে বাহরাইন জানায়, বৃহস্পতিবার ভোরে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় মুহররাক গভর্নরেটের একটি স্থাপনার জ্বালানি ট্যাংকে ইরান হামলা চালিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এটি ইরানি আগ্রাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
ঘটনাগুলো পারস্য উপসাগর অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে, যেখানে বাহরাইন সরাসরি ইরানকে আগ্রাসনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে এবং অভ্যন্তরীণ সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ডের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বাহরাইনে চারজন গ্রেপ্তার
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ঘিরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরানের পক্ষে পোস্ট ও ভিডিও শেয়ারের অভিযোগে বাহরাইন পুলিশ ছয়জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ ইসরাফিল মীর এবং বাকিরা পাকিস্তানি। সোমবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে বাহরাইন নিউজ এজেন্সি ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্নীতি দমন ও সাইবার অপরাধ দমন বিভাগ তদন্ত চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পোস্ট ও ভিডিও শেয়ার করছিলেন, যা চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
ঘটনাটি বাহরাইনের সাইবার অপরাধ দমন কার্যক্রম এবং অনলাইন কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের কঠোর অবস্থানকে আবারও সামনে এনেছে।
ইরানপন্থী পোস্টে বাহরাইনে বাংলাদেশিসহ ছয় প্রবাসী গ্রেপ্তার
বাহরাইনের প্রধান তেল শোধনাগার বাহরাইন পেট্রোলিয়াম কোম্পানিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, হামলার পর শোধনাগার এলাকা থেকে আকাশে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। এটি দেশটির জ্বালানি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সরকারের প্রাথমিক বক্তব্যে বলা হয়, ইরানের ড্রোন হামলায় শোধনাগারে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।
হামলার পর কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং তারা চুক্তি অনুযায়ী তেল সরবরাহের বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে পারছে না। এই ঘটনার ফলে বাহরাইনের জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ মাত্রা ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি।
বাহরাইনের তেল শোধনাগারে হামলায় ধোঁয়া ও সরবরাহে বিঘ্ন
বাহরাইনের রাজধানীর কাছাকাছি এলাকায় ইরানের ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা বাহরাইন নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানানো হয়েছে, আহত সবাই বাহরাইনের নাগরিক। তাদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী গুরুতরভাবে আহত হয়েছে এবং সবচেয়ে কম বয়সী আহত ব্যক্তি মাত্র দুই মাসের শিশু।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজন শিশু রয়েছে, যাদের অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। ঘটনাটি রাজধানীর কাছাকাছি এলাকায় ঘটেছে, তবে সুনির্দিষ্ট স্থান বা সময় উল্লেখ করা হয়নি।
বিবিসি ও বাহরাইন নিউজ এজেন্সির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে হামলার উদ্দেশ্য বা প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
বাহরাইনে ড্রোন হামলায় ৩২ জন আহত, শিশুদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইনের জুফাইর এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে কঠিন ও তরল জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। আইআরজিসি জানায়, কেশমে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় একটি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জবাবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলার ফলে ৩০টি গ্রামের পানির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। হামলার পর বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, দেশে বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বাজছে এবং নাগরিকদের শান্ত থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।
ঘটনাটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে, এবং বাহরাইন কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
কেশমে হামলার জবাবে বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের
ইরান বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত ইসরাইলি দূতাবাসে হামলা চালিয়েছে বলে ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে। হামলাটি ফিন্যান্সিয়াল হারবার টাওয়ার বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে সংঘটিত হয়, যেখানে দূতাবাসটি ছিল। আধা সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, কমপ্লেক্সের আশপাশে একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
তেহরান কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে, যদিও বেশির ভাগ হামলাই প্রতিহত করা হয়েছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটির দিকে অগ্রসর হওয়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, যা কয়েক দিনের মধ্যে দ্বিতীয় হামলা।
এই ঘটনাগুলো ইরান, ইসরাইল ও তাদের মিত্রদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে।
বাহরাইনে ইসরাইলি দূতাবাসে ইরানের হামলা, উপসাগরে উত্তেজনা বৃদ্ধি
বাহরাইন জানিয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় তাদের লক্ষ্য করে ছোড়া ৭৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২৩টি ড্রোন ধ্বংস করেছে বাহরাইন ডিফেন্স ফোর্স। বাহরাইন ডিফেন্স ফোর্স তাদের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জানায়, ইরানের আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে এসব মিসাইল ও ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বাহিনীর হামলার পর ইরানের পাল্টা জবাবের প্রেক্ষাপটে ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে বড় দরপতন ঘটেছে।
এ ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
ইরানের ৭৫ ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২৩ ড্রোন ধ্বংসের দাবি জানাল বাহরাইন
বাহরাইনের রাজধানী মানামায় একটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। শহরে অবস্থানরত বার্তা সংস্থা এএফপির একজন প্রতিবেদক এই তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে একই দিনে কাতারের দোহাতেও একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছিল।
গত শনিবার থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরু করার পর ইরান প্রতিশোধমূলকভাবে উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে হামলা চালাচ্ছে। এই ধারাবাহিক হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মানামার বিস্ফোরণে হতাহতের সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যায়নি, ফলে ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রভাব এখনো অস্পষ্ট।
উপসাগরীয় উত্তেজনার মধ্যে বাহরাইনের মানামায় বিস্ফোরণের খবর
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে যে তারা সোমবার সকালে বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে ২০টি ড্রোন ও ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়, যা ঘাঁটির প্রধান কমান্ড ও সদর দপ্তর ভবন ধ্বংস করে এবং জ্বালানির ট্যাংকগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ঘটনা সম্পর্কে বাহরাইন কর্তৃপক্ষের কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
এই হামলাকে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধির একটি বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র ও সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া এখনো স্পষ্ট নয়।
বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি
বাহরাইনের একটি বন্দরে নোঙর করা একটি জাহাজে দুটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)। আঘাতের ফলে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়, তবে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। সংস্থাটি জানায়, জাহাজের সব নাবিক নিরাপদে জাহাজ ত্যাগ করেছেন এবং কেউ হতাহত হননি।
ঘটনাটি ঘটে এমন এক সময়ে, যখন ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে এবং প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। ইউকেএমটিও জানিয়েছে, জাহাজটি এখনও বন্দরে অবস্থান করছে এবং অতিরিক্ত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
প্রজেক্টাইলগুলোর উৎস বা ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি এবং এখনো কেউ এর দায় স্বীকার করেনি।
বাহরাইন বন্দরে জাহাজে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাত, আগুন নিয়ন্ত্রণে, নাবিকরা নিরাপদ
ইরানি বাহিনী দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ব্যাপক হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাহরাইনের ন্যাশনাল কমিউনিকেশন সেন্টার জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর সার্ভিস সেন্টার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে, তবে হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি এবং পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মানামায় পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরের কাছে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে, যদিও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য আসেনি। ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস জানিয়েছে, “ট্রুথফুল প্রমিজ ৪” অভিযানের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা ইরানে চালানো আগের হামলার জবাব হিসেবে পরিচালিত হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে হামলাটি ঘটে।
অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। আমিরাত, কাতার ও কুয়েত জানিয়েছে, তারা নিজ নিজ আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র তারা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি, উত্তেজনা বৃদ্ধি
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা জুফাইর এলাকায় বসবাসকারী নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে, যেখানে একটি মার্কিন নৌ ঘাঁটি অবস্থিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় মন্ত্রণালয় জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য নাগরিকদের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই পদক্ষেপ এমন সময়ে নেওয়া হয়েছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে এবং বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে বাহরাইনের মন্ত্রণালয় সরিয়ে নেওয়ার কারণ বা জুফাইরের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
এটি ইঙ্গিত দেয় যে বাহরাইন কর্তৃপক্ষ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে, যদিও সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি।
জুফাইরে মার্কিন নৌ ঘাঁটির কাছে নাগরিক সরিয়ে নিচ্ছে বাহরাইন, আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়ছে
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৩৭ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।