রাশিয়া শুক্রবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর উপকণ্ঠে বিমান হামলা চালায়, এতে অন্তত তিনজন নিহত ও ১৩ জন আহত হন বলে কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান। হামলায় আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক ভবনে দ্বিতীয়বারের মতো ড্রোন হামলায় একজন চিকিৎসক নিহত হন। প্রাথমিক হতাহত তালিকায় ওই চিকিৎসকের নাম নিশ্চিত করা যায়নি।
আঞ্চলিক গভর্নর মাইকোলা কালাশনিক বাসিন্দাদের সাইরেন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানান। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, রুশ বোমারু বিমান আকাশে থাকায় পুরো দেশ ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির মুখে রয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভে মধ্যরাতের আগে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো স্থাপনায় আঘাত হানে। লভিভের মেয়র আন্দ্রি সাদোভি জানান, সামরিক বাহিনী যাচাই করছে হামলায় পরমাণু অস্ত্র বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার হয়েছে কি না, তবে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার কিয়েভে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সতর্ক করেছিল যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গুরুতর বিমান হামলা হতে পারে।
কিয়েভ ও লভিভে রুশ হামলায় তিনজন নিহত, ১৩ জন আহত
কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর ইউক্রেনে সেনা পাঠাতে সম্মত হয়েছে ব্রিটেন ও ফ্রান্স। এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গঠিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার অংশ। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আয়োজিত ‘কোলিশন অব দ্য উইলিং’ সম্মেলনের পর এই ঘোষণা আসে। প্যারিসে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ২৭টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান উপস্থিত ছিলেন। ঘোষণাপত্রে ম্যাক্রোঁ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্বাক্ষর করেন।
স্টারমার জানান, যুদ্ধবিরতির পর ইউক্রেনজুড়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে ব্রিটেন ও ফ্রান্স, তবে রাশিয়া পুনরায় আক্রমণ করলে তাদের বাহিনী সরাসরি সংঘাতে জড়াবে না। ম্যাক্রোঁ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি বহুজাতিক ইউরোপীয় বাহিনী এবং ইউরোপীয় অংশগ্রহণে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণব্যবস্থা গঠন করা হবে। ইতালি ও পোল্যান্ড সেনা পাঠাতে অস্বীকৃতি জানালেও জার্মানি একটি বাহিনীতে অবদান রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে।
তবে মস্কো এই পরিকল্পনায় সম্মত হবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।
ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনায় যুদ্ধবিরতির পর ইউক্রেনে সেনা পাঠাবে ব্রিটেন ও ফ্রান্স
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান কিরিলো বুদানোভকে প্রেসিডেন্টের দপ্তরের নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত নভেম্বরে দুর্নীতি কেলেঙ্কারির কারণে আগের শীর্ষ সহকারী পদত্যাগ করার পর এই পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিয়েভ থেকে এএফপি জানায়, শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি জানান, তিনি বুদানোভের সঙ্গে বৈঠক করে তাকে দপ্তরের প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা দিমিত্রো লিতভিন নিশ্চিত করেছেন যে আনুষ্ঠানিক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
৩৯ বছর বয়সী বুদানোভ ইউক্রেনে পরিচিত ও প্রভাবশালী এক ব্যক্তিত্ব, যিনি ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর মস্কোর বিরুদ্ধে পরিচালিত একাধিক অভিযানের নেতৃত্ব দেন বলে মনে করা হয়। প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই মনোনয়ন এসেছে। জেলেনস্কি সম্প্রতি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ অবসানের একটি প্রস্তাবিত চুক্তি প্রায় ৯০ শতাংশ প্রস্তুত এবং এখন নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
নিয়োগ চূড়ান্ত হলে বুদানোভ আন্দ্রি ইয়ারমাকের স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি দুর্নীতি তদন্তের অংশ হিসেবে তার বাসায় অভিযান চালানোর পর পদত্যাগ করেন। ইয়ারমাককে কিয়েভে অতিরিক্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অভিযোগে সমালোচিত হতে হয়েছিল।
দুর্নীতি কেলেঙ্কারির পর জেলেনস্কির দপ্তরের প্রধান হচ্ছেন গোয়েন্দা প্রধান বুদানোভ
রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত উপকূলীয় খেরসন অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মস্কো। বৃহস্পতিবার নববর্ষ উদ্যাপনের সময় একটি হোটেল ও ক্যাফেতে এই হামলা হয় বলে বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে। খেরসনের রাশিয়া নিয়োগপ্রাপ্ত গভর্নর ভ্লাদিমির সালদো টেলিগ্রামে বলেন, হামলাটি পরিকল্পিতভাবে এমন স্থানে চালানো হয়েছে যেখানে বেসামরিক নাগরিকরা নববর্ষ উদ্যাপন করছিলেন। তিনি একে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যা দেন।
সালদো জানান, তিনটি ড্রোন হোটেল ও ক্যাফেতে আঘাত হানে, যাতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এই হামলায় জড়িত। খেরসনে ২ ও ৩ জানুয়ারি শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, ইউক্রেনের পশ্চিমা সমর্থকেরাই শেষ পর্যন্ত এই ঘটনার জন্য দায়ী।
খেরসন ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলের একটি, যেগুলো রাশিয়া ২০২২ সালে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করে, যা কিয়েভ ও অধিকাংশ পশ্চিমা দেশ অবৈধ দখল হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত খেরসনে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নববর্ষে ২৪ জন নিহত
নববর্ষের প্রাক্কালে দেওয়া ভাষণে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন যে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে জয়ী হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি ইউক্রেনে লড়াইরত সৈন্যদের ‘বীর’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের প্রতি সমর্থন জানান এবং বলেন, যুদ্ধের ফল এখনো নির্ধারিত হয়নি। পুতিনের বক্তব্যের সময় ইউরোপে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় যে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এটি ইউক্রেনের সীমানা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
পুতিনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, কিয়েভ শান্তি চায়, তবে কোনো ‘দুর্বল’ চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে না। তিনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চায়, কিন্তু দেশের অস্তিত্বের বিনিময়ে নয়। জেলেনস্কি স্বীকার করেন যে দেশ ক্লান্ত, কিন্তু আত্মসমর্পণের কোনো ইচ্ছা নেই।
জেলেনস্কি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কয়েক সপ্তাহের আলোচনার পর একটি শান্তিচুক্তি প্রায় ৯০ শতাংশ প্রস্তুত, তবে কিছু বিষয় এখনো অমীমাংসিত। এই অবশিষ্ট অংশই ইউক্রেন ও ইউরোপের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইউক্রেন যুদ্ধে বিজয়ের প্রত্যয় পুতিনের, দুর্বল চুক্তি প্রত্যাখ্যান জেলেনস্কির
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, জানুয়ারিতেই কিয়েভ ও মস্কো এই পরিকল্পনায় স্বাক্ষর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউরোপ প্রস্তাবিত নথি নিয়ে দ্রুত ঐকমত্যে পৌঁছাবে।
বিবরণে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন জেলেনস্কি, যা যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিয়েছে। ট্রাম্পের পরিকল্পনার ৫ নম্বর পয়েন্টে ইউক্রেনকে ১৫ বছরের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তবে জেলেনস্কি মেয়াদ ৫০ বছরে উন্নীত করার জন্য আলোচনা করছেন। তিনি জানান, যুদ্ধবিরতির পর কেবল মার্কিন সেনারা ইউক্রেনে অবস্থান করবে এবং ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সরবরাহ করবে।
জেলেনস্কি আরও বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনে ট্রাম্প গুরুত্ব দিচ্ছেন। যুদ্ধবিরতির পর মার্কিন ও ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো ইউক্রেনের পুনর্গঠন ও বিনিয়োগে অংশ নেবে, যার লক্ষ্য নাগরিকদের গড় আয় বৃদ্ধি করা।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি পরিকল্পনা জানুয়ারিতে স্বাক্ষর হতে পারে
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোমবার জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইউক্রেনের জন্য ৩০ থেকে ৫০ বছরের নিরাপত্তা গ্যারান্টি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে অনুরোধ করেছেন। জেলেনস্কি বলেন, ট্রাম্প তাঁর প্রস্তাব নিয়ে “ভাববেন” বলে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে বর্তমান চুক্তির আওতায় ইউক্রেন ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৫ বছরের নিরাপত্তা গ্যারান্টি পাবে।
জেলেনস্কি জানান, পরবর্তী আলোচনার ধাপ জানুয়ারিতে কিয়েভে অনুষ্ঠিত হবে। ইউক্রেনের ন্যাশনাল ডিফেন্স ও সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান রুস্তেম উমেরভ অংশীদারদের সঙ্গে এই প্রক্রিয়া সমন্বয় করছেন। এরপর ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে ইউক্রেনের আলোচনা, মূল নথি সমন্বয় এবং ট্রাম্প ও ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে যোগাযোগের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প তাঁর ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং পুতিন শান্তির জন্য প্রস্তুত। জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা গ্যারান্টি না আসা পর্যন্ত মার্শাল ল প্রত্যাহার সম্ভব নয়, যার মধ্যে বিদেশি সৈন্য মোতায়েনও অন্তর্ভুক্ত।
জেলেনস্কির ৩০–৫০ বছরের নিরাপত্তা গ্যারান্টি দাবি, জানুয়ারিতে কিয়েভে আলোচনা
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। ইউক্রেনের জ্বালানি কোম্পানি ডিটিইকের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ২৭ ডিসেম্বরের হামলার পর ১০ লাখেরও বেশি ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। শনিবার কিয়েভ থেকে এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
ডিটিইকের বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে কিয়েভজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিমান হামলার সতর্ক সংকেত জারি থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিদ্যুৎকর্মীরা হামলার ঝুঁকি থাকা অবস্থায় কাজ করছেন, যা কিয়েভের জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতির মাত্রা স্পষ্ট করে।
রুশ হামলায় কিয়েভে ১০ লক্ষাধিক ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও তার ইউরোপীয় সমর্থকরা শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছে রাশিয়া। এই অভিযোগ এমন সময় এসেছে যখন জেলেনস্কি আগামী রোববার ফ্লোরিডায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে বৈঠক করতে যাচ্ছেন। রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, চুক্তিতে পৌঁছানো অন্য পক্ষের রাজনৈতিক ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে এবং সর্বশেষ পরিকল্পনাটি ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে আলোচিত পূর্ববর্তী প্রস্তাব থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
জেলেনস্কি সংশোধিত ২০-দফা শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে যুদ্ধ স্থগিত, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ভূখণ্ড সংক্রান্ত কঠিন সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হলে গণভোটের জন্য চূড়ান্ত পরিকল্পনা জমা দিতে প্রস্তুত আছেন এবং নিরাপদে ভোট আয়োজনের জন্য অন্তত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন হবে।
রাশিয়া ইউক্রেনকে পূর্বাঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং ন্যাটোতে যোগদানের প্রচেষ্টা ত্যাগ করার দাবি অব্যাহত রেখেছে, যা কিয়েভ বারবার প্রত্যাখ্যান করছে।
ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে শান্তি প্রক্রিয়া ভণ্ডুলের অভিযোগে জেলেনস্কিকে দোষারোপ রাশিয়ার
ব্রিটেনের সরবরাহ করা স্টর্ম শ্যাডো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলের নভোশাখতিনস্ক তেল শোধনাগারকে লক্ষ্য করে এই হামলায় একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে। ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফের বিবৃতিতে বলা হয়, বিমানবাহিনীর ইউনিটগুলো আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, নভোশাখতিনস্ক শোধনাগারটি দক্ষিণ রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র, যা রুশ সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ডিজেল ও বিমান জ্বালানি সরবরাহে ভূমিকা রাখে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাবে কিয়েভ এখন রাশিয়ার অভ্যন্তরে জ্বালানি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা জোরদার করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউক্রেন এর আগেও রাশিয়ার ভেতরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এই ব্রিটিশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা সীমান্তপারের হামলার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
ব্রিটিশ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা
রাশিয়া দাবি করেছে যে তাদের বাহিনী ২০২৫ সালে ইউক্রেনের ৫,১০০ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি এলাকা দখল করেছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানান, দোনেৎস্কের সিভেরস্ক এবং খারকিভের ভোভচানস্ক দখল করা হয়েছে এবং আরও কয়েকটি সীমান্ত শহরে আংশিক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার (আইএসডব্লিউ) এই দাবিকে অস্বীকার করেছে, জানিয়েছে যে স্যাটেলাইট ও উন্মুক্ত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী রাশিয়ার অগ্রগতি অনেক কম। আইএসডব্লিউ অনুমান করেছে, রাশিয়া সর্বোচ্চ ৪,৯৮৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা ও ১৯৬টি বসতি দখল করেছে।
এই দাবিগুলো এমন সময় এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন ফ্লোরিডায় তিন দিনের শান্তি আলোচনা শেষ করেছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা ভালো হলেও ভূখণ্ড নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। রাশিয়া দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝিয়া, খেরসন ও ক্রিমিয়ার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করছে, যা ইউক্রেন প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ন্যাটো-স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভবিষ্যৎ সদস্যপদ ও ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ অনুমোদন করেছে।
এদিকে, যুদ্ধক্ষেত্রে উভয় পক্ষের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তীব্র হয়েছে; ইউক্রেন রাশিয়ার সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনা আঘাত করেছে, আর রাশিয়া এক সপ্তাহে এক হাজারেরও বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।
রাশিয়ার দখল দাবি নিয়ে বিতর্ক, সীমান্ত ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন আলোচনায় অচলাবস্থা
বড়দিন উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মৃত্যুকামনা করেছেন। তিনি বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর ভয়াবহ দুর্ভোগ নেমে আনলেও ইউক্রেনীয়দের মনোবল, ঐক্য ও বিশ্বাস ধ্বংস করতে পারেনি। বড়দিনের ঠিক আগে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং বহু অঞ্চল বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়।
জেলেনস্কি সরাসরি নাম না নিয়ে বলেন, ইউক্রেনীয়দের একটাই প্রত্যাশা—যে ব্যক্তি এই যুদ্ধের জন্য দায়ী, তার মৃত্যু হোক। তিনি রাশিয়ার হামলাকে ‘ধর্মহীনদের আঘাত’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, রাশিয়া শত শত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করে ইউক্রেনের ওপর আঘাত হেনেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জেলেনস্কির এই বক্তব্য যুদ্ধের তীব্রতা ও হতাশা উভয়কেই প্রতিফলিত করে। ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সংঘাত তৃতীয় বছরে প্রবেশের প্রাক্কালে এই মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করতে পারে।
রুশ হামলার মধ্যে বড়দিনে পুতিনের মৃত্যুকামনা করলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ঘোষণা করেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তি সই হওয়ার পরই দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এএফপি ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের যৌথভাবে প্রস্তুত করা একটি খসড়া পরিকল্পনা মস্কোতে পাঠানো হয়েছে, যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—চুক্তি স্বাক্ষরের পর যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি রয়েছে, যার ফলে সব জাতীয় নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। জেলেনস্কি আগেও বলেছেন, যুদ্ধ চলাকালে নির্বাচন আয়োজন করা বাস্তবসম্মত নয়। তাঁর সর্বশেষ মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, যুদ্ধের অবসান ঘটলে ইউক্রেন দ্রুত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যেতে প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে। তবে শান্তিচুক্তির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করবে নির্বাচনের সময়সূচি।
শান্তিচুক্তি সই হলেই ইউক্রেনে দ্রুত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা জেলেনস্কির
ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা অঞ্চলে রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে হামলা জোরদার করেছে, যার ফলে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও বন্দর অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হামলায় একটি বেসামরিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। একটি বড় বন্দরে অগ্নিকাণ্ডে আটা ও ভোজ্যতেলের কনটেইনার পুড়ে যায়, আর আগের হামলাগুলোতে অন্তত আটজন নিহত ও বহু আহত হন।
ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা জানান, মস্কো “পদ্ধতিগত” হামলা চালাচ্ছে এবং যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু ওডেসার দিকে সরে যেতে পারে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, এসব হামলার উদ্দেশ্য ইউক্রেনকে সামুদ্রিক যোগাযোগ ও লজিস্টিক সুবিধা থেকে বিচ্ছিন্ন করা। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগেই হুমকি দিয়েছিলেন, কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার তথাকথিত “শ্যাডো ফ্লিট”-এর ওপর ড্রোন হামলার জবাবে ইউক্রেনের সমুদ্র প্রবেশাধিকার বন্ধ করা হতে পারে।
জেলেনস্কি বিমান বাহিনীর নতুন কমান্ডার নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন, যা ওডেসা অঞ্চলে প্রতিরক্ষা কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
ওডেসায় রাশিয়ার তীব্র হামলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও বন্দর ক্ষতি, ইউক্রেনের দক্ষিণে সংকট গভীরতর
দক্ষিণ ইউক্রেনের বন্দরনগরী ওডেসায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে চালানো এই হামলায় বন্দর এলাকার অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পার্কিং লটে থাকা ট্রাক ও গাড়িতে আগুন ধরে যায়। ওডেসা অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ কিপার জানান, হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেন জানিয়েছে যে তাদের ড্রোন ক্যাস্পিয়ান সাগরে রাশিয়ার লুকোইল পরিচালিত একটি তেল রিগ এবং ‘ওখোটনিক’ নামের একটি সামরিক টহল জাহাজে আঘাত করেছে। ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানায়, এটি রাশিয়ার তেল ও গ্যাস অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো ধারাবাহিক অভিযানের অংশ, এবং এটি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়েছে। এছাড়া ক্রিমিয়ার ক্রাসনোসিলস্কে এলাকায় একটি রাডার সিস্টেমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার তেল অবকাঠামো বৈধ সামরিক লক্ষ্য, কারণ এই খাত থেকেই যুদ্ধের অর্থায়ন হয়। এই ঘটনাগুলো যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসর আরও বিস্তৃত করছে।
ওডেসায় রুশ হামলায় নিহত ৮, ক্যাস্পিয়ান সাগরে রুশ তেল রিগে ইউক্রেনের আঘাত
ইউক্রেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওডেসা বন্দরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত সাতজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ কিপার টেলিগ্রামে জানান, হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং বন্দরের পার্কিং লটে থাকা ট্রাকগুলোতে আগুন ধরে যায়। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
কৃষ্ণসাগরের তীরে অবস্থিত ওডেসা ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান বন্দরশহর, যেখান থেকে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শস্য ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানি হয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ওডেসা ও এর বন্দরগুলো বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই অঞ্চলে বিমান হামলা আরও তীব্র হয়েছে।
এই হামলা ইউক্রেনের রপ্তানি অবকাঠামো ও কৃষ্ণসাগরীয় বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যা বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে।
ওডেসা বন্দরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাতজন নিহত, ট্রাক পার্কিংয়ে আগুন
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি কাঠামোর অংশ হিসেবে ইউরোপীয় নেতারা ইউক্রেনে একটি মার্কিন-সমর্থিত বহুজাতিক বাহিনী পরিচালনার প্রস্তুতি ঘোষণা করেছেন। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং আরও আটটি ইউরোপীয় দেশ এই জোটে অংশ নেবে, যা ইউক্রেনের সেনাবাহিনী পুনর্গঠন, আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার এবং সমুদ্রপথ নিরাপদ রাখার কাজে সহায়তা করবে। এটি হোয়াইট হাউসের নতুন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্যাকেজের অংশ, যার লক্ষ্য মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ইউরোপীয় ও ন্যাটো নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও কথা বলেছেন। ট্রাম্পের দাবি, শান্তি চুক্তি এখন আগের চেয়ে অনেক কাছাকাছি। তবে পূর্ব ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চলগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে মতভেদ রয়ে গেছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিনিময়ে ইউক্রেনকে ডনবাসের কিছু অংশ মস্কোর হাতে ছেড়ে দিতে হতে পারে, যদিও জেলেনস্কি আগে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউরোপের নেতৃত্বে এই উদ্যোগ শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আনতে পারে, তবে ভূখণ্ড ছাড়ের প্রশ্নে অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া জটিলতা তৈরি করতে পারে।
ইউক্রেনে মার্কিন-সমর্থিত বহুজাতিক বাহিনী নেতৃত্বে প্রস্তুত ইউরোপ
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্বীকার করেছেন যে, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলো পুনরুদ্ধারের মতো সামরিক শক্তি ও মিত্র সমর্থন বর্তমানে ইউক্রেনের নেই। চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্যকে অনেকেই কিয়েভের পূর্ণ বিজয়ের স্বপ্ন থেকে সরে আসার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
জেলেনস্কির এই স্বীকারোক্তি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য কিয়েভের ওপর চাপ বাড়ছে। ফিন্যানশিয়াল টাইমস জানিয়েছে, মার্কিন দূতরা সম্প্রতি জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে কয়েক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়, যা পশ্চিমা সমর্থনের সীমাবদ্ধতাকেও স্পষ্ট করছে।
এদিকে, ন্যাটো সদস্যপদ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ইউরোপীয় মিত্রদের সীমিত সক্ষমতা ইউক্রেনের কৌশলগত অবস্থানকে আরও দুর্বল করছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে—বাস্তবতা মেনে নেওয়ার বিনিময়ে ইউক্রেন কী ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি পেতে পারে।
রুশ দখলকৃত অঞ্চল পুনরুদ্ধারে অক্ষমতা স্বীকার, শান্তিচুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে জেলেনস্কি
রাশিয়ার কাছে কোনো ভূখণ্ড ছাড় না দেওয়ার দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন করে সংশোধিত শান্তি পরিকল্পনা জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কিয়েভ। ইউরোপীয় ও ন্যাটো নেতাদের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের সংবিধান, আইন ও আন্তর্জাতিক বিধান অনুযায়ী কোনো অংশ ছাড় দেওয়ার অনুমতি নেই। তিনি আরও জানান, সীমান্ত পরিবর্তনের মতো সিদ্ধান্ত নিতে হলে জনগণের গণভোটের প্রয়োজন হবে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র–ইউক্রেনের গোপন বৈঠকে উত্থাপিত প্রস্তাব কিয়েভ প্রত্যাখ্যান করায় এই নতুন পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে। ডাউনিং স্ট্রিটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎসের সঙ্গে বৈঠকে নেতারা ইউক্রেনের প্রতি অব্যাহত সমর্থনের আশ্বাস দেন এবং ‘ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি’র ওপর জোর দেন।
জেলেনস্কি বর্তমানে ইউরোপ সফরে রয়েছেন। অন্যদিকে, মস্কো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাকে ‘গঠনমূলক’ বললেও অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যায়নি। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, শান্তি চুক্তির পথে প্রধান বাধা জেলেনস্কিই।
ভূখণ্ড ছাড়ে অস্বীকৃতি, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শান্তি পরিকল্পনা জমা দেবে ইউক্রেন
৯ ডিসেম্বর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ১,৩৮৪তম দিনে পূর্বাঞ্চলে সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়েছে। রুশ বাহিনীর হামলায় দোনেৎস্কে চারজন নিহত এবং সুমি অঞ্চলে ১২ জন আহত হয়েছেন। ড্রোন হামলায় সুমি শহর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। ইউক্রেনীয় বাহিনী পাল্টা আক্রমণে রুশ-অধিকৃত জাপোরিঝিয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত করে। উভয় পক্ষই সীমিত অগ্রগতির দাবি করেছে, আর রাশিয়া দক্ষিণাঞ্চলে ড্রোন সতর্কতার কারণে কয়েকটি বিমানবন্দর বন্ধ রেখেছে।
রাজনৈতিকভাবে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি লন্ডনে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে ২০ দফা সংশোধিত শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন। পরে তিনি ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। ইউরোপীয় নেতারা বলেন, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ইউরোপের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
অর্থায়নের ঘাটতির মধ্যে ইউক্রেন প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ক্রয়ে পিছিয়ে আছে। নেদারল্যান্ডস ৭০০ মিলিয়ন ইউরো অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা ঘোষণা করেছে এবং যুক্তরাজ্য ১৭ মিলিয়ন পাউন্ডের সবুজ জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত রাশিয়ার পাল্টা দাবিগুলো গ্রহণযোগ্য ঘোষণা করেছে।
পূর্ব ইউক্রেনে রুশ হামলা বাড়ার মধ্যে পশ্চিমা সমর্থন জোগাড়ে জেলেনস্কির তৎপরতা
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৮৩ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।